আমরা জানি- সমগ্র বাংলাদেশেই একসময় যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনে প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ । নৌপথে যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনের সুবিধা থাকার কারণেই প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে বুড়িগঙ্গার নদীর তীরে গড়ে উঠে ঢাকা। বলা যায়, স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত এবং স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও আশি দশক পর্যন্ত নৌপথে মালামাল পরিবহন, যাত্রী পরিবহন করা হতো। সেই সময়ে নৌপথের পাশাপাশি রেলপথও অনেক সাশ্রয়ী ও জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠে। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না।
কালক্রমে বুড়িগঙ্গা নদী আজ সত্যি বুড়িয়ে গেছে। দু'দিক থেকে নদীর দখল বাণিজ্যের কারণে ক্রমশ নদী সরু হয়ে গেছে। নদী তার স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়েছে। দখলের পাশাপাশি দূষণও হয়ে উঠে ভয়াবহ। আজ বুড়িগঙ্গা নদীর পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত। যা যে কোন মানুষকে অসুস্থ্য করে তোলে।
অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে বুড়িগঙ্গা তার জৌলুস হারিয়েছে। ট্যানারি শিল্পের দূষিত রাসায়নিক, পয়ঃবর্জ্য, শিল্পকারখানার দূষিত পানি গিয়ে বুড়িগঙ্গায় মিশে যাচ্ছে। এদিকে নীতিনির্ধারকদের কারো ভ্রুক্ষেপ আছে বলে মনেই হয় না। অথচ এ নদীকে রক্ষা করা না গেলে আগামীতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।
কিভাবে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে, সেটা কি নীতি নির্ধারকদের নজরে পড়ে না। কিভাবে নদী দূষিত হচ্ছে, সেটা কি তারা দেখেন না? আমারতো ধারণা, যাদের দেখার কথা, তারাই দখলবাজ, দূষণবাজদের সহযোগিতা বা উৎসাহিত করছেন। তা না হলে কিভাবে তারা নদী দখল ও দূষণ করার সাহস পায়? আবার হাউজিং ব্যবসায়ীরা অপরিকল্পিতভাবে নদী ড্রেজিং এর মাধ্যমে বালু তুলছে-এর বিরুদ্ধেও সরকারের কোন উদ্যোগ লক্ষ্যনীয় নয়।
যেদিকে তাকাই, সেদিকেই দেখি দখলবাজদের জয়, জয়কার। যে কোন খেলায় হারজিত আছে, কিন্তু দখলদারির খেলায় একবার জিতলে হারার সম্ভাবনা খুবই কম। যদিওবা কেউ হেরে যায়, তবে সেটা দখলবাজির চেয়ে বড় 'বাজি' দলবাজির কারণেই হেরে যায়। তবে যারা চতুর, তারা দলবাজি'তেও জিতে যায়। কারণ এরা সবসময়ই সরকারী দলের লোক। সুবিধাবাদী।
পানি সম্পদ মন্ত্রী, পরিবেশ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ জানাই, আপনারা অবিলম্বে এ নদী রক্ষা করুন। বুড়িগঙ্গা আমাদের দেশের একটি মূল্যবান সম্পদ। একে রক্ষা করুন। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা ও সুরক্ষা যদি না করি, তবে দাঁত হারানোর পর কান্নাকাটি হাস্যকর হয়ে দাড়াবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

