মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১৪
১১ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৪৬
আল্লাহ রহমানুর রহিম, পবিত্র কোরআনের সুরা আনকাবুত এর ৮ নম্বর আয়াতে উল্ল্যেখ করছেন--
وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا وَإِن جَاهَدَاكَ لِتُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
আমি মানুষকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না। আমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অত:পর আমি তোমাদেরকে বলে দেব যা কিছু তোমরা করতে।
ব্যাখ্যা--
পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার সাথে সাথে এটাও জরুরী যে, আল্লাহর নির্দেশাবলীর অবাধ্যতা না হয়, সেই সীমা পর্যন্ত পিতা-মাতার আনুগত্য করতে হবে। তারা যদি সন্তানকে কুফর ও শেরক করতে বাধ্য করে, তবে এ ব্যাপারে কিছুতেই তাদের আনুগত্য করা যাবে না; যেমন হাদীসে আছে, আল্লাহর অবাধ্যতা করে কোন মানুষের আনুগত্য করা বৈধ নয়।
আলোচ্য আয়াত হযরত সা'দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি দশ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিগণের অন্যতম ছিলেন এবং অত্যধিক পরিমাণে মাতৃভক্ত ছিলেন। তাঁর মাতা হেমনা বিনতে আবু সুফিয়ান পুত্রের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ অবগত হয়ে খুবই মর্মাহত হন। সে পুত্রকে শাসিয়ে শপথ করল, আমি তখন পর্যন্ত আহার্য ও পানীয় গ্রহণ করব না, যে পর্যন্ত তুমি পৈতৃক ধর্মে ফিরে না আস। আমি এমনিভাবে ক্ষুধা ও পিপাসায় মৃত্যুবরণ করব, যাতে তুমি মাতৃহন্তা রূপে বিশ্ববাসীর দৃষ্টিতে হেয় প্রতিপন্ন হও। এই আয়াত হযরত স'দকে মাতার আবদার রক্ষা করতে নিষেধ করল।
বগভীর বর্ণনাতে আছে, হযরত সা'দের আম্মা একদিন একরাত মতান্তরে তিন দিন তিন রাত শপথ অনুযায়ী অনশন অব্যাহত রাখলে হযরত সা'দ উপস্থিত হলেন। মাতৃভক্তি পূর্বের মতই ছিল; কিন্তু আল্লাহর ফরমানের মোকাবেলায় তা ছিল তুচ্ছ। তাই জননীকে সম্বোধন করে তিনি বললেন, "আম্মাজন, যদি আপনার দেহে একশ' আত্মা থাকত, এবং একটি একটি করে বের হতে থাকত, তা দেখেও আমি আমার ধর্ম ত্যাগ করতাম না। এখন আপনি ইচ্ছা করলে পানাহার করুন অথবা মৃত্যুবরণ করুন। আমি আমার ধর্ম ত্যাগ করতে পারি না। এ কথায় নিরাশ হয়ে তাঁর মাতা অনশন ভঙ্গ করল।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নীলাভ বলেছেন:
সালাম, ভাল আছেন?
কাশেম বিন আবু বকর বলেছেন:
+
মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:
আমরা অবশ্যই পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার করব।তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি আমাদের জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলা যাবে না এবং
তাদেরকে ধমক দেয়া যাবে না এবং
তাদের সাথে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা বলেত হবে।
ফজল বলেছেন:
জনাব মওলানা মো আ: ছাহেব!@ছালাম রহিলো। আপনার পোষ্টখানিকে + প্রদান করিয়াছি। জনাব@নদী সমস্যার সমাধান বিষয়ক পোষ্ট দাবি করিতেছি। কি প্রকারে দূষিত পানি নির্গমন রোধ করা সম্ভব তাহা লইয়াও জ্ঞানচর্চা করতঃ আমাদিগের জ্ঞানবৃদ্ধি ঘটাইবেন- ইহা কামনা করি।
জনাব@দেশের বর্তমান সমস্যা সমাধানে আপনার চিন্তা ভাবনা কি? বিদিশা ম্যাডামের চিন্তাই বা কি এই ব্যাপারে? দয়া করিয়া প্রকাশ করিবেন জনাব।
মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:
আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি।তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে।
তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস।
অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থ্যের বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি।
আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম। (সুরা আহকাফ, আয়াত-১৫)
মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:
পিতা-মাতার সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বল: হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।
ফজলে এলাহি বলেছেন:
মোহাম্মাদ আলী আকন্দ-অনেক দিন পর আপনাকে ব্লগে দেখলাম। ভাল লাগলো লেখাটি দেখে, আরো ভালো ভালো লেখা আশা করছি।
মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:
এই লেখাটি যাদের ভাল লেগেছে তাদেরকে ধন্যবাদ।আসুন, এই লেখাটির উপর আমল করি।
নিজেকে নিজে প্রশ্ন করি, আজকে আমি আমার আব্বা আম্মার সাথে ভাল ব্যবহার করেছি কি?
আব্বা আম্মার মুখের দিকে ভালবাসার সাথে নম্রভাবে একবার তাকাই।
এক বার ভাবে দেখি, এ পর্যন্ত বড় করতে আমার আব্বা আম্মা কতই না কষ্ট করেছেন।
আসুন, আব্বা আম্মার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি, হে আল্লাহ, রহমানুর রাহিম, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















