somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বাংলাদেশ কি রেডিমেড গার্মেন্টসের পরবর্তী হটস্পট?
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কি প্রস্তুত, পোশাক শিল্পের পরবর্তী হটস্পট হতে?

ইউরোপ ও মার্কিন প্রধান প্রধান পোশাক আমদানিকারক কোম্পানিগুলির সাথে আলোচনা করে, কনসালটেন্সি ফার্ম, মেক কিনসে এক গবেষণা পত্রে দেখিয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে তাদের আমদানি বর্তমান ২০% থেকে ৩০% এ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছে। অপর দিকে মধ্যম সারির পোশাক আমদানিকারকগণ বর্তমান ১৩% থেকে বৃদ্ধি করে ২৫% পর্যন্ত তাদের আমদানি করার পরিকল্পনা করেছে।

এর ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প (আর এম জি) ৭-৯% বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০ সালে ৩৬-৪২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29529389 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29529389 2012-01-26 00:38:10
ইসরায়েল, ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র--এক অস্থির সম্পর্ক
৩২ বছর বয়সী মোস্তফা আহমাদি রোশন ছিল একজন পরমাণু বিজ্ঞানী। ইরানের রাজধানী তেহরানে, একজন গুপ্তঘাতক তার গাড়ীতে ম্যাগনেটিক বিস্ফোরক সংযুক্ত করে দেয়। এই ম্যাগনেটিক বিস্ফোরকটি বিস্ফোরিত হলে, আহমাদি রোশন ও তার গাড়ির ড্রাইভার, দুই জনই নিহত হন।

একটা সভ্য সমাজে, একজন বিজ্ঞানী বা একজন সাধারণ মানুষেরও জীবন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকে। অসংখ্য আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কনভেনশন আছে, যাতে বেসামরিক নাগরিকদের জীবন, সশস্ত্র সংঘাত থেকে নিরাপদ রাখে। যুদ্ধের ক্ষেত্রেও, ইচ্ছাকৃত ভাবে বেসামরিক নাগরিকদের জীবন এবং পরি-কাঠামো ও অবকাঠামো ধ্বংস করা নিষেধ। এবং এই ধরনের কাজ, অপরাধমূলক কাজ হিসাবে গণ্য হয়। বেসামরিক ব্যক্তিকে আক্রমণ সন্ত্রাসী কাজ হিসাবে গণ্য হয়। রাজনৈতিক কৌশল হিসাবে, বেসামরিক ব্যক্তিকে গুপ্তঘাতক দিয়ে হত্যা করানো, কুৎসিত ধরনের একটি সন্ত্রাস।

যদিও আহমাদি রোশনের হত্যাকারীকে এখনও শনাক্ত করা যায় নাই, তবুও ইরান সরকার দ্রুতই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই দায়ী করেছে। ইসরায়িলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এর এজেন্ট এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29528780 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29528780 2012-01-25 00:50:39
২০১২ সালে এক বিলিয়নতম পর্যটকের আগমন ঘটবে।
জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন এক রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, পর্যটন আগমন ২০০০ সালে ৬৭৪ মিলিয়ন থেকে ২০১০ সালে ৯৩৯ মিলিয়নে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘ কিছুদিন আগে বিশ্বের সাত বিলিয়নতম শিশুর জন্ম উদযাপন করেছে। এখন জাতিসংঘ আশা করছে এই বছরেই বিশ্বের এক বিলিয়নতম পর্যটকের আগমন ঘটবে সম্ভবত, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আমেরিকা, অথবা এশিয়ায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29528129 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29528129 2012-01-24 00:24:50
দুর্নীতি দমন বিতর্কে ইন্ডিয়া বিভক্ত
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ ইন্ডিয়ান রাস্তায় বিক্ষোভ করার ছয় মাস পর, ইন্ডিয়ান সরকার দুর্নীতি দমনের জন্য আইন প্রণয়নের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

আন্না হাজারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এক কণ্ঠস্বর। দুর্নীতির বিরুদ্ধ তার শক্ত অবস্থান, তাকে জাতিয় বীরের মর্যাদা দিয়েছে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। এবং তার এই অসুস্থতার কারণে তার দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন গতি হারিয়ে ফেলছে।

শাসক শ্রেণির প্রতি ইন্ডিয়ান জনগণের হতাশা ও ক্ষোভ, দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের মধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ইন্ডিয়ার সমাজে দুর্নীতি নতুন কোন বিষয় নয়। কিন্তু কিছু উচ্চ পদস্থ রাজনৈতিকের এবং কর্মকর্তার ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আত্মসাৎ, ইন্ডিয়ান জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

কিছু বিশ্লেষকের মতে দুর্নীতি, ইন্ডিয়ার উন্নয়নের প্রধান বাধা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, ইন্ডিয়া একটি দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ। হংকং ভিত্তিক সংস্থা, পলিটিকাল এন্ড ইকনমিক রিস্ক কনসালটেন্সি এর গবেষণা মতে ইন্ডিয়ার আমলাতন্ত্র এশিয়ার মধ্যে সবচাইতে খারাপ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29527919 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29527919 2012-01-23 18:06:43
SOPAসোপা (স্টপ অনলাইন পাইরেসি এ্যাক্ট) স্বাধীনতা না ব্যবসা?
হাজার হাজার ওয়েবসাইট, মার্কিনীদের প্রস্তাবিত এন্টি-পাইরেসি আইনটির বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রতিবাদ করেছে।

প্রস্তাবিত আইনটির সমর্থকরা বলছেন, পাইরেসি বন্ধ করতে এবং কপিরাইটের লঙ্ঘন রোধ করতে এই আইনের প্রয়োজন।

অনুরূপ আরেকটি বিল যার নাম পিপা (প্রোটেক্ট ইনটেলেকচুয়েল প্রোপারটি এ্যাক্ট) মার্কিন সিনেটে বিবেচনার জন্য আছে।

কপিরাইটকৃত বিষয় বস্তু অবৈধ ভাবে ইন্টারনেট থেকে ডাউন-লোড করা অথবা বৌদ্ধিক সম্পত্তির অধিকারকে লঙ্ঘন করে এমন কার্যকলাপকে বন্ধ করার উদ্দেশে, আইন দুইটির প্রস্তাব করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে।

কিন্তু এই আইন দুইটির বিরোধীদের বক্তব্য হচ্ছে, প্রস্তাবিত আইন দুইটি বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই করা হচ্ছে।

৭ হাজারেরও বেশী ইন্টারনেট সাইট গত বুধবার গণ-প্রতিবাদের অংশ হিসাবে সাইটগুলিকে বন্ধ রাখায়, বিশ্ব ব্যাপী লক্ষ লক্ষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অসুবিধার সম্মুখীন হন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29527434 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29527434 2012-01-23 00:29:52
নেতা-বিহীন আন্তর্জাতিক প্রশাসন
এই ধরনের প্রবণতার কারণে চীন এবং ইন্ডিয়া তাদের সার্বভৌমত্বকে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে এবং অন্যের হস্তক্ষেপ মুক্ত নিজেদের শাসন বাজয় রাখতে চাচ্ছে। এর ফলে দেশ দুইটি আন্তর্জাতিক রীতিনীতিকে তোয়াক্কা করছে না। এর ফলে আরেকটি প্রবণতা হল, বহুজাতিক সংস্থার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে, যা দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর মার্কিন সরকার বেশ গুরুত্ব দিয়ে আসছিল।

ফলে অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিশ্ব নেতৃত্ব এবং সহযোগিতার নিয়ম নীতি সংশোধন করতে হবে। কিন্তু G20, WTO (বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা) এবং অন্যান্য বহুজাতিক সংস্থার কার্যক্রম নতুন মাত্রায় বহাল রাখতে হবে। নতুন নিয়ম-নীতি প্রণয়ন করতে হবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29525728 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29525728 2012-01-20 16:34:58
ব্রিটেন কি ভেঙ্গে যাচ্ছে?
ব্রিটেন একসময় ইন্ডিয়া থেকে সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ আফ্রিকা পর্যন্ত সুবিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতো। আর এখন তার নিজের সীমানাই হুমকির সম্মুখীন।

গত মে মাসের নির্বাচনে, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি নির্বাচিত হওয়ার পর, তারা ২০১৪ সালে স্বাধীনতার জন্য গণভোটের আয়োজন করার কথা ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে স্কটল্যান্ড বিচ্ছিন্ন হবে কিনা এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে কিনা—এই ব্যাপারে গণভোট নেয়া হবে।

এটা সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, যা স্কটিশরা ভোটের মাধ্যমে গ্রহণ করবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29525457 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29525457 2012-01-20 01:13:34
গুয়ান্তানামো
মোয়াজ্জেম বেগকে গুয়ান্তানামোতে আটকের পর, প্রথম কথাই হল, তুমি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তি এবং তোমার কোন অধিকার বলে কিছু নাই। এই ভাবে অধিকার কেরে নিয়ে অন্যান্য বন্দিদের সাথে তাকে দশ বছর গুয়ান্তনামোর কারান্তরালে রেখে দেয়া হয়।

৩১ জানুয়ারি, ২০০২ এ যখন পাকিস্তানি ও মার্কিন গোয়েন্দা এজেন্ট মোয়াজ্জেম বেগের ইসলামাবাদের বাসা থেকে মধ্যরাতে, পরিবারের সদস্যদের সামনে থেকে আটক করে নিয়ে যায়, তখনই সে উদ্ধারের আশা ছেড়ে দেয়। অস্ত্রের মুখে তাকে আটক করে, বিভিন্ন সামরিক কারাগারে রাখা হয়, এর মধ্যে, বাগ্রাম, কান্দাহার এবং সর্বশেষে গুয়ান্তনামো ব্যয়তে তাকে আটক রাখা হয়।

প্রথম তিন বছর মোয়াজ্জেমকে কঠিন অগ্নিপরীক্ষার ভিতর দিয়ে যেতে হয়। এই সময় তাকে শারীরিক ভাবে ভীষণ অত্যাচার করা হয়, যেমন যখন তখন মুখে ঘুষি মারা, লাথি মারা, জোর করে উলঙ্গ করা, জোর করে দাড়ি কামাতে বাধ্য করা ইত্যাদি। বাড়ির টয়লেটের চাইতেও ছোট একটা রুমে তাকে থাকতে দেয়া হয়। এর মধ্যই ৩০০ বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কখনো কখনো হাত মোচরে পিছনের দিকে বেধে রাখা হতো। আবার কখনো কখনো হাতের সাথে পা বেধে ঝুলিয়ে রাখা হতো। কখনো কখনো তার সামনে পবিত্র কোরআন শরিফকে অবমাননা করা হতো। আবার কখনো ভয় দেখানের জন্য অত্যাচারের ভিডিও চিত্রও দেখানো হতো। একদিন তার সামনেই দুই জন লোককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

মোয়াজ্জেম বেগকে বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে, সিআইএ, এফবিআই, এমআই ফাইব, সিআইটিএফ, মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং আরও অনেকেই। অন্য দেশের গোয়েন্দাদেরকেও সুযোগ দেয়া হয়, গুয়ান্তানামোতে বন্দিদেরকে নিজের দেশের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে। এমনকি কর্নেল গাদ্দাফির গোয়েন্দাদেরকেও সুযোগ দেয়া হয়েছিল এখানে বন্দিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে। আটক অবস্থায়, রূপক বা বাস্তব, কোন ভাবেই মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29525164 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29525164 2012-01-19 17:04:11
পশ্চিমের বিরুদ্ধে চীনের সাংস্কৃতিক যুদ্ধ
নতুন বছরের শুরুতেই চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও এর এই বক্তব্যটি সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। তিনি বলেছেন, চীন এবং পশ্চিমা বিশ্ব একটি সাংস্কৃতিক যুদ্ধে লিপ্ত, তাই চীনের জনগণ এই যুদ্ধের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য, তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করবে।

তার এই আহ্বান, চীনের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্দীপনা হিসাবে কাজ করবে। কিন্তু উদারপন্থী বুদ্ধিজীবীগণ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ তাদের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে। এতে সাংস্কৃতিক ইন্ডাস্ট্রিগুলি অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসাবে কাজ করবে।

ঝু ডাকি, সাংহাই টংজি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, সংস্কৃতিই হবে, চীনা অর্থনীতির শেষ আকর্ষণীয় উপাদান। সবাই অর্থনীতির ফল ভোগ করতে উদগ্রীব থাকে, বড় কোম্পানিগুলিও এর থেকে ফল ভোগ করতে চাইবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29524199 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29524199 2012-01-18 00:40:51
অপুষ্টি--ইন্ডিয়ার লজ্জা ইন্ডিয়ার রাজধানী নয়াদিল্লী এবং আশেপাশে হাজার হাজার মানুষ বস্তিতে বসবাস করে। এই সমস্ত বস্তিবাসী শিশুরা চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। তাদের পক্ষে দুইবেলা খাদ্য সংগ্রহ করা একটা বিলাসিতার ব্যাপার। এই সমস্ত বস্তির শিশুগুলিকে দেখলে বয়সের তুলনায় খুবই ছোট দেখায়। ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাই তাদের জীবন, আর অপুষ্টি তো তাদের কাছে একটি অপরিচিত শব্দ।

অপুষ্টিতে ভোগা জনগোষ্ঠীর উপর সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্ট এই করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। দারিদ্র, অপুষ্টি ইত্যাদি ইন্ডিয়ার জন্য একটি সুপরিচিত সত্য। প্রায় দুই দশক আগে পর্যন্ত ইন্ডিয়া বিশ্বের দরিদ্রতর দেশগুলির মধ্যে স্থান লাভকারী একটি অন্যতম রাষ্ট্র। কিন্তু বৈপরীত্যটা হচ্ছে, ইন্ডিয়া এখন ক্রমবর্ধমান দ্রুততম ডলার অর্জনকারী রাষ্ট্র। অন্যদিকে কোটি কোটি ইন্ডিয়ান এখনও চরমভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে।

ইন্ডিয়ান প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ অতি সাম্প্রতিক অপুষ্টির উপর একটি গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছেন। এই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে শতকরা ৪২ ভাগ ইন্ডিয়ান শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে, যা কিনা ইন্ডিয়ার চরম দারিদ্রকে প্রকটভাবে প্রকাশ করেছে। সর্ব বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ, আর দ্বিতীয় দ্রুতগতির ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশ ইন্ডিয়ার বৈপরীত্য, সমস্যা এবং সংকটকেই চরম সত্যরূপে প্রকাশ করে। এখানে গণতন্ত্র অপুষ্ট জনগণের দিকে তাকিয়ে বিদ্রূপ করে, আর অপুষ্ট জনগণ গণতন্ত্রের দিকে সকরুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

ইন্ডিয়া হচ্ছে বিশ্বের মধ্যে ২৫ বছরের কম বয়সী মানুষের সবচাইতে বৃহৎ দেশ। ইন্ডিয়ার অর্থনীতির গালভরা গল্প, এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পুষ্টি-হীনতা ম্লান করে দেয়। সামরিক আর অ-উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হ্রাস না করেই, ইন্ডিয়ান সরকার খাদ্য নিরাপত্তা আইন নামে একটা আইন পাশ করেছে। কিন্তু এই আইন কোন সুরক্ষা দিবে বলে মনে হয়না। ইন্ডিয়ার কোটি কোটি মানুষকে অপুষ্টির হাত থেকে বাচাতে হলে, সামরিক খাতে ব্যয় কমাতে হবে। আর সামরিক খাতে ব্যয় কমাতে হলে, প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলতে হবে। বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান ইত্যাদি প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলতে হবে। প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্কই, ইন্ডিয়ার জনগণের অপুষ্টি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29523619 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29523619 2012-01-17 00:35:05
বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিল নতুন অভিবাসন
ব্রাজিলে আসার কারণ:
সুলতান আহাম্মদের ধারনা ব্রাজিলে অর্থনীতি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছ, তাই এখানে কাজের কোন অভাব হবে না। তারা খুব শীঘ্রই ওয়ার্ক পারমিট পেয়ে যাবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে খুবই খারাপ। মূল্য স্ফীতি এবং একই সাথে মুদ্রা স্ফীতি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বাংলাদেশের অনেকেই কাজের জন্য দক্ষিণ আমেরিকাতে আসার অপেক্ষায় আছে।

সুলতান আহাম্মদ এবং আবদুল আউয়াল এর আগে কখনই ব্রাজিল আসে নাই এমনকি পর্তুগিজ ভাষাও জানে না। সুলতান আহাম্মদ একজন দক্ষ চিত্রকর। এর আগে সে গ্রীসে কাজ করেছে। আর আবদুল আউয়াল একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান। সে এর আগে মালয়েশিয়াতে কাজ করেছে।

সুলতান আহাম্মদ দেশে রেখে এসেছে তার স্ত্রী এবং সাত বছর বয়সের এক কন্যা সন্তান। আর আবদুল আউয়াল তার স্ত্রী, এক কন্যা এবং দুই পুত্র। পরিবারের প্রয়োজনেই এই সুদূর প্রবাসে তারা এসেছে।

দীর্ঘ বিপদসংকুল যাত্রা:
বাংলাদেশ থেকে সুদূর ব্রাজিল। এত দীর্ঘ পথ তারা কি ভাবে পারি দিল? তারা ৯ হাজার ডলার দিয়েছে দালালকে এই কাজের জন্য। দালাল তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ইকুয়েডরে তাদেরকে উচ্চ বেতনের চাকরি যোগার করে দিবে। দালাল তাদেরকে প্রথমে ঢাকা থেকে দুবাই নিয়ে আসে। এতে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বিমানে আসতে হয়। দুবাইয়ে ভাল কাজের সুযোগ না থাকায়, তারা ব্রাজিলকেই গন্তব্য হিসাবে বেছে নেয়।

বিরামহীন ভাবে ১৫ ঘণ্টা ফ্লাইটে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে সাও পাওলোতে আসে। যেহেতু তাদের ব্রাজিলের কোন ভিসা ছিল না তাই প্রথমে সাও পাওলোতে আসে। কিন্তু তাদেরকে এয়ারপোর্ট থেকে বার হতে অনুমতি দেয় হয়নি। তারপর তাদেরকে চিলির সান্তিয়াগোতে পাঠানো হয়। এখানেও প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ করতে হয়।

পরে অন্য একটি ফ্লাইটে তাদেরকে সান্তিয়াগো থেকে ইকুয়েডরের কোয়েটোতে পাঠানো হয়। এতে তাদের প্রায় ৫ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ করতে হয়। কোয়েটোতে তার কয়েক দিন অবস্থান করে। কিন্তু ইকুয়েডরে তারা কোন কাজ যোগার করতে পরে নাই।

তারপর তারা ঠিক করে ব্রাজিল যাবে। তাদের ধারনা, যেহেতু ব্রাজিল বিশ্বের মধ্যে ৬ষ্ট বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ, তাই ব্রাজিলেই তারা কাজের সন্ধান পাবে।

কিন্তু সমস্যা হল তাদের তো ব্রাজিলের ভিসা নেই তারা কি ভাবে ব্রাজিলে প্রবেশ করবে। তাদের দালাল তাদের বাধ্য করে আরও ৫,৪০০ ডলার দিতে। যা কিনা একজন মধ্যস্থতাকারীকে দেয়া হবে। এই মধ্যস্থতাকারী তাদের আশ্বাস দেয়, যদিও কাজটা খুব কঠিন, তবুও তারা যেন বিচলিত না হয়।

সীমান্ত অতিক্রম:
তারা ইকোয়োডরের কোয়োট থেকে ২৬ ঘণ্টায় পাবলিক বাসে করে, পেরুর লিমাতে আসে। তারপর বাস পরিবর্তন করে আরও ১২ ঘণ্টা দুর্গম পাহাড়ি পথে ব্রাজিলের নিকটবর্তী সীমান্ত শহর পেরুর ইনাপারি শহরে আসে।

এখানে এসেও তারা ব্রাজিলের ভিসা পায়নি। এইবার দালাল আরও ৬ শত ডলার দাবি করে বসল। তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হল, বলিভিয়া সীমান্তের দিকে। তার পর জঙ্গলের ভিতর দিয়ে কয়েক কিলোমিটার অতিক্রম করে ব্রাজিলে প্রবেশ করানো হল।

ব্রাজিলে পৌছার পর তাদের কাছে অবশিষ্ট রইল মাত্র ৩ শত ডলার। আর ডলার না থাকায় দালাল সুলতান আহাম্মদের মোবাইল ফোনটি নিয়ে নিলো।

২১ দিনের দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত সুলতান আহাম্মদ এবং আবদুল আউয়াল এখন ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়াতে অপেক্ষা করছে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য। তাদের কাছে এখন আছে মাত্র ২০ ডলার। বাড়ীতে যে ফোন করবে, সেই মোবাইল ফোনটিও তাদের সাথে নেই। এতো কষ্টের মধ্যেও তারা কিছু স্ন্যাক আর কিছু পানি কিনেছে তাদের ব্রাজিল আগমনকে উদযাপনের জন্য। এইগুলি কেনার পর এখন তাদের হাতে আছে মাত্র ১০ ডলার।

তারা তাদের পাসপোর্ট স্থানীয় ফেডারেল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য। কিন্তু ওয়ার্ক পারমিট পেতে তাদেরকে কম পক্ষে ৪ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।

ভিন্ন সংস্কৃতি:
তারা বুঝতে পারছেনা কি ভাবে ব্রাজিলিয়ানদের সাথে ভাব বিনিময় করবে। এক ব্রাজিলিয়ান তাদের কে জিজ্ঞাস করল, তারা কোথা থেকে এসেছে। বাংলাদেশ শুনে, একজন বলল, ওহ বুঝেছি। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার রাজধানী। সুলতান আহাম্মদ বাংলাদেশকে চিনানোর জন্য বলল, বাংলাদেশ, ইনডিয়া, পাকিস্তান।

নতুন প্রবণতা:
এটি একটি নতুন প্রবণতা। পূর্ব থেকে পশ্চিম এবং দক্ষিণ থেকে দক্ষিণে অভিবাসনের নতুন প্রবণতা। বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিল।

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন জায়গা। এখন তারা নিজেদেরকে নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে। তাদেরকে সাহায্য করার জন্য কেউ নেই। একসময় অনেক বাংলাদেশি বাস করবে ব্রাজিলে। তখন একটা সমাজ গড়ে উঠবে। যেমন, হাইতিয়ানরা এখনে সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29521911 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29521911 2012-01-13 22:35:40
মহিলা মুখ্যমন্ত্রী


ইন্ডিয়ার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী সুচেতা কৃপালনী। ষাটের দশকে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সুচেতা কৃপালনীর জন্ম হরিয়ানার আম্বালায় হলেও, তিনি বাঙালি ছিলেন।

এরপর সত্তোরের দশকে উরিশ্যার মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, নন্দিনী সৎপথী।

সত্তোরের দশকেই গোয়ার মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, শশীকলা ককোদকর।

আশির দশকে আসামের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, আনোয়ারা তৈমুর।

আবার আশির দশকেই তামিলনাড়ুর মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, জানকী রামচন্দ্রন। এই সময় চার মাসের জন্য দিল্লির মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সুষমা স্বরাজ।

নব্বই দশকে পাঞ্জাবের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, রাজিন্দর কাউর ভাট্টাল। সেই সময় বিহারের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, রাবড়িদেবী।

২০০৩ সালে, মধ্যপ্রদেশের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, উমা ভারতী। ২০০৩-এই রাজস্থানের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হন, বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া।

বর্তমানে ইন্ডিয়ার শীর্ষ পদে তিনজন মহিলা: প্রেসিডেন্ট প্রতিভা পাটিল। লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার। আর রেকর্ড বার বছর ধরে কংগ্রেসের সভানেত্রী হিসাবে সোনিয়া গান্ধী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29381027 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29381027 2011-05-14 17:57:59
নতুন উদারবাদী তত্ত্ব
দুর্নীতিপরায়ণতা এবং রাজনীতিবিমুখতা হচ্ছে একটি শক্তিশালী উদারবাদী সমাজের প্রধান উপাদান। কেউ এর বিরুদ্ধে কথা বললে, তারা সংস্কারপন্থী হিসাবে চিহ্নীত হয়। খুব কম মানুয়েরই মিডিয়ার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা আছে। মিডিয়াই হচ্ছে দূর্নীতিগ্রস্থ রাজনৈতিক অর্থনীতির প্রধান অঙ্গ। ইন্টারনেট ও তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা যে পরিবর্তন এনেছে, মিডিয়ার রাজনৈতিক অর্থনীতিতে তা দোদুল্যমানতা সৃষ্টি করছে। এই নুতন প্রযুক্তি প্রচার ব্যবস্থাকে লক্ষণীয়ভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29373113 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29373113 2011-05-01 14:58:19
প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগন-১ ৭৷ (১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে৷

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আসলেই কি জনগণ সব ক্ষমতার মালিক—না এটা শুধু কথার কথা। না কি প্রতারণার একটা কৌশল মাত্র?

পবিত্র সংবিধান অনুসারে, আপনি আমি অর্থাৎ জনগণ এই দেশের ক্ষমতার মালিক।

সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে সরকারি কর্মচারীর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে—
"সরকারী কর্মচারী" অর্থ প্রজাতন্ত্রের কর্মে বেতনাদিযুক্ত পদে অধিষ্ঠিত বা কর্মরত কোন ব্যক্তি;

সংবিধান অনুসারে দেশের মালিক জনগণের কর্মচারীকে সরকারী কর্মচারী বলা হয়।

পরবর্তী পর্ব সমূহে মালিক ও কর্মচারীর পারস্পরিক সম্পর্ক, আর্থিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থা ইত্যাদি আলোচনা করবো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29371798 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29371798 2011-04-29 15:14:40
২৩ এপ্রিল বিশ্ব পুস্তক দিবস প্রধানত বই এর প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে এই দিনটি পালন করা হয়। তাছারা লেখকরা যাতে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন—এটাও এ দিন পালন করার আরো একটি লক্ষ্য। আসলে, লেখক-প্রকাশক-পাঠকদের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ হতে সাহায্য করে বিশ্ব পুস্তক দিবস উদ্‌যাপন। এ বছর নিয়ে ১৬তম বিশ্ব পুস্তক দিবস পালন করা হচ্ছে সারা বিশ্বে।

সাধারণ মানুঝের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ভীষণভাবে কমে গেছে। তাই সঠিক সময়েই জাতিসঙ্ঘ বিশ্ব পুস্তক দিবসের ভাবনা সারা বিশ্ব ছড়িয়ে দিয়েছে। বইপত্রের প্রচার ও প্রসারের পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরও কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে আছে:
# সব ভাষায়, বই-পত্র-পত্রিকা পাঠের অভ্যাসকে বাড়ানো;
# সব বয়সের মানুষের মধ্যে পাঠের অভ্যাস বাড়ানো;
# সকল পাঠকের মধ্যে বইপত্র ছড়িয়ে দিতে হবে যাতে পাঠের অভ্যাস উল্লেখজনকভাবে বাড়ে;
# সারা বছরই ছোট ছোট স্থানে, ক্লাবে, অফিসে বই মেলার আয়োজন করা;
# সম্ভাব্য পাঠকের হাতের নাগালের মধ্যে বই-পুস্তক নিয়ে যাওয়া যাতে বই এর প্রসারের সাথে সাথে পাঠেরও অভ্যাস বাড়ে।

আজ ২৩ এপ্রিল আপনি অন্তত একটা বই কিনুন। একটা বই সন্তানকে, স্ত্রীকে বা কোন প্রিয়জনকে উপহার দিন। দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখুন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29367923 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29367923 2011-04-23 17:23:37
সংসদের আইন-দ্বারা সংবিধান সংশোধনের বাধা কোথায়? সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ নিম্নরুপ:
১৪২। (১) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও

(ক) সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে,

(অ) অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ণ শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না;

(আ) সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না;

(খ) উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

(১ক) (১) দফায় যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও এই সংবিধানের প্রস্তাবনার অথবা ৮, ৪৮ বা ৫৬ অনুচ্ছেদ অথবা এই অনুচ্ছেদের কোন বিধানাবলীর সংশোধনের ব্যবস্থা রহিয়াছে এইরূপ কোন বিল উপরি-উক্ত উপায়ে গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন কি করিবেন না এই প্রশ্নটি গণ-ভোটে প্রেরণের ব্যবস্থা করিবেন।

(১খ) এই অনুচ্ছেদের অধীন গণ-ভোট সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতকৃত ভোটার তালিকাভু্ক্ত ব্যক্তিগণের মধ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আইনের দ্বারা নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ও পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে।

(১গ) এই অনুচ্ছেদের অধীন কোন বিল সম্পর্কে পরিচালিত গণ-ভোটের ফলাফল যেদিন ঘোষিত হয় সেইদিন-

(অ) প্রদত্ত সমুদয় ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট উক্ত বিলে সম্মতিদানের পক্ষে প্রদান করা হইয়া থাকিলে, রাষ্ট্রপতি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, অথবা

(আ) প্রদত্ত সমুদয় ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট উক্ত বিলে সম্মতিদানের পক্ষে প্রদান করা না হইয়া থাকিলে, রাষ্ট্রপতি বিলটিতে সম্মতিদানে বিরত রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

(১ঘ) (১গ) দফার কোন কিছুই মন্ত্রিসভা বা সংসদের উপর আস্থা বা অনাস্থা বলিয়া গণ্য হইবে না।

(২) এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত কোন সংশোধনের ক্ষেত্রে ২৬ অনুচ্ছেদের কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29367507 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29367507 2011-04-22 23:25:59
বুলগুকছা (Bulguksa)

বুলগুকছা মন্দিরের প্রবেশ দ্বারের নাম সুকগিউমুন (Sokgyemun)—এর রয়েছে দুই তলা বিশিষ্ট সিড়িঁর ৩৩টি ধাপ। নিচের অংশে ১৭টি ধাপ, যার নাম ‘নিল মেঘের সেতু’ (Cheongungyo), আর উপরের অংশে ১৬টি ধাপ, যার নাম ‘সাদা মেঘের সেতু’ (Baegungyo)।


মন্দিরের ভিতর দুইটি প্যাগোডা, যা অন্য কোনো বৌদ্ধ মন্দিরে নাই। ছিওকগাটাপ প্যাগোডাটি তিন তলা বিশিষ্ট, যা কোরিয়ান শিল্প রীতিতে পাথর দ্বারা নির্মিত। এই প্যাগোডাটি ৮.২ মিটার উঁচু। অপর প্যাগোডার নাম ‘ডাবুটাপ’ যার উচ্চতা ১০.৪ মিটার। ডাবুটাপ প্যাগোডাটি, ছিওকগাটাপ প্যাগোডার চাইতে বেশী কারুকার্যময়।


বুলগুকছা মন্দিরের নির্মাণ কৌশল একদিকে পৃথিবী, অন্যদিকে দু’টি স্বর্গীয় গৃহের ঈঙ্গিত বহন করে।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29366694 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/29366694 2011-04-21 16:40:55
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-২০
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে-যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।

ব্যাখ্যা--
মুমিন অর্থ যারা ঈমান এনেছে। পরস্পর ভাই অর্থ এক ভাইয়ের প্রতি অন্য ভাইয়ের যে রূপ অধিকার, কর্তব্য ও দায়িত্ব থাকে ঠিক অনুরূপ অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য অপর মুমিনের প্রতি থাকবে। দুই জন মুমিনের মধ্যে যদি কোন কারণে ঝগড়া-বিবাদ, মনমালিন্য বা ভুল বুঝা-বুঝি হয় তা হলে অন্য মুমিন ভাইয়ের কর্তব্য হবে পরস্পরের মধ্যে ন্যায় সংগতভাবে মীমাংসা করে দেয়া।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28762679 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28762679 2008-01-20 21:30:03
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১৯
وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا حَتَّى إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ

আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থ্যের বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম।

ব্যাখ্যা--
মায়ের হক বাবার অপেক্ষা বেশী। আয়াতরে শুরুতে পিতা-মাতা উভয়ের সাথে সদ্ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু এ স্থলে কেবল মায়ের কষ্টের কথা উল্লেখ করার তাৎপর্য এই যে, মায়ের পরিশ্রম ও কষ্ট অপরিহার্য ও জরুরী। গর্ভধারণের সময়ে কষ্ট, প্রসব বেদনার কষ্ট সর্বাবস্থায় ও সব সন্তানের ক্ষেত্রে মাতাকেই সহ্য করতে হয়। পিতার জন্যে লালন-পালনের কষ্ট সহ্য করা সর্ববস্থায় জরুরী হয় না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28762458 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28762458 2008-01-19 21:52:53
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১৮
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا

যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।
ব্যাখ্যা--
কোন মুসলমানকে শরীয়তসম্মত কারণ ব্যতিরেকে কষ্ট দেয়া হারাম। এই আয়াত দ্বারা কোন মুসলমানকে শরীয়তসম্মত কারণ ব্যতিরেকে কষ্টদানের অবৈধতা প্রমাণিত হয়েছে। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "কেবল সে-ই মুসলমান, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে ও কেউ কষ্ট না পায়। আর কেবল সে-ই মুমিন, যার কাছ থেকে মানুষ তাদের রক্ত ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে নিরুদ্বেগ থাকে। (মাযহারী)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28762210 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28762210 2008-01-18 21:41:00
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১৭
وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ إِنَّ أَنكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِي

পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নি:সন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।

ব্যাখ্যা--
মধ্যম গতিতে চলাফেরা করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
খুব দ্রুতগতিতে দৌড়-ঝাপ করে চলা বভ্যতা ও শালীনতার পরিপন্থী।
দ্রুতগতিতে চলা মুমিনের সৌন্দর্য ও মর্যাদাহানিকর। এভাবে চলার ফলে নিজেরও দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বা অপরের দুর্ঘটনার কারণও ঘটতে পারে।
আবার অত্যধিক মন্থর গতিতেও চলতে বারন করা হয়েছে--যা গর্বস্ফীত আত্মাভিমানীদের অভ্যাস, যারা অন্যান্য মানুষের চাইতে নিজের অসার কৌলীন্য দেখাতে চায়।

আর কন্ঠস্বর নীচু করার অর্থ স্বর প্রয়োজনাতিরিক্ত উচ্চ না করা এবং হট্টগোল না করা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28761901 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28761901 2008-01-17 21:16:39
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১৬
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ

অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ্ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।
ব্যাখ্যা--
দয়াময় আল্লাহ সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন, মানুষকে অবজ্ঞা না করতে। লক্ষ্য করুন, মানুষকে। এখানে ধনি-গরীব, সাদা-কালো, হিন্দু-মুসলমানের কোন উল্ল্যেখ নাই। মানুষকে অবজ্ঞা করা যাবে না। একজন আরেকজনকে অবজ্ঞা করে অহংকার বশে। তাই আল্লাহ দাম্ভিক অহংকারীকে অপছন্দ করেন। আর আল্লাহ যাকে অপছন্দ করেন তার অবস্থা কেমন হবে? আসুন, কোন মানুষকে অবজ্ঞা না করি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28760655 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28760655 2008-01-13 20:17:54
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১৫
অবিনশ্বর শাশ্বত সত্তার অধিকারি আল্লাহ কোরআন পাকের সুরা লোকমান এর ১৪ নম্বর আয়াতে উল্ল্যেখ করেছেন--

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ

আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।

ব্যাখ্যা--
আল্লাহ পাক পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই জোর নির্দেশের গুরুত্ব অপরিসীম। অর্থাৎ পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা ফরজ। এই আয়াতে ক্ষমাশীল ও দয়াময় আল্লাহ মায়ের কষ্টের কথা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। মা তার সন্তানের ধরাধামে আবির্ভাব ও অস্থিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার ও অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট বরদাশত করেছেন। উদরে ধারণ করে তার রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন এবং এ কারণে ক্রমবর্ধমান দুঃখ-কষ্ট বরদাশত করেছেন। আবার ভূমিষ্ট হওয়ার পরও দু'বছর পযন্ত স্তন্যদানের কঠিন ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। যাতে দিন-রাত মাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। ফলে তাঁর দুর্বলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সন্তানের লালন-পালনের ক্ষেত্রে মাকেই যেহেতু অধিক ঝুঁক্কি-ঝামেলা বহন করতে হয়, সেজন্য শরীয়তে মায়ের স্থান ও অধিকার পিতার অগ্রে রাখা হয়েছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28760400 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28760400 2008-01-12 21:47:06
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১৪
আল্লাহ রহমানুর রহিম, পবিত্র কোরআনের সুরা আনকাবুত এর ৮ নম্বর আয়াতে উল্ল্যেখ করছেন--

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا وَإِن جَاهَدَاكَ لِتُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

আমি মানুষকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না। আমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অত:পর আমি তোমাদেরকে বলে দেব যা কিছু তোমরা করতে।
ব্যাখ্যা--
পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার সাথে সাথে এটাও জরুরী যে, আল্লাহর নির্দেশাবলীর অবাধ্যতা না হয়, সেই সীমা পর্যন্ত পিতা-মাতার আনুগত্য করতে হবে। তারা যদি সন্তানকে কুফর ও শেরক করতে বাধ্য করে, তবে এ ব্যাপারে কিছুতেই তাদের আনুগত্য করা যাবে না; যেমন হাদীসে আছে, আল্লাহর অবাধ্যতা করে কোন মানুষের আনুগত্য করা বৈধ নয়।
আলোচ্য আয়াত হযরত সা'দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি দশ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিগণের অন্যতম ছিলেন এবং অত্যধিক পরিমাণে মাতৃভক্ত ছিলেন। তাঁর মাতা হেমনা বিনতে আবু সুফিয়ান পুত্রের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ অবগত হয়ে খুবই মর্মাহত হন। সে পুত্রকে শাসিয়ে শপথ করল, আমি তখন পর্যন্ত আহার্য ও পানীয় গ্রহণ করব না, যে পর্যন্ত তুমি পৈতৃক ধর্মে ফিরে না আস। আমি এমনিভাবে ক্ষুধা ও পিপাসায় মৃত্যুবরণ করব, যাতে তুমি মাতৃহন্তা রূপে বিশ্ববাসীর দৃষ্টিতে হেয় প্রতিপন্ন হও। এই আয়াত হযরত স'দকে মাতার আবদার রক্ষা করতে নিষেধ করল।
বগভীর বর্ণনাতে আছে, হযরত সা'দের আম্মা একদিন একরাত মতান্তরে তিন দিন তিন রাত শপথ অনুযায়ী অনশন অব্যাহত রাখলে হযরত সা'দ উপস্থিত হলেন। মাতৃভক্তি পূর্বের মতই ছিল; কিন্তু আল্লাহর ফরমানের মোকাবেলায় তা ছিল তুচ্ছ। তাই জননীকে সম্বোধন করে তিনি বললেন, "আম্মাজন, যদি আপনার দেহে একশ' আত্মা থাকত, এবং একটি একটি করে বের হতে থাকত, তা দেখেও আমি আমার ধর্ম ত্যাগ করতাম না। এখন আপনি ইচ্ছা করলে পানাহার করুন অথবা মৃত্যুবরণ করুন। আমি আমার ধর্ম ত্যাগ করতে পারি না। এ কথায় নিরাশ হয়ে তাঁর মাতা অনশন ভঙ্গ করল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28760123 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28760123 2008-01-11 21:46:08
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১৩
وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا
রহমান-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মুর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে, সালাম।
ব্যাখ্যা--
আল্লাহ পাক মুসলমানদের একটি গুণের কথা বলেছেন। রহমান আর্থাৎ আল্লাহর বান্দা বা একজন মুসুলমান কোন সময়ই কারো সাথেই অহংকার প্রকাশ করবে না। বরং বিনম্রভাবে চলাফেরা করবে। মানুষের সাথে বিনম্র আচরণ করবে।

কোন মুর্খ লোক যদি গায়ে পরে ঝগড়া করতে আসে, তা হলে তার সাথে ঝগড়া না করে স্বসম্মানে সালাম দিয়ে চলে যাবে।

আসুন, আমরা আল্লাহর নির্দেশানুসারে কাজে বা কথায় অহংকার প্রকাশ না করি এবং সবার সাথে বিনয় প্রকাশ করে বিনম্র আচরণ করি।

কারো সাথে ঝগড়া ফেসাদে জড়িয়ে না যাই। কেউ ঝগড়া করতে চাইলে সালাম দিয়ে স্বসম্মানে দূরে সরে যাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28759867 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28759867 2008-01-10 22:01:07
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১২ لَيْسَ عَلَى الْأَعْمَى حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى أَنفُسِكُمْ أَن تَأْكُلُوا مِن بُيُوتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ آبَائِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أُمَّهَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ إِخْوَانِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخَوَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَعْمَامِكُمْ أَوْ بُيُوتِ عَمَّاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخْوَالِكُمْ أَوْ بُيُوتِ خَالَاتِكُمْ أَوْ مَا مَلَكْتُم مَّفَاتِحَهُ أَوْ صَدِيقِكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَأْكُلُوا جَمِيعًا أَوْ أَشْتَاتًا فَإِذَا دَخَلْتُم بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُون
অন্ধের জন্যে দোষ নেই, খঞ্জের জন্যে দোষ নেই, রোগীর জন্যে দোষ নেই, এবং তোমাদের নিজেদের জন্যেও দোষ নেই যে, তোমরা আহার করবে তোমাদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতাদের গৃহে অথবা তোমাদের মাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভ্রাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভগিণীদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতৃব্যদের গৃহে অথবা তোমাদের ফুফুদের গৃহে অথবা তোমাদের মামাদের গৃহে অথবা তোমাদের খালাদের গৃহে অথবা সেই গৃহে, যার চাবি আছে তোমাদের হাতে অথবা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর অথবা পৃথকভবে আহার কর, তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। অত:পর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ কর, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহ্র কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও।
ব্যাখ্যা--
এই আয়াতে আল্লাহ পাক কোন লোককে ঘৃণা করতে নিষেধ করছেন। অন্ধ হউক, খঞ্জ হউক বা অসুস্থ হউক সবার সাথে সহানুভতির সাথে মিশতে হবে।
আর ঘরে ঢুকার সময় স্বজনদের সালাম দিতে হবে। এখানে কোন ছোট বড় নাই। মহিলা পুরুষ নাই। যিনি প্রবেশ করবেন তিনি সালাম দিবেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28744363 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28744363 2007-11-10 14:32:40
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১১ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِن قَبْلِ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُم مِّنَ الظَّهِيرَةِ وَمِن بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاء ثَلَاثُ عَوْرَاتٍ لَّكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ وَلَا عَلَيْهِمْ جُنَاحٌ بَعْدَهُنَّ طَوَّافُونَ عَلَيْكُم بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
হে মুমিনগণ! তোমাদের দাসদাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের নামাযের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা বস্ত্র খুলে রাখ এবং এশার নামাযের পর। এই তিন সময় তোমাদের দেহ খোলার সময়। এ সময়ের পর তোমাদের ও তাদের জন্যে কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনি ভাবে আল্লাহ্ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বায়োপ্রাপ্ত হয়, তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় অনুমতি চায়। এমনিভাবে আল্লাহ্ তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاء اللَّاتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ وَأَن يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَّهُنَّ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য্য প্রকাশ না করে তাদের বস্ত্র খুলে রাখে। তাদের জন্যে দোষ নেই, তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

ব্যাখ্যা--
এই আয়াত গুলিতে, যারা বাড়ি ভিতরে আছে তারা এক রুম থেকে অন্য রুমে কি ভাবে প্রবেশ করবে তার বিধান বর্ণনা করা হয়েছে।
তিনটি নির্দিষ্ট সময়ে কারো রুমে প্রবেশ করতে সব ধরনের লোকের অনুমতির প্রয়োজন হবে।
১। এশার পর
২। ফজরের পূর্বে
৩। দুপুরে অর্থাৎ এশার পর থেকে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত রাতে বিশ্রামের সময় এবং দুপুরে খাওয়ার পর যখন বিশ্রাম করা হয়।

এই তিন সময়ে বাড়ীর কাজের লোক এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদেরকেও কারো ঘরে প্রবেশ করতে অনুমতি নিতে হবে।

এই তিন সময় ছাড়া অন্য সময়ে বাড়ির কাজের লোক এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের কারো রুমে প্রবেশ করতে অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন নাই।

আবার ছেলেমেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে গেলে উল্ল্যেখিত তিন সময় ছাড়াও অন্য সময়ে আব্বা আম্মার রুমে প্রবেশের সময় অনুমতি নিতে হবে।

এই বিধানের কারণ--
উল্লেখিত তিন সময়ে মানুষ বিশ্রাম করার জন্য একটু খোলামেলা পোষাকে থাকে। এই খোলামেলা শরীর যেন নিজের ছেলেমেয়ে সহ বাড়ির কাজের লোক দেখতে না পায় তাই এই বিধান।
এই বিধান নারী পুরুষ সবার জন্যই প্রযোজ্য।

আর একটা বিধান হ'ল, বয়স্কা মহিলাদের ক্ষেত্রে হিজাবের বিধান কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। তবে হিজাব করাই উত্তম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28744339 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28744339 2007-11-10 12:54:54
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-১০ قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ্ তা অবহিত আছেন।

ব্যাখ্যা-
দৃষ্টি নত রাখার অর্থ দৃষ্টিকে এমন বস্তু থেকে ফিরিয়ে নেয়া যার প্রতি দেখা শরীয়তে নিষিদ্ধ ও অবৈধ।
এই আদেশ নারী-পুরুষ সবার জন্য।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28744037 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28744037 2007-11-09 21:30:46
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-৯ (ক)
অনুমতি চাওয়ার রহস্য ও উপকারিতা।
আল্লাহ্ তাআলা প্রত্যেক মানুষকে বসবাসের জায়গা দিয়েছেন। তা মালিকানাধীন হোক কিংবা ভাড়া করা হোক, সর্বাবস্থায় তারই গৃহ তার আবাসস্থল।

আবাসস্থলের আসল উদ্দেশ্য শান্তি ও আরাম।
এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক বলেছেন, আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের গ্রহে তোমাদের জন্যে শান্তি ও আরামের ব্যবস্থা করেছেন। এই শান্তি ও আরাম তখনই অক্ষুন্ন থাকতে পারে, যখন মানুষ অন্য কারো হস্তক্ষেপ ব্যতীত নিজ গ্রহে নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী স্বধীনভাবে কাজ ও বিশ্রাম করতে পারে। তার স্বাধীনতায় বিঘ্ন
সৃষ্টি করা গৃহের আসল উদ্দেশ্যকে পণ্ডকরে দেয়ার নামান্তর।
এটা খুবই কষ্টের কথা।

ইসলাম কউকে অহেতুক কষ্ট দেয়াকে হারাম করেছে।
অনুমতি চাওয়া সম্পর্কিত বিধানাবলীর একটি বড় উপকারিতা হচ্ছে মানুষের স্বাধীনতায় বিঘ্ন সৃষ্টি ও কষ্টদান থেকে বিরত থাকা, যা প্রত্যেক সম্ভ্রান্ত মানুষের যুক্তিসঙ্গত কর্তব্যও বটে।

দ্বিতীয় উপকারিতা স্বয়ং সাক্ষাতপ্রার্থীর। সে যখন অনুমতি নিয়ে
ভদ্রজনোচিতভাবে সাক্ষাত করবে, তখন প্রতিপক্ষ তার বক্তব্য যত্নসহকারে শুনবে। তার কোন অভাব থাকলে তা পূরণ করার প্রেরণা তার অন্তরে সৃষ্টি হবে। এর বিপরীতে অভদ্রজনোচিত পন্থায় কনে ব্যক্তির উপর বিনানুমতিতে চড়াও হয়ে গেলে সে তাকে আকস্মিক বিপদ মনে করে যত শীঘ্র সম্ভব বিদায় করে দিতে চেষ্টা করবে এবং হিতাকাঙ্খার প্রেরণা থাকলেও তা নিস্তেজ হয়ে যাবে।

তৃতীয় উপকারিত নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা দমন। কারণ, বিনানুমতিতে কারও গৃহে প্রবেশ করলে মাহরাম নয়, এমন নারীর উপর দৃষ্টি পড়া এবং অন্তরে কোন রোগ সৃষ্টি হওয়া আশ্চর্য নয়। এদিকে লক্ষ্য করেই অনুমতি গ্রহণের বিধানাবলীকে
কোরআন পাক ব্যভিচার, অপবাদ ইত্যাদি শাস্তির বিধি-বিধান সংলগ্নে বর্ণনা করেছে।

চতুর্থ উপকারিত এই যে, মানুষ মাঝে মাঝে নিজ গৃহের নির্জনতায় এমন কাজ করে, যে সম্পর্কে অপরকে অবহিত করা সমীচীন মনে করে না।
যদি কেউ অনুমতি ব্যতিরেকে গ্রহে ঢুকে পড়ে, তবে ভিন্ন লোক তার গোপন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে যায়।
কারো গোপন কথা জবরদস্তি জানার চেষ্টা করাও গোনাহ্ এবং অপরের জন্যে কষ্টের কারণ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28740344 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28740344 2007-10-27 20:39:48
মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত-৯ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ
بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا
ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।

فَإِن لَّمْ تَجِدُوا فِيهَا أَحَدًا فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتَّى يُؤْذَنَ
لَكُمْ وَإِن قِيلَ لَكُمُ ارْجِعُوا فَارْجِعُوا هُوَ أَزْكَى لَكُمْ
وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ
যদি তোমরা গৃহে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদেরকে বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে অনেক পবিত্রতা আছে এবং তোমরা যা কর, আল্লাহ্ তা ভালোভাবে জানেন।

لَّيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ مَسْكُونَةٍ
فِيهَا مَتَاعٌ لَّكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا
تَكْتُمُونَ
যে গৃহে কেউ বাস করে না, যাতে তোমাদের সামগ্রী আছে এমন গৃহে প্রবেশ করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই এবং আল্লাহ্ জানেন তোমরা যা প্রকাশ কর এবং যা গোপন কর।

ব্যাখ্যা--
অনুমতি ছাড়া কারোও গৃহে প্রবেশ করা যাবেনা।
পরিতাপের বিষয়, ইসলামী শরীয়ত এ ব্যাপারটিকে যতই গুরুত্ব দিয়েছে, কোরআনে এর বিস্তারিত বিধি-বিধান অবতীর্ণ হয়েছে এবং রসুলুল্লাহ (সাঃ) নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে এর প্রতি জোর দিয়েছেন, সেই পারিমাণেই মুসলমানরা আজকাল এ ব্যাপারে উদাসীন।

লেখা-পড়া জানা সৎ লোকেরাও একে গোনাহ্‌ মনে করে না এবং একে বাস্তবায়িত করার চেষ্টাও করে না।

পৃথিবীর অন্যান্য সভ্য জাতি একে অবলম্বন করে তাদের সমাজ সুসংহত করে নিয়েছে, কিন্তু মুসলমানরাই সবার পেছনে পড়ে রয়েছে।

ইসলামী বিধি-বিধানসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম এই বিধানের প্রতিই উপেক্ষা প্রদর্শন শুরু হয়েছে।

মোটকথা, অনুমতি চাওয়া কোরআন পাকের একটি অপরিহার্য বিধান,যাতে সামান্য অলসতা ও পরিবর্তনকেও হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কোরআনের আয়াত অস্বীকার করার মতো গুরুতর ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।

বাস্তবিকই বর্তমানে মুসলমানরা এসব বিধানের প্রতি এমন উপেক্ষা প্রদর্শন করে চলছে, যেন তাদের মতে এগুলো কোরআনের বিধানই নয়।

আসুন, এখন থেকে প্রতিজ্ঞা করি আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক অনুমতি ছাড়া কারোও গৃহে প্রবেশ করবো না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28740052 http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28740052 2007-10-26 21:12:54