বিবর্তনের কণ্টক
২১ শে জুন, ২০০৯ রাত ৯:২২
![]()
১
‘বাপজান, দুইডা ট্যাকা দিবা? হারাডা দিন কিচুই খাই নাইক্কা।’
শুধু দুটি টাকা মাত্র আর একটি বৃদ্ধলোকের সারাদিনের উপোস থেকে পরিত্রাণ। অতি সাধারণ এক দৃশ্য। বড় কোন মানবতাবাদী প্রেক্ষাপট নয়। নিত্য নৈমিত্তিক একটি ব্যাপার। হরহামেশাই ঘটছে। দুটি টাকা আদৌ ক্ষুধা নিবারণযোগ্য কিনা সেই প্রশ্ন নয় এখানে। ধুঁকে ধুঁকে চলা এই সমাজের আর্থ-সামাজিক বৈষম্য নিয়েও নয় কোন প্রশ্ন। নিজস্ব মানবতার যতটুকু অবশিষ্ট আছে (যদি আদপে কিছু থেকেও থাকে) সেটুকু ঝেড়ে ফেলে প্রশ্ন হচ্ছে – অজানা-অচেনা, রক্তের সম্পর্কহীন, সমাজ নামক এক অরণ্যে যথেচ্ছ ঘুরে বেড়ানো এই বৃদ্ধের কাছে দুটি টাকা ‘নিঃস্বার্থভাবে’ বিলিয়ে দেয়ার কি আদৌ কোন মানে আছে?
অভুক্ত এক বৃদ্ধ-বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে নৃশংসভাবে চিন্তিত মনে কল্পনার পকেট হাতড়াতে থাকে ছেলেটি।
সে হাতড়াতে থাকুক। এই ফাঁকে দর্শন-শাস্ত্র ও নীতিবিদ্যার অনেক পুরানো এক দ্বিধা এবং সমসাময়িক ইভ্যুলিউশনারী-সাইকোলজিষ্ট, সোসিওলজিষ্ট, ইভ্যুলিউশনারী-বায়োলজিষ্ট এবং ইথোলজিষ্টদের একটি আলোচনার এবং গবেষণার বিষয়বস্তুর অবতারণা করা যাক।
২
এ্যাল্ট্রুইজম (Altruism) কথাটার মানে হচ্ছে অপরের মঙ্গলের জন্য, কল্যাণের জন্য বা সমাজসেবার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সুচিন্তিত উপায়ে নিঃস্বার্থভাবে অগ্রসর হওয়া। অনেকটা ছোটবেলায় পড়া সম্প্রদান কারকের মত! ইহা এমন কিছু যাহা দান করিবার পর ফিরিয়া পাওয়ার আশা করা মোটেও উচিত নহে! আবার সমাজে এমন আজব প্রকারের লোক কি খুঁজে পাওয়া যায় না যারা এমনকি নিজের জীবনটাকেও অতি তুচ্ছ মনে করে সেটাও নির্বিকার চিত্তে বিলিয়ে দিতে চায় অপরের মঙ্গলের জন্য, কল্যাণের জন্য? নিজের অস্তিত্বের বিনিময়ে কোন কিছু পাওয়ার এই আশা এ্যাল্ট্রুইজমের এক চরম অবস্থা বলা যায়। কিন্তু কি সেই আশা? এবং কেনই বা এই অদ্ভুত আচরণ?
বিবর্তনের ফুলসজ্জায় একটি কণ্টক যেন এই এ্যাল্ট্রুইজম (Altruism)। কারণ যদি natural selection কেবল মাত্র ঐসব জিনদেরকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে যেগুলো কিনা সেইসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্ম দেয় যা কোন স্বতন্ত্র জীবের পুনরুৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, তবে মিলিয়ন বছরের বিবর্তনে এইসব এ্যাল্ট্রুইষ্ট আচরণ তো এতদিনে হারিয়ে যাওয়ার কথা। হ্যাঁ, টিকে থাকাই যেখানে লক্ষ্য, বেঁচে থাকাই যেখানে পরম আকুতি, সেখানে আত্মত্যাগ কি নেহায়েৎ পাগলামি ছাড়া আর কিছু? কিন্তু প্রকৃতি এই পাগলামি মেনে নিয়েছে কেন?
প্রকৃতি কিন্তু শুধু মেনেই নেয় নি, সে ভালোবাসায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে এই আবেগ তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মানুষের মত জন্তু ছাড়াও প্রকৃতিতে এই পাগলামি আরও দেখা যায় কিছু প্রজাতির কুকুরের মধ্যে যখন তারা অনাথ বেড়াল, কাঠবিড়ালী অথবা হাঁসকে দত্তক হিসেবে নেয়, লালন পালন করে। কিছু ডলফিনের মধ্যে যখন তারা সাহায্যে নেমে পড়ে অসুস্থ অথবা জখমপ্রাপ্ত অন্য কারও জন্য, ঘন্টার পর ঘন্টা সাঁতার কেটে যায় ওদের নিচে আর ধাক্কা দিয়ে দিয়ে উপরে তোলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সুবিধা তৈরী করে দিতে। যখন কিছু নেকড়ে অথবা বন্য কুকুর শিকার করা মাংস ফিরিয়ে নিয়ে আসে ওদের পালের এমন সদস্যদের জন্য যারা শিকার করতে পারে নাই, টিকে থাকার উপযোগী নয়। যখন একটি বোনোবো (শিম্পাঞ্জীর এক প্রজাতি) অসুস্থ ও অক্ষম আরেক বোনোবোকে সাহায্য করে, সেবা শুশ্রূষা করে। যখন রক্তচোষা এক সফল ভ্যাম্পায়ার হতভাগ্য আরেক ভ্যাম্পায়ারকে নিজের গিলে খাওয়া রক্ত বের করে খাওয়ায়। যখন কিছু প্রজাতির পাখি অন্য এক পাখিকে তার বাসস্থান বানাতে সাহায্য করে, এমনকি সম্পর্ক নেই এমন পাখির বাচ্চাকেও ভয়ংকর শিকারীর হাত থেকে বাঁচায়। যখন কোন এক ভারভেট বানর শিকারীর উপস্থিতিতে চিৎকার করে সঙ্গীদের সতর্ক করতে যেয়ে নিজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেলে শিকারীর। যখন কিছু কিছু উইপোকা তাদের গলার একটি গ্রন্থিকে সজোর আঘাতে ছিন্ন করে কি এক আঠালো পদার্থ বের করে আনে হামলাকারী পিপীলিকার হাত থেকে দলকে বাঁচাতে। এ্যারাবিয়ান ব্যাব্লার নামের পাখিরা যখন নিজেদেরকে বাক-বিতণ্ডায় জড়াতে পিছপা হয় না অন্য এক ব্যাব্লারের স্বার্থে; করে থাকে উপহার আদান-প্রদান অন্য ব্যাব্লারের সাথে। প্রকৃতিতে রয়েছে এইরকম আরও অনেক নিদর্শন।
তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপারটা ঘটছে ইউসোস্যাল (Eusocial) জীবদের ক্ষেত্রে। ইউসোস্যাল জীব তাদেরকেই বলা হয় যাদের সমাজব্যবস্থায় শ্রমের ভেদাভেদ থাকবে (পুনর্জননে অক্ষম জাত থাকুক বা না থাকুক), থাকবে এক বংশধর হতে আরেক বংশধরের অধিক্রমণ বা ওভারল্যাপিং এবং দলগতভাবে স্বল্পবয়স্কদের লালন-পালনের প্রবৃত্তি। সহজভাবে, এদের মধ্যে পুরোহিততান্ত্রিক শ্রেণীবিন্যাস (Hierarchical Classification) বিদ্যমান। পোকামাকড়দের ভেতর পিঁপড়া, মৌমাছি, ভিমরুল (Hymenoptera বর্গ) এবং উইপোকা (Isoptera বর্গ) অন্যতম ইউসোস্যাল জীব। অনেক সমাজবিজ্ঞানী মানবজাতিকেও ইউসোস্যাল বলতে চান।
কি ঘটছে এদের বেলায়? হ্যাঁ, কর্মঠ কিন্তু প্রজননে অক্ষম (Sterile) একদল সেনানীর অপূর্ব দক্ষতার সাথে নিরলস পরিশ্রম তাদের রাণীর স্বার্থে। নিজের প্রজনন ক্ষমতার প্রতি মধ্য-আঙ্গুল দেখিয়ে অন্যের বাচ্চা লালন-পালন। এই রাণীকে বাঁচাতেই বিষাক্ত বহিঃআক্রমনের সামনে নিজের আত্মত্যাগ। বিবর্তন কেন মেনে নিয়েছে যুগ যুগ ধরে প্রজননে অক্ষম একটি শ্রেণীর জন্ম?
ডারউইন কিন্তু সম্যক্ অবগত ছিলেন তার মতবাদ প্রতিষ্ঠায় এ্যাল্ট্রুইজমের এই ক্রূর চাহনির ব্যাপারে, যেটা আসলেই ছিলো তার জন্য এক সমস্যা। বিশেষভাবে প্রকৃতির কিছু কিছু প্রজাতির পোকামাকড়ের আত্মত্যাগের এই প্রবণতা নিয়ে তিনি ছিলেন চিন্তিত। On the Origin of Species’এ তিনি বলছেন, ".....একটা বিশেষ ঝামেলা, যেটা প্রথম প্রথম আমার কাছে অনতিক্রম্য মনে হয়েছিলো, এবং আসলে পুরো মতবাদের কাছে ছিলো মারাত্মক একটা ব্যাপার .....।"
‘নিকট কাউকে সাহায্য করার এইসব আচরণ তাদের জীনদের অপ্রত্যক্ষ ভাবে সাহায্য করে থাকে’ – তথাকথিত এই ব্যাখ্যার মূলে রয়েছে Kin Selection তত্ত্ব। W. D. Hamilton ১৯৬৩ সালে এই ধারণার আনুষ্ঠানিক রূপ দেন। বলা হচ্ছে, যেহেতু একই পরিবার বা আত্মীয়দের মধ্যে প্রায়ই একই প্রকারের জীনের সমাহার থাকে, তাই নিজের প্রজনন থামিয়ে একই পরিবারের নির্দিষ্ট কারো প্রজনন ও বংশবিস্তারে সাহায্য করার প্রবণতা ঐসব প্রজনন-অক্ষমদের জীনের বিস্তারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। সর্বোপরি, এটাও নাকি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে নির্দিষ্ট কারো প্রজনন ও বংশবিস্তারে সাহায্য করার এই প্রবণতা নির্দিষ্ট প্রকারের যোগ্য একটি জীনকে যে দক্ষতার সাথে বিস্তার করতে পারে সেটা প্রজনন-অক্ষমদের নিজস্ব প্রজননের মাধ্যমে জীন বিস্তারের দক্ষতার থেকে বেশী। তাই এই আত্মত্যাগী আচরণ জীন বিস্তার ও বেঁচে থাকার যোগ্যতা বৃদ্ধির এক উন্নত আচরণ কারণ এটা এ্যাল্ট্রুইষ্ট জীনকেই সাহায্য করছে। অন্য সব ব্যাপারের মতই এই ক্ষেত্রেও দাঁড়িয়ে গেলো দুটো দলের বিজ্ঞানী যেখানে একদলের কাছে এই ব্যাখ্যা জলের মতই পরিষ্কার, কিন্তু অন্য দলের কাছে মারাত্মক তালজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর। আবার প্রকৃতির অনেক এ্যাল্ট্রুইষ্ট আচরণ তো শুধুমাত্রই নিকট সম্পর্কের গোত্রের ভেতরেই ঘটছে না, অচেনা-অজানা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তো দেখা যাচ্ছে এই আচরণ। শুধুই কি অবচেতন ব্যক্তিগত স্বার্থ? নিজের জীনের বিস্তারের আকুতি? যাই হোক, এই মতবাদের পক্ষে অকাট্য যুক্তি নিয়ে আছেন Richard Dawkins এবং তার Selfish Gene বইটি। কিন্তু কেন যেন মনে হয়েছিলো ক্যাপসুলের ভেতর পুরে ঔষধ বিক্রি করার মতই এই মতবাদ বিক্রি করেছেন তিনি। আমার ভুলও হতে পারে।
অপরপক্ষে, Edward O Wilson নামক এক প্রখ্যাত জীববিজ্ঞানী এই Kin Selection তত্ত্বের বিরোধিতা করছেন। তিনি বলছেন, এ্যাল্ট্রুইজমের উৎপত্তির একমাত্র কারণ দলের বা গোত্রের মঙ্গলের জন্যই, শুধুমাত্র কোন জীনের সুবিধার জন্য নয়। তিনি আরও বলছেন যে এ্যাল্ট্রুইজম উৎপত্তি লাভ করতে পারে শুধুমাত্র একসাথে বসবাস আর পারস্পরিক কর্মচাঞ্চল্যের মধ্যেই, আত্মীয়তাবোধ বা নিকট সম্পর্ক না থাকলেও চলে।
ইথোলজিতে (প্রাণী-আচরণ বিদ্যা) তাই সোস্যাল ডারউইনিজমের ‘survival of the fittest’ এর পরিবর্তে এইরকম এ্যাল্ট্রুইষ্ট আচরণকে অনেক সময় বলা হচ্ছে ‘survival of the nicest’, যদিও অনেক ক্ষেত্রেই এটা ডারউইনের ‘থিউরী অফ ইভ্যুলিউশন’ এর সাথে ঠিক খাপ খায় না। ফলিত গণিত শাস্ত্রের একটি বিশেষ তত্ত্ব, যেটা কিনা game theory নামেই পরিচিত, এইরকম আচরণকে বিশ্লেষণের চেষ্টায় আছে। আবার অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী, সাইবেরিয়ান ইনুট গোত্র আর আফ্রিকার উপজাতি, যারা এখনও প্যালিওলিথিক (middle and upper Paleolithic – second part of Stone age) যুগের মত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত বলে ধরা যায়, তাদের উপর জেনেটিক্স পর্যেষণা করে এটাই দেখা গেছে যে গোত্রের ভেতর এইসব এ্যাল্ট্রুইষ্ট আচরণ নাকি সেইসব গোত্রের সার্বিক উপযোগিতা বৃদ্ধি করে। মনোবিদ্যার ভাষায় আবার এইসব এ্যাল্ট্রুইষ্ট আচরণ নাকি খুবই স্বাস্থ্যসম্মত psychological defense mechanism অথবা adaptations to life; এনে দেয় মানসিক প্রশান্তি পৃথিবী নামক এই বসবাসযোগ্য স্থানকে সুন্দর করার এক প্রচেষ্টায়।
এবার দেখা যাক সবকিছুর মূলে যেই জায়গাটা, সেই মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিদ্যা নিউরোলজী কি বলছে। খুবই সরাসরি এই বিদ্যা আমাদের জানাচ্ছে যে আর্থিক পুরস্কার, অর্থ-সম্বন্ধীয় ব্যাপার এবং পরহিতকর কাজে অর্থদান (charitable donations) ইত্যাদি কাজে mesolimbic reward pathway সক্রিয় হয় যেটা আমাদের মস্তিষ্কের এক আদিম অংশ যা সচরাচর উজ্জীবিত হয় ক্ষুধা এবং যৌনক্রিয়া সম্পাদনে। কিন্তু যখনই সেই কিছু কিছু আজব কিসিমের মানুষ বা জন্তু অন্যের ভূমিকাকে নিজের থেকে বড় করে দেখতে শুরু করে, অন্যের জন্য করে আত্মত্যাগ, তখন subgenual cortex বা septal region নামে মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ অন্য একটি এলাকা আলোড়িত হয়। কি হয় এই এলাকায়? হ্যাঁ, মস্তিষ্কের এই অংশ তখনই সক্রিয় হয় যখন সামাজিক বন্ধন বা সামাজিকতার ভাব কর্তৃত্ব করে আর অন্য প্রজাতির বা শ্রেণীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। তাই অন্যের জন্য এই আত্মত্যাগ বড় কোন নৈতিক ব্যাপার তো নয়, বরং খুবই সাধারণ এবং মৌলিক আমাদের মস্তিষ্কের কাছে যা কিনা একই সাথে সহজাত, অন্তর্জাত এবং শারীরিকভাবে প্রীতিকর।
৩
অভুক্ত এক বৃদ্ধ-বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে নৃশংসভাবে চিন্তিত মনে কল্পনার পকেট হাতড়িয়ে দুটো টাকা ‘নিঃস্বার্থ’ ভাবে দান করে গুনগুনিয়ে রবীন্দ্রভাষ্য আওড়াতে থাকে ছেলেটি,
আমরা লক্ষ্মীছাড়ার দল / ভবের পদ্মপত্রে জল
সদা করছি টলোমল।
মোদের আসা-যাওয়া শূন্য হাওয়া, নাইকো ফলাফল।
যদি সুখ না জোটে দেখব ডুবে কোথায় রসাতল।
প্রকাশ করা হয়েছে: অন্বেষণ বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বন্ধু।
অদ্রোহ বলেছেন:
দারুণ লেখা,পোস্টে প্লাস।
লেখক বলেছেন: অদ্রোহ মানে কি? অনেক ধন্যবাদ।
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
জটিল; চিন্তাশীল। ++++++
লেখক বলেছেন: অনুপ্রাণিত।
অদ্রোহ বলেছেন:
ভাইয়া, অদ্রোহ মানে কলহ বা সংঘাতের অনুপস্থিতি,সোজা কথায় সম্প্রীতি বা সৌহার্দ্য,এই টাইপের কিছু।
লেখক বলেছেন: সৌহার্দ্য চাই। চাই সম্প্রীতি। কলহ বা সংঘাতের অনুপস্থিতিতে বেড়ে উঠুক অদ্রোহ।
সুন্দর নাম 'অদ্রোহ'।
শয়তান বলেছেন:
পড়লাম । তবে Wilson এর ধারনাটাই সঠিক মনে হচ্ছে । এ্যাল্ট্রুইজম ব্যপারটা নিছক সামাজিক । কন্টক ভেবে আতংকিত হবার মত কিছু নয় ।
লেখক বলেছেন: কন্টক হলেও আতংকিত হবার মত কিছু নয়!
আমরা লক্ষ্মীছাড়ার দল / ভবের পদ্মপত্রে জল
সদা করছি টলোমল।
আপনার যা ইচ্ছে ভাবতে পারেন। সেটাই হবে।
___________________________
এ্যাল্ট্রুইজম ব্যপারটা নিছক সামাজিক - ঠিক আছে। আবার ভাবছি, মনূষ্য সমাজের বাইরে বেড়ে উঠা (টারজান, মোগ্লি !!!) কাউকে সমাজে ছুঁড়ে ফেলে দিলে কেমন হবে? এ্যাল্ট্রুইষ্ট হবে কি ওরা মানুষ নামের জন্তুর প্রতি? (মজাক করছি!! ডোন্ট মাইণ্ড)
Wilson এর ধারনাটাই সঠিক, সেটা Wilson নিজেই বিশ্বাস করেন। William Hughes ও তার দল কিন্তু বিশ্বাস করেন না।
Click This Link
কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও এইসব নিয়ে নয় !
আর আমার জ্ঞান নিতান্তই শূন্য।
_____________________________
যদি সুখ না জোটে দেখব ডুবে কোথায় রসাতল!
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
পড়ছি। প্রিয়তে রাখলাম। আবার পড়বো। তখন কিছু প্রশ্ন.....................
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শুভ্র ভাই।
লেখক বলেছেন: আলোচনা করেই সময় চলে যায় আসলে। সময় থেমে থাকলে ভালোই হত। আলোচনা ফলপ্রসূ হত তখন !!
ধন্যবাদ শয়তান।
সোহানা মাহবুব বলেছেন:
দারুণ লাগলো।নতুন একটা বিষয় জানলাম।পোস্টে প্লাস।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আলোচনা করতে চাইছি আরো এটা নিয়ে ।
নিউরোলজী যেটা বলছে সেটা তো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকেই দেখা যায় ।
আর আমার মতে খাওয়া , আত্মরক্ষা , যৌন কর্ম ইত্যাদির
পর এই অনুভুতিটা আসে।
মানে ধাপে ধাপে ।
অনেক কথা বলা যায় আরো ।
দেখা যাক কে কি বলে ।
লেখক বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ আরণ্যক ভাই। আলোচনা করতে চাচ্ছেন। আমি তাহলে আরও কিছু কথা বলতে চাচ্ছি। যেহেতু এটা আমার বিষয় নয়, তাই কোন ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেইখেন।
'আর আমার মতে খাওয়া , আত্মরক্ষা , যৌন কর্ম ইত্যাদির পর এই অনুভুতিটা আসে।' - চমৎকার কথা। কতটুকু চমৎকার এটা বলছি,
![]()
mesolimbic pathway আসলে মস্তিষ্কের চারটি Dopaminergic pathways এর একটি। এটা কিন্তু বিভিন্ন অংশ দিয়ে গিয়েছে। হ্যাঁ, যতটুকু জানি, ক্ষুধা, যৌনকর্ম ইত্যাদি কর্মের জন্য এই পথটা ডোপামাইন (dopamine) নিউরোট্রান্সমিটারের মাধ্যমে উদ্দীপনা (stimuli) সৃষ্টি করে এক reward system এর মাধ্যমে। যার ফলে বিভিন্ন বিচিত্র প্রীতিকর অনুভূতি। সব কিছু নিজেকে তুষ্ট করতেই।
![]()
এবার septal region। James Olds আর Peter Milner ১৯৫৪ সালেই দেখান যে stimulation of certain regions of the brain gives the animals pleasure। আর এই region গুলোকেই pleasure or reward centres বলে। আর অন্যতম এক region হচ্ছে septal region। অন্যগুলো hypothalamus, cerebral hemispheres এর temporal lobes ইত্যাদি। এই septal region যদি উদ্দীপিত হয় তখন শুধু pleasure ছাড়াও optimism, euphoria আর happiness নামক কিছু অনুভূতির সৃষ্টি। একটু উপরের তলার প্রীতিকর অনুভূতি আর কি! আরও মজার ব্যাপার আছে। James H. Austin এর Zen and the brain নামক বইয়ের the septum and pleasure অধ্যায়ে বলা হচ্ছে যে কৃত্রিমভাবে কিছু মানুষের septal region এ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এটাই নাকি দেখা গেছে যে অন্য শারীরিক ব্যাথা-বেদনা, বিষণ্ণতা, মানসিক চাপ ইত্যাদি থাকলেও, এই septal region এ উদ্দীপনা সবকিছুকে ছাপিয়ে এনে দেয় শুধু pleasure ছাড়াও optimism, euphoria আর happiness নামক কিছু অনুভূতি। উদ্দীপনা সরিয়ে ফেললেও এইসব অনুভূতি থেকে যায় বেশ কিছুক্ষণ। long lasting ও বটে!
এবার শুধু যৌন কর্মের কথা বলি। total act of copulation (!) সংঘটিত হচ্ছে কিন্তু অন্যতম hypothalamus এবং পার্শ্ববর্তী septal region জুড়েই। copulation নিঃসন্দেহে আনন্দদায়ক (সেটাই শুনেছি); hypothalamus এর ভুমিকায়? কিন্তু orgasm এর কিছু কিছু সময়ের ঐশ্বরিক অনুভূতি (যেটা শেষ হইয়াও হইলো না শেষ এমন টাইপের কিছু) সেটার পিছেই কি septal region এর কিছু ভুমিকা? আমি জানি না। কিন্তু অনেক নিউরোলজিষ্টরা তো সরাসরিই বলছেন when the septal region is electrically stimulated in conscious patients, sexual emotions and thoughts are produced।
তাই এই septal region এর একটি অংশ যদি এ্যাল্ট্রুইষ্ট আচরণের জন্য দায়ী থাকে, সেটা নিঃসন্দেহে ঐসব ঐশ্বরিক অনুভূতির কাছাকাছি কিছু একটা কি? শুধু pleasure ছাড়াও optimism, euphoria আর happiness নামক কিছু অনুভূতি। অন্য শারীরিক ব্যাথা-বেদনা, বিষণ্ণতা, মানসিক চাপ ইত্যাদি থাকলেও এইরকম দানশীল এ্যাল্ট্রুইষ্ট আচরণ আপনাকে অজান্তেই এনে দিচ্ছে কিছু ঐশ্বরিক অনুভূতি? শুধুই একটু উপরের পর্যায়ের প্রীতিকর ব্যাপার? আপনার কথা মতন ক্ষুধা, যৌন আচরণ ইত্যাদির পরেই? ধাপে ধাপে? তাই তো মনে হচ্ছে। যৌন আচরণের বিকল্প হিসেবে দানশীল আচরণ? কিন্তু তারপরও কেমন যেন অস্বস্তিকর একটা ব্যাপার আমার কাছে। এতটাই শেকলে বাঁধা আমরা? বলতে হয় – ব্যাপারস্ না।
আরও অনেক কথা বলা যায় হয়তো। আমার আপাতত আর কিছু বলার নেই।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
চমৎকার লেখা
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
আপনার লেখার কৌশলটা দারুণ। লেখাটা পড়ে অনেক কিছু জানা গেলো।
লেখক বলেছেন: অনুপ্রাণিত হলাম মুক্তি'দা। ভালো থাকবেন।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
আপনার স্বনামে লেখা পেলে আরো আহ্লাদ পাবো। আপনার গদ্য যে যুক্তিশীল কাঠামোকে ধারণ করে গড়ে উঠছে, সেটা আমার কাছে দারুণ লাগছে। আপনি সমাজবিজ্ঞান এবং নৃতত্ত্বের বিষয়াশয় নিয়েও লেখেন, আপনার সাথে তাহলে যোগ দেয়া যাবে। শুধু মুক্তি বললেই হবে। দা-কুড়াল বাদ দেন। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: কি বলব আমি? খুব অনুপ্রাণিত হলাম।
কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে, আমি নিতান্তই এক সাধারণ ব্লগার। কিছু কিছু বিষয়ে কৌতুহল মেটাতেই অল্প পড়াশোনার চেষ্টা। এখানে সেটার কিছু চর্চা। যদিও নিজের সব মতামত তুলে ধরতে না পারার ভাষাগত এক প্রতিবন্ধকতা তো আছেই। আছে যোগ্যতার ব্যাপার। সমাজবিজ্ঞান এবং নৃতত্ত্ব যাই হোক না কেন, আপনাদের সাথে মতামত বিনিময় করেই শিখতে চাই। আমি সমাজবিজ্ঞান এবং নৃতত্ত্বের লোক না হলেও বুঝতে পারছি আপনি ওদিকেরই কেউ। আমিও আহ্লাদিত হব যদি আপনিও এ বিষয়ে লেখেন।
আপনার কবিতা প্রতিভা নিয়ে তো কিছুই বলার নেই আমার। শুধু বিমোহিত হই।
ব্লগ ভার্চুয়াল হলেও আপনার ছবিখানা দেখে আমার থেকে কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ মনে হয়েছিলো। তাই মুক্তি'দা, আপনার কোন আপত্তি না থাকলে এই নামই থাকুক। দা-কুড়াল যদিও ব্যাপার না। আপনি বরং আমাকে 'তুমি' বললেই স্বস্তি পাই।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন:
১। যন্ত্রকৌশল।
২। ক্ষমা করে দিতে পারেন কি? আমি যদি জানতাম আমি নাস্তিক, তবে আমার septal region এ যে ঐশ্বরিক আনন্দ হত, সেটার তুলনা কোথায়?
তবে সাথে আছি, এটা বুঝতে মোল্লার লবণ খেতে হবে না আশা করি ![]()
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
অসম্ভব সুন্দর একটা লেখা। কিছু অংশে যে প্রশ্ন উঠেছিল মনে, মন্তব্যে তার জবাব পেলাম।এি কয়েকদিন আগেই আরেকটা পোস্ট পড়ছিলাম, সেলফিশ জীন বইটার কথা সেখানে একটু বিশদে ছিল। মানবজাতির মাঝে সেলফিশ জীনের প্রভাব, এবং মানুষের চরিত্র যে সমাজ-নিয়ন্ত্রিত- এই ধারণার বিপরীতে অবস্থান আমাকে চমকে দিয়েছিল। সেই পোস্টের মূল বক্তব্য ছিল যে মানুষের চরিত্র জীন-নিয়ন্ত্রিত। এই কথা শুনে অনেকেই হা হা করে তেড়ে আসবেন, (আমার নিজের সেটাকে ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত পড়াশোনা নেই) তবে আমি মোটামুটি এই তথ্যটিকে উড়িয়ে দিতে পারিনি বলেই মাথায় ঘুরছে।
এখানে সেলফিশ জীন বইটির উল্লেখ আবার উল্টো কারণেই। সামাজিক আচরণের ব্যাখ্যায় জীনতত্ত্ব হিমশিম খাচ্ছে, এরকম দেখাটা আমার জন্য চমকপ্রদই।
তবে আমি অ্যাল্ট্রুইজমকে এখনও সামাজিক আচরণ হিসেবে নাকচ করে দিতে পারছি না। এর সাথে আমাদের শৈশবের শিক্ষার (যেটা মূলত বাবা-মা'র কাছ থেকে আসে, সবাইকে আপন ভাবো, দুস্থের উপকার করো ইত্যাদি) প্রভাব আছে বলে মনে করি। মানুষের সব আচরণ তো জীনের স্বভাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা নাও যেতে পারে, তাই না? (আমি খালি মানুষের কথাই বললাম, কারণ অন্যান্য প্রজাতির সম্বন্ধে আমার জ্ঞান আরো কম)
===
আপনার পোস্ট যখনই পড়ি, আমি সত্যিকার অর্থে কিছুটা শিখি। এটা সত্যই অভিনব অনুভব! ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন:
চমৎকার কমেন্ট। অনেক ধন্যবাদ ছন্ন।
বৈপরীত্যের খেলায় দুটো দলের সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটো মতবাদের পক্ষে/বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নতুন নয়, তাই না? মানুষ সহ প্রতিটা জীব তার বেড়ে উঠা পরিবেশের উপর এতটাই নির্ভরশীল যে এই ছক থেকে বের হয়ে আসা দুষ্কর, কিন্তু অসম্ভব নয়। গুরুত্বপূর্ণ কথা তাই বলেছেন আপনি শৈশবের শিক্ষার ব্যাপারে, যেখানে সামাজিক শিক্ষাটা মূলতঃ ধর্মীয় শিক্ষা (ব্যক্তিগত বিশ্বাস নয়)। আর বড় বড় সব ধর্মেই দুস্থের উপকার করা, দান করা, নিজের চেয়ে অপরকে প্রাধান্য দেয়া ইত্যাদি কথা তো ক্রমাগত বলাই হচ্ছে। এগুলো সবই ভালো কথা। কেন বলা হচ্ছে সেটাও বোঝা যায় (কে/কারা বলছে সে প্রসঙ্গে নাই বা গেলাম)। বিবর্তনের কাছে এটা একটা প্রশ্ন হলেও এই প্রশ্নের কিছু উত্তর কিন্তু আবার দাঁড় করিয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ধর্ম, বিবর্তন যাই হোক না কেন, চাই সবকিছুর শেষ ব্যাখ্যা। কিন্তু আদৌ কি সম্ভব সেটা? যুগ যুগ ধরে এত এত মতবাদ (দর্শন বিশেষ করে), এত এত পক্ষ-বিপক্ষে অবস্থান অনেক সময় মনে করিয়ে দেয়, আমরা সত্যিকারভাবে জ্ঞানের প্রকৃত-অর্থ কিছুই জানিনা।
'মানুষের সব আচরণ তো জীনের স্বভাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা নাও যেতে পারে' - কথাটা ভালো লেগেছে, কারণ এটা সত্যি হলে এতটাই শেকলে বাঁধা আমরা? তবে নিজের জন্যই যে আমরা সমাজবদ্ধ হই (security, optimism, hope, happiness ইত্যাদির sensation), করি আত্মত্যাগ (euphoria, bliss ইত্যাদির sensation) সেটাও কি আরেকটা শেকল নয়? তবে এটার মধ্যে দিয়ে চলা ছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কোন সম্ভাবনা পাচ্ছিনা। তাই অস্থির-অস্থিরতা। শূন্যের ভেতর লাফালাফি।
তবে কিছু কথা এখানে থাকলেও থাকতে পারে....সব কথা যায় না বলা....ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায় কিছু....সেখানেই থাক ওরা......
আমি আবার জানলাম যে বাইরের পরিবেশ থেকে পাওয়া উদ্দীপনা নাকি আমাদের শারীরিক প্রোটিন-মেশিনকে বদলাতে পারে, এবং বদলাচ্ছেও নাকি ক্রমাগত। শূন্য থেকে আগত এক উদ্দীপনার বস্তুজগতের সাথে মিথোস্ক্রিয়া। অন্য একটা পোষ্ট দেয়ার আশা করি এই ব্যাপারটা নিয়ে।
ভালো থাকবেন।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
আকাশ, মজার ব্যাপার হলো, জবাবের দ্বিতীয় প্যারায় আপনি যে আশাবাদের কথা বলেছেন, সেটাকেই আগে পড়া পোস্টে নাকচ করা হয়েছে। যেমন, হাজারো শিক্ষা, সামাজিক আচার, পরিবেশর প্রভাবের পরেও কিছু কিছু মানুষ পুরোপুরি বেপরোয়া হয়ে বেড়ে উঠেন (এই বিজাতীয় স্বভাব কিন্তু সবার মাঝেই কম-বেশি থাকে, কিন্তু সেটা একটা স্পাইকের মত দেখা দিয়েই মিলিয়ে যায়।) তবে কেউ কেউ পুরোপুরি সামাজিক ট্যাবু, নৈতিকতাকে ভেঙে ফেলতে পারেন। এখানে বলা হয়েছে জীনেটিক প্রভাবের কথাটা। উদাহরণ হিসেবে যদিও সেখানে সাইকোপ্যাথ বা হোমোসেক্সুয়্যালের উল্লেখ ছিল, তবু আমার কাছে এই ঘটনাকে অনেক বেশি স্বাভাবিক (অনেক উপাত্ত হিসেবে) মনে হয়। যেমন- সমাজে অনেকেই ধর্মান্তরে বিয়ে করেন, নেহায়েৎ বিজ্ঞানের চোখে দেখলে সামাজিকভাবে হেয়/বিপন্ন হবার আশংকাকে সেখানে তুড়ি মারেন কেউ কেউ (যদিও বিয়ের পেছনে আবার বংশরক্ষার একটা চিন্তা থাকে যেটা জেনেটিক), নিজের সমাজে "নিরাপদ" সঙ্গী বাছাইয়ের পথে না গিয়ে তারা কেনই-বা এমন পথ বাছেন?এরকম ভুরি ভুরি উদাহরণ কিন্তু জেনেটিকের পাল্লাও একেবারে কম ভারি করছেনা!
====
আবার যুক্তি হিসেবে পরিবেশের প্রভাবে প্রোটিনের বদলে যাওয়াটাও চকমপ্রদ। এব্যাপারে আরেকটু খোলাসা করেন, কারণ আমি খুব বেশি শুনিনি (বুঝিনি)
লেখক বলেছেন: ছন্ন, আপনি কি আশাবাদের কথার ব্যাপারে security, optimism, hope, happiness ইত্যাদির sensation ঐ বাক্যটা বোজাচ্ছেন? ঐটা বলে আমি মস্তিষ্কের কিছু তৈরী হওয়া অনুভূতি বুঝিয়েছি মাত্র। ঐ আশাবাদ মস্তিষ্কে তৈরী হওয়া কিছু আশাবাদ। ঐ তৈরী হওয়া আবার ব্যাক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবেশ থেকে পাওয়া কিছু সিগন্যাল ইত্যাদি অনেক কিছুর মিথোস্ক্রিয়া। representation of the representation। বলতে চেয়েছি আমরা সমাজবদ্ধ থাকতে চাই কারণ এটা আমাদেরকে চেতন/অবচেতনভাবে ঐসব অনুভূতির মাধ্যমে প্রীত করে বলেই। করে চেতন/অবচেতন মনের চাহিদা পূরণ। আমাদের জন্যই। ‘সমাজের’ জন্য নয়। আমার ভুলও হতে পারে, সবকিছুই যদি স্বার্থ-সম্মন্ধীয় হয় এই ব্যাপারে। যদি সবকিছুই হয় আমাদের reward system এর উদ্দীপনা। এ্যাল্ট্রুইষ্ট আচরণের ব্যাপারে সামাজিক, পারিপার্শ্বিক, জিনের বেঁচে থাকা এইসব ব্যাখ্যার পরও আমি নিউরোলজীকে একটু বেশী জোর দিয়েছি। পোষ্টেও তো আমি বলেছি এই রকম এ্যাল্ট্রুইষ্ট আচরণ একই সাথে সহজাত, অন্তর্জাত এবং শারীরিকভাবে প্রীতিকর।
‘যেমন, হাজারো শিক্ষা, সামাজিক আচার, পরিবেশর প্রভাবের পরেও কিছু কিছু মানুষ পুরোপুরি বেপরোয়া হয়ে বেড়ে উঠেন’ – হ্যাঁ, হয়তো ঐ নিউরনের অনুরণনেই + পরিবেশ থেকে পাওয়া কিছু সিগন্যাল। বেশী জোরদার হয়ে গেলে সেটাও কিন্তু স্পাইকের মত দেখা দিয়ে মিলিয়ে যাবে না। চেতন/অবচেতন মনের চাহিদা সবার সমান নয়।
আপনি ধর্মান্তরে বিয়ের ব্যাপারটা বললেন। চমৎকার উদাহরণ। কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে সচেতনভাবে (consciously) শুধুই নিজের জীন বাঁচাতে কতজন বিয়ে করেন? বিভিন্ন ব্যাপারে নিউরনের কিছু প্রীতিকর অনুভুতি আবারও কি আবারও মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় না? আপনার কথামত তাই যখন কেউ ‘নিরাপদ’ সঙ্গী না বেছে ‘অনিরাপদ’ পন্থা বেছে নেন, সেটাও নিউরোলজীর দিক থেকে খুবই স্বাভাবিক কারণ হয়তোবা এই ‘অনিরাপদ’ পন্থা বেছে নেয়ার অনুভূতি শারীরিকভাবে একটু বেশী প্রীতিকর।
তাই মানুষ যখন নিজের survival কে তুড়ি মেরে অন্য কাজে (পাহাড় থেকে প্যারাসুট ছাড়াই লাফিয়ে পরা, গহীন অরণ্যে এ্যাডভেঞ্চারের নামে বিপদের মুখোমুখি হওয়া, মিছিলের সামনের সাড়িতে গুলির মুখে নিজের বুক পেতে দেওয়া) মগ্ন হয়, সেটা উপরের লেভেলের কিছু নেশা (septal region এ euphoria, bliss) ছাড়া ‘আমার কাছে’ আর কিছুই মনে হয় না। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদেরকে বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে তুষ্ট করতেই সদা-ব্যস্ত। reward system এর মাধ্যমে সুখ-সুখ ভাবের তাড়নায়। তাই তো
আমরা লক্ষ্মীছাড়ার দল / ভবের পদ্মপত্রে জল
সদা করছি টলোমল।
মোদের আসা-যাওয়া শূন্য হাওয়া, নাইকো ফলাফল।
যদি সুখ না জোটে দেখব ডুবে কোথায় রসাতল।
অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা কি তাহলে? আমি জানি না ওদের কোন reward system আছে কিনা। যদি না থাকে, তাহলে রাণীকে বাঁচাতে বিষাক্ত বহিঃআক্রমনের সামনে এক মৌমাছির আত্মত্যাগের মানে কি? শুধুই কি ঐ Kin Selection? জানা নেই।
আমি দুঃখিত। আরও অনেক ব্যাপার আছে অবশ্যই। বিশ্বাস করতে চাই মনুষ্যত্ব বলে এইসব কিছুর উপরে আরো কিছু আছে।
এগুলো আমার নিজের কাছেই কিছু প্রশ্ন। তাই মাঝে মাঝে অসংগত লাগলে এটাও স্বাভাবিক। ক্ষমা চাইছি যদি বেশী অসংগত লাগে।
চমৎকার লাগছে আপনার সাথে কথা বলতে, ছন্ন। ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ও হ্যাঁ, এই ভিডিওটা পরিবেশের প্রভাবে প্রোটিনের বদলে যাওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুটো পার্ট আছে এটার।
Click This Link
লেখক বলেছেন: আমি মনে হচ্ছে বুঝতে ভুল করেছি। 'আগে পড়া পোষ্ট' বলতে আপনি হয়তো আমার এই পোষ্টটি বোঝান নি। আমার ঠিক খেয়াল ছিলো না এটা আগের কমেন্টের জের ধরে এসেছে। ![]()
যাই হোক, দুঃখিত আমি।
শয়তান বলেছেন:
অটঃ
1.ক্ষমা করা হৈলো ।
তবে লেখকের লেখা চুরি করা অব্যাহত থাকিবে
2. নাটবল্টুর লোকজনের হাতের থেকে এমন লেখা বাইড় হয় কেমনে
লেখক বলেছেন:
১। ঐশ্বরিক আনন্দ পাইলাম ভ্রাতা ! চুরি করা হারাম ! তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জায়েয ![]()
২। নাটবল্টু মার্কা লেখা ![]()
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
জটিল বলেছেন:
আমজনতার জন্যে লেখাটার দৃশ্যপট এবং বিশ্লেষণ সরলীকরণ দীর্ঘ হলেও বোধগম্যকরণের চেষ্টাকে সাধুবাদ , এক্ষেত্রে আমি শুধুই পাঠক মাত্র ।আলোচনার গাম্ভীর্যানুযায়ী মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন ,
চালিয়ে যান ভ্রাতা
লেখক বলেছেন:
পাঠক হিসেবে আপনাকে পেয়ে যারপরনাই আনন্দিত !
আসলে আমিই আম-জনতা (ম্যাংগো পাবলিক) ![]()
ধন্যবাদ ভ্রাতা। চলুক তাহলে ![]()
শয়তান বলেছেন:
orgasm কে মনে হয় না ঐশ্বরিক অনুভূতির কাতারে ফেলা যায় ।
অটঃ আমার septal region এ খা খা অবস্থা বিরাজমান । সব কিছুতেই কেন যেন ইদানিং অতিরিক্ত বিরক্তবোধ করছি । আর্টিফিসিয়াল কোন ওয়ে কি জানা আছে ??
লেখক বলেছেন:
orgasm কে মনে হয় না ঐশ্বরিক অনুভূতির কাতারে ফেলা যায় । -- সকালের চিন্তা ভ্রাতা
'আমার septal region এ খা খা অবস্থা বিরাজমান । সব কিছুতেই কেন যেন ইদানিং অতিরিক্ত বিরক্তবোধ করছি । আর্টিফিসিয়াল কোন ওয়ে কি জানা আছে ??'
ওম
ভূ ব: ভব স্ব: তৎসবিতুবরণ্যয়ম ভার্গো দেবস্য ধীমোহিধীয়োন প্রচোদয়াৎ
ওম
লেখক বলেছেন: স্যাটেলাইট কমেন্ট হল যে ভ্রাতা !!! আপনি তো জানেন ![]()
Click This Link
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ইমন ভাই।
সবচেয়ে আলাদা একটা পোস্ট, তবে আমার কাছে সংক্ষিপ্ত মনে হয়েছে।
মন্তব্য এবং তার উত্তর পোস্টের বক্তব্যকে আরো পরিষ্কার করছে।
লেখক বলেছেন: বর্ধিত কলেবরে লেখার সামর্থ্য নেই যে....
মন্তব্যের জন্য আপনাকে 'তারা থেকে এনে দিলুম এক রাশ হাসি' !!
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
আপনার "আগের পোস্টে"র ব্যাপারে ভুল বোঝা সত্ত্বেও জবাবটা কিন্তু বেশ লেগেছে। তাই হঠাৎ করেই এখন মনে হচ্ছে, যে কোন উদাহরণকেই অবলীলায় সামাজিক-জীনগত দুই দিকেই টেনে নিয়ে দেখানো যায়। নিজের উদাহরণেই বলি, আমি যেভাবে ব্যাখ্যা করলাম, সেটা আবার আপনি যেভাবে ব্যাখ্যা করলেন, দু'টিই মোটামুটি গ্রহণযোগ্য! আমি যে দু'টি "আগে পড়া পোস্ট"-এর কথা বলছিলাম তাদের লিঙ্ক:
http://www.sachalayatan.com/avijit/24998
http://www.sachalayatan.com/avijit/25041
লেখক বলেছেন: হুমম, মোটামুটি সবকিছুতেই সেটাই তো মনে হচ্ছে, ছন্ন। হতে পারে প্রতিটা দিকই ঠিক, আবার অন্যকিছুও হতে পারে। সবকিছুকেই যে ব্যাখ্যা করা যাবে, এটা নাও হতে পারে। আবার ভাবছি, 'ব্যাখ্যা করা যাবে না' এই কথা বলেও তো আমি এক ধরনের 'তৃপ্তি' নিচ্ছি। চেয়েই নিচ্ছি সেটা।
লিঙ্কগুলোর জন্য অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: দেখে এসেছি এইমাত্র বন্ধু। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
অনেক দিন পর আলোচনা করছি ।
ঈশ্বরিক অনুভুতির পুরো ব্যাপারটার কেমন যেনো ধোয়াটে ।
যখন অল্প একটু সংশয়বাদী মন হয় তখন এসব আরো বানোয়াট লাগে ।
আমি মনে করি মানুষ একটা উন্নত জাতের ব্রেনওলা পশু ছাড়া আর কিছু না ।
এ্যালট্রুইজম , ইমোশন , মায়া , র্যান্ডম আবেগ এইসব মানুষকে ভিন্ন করে পশু থেকে।
আমি জানি না এটাই ঈশ্বরের তরফ থেকে আমাদের কাছে মেসেজ নাকি ।
হা আমরা অনেক শেকলে বাধা । আর সেটা নিয়ে আমাদের হীনমন্যতার কারন নেই ।
আমরা প্রকৃতির অংশ সুতরাং এসব আমাদের মধ্যে আসবেই ।
তবে বিবেক দিয়ে, ইমোশন দিয়ে এর মধ্যেই ভালোটা বেছে নিতে হবে ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আরণ্যক ভাই।
'ঈশ্বর' স্বয়ং নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে আসতে চাই না। তাই মায়া, এ্যালট্রুইজম, ইমোশন এগুলো 'ঈশ্বর' প্রদত্ত কিনা, সেটা আমিও জানি না, আর এখানেও বিবেচ্য নয় বলে মনে করি। সে 'ঈশ্বর' অন্য কেউ/কিছু হোক, আমরা নিজেরাই হই, বা সৃষ্টির সবকিছুই হোক সেটা ভিন্ন ব্যাপার। মূল পোষ্টে এইরকম শব্দের প্রয়োগের ব্যাপারে আমার অনীহা ছিলো তাই।
অন্য কমেন্ট-আলোচনায় 'ঐশ্বরিক অনুভূতি' (bliss, euphoria) বলতে আমি সত্যিকার অর্থে 'ঈশ্বর' নিয়ে কোন কিছু বোঝাতে চাই নি। কনফিউজিং না হোক, হলে ক্ষমাপ্রার্থী। এটা শুধুই হয়তো অতি উচ্চ পর্যায়ের কোন অনুভূতি। মস্তিষ্ক সক্ষম এরকম অনুভুতি তৈরী করতে, নিজে থেকেই। কেউ এটাকে 'ঈশ্বর-সংকান্ত' ধরে নিলে, তার মত করে ধরে নিক। সেটা সম্পূর্ণ আলাদা প্রেক্ষাপট বলে মনে করি।
এটাই বলতে চাচ্ছি, এ্যালট্রুইজম বিবর্তনের একটা সমস্যা এখনও। শুধু এই টেকনিক্যাল পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে। দলাদলি হচ্ছে এখানেও। এখান থেকে কি ঈঙ্গিত পাওয়া যায় - জীবন, বোধ-চিন্তা, নশ্বর-জ্ঞান ছাপিয়ে, অন্য কিছু - এটা যে যার মত বুঝে নিক/ধরে নিক। মানবজাতি আরও এগিয়ে গেলে, আরও জ্ঞান-বৃদ্ধি হলে, তখন হয়তো সার্বজনীন একটা ব্যাখ্যা সবাই মেনে নেবে। আপাততঃ সেটা হচ্ছে না।
নিজের দিকটা কিছু সময়ের জন্য বাদ দিয়ে কাউকে উপকার করে আমি কিছু জিনিস পাচ্ছি - তার সাথে মানসিক সম্পর্ক (চেতন/অবচেতন); সমাজ সম্পর্কে আমার সচেতনতা/আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি (টিকে থাকার জন্য জরুরী), আর কিছু ভালো লাগা অনুভূতি। জাল বিছাচ্ছি আর কি। জরুরী এটা। আত্মীয়দের সাহায্য/আত্মাহুতি - সেটা জীনগত দিক দিয়ে সাধারণ। আর একেবারে অন্য কিছুর জন্য নিজের আত্মাহুতি - 'ঐশ্বরিক অনুভূতি'র (bliss, euphoria) নেশায় (সেটাও চেতন/অবচেতন হতে পারে)। শুধু এই পয়েন্টগুলো। বিবর্তন কেন রেখেছে এ্যালট্রুইজম - পরিস্কার না হলেও, কেন ছেড়ে দেয় নি - সেটা বোঝা দুঃসাহসিক নয়।
'আমি মনে করি মানুষ একটা উন্নত জাতের ব্রেনওলা পশু ছাড়া আর কিছু না। এ্যালট্রুইজম , ইমোশন , মায়া , র্যান্ডম আবেগ এইসব মানুষকে ভিন্ন করে পশু থেকে।' --- ঠিক আছে। কিন্তু আবার, পশুদের ভেতরও দেখা যাচ্ছে এইরকম আচরণ। যদিও বেশী নয়, কিন্তু আছে। তাই এই আচরণ দেখিয়েও আমরা নিজেদেরকে আলাদা করতে পারছি কোথায় ততটা? আর নিজেদের 'শারিরীকভাবে' তুষ্ট করার জন্য এইসব আত্মত্যাগ বড় কোন নৈতিক ব্যাপার তো নয়, বরং খুবই সাধারণ এবং মৌলিক আমাদের মস্তিষ্কের কাছে যা কিনা একই সাথে সহজাত, অন্তর্জাত, বলেছি আগেই। পশুদের মতই নিজেদের তুষ্ট করতে ব্যস্ত - হোক না সেটা যতটা অন্যভাবেই।
যদি চরমপন্থী হই- আপনার কথা টেনে তাই বলব, একটু উন্নত পশু আমরা। হ্যাঁ, প্রকৃতির অংশ তবুও।
'হা আমরা অনেক শেকলে বাধা । আর সেটা নিয়ে আমাদের হীনমন্যতার কারন নেই । আমরা প্রকৃতির অংশ সুতরাং এসব আমাদের মধ্যে আসবেই ।
তবে বিবেক দিয়ে, ইমোশন দিয়ে এর মধ্যেই ভালোটা বেছে নিতে হবে ।'---- হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত rational হতেই হয় - ঠিক।
তবে অস্বস্তি কাটে না তবুও। হতে পারে সেটা ব্যক্তিগত।
এই ব্যাপারে জানো নাকি কিছু ?
আমি একটু ঘাটাঘাটি করলাম এই ব্যাপারে
একটা পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছে আছে ।
লেখক বলেছেন: চমৎকার টপিক। আমার জানা মতে, অবশ্যই আছে। বেড়ে উঠার পরিবেশও এখানে ক্যাটালিষ্ট। মনস্তত্ত্বের ভুমিকা আছে। হোমোসেক্সুয়াল আর হেটারোসেক্সুয়াল ব্রেনের মধ্যে পার্থক্য আছে শুনেছি।
অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি তাহলে। তাড়াতাড়ি লিখে ফেলুন।
ভালো লাগলো।
ভালো থাকুন ভ্রাতা।
এ্যালট্রুইজম বিবর্তনের একটা কাটা কিনা এটার ব্যাপারে আমিও তোমার মতো মনে করি -- ভবিষৎ এর জ্ঞান এ সম্পর্কে পুরো ধারনা দিবে ।
বিবর্তন নিয়ে চলমান বিতর্ক নিয়ে কথা উঠতে পারে। বিবর্তন তো পুর্নাংগ বিজ্ঞান নয় এখোনো । এবং ঈশ্বর বিশ্বাসীদের সাথে মৌলিক দ্বন্ধের কারনে অনেকের কাছে গ্রহনযোগ্যতাও পায় নি ।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মানুষের বেলায় বিবর্তন নিয়ে ভবিষৎ এ আরো সমস্যা হবে বলে মনে করি আমি । ধরো ক্লোনিং , ষ্টেম সেল রিসার্চ , জীন পাল্টিয়ে নিখুত মানুষ বানানো । এইসব তো বিবর্তনের গতিপথই পাল্টে দিবে ।
মানুষকে বিবর্তনের ইতিহাসের বাইরে রেখে বিচার করতে হবে ।
নেচারের স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করলে কি হবে সেটাও একটা ইন্টারেষ্টিং ব্যাপার ।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, ওদের টাকা পয়সা দান করার ক্ষমতা থাকলে আরো বেশী দেখা যেত ![]()
বিবর্তন চলমান প্রক্রিয়া। গ্রহনযোগ্যতা থাকুক না থাকুক, এর মধ্যে দিয়েই যাচ্ছে সবকিছু। সবকিছু (ঢাকার তিন/চার/নয় নম্বর মুড়ির টিন বাসগুলোও
)। আমরাই সচেতনভাবে (ক্লোনিং , ষ্টেম সেল রিসার্চ যাই হোক) পালটে দিচ্ছি। আবার আমরাও পালটে যাচ্ছি বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায়। সবকিছুর মিথোস্ক্রিয়া। তাই এই প্রক্রিয়ার বাইরে কোন কিছুর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে ভাইয়া !
মানুষকে তাই বিবর্তনের ইতিহাসের বাইরে রাখলে তার প্রবৃদ্ধির জন্য অন্য কিছুর সাহায্য দরকার বলে মনে হয় কি?
যাই হোক। আপনার দৃষ্টিকোণের সাথে একমত। বুঝতে পারছি আপনি কি বলতে চাচ্ছেন। জ্ঞানের সীমাবদ্ধতায় অনেক প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।
ভালো থাকুন।
আনোয়ারুল আলম বলেছেন:
"কেন?" শব্দটাকে খুব ভয় পাই । বেশিরভাগ সময়ই এই প্রশ্ন করে ভাল কোনও উত্তর পাওয়া যায় না, তাই "কি" এবং "কিভাবে" র সাথেই বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করি । "কি" এবং "কিভাবে" র উত্তর বের করতে যেয়ে যখন বিরক্ত বা ক্লান্ত হয়ে যাব, তখন "কেন?" কে নিমন্ত্রণ করে মনের বাসায় নিয়ে আসব ।
যাই হোক, উচ্চ মাত্রার আঁতেলীয় মন্তব্য না করে কিছু কাজের কথা বলি ।
Daniel Dennett এর একটি ভিডিও, আপনার উপরের আলোচনার সাথে কিছুটা সম্পর্ক আছে এটার। দেখিয়েন , মজা পাবেন ।
আর ওরগ্যাজম নিয়ে একটা মজার ভিডিও দেখেছিলাম ২-৩ মাস আগে। দেখলে মজা পাবেন ।
লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা! সময় নিয়ে দেখে ফেলবো ভিডিওগুলো।
অনেক ধন্যবাদ।
বিলাশ বিডি বলেছেন:
চমৎকার লেখা লিখেছেন। তাড়াহুড়া করে পড়েছি (অফিসের কাজ ফাঁকি দিয়ে আমার তো মনে হয় altruism বিবর্তন এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়, বরং সমর্থক। এটা সামগ্রীকভাবে প্রাণিকূলের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।
আপনি হয়তো পড়ে থাকবেন, একটা ইন্টারেস্টিং লিঙ্কঃ
http://yudkowsky.net/obsolete/tmol-faq.html
পয়েন্ট 1.2 তে দেখুন, altruism কে তিনি মানব০জাতির বেঁচে থাকার প্রধান কারণ মনে করেন।
বিবর্তন এর ব্যাপারে আমার জ্ঞান সীমিত। কাজের চাপে আসলে খুব বেশি পড়ালেখা করতে পারিনা। তবে অপেক্ষা করছি রিচার্ড ডকিনস এর "The Greatest Show on Earth" এর জন্যে, সেপ্টেম্বরএ বের হবে। শোনা যাচ্ছে ওটাতে তিনি বিবর্তনের বিতর্কের কফিনে শেষ পেরেক মেরেছেন!
লেখক বলেছেন:
আমার তো মনে হয় altruism বিবর্তন এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়, বরং সমর্থক। এটা সামগ্রীকভাবে প্রাণিকূলের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। - হ্যাঁ, এইরকম কিছুই 'কিন-সিলেকশন' তত্ত্ব বলতে চায়।
না, লিঙ্কটা পড়া নেই।
অপেক্ষা করছি বইটার জন্য!
অনেক ধন্যবাদ, ভ্রাতা!
লেখক বলেছেন: কিহ্! আমি এক ছাপোষা মানুষ!
তোমার ঐ পেপারকাটিংটা বেশ!
![]()
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















আর...
ভালোলাগা রেখে গেলাম বন্ধুটির জন্যে।