তপঃসিদ্ধ এক শাহ আবদুল করিম
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৯
১
হালকা হাওয়ায় কেঁপে উঠলো রশিদ উদ্দিনের সামনে রাখা ছোট কুপিটা। নিতান্তই ছোট। কতটুকুই বা আলো দেয়? এই তো, তার সামনে উপবিষ্ট ক্ষুরধার ও কৌতূহলী চক্ষুধারীদের কেউ না কেউ নিয়ে আসছে বোধহয়। দূর-দূরান্তর থেকেই তো ওরা আসে। আশ-পাশ থেকেও আসে। উত্তেজনা নাই ওদের চোখে। কৌতূহলী। কিন্তু উত্তেজনার বালাই নাই সেখানে। ধীর-স্থির। সুষম। নিমগ্ন। নিবিষ্ট। কেন্দ্রীভূত।
আবার বাতাস। নিভে যাবে নাকি কুপির ছোট্ট আগুনটা? বেচারা কুপি। চারদিকের এই হ্যাজাকের আলোয় তোমার মূল্য কেউ বুঝে না। ‘ঐ দেখ মেন্টেলে তৈল ঝরে কেমন সুন্দর পরিপাটি আয়না গড়া চতুর্ধারে’। কিন্তু কুপির আলো কেউ বুঝে না। কেউ বুঝে না। কি রহস্য ওতে! কি রহস্য! খালি তাচ্ছিল্যজ্ঞান। অকেজো। অনাবশ্যক। কিন্তু ঐ সামনের মাটির ঘরটার পেছনের কঞ্চির বেড়াটা পার হইলেই জাপটে ধরা অন্ধকারে তুমিই একমাত্র সম্বল।
১৯৩২ সালের এক রাত্রিতে হাওর-বাওর-বিল-ঝিলের দেশ নেত্রকোনার বাহির চাপড়া গ্রামের এক মাটির ঘরের দাওয়ায় বসে পৌষের মৃদু হাওয়ার বিপক্ষে একটা কুপির আপ্রাণ টিকে থাকার প্রচেষ্টাখানি বিনম্র দৃষ্টিতে দেখলেন সাধু রশিদ উদ্দিন। বাউল সাধক রশিদ উদ্দিন।
“গুরু, শুরু করেন তাইলে...”। আচমকা সম্বিত ফিরে পেলেন সাধক। ‘আইজকেই...হ, আইজকেই সে আইসবে’। জানেন সাধু। মানব, প্রকৃতি, মানবদেহ, সৃষ্টি রহস্য, গুরু সাধন, আত্মা-পরমাত্মা। হ্যাঁ, এইসব চর্চার এক আখড়া তো তাঁর এই নিতান্ত সাধারণ গৃহ। অনেক ভাব-শিষ্য তাঁর। আধ্যাত্মিক চর্চা। কবি গান। জারি গান। আবার অত্র অঞ্চলের সুফি সাধকদের গান-জলসা-জিকিরও হয় তার এই স্বগৃহে। কত ভক্ত! কত অনুরাগী! কত শিষ্য! আজকেও আসবে আরেকজন – জানেন তিনি। তাঁরও হঠাৎ মনে পরে পুখুরিয়া গ্রামের টকনা মিস্ত্রির কথা। একটু একটু করে একতারা বাজাতে যেতেন তিনি। শুরু করেন বাউল গান শেখা। সেই ছোট বেলায়। পনের কি ষোল! ‘আইজকেই একজন আইসবে......ষোল বছরের ওতি আইজকেই আইসবে’। বড় রহস্য এই জগতখানার! ‘এই যে দুনিয়া কিসের লাগিয়া/এত যত্নে গড়াইয়াছে সাঁই’। মৃদু স্বরে শিষ্যদের দিকে দৃষ্টিপাত করে উচ্চারণ করলেন,
আগে তিমির নাসিয়া
কটাক্ষ স্বরূপে দেখনারে চাহিয়া।
তীর ধ্যানে আছে তোমার স্বয়ং ভগবান
তিথি সু থাকিলে তারে খুঁজরে পাষাণ।
তারপর বললেন,
মানুষ ধর, মানুষ ভজ
শুন বলিরে পাগল মন।
মানুষের ভিতরে মানুষ
করিতেছে বিরাজন।
ছোট্ট নিভু-নিভু কুপিটার দিকে আবার শীতল কিন্তু বিনম্র একপলক ফেলে বলতে থাকলেন,
ওগো স্রষ্টা, জাতি ভ্রষ্টা, তুমি হইলা নষ্টের মূল
নাহি তোমার জাতি ধর্ম, নাহি তোমার কূলা কূল।
তুমি হিন্দু কিংবা হও মুসলমান
নাই তোমার মান অপমান,
সবার কাছে সমতুল।
তুমি স্বর্গ তুমি নরক
ইহাতে আর নাই যে পরক
নাই তোমার সুরত সুরত
আশাতে ফুটাইছ ফুল।
এবার আর থামলেন না। বলেই চললেন,
অন-রে অন-রে দেখ সবে চিন্তা করে
প্রভু সাঁই পরোয়ার কি খেলা খেলায়।
বসিয়া নিরালা ঘরে কার্য করে ধীরে ধীরে।
বিচিত্র কৌশল করে মানুষ বানায়।
ঠিক এই সময়, বাঁশঝাড়ে ছাওয়া আর আম-জলপাই-হরতকির জঙ্গল চিরে বের হওয়া সরু পথ ধরে ধনুকের ছিলার মতন টান-টান শরীর আর স্পষ্টবাদিতার ঔজ্জ্বল্যে জ্বলজ্বল করতে থাকা এক অবয়ব চোখে পড়লো সাধক রশিদ উদ্দিনের। ঐ আন্ধারে সেই অবয়বখানির উপস্থিতি কতই না স্পষ্ট সাধুর মানসপটে! দিব্যি দেখা যাচ্ছে সেই ধীর-একাগ্র চলন! কাঁধের উপর সেই পুটলিখানিও দিব্যি দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। এক মৃদু হাসির দ্যোতনা সাধুর মুখমণ্ডল জুড়ে। ‘সে আইসছে...আবদুল করিম আইসছে’।
২
বাউল গানের কিংবদন্তী শাহ আবদুল করিমের আবির্ভাব ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উজানধল গ্রামে। সংগীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। প্রেরণা ছিলেন স্ত্রী আফতাবুন্নেসা - আদর করে ডাকতেন ‘সরলা’। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ, দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসার কথা বলেছেন। লিখেছে প্রায় দেড় সহস্রাধিক গান। করেছেন সুরারোপ। প্রকাশিত হয়েছে ছয়টি গানের বই। বইগুলো হলো - আফতাব সংগীত, গণ সংগীত, কালনীর ঢেউ, ভাটির চিঠি, কালনীর কূলে এবং দোলমেলা। সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধেও চুপ ছিলেন না তিনি।
হ্যাঁ, সাম্প্রদায়িকতা। যেই সাম্প্রদায়িক নেতৃত্বে রাজনৈতিক মুনাফা অর্জনের জন্য এই ভূমি কতবারই না রক্তাক্ত হয়েছে! তাই হয়তো তিনি বলছেন...
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম।
হিন্দু বাড়িতে যাত্রা গান হইত
নিমন্ত্রণ দিত আমরা যাইতাম
জারি গান, বাউল গান
আনন্দের তুফান
গাইয়া সারি গান নৌকা দৌড়াইতাম।
বর্ষা যখন হইত,
গাজির গান আইত,
রংগে ঢংগে গাইত
আনন্দ পাইতাম
কে হবে মেম্বার,
কে বা সরকার
আমরা কি তার খবরও লইতাম
হায়রে আমরা কি তার খবরও লইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।
করি যে ভাবনা
সেই দিন আর পাব নাহ
ছিল বাসনা সুখি হইতাম
দিন হইতে দিন
আসে যে কঠিন
করিম দীনহীন কোন পথে যাইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম….।
ছিলেন রাজনৈতিক সচেতন...যখন বলছেন,
বাংলার দালাল রাজাকার, করেছিল কি ব্যবহার
তাহাদের কথা আমার আজো মনে পড়ে
বাংলার দুর্দিনে এই দালাল রাজাকারে
ইসলামের দোহাই দিয়া শত্র’কে সমর্থন করে।
(কালনীর কূলে/ গান: ১৩৭)
তিনি ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। বাংলা একাডেমি তার দশটি গানের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করে। এছাড়াও ২০০০ সালে কথা সাহিত্যিক আবদুর রউফ চৌধুরি পদক পান। তারপরও যেটা হয়, জীবনের একটি বড় অংশই তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে দারিদ্রতার সাথে।
হ্যাঁ, কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধুমাত্র ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। সাম্প্রতিককালে এ সময়ের বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠেন ইট-কাঠের খাঁচা প্রসূত আমাদের এই তারুণ্যের মাঝে। যেই তারুণ্য এখন অনেক কিছুই বুঝতে চায়! খুঁজতে চায় মাটির ঘরের আত্মার সন্ধান।
মায়া
বসন্ত বাতাসে সইগো
বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ
আমার বাড়ি আসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলবাগানে
নানান রঙের ফুল
ফুলের গন্ধে মন আনন্দে
ভ্রমর হয় আকুল
বন্ধুর বাড়ির ফুলের বন
বাড়ির পূর্বধারে
সেথায় বসে বাজায় বাঁশী
মন নিল তার সুরে
মন নিল তার বাঁশীর তানে
রূপে নিল আঁখী
তাইতো পাগল আব্দুল করিম
আশায় চেয়ে থাকে।
গাড়ি চলে না, চলে না, চলে নারে গাড়ি চলে না
চড়িয়া মানব গাড়ি, যাইতেছিলাম বন্ধুর বাড়ি
মধ্যপথে ঠেকলো গাড়ি, উপায়বুদ্ধি মিলে না।
আব্দুল করিম ভাবছে এবার, কণ্ডেম গাড়ি কী করবো আর
সামনে ভীষম অন্ধকার, করতেছি তাই ভাবনা।।
আমি কূল হারা কলঙ্কিনী
তারপর আরও বলছেন,
ভব সাগরের নাইয়া ...
মিছা গৌরব করোরে পরার ধন লইয়া।
একদিন তোমায় যাইতে হবে এই সমস্ত থুইয়া।।
পরার ঘরে বসত করো, পরার অধীন হইয়া
আপনি মরিয়া যাইবায় এইভব ছাড়িয়া।।
কী ধন লইয়া আইলায় ভবে, কী ধন যাইবায় লইয়া
ভবে আইয়া ভুলিয়া রইলায় ভবের মায়া পাইয়া।।
বাউল আব্দুল করিম বলে, মনেতে ভাবিয়া
মন্ত্র না জানিয়া ঠেকলাম, কালসাপিনী ছুঁইয়া।।
(কালনীর কূলে/ গান: ৪০)
ভেবে অবাক হয়েছিলাম, কি অদ্ভুত সমাজ সচেতনও ছিলেন তিনি!
শোনেন বন্ধুগণ, করা ভালো জন্ম নিয়ন্ত্রণ
ভবিষ্যত উজ্জ্বল হইবে করিলে নিয়ম পালন।
জনসংখ্যা বাড়িতেছে, জমি কিন্তু বাড়ে না
ভবিষ্যত কি হইবে করো না বিবেচনা
ভালোমন্দ যে বুঝে না, পাছে পাবে জ্বালাতন।।
বিচার করে দেখো সবাই যে চলে হিসাব ছাড়া
অধিক সন্তান জন্মাইয়া হয়েছে দিশেহারা
শিক্ষা-দীক্ষা খাওয়া পরা, চলে না ভরণপোষণ।।
(কালনীর কূলে/ গান: ১৩০)
৩
সেই মানুষটার তিরোধান আজ ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ শনিবার সকাল ৭: ৫৮ মিনিটে সিলেটের নুরজাহান ক্লিনিকে। পরমের সান্নিধ্যে। মায়ার জালে বান্ধা এই দুনিয়া ছেড়ে কোথায় গেলেন? তিনিই তো সংশয় সহকারে গেয়েছিলেন,
স্বর্গ আর নরক
করি নাই পরখ
আছে বলেই শুধু শুনেছি।।
দয়া নাই যেখানে
কে যাবে সেখানে?
স্বর্গের মহিমা
শুনেছি তাই
সেখানে আছে বুঝি
খেমটাওয়ালী বাঈ
...করে সুরাপান
হয়তো সস্তা নইলে
বিনামূল্যে পান
এখন খাইলে পরে
দোষ কেন ধরে
তাইতো ফাঁপড়ে পড়েছি।
এই সকল সুখ
নরকেতে পাই না
তাইতো সেখানে
কেউ যেতে চায় না
অসুবিধা বাদে
আর কিছু দেখি না
নরকেই গরম খুব।
এত স্পষ্টভাবে সংশয় প্রকাশ! শুনে দেখি একটু তাঁর কণ্ঠে....
৪
কেউ বলে দুনিয়া দোজখ, কেউ বলে রঙের বাজার
কোনো কিছু বলতে চায় না, যে বুঝেছে সারাসার।
বুঝলে কি, বুঝবে কি ওরে ও মন ধুন্ধা/এই দুনিয়া মায়ার জালে বান্ধা।
প্রকাশ করা হয়েছে: অন্বেষণ বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০২
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
এমন একটি লেখার জন্য অপেক্ষা করছিলাম সারাদিন। বিষাদ আরও গভীর হলো।
লেখক বলেছেন: আজ জেগেই শুনতে পেলাম। বিষাদাক্রান্ত।
ধন্যবাদ, ইমন ভাই।
নুশেরা বলেছেন:
বাউলের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। সমৃদ্ধ পোস্টটির জন্য অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, আপু।
সুরঞ্জনা বলেছেন:
বাউল সম্রাটের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।আজ থেকে ২৫ বছর আগে উনার সাথে
প্রথম পরিচয়, উনার সাথে অনেক কথা,
অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেলো।
লেখক কে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: স্মৃতিগুলোকে নামিয়ে ফেললে আমরা ভয়ংকর উপকৃত হব।
অপ্সরা বলেছেন:
উনার প্রতি জানাই শ্রদ্ধা।
লেখক বলেছেন: উনার প্রতি জানাই শ্রদ্ধা।
সৈয়দ নাসির আহমেদ বলেছেন:
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের গান শাসক- শোষকের বিরুদ্ধে মানুষকে প্রেরণা যুগিয়েছে।দেশ-জাতি, মাটি-মানুষ আর মানবিকতার দেশাত্মবোধক গান মানুষকে দিয়েছে সঞ্জিবনী সুধা।
তার গান উজ্জীবিত করেছে দেশপ্রেমে। সচেতন করেছে অধিকার আদায়ে।
আমরা বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি।
Click This Link
লেখক বলেছেন: আপনার প্রত্যেকটি কথা একেকটি মহা-সত্য।
ধন্যবাদ।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
ধন্যবাদ অম্বর। লেখাটা পরে পড়বো। সিকেই তুলে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: তাড়াহুড়ো করে দিয়েছি, মুক্তি'দা। কিছুটা এলোমেলো তাই।
ভালো থাকেন।
মহলদার বলেছেন:
বাংলার লোক সংগীতের আকাশ থেকে আর একটা তারা খসে পড়ল। সকালে খবরটা শোনার পর থেকে মনটা ভারাক্রান্ত। তাঁর স্বকন্ঠে গাওয়া "চলিতে চরণ চলেনা দিনে দিনে অবশ হই, আগের সেই বাহাদূরী গেল কই?" গানটা দেখে বারে বারে আবেগাপ্লুত হয়ে হয়ে পড়ছি। পরম শ্রদ্ধা রইল তাঁর প্রতি।
লেখক বলেছেন:
বাংলার লোক সংগীতের আকাশ থেকে আর একটা তারা খসে পড়ল।
পরম শ্রদ্ধা তাঁর প্রতি।
মহলদার বলেছেন:
সংশোধনঃ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছি।
লেখক বলেছেন: ঠিক আছে, ভ্রাতা। ধন্যবাদ।
রাজর্ষী বলেছেন:
ধন্যবাদ এই লেখাটির জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ, রাজর্ষী।
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
গভীর শ্রদ্ধা।
লেখক বলেছেন: গভীর শ্রদ্ধা।
মানবী বলেছেন:
সংক্ষেপে প্রিয় গীতিকার সুরকার শাহ্ আব্দুল করিমের শুরু থেকে শেষের এই বর্ণনা ঠিক আকাশ অম্বরের স্টাইলের মতোই অসাধারান হয়েছে !হাবিব, কায়া সহ আধুনিক অনেক শিল্পী যাঁরা শাহ আব্দুল করিমের গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়েছেন তাঁদের অনেকে দোষারোপ বা বিদ্রুপ করলেও আমি এর বিপক্ষে।
আধুনিক এসব শিল্পীদের কারনে বাউল সম্রাটের পরিচয় খুব সহজে পৌঁছে গেছে নতুন প্রজন্মের কাছে।
আধুনিক প্রজন্মের বড় একটি অংশ যাঁরা একতারা দোতারায় বাজানো বাউল সম্রাটের গান হয়তো কোনদিনই শুনতোনা যদি না হাবীব তাঁর অসাধারান সুন্দর কম্পোজিশনের মাধ্যমে এই মহান গীতিকার ও সুরকারের গান তুলে ধরতেন.... যা নতুন জেনারেশনের কাছে শাহ আব্দুল করিমকে করে তুলেছে ভীষণ রকম জনপ্রিয়!
চমৎকার পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ আকাশ অম্বর!
লেখক বলেছেন: আধুনিক এসব শিল্পীদের কারনে বাউল সম্রাটের পরিচয় খুব সহজে পৌঁছে গেছে নতুন প্রজন্মের কাছে। - খুবই একমত।
চমৎকার মন্তব্যের জন্যও আপনাকে ধন্যবাদ, মানবী।
ফেরারী পাখি বলেছেন:
অম্বর বাউল, স্যালুট তোমাকে। তোমার এই বিষয় বৈচিত্রের জন্য দিন দিন তোমার পাংখা থেকে পাংখাতর এবং অবশেষে পক্ষী হইয়া যাইতেছি। তোমার বাড়িতে ঘনঘন ওড়াউড়ি করাই আমার কাজ।চঞ্চুতে কইরা সব লেখা আমার বাড়ি নিয়া জমাইতে মনে লয়, কিন্তু তাইলে আমার বাড়ির শোকেসে আকাশ ছাড়া আর কিছুই দেখা যাইবে না। তাই আপাততঃ এইটা নিতেছি না।
কিন্তু লেখাটা বড় হৃদয়গ্রাহী হয়েছে ভাইডি।
লেখক বলেছেন: আমার লেখা আপনার বাড়িতে না লইয়া বরং আপনার বাড়ি হইতে চঞ্চুতে করিয়া প্রচুর শুভকামনা লইয়া আসিলেই আমি কৃতার্থ!
অনেক ধন্যবাদ বোনডি।
রাজর্ষী বলেছেন:
তবে..একখান কতা.. রশিদউদ্দিনের মুখে এটা খুবই বেমানান লাগবে... "সে আইসছে...আবদুল করিম আইসছে" এটা লালন ফকিরের মুখে মানাইতো। কুস্টিয়া,যশোর সব ঐসব এলাকার ভাষা সংস্কৃতির সংগে ভাটি এলাকার বিস্তর পার্থক্য।
লেখক বলেছেন: আপনি আমার সবচেয়ে দূর্বল জায়গায় হাত দিয়াছেন, ভ্রাতা! মারাত্মক খুঁতখুঁতানি ছিলো। এইটা আমার ভাষাজ্ঞানের ভয়ংকর সীমাবদ্ধতা।
কি করা যায় তাহলে?
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
এই এক অপার বিস্ময়। শুধুমাত্র অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন বা মুষ্টিমেয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাসম্পন্ন এই মহাত্মারা যা লিখে গেছেন বা দিয়ে গেছেন তা অবিস্মরণীয়।পৃথিবীর ক্ষয় আছে, অক্ষরের ক্ষয় নেই।
লেখক বলেছেন: পৃথিবীর ক্ষয় আছে, অক্ষরের ক্ষয় নেই।
ধন্যবাদ, আশরাফ ভ্রাতা।
লেখক বলেছেন: কবি! আপনার পদধূলিতে আনন্দিত।
লেখাটা ভাষা সংক্রান্ত ত্রুটিযুক্ত।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ অনুপ্রেরণার জন্য।
সুমিন শাওন বলেছেন:
অসাধারণ ভাবে লিখেছেন, পোষ্ট টি স্টিকি হতে পারে!
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, শাওন।
উমম, কিন্তু আমার মনে হয় না। শুধু ব্যাপক তথ্যসমৃদ্ধ পোষ্ট/উচ্চমার্গীয় সাহিত্য সেটার যোগ্যতা রাখে মনে হয়। এটা ফ্যান্টাসী আর ভাষা সংক্রান্ত ত্রুটিযুক্ত।
অনেক শুভকামনা।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
আপনার গদ্যভাষা এত চমৎকার পড়তে পড়তে বিমোহিত হয়ে যাই। মুগ্ধ হওয়া ছাড়া কোন উপাই নাই। আপনাকে শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: মুক্তি'দা! অনুপ্রাণিত!
শুধুই আমার নিতান্ত সাধারণ প্রচেষ্টা.....খুবই সাধারণ।
আপনাকেও শুভেচ্ছা, বস্।
লেখক বলেছেন: তাছাড়া লেখার বিভিন্ন অংশ সংগৃহীত।
লেখক বলেছেন: আমি তো ঐটা গতরাতেই দেখেছি, ইমন ভাই। অপ্সরা আপু তো খুব দারুন!
দীপান্বিতা বলেছেন:
স্বর্গ আর নরককরি নাই পরখ
আছে বলেই শুধু শুনেছি।
শুনছিলাম...
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, দিদি।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আকাশ, আপনার এই পোস্টটি স্টিকি হতে পারতো, হয়নি । এটা নতুন কিছু না, এই সামুর পরিবেশে এমনটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা । তবু, অচেনা লাগছে এই পরিবেশ ।
এই পোস্ট স্টিকি করার অনুরোধ করে ক'টা শব্দ লিখেছিলাম । সহব্লগারেরাও দেখলাম সাড়া দেননি তেমন । যিনি কূল হারা কলঙ্কিনীর শিল্পী, যিনি অনেক আগেই বলে গেছেন, --
গাড়ি চলেনা..চলেনা..চলেনারে..গাড়ি চলেনা..
চড়িয়া মানব গাড়ি যায়তে ছিলাম বন্ধুর বাড়ি...
মানব গাড়িতে চড়ে তিনি অদৃশ্য বন্ধুর বাড়িতে চলে গেছেন, আর ফিরবেন না, এটা নিয়ে ব্যস্ত, স্বমেহনে লিপ্ত আমরা মানুষদের তেমন মাথাব্যথা না হবারই কথা ।
তারপরও কেন জানি , মনটা খুব খারাপ হলো, কিছুদিন ব্লগীং থেকে বিরতি নিতে হবে ।
লেখক বলেছেন: শিপন, আপনার আন্তরিকতায় মুগ্ধ।
'স্টিকি' এই শব্দটার কোন মূল্য নাই আমার কাছে। তবে আপনি সেটার অনুরোধ করে যে কয়টি শব্দ লিখেছেন, সেটা আমার কাছে - হ্যাঁ - 'মহা-অমূল্য'। আমি সত্যি পুলকিত আপনার আন্তরিকতায়। 'স্টিকি-পোষ্ট' শুধু ব্যাপক তথ্যসমৃদ্ধ/উচ্চমার্গীয় সাহিত্য ধরে রাখার যোগ্যতা রাখে মনে হয়। আমার এই পোষ্টটা ফ্যান্টাসী আর ভাষা সংক্রান্ত ত্রুটিযুক্ত। তাছাড়া লেখার বিভিন্ন অংশ সংগৃহীত। আর আমি ব্যক্তিগত ভাবেও এটা চাই নি/না।
'মানব গাড়িতে চড়ে তিনি অদৃশ্য বন্ধুর বাড়িতে চলে গেছেন' - এই ভাবগুলোর কাছে এসব ব্যস্ততা, স্বমেহনে লিপ্ত প্রবণতা নিতান্তই তুচ্ছ। আপনি অনুগ্রহ করে মন খারাপ করবেন না। ইহা মন খারাপ করার কারণ হিসেবে যোগ্য নয়। আপনার মনের ঐ একান্ত গূঢ় ভাবের নিকট এইসব কিছু নিতান্তই তুচ্ছ। শাহ্ আবদুল করিমের প্রতি আপনার এই অনুরাগ আরও উচ্চমার্গীয়। নীরব-শ্রদ্ধা আপনার প্রতি। আপনি ব্লগ-বিরতি নিবেন না, অনুগ্রহ করে (তবে এটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত)।
অনেক ভালো থাকুন।
ধন্যবাদ লেখাটার জন্য ।
~~~~~~~~
আর ষ্টিকি বিষয়ক -- এধরনের লেখার মূল্য বোঝার আরো অনেক পাঠক তৈরী হোক -- এটাই আশা করতে পারি কেবল ।
লেখক বলেছেন: বিনীত....
ধন্যবাদ, আরণ্যক ভাই।
সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন:
আপনার পোষ্ট পড়ে আমি একটা অজানা দ্বীপ আবিষ্কারের আনন্দ পেলাম।
লেখক বলেছেন: স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করুন তবে সেই দ্বীপে, ভ্রাতা! সেই আনন্দ দীর্ঘজীবি হোক!
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: কি বলে ধন্যবাদ দেবো আপনাকে?
অসংখ্য শুভকামনা, ভাই।
ফকির ইলিয়াস বলেছেন:
আপনি বিভিন্ন উৎস থেকে থেকে তথ্য সংগ্রহ করে লিখেছেন।খুবই ভালো কাজ এটি।
সম্মিলিত ভাবনার নামই একটি পরিশুদ্ধ প্রবন্ধ ।
লেখক বলেছেন: আপনার সচলের পোষ্টটিই অনুপ্রেরণা। সাথে অন্যান্য তথ্যাবলীর যোগান।
রশিদ উদ্দিনকে নিয়ে এখানকার এই পোষ্টটিও অসাধারণ।
Click This Link
ধন্যবাদ, ইলিয়াস ভাই।
শয়তান বলেছেন:
মিস করেছিলাম এই পোস্ট টা ।
লেখক বলেছেন: ধন্য এই আমি।
কাঙাল বলেছেন:
আমিও মিস করেছিলাম এই পোস্টটা। শয়তানের সুবাদে পড়া গেল। এবং আমার ব্লগে আসা স্বার্থক হলো বলে মনে হয়।এত সুন্দর ও বিশ্লেষণধর্মী পোস্ট আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পড়ে না।
করিম শাহ আমারও খুব প্রিয়
লেখক বলেছেন: শয়তান ভ্রাতাকে ধন্যবাদ আর আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা।
শুভকামনা।
দ্রোহি বলেছেন:
তুই একদিন যাবি উড়ে
কাঁদিস না ওরে..........
সোনার খাঁচা শুণ্য করে
যাবি বাঁধন ছিড়ে
কাঁদিস না ওরে..........
লেখক বলেছেন: তুই একদিন যাবি উড়ে
যাবি বাঁধন ছিড়ে
তুই একদিন যাবি উড়ে
লেখক বলেছেন: কার আঁকা বলতে পারছি না। আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ইন্টারনেট থেকে মেরে দিয়েছি।
ধন্যবাদ, মুক্ত।
লেখক বলেছেন: কি উপকার করলাম জানি না, তবে ভালো লাগলো মন্তব্যে।
ধন্যবাদ, ভ্রাতা।
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ বলেছেন:
এই মহান সাধকের গানে ব্ঙালির বিশেষ একটি রূপ কতো ভাবে ধরা পড়লো। ভালো লেখা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। শুভকামনা।
ফয়জুল আলম বেলাল বলেছেন:
ধন্যবাদ
আপনার লেখাটি তথ্যসমৃদ্ধ। পড়ে খুব ভালো লেগেছে। আমি তাকে নিয়ে আমার নতুন বইতে একটি প্রবন্ধ স্মৃতিতে প্রীতিতে শাহ আব্দুল করিম লেখেছি। প্রবন্ধটি আমার ব্লগে আছে।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। প্রবন্ধটি পড়বো অবশ্যই। অনেক শুভকামনা।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আপনার এই লেখাটার মনোনয়ন দিচ্ছি আমি ।
আপনার সমর্থন থাকবে, আশা নয় বিশ্বাস ।
তবে, যদি প্রুফ রিডিং বা পরিমার্জন করতে চান তো করতে পারেন, কাল রাতের মধ্যে আমার ই-মেইলে পাঠালে হবে ।
ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: বিনীত হলাম এবং কৃতজ্ঞ থাকলাম শিপন ভাই। আপনার বিশ্বাস অটুট থাক। শুভেচ্ছা।
আন্তরিক ধন্যবাদ নেবেন।
অদ্ভুত সেই ছেলে বলেছেন:
ভাইয়া দ্রোহি যে কথাগুলো বলেছেন, তা কি আপনার সংগ্রহে আছে??আমি বলতে চাচ্ছি "তুই একদিন যাবি উড়ে, কাঁদিস না ওরে" এর পুরোটা কি আছে?? দিলে যে বড় কৃতার্থ হই ভায়া। আমি মিনতি করছি ভায়া যদি থাকে আমাকে অতিসত্বর দিন। কোথাও পাইনি খুজে, একমাত্র গোগলে সার্চ দিয়ে দ্রোহী ভাইয়ের কমেন্টএ এই কোথাগুলো পেলাম.. আশা করি নিরাশ করবেন না।
অদ্ভুত সেই ছেলে বলেছেন:
ভাইয়া দ্রোহি যে কথাগুলো বলেছেন, তা কি আপনার সংগ্রহে আছে??আমি বলতে চাচ্ছি "তুই একদিন যাবি উড়ে, কাঁদিস না ওরে" এর পুরোটা কি আছে?? দিলে যে বড় কৃতার্থ হই ভায়া। আমি মিনতি করছি ভায়া যদি থাকে আমাকে অতিসত্বর দিন। কোথাও পাইনি খুজে, একমাত্র গোগলে সার্চ দিয়ে দ্রোহী ভাইয়ের কমেন্টএ এই কথাগুলো পেলাম.. আশা করি নিরাশ করবেন না
দ্রোহি বলেছেন:
@ অদ্ভুত সেই ছেলেজ্বী আছে। এটা আমার খুব প্রিয় একটা গান। আপনার ই-মেইল ঠিকানা দিলে আমি পুরো লিরিকটা পাঠিয়ে দিতে পারতাম।
কেউ একজন এই গানটা খুঁজছে, সেই বিষয়টাই ভাল লাগল। ভাল থাকবেন।
দ্রোহি বলেছেন:
ভ্রাত, ঢুঁ মেরে গেলাম। নতুন লেখা নেই যে?

















