অতিপ্রাকৃতিক বাতাসে ঐন্দ্রজালিক চাপ। কিঞ্চিত মহাজাগতিক পীড়ন। এক আধ্যাত্মিক শিরশিরানিতে স্পন্দিত কক্লিয়া। কম্পমান হেয়ার-সেল্। পূর্ববর্তী পিনা আর মধ্যবর্তী শ্রবণেন্দ্রিয়র মধ্যস্থতায় রূপান্তরিত শব্দধ্বনির মৃদু-ঘর্ষণে উন্মুক্ত আয়ন-চ্যানেল আর স্নায়বীয় বৈদ্যুতিক তরঙ্গ। অরগ্যান-অব-কর্টির ঔরসজাত এবং আশীর্বাদপুষ্ট আধিদৈবিক সেই বৈদ্যুতিক তরঙ্গধ্বনির উদ্দেশ্য এক প্রাইমারী অডিটরী কর্টেক্স।
কিন্তু হায় বৈদ্যুতিক তরঙ্গ! হায় তোমার প্রণোদনা! স্কার্পাস-গ্যাংলিয়নের পক্ষীরাজে উড়ে তুমি পদার্পণ করলে দ্বিধাবিভক্ত এই প্রাইমারী-অডিটরী-কর্টেক্সে! দুটি গোলার্ধে যার দুটি রূপ! বাম-পার্শ্ব তোমায় চিনে নিলো এক অনমনীয় ধ্বনিরীতির মুখোশে। তোমার গায়ে সেঁটে দিলো কড়া ও অনুগত ফৌনীম্! আর ডান-পার্শ্ব তোমায় চিনলো কি? তোমার অন্তর্মুখী চরিত্র খুঁড়ে সে তুলে আনলো ছন্দঃপ্রকরণ। যতি। লয়। প্রস্বন। তোমার সুমিষ্ট গীত। তোমার সুরেলা ধ্বনি।
অতঃপর কার জয় হোলো জানো কি বৈদ্যুতিক তরঙ্গ? তোমার রূপান্তরের খবর কি রাখো! তুমি কি জানো তোমা হতে আস্বাদিত দৈব-তথ্য কী মহানুভবতার সাথেই না পৌঁছে গেছে ওয়ারনাইক’স এরিয়ায় – সুপিরিয়র টেম্পোরাল জাইরাসের ঠিক পশ্চাদেই যার অবস্থান! ইন্টার-হেমিস্ফেরিক-এক্সনের মধ্যবর্তিতায় তোমার ছন্দময় রূপখানিও হয়তো ধরা দেবে অন্য গোলার্ধ হতে। হবে বিশ্লেষিত।
হ্যাঁ বিশ্লেষিত তথ্য! তোমরা এবার হেঁটে যাবে আর্কুয়েট-ফ্যাসিকুলাসের তন্তুময় পথে। এ এক আঁশসমৃদ্ধ পথ। এ এক স্নায়বিক পথ। দূরে কি দেখতে পাচ্ছো কিছু? দেখতে কি পারছো ঐ ব্রোকা’স এরিয়া? আহ্! ব্রোকা! ওহ্! ব্রোকা! ওয়ারনাইক’স এরিয়া হতে প্রাপ্ত তথ্যসমষ্টির ব্যাখ্যা তো সেই দেবে! এক তুখোড় বিতার্কিকের মতন সে ঘটাবে রূপান্তর। করবে বিষয়বস্তুর স্পষ্টীকরণ। বিশদীকরণ। প্রভাবিত করবে মোটর-ফাংশান। কাঁপবে ল্যারিক্স। এপিগ্লটিস। প্যালেট। জিহবা। স্পন্দিত হবে মাংসপেশী। নড়বে ঠোঁট।
উচ্চারিত হবে এক শব্দ। “হও”।
আর তা হয়ে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


