প্রায় সাড়ে চারশত বৎসর পূর্বের এক সূর্যোদয় কোন বঙ্গ-কৃষকের রোদে-পোড়া কালচে-ঠোঁটে যদি সোনারঙা ফসলের হাসি-ঝলক এনে দেয়, তুমি সেই লাল-সূর্যকে বিনম্র চিত্তে অভ্যর্থনা জানাতেই পারো হে একবিংশ শতাব্দীর বাঙালী।
হ্যাঁ। প্রায় সাড়ে চারশত বৎসর পূর্বের কথা বলছি। অতীতকালীন সেই নবান্নে কোন এক বঙ্গ-কৃষাণীর লাজুক মুখের কৃষ্ণ-তিলের লাবণ্য যদি তুমি দেখতে পাও ঐ জেগে উঠা সূর্যের বর্ণচ্ছটায়, তুমি তার আপ্যায়নে ত্রুটি রেখোনা হে পরিচ্ছন্ন হলদে-সাদা রমণীকুল।
আজ যখন তোমরা সাজাবে তোমাদের সূর্য, রাঙাবে তোমাদের রাজপথ, নাচবে, গাইবে গান, হেঁটে যাবে কোলাহলে, বাতাসে শুনবে আনন্দের ঘনঘটা, লাল-সাদা-খয়েরী-হলুদের আড়ালে শুনবে বঙ্গজননীর হর্ষোৎফুল্ল স্মৃতিচারণ, তখন শুধু মনে রেখো প্রায় সাড়ে চারশত বৎসর পূর্বের সেই ফসলী-সনের কথা, যখন মোঘল-সাম্রাজ্যের হিজরী-বর্ষপঞ্জিকার সমস্যাসঙ্কুল কর-খাজনা আদায়-পদ্ধতির সমাধানে নৃপতি-শশাঙ্কের সৌর-সিদ্ধান্তের আশীর্বাদপুষ্ট বঙ্গ-যুগের অবসান ঘটিয়ে আরব-নির্যাস দিয়ে তোমাদের বর্ষপঞ্জিকার সূচনা ঘটিয়েছিলো এক মোঙ্গল-আকবর, শুধুই বঙ্গ-কৃষকের সময়োপযোগী শোষণের স্বার্থে।
আজিকার লাল-সূর্যকে তোমাদের বক্ষে ধারণ করার সময় তোমরা তাই ভুলে যেওনা অর্থনীতি।
১৪১৭।
তুমি কি জানো এক ক্ষেতমজুরের হৃদয় কতটা লাল হতে পারে?
তুমি কি পারবে?
তুমি তো এসেছো শুনেছি নতুন আশা জাগাতে।
কিন্তু হায়!
তুমি তো এসেছো বৈশাখের রুক্ষ জটাজালে!
চৈত্রের অবসন্নতায়!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



