নিকটবর্তী
২৮ শে জুলাই, ২০১০ বিকাল ৫:৫২
![]()
- আব্বা, ওইটা কি?
বৃষ্টিবাদলার দিন। কোলাব্যঙের ডাক। আর মধ্যরাতের তারাভরা আকাশের দিকে ইঙ্গিত করছে ছোট্ট একটা আঙুল।
- ওইটা তারাখসা বাবা।
- তারাখসা কি আব্বা?
- তারাখসা হইতেছে...
গুঞ্জন। কোলাহল। পঙ্গপাল।
ধীরে ধীরে হাঁটছে।
স্তোত্রপাঠ।
আবৃত্তি করছে।
তারাখসা চাপা পড়ে যায় জনসমুদ্রে।
- আইজকা সন্ধ্যার সময় লা-হাওলা পড়ছিলা?
- হ্যাঁ তো! আম্মা পড়ায় দিছে...
স্বর্গীয় শব্দ। ছোট্টআঙুলধারীর মনে আছে, সন্ধ্যার ঠিক আগে, যখন ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকতেছিলো ওদের মফস্বলের কোনায় পড়ে থাকা ছোট্ট এই জংলামতন জায়গার পলস্তারা খসা একতালা ইটের বাসায়, মা’র হাসিহাসি গোলগাল মুখ আর নরম আঙুলগুলো আলতো কোরে ওর ঠোঁটে তুলে দিয়েছিলো কিছু অদ্ভুত শব্দ।
- এইগুলা কি আম্মা...
...আর আম্মার মুখের সেই নরম মিষ্টি হাসি। শীতলপাটির উপর বসে ডগা কামড়ানো পেনসিল দিয়ে খুব পড়াশোনা করেছে আজ ছোট্টআঙুলধারী। গালে হাত দিয়ে সারাদিন ধরেই সে দেখেছে ঘরের কোনার আগুনের পাশে পড়ে থেকে নীলশাড়ি পড়ে মা’র মিঠাই বানানো।
- যা...ওই বাসায় দিয়ে আয়...আমি এখানেই দাড়াই...পারবি না রে ছোটন?
খুব পারবে সে...আশেপাশের দু’একটা বাসা থেকে থালা ভর্তি খাবার আসে। ওগুলো ফিরিয়ে দিতে হয়, সে জানে। ট্রে হালকা লাগছে। ডেকে রাখা কাপড় তুলে একটু দেখে নেয় সে।
চোখ ফিরিয়ে তাকায় পিছনে। মা দরজার একপাশে...চোখে কিসের ছায়া...মা’র মাথার উপর একটা সাদা কবুতর...মা’র গায়ে নীলশাড়ি...
নীল শাড়ি। ‘শাড়িটা আব্বা দিছিল, আম্মাকে, অনেক আগে...’। আম্মা তখন হাসছিলো...নরম মিষ্টি হাসি।
সন্ধ্যার দিকে একটু ঘুমঘুম আর তখনই মায়ের হাতের ছোঁয়ায় মুখে মিষ্টির স্বাদ পেয়েছিলো সে...চোখ খুলে তাকাতেই মা’র সেই হাসি। হাসছে মা...মিষ্টিটায় কী আছে...ছোট্ট আঙুলধারীর কেমন লাগে...চোখ বন্ধ হয়ে যায়...
- আইসো বাবা...জুতা খুলো...ডান’পা আগে দিয়া উঠো...
ছোট্ট আঙুলধারীর কাছে প্রতিটা শব্দের অন্য কোন মানে আছে...
মনে পড়লো, মা ঘরে একা...
- আইজকে অনেক বড় রাইত বাবা...আইজকে তুমি যা চাইবা তাই পাবা, আইজকে পরওয়ারদিগার আমাদের সবচাইতে নিকটে থাইকবে...
সবচেয়ে কাছে! সবচেয়ে!
পিতার দিকে মুখ তুলে হাসে ছোট্টআঙুলধারী এক দেবদূত...সে খুব জানে সে কি চায়...
তারপর...
তারপর রাতভর চোখেমুখে আত্মতৃপ্তি নিয়ে উপাসনালয় হতে নির্গত মানুষরা যখন শান্তপায়ে শীতল-মানসে ঘরমুখো হয়, মোড়ে মোড়ে জটলা পাকায়, টুংটাঙ চা, সামাজিকতা, ভাই কেমন আছেন, আপনার গিন্নির পাঠানো হালুয়া লা-জবাব, দোস্ত সিনেমাটা ফাটাফাটি, তোর নোটটা কালকে পাবি – তখন মেসোস্ফিয়ার-স্ট্রাটোস্ফিয়ারে কোন আলোর ঝলকানি তাদের চোখ এড়িয়ে যায়...
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প (!) বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাজনীতির কবি বলেছেন:
অত্যন্ত উঁচুমানের লেখা। তবে ভাই বিষয়বস্তুটা ঠিক বুঝতে পারলামনা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
অবিবর্তিত বলেছেন:
সহমত@ রাজনীতির কবি
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: এই তো যেভাবে কাটে
শিরীষ বলেছেন:
একটা সুপবিত্র প্রার্থনার রাতের এত সুন্দর বয়ান এর আগে পড়ি নি বোধহয়।
লেখক বলেছেন: শিরীষ কবি। প্রিয়।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, ভ্রাতঃ
সাইমুম বলেছেন:
ভালো এবং ভালো লেখা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন:
+++
লেখক বলেছেন: থ্যাঙ্কস
দুখী মানব বলেছেন:
দারুন। আজকে সারাদিন পর একটা ভালো কিছু পড়লাম। ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, ভ্রাতঃ
রি য়া দ বলেছেন:
পরওয়ারদিগার সবসময়ই আমাদের কাছে থাকে....তাই আমাদের চেষ্টা হোক প্রতিনিয়ত..প্রতি মূহুর্ত....
শুধু কোন বিশেষ দিন বা রাতের অর্থহীন বাহুল্যে নয়..।
লেখক বলেছেন: হুম! ঠিকাছে রিয়াদ! তবে টুংটাঙ চা অর্থহীন নয় কিন্তু! ![]()
লেখক বলেছেন:
বৈসাদৃশ্য!!
++
সায়েম মুন বলেছেন:
হতবাক
লেখক বলেছেন: !
পারভেজ বলেছেন:
খুব সুন্দর; প্রান্ঞ্জল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: থ্যাংকু দিদি!
লেখক বলেছেন: ![]()
অনাহুত আগন্তুক বলেছেন:
সুন্দর গল্প। একটা শান্ত স্থির আমেজ পাওয়া যায় গল্পটা পড়লে।
লেখক বলেছেন: থ্যাঙ্কস ফাহিম। মঙ্গলম।
লেখক বলেছেন: ঠিকাছে তাহলে!!
অন্ধ আগন্তুক বলেছেন:
আমার শৈশবের না বুঝে ওঠা উৎসবের রাত ! আমার না বোঝা ধর্ম পালনের সাথে মিষ্টান্ন !অসাধারন দৃশ্যকল্প অম্বর !
শুভরাত্রি !
লেখক বলেছেন: আমার শৈশবের না বুঝে ওঠা উৎসবের রাত ! আমার না বোঝা ধর্ম পালনের সাথে মিষ্টান্ন ! - দুটো বাক্যই যথেষ্ট হয়ে গেলো ..... দূরে তারা খসে পড়ুক, আলোর ঝলকানি হোক না হোক তাতে আর কিই বা যায় আসে.....
রাতের শুভেচ্ছা, প্রিয় আগন্তুককে।
সবকিছুরই ব্যাখ্যা আছে। যারা ইবাদত করার তারা সবসময়ই করে, এমন সব দিবদ উপলক্ষ্যে কিছু মানুষ মসজিদের দিকে মাথায় টুপি দিয়ে যায়, কুশল বিনিময় করে, আন্তরিক হয়। তেমন করে হালুয়া বিনিময়ও......
ঠিক বাচ্চাকালের আবেগ দিয়ে যেন অনুভব করলাম, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: যাক না হয়, হোক না কুশল বিনিময়, হোক না একটু অভিনয়, ক্ষতি কী তাতে! ব্যাখ্যার দরকার নেই তো! ইবাদত হোক, না হোক, কুশল বিনিময় তো হোক, আন্তরিক তো হোক! হোক চায়ের টুংটাং :-)
What we cannot speak about we must pass over in silence
শুভেচ্ছা!!
লেখক বলেছেন: শুভরাত্রি অমিত!
হাসান মাহবুব বলেছেন:
অলৌকিকে বিশ্বাস করি না করি, ছোটবেলার নির্মল আনন্দ অকৃত্রিম, এখনও নাড়া দিয়ে যায় মাঝেমাঝে। খুব ভালো লাগলো ভ্রাতা। শুভরাত্রি।
লেখক বলেছেন: ব্রাদার হামা ইজ দ্য ওয়ান। নির্মল অকৃত্রিম সময়গুলোই ছিলো অলৌকিক।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















