মাঝে মাঝে আমাকে রোমান্টিকতায় পায়। যখন পায় তখন চারপাশটা খুব খুব বেশী সুন্দর মনে হয়। অন্যসময় যা অসহ্য লাগতো সেসময় তা মধুর মনে হয়। উদাহরন দেই। রোমান্টিকতায় পেলে আমার গান গাইতে মন চায়। বেসিকালি আমার গানের গলা অনেকটা হিমেশ রেশামিয়ার মত। নাউযুবিল্লাহ্, আল্লাহ মাফ করো।
তারপরেও গান ছেড়ে গলা মিলায়া গাই কিংবা খালি গলায়। আম্মা শুনল না বাসার অন্যকেউ বিরক্ত হলো এসব কিছুই মাথায় থাকে না। আবার সেই একই গান নরমাল টাইমে জোড়ে বাজাই আর আস্তে বাজাই আমার গলা দিয়ে কোন আওয়াজ বের হয় না। শত চেষ্টা করলেও হয় না। বন্ধুদের আড্ডায় প্রায়ই এই সমস্যা হয়। দেখা গেল মিরাজ জোশের সাথে গান গাইছে, সেই সাথে গাইছে শুভ। মাহমুদ না পেরেও গাওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে। আর আমার মাথায় কোন গান আসছে না, অথবা ইচ্ছা করছে না। আবার অন্যকোন সময়ে আমরা বসে আছি সিরিয়াস বিষয় নিয়ে আলাপ হচ্ছে, কিছুক্ষন পরে একটা ভাইভা অথবা ক্লাসটেস্ট। আমি জোরে চিক্কুর দেয়া শুরু করলাম।
আশপাশের দোস্তরা আজব দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলে, তুই কি পাগল হয়ে গেলি পড়ার চাপে? আসলে ঘটনা উলটো। তখন আমাকে পেয়েছে রোমান্টিকতায়।
রোমান্টিসিজম ভর করলে আমি আরো একটা উদ্ভট কর্ম করি। করি না বলে করতাম বলা ভাল, পাস্ট টেন্স। এখন অনার্স পাশ যুবক এই কাজ করলে নির্ঘাত বাসা বাড়ি ছাড়তে হতে পারে। বছর দুই বা তারও আগে আমি শরীরচর্চা করতাম আমার রুমের দরজা আটকে জোরে ডিজেটাইপ গান ছেড়ে। শরীরচর্চা তথা জগিং এর নামে আমি ধুমসে লাফালাফি করতাম। বাসার মানুষ ভাবত ছেলে ব্যায়াম করে।
ব্যায়াম ভালই হতো, সেইসাথে নাচানাচি। হিন্দী ছবিতে এখন আর মন লাগে না, সময় পাই না। তখন কিন্তু দেখতাম। আমি ঋত্বিক্ব এর বিরাট পাংখা। সেসময় কোয়ি মিল গায়া, ধুম-২, কৃষ এসব ছবিতে সবচেয়ে যে উড়াধুড়া গানটা থাকতো সেটা ছেড়ে সেটার অনুকরনে লাফালাফি করতাম। কোয়ি মিল গায়ার কথা এখনো মনে পড়ে। আমি মধুমিতা হলে গিয়ে এই সিনেমা দেখেছি। সিনেমাহলে আমার প্রথম দেখা হিন্দী সিনেমা এটা। ইধার চালা মে উধার চালা কিংবা হাইলা হাইলা ছুয়া ছুয়া এসব গানের তালে কত যে লাফাইসি।
রোমান্টিকতায় পেলে মাথায় লেখা আসে। হাবিজাবি লিখতে ইচ্ছা করে। অন্যসময় হাজার চেষ্টা করে, প্রিপারেশন নিয়ে ও দু-চারলাইনের বেশী লিখতে পারি না। আজকাল আমার রোমান্টিসিজম হারিয়ে যাচ্ছে, তাই আর লেখাও আসে না। আমার লেখা অবশ্য ঘুরেফিরে একইরকম, নারী-প্রেম এগুলো চলে আসে। এই নিয়ে বন্ধুমহলে হাসাহাসি কম হয় না। আমার এক বিশিষ্ট লেখক বন্ধু বলে, তুই ভাল কোন লেখা দে। কিন্তু আমার মাথায় কিছু নাই, খালি রোমান্টিসিজম। আসলে খুব বেশী নারীহীনতা মনে হয় আমার এই দুরাবস্থার কারন।
দক্ষিনমুখী একটা বারান্দা আছে আমার। রাতে যখন কোন কাজ থাকে না তখন ঐখানে বসি। হেডফোনে গান শুনতে শুনতে অনেকটা সময় কাটে। মাঝে মধ্যে এফ এম শুনি, অন্যরকম স্বাদ পাওয়া যায়।
ঢাকা শহরের জন্য অদ্ভুত হলেও সত্যি সামনের পাঁচতলা বিল্ডিং বেশ খানিকটা দূরে। উন্মুক্ত আকাশ দেখা যায়, সেই সাথে রূপসী চাঁদ। সময় একদম খারাপ কাটে না।
আরেকটা কাজ করি, গান শুনে শুনে গানের লিরিক্স লেখি। ব্লগে আসার অনেক আগে থেকে এই অভ্যেস। তখন বাংলা লিখতে পারতাম না, ইংলিশে বাংলা গান টাইপ করতাম। আর তার নিচে কাউকে ডেডিকেট করে আবেগঘন প্রেমময় কথাবার্তা। ব্লগে আসার পর লিরিক্স এখানেই লিখি, ডেডিকেট আর করা হয় না। অনেক আগে টাইপ করা আমার একটা ভীষনরকম প্রিয় লিরিক আজকে দিলাম। তখন আমার ভয়াবহ অবস্থা হয়েছিল।
কেন দূরে থাকো
শুধু আড়াল রাখো
কে তুমি কে তুমি আমায় ডাকো
কেন দূরে থাকো?
মনে হয় তবু বারে বারে
এই বুঝি এলে মোর দ্বারে
সে মধুর স্বপ্ন ভেঙ্গো নাকো
কেন দূরে থাকো
শুধু আড়াল রাখো
কে তুমি কে তুমি আমায় ডাকো
কেন দূরে থাকো?
ভাবে মাধবী সুরভী তার বিলায়ে
যাবে মধুদের সুরে সুরে মিলায়ে
তোমারি খেয়ালে ক্ষনে ক্ষনে
কত কথা জাগে মোর মনে
চোখে মোর ফাগুনের ছবিটি আঁকো
কেন দূরে থাকো
শুধু আড়াল রাখো
কে তুমি কে তুমি আমায় ডাকো
কেন দূরে থাকো???
উৎসর্গ -
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



