somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার কুৎসিত কক্সবাজার ভ্রমন

১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক আগে কোথাও পড়েছিলাম প্রথমবার সমুদ্র-দর্শনে সমুদ্রের জন্য উপহার নিয়ে যেতে হয়। সমুদ্রের পাড়ে এসে সেই উপহার তার পানিতে ভাসিয়ে দিতে হয়। এটা যেদিন পড়ি সেইদিনই ঠিক করে রেখেছিলাম আমি কোন উপহার নিয়ে যাব। আমি ভেবেছি সমুদ্র এর জন্য নিয়ে যাব একমুঠো এটেল মাটি। যেহেতু সমুদ্র কখনো এটেল মাটি দেখিনি তাই ভেবে রেখেছিলাম উপহারটা খুব চমৎকার হবে।
সম্প্রতি আমি কক্স-বাজার ঘুরে এলাম। বেশ বিশ্রী লাগল।যাওয়ার সময় তাড়াহুড়ায় মাটি নিয়ে যেতে মনে ছিল না। সমুদ্রের জন্য উপহার নিয়ে যাইনি বলেই হয়ত সমুদ্র আমাকে তার আসল রুপ দেখায়নি।


অনেকদিন আগে বুড়ি একবার বলেছিল তার কিছুই ভালো লাগছে না। আমি সেইদিন তাকে বুদ্ধি দিয়েছিলাম তুমি মোবাইল বন্ধ করে কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে যাও। বাসা থেকে বের হবার সময় নিজেও ঠিক করবে না কোন দিকে যাবে। শুধু বের হবে কিছু টাকা নিয়ে এরপর যেদিকে মন চাবে চলে যাবে। দুই-তিন্দিন পর ফিরে আসবে –দেখবে মুড অন হয়ে গেছে।

বুড়িকে দেয়া বুদ্ধিটাই আমার নিজের খুব মনে ধরেছিল।


বাসায় আমার চাহিদার সাথে বাবা-মার চাহিদার একটা গোলমাল হয়েছিল। বাবা-মার ইচ্ছে ছেলে সরকারি চাকুরি করুক আর আমার ইচ্ছে মরে গেলেও সরকারি চাকুরি করব না। সরকারি একটা চাকুরি যখন আমি পেয়ে গেলাম তখন আমার সাথে বাবা-মার গোলমালটা চরমে উঠল। একদিন সকালে আমি বাসায় বেশ কাব্যিক-রূপক সম্বলিত চিঠি লিখে বের হয়ে আসলাম। কোথায় যাব আমি নিজেও জানি না। মোবাইলটা বন্ধ করে পকেটে রেখে দিয়েছি।
সায়েদাবাদ এসে দেখি হানিফের একটা বাস ছাড়িছাড়ি করছে। আমি তাড়াতাড়ি কাউন্টারে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম
” যাবে কোথায় এইটা? “
“ চট্টগ্রাম”
আমি টিকেট কিনে উঠে বসলাম। ঘুরে আসি চট্রগ্রাম। শহরটা ঘুরলাম। দুপুরে খেতে গিয়ে দেখি রান্না ভালো লাগছে না। আমার নিজের বোকামি এটা। খাসির গোশত অর্ডার দেয়া ভুল হয়েছে। এরা পুরা রান্নাটা নষ্ট করেছে। ঠিক করলাম এই রান্না খেয়ে থাকা যাবে না। কাছেই কক্সবাজার। সেখানে চলে যাই। যাভাবা সেই কাজ। চলে এলাম কক্স-বাজার। যেহেতু প্লান করে আসিনি- সমুদ্রের জন্য এটেল মাটি আর আনা হল না।
আমি রাতে এসে পৌছেছি। ভাবলাম রাতে সমুদ্র দেখে আর প্রথম সমুদ্র দর্শনটা নষ্ট করব না। সাথে করে জামা কাপড় কিছুই নেইনি। বার্মিজ মার্কেট থেকে তোয়ালে কিনলাম- বাটা থেকে স্পঞ্জ। সাবানও কিনে আনলাম। কেননা সমুদ্রস্নান শেষে নাকি আবার রুমে ফিরে গোসল করতে হয়!
সকাল-বেলা ঘুম থেকে উঠেই দৌড়ে গেলাম বীচে। গিয়ে হতাশ হলাম খুব। সমুদ্রকে মোটেও চমৎকার মনে হল না।
মানুষের ভিড় আমি খুব একটা পছন্দ করিনা। মোটা-সোটা মেয়েগুলোর ভেজা জামা-কাপড় আমার চোখকে বেশ পীড়া দিচ্ছিল। পাড় ধরে হাটা শুরু করলাম। একসময় মানুষদের ভিড়ের বাইরে চলে এলাম। এরপর বসে ছিলাম অনেকক্ষন সমুদ্র পাড়ে। অতি বিচিত্র কারনে আমার নগ্ন হয়ে সমুদ্রের পাড়ে বসে থাকতে খুব ইচ্ছে করছিল। এই প্রথম আমার মনে হল কক্সবাজারে nude বীচ না থাকাটা বিরাট একটা ক্ষতি। একটা nude বীচ থাকলে আমার কক্সবাবাজার ভ্রমন আনন্দদায়ক হত।

সকালে সমুদ্র দেখে হতাশ হয়ে আমি ১১ টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওয়ানা দেই...
সবশেষে বলি সুন্দর একটা দৃশ্যের কথা। সমুদ্রে নেমে একজোড়া প্রেমিক-প্রেমিকা গোসল করছে। যখনই একটা বড় ঢেউ আসে মেয়েটা ছেলেটা হাত শক্ত করে ধরে। আবার ঢেউ চলে গেলে হাতটাও ছেড়ে দেয়। এই দৃশ্যটা আমি বহুক্ষন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছি। আমার ভালো লেগেছে। প্রেমের দৃশ্য দেখতে আমার ভালো লাগে। যদিও বুড়ির মতে আমি একধরনের pervert.

(ব্লগটা কেমন জানি এলোমেলো লিখলাম। হয়ত সমুদ্রের রাগ এখনো কমেনি। তাকে নিয়ে একটা ভালো কিছুও লিখতে দিবে না)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩২
১৩টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×