somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সামছা আকিদা জাহান
কতগুলি প্রশ্ন আমাকে ছেলেবেলা থেকেই চিন্তান্বিত করেছে, এগুলোর উত্তর আমি বহু জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু বৎসর বৎসর চলে যায় মেলেনি উত্তর

সেদিন বরষা ঝরঝর ঝরে

২৮ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
সেদিন ছিল এমনই ঝরঝর ধারা। আকাশটা কালো। না সকাল থেকে এমন ছিল না । আকাশটা কালো হলো হঠাৎ করে। তখন ইডেন কলেজে বাংলা ক্লাশ চলছিল। ক্লাশ নিচ্ছিলেন দিলারা হাফিজ ম্যাডাম। পড়াচ্ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হৈমন্তী। আকাশটা হঠাৎ করে এত কালো হয়ে গেল যে মনে হলো হৈমন্তীর দুঃখের সাথে কাঁদবার জন্যই আকাশটা হঠাৎ করে এমন হয়ে গেল।

দুই দুইবার পিছনের দরজা দিয়ে পালাবার চেষ্টা করেও পালাতে পারিনি। তৃতীয় বারে যদিও দরজা পেরিয়ে বারান্দার কিনারায় পিলারের আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে বান্ধবীদের আসার অপেক্ষা করছি, এমন সময় বান্ধবীদের বদলে এলেন দিলারা হাফিজ ম্যাডাম স্বয়ং।
আমাকে বললেন-- তুমি অনেক্ষন থেকে চেষ্টা করছিলে ক্লাশ থেকে বের হোতে, বের হয়ে এখানে এসে দাঁড়িয়েছ কেন?? কি হয়েছে??
কিছু খুঁজে না পেয়ে সত্য বললাম--- ম্যাডাম আকাশ কালো করেছে??
ঃতো কি হয়েছে? বাড়িতে যাবে??
ঃনা, বৃষ্টিতে ভিজব।
ঃএই কলেজ ড্রেস পরে??
দেখলাম ম্যাডামের মুখের কাঠিণ্য দূর হয়ে যাচ্ছে।
ম্যাডাম বললেন-- বৃষ্টির দেরী আছে ক্লাশে আস। আজ কিছু বলব না কিন্তু এর পরে এমন করলে শাস্তি দেব।
ম্যাডামের পিছনে পিছনে ক্লাশে ঢুকতে ঢুকতে বললাম --------বৃষ্টিতে ভেজার একটা প্রিপারেশন আছে না ম্যাডাম।
ম্যাডাম দিলেন হা হা করে হেসে।। বললেন --যাও বৃষ্টিতে ভিজ়ো , আজ আর ক্লাশ নেব না।।

আমি ও ঊর্মী দুইটা চকবার আইসক্রিম কিনে নিয়ে রিক্সায় চাপলাম। আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি পরছে। আমরা দুইজন রিক্সার হুট ফেলে দিয়ে আইসক্রিম খেতে খেতে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাসায় ফিরছি।কি যে মজা!!??? জীবনের সবটুকু মজাই যেন পাচ্ছিলাম এই বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে।

বিধাতার বোধ হয় আমার এই আনন্দটুকু সহ্য হলো না। আমাদের বাসার গলিতে ঢুকবার আগেই মেইন রোড়ে একটি বাসকে সাইড দিতে যেয়ে রিক্সাটা কাত হয়ে পরল -একটা গর্তে। গর্তটা আবার একটা ডাস্টবিনের পাশে। আমি রিক্সা থেকে পরে গেলাম ডাস্টবিন উপচানো ময়লার মধ্যে, যা বৃষ্টির পানিতে হয়েছে কর্দমাক্ত।

যখন উঠে দাঁড়ালাম আমার শরীরের ওজন হয়েছে আমার চেয়ে দ্বিগুন। দুর্গন্ধে গা গুলীয়ে উঠছে, নাক ধরবো সেই উপায় নাই কারন দুই হাতেই ময়লা। পায়ের ওজনে হাঁটতে পারছিনা। রিক্সায় চড়তে গেলাম রিক্সাওয়ালা বলল --------আপা এইটুকু রাস্তা আপনি হেঁটেই আসেন।
আমার পাশ দিয়ে যেই যাচ্ছে সেই নাক ধরছে। আর নাক চেপে ধরে ঘুরে ঘুরে আমাকে দেখছে। পরিচিতজনেরা কিছুক্ষন আমাকে দেখার পর যখন চিনতে পারছে তখন হা হা করে হাসছে, আর তাদের হাসি দেখে আমিও মা কালীর প্রতিমূর্তি হয়ে সাদা দাঁত বের করে হাসছি। অপরিচিত লোকজনও ঘুরে ঘুরে আমাকে দেখছে আর হাসছে। আমিও খালি ক্ষেপছি আর হাসছি, হাসি চাপাতে পারছি না। ঊর্মি রিক্সায় বসে নাক চেপে ধরে যাচ্ছে আর আমি ওর রিক্সার সাথে সাথে হেঁটে যাচ্ছি।

বাসার কলিং বেল চাপলাম। দরজা খুলে দিয়েই মার চিৎকার --এই কেরে তুই!!? উহ্‌ কিসের দূর্গন্ধ।
বাসা শুদ্ধ সব করে ওয়াক! ওয়াক!!
আমার মেজাজ ততই খারাপ হয়। আবার সবাই হাসে আমিও হাসি।

আমি কোন রকমে ঢুকলাম যেয়ে বাথরুমে।

আমি যত মাথা ধুই তত কাঁদা বের হয়। যত শ্যাম্পু করি তত গন্ধ বের হয়। গায়ে সাবান দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম। গন্ধ কিছুতেই যায় না। মা বললেন-- গন্ধ যাবে আগে বাথরুমটা ধোও?!- তা হলে গন্ধ কম লাগবে।
এই বাথরুম ধোয়া মুখের কথা ??!! কালো কালো কাঁদা আর ঝাঁটা হাতে আমি। ডেটল, স্যাভলন এমন কি ফিনাইল দিয়ে মা আমাকে গোসল করিয়েছে। উহ্‌ সে যে কি কাহিনী !!এখনও মনে হলে প্রান খুলে হাসি।

আমার মাথার চুল এখন কমে যাচ্ছে। চুল পরে যাবার কথা উঠলেই মাকে ক্ষেপাই ওই যে তুমি আমাকে ফিনাইল দিয়ে মাথা ধুইয়েছিলে, তাইতো চুলগুলি সব যাচ্ছে ডাস্টবীনে !? মা সাথে সাথে উত্তর দেন-- সে তো যাবেই সবাই যায় আমেরিকা, ইউরোপ আর তুমি যাও ডাস্টবীনে?? সেই মূহুর্তেই হাসির রোল পরে যায়।। সবার মনে পরে সেই স্মৃতি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:২৫
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×