somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২৫শ ডিসেম্বর--এক বিস্ময়

১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতি বছরে ২৫শ ডিসেম্বর যখন সূর্য উদয় হয়ে উত্তর প্রান্তে যাত্রা শুরু করতো প্রাচীন কালের মানুষেরা এই দিনকে সূর্যের জন্ম দিন বলে উৎসব পালন করতো। মনে করা হতো যেন এই দিনে সূর্য তার কুমারী মাতার গর্ভ থেকে নিঃসৃত হয়ে পূর্ব দিগন্তে উদিত হচ্ছে এবং শীতের আগমন বার্তা বয়ে আনছে।



প্রাচীন মিসরের ধর্মীয় ভিত্তি পুরোপুরি ভাবে Sun-Mythsএর উপর নির্ভরশীল ছিল। Seb ও Nut এর ছেলে Osiris ২৫শ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহন করেন। তার জন্মের সময় দৈব বাণী হয়েছিল,The ruler of all earth is born. প্রাচীন বাইবেল The Egyptian Book of the Dead-এ তাকে সর্বদ্রষ্টা, সর্বশ্রোতা এবং মানুষের সর্বময় কর্তা হিসাবে দেখানো হয়েছে। তিনি রাজদন্ড ও ক্রস-চিহ্ন ধারন করে উঁচু স্তম্ভের উপরে বসে মৃত ব্যাক্তিদের বিচার করতেন। তার মাথায় Leaf of Bel-Tree, which is triple in form এর মুকুট শোভা পেত। মিসরীয় পবিত্র গ্রন্থে লেখা আছে--I know the mystrery of Divine word: the word of the . Lord of All, which was the maker of it, the word is the first person after himself. Uncreated, infinite ruling over all things that were made by him.



সূর্যকে Horus নামে ডাকত প্রাচীন মিসরীয়গন। হোরাসের কুমারী মাতা ইসিস চন্দ্রদেবীর গর্ভে জন্মগ্রহন করেন ২৫শ ডিসেম্বর। এই দিনে শিশু হেরাসের মুর্তি গামলায় রেখে আনন্দ উৎসব করা হতো। হোরাসের উপাধির মধ্যে “Royal Good Shepherd, Lord of life, Only begotton, Saviour, the Anointed one the Christ, The Redeemer, উল্ল্যেখ যোগ্য।


গ্রীক মাইথোলজিতে হারকিউলিস ছিল জিউস ও এলেমেনের পুত্র এবং তার জন্ম ২৫ ডিসেম্বর। হারকিউলিসের জন্মের সময় আকাশবানী হয়েছিল This day shall a child be born of the race of Perseus , who shall be the mightiest of the sons of man.


সূর্য-দেবতা ডাইয়োনিসিয়াস ছিলেন থিবসের রাজা ক্যাডমাসে কুমারী কন্যা সিমিলের পুত্র। ডাইয়োনিসিয়াস ও জন্ম গ্রহন করেন ২৫শ ডিসেম্বর। ডাইয়োনিসিয়াস তার লাঠি দ্বারা লোহিত সাগরকে দ্বিখন্ডিত করতে পারতেন। তার মাথায় শিং ছিল।

মহা ভারতে আছে কর্ণ সুর্যের পুত্র এবং তার জন্মও হয় কুমারী মতার গর্ভে। এই কর্নের জন্ম ও ২৫শ ডিসেম্বর।

পার্সিয়ানরা বিশ্বাস করত সূর্যপুত্র মিথারাস পৃথিবীতে নেমে আসে ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে। যাতে মানুষ পাপ মুক্ত হয়। তারা বিশ্বাস করত ২৫শ ডিসেম্বরে এই ঈশ্বর পুত্র জন্ম গ্রহন করেছেন।


বুদ্ধদেব জন্ম নিলেন ২৫শ ডিসেম্বর যখন নতুন সূর্য উঠে। ঋক্‌-বেদের মার্তন্ডের শিশু সূর্য বলে ধরা হয়। কথিত আছে, বিশাখা তারা থেকে বোধিস্তত্ব শুভ্র হস্তি শাবকের আকারে নেমে এসে মহামায়ার শরীরের দক্ষিন দিকে প্রবেশ করে। এ ঘটনা মহামায়া স্বপ্নেও দেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, বোধি্সত্ত্ব প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে একটি পদ্মফুলের আবির্ভাব ঘটে যা ব্রক্ষ্মর প্রতিক।

সূর্যদেবতা ক্রিষ্টানিটি ২৫শ ডিসেম্বর নতুন ভাবে জন্ম নিয়ে মায়ের সাথে পুনর্মিলিত হলো। এই জন্ম থেকেই Nativity পাশিয়ান ম্যাগী ও কলদিয়রা তাদের শিশুদের কোষ্ঠী তৈরী করে।


প্রাচীন এসিরিয়া ও ব্যাবিলীয়রাও একজন দেবী-মাতা ও তার পুত্রের পূজা করতো। মায়ের নাম ছিল মাইলিট্টা এবং পুত্রের নাম তাম্মুজ বা এডোনিস। এই পুত্র ছিল ত্রানকর্তা ও মধ্যস্থকারী। তাম্মুজও ২৫ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহন করে।

আমাদের নবী হযরত ইশা (আঃ) অর্থাৎ যীশু খ্রিষ্টও জন্ম গ্রহন করেন ২৫শ ডিসেম্বর। পবিত্র বাইবেল অনুযায়ী তার জন্মও হয় কুমারী মাতা মেরীর গর্ভে। তিনিও মানুষের ত্রান কর্তারূপে পৃথিবীতে আসেন।




সুত্রঃ দা অরিজিন অব রিলিজিয়নস,দা ভিসু পুরান, দা অরিজিন অব অল রিলিজন্স অরসিপ
৪১টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×