somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গরু কেনা:DX(

২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিস ছুটি হতে হতে ঈদের আগের দিন। সব ভাইবোন মিলে জড়ো হলাম বড় ভাইয়ের বাসায়। বাসায় এসেই সবারই প্রথমেই কথা এখনই গরু কিনতে যেতে হবে। চলো চলো।

দুপুর ২টা নাগাদ তিন ভাই ও জামাই চারজনই বের হয়ে গেল গরু কিনতে। প্রথমে গেল বসসুন্ধ্রা হাটে। সেখানে যেয়ে দেখা গেল মাত্র তিনটা গরু ওদের চার জনের দিকে তাচ্ছিলের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ওরা চারজন এদিক ওদিক ঘুরে সিদ্ধান্ত নিল উত্তরার হাটেই যাওয়া যাক।

উত্তরা হাট। হাটে বেশ গরু ছাগল দেখা যাচ্ছে। চারজনই বেশ খুশি মনে এগিয়ে গেল হাটের ভিতরে। এই গরু দেখে ওই গরু দেখে। তবে যেটা পছন্দ হয় তার দাম শুনে পিছু হাঁটে। মেজ ভাই বলল-- এটা কেমন কথা? রাম ছাগল সাইজের গরুর দামইতো দেখি আমাদের বাজেটের বাইরে। সারা হাট ঘুরে তারা আবার সিদ্ধান্ত নিল গাবতলীর হাটেই যাওয়া ভাল।

গাবতলীর হাট তো হাটই। এখানে এসে তারা পরলো গরুর মহাসাগরে। চারিদিকে দালালেরা শুধু টানাটানি করে। টানাটানির চোটে চারজনই বারবার আলাদা হয়ে যাচ্ছে।-- এখানে এসে তো আরও বিপদে পরলাম রে ছোট?- বললেন বড় ভাই। কি করা যায় ভাবতে ভাবতেই সামনে পরে গেল মেজ ভাইয়ের এক মামা শ্বশুর। তিনি নাকি গরু বিশেষজ্ঞ। তার হাতে সমস্ত দায়িত্ব ন্যাস্ত করে দিয়ে চারজন মামার পিছু পিছু পরম নিশ্চিন্তে ঘুরতে লাগল।

অবশেষে রাত ১১টার দিকে একটি গরু কেনা হল। সব কাজ শেষ হতে হতে রাত ১২টা। এবার গরু নিয়ে উত্তরা আসতে হবে। গরু সাথে কে কে আসবে? সাবস্ত্য হল ছোট দুইজন গরু নিয়ে ভ্যানে করে আসবে। আর বড় দুই ভাই আগেই বাসায় চলে আসবে। ছোট দুইজনের একজন হলেন বেলাল অপর জন রফিক। রফিক হল ছোট বনের হাসবেন্ড। আর বেলাল হল তিন ভাইয়ের ছোট। যেহেতু ছোট - তাদের গরু কেনার ব্যাপারে কোন দায়িত্ব না থাকতে পারে কিন্তু গরু বাড়ি নিয়ে যাবার গুরু দায়িত্ব মাথা পেতে নিতেই হল। এখানে বলে রাখা ভালো যে বেলাল প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি বয়সের একজন যুবক ও রফিকও তেমনি কাছাকাছি।

গরু তোলা হল ভ্যানে। এর কৃতৃত্ব সম্পূর্নটাই ভ্যানওয়ালার। গরুর পাশে সামনের দিকে বসল বেলাল। আর পিছন দিকে বসল রফিক। ভ্যান চলছে তার আপন গতিতে মধ্যরাতে ঢাকা শহরের মধ্যে। বেলাল আর রফিক তাদের ছাত্র জীবনের সৃত্মি রমন্থন করতে করতে চলছে। কত দিন গভীর রাতে রাস্তায় হাঁটেনি। ছাত্র জীবনে কতই না ঘুরেছে। গরুর সাথে রাতের রাস্তা ভ্রমন এইপ্রথম। সেই কথা স্মরন করেই হয়তো বেলাল একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলেছে। আর গরুও তার প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য হয়তো তার দিকে তাকিয়ে মাথা দুলিয়ে সমর্থন জানাতে গেছে । আর কোথায় থাকে এমন চমকে উঠেছে বেলাল যে মুহূর্তেই রফিক তাকে আবিষ্কার করল রাস্তায় একেবারে চিৎপটাং। ভ্যান থেকে লাফিয়ে নেমে রফিক তারাতারি বেলালকে ধরে তুলল। গা ঝেরে দিল। কোথায় কোথায় ব্যাথা পেয়েছে দেখল। জিন্স ছিল বলে রক্ষা কিন্ত হাতের কনুই দুটোই যে গেল।

রফিক বলল-- ছোটভাই, আপনি তো গরু ভয় পান, আপনি পিছনে বসেন আমি সামনে বসি। যদিও বেলালের প্রচন্ড আপত্তি ছিল --গরু ভয় পায় এই কথাতে। তবুও আর একবার ভ্যান থেকে পরার চেয়ে পিছনেই বসা ভাল মনে করে পিছনেই বসল বেলাল।

কিছুক্ষন পরে বেলালের মুখের মাছি তাড়াতে শুরু করলো গরু লেজ দিয়ে। বেলাল তখন গরুর দিকে পিঠ দিয়ে বসল। আসল সমস্যাটা কোথায় বেলাল ঠিক বুঝতে পাড়ছিল না।
অনেক্ষন বসে থাকতে থাকতে বোধ হয় গরুর পা ধরে আসছিল তাই বিনা বাক্যে গরু তার পাটা একটু ঝেড়ে নিল। আর গরুর পায়ের চাটী খেয়ে বেলাল আবারও রাস্তায়। রফিক খুব মেজাজ দেখিয়ে গরুকে বলল --X(এই ব্যাটা গরু পা ঝাড়বিতো একটু জানান দিবি না। X((
গরু এখন কি ভাবে বলে --:Dআমি যদি জানান দেই তা হলে যে আপনে ভ্যানের উপরে থাকেন না । আপনাকেও রাস্তায় খুঁজে পাওয়া যাবে। :P

এবারে ভ্যানওয়ালা ভ্যান থামিয়ে গরু দড়ি দিয়ে ভ্যানের সাথে কষে বাঁধলো । যেন আর কেউ ভ্যান থেকে না পরে। এর পরের রাস্তাটুকু পরম আনন্দে তাহারা পার হইল।

তার ২টার সময় বাসার গেটে মহা হইচই। বাচ্চারা বুড়ারা সব গরু দেখতে এল। ভ্যানচালক সহ সবাই মিলে চেষ্টা করে গরুকে বসা অবস্থা থেকে দাড় করানো গেল না। ভ্যান চালক ভ্যান কাত করে গরু মাটিতে ফেলে দিয়ে ভ্যান নিয়ে চলে গেল। গরু আর দাড়াঁয় না। বেলালের মেয়ে বলল-- /:)বাবা তুমি হেঁটে হেঁটেই আসতে, তাই বলে গরুকে বাঁধতে গেছ কেন??:(( গরুটা যে রাগ করেছে।?X((

সবাই বেশ চিন্তিত হয়েই পরলো --কী গরু কিনলাম অসুস্থ্য নাকি। না সকালে নামাজ পরতে যাবার সময় দেখা গেল গরু বেশ প্রফুল্ল চিত্তে খাওয়া দাওয়া করছে আর বেলালকে আড় চোখে দেখছে। :|
৩১টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×