somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফল প্রকাশের নস্টালজিয়া

২৭ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনে পড়ে আজ থেকে প্রায় বেশ কয়েক বছর আগে এমনই একটি দিনে এইচ এস সির ফল প্রকাশের সময়ের কথা। আমি এবং আমার আরেক খুব কাছের দোস্ত মিলে গিয়েছিলাম ফলাফল দেখতে তেজগাওয়ের বিজ্ঞান কলেজে। বুক দুরুদুরু, বাসের ভেতর দুইজন অনেক কৌতুক করলাম এই দুরু দুরু ভুলে থাকার জন্য। ফার্মগেটে বাস থেকে নেমে হেটে যাচ্ছি, আর সেই কলেজ কাছে আসছে..... সাথে সাথে মনে হচ্ছিলো পায়ের নিচে মাটি যেন থাকতে চাচ্ছে না- টিপে টিপে হাটতে হচ্ছে। দুর থেকেই দেখতে পেলাম কলেজের গেইটে আমাদের আরেক দোস্ত দাড়িয়ে -- মন খুব খারাপ.. চোখে জল! হায় কপাল! ওই দোস্ত যদি খারাপ কিছু করে তাইলে আমরা দুইজন ভালো রেজাল্ট কোনভাবেই করবো না - এটা ছিল আমাদের ফুল ফেইথ। আমি তাকালাম আমার পাশের দোস্তের দিকে, দেখি ওরে মামদো ভুতের মত লাগতেছে - চেহারা সাদা, রক্তশুন্য, হাসি না কান্নার কারনে ঠোট একটু ল্যাপটে আছে বোঝা যাচ্ছিলো না। ওইদিকে গেইটে দাড়ানো দোস্ত আমাদের দেখে আর ভিতরের জোয়ার থামাতে পারলো না... হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। আমরাও ওকে জরিয়ে ধরলাম। অজান্তে চোখের কোনে পানি জমে গেল। (দুএক ফোটা ঝরেও পড়েছিল কিনা মনে নেই) আমাদের দেখে মুটামুটি গেইটের কাছে একটা জটলার সৃষ্টি। এদিকে ওর মা ও এসেছেন, দেখি আন্টির মনও খুব খারাপ। আমরা আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। কিছুক্ষনের মধ্যে আমাদের অন্যান্য বন্ধুরাও এসে উপস্থিত হল। কেউই আর কাদছে না দেখে আমরা আস্বস্ত হলাম যে ফল তাহলে ওরই খুব খারাপ হয়েছে। সান্তনা দেয়ার জন্য ওকে জড়িয়ে ধরেই দাড়িয়ে রইলাম। তখন আন্টি বললেন বাড়ি যাবেন। আমাদেরকেও বললেন সাথে যেতে তাহলে দোস্তের একটু মানসিক প্রশান্তি হবে। আমরাও গাড়িতে চড়ে বসলাম। ওদের বাসায় যেতে যেতে মুটামুটি ভারি আবহটা কেটে গেছে, দোস্ত কান্না থামিয়ে একটু একটু হাসার চেষ্টা করতেছে। এমন সময় আমার সাথের জন জিজ্ঞেস করলো কোন সাবজেক্টে ধরাটা খাইছিস্ বলে মনে হয়! ও উত্তর দেয়ার আগেই আন্টি বললেন যে, খারাপ ভালো তো এখনো বুঝা যাচ্ছে না। আমরা অবাক হলাম, এটা কি বলে! আন্টি যোগ করলেন, রেজাল্ট "উইথেলড"। আমরা সবাই হা হয়ে গেলাম ! এরমধ্যেই ওদের বাসায় পৌছে গেছি। সবাইতো অবাক হয়ে নিশ্চুপ। আন্টি ভিতরে যেতেই সব বন্ধুরা ধরে কিলানো শুরু করলাম (গণ ধোলাই না কিন্তু)। শালা, উইথেলড রেজাল্ট নিয়া কান্না কাটি, তা ও আবার হাউমাউ করে। এরমধ্যে আমাদের একজন আবার তার গার্লফ্রেন্ড সহ আসছিলো, যার রেজাল্ট তেজগাও কলেজে। একসাথেই বাদাম চিবুতে চিবুতে ;) ফেরার কথা ছিলো। কি অবস্থা বুঝতেই পারতেছেন! এমন সময় আন্টি ভিতর থেকে ডাকলেন, গিয়ে দেখি টাঙ্গাইলের মিস্টি সাজানো, আগেই আনা হয়েছিলো রেজাল্ট উপলক্ষে। যাহোক মিস্টি দেখে সবাই যে যার প্ল্যান আপাতত ভুলে খেতে বসে গেল। যেই মিস্টিতে কামড় বসিয়েছি.. জিহ্বায় মাত্র মিস্টির রসটা ল্যাপ্টাচ্ছে, ঠিক এ সময় আন্টি জিজ্ঞেস করলেন- আর কার কি রেজাল্ট হল তা তো শুনা হল না! এমন সময় মনে পড়ল আমরা দুই বান্দা যারা দুর থেকে বাসে চড়ে এসেছিলাম, তারাতো রেজাল্ট দেখি নাই! আবারো দুইজন দুইজনের দিকে তাকালাম। আমার গলায় তখন মিস্টির এত সুস্বাদু রসটাও মনে হচ্ছিলো এসিড নামছে! কলেজের গেইটের সামনে যেই মামদো ভুতটাকে আমি দেখেছিলাম আমার দোস্তের মুখে, তাকেই মনে হয় আমার দোস্ত এবার আমার মুখে দেখলো-- আর অলৌকিকভাবে সে কিভাবে যেন হাসছিল। আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, তুই দেখছিস্ নাকি রেজাল্ট? ও বলল, না, ওর কান্না দেখেতো সব ভুলে গেছিলাম! যা হোক কোনরকমে মিস্টি শেষ করলাম, আফসোস্ নিয়ে (মিস্টি মজা করে গিলতে না পারার) বের হলাম আবার কলেজের উদ্দেশ্যে। রেজাল্ট খারাপ হয়নি, আশাপ্রদই ছিল! এটলিস্ট উইথেলড দেখিনি।
আজকে নেটের বিভিন্ন জায়গায় রেজাল্ট দেয়ার খবরটা দেখে মনে পড়ে গেলো পুরনো দিনের কিছু কথা! শুভেচ্ছা রইলো আজকের দিনে যারা রেজাল্টের আশায় অধির আগ্রহে বসে আছেন! আল্লাহ্ আপনাদের মনোবাসনা পূরন করুন! তবে উইথেলড দেখে ভরকে যাইয়েন না আরকি! :P পরীক্ষা যেরকম দিয়েছেন, রেজাল্ট সেরকমই হবে এতে কোন সন্দেহ নাই!
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×