somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রতিশোধ নয় উদারতা...

১১ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম ক্রুসেডের কথা।
সেটা ছিল ১০৯৯ সালের ৭ই জুন।
জেরুজালেম নগরীর চারিদিকে খৃস্টান বাহিনী এসে জড়ো হয়েছে।
জেরুজালেম তখন ছিল মুসলিম শাসনাধীন। সে মুহূর্তে মুসলিম বাহিনীর করার মত কিছুই ছিল না। তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেংগে পড়েছিল। তারা তখন হেরেম শরীফের দিকে পালাতে শুরু করল। অবশেষে মুসলমানরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হল।
বিজয়ী হল খৃস্টান বাহিনী।
তারা বিজয় উল্লাসের প্রস্তুতি নিল। তবে তাদের বিজয় উল্লাস ছিল আদিম বর্বরতায় পূর্ণ। তারা প্রতিশোধের খড়গ বিস্তার করল মুসলমানদের উপর। খৃস্টান সৈন্যরা অপবিত্র করে ধ্বংস করে দিল মসজিদের প্রস্তর গম্বুজ।
রাস্তা, ঘর, মসজিদ যেখানেই মুসলমানদের পেল খৃস্টানরা নারী-পুরুষ শিশুভেদে সবাইকে হত্যা করল। হত্যাযজ্ঞ চলল দিনভর।
পরের দিন খুব ভোরে একদল খৃস্টান ধর্মযোদ্ধা জোর করে মসজিদুল আকসায় প্রবেশ করল। সেখানেও যাকে পেল তাকেই হত্যা করা হল। মসজিদুল আকসাকেও ধ্বংস করা হল। এরপর খৃস্টান সেনানায়করা মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করতে গেল। কিন্তু তারা সামনে এগুতে পারল না। কারণ রাস্তাঘাট ছিল মুসলমানদের লাশের স্তূপ আর রক্তে ভরপুর।
খৃস্টানদের হাত থেকে ইহুদীরাও রেহাই পেল না। তাদের উপরও চালানো হল নির্মম হত্যাযজ্ঞ। আগুন লাগিয়ে দেয়া হল তাদের উপাসনালয়ে। ইহুদীদের ধরে ধরে এনে আগুনের লেলিহানে নিক্ষেপ করা হল। জেরুজালেমে মুসলমান ও ইহুদীদের নিঃশেষ করা হল।
তৃতীয় ক্রুসেডের কথা।
এবার খৃস্টানরা মুসলমানদের হাতে চরমভাবে পরাজয় বরণ করল।
১১৮৭ সালের ২০শে অক্টোবর মুসলিম বাহিনীর হাতে জেরুজালেম অবরুদ্ধ হল। নগরীর মানুষের জীবন এখন গাজী সালাহউদ্দিনের করুণার উপর গিয়ে বর্তাল। মুসলিম জনগণের সামনে এখন বিজয়ের উল্লাস। আর তাদের চোখেমুখে প্রথম ক্রুসেডে খৃস্টানদের নির্বিচারে মুসলিম হত্যার রক্তাক্ত চিত্র।
ধূর্ত খৃস্টানরা তাদের মৃত্যুর ছায়া দেখতে পেল। তাই তারা এ মুহূর্তে আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিল। জেরুজালেমের খৃস্টান দূত বানিয়ান নিজেই গিয়ে হাজির হল সালাহউদ্দিনের তাঁবুতে।
গাজী সালাহউদ্দিন দূতকে জানিয়ে দিলেন, তরবারির সাহায্যেই মুসলমানরা খৃস্টান অত্যাচারীদের হাত হতে জেরুজালেম দখলের শপথ নিয়েছে। কাজেই কোন শর্ত ছাড়াই যদি আত্মসমর্পণ করা হয় তাহলে তিনি এ শপথ হতে ফিরে আসতে পারেন। এ সময় সালাহউদ্দিন বানিয়ানকে ১০৯৯ সালে মুসলিম হত্যার স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিলেন। বানিয়ান তখন আর কোন কথাই বলতে পারল না। তাই সে শর্তহীনভাবে মুসলমানদের নিকট আত্মসমর্পণের কথা স্বীকার করে নিল।
দিনটি ছিল শুক্রবার, জুমার নামাযের দিন।
গাজী সালাহউদ্দিন জেরুজালেমে প্রবেশ করলেন।
খৃস্টানরা তখন ভয়ে কম্পমান। আজ যে বাঁচার কোন উপায় নেই।
খৃস্টানরা মৃত্যুর প্রহর গুনছিল।
কিন্তু না গাজী সালাহউদ্দিনের ব্যবহারে খৃস্টানরা অভিভূত হল।
সালাহউদ্দিনের মহানুভবতায় তারা বিস্মিত হল।
আটাশি বছর আগে খৃস্টানরা জেরুজালেমে মুসলমানদের পাইকারীভাবে হত্যা করেছিল। কিন্তু আজ মুসলমানদের বিজয়ের দিনে একটি ঘরও
লুণ্ঠিত হল না।
খৃস্টানদের গীর্জাগুলোও থাকল সম্পূর্ণ নিরাপদ। খৃস্টানদের উপর কেউ যেন কোনরূপ জুলুম না করে তার জন্য মুসলিম সৈন্যরা নগরীতে কড়া প্রহরা বসাল। নামমাত্র মুক্তিপণের বিনিময়ে খৃস্টান বন্দীদের মুক্তি দেয়া হল। যেসব বন্দী মুক্তিপণ দিতে পারেনি তাদের বিনা শর্তেই ছেড়ে দেয়া হল।
গাজী সালাহউদ্দিনের মহানুভবতায় গোটা জেরুজালেমের খৃস্টানরা বিস্মিত হল। মুসলমানরা তাদের উদারতা দিয়ে খৃস্টানদের বর্বর হত্যাযজ্ঞের
জবাব দিল।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×