----------------------------------
স্বামী রুহুল আমিন গরম বটির ছ্যাঁকায় পুড়িয়ে দিয়েছে পিঠ। এর সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বলন্ত সিগারেটের নির্দয় ছ্যাকার ক্ষতচিহ্ন নিয়ে মাগুরা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন গৃহবধু শিমু বেগম।
হাসপাতালে উপস্থিত শিমুর পিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখা গেল সবাই অনুশোচনায় দগ্ধ। যেন মেয়ের সারা গায়ে পোড়া দাগগুলো তাদেরই সৃষ্টি। তাদের কথায়, ভালভাবে খোঁজ না নিয়ে শুধু মোবাইল ফোনে আলাপ ও আত্মীয়ের কথায় বিশ্বাস করে মেয়েকে এক পাষণ্ডের হাতে সঁপে দিয়েছিলেন তারা। তা না হলে শিমুকে আজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এভাবে কাতরাতে হতো না।
সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) নিতাই পদ বিশ্বাস বাংলানিউজকে জানান, গত শনিবার তাকে এখানে ভর্তি করা হয়েছে।
পোড়া ঘায়ের যন্ত্রণা চেপে শিমু বাংলানিউজকে জানালেন, তার বাবা মহসিন জোয়ারদারের খালাত ভাই খোকা মুন্সির সঙ্গে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করতো পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার মামুদকান্দা গ্রামের কামাল শেখের পুত্র রুহুল আমিন। সেই সূত্রে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয় এবং ভালো লাগা। এরপর খোকা মুন্সির মাধ্যমে রুহুল আমিন বিয়ের প্রস্তাব দিলে পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়।
তিনি বলেন, ‘এ সময় আমরা জানতাম না যে রুহল আমীনের প্রথম পক্ষে একজন স্ত্রী আছে। এমনকি বিয়ের সময় নিজের ঠিকানা পর্যন্ত মিথ্যা দেয় ও। গত ফেব্রুয়ারিতে সে আমাকে নিয়ে ঢাকার উত্তরায় ভাড়া বাসায় ওঠায়। এরপর বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার দাবিতে শুরু করে মারপিট। প্রায় রাতেই নেশা করে বাড়ি ফিরে আমার শরীরে সিগারেটের ছ্যাকা দিত।’
মিমু জানান, এ অবস্থায় বাবার কাছ থেকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা এনে দেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আরও দেড় লাখ টাকার দাবিতে ফের নির্যাতন শুরু করে রুহুল আমীন। গত শুক্রবার নেশাগ্রস্থ অবস্থায় তাকে মারপিটের পাশাপাশি গলায় রশি বেঁধে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে খুন করার চেষ্টা করে। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসে। তাতে রুহল আমিন কিছুক্ষণের জন্য চুপ থাকে। কিন্তু প্রতিবেশিরা চলে যাওয়ার পর গ্যাসের চুলায় বটি গরম করে পিঠসহ বেশ শরীরের অন্যান্য স্থানে ছ্যাকা দেয়। এরপর রুহুল আমিন তাকে ঘরে আটকে রেখে বাইরে চলে যায়।
শিমু বলেন, ‘ওইদিন রাতেই আমি পালিয়ে নিজ বাড়ি মাগুরার শ্রীপুরের বরালদাহ গ্রামে চলে আসি। শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যরা আমাকে সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করে। ’
কাঁদতে কাঁদতে শিমু বললেন, ‘শুধু মুবাইলির কথায় ভুলে বিয়ে করে ভুল করিছি!’
এ ব্যাপারে ঢাকায় কর্মরত রুহুল আমীনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘শিমু যে হাসপাতালে ভর্তি আছে তা আমি জানি না। সে কখন বাসা থেকে চলে গেছে তাও আমি বলতে পারবো না। এখন এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না। ব্যস্ত আছি।’
শিমুর বাবা মহসিন জোয়ার্দার জানান, তিনি জামাই রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


