১
মৃত্যু সত্যের এক অন্যরকম রুপ। যা আমার মত বেশির ভাগ মানুষের কাম্য নয়। কিন্তু সত্য হল এ থেকে বাচাঁর কোন উপায় নেই। আমি এখন শুয়ে আছি এক লম্বা বিছানায়। রুমের ফ্যানটি ঘুরছে আমাকে ঠান্ডা রাখার জন্য। শীতলতা আনন্দ লাভের একটি অসাধারন উপায় তবে তা মানুষ আর পরিবেশ ভেদে। মৃত্যু ও হয়ত এই রকম। এই মূহুর্তে আমার মরে যাওয়ার কোন ইচ্ছা নেই। আমার মৃত্যুর তেমন লক্ষনও দেখছি না।
আপনি নিশ্চই জানেন ঢাকা শহর একটি জনবহুল শহর। এই মূহুর্তে যদি এতে ভুমিকম্প হয় তবে শহরটি কিন্তু জন্যশূন্য হয়ে যেতে পারে। হয়ত আমার মতই অনেকেই এই ইটপাথরের নিচে চাপা পড়বে আর কিছু মানুষ হয়ত এই মৃত্যুর ভয়েই হার্ট অ্যাটকে মারা যাবে। সেই সংখ্যলঘুদের কথা আমরা বেশি চিন্তা করি না।
এই ভুমিকম্পে ঢাকা শহরের ৯০% মানুষ যদি মারা যায় তবে তা কিন্তু একটি গনমরন কর্মসূচী হয়ে যাবে। আচ্ছা আমরা যদি এই গনমরন সার্থক করতে চাই তবে কি করতে হবে? আমার প্লান হচ্ছে এমন কিছু একটি করে এই গনমরন করতে হবে যাতে আমাদের মানুষের সামনে একটি অসাধারন উদ্দেশ্য থাকে।
হতে পারে এই মুহুর্তটি সেই গনমরনের মুহুর্ত। আমার কি করা উচিত? “বাছা তোমার প্রভুর কাছে শেষ প্রার্থনা করে ক্ষমা চেয়ে নাও।” আমার মনের এই অংশটি অনেকটা ধমকের সুরে মনের অপর অংশটিকে বলতে থাকে। মনে অপর অংশটি কিন্তু এখনও নিশ্চিন্ত কারন সে মনে করছে এরকম কিছু হবেই না। আচ্ছা সেই মুহুর্তে এই দ্বিবিভাজিত মনের কি দরকার আছে?
আমাকে ধারন করা এই ১৪ তলা বিল্ডিংটা ধসে পড়ছে। আমি কাপছি আর আমার সাথে পাশের বেডএর মনসুরও কাপছে। তার মাথা সম্ভবত জ্যাম হয়ে গেছে। কোন উপায়ই সেই পাচ্ছে না বাচাঁর উপায়। উদভ্রান্ত সেই চোখ সেই কথাই বলছে। আমার দিকে ছুটে আশা এত বড় ইটের খন্ডটা কি আমি ধরে রাখতে পারব? না আমার সেই ক্ষমতা নেই। তবে আমার নিশ্বাস দানের মাধ্যমে আমি তা করতে পারি। একটি সুবিধা অবশ্যই পাওয়া যাবে যদি আমি আমার নিশ্বাস দিয়ে দিলেও এর ওজন আমাকে বহন করতে হবে না। না এটি আমার ঠিক মাথার উপরেই পড়ল। আমিও সেই ঐতিহাসিক গনমরনের একজন সাথী হল।
(এই উপন্যাসটির একটি সুন্দর ইংরেজি নাম আছে: Journey to the Death By Life । এটি প্রথম অংশ। আর প্রকাশ করতে আপনাদের সাহায্য চাই।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



