অনেক কথা বা ঘটনা আছে তা মিথ বা কল্পকাহিনী হলেও বাস্তরতার আলোকেই তা তৈরী হয়েছে । উদারণ হিসেবে রাখালের গল্পের কথা বলা যায় । গল্পটি অবশ্য সকলেরই জানা । এক রাখাল মেষ চড়াতে গিয়ে বাঘ বাঘ বলে চিৎকার করতো , তার চিৎকার শুনে লোকজন অস্ত্র হাতিয়ার নিয়ে দৌড়ে এসে দেখতে পেত রাখাল এক ধরণের মজা করার জন্য এই কান্ড করেছে । এভাবে একবার দুইবার করার পর লোকজনের কাছে রাখালের ফাজলামী যখন ধরা পড়ে গেল তখন সত্যি সত্যিই একদিন বাঘ এসে তার উপর চড়াও হলো , কিন্তু তার এবারের সত্যিকারের ফরিয়াদ শুনে কোন মানুষ আর বিশ্বাস করতে পারলো না । রাখালও বাঘের হাত থেকে বাঁচতে পারলো না । বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার রায় নিয়ে সরকার গত দুই সপ্তা ধরে যা করছে তা একদিকে যেমন মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসে ফাটল ধরাচ্ছে তেমনি আত্ম স্বীকৃত খুনিদের মান মর্যাদাই বৃদ্ধি করা হচ্ছে । সরকারের হম্বি তম্বি দেখে মনে করতে হবে অভিযুক্তরা অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী, কাজেই বিরাট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়েছে । বিএনপি'র কাউন্সিলের আগে সকল সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে হয়েছে । সরকার যদি এসব হম্বি-তম্বি না করতো তাহলে জনগণ এবং বিশ্বের সামনে প্রমাণিত হতো বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা গণবিচ্ছিন্ন এবং সমাজে তাদের কোন স্থান নেই । কিন্তু এখন এটা বলার কোন উপায় নেই । সরকারই প্রমাণ করে দিয়েছেন ওরা একা নয়, তাদের পিছনে শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে ।
দ্বিতীয়তঃ মাঝে মধ্যেই আমরা শুনি শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে । এরপর অনেক দিন আর কিছু শোনা যায় না । সরকার যদি ষড়যন্ত্রের পূর্বাভাস জানতেই পারে তাহলে কারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের পরিচয় জনগণের সামনে কেন তুলে ধরা হয় না ? কেন তাদেরকে গ্রেফতার করে বাবরের মত ম্যারাথন রিমান্ডে নেয়া হয় না ?
মজার ব্যাপার হলো এবার শেখ হাসিনাকে হত্যা ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করেছে ভারত । ভারত তার নিজ দেশে মুম্বাই- এর ঘটনার মত দুঃসাহসিক ঘটনা সম্পর্কে আঁচ করতে পারে না , কিন্তু তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা ষড়যন্ত্রের খবর পেয়ে যায় ।!
কথায় আছে না - পাগলা নৌকো ডুবাইশ না; আরো ভালো কথাই তো মনে করলা ! ভারতের এধরনের কোন উদ্দেশ্য আছে কি না তাও ভেবে দেখা উচিত । তাছাড়া ভারতের পূর্বাভাস বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করার মাধ্যমে আমাদের নিজেস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে চরম অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। (সূত্র এখানে দেখুন) এখন প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক যে জনগণের টাকা ব্যয় করে আমাদের এত বড় গোয়েন্দা সংস্থা পুষে লাভ কি ? এরা তো কিছুই আঁচ করতে পারে না । আর ভারতের গোয়েন্দারাই তো আমাদের জন্য যথেষ্ট । এদের কি দরকার ।
পরিশেষে আরেকটি সকলের জানা গল্প স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেষ করবো ।
লখিন্দরের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপদ বাসর ঘর নির্মাণ করা সত্ত্বেও তাকে সাপের দংশন থেকে রক্ষা করা যায় নি । আমাদের ইসলাম ধর্মেও নাকি বলা হয়েছে যে কখনো মিথ্যা নিয়ে খেল তামাশা করা উচিত নয় , কেউ তা করলে সেই মিথ্যাই তার জন্য সত্যে পরিণত হতে পারে । বিধাতাই ভালো জানেন হতভাগা বাঙ্গালীর ভবিষ্যত কোথায় ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

