আমার কান্নার আর শেষ হবেনা .......
আমার ছায়া বৃক্ষের শেষ পাতাটিও ঝরে গেলো, আমার শেষ আশ্রয় আমার অতি আপন, আমার জীবনের শেষ সম্পদ আমার অতি আদরের দাদিমা আমার কাছ থেকে জলে গেলো, আমার হাজার কান্না আর্তনাদ তাকে ধরে রাখতে পারলো না। আমি আর কোন দিন এই অসহায় আমাকে সান্তনা দিতে কারো কাছে গিয়ে দাঁড়াতে পারবো না, বিমর্ষ আমাকে একটু আশা, একটু সাহস দিতে আর কেউ নেই আমার ..... বড় কষ্ট হয় এ কথা ভাবতে।
মনে পড়ে... আমাদের কেউ ছিলনা তখন, মা মারা যাবার পর বোনের আশ্রয় টুকুও হরালাম, ভাইটা এক মুঠো অন্নের যোগান দিতে কোথায় যেন চলে গেল, আমার বয়স তখন ১২, আমার ছোট দুই বোন এক ভাই। বাবা নিখোঁজ। আমাদের কান্না ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না, বড় অসহায় সেই দিনের এক মাত্র সঙ্গীটিকে আজ হারালাম। আমাদের জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষণ তিনি ভেবেছেন, আমাদের মঙ্গলের জায়নামাজ ভিজিয়েছেন। আমার মনে পড়ে সেই দুঃসহ বেদনার দিনগুলো.....
সপ্তাহে একদিনও আমাদের চুলোয় আগুন জ্বলে নি!!! কি দারুন বেদনার সেই দিন, মানুষের ভাতের মাড়ের অপেক্ষায় কেটে যাওয়া বেদনাভরা ক্ষণ, ছোট ভাইবোনের চোখের পানি আর নিজের অসহায়ত্ব সব মিলিয়ে এক কঠিন জীবনের বড় কঠিন পেষণ, আমি বলতাম....
ও বু.. বু গো..... হেডো বোগে ধইরছে
তো আঁই অন কিত্তাম,
খানা দেন....
আঁরে চোলাই খা,
আমার দাদি কান্নায় ভেঙ্গে পড়তো, আমাদেরকে বলতো কুত্তারছা, আর আমাদের জন্য যে কোন উপায়ে খাবারের ব্যবস্থা করতো। আমার চাচাদের অনেক আছে, তাদের ছিল, তবে আমরা মনে রাখার মতো কোন সহযোগিতা পেয়েছি কিনা মনে করতে পারিনা। আমার দাদি আমার চাচাদের ঘরে খেতো, আমাদের এই অসহায়ত্বের দিনে তার খাবার টুকু আমাদের মুখে তুলে দিত, তবে একজন বৃদ্ধের খাবার চার জন বাচ্চা ক্ষুধা নিবারণের জন্য কতটুকু সহয়ক আমার জানা নেই, জানা আছে আমাদের জন্য আমার দাদির অসীম ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত্।
আমি দেখেছি, একটুকরো রুটিও আমাদের ছাড়া মুখে পুরতেন না তিনি। বড় বেশি ভালোবাসতেন আমাদের। আমি সব সময় কাঁদতাম, আমার কষ্ট বেশি সহ্য হয়না, আমার দাদি আমাকে শক্ত করে বুকে চেপে ধরে রাখতো আর বলতো, বাবা আইবো অনেক জিনিস আইনবো......
আমার বাবা এসেছিল, অনেক কিছু নিয়ে, তবে সেই অসহায় দিনের দাদিকে ভোলাতে পারেনি বাবার লাখ টাকার সামগ্রী,,,

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

