অনেক দিন হল ব্লগে কিছু লিখি নাই। লোড শেডিং, ইন্টারনেট লাইনের সমস্যা ছাড়াও ব্যক্তিগত করনই হয়তো বেশী দায়ী। যাইহোক গত কাল এক সাংঘাতিক নারী কর্তৃক অপ্রত্যাশিত ভাবে লাঞ্চিত হলাম। আপনাদের কাছে মনের দুঃখ ঝেড়ে দিয়ে আমার অতৃপ্ত আত্মাকে একটু সন্তনা করতে চাই।
ঘরের আসবাবপত্র গোছগাছ করছি এমন সময় নজরে এল একটা সিমকার্ড ক্রয়ের ডকুমেন্ট। ভাল করে নেড়ে চেড়ে দেখলাম ২০০৭ সালের ১৪ জুন ওয়ারিদের ধানমন্ডি শাখার কাষ্টমার কেয়ার থেকে আমার নামে একটা সিম কিনেছিলাম ওটা তারই ডকুমেন্টস। মনে মনে একটু খুশী হলাম কারন সীমটা আমি হারিয়ে ফেলেছি, তাছাড়া ওয়ারিদের বন্ধ সীম চালু করলেই নাকি ১২০০ টাকা বোনাস আসে!! ওয়াও মনের মধ্যে আনন্দের ঘনঘটা কদম ফুলের মত দুলতে শুরু করল।
কলেজ পড়ুয়া মোবাইল স্পেশালিষ্ট ছোট ভাইয়াকে ডকুমেন্টসটা দিয়ে দৈনিক বাংলার মোড়ে ওয়ারিদের কাষ্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে সিমটা তুলে আনার পরামর্শ দিলাম। এরই মধ্যে আমার ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার ড্রাইভার রুবেল হোসেন হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এল এবং ওর মোবাইলটা ভাইয়ার পড়ার টেবিলে রেখে কারেন্টের বেগে বাথরুমে ঢুকে গেল। ভাইয়া কৌতুহল বশতঃ ড্রাইভারের মোবাইল সেটটিকে হাতে নিয়ে আমার ডকুমেন্টসে রক্ষিত সিম নম্বরে একটা কল দিল।
রিং বাজতেই ভাইয়া কিছুটা অবাক হয়ে; হ্যালো কে বলছেন প্লিজ;
অপরপ্রান্ত থেকে মেয়েলি কন্ঠেঃ আপনি কাকে চাচ্ছেন?
- না মানে এই সিমটাতো আমার ভাইজানের
- ও হো হো; ভাইজানের সিম; সুন্দরী মেয়েদের সাথে মোবাইলে কথা বলার বাহানা?
- না দেখুন আপনি যা ভাবছেন তা নয়,
- চুপ কর; ব্যাটা ফাজলামো করার জায়গা পাস না;
- ????????
ওপাশ থেকে লাইনটা কেটে গেল। রুবেল হোসেন যথারীতি বাথরুম থেকে বের হয়ে মোবাইলটা নিয়ে নিজের ডিউটিতে চলে গেল। তার মোবাইল থেকে যে কারো সাথে কথা হয়েছে তা তার অজানাই থেকে গেল। কারন লাজুক ভাইয়া ভ্যাবাচেকা খেয়ে ওকে আর কিছু বলল না।
দুপুরে আমাকে শুধু বলল, ভইজান আপনার সিমটা একটা মেয়ে ব্যবহার করছে। আমি ফোন দিয়েছিলাম সে ভাবছে আমি তাকে ডিস্টার্ব করার জন্য ফোন করেছি।
আচ্ছা আমি দেখছি তুই যা। এবার আমার সেট থেকে ফোন দিলাম।
- আসলামু আলাইকুম আপু,
- কে বলছেন ?
- আপু আমি মামুন; নাম বললে হয়তো চিনবেন না। আমি আসলে জানতে চেয়েছিলাম আপনার কাছে যে সিমটা আছে ওটা আপনি কোথায় পেয়েছেন?
- কোথায় পেয়েছি মানে? এটাতো আমার সিম দুই বছর ধরে ইউজ করছি।
- আপনার সিম!! কিন্তু এটার রেজিষ্ট্রেশনতো আমার নামে; আমি ওটা হারিয়ে ফেলেছিলাম অনেক আগে।
- এই ব্যাটা আমি কি চোর? ফাজলামো করার জায়গা পাস না;
- ????????????? !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
- দেখুন আপনি কিন্তু আমার সাথে মিস বিহাব করছেন, আমি শুধু আপনাকে বললাম সিমটা আমার নামে রেজিষ্ট্রেশন, এর মধ্যে আপনি ফাজলামোর কি দেখলেন?
- তোদের মতো শয়তানকে আমি ভাল করে চিনি, মেয়ে মানুষের গলার স্বর শুনলে তোদের মনে কু'মতলব আসে।
- এক্সকিউজ মি! আপনি ভদ্রভাবে কথা বলুন। আপনি আমাকে যে টাইপের পাবলিক ভাবছেন আমি তা নই। আমাকে শুধু বলুন এই সিমটা আপনি কোথায় পেলেন?
- চড়ায়ে তোর গালের দাঁত সব ফেলে দিব, ফাজলামো করার আর জায়গা পাস না?
সুন্দরী রমনী (পেত্নী সুন্দরী) অপরপ্রান্ত থেকে লাইনটা কেটে দিল। কয়েকবার রিং দিলাম ধরল না। বাধ্য হয়ে একটা এসএমএস করলামঃ
"আপনি কি ভদ্র ঘরের সন্তান না- কি বেশ্যা? আমি কি আপনাকে কখনো ডিষ্টার্ব করেছি? আপনি কাকে চড় মারতে চেয়েছেন জানেন? সবাইকে এক পাত্রে মাপেন? যদি আমি প্রমান করতে পারি যে এই সিমটি আমার নামে রেজিষ্ট্রশন তাহলে মিস বিহাব করার জন্য আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় মিসবিহাব করার জন্য আমি একশান নিব। আমি কোন টিনএজার নই। আমার ঘরে বউ ছেলে-মেয়ে আছে, সুতরাং আমি আপনাকে একটা উচিত শিক্ষা দিব। তৈরী থেকেন।"
এসএমএসটা সেন্ড করেই হঠাৎ মনে পড়ল আমার অফিসের বস (একজন নিয়মিত আপারক্লাস ব্লগার) আমাকে একটা ওয়ারিদের সিম কিনে দিতে বলেছিল, কাকে যেন দিবে। এটি সেই সিম নয় তো? কন্ঠস্বরটা স্যারের কোন রিলেটিভের নয়তো? বেশ চিন্তিত হয়ে স্যারকে ফোন করে সব খুলে বললাম। স্যার মনে করতে পারল না তাই নম্বরটা দিলাম যেন কথা বলে নিশ্চিত হতে পারে মেয়েটি স্যারের কোন আত্মিয় কি-না।
স্যার ফোন করলেনঃ
- হ্যালো কে বলছেন প্লিজ!
- আপনি কাকে চান?
- আমি হুমায়ূন কবির, আমি আসলে এনশিওর হতে চাচ্ছি আপনি আমার পরিচিত কি না।
- আমি কোন হুমায়ূন কবির টবির চিনি না। মেয়েদের সাথে কথা বলার বাহানা খুজেন?
- সরি, আমি বয়সে হয়তো আপনার বাবার বয়সিই হব। এই বয়সে আপনার সাথে ফালতু কথা বলার কোন সদইচ্ছা আমার নাই।
- প্রথমে সবাই এমন কথাই বলে এর পরে বের হয় আসল চেহারা।
- দেখুন আপনি ভুল বুঝছেন, পিতার বয়সি কোন ভদ্রলোক তার মেয়েকে নিশ্চয়ই মোবাইলে ডিষ্টার্ব করবে না।
- আপনার মতো বুইড়াগুলো আরো বেশী শয়তান হয়।
- আপনি এসব কি বলছেন? অভদ্রতার একটা সীমা আছে;
- এই ব্যটা বুইড়া ভাম, মোবাইলে মাইয়াগো জালাস আর আমারে আইছ ভদ্রতা শিখাতে;;
- ?????????????????????;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;!!!!!!!!!!!!!!!!!!
ওপাশ থেকে লাইনটা কেটে যায়। একটু পরে স্যার আমাকে বিষয়টি জানায়। মনের দুঃখে হাসব না কাঁদব তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। মনের মধ্যে সেই টগবগে তারুণ্য খোঁচা মেরে বলতে লাগল, মেয়েটিকে ফোন করে করে হয়রান করে ফেল; ওকে বুঝিয়ে দে অভদ্রতা কাকে বলে। পরে ভাবলাম কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়েছে পায়, তাই বলে কি কুকুরকে কামড়ানো মানুষের শোভা পায়?
ঘন্টাখানেক পর মেয়েটি আমার ড্রাইভারের মোবাইলে ফোন দেয়।
- হ্যালো কে বলছেন?
- কে বলছি চিনতে পারছিস না; চিনবি একটু পরে।
- আপা আপনি কি কন আমিতো কিছু বুঝতাছি না।
- খাড়া বুঝবি অহন, জিডি করতাছি থানায় এক্ষুণি তোকে গাড়ি নিয়ে ধরতে আসব।
ড্রাইভার ভিত স্বরেঃ
- ক্যান আপা, আমি কি দোষ করেছি?
- ফোন করে মাইয়াগো বিরক্ত করছ আর এহন কইতাছস আমি কি করেছি, শক্ত কথা শুইনা এহন সাধু হইয়া গেছ।
- আপা আমিতো কিছুই বুঝতাছি না।
- তোদের মতো শয়তানদের কি করে শায়েস্তা করতে হয় তা ভাল করে জানা আছে।
- ?????????????
লাইনাটা কেটে গেল। ড্রাইভার বিষয়ের আগামাথা কিছুই বুঝলনা। আমাকে বিষয়টা বলার পর মাথাটা বেশ গরম হয়ে গেল। অন্যায় করে আবার পুলিশের হুমকি? একেই বলে চোরের মায়ের মোটা গলা !
আমার মাথা সারক্ষন গরমে টগবগ করতে লাগল; স্যারকে অপমান? আবার ড্রাইভারকে নিরিহ পেয়ে হুমকি ধামকি? ও নিজেকে কি ভাবে?
রাগে ক্ষোভে তৎক্ষনাত দৈনিক বাংলা গিয়ে ওয়ারিদের কাষ্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে আমার সিমটি তুলে নিলাম। বন্ধ হয়ে গেল বেয়াদব মেয়েটার গলাবাজি। অপেক্ষায় আছি সে কখন ফোন দেয়, আর বলে ভাই আমার ভুল হয়ে গেছে, মাফ করে দিন, আমি বুঝতে পারি নাই। সিমটা দুই বছর ধরে ব্যবহার করছি; ভাই আমাকে ওটা ফিরিয়ে দিন।
হয়তোবা সে কখনো ক্ষমা চাইবে না। বিশ্ব সুন্দরী মেয়েরা ক্ষমা চাইতে জানে না।
এ জাতীয় মেয়েরা ঘন ঘন ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুলগুলোকে বান্দরের পুটকির মতো লাল করে নিজেকে বিশ্বসুন্দরী ভাবে। আর অহংকারে পা মাথার উপর তুলে দুলকি চালে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ায়। আশা করি আপনারাও আমার সাথে একমত হবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

