somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... চিন্তিত !
সমঝদারকে লিয়ে ইশারা হি কাফি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/29272359 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/29272359 2010-11-15 00:14:33
ফ্রি libertyreserve.com এ ইনকাম libertyreserve.com এ এ্যাকাউন্ট করুন, তারপর এইখানে যান,

Free 0.05 $

libertyreserve.com এর এ্যকাউন্ট লিখে দিন। প্রতি ১০ মিনিট পর পর লটারি এবং ০.০৫ $ তাৎক্ষনিক ভাবে আপনার libertyreserve.com এ চলে যাবে যা আপনি অনলাইন এ কিছু কিনতে ব্যাবহার করতে পারেন।
আমার আজকের টোটাল এসেছে ০.২০ $ । গতকাল ০.১০ $

বি.দ্র. এইখানের লিংক টা আমার এফিলিয়েট লিন্ক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/29256021 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/29256021 2010-10-16 14:17:27
ফ্রি হোস্টিং - সামহোয়ার এর ব্লগারদের জন্য। কারো প্রয়োজন হলে এখানে ডোমেইন নেম আর ইমেইল সহ লিখুন।

আর যাদের প্রয়োজন, তাদের রিসেলার হোসটিং ও দেয়া যাবে। তবে অবশ্যই পর্নো এবং নিষিদ্ধ কন্টেন্ট ব্যাবহার কার যাবে না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/29244772 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/29244772 2010-09-25 01:35:19
হ্যাক কইরা ও আর মজা নাই ! " style="border:0;" />
----------------------------------------------------------------


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/29244753 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/29244753 2010-09-25 01:04:17
বাংলায় মেইল লিখুন এবার Gmail এ সরাসরি জানিনা লেআউট এ হাসিন হায়দার ভাই এর অবদান আছে কি না। কারন একই লেআউট ব্যবহার হচ্ছে।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/29047026 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/29047026 2009-11-21 01:17:40
সত্য কথন : বিডিআর বিদ্রোহ সেনাবাহিনী এবং জন গন।
১। এর আগে ৯৬ সালে নির্বাচনের পর পরই প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান বিশ্বাস সাহেব সেনা প্রধানকে সরিয়ে নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ দিয়ে সেনা বাহিনির দুই গ্রুপ মুখোমুখি করে দিয়েছিলেন, যাতে একটা সিন তৈরি করে আওয়ামী লীগকে সরিয়ে সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় আনা যায়। সে সময় বিচারপতি হাবিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান এর সাথে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে দেখা করেন এবং রীতিমতো থ্রেট দিয়ে সমস্যা সমাধান করেন। এবারে ও কি ঐরকম কিছু প্ল্যান ছিলো? না হলে প্রধানমন্ত্রীকে সেনাবাহিনীর এ্যানশন না নেবার জন্য কাছে তাদের কাছে ধমক খেতে হবে কেন যেখানে ঐ সময় সেনাবাহিনী এ্যানশনে গেলে যে কজন বেঁচে গেছে তারাও মারা যেতো।

২। নিখোঁজ সেনাবাহিনির অফিসার এর সংখ্যা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে কেনো? পাবলিক সেনটিমেন্ট নিজেদের দিকে নেবার জন্য?

৩। রাস্ট্রের সংগা অনুযায়ী মূল এবং প্রধান উপাদান হলো জন গন।দেশের মাটি নয়। এখন, কথা হলো, সামরিক বাহিনী যুগে যুগে প্রতিটা কাজে জন গনের প্রতি তাদের ঘৃনাই প্রকাশিত করেছে। তাদের কাছে সাধারন জন গন হলো ব্লাডি সিভিলিয়ান। এইতো সেদিন, এক ক্যাপ্টেন কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপমানিত করবার শোধ তুলে নিলো সমস্ত দেশের হাজার হাজার ছাত্রকে বুট, ব্যাটন আর রাইফেল এর বাঁট দিয়ে পিটিয়ে। রেলষ্টেশন এর গেট তালা বন্ধ করে ট্রেন থেকে নামিয়ে কি পিটানি, কয়েকজন জন্মের জন্য খুঁড়িয়ে হাটবে। ছাত্রাবাসগুলোতে সৈন্য ঢুকে গেট তালা বন্ধ করে সাপ পিটানোর মতো পিটানি। মনে হচ্ছিল আরেক ৭১। তাহলে এই সেনাবাহিনী দেশের জন গনকে ঘৃনা করবে কিন্তু দেশকে ভালবাসবে, এটা কতখানি বাস্তব?

৪। যে যাই বলুক এই ঘটনাটি একটি নৃশংসতা। কিন্তু এটিকে কেন্দ্র করে বেগম খালেদা যে রাজনীতি শুরু করেছেন তাকে কি বলা যায়? উনি তো লাল / কমলা শাড়ি পরে এর আগে ও শোক প্রকাশ করেছেন, আজ ও গায়ে হলুদ এর শাড়ি পরে সান গ্লাস লাগিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। আর বরাবর এর মত সব কিছুতেই সরকারকে দায়ী করছেন। প্রাইম মিনিস্টার আর অন্যান্য সবাই যখন চরম সমস্যা নিয়ে ব্যাস্ত, তখন ম্যাডাম কালো গাড়ি নিয়ে কোথায় গেছিলেন আর দুই দিন উধাও হয়ে ছিলেন কোথায়? উনি আলোচনার দাওয়াত এর অপেক্ষায় ছিলেন! কিনতু এই দুই দিন উনি কোথায় ছিলেন?

৫। সা কা চৌধুরী এর সংস্লিস্টতা নিয়ে Indian Express / CNN এর মতো নামকরা পত্রিকা যা লিখেছে তার কতটুকু সত্য ? আগুন না থাকলে কি ধুয়া দেখা যায়? সে কি একজন যুদ্ধাপরাধী নয়? সে কি একজন আন্তর্জাতিকভাবে গডফাদার স্বীকৃত নয়? তাহলে কেন সেনাবাহিনি তার সম্পর্কে খোজ নিচ্ছে না ? কেন তাকে প্রমান লোপাট করে দেবার সুযোগ দেয়া হচ্ছে?


৬। কোন ভাবে সেনাবাহিনী মাঠে নেমে গেলে, রাস্ট্রক্ষমতা বেদখল হয়ে গেলে কে সবচেয়ে লাভবান হত?

৭। সেনাবাহিনীতে কোন দলের সমর্থক বেশী? জানি এই প্রশ্নের জন্য সেনাবাহিনীর কেউ কেউ গোস্বা করবেন, মিডিয়াকে তো একজন ধমক ও দিয়েছেন। কিন্তু ইতিহাস কি সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক সংস্লিস্টতার সাক্ষী দেয় না?

৮। দেশের সাধারন মানুষ তো ডাইল ভাত, প্রধানমন্ত্রীকে ও কেন সেনাবাহিনীর জন্য ভয় করতে হয়?

৯। দেশের সাধারন মানুষ সকলেই সেনাবাহিনীকে কেন শ্রদ্ধা না করে ভয় পায় ?

১০। সাধারন মানুষদের কেউ কেন বীরশ্রেষ্ঠ নয়?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28920549 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28920549 2009-03-06 00:36:08
রি পোষ্ট: ম্যাজিক চাই না, শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।
১। সবার আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। তাদের বিচার এর জন্য স্পেশাল কিছু দরকার নাই। আমার দেশে চুরি ছিনতাই এর জন্য ও ক্রসফায়ার হয়, আমার মনে হয়, চিন্হিত যুদ্ধাপরাধীরা এভাবে মারা গেলে মানবাধিকারের প্রশ্ন কেউ তুলবে না। আর ৩৭ বছর পর বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রমান খুজে হয়রান হতে হবে না। এ প্রসংগে বলি, কয়েক বছর আগে আমার বাবা বাসায় এসে কেঁদে ফেল্লেন। তার সাইকেল রাস্তায় আধাঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিলো, নিজামী এর গাড়ি যাবে সেই জন্য। তিনি ৭১ এ গুলি খাওয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা, যিনি এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সুবিধা নেন নাই। তাঁর আদর্শের জন্য।

২। বিশাল বিজয়ে মদমত্ত হয়ে বি এন পি কর্মীদের মত "আমাদের সরকার আমাদের দেশ, কাজেই তোমার সম্পত্তি আমার সম্পত্তি আর সব কিছুই আমার অধীনে " মনোভাব যেনো আপনাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে কাজ না করে। আমরা আর কোনো পিন্টু, লাল্টু , সর্ব হারা, বাংলা ভাই চাই না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28890307 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28890307 2008-12-30 10:58:05
ম্যাজিক চাই না, শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।
১। সবার আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। তাদের বিচার এর জন্য স্পেশাল কিছু দরকার নাই। আমার দেশে চুরি ছিনতাই এর জন্য ও ক্রসফায়ার হয়, আমার মনে হয়, চিন্হিত যুদ্ধাপরাধীরা এভাবে মারা গেলে মানবাধিকারের প্রশ্ন কেউ তুলবে না। আর ৩৭ বছর পর বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রমান খুজে হয়রান হতে হবে না। এ প্রসংগে বলি, কয়েক বছর আগে আমার বাবা বাসায় এসে কেঁদে ফেল্লেন। তার সাইকেল রাস্তায় আধাঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিলো, নিজামী এর গাড়ি যাবে সেই জন্য। তিনি ৭১ এ গুলি খাওয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা, যিনি এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সুবিধা নেন নাই। তাঁর আদর্শের জন্য।

২। বিশাল বিজয়ে মদমত্ত হয়ে বি এন পি কর্মীদের মত "আমাদের সরকার আমাদের দেশ, কাজেই তোমার সম্পত্তি আমার সম্পত্তি আর সব কিছুই আমার অধীনে " মনোভাব যেনো আপনাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে কাজ না করে। আমরা আর কোনো পিন্টু, লাল্টু , সর্ব হারা, বাংলা ভাই চাই না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28890301 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28890301 2008-12-30 10:44:20
এই বার কি হবে জানেন? বি এন পি আর রাজাকার বলবে কারচুপি। http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28890282 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28890282 2008-12-30 10:06:57 মাসুদ রানার অরিজিনাল বইসমূহ
Agnipurush [Man on Fire] (Based on Man on Fire by A. J. Quinnell. Most of the readers view it as the best. Humayun Ahmed's only `based novel', Omanush was also written on the main book. Revenge action thriller)
Saudia-103 [Saudia-103] (Based on The Perfect Kill by A. J. Quinnell. Action thriller)
Akranto Dutabash [Embassy Under Attack] (Based on Siege of Silence by A. J. Quinnell. Action thriller)
Sniper [Sniper] (Based on Point of Impact by Stephen Hunter. Thriller, considered as one of the best books of the series)
Big Bang [Big Bang] (Based on The Day Before Midnight by Stephen Hunter.Action thriller)
Biday, Rana [Farewell, Rana](Antarctica adventure)
Dhongsho Paharr [The Destructive Hill.](Rana-1. Spy Thriller. One of the rare original stories of the series)
Hacker [Hacker] (Another completely original book, published in June-July of 2008, probably the best among Hussain's original works.)
Uddhar [Rescue] (Based of A Cage of Ice by Duncan Kyle. Arctic adventure.)
Apoharon [Kidnap] (Based on Sunflower by Marilyn Sharp. espionage suspense thriller)
Pishach Dweep [The Island of Evil] (A special, short, but horrifying work.)
Bishmaron [Amnesia] (suspense thriller)
Pratishodh [Revenge] (mystery thriller)
Moron Yatra [The Journey to Death] (Based on The Cassandra Crossing by Robert Katz. Suspense adventure thriller)
Protidondi [The Competetor] (In This book Rana Was supposed to marry Rebecca from Biday Rana, But she was killed)
Shwarnomriga [The Golden Deer] [Rana-3]
Dusshahoshik [Bravado][Rana-4]
Abar Shei Dusshwapno [Again that Nightmare] (Based on Dark Side of The Street by Jack Higgins. Crime thriller)
Shongket [Signal] (Based on The Key to Rebecca by Ken Follett. Spy thriller)
Benami Bondor [Unnamed Port] (Based on Triple by Ken Follett. Spy thriller)
Shakuner Chhaya [Vulture's Shadow] (Based on On Wings of Eagles by Ken Follett. Spy thriller)
Proloy Sanket [Signal of Destruction] (Based on The Doomsday Conspiracy by Sidney Sheldon. Sci-Fi Thriller)
Akromon [Attack] (espionage action thriller)
Mrityusheetal Sparsho [Death-cold Touch] (Based on Pandora's Curse by Jack Du Brul. Arctic adventure thriller)
Amanush [Unhuman] (Based on White Shark by Peter Benchley. Creature-hunting adventure thriller)
Bada Khudha [Huge Hunger] (Based on Beast by Peter Benchley. Creature-hunting adventure thriller)
Hallo, Sohana [Hallo, Sohana] (Based on The Deep by Peter Benchley. Thriller)
Gupto Sanket [Secret Code] (Based on The Da Vinci Code by Dan Brown. Suspense Thriller)
Shaitaner Dweep [Island of Evil] (Based on Dr. No by Ian Flemming. A James Bond novel)
Smuggler [Smuggler] (Based on Goldfinger by Ian Flemming. A James Bond novel)
Khune Pishach [Murderous Devil] (Based on For Your Eyes Only by Ian Flemming. A James Bond Short Story)
Operation Kanchanjongha [Operation Kanchanjongha] (Based on High Time to Kill by Raymond Benson. A James Bond novel)
Andho Prem [Blind Love] (Based on The World Is Not Enough by Raymond Benson. A James Bond novel)
Target Bangladesh [Target Bangladesh] (Based on Tomorrow Never Dies by Raymond Benson. A James Bond novel)
Shesh Hashi [Last Laugh] (Based on Temple by Matthew Reilly. Adventure thriller)
Shahojoddha [Fellow Soldier] (Based on Rambo III by David Morrell. Action Thriller)
Top Secret [Top Secret] (Based on Colonel Sun: a James Bond Adventure by Kingsley Amis. Spy Thriller)
Gohin Aronyo [Deep Jungle] (Based on Congo by Michael Crichton. Action Thriller)
Black Magic [Black Magic] (Based on The Spear by James Herbert. Nazi occultism and the Holy Lance adventure thriller)
Shantidoot [Messenger of Peace] (Based on Telefon by Walter Wager. Spy thriller)
Moron Kamor (Based on James Bond novel Live and Let Die by Ian Fleming.)
Assanta Sagor [The Untamed Sea] (Based on Night of Error by Desmond Bagley. Suspense thriller)
Grash [Eclipse] (Based on Landslide by Desmond Bagley. Suspense thriller)
Jhorer Purbabhash [Storm Warning] (Based on Wyatt's Hurricane by Desmond Bagley. Suspense thriller)
Amei Rana [I Am Rana] (Based on The Tightrope Man by Desmond Bagley.Espionage thriller)
Hijack [Hijack] (Based on High Citadel by Desmond Bagley. Adventure thriller)
Shwarnotori [Ship of Gold] (Suspense adventure) (Based on The Golden Keel by Desmond Bagley)
Poppy [Poppy] (Based on The Spoilers by Desmond Bagley. Action Thriller)
Palabe Kothay [No Where to Run] (Based on Running Blind by Desmond Bagley)(Spy thriller)
I Love You, Man [I Love You, Man] (Based on The Eye of the Tiger by Wilbur Smith. Treasure hunting thriller)
Shwet Shontrash [White Terrorism] (Based on Wild Justice by Wilbur Smith. mystery suspense thriller)
Andhokare Cheeta [The Leopard In Darkness] (Based on The Leopard Hunts In Darkness by Wilbur Smith. African adventure suspense)
Shesh Chaal [The Last Gamble] (Based on The Seventh Scroll by Wilbur Smith. treasure hunting adventure)
Naropishach [Fiend] (Based on Elephant Song by Wilbur Smith. Suspense African adventure)
Mukto Bihongo [The Free Bird] (Based on Cry Wolf by Wilbur Smith. African adventure)
Shei U Sen [That U Sen] (Based on The Day of the Jackal by Frederick Forsyth. suspense thriller)
Shatru Bibhishon [The Enemy Within] (Based on The Negotiator by Frederick Forsyth. suspense espionage thriller)
Andho Shikari [The Blind Hunter] (Based on The Fourth Protocol by Frederick Forsyth. espionage thriller)
Kalo File [The Black File] (Based on Icon by Frederick Forsyth. Thriller)
Hirok Shomrat [The Diamond King] (Based on Shock Wave by Clive Cussler. Suspense adventure)
Kaalkut [Toxin] (Based on Sahara by Clive Cussler. suspense adventure thriller)
Arek Barmuda [Another Barmuda] (Based on Pacific Vortex! by Clive Cussler. Adventure thriller)
Chai Shamrajya [I Want the Empire] (Based on Treasure by Clive Cussler. treasure hunting adventure thriller)
Pretatma [Ghost] (Based on Vixen 03 by Clive Cussler. Suspense adventure)
Japani Fanatic [Japanese Fanatic] (Based on Dragon by Clive Cussler. suspense adventure)
Shwarnokoni [Gold Mine] (Based on Valhalla Rising by Clive Cussler. treasure hunting suspense adventure)
Princess Hiya [Princess Hiya] (Based on Flood Tide by Clive Cussler. Treasure hunting adventure)
Rokto Pipasa [Blood Thirst] (Based on Inca Gold by Clive Cussler. Adventure thriller)
Harano Atlantis [The Lost Atlantis] (Based on Atlantis Found by Clive Cussler. Adventure thriller)
Haamla [Raid] (Based on The Mediterranean Caper by Clive Cussler. Thriller)
Abar U Sen [Again U Sen] (Based on For Special Services by John Gardner. A James Bond novel.)
Onuprobesh [Infiltration] (Based on Nobody Lives Forever by John Gardner. A James Bond novel.)
Dui Number [Number Two] (Based on Icebreaker by John Gardner. Action Thriller. A James Bond novel.)
Krisnopokkho [Dark Moon] (Based on Brokenclaw by John Gardner. A James Bond novel.)
Opocchaya [Phantom] (Based on Death is Forever by John Gardner. A James Bond novel.)
Double Agent [Double Agent] (Based on No Deals, Mr. Bond by John Gardner. A James Bond novel.)
Sattya Baba [Father Truth] (Based on Scorpius by John Gardner. A James Bond novel.) Akroman '89 [Attack '89] (Based on Win, Lose or Die by John Gardner. A James Bond novel.)
Neel Bajro [Blue Thunder] (Based on Goldeneye by John Gardner. A James Bond novel.)
Mrityu Pother Jatri [Passenger of Death] (Based on COLD aka Cold Fall by John Gardner. A James Bond novel.)
Neel Atonko [Blue Terror] (Based on The Satan Bug by Alistair MacLean. suspense thriller)
Kuuu! [Kuuu!] (Based on Breakheart Pass by Alistair MacLean. adventure thriller)
Durgom Durgo [The Unreachable Fortress] (Based on The Guns of Navarone by Alistair MacLean. spy adventure)
Mrityuprohor [Hour of Death] (Based on Where Eagles Dare by Alistair MacLean. spy adventure)
Shwarnodeep [The Island of Gold] (Based on Bear Island by Alistair MacLean. suspense adventure)
Ambush [Ambush] (Based on Night Without End by Alistair MacLean. Spy adventure)
Khapa Nortok [Mad Dancer] (Based on The Dark Crusader by Alistair MacLean. Adventure)
Lelingrad [Lelingrad] (Based on Ice Station Zebra by Alistair MacLean. Adventure)
Probesh Nished [No Entry] (Based on Puppet on a Chain by Alistair MacLean. Thriller)
Gypsy [Gypsy] (Based on Caravan to Vaccarès by Alistair MacLean. Thriller)
Shotorko Shoitan [Cautious Devil] (Based on The Way to Dusty Death by Alistair MacLean. Thriller)
Spordha [Dare] (Based on The Golden Gate by Alistair MacLean. Thriller)
Sagor Konna [Sea Maiden] (Based on Seawitch by Alistair MacLean. Thriller)
Ratnodweep [Island of Jewels] (Based on When Eight Bells Toll by Alistair MacLean. Thriller)
Biparjoy [Devastation] (Based on Double Jeopardy by Colin Forbes. Suspense Thriller)
Moron Khela [Death Game] (Based on Target Five by Colin Forbes. Arctic Adventure.)
Tushar Jatra [Snow Journey] (Based on Avalanche Express by Colin Forbes. Spy thriller.)
Zimmy [Hostage] (Based on Hostage Tower by John Denis. Thriller)
Nokol Rana [Duplicate Rana] (Based on Air Force One is Down by John Denis. Suspense adventure)
Shomoyshima Moddhorat [Deadline Midnight] (Based on Midnight Plus One by Gavin Lyall. Suspense adventure)
Moru Zatra [Desert Journey] (Based on This Is For Real by James Hadley Chase. Spy Thriller)
Tikto Obokash [A Bitter Holiday] (Based on You Find Him, I'll Fix Him by James Hadley Chase. Crime Thriller)
Nil Chobi [Blue Film] (Based on The Whiff of Money by James Hadley Chase. Thriller)
Mrityu Faad [Death Trap] (Based on There's a Hippie on the Highway by James Hadley Chase. Thriller)
Juari [Gambler] (Based on Just the Way It Is by James Hadley Chase. Thriller)
Bideshi Guptochor [The Foreign Spy] (Based on Mission to Venice by James Hadley Chase. Thriller)
Black Spider [Black Spider] (Based on Mission to Siena by James Hadley Chase. Thriller)
Protihingsha [Hatred] (Based on Just Another Sucker by James Hadley Chase. Thriller)
Nakol Biggyani [The Fake Scientist] (Based on Believed Violent by James Hadley Chase. Spy Thriller)
Swopner Bhalobasha [Love of Dreams] (Based on The Flesh Of The Orchid by James Hadley Chase. Thriller)
Espionage [Espionage] (Based on You Have Yourself a Deal by James Hadley Chase. Spy Thriller)
Rana Shabdhan [Rana Beware] (Based on Assignment - Cong Hai Kill by Edward S. Aarons. Thriller)
Duronto Eagle [Restless Eagle] (Based on Assignment - White Rajah by Edward S. Aarons. Thriller)
Shoitaner Dut [Satan's Emissary] (Based on The Copenhagen Affair by John Oram. A The Man from U.N.C.L.E. Novel)
Charidike Shatru [Enemy all around] (Based on Firefox by Craig Thomas. Spy thriller)
Atol Singhashon [The Unshakable Throne] (Based on SAS Versus the CIA by Gérard de Villiers.)
Mrityur Thikana [Death's Address] (Based on West of Jerusalem by Gérard de Villiers.)
Durobhisondhi [Sinister Motive] (Based on Inca Death Squad by Nick Carter. Thriller)
Moru Konna [Desert Girl] (Based on The Z Document by Nick Carter.)
Killer Cobra [Killer Cobra] (Based on Codename: Werewolf by Nick Carter.)
Anonto Jatra [Endless Journey] (Based on Campbell's Kingdom by Hammond Innes.)
Jatra Oshubho [The Ominous Journey] (Based on The White South by Hammond Innes. Antarctic adventure.)
Laal Paharr [Red Mountain] (Based on Mackenna's Gold by Heck Allen. Treasure-hunting adventure.)
Jalrakkhosh [Water Monster] (Based on Killer by Peter Tonkin. Creature-hunting adventure.)
Ami Sohana [I Am Sohana] Based on A Taste for Death by Peter O'Donnell. A Modesty Blaise Novel)
Shakkhat Shoitan [Real Devil] Based on I, Lucifer by Peter O'Donnell. A Modesty Blaise Novel)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28833888 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28833888 2008-08-23 11:47:02
ভিক্ষা চাই না মা, কুত্তা সামলা ! ১৫০ টাকা কেজি শরিষার তেল, ১২০ টাকা সয়াবিন,
৪০ টাকা কেজি চাউল, ৬৫ টাকা কেজি ডাউল
১২০০ টাকা গ্যাস, ৪ টাকার রিক্সাভারা ৯ টাকা, ৮২ টাকার বাচ্চার দুধের কৌটা ৩২২ টাকা , আর লিস্ট দিতে পারতেসিনা , মাথা চক্কর দিতেসে, ইনকাম তো যেই লাউ সেই কদু। সোনা বাপ আমার, ফিরা যাও ক্যান্টনমেন্টে, আমি মিগ দুর্নিতী নিয়াই বাস করতে রাজি। তা ও জানে বাঁচি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28793061 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28793061 2008-05-01 00:43:26
rePost: পোষ্ট মর্টেম জামাতে ইসলাম : শেষ পর্ব
মওদুদী সাহেব তাঁর তফসীরের এক স্থানে লিখেছেন,“আল্লাহ্‌ সর্বপ্রথম যে মানুষটি সৃষ্টি করেন তাকে তিনি একথাও বলে দিয়েছিলেন,হাকিকত বা সত্য কি এবং তোমার জন্য সঠিক পথ কোনটি। কিছুকাল পর্যন্ত আদমের বংশধররা সঠিক পথে ছিলো এবং একই উম্মত বা জাতি হিসেবে থাকে। মানুষ নতুন নতুন রাস্তা বের করে এবং বিভিন্ন মত ও পথ উদ্ভাবন করে। (এই উদ্ভাবন)এজন্য নয় যে,তাদের সঠিক পথ জানা সত্ত্বেও তাদের কেউ কেউ নিজের বৈধ অধিকার অতিক্রম করে আরো ফায়দা ও মুনাফা হাসিল করতে চাচ্ছিলো। এই মন্দ প্রবণতা দূর করার জন্য আল্লাহ্‌ তায়ালা নবীদের পাঠানো শুরু করেন”। (তাফহিমুল কোরআন/১৬২ পৃষ্ঠা-মওদুদী।)

মওদুদী সাহেব তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে সর্বজ্ঞ ও সর্বদ্রষ্টা মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার অসীম জ্ঞানের ওপর কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মন্তব্যের অর্থ দাঁড়ায়, প্রথমে আল্লাহ্‌ তায়ালার নবী-রাসুল পাঠানোর পরিকল্পনা ছিলো না। মানুষকে তিনি সঠিক পথের জ্ঞান দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান। এই পদ্ধতিতে আল্লাহ্‌ তায়ালা মানুষ কে সঠিক পথে রাখতে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি নবী-রাসুল পাঠানো শুরু করেন। মওদুদীর এই ব্যাখ্যা দ্বারা আল্লাহ্‌ তায়ালার জ্ঞানকে অসম্পূর্ণ বুঝানো হয়েছে। তাঁর এই উক্তি কোরআন-হাদীসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

নবী রাসুলদের নিষ্পাপ হওয়া সম্পর্কে সকল ইমাম-মুজতাহিদ ও ইসলামিক চিন্তাবিদরা অভিন্ন মত পোষণ করেন। কিন্তু শুধু মওদুদী সাহেব ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি বলছেন,“ইসমত বা নিষ্পাপ হওয়াটা মূলত নবীদের প্রকৃতিগত গুণ নয়। বরং নবুয়তের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য আল্লাহ্‌ তায়ালা কৌশলগতভাবে তাঁদেরকে ভুলত্রুটি ও পদস্খলন থেকে নিরাপদ রেখেছেন। নতুবা তাঁদের ওপর আল্লাহ্‌ তায়ালার হেফাজত ক্ষনিকের জন্য উঠে গেলে সাধারণ মানুষের মত তাঁরাও ভুলভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় এই যে, আল্লাহ্‌ তায়ালা ইচ্ছে করেই প্রত্যেক নবীর উপর থেকে কোন না কোন সময় তাঁর হেফাজত উঠিয়ে নেন এবং তাঁকে দু’একটি গুনাহে লিপ্ত হতে দেন। তাতে করে মানুষ যেন নবীদেরকে খোদা বলে ধারণা না করে এবং জেনে রাখে এঁরাও মানুষ” (তাফহিমাত,২য় খণ্ড,৪৩ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)

মওদুদী সাহেবের এই উক্তিটি ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। অত্যন্ত স্পষ্ট। ইসলামের নামে তিনি সম্পূর্ণ ভুল ও বাতিল ধারণা প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর এই অভিমত প্রমাণের জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন নবী ও রাসুলের নিষ্পাপ জীবনকে কলঙ্কিত করার দৃষ্টতা দেখিয়েছেন। হযরত মুসা (আঃ) সম্পর্কে মুওদুদী সাহেব বলেছেন,‘নবী হওয়ার পূর্বে হযরত মুসা (আঃ) দ্বারা একটি বড় গুনাহ হয়েছিলো। তিনি এক ব্যাক্তিকে কতল করেছিলেন।” (রাসায়েল ও মাসায়েল,প্রথম খণ্ড,৩১ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)

মূলত হযরত মুসা (আঃ) ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কতল বা খুন করেন নি। সেকালে মিসরে কিবতী বংশীয়রা ছিল শাসক। তারা বনি ইসরাইলীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাতো। একদিন এক কিবতী একজন বনি ইসরাইলীকে মারধোর করছিলো। নির্যাতিত লোকটি হযরত মুসা সাহায্যে প্রার্থনা করে। হযরত মুসা অত্যাচারী কিবতীকে একটি ঘুষি মারেন। তাতে ঘটনাচক্রে লোকটি মারা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মওদুদী সাহেব হযরত মুসাকে খুনী হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

মওদুদী সাহেব পবিত্র কোরআনের একটি ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে হযরত ইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে বলেছেন,“এখানে আর একটি প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে,হযরত ইবরাহীম (আঃ)যখন নত্র দেখে বলেছিলেন,‘এটা আমার প্রতিপালক’ এবং চন্দ্র-সূর্য দেখে এগুলোকে নিজের প্রতিপালক হিসেবে অভিহিত করেন তখন সাময়িকভাবে হলেও তিনি কি শিরক-এ নিপতিত হন নি ?........” ( তাফহিমুল কোরআন,১ম খণ্ড, ৫৫৮ পৃষ্ঠা।)

হযরত ইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে এ ধরনের প্রশ্ন ওঠানোই একটা চরম দৃষ্টতা ছাড়া কিছু নয়। কারণ নবী-রাসুলগন নবুয়াত লাভের আগে ও পরে নির্বিশেষে জন্মগতভাবেই নিষ্পাপ। আর ইসলাম বলে, আল্লাহ চাইলে সকল পাপ মাফ করবেন, কিন্তু তিনি শিরক মাফ করবেন না। তাহলে, কি মওদূদীর ভাষ্য অনু্যায়ী, আমাদের মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) দো্যখে যাবেন? আল্লাহ মাফ করুন আমাদের।

মুওদুদী সাহেব তাঁর তফসীরে হযরত ইউনুস (আঃ) সম্পর্কে বলেছেন, “হযরত ইউনুস দ্বারা নবুয়তের দায়িত্ব পালনে কিছুটা অবহেলা বা অসতর্কতা হয়েছিলো।” (তাফহিমুল কোরআন,২য় খণ্ড, সুরা ইউনুস।)

মওদুদীর উদ্ভট অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত। এর দ্বারা শুধু হযরত ইউনুসই সমালোচিত হন নি,আল্লাহ্‌ তায়ালার নবী মনোনয়নেও কটাক্ষ করা হয়েছে। কারণ তাঁর মন্তব্য থেকে বোঝা যায়,আল্লাহ্‌ তায়ালা কর্তৃক হযরত ইউনুসকে নবী নির্বাচন সঠিক হলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

মওদুদী সাহেব হযরত ইউসুফকে (আঃ) বিংশ শতাব্দীর ঘৃণ্য ডিকটেটর মুসোলিনীর সাথে তুলনা করেছেন। তিনি আল্লাহর নবী হযরত ইউসুফের মর্যাদাকে মুসোলিনীর সমমর্যাদার বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন,
“ ইউসুফের (আঃ) দাবি নিছক অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদ প্রার্থনাই ছিলো না,যেমনটি কোন কোন লোক ধারণা করে থাকে। বরং তা ছিলো ডিকটেটরশিপ লাভের দাবি। এর ফল হিসেবে হযরত ইউসুফের (আঃ) যে মর্যাদ অর্জিত হয়েছিল, তা ছিল অনেকটা বর্তমান মুসোলিনীর মর্যাদার অনুরূপ।” (তাফহিমাত,২য় খণ্ড,১২২ পৃষ্ঠা।)

পবিত্র কোরআনে হযরত ইউসুফের (আঃ) এর নামে একটি সুরা রয়েছে। উক্ত সুরাকে আল্লাহ্‌ তায়ালা ‘সুন্দরতম কাহিনী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর মওদুদী সাহেবের ভাষায় হযরত ইউসুফ ডিকটেটরশিপের দাবি করেছিলেন। তিনি হযরত ইউসুফকে ইতিহাসের অন্যতম ঘৃন্য ব্যাক্তি মুসোলিনীর সমমর্যাদায় নামিয়ে এনেছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালার সম্মানিত নবী সম্পর্কে এর চেয়ে ধৃষ্টতামূলক উক্তি আর কি হতে পারে।

হযরত দাউদ (আঃ) সম্পর্কে মওদুদী সাহেব বলেছেন,“উরইয়ার স্ত্রীর ব্যাপারটির মূলতত্ত্ব শুধু এতটুকু ছিলো যে, হযরত দাউদ (আঃ) সমকালীন ইসরাইলী সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উরইয়ার নিকট তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন।.........” (তাফহিমাত,২য় খণ্ড, ৪২ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)

হযরত দাউদ (আঃ) সম্পর্কে মওদুদীর এই মন্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর। কারণ পূতপবিত্র নবী-রাসুলগণ কোন অবস্থাতেই সামাজিক কুপ্রথা দ্বারা প্রভাবিত হন নি। বিশিষ্ট তফসীরকারদের অভিমত হলো,উরইয়ার স্ত্রীর ঘটনাটাই কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন।এই কাহিনী ইয়াহুদীদের প্রচলিত কাহিনী। মওদূদী সাহেব ইয়াহুদীদের কাহিনি প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছিলেন কি কারনে?

হযরত দাউদ (আঃ) সম্পর্কে জনাব মওদুদী আরো বলেছেন,“এর দ্বারা স্বভাবতই প্রকাশিত হয়,যে কাজ তাঁর (হযরত দাউদ) দ্বারা হয়েছিলো তাতে তাঁর কুপ্রবৃত্তির কিছু না কিছু দখল বা প্রভাব ছিলো। তাঁর শাসকসুলভ অসঙ্গত ব্যবহারেরও কিছুটা সম্পর্ক ছিলো। আর তা এমন কাজ ছিলো,যা ন্যায়পরায়ণ কোন শাসকের জন্য শোভনীয় ছিলো না।” (তাফহিমুল কোরআন,৪র্থ খণ্ড,২২৭ পৃষ্ঠা।)

পবিত্র কোরআনে হযরত দাউদের (আঃ) প্রতি আল্লাহ্‌ তায়ালা তাঁর বিশেষ অনুগ্রহের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা হযরত দাউদের উচ্চ প্রশংসা করেছে। কিন্তু মওদুদী সাহেব এই মহান মর্যাদার অধিকারী রাসুলকে ‘কুপ্রবৃত্তির বশীভূত ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী’ বলে মন্তব্য করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। সত্যি মওদুদী সাহেবের এসব বাতিল ধ্যান-ধারণা দেখে যেকোন বিবেকবান লোক বিস্মিত না হয়ে পারেন না।

মওদুদী সাহেব তাঁর বিভিন্ন লেখায় মহানবী (সঃ) সম্পর্কেও সমালোচনা করেছেন,তাঁর সম্পর্কে ধৃষ্টতামূলক উক্তি করেছেন। দজ্জাল সম্পর্কিত হাদীসগুলো সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন,“এ সম্পর্কে যেসব কথা হুজুরের নিকট থেকে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,মূলত এগুলো ছিল তাঁর অনুমান (কিয়াস)। এসব সম্পর্কে তিনি নিজেও সন্দিগ্ন ছিলেন। এসব কথা তিনি ওহী লাভের ভিত্তিতে বলেন নি,বরং অনুমান করে বলেছিলেন।...” (রাসায়েল ও মাসায়েল,৫৫-৫৬ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
ইসলাম বলে, মহানবী (স নিজে থেকে কিছুই বলেন নাই, তিনি তাই বলেছেন যা আল্লাহ তাকে বলতে বলেছেন।

মহানবীর (সাঃ) হাদীস সম্পর্কে মওদুদী সাহেব বলেছেন,“হাদীস কিছু লোক থেকে কিছু লোক পর্যন্ত অর্থাৎ মানুষের মুখে মুখে বর্ণিত হয়ে আসছে। এসব বড়জোর সঠিক বলে ধারণা করা যায়,কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা যায় না। আর একথা স্পষ্ট যে,আল্লাহর ধর্মের যেসব বিষয় এতো গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলোর দ্বারা ঈমান ও কাফেরের পার্থক্য পরিস্কার হয়ে যায়,সেগুলো কয়েকজন লোকের বর্ণনা নির্ভর করে মানুষকে বিপদাপন্ন করা আল্লাহ তায়ালা কখনো পছন্দ করতে পারেন না।” (রাসায়েল ও মাসায়েল,৬৭ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)

পবিত্র কোরআনের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে মওদুদী সাহেব বলেছেন,“কোরআন করিম হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট; কিন্তু নাজাত বা মুক্তির জন্য নয়।” (তাফহিমাত,প্রথম খণ্ড,প্রথম খণ্ড,৩১২ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
ইসলামিক দৃষ্টিকোন থেকে ইহকালের কল্যান এবং পরকালের নাজাত বা মুক্তিলাভই হচ্ছে হেদায়েত বা সৎ পথ গ্রহনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। মওদুদী সাহেবের মতে পবিত্র কোরআন হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট,মুক্তির জন্য নয়। তাঁর এই উদ্ভট উক্তি থেকে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে,তা’হলে মুক্তির জন্য মানুষ অপর কোন ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ করবে ? সেসব কি মওদুদী রচনাবলি ? মনে হয় স্পষ্ট বলতে সাহস না করলেও কৌশলে তিনি তাই বুঝাতে চেয়েছেন।

নবী-রাসুলদের পরই সাহাবাদের মর্যাদা। তাঁদের সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) বলেছেন,“আমার সাহাবারা নক্ষত্রের মত। তাদের মধ্যে যাকে তোমরা অনুসরণ করবে,সঠিক পথ লাভ করবে।” আর মহানবী প্রশংসিত সাহাবা কেরামরাও মওলানা মওদুদীর সমালোচনা থেকে অব্যাহতি পান নি। তাঁদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন,“দীর্ঘদিনের শিক্ষাদীক্ষার পর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁদেরকে রণাঙ্গনে নিয়ে আসেন। তাঁদের মনমানসিকতায় মহাবিপ্লব চিত্রিত হওয়ার পরও ইসলামের প্রাথমিক যুদ্ধগুলোতে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদের মূল তাৎপর্য অনুধাবনে সাহাবা কেরামরা বারবার ভুল করতেন।” (তরজমানুল কোরআন,রবিউসসানী,১৩৫৭ হিজরী।)

মওদুদী সাহেব সাহাবাদের সম্পর্কে আরো বলেছেন,“সাহাবায়ে কেরামের অনেকে মনগড়া হাদীস বর্ণনা করেছেন।” (তরজমানুল কোরআন,৩৫শ’ সংখ্যা ৩২৭ পৃষ্ঠা।)

“সাহাবাদের মধ্যে জাহিলিয়াতের বদস্বভাবের পুনরাবৃত্তি ঘটে।” (তাফহিমাত,২য় খণ্ড ১৫৫ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
“অনেক সময় সাহাবাদের মধ্যে মানবিক দুর্বলতা প্রাধান্য লাভ করতো। তাঁরা একে অপরকে অক্রমন করে বসতেন এবং পরস্পরে গালিগালাজ শুরু করতেন।” (তরজমানুল কোরআন, মওদুদী)
ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর(রাঃ) সম্পর্কে মওদুদী সাহেব লিখেছেন,“ইসলাম মানুষকে এই নির্দেশ দেয় যে,সে যেন কখোন রিপুর প্রভাবে প্রভাবিত না হয়।....এটা অত্যন্ত সূ ব্যাপার। একবার হযরত আবু বকর সিদ্দিকের মত রিপুর তাড়নামুক্ত খোদাভীরু ও আল্লাহতে নিবেদিতপ্রাণ ব্যাক্তিও তা পূরণ করতে ব্যর্থ হন।”(তরজমানুল কোরআন, মওদুদী)
তরজমানুল কোরআনের একই সংখ্যায় হযরত ওমর (রাঃ) সম্পর্কে মওদুদী সাহেব বলেছেন,“বিশ্ব প্রতিটি উঁচুর সামনে মাথানত করতে অভ্যস্ত ছির। এবং প্রত্যেক বুজর্গ মানুষকে সাধারণ মানুষের স্তর থেকে কিছু না কিছু উর্ধ্বে ধারণা করে আসছিল। এই ধারণার প্রভাব বিলুপ্ত হওয়ার পথও কখনো কখনো স্পষ্ট হয়ে উঠতো...। সম্ভবত এই ব্যাক্তি-শেষ্ঠত্বের ধারণাই রাসুলুল্লাহর
ইন্তেকালের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও কিছুণের জন্য হযরত ওমরকে পরাভূত করে ফেলেছিলো।” (তরজমানুল কোরআন, মওদুদী)

মওদুদী সাহেব হযরত ওসমানের(রাঃ) সমালোচনা করে বলেছেন,
“একদিকে ইসলামী রাষ্ট্র দ্রুত সমপ্রসারণের দরুন কাজ দিন দিন কঠিনতর হচ্ছিল, অপরদিকে হযরত ওসমান যার ওপর এই বিরাট কাজের বোঝা ন্যস্ত করা হয়েছিলো, তিনি ততটা যোগ্যতা ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন না যা তাঁর পূর্বসুরিদের ছিলো। এজন্য জাহিলিয়াত ইসলামী সমাজব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের পথ পেয়ে যায়।” (তাজদীদ ও এহইয়ায়ে দ্বীন,৩৩ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
হযরত ওসমানের (রাঃ) হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধের দাবি উঠানো হলে হযরত মায়াবিয়ার লোকদের উদ্দেশে চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রাঃ) বলেন,
“এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। যথাসময়ে অব্যশ্যই এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেয়া হবে।’ কিন্তু মওদুদী সাহেব হযরত আলীর (রাঃ) এই জবাবের সমালোচনা করে বলেন,“ইনসাফ করো,তুমি যদি মায়াবিয়া হতে কিংবা মায়াবিয়া না হও অন্তত সিরিয়ার একজন সাধারণ নাগরিক হতে,তাহলে বর্ণিত পটভূমির প্রেক্ষিতে তুমি কি আলীর জবাবকে একটা বাহানা,গড়িমসি,ছলনা ও অস্বীকৃতি ছাড়া সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করতে ?” (তাজাল্লী,দেওবন্দ,ডিসেম্বর,১৯৫৭।)
এই উদ্ধৃতিতে মওদুদী সাহেব হযরত আলীকে একজন প্রতারক হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

মহানবী (সাঃ) বলেছেন, প্রত্যেক শতাব্দীতে আল্লাহ তায়ালা একজন কামেল ব্যাক্তি সৃষ্টি করেন। তিনি আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহে সত্য ধর্মকে বাতিলের সংমিশ্রণ বা অনুপ্রবেশ থেকে পূতপবিত্র রাখেন। শরিয়তের পরিভাষায় এধরনের শতাব্দী-শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তিত্বকে ‘মুজাদ্দিদ’ বা সংস্কারক বলা হয়। মুজাদ্দিদের আগমন সম্পর্কে জনাব মওদুদীর বক্তব্য হচ্ছে, “ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে জানা যায়,এ পযর্ন্ত কোন ‘কামেল মুজাদ্দিদের’ আবির্ভাব হয় নি। ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের এই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু তিনি কামিয়াব বা সফল হতে পারেন নি। তারপর যত মুজাদ্দিদের আগমন হয়েছে,তাদের প্রত্যেকে কোন না কোন একটা বিশেষ বিভাগ কিংবা কয়েকটি বিভাগে কাজ করেছেন। কামেল মুজাদ্দিদ বা পরিপূর্ণ সংস্কারকের স্থান এখনো শূণ্য রয়েছে।” (তাজদীদ ও এহইয়ায়ে দ্বীন,৩১ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
মওদুদী সাহেবের এই উদ্ধৃতিটি অতান্ত স্পষ্ট। তাঁর মতে এ পযর্ন্ত যতো মুজাদ্দিদ এসেছেন,তাঁরা সবাই ছিলেন নাকেস বা অসম্পূর্ণ। কামেল মুজাদ্দিদের স্থান এখনো শূন্য। এর দ্বারা তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন,পাঠকরা নিশ্চয়ই তা বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু তাঁর সে আশা পূরণ হলো না। উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কেউই তাঁকে মুজাদ্দিদ দূরের কথা,আলেমের কাতারে স্থান দিতেই রাজি হলেন না।

হযরত ইমাম গাজ্জালীর (রাঃ) সমালোচনা প্রসঙ্গে মওদুদী সাহেব লিখেছেন,“ইমাম গাজ্জালীর সংস্কারমূলক কাজে জ্ঞানগত ও চিন্তাগত দিক থেকে কয়েকটি ত্রুটিও ছিলো। এগুলো তিনটি শিরনামে বিভক্ত করা যেতে পারে। প্রথমত,ইলমে হাদীসে দুর্বলতার দরুন তাঁর গবেষণায় কতকগুলো ত্রুটি দেখা দেয়। দ্বিতীয়ত,তাঁর মধ্যে দর্শনের প্রাধান্য থাকায় কতকগুলো গবেষণায় ত্রুটিবিচ্যুতি দেখা দেয়। তৃতীয়ত,তাসাউফ বা আধ্যাত্মবাদের প্রতি তাঁর প্রয়োজনাতিরিক্ত আকর্ষন থাকার দরুন সৃষ্ট ত্রুটিবিচ্যুতি।” (তাজদীদ ও এহইয়ায়ে দ্বীন,৪৫ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
ইসলামের বিধান অনুযায়ী পবিত্র কোরআনের মনগড়া তফসীর করা হারাম। মহানবী (সঃ) বলেছেন,“যে ব্যাক্তি পবিত্র কোরআনের মনগড়া ব্যাখ্যা করে সে যেন তার স্থান দোযখে তালাশ করে”-(তিরমিযী)। বস্তুত পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা করার কতকগুলো নিয়মনীতি রয়েছে। আর এসব নিয়মনীতি জানতে হলে সাহাবা কেরাম ও তাঁদের পরবর্তীকালের মনীষীদের তফসীর এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষদীক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু মওদুদী সাহেব বলেছেন,“কোরআন ও রাসুলের সুন্নতের শিক্ষাই সবার আগে। তবে তফসীর ও হাদীসের পুরনো ভাণ্ডার থেকে নয়।” (তানকিহাত,১১৪ পৃষ্ঠা -মওদুদী।)
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদীক্ষাহীন মওদুদী সাহেব সুরা বাকারায় রোযা সম্পর্কিত আয়াতের ব্যাখ্য করতে গিয়েও অমার্জনীয় অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। সকল তফসীরকার একমত যে,রোজাদাররা সোবহে সাদেক বা পূর্বাকাশে সাদা আভা প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পানাহার করতে পারবে। এরপর করতে পারবে না। কিন্তু মওদুদী সাহেব উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,“যদি ঠিক সোবহে সাদেকের সময় কারো ঘুম ভাঙ্গে,তাহলে তার জন্য পানাহার করে নেয়া জায়েজ হবে।"
এভাবে আল্লাহ তায়ালার নবী পাঠানো থেকে শুরু করে নবী-রাসুল, সাহাবা,ইমাম-মুজতাহিদ,বিভিন্ন যুগের মুসলিম মনীষী,হাদীস,ফেকাহ্‌ শাস্ত্র প্রভৃতি কোন কিছুই মওদুদী সাহেবের অভিনব গবেষণা ও সমালোচনা থেকে অব্যাহতি পায় নি। তাঁর লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ ও প্রবন্ধরাজির সর্বত্র আপত্তিকর ও ধৃষ্টতামূলক বক্তব্য ছড়িয়ে আছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে এখানে কিছু কিছু বক্তব্য উল্লেখ করা হল। এই উদ্ভট ধ্যান-ধারণার বাস্তব রূপ দেয়ার আকাঙ্খা নিয়ে মওদুদী সাহেব ইসলামের মুখোসধারী জামাত গঠন করেন। বর্তমানে জামাতে ইসলামীও বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের নামে মওদুদী সাহেবের এসব ইসলামবিরোধী উদ্ভট ধ্যান-ধারণার প্রচার করে চলেছে। দেশের সরলমনা ও ধর্মপরায়ণ লোকেরা,বিশেষ করে স্কুল-কলেজ,মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একশ্রেনীর ছাত্র ধর্মের নামে এই বাতিল ধ্যান-ধারণার শিকার হয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে। জামাত দাবি করছে তাদের সব কর্মকাণ্ডই নাকি ইসলাম কায়েম করার জন্য। ইসলামের প্রচার-প্রসার ও প্রতিষ্ঠাই তাদের চরম ও পরম লক্ষ্য। তারা সবকিছুই ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে থাকে। কিন্তু উপমহাদেশের সকল আলেমগন মনে করেন, জামাত ইসলামের মুখোশধারী একটি ফ্যাসিষ্ট চক্র। চল্লিশের দশকের শুরুতে মওদুদী সাহেবের উদ্ভট ধ্যান-ধারনার ফল হিসেবে জামাতের অভ্যুদয় ঘটে। একটি বিশেষ কৌশল হিসেবে মওদুদী সাহেব তাঁর দলের নামে পবিত্র ইসলাম শব্দটি সংযোজন করেন। উপমহাদেশের ধর্মপরায়ণ মুসলমানদের জামাতের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য এই কৌশলটি অবলম্বন করা হয়েছে। তা’ছাড়া যারা জামাতের বিরোধিতা করবে তাদেরকে সহজে ‘ইসলামবিরোধী’ হিসেবে চিত্রিত করা যাবে। সর্বোপরি তাতে পবিত্র ইসলামকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সহজ হবে। বিগত পঞ্চাশ বছরব্যাপী জনাব মওদুদী ও তাঁর অনুসারীরা তাই করেছেন। এখনো করছেন। বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমলে পবিত্র ইসলাম এর নামে বৃটিশের প্রচ্ছন্ন দালালি করা হয়েছে। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনকে ইসলামবিরোধী আন্দোলন বলে অপপ্রচার করা হয়েছে। একই পদ্ধতিতে পাকিস্থান আমলে পবিত্র ইসলামকে সামন্তশ্রেণী ও পুজিঁপতিদের স্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পবিত্র ধর্মের নামে জামাতের এই উন্মাদনা আরো উলঙ্গ রূপ ধারণ করে। জামাত পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগিতা করে। রাজাকার আলবদর বাহিনী গঠন করে লুটতরাজ,নারী ধর্ষণ ও বাঙালি নিধনে নামিয়ে দেয়। স্বাধীনতাউত্তরকালে জামাতের সহিংসতা আরো ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার শ্লোগান দিয়ে মুসলমানদের হত্যা করেছে। এরূপ পরিস্থিতিতে যেকোন সচেতন লোকের মনে এই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক,জামাতের এসব কর্মকাণ্ড এবং জামাতের স্থপতি ও তাত্ত্বিক গুরু জনাব মওদুদী তথাকথিত ইসলামিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকে উপমহাদেশের আলেম সমাজ কিরূপ দৃষ্টিতে দেখেন। তাঁরা কি এসব সমর্থন করেন ? আমরা যতটুকু জানি,দলমত নিবিশেষে উপমহাদেশের কোন খাঁটি আলেমই জামাতের এসব কর্মকাণ্ড সমর্থন করেন না। শুধু সমর্থন করেন না বললে ঠিক হবে না,তাঁরা এসবের চরম বিরোধিতা করে থাকেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র,সাময়িকী ও বই-পুস্তকের মাধ্যমে তাঁরা জামাত ও মওদুদী সম্পর্কে তাদের অভিমত প্রকাশ করে থাকেন। এখানে জামাত ও মওদুদী সম্পর্কে উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় এবং সর্বজনবরেণ্য কয়েকজন আলেমের অভিমত সংক্ষেপে তুলে ধরা হল।
মওদুদী ও মওদুদী জামাত সম্পর্কে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছে। সেখানকার শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ ব্যাক্তিগতভাবেও তাঁদের অভিমত প্রকাশ করেছেন। একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে,
“ মওদুদী ফেতনা নির্মূল করে দাও। মওদুদী আন্দোলন ধ্বংস সাধনকারী ও জীবন সংহারক বিষ। মওদুদীর অনুসারীরা পথভ্রষ্ট। তাদের পেছনে নামাজ পড়বে না।” (মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম,প্রথম খণ্ড,৫৬ পৃষ্ঠা।)
অপর একটি ফতোয়ায় মওদুদীর বই-পুস্তক ও তাঁর সংগঠন জামাত সম্পর্কে বলা হয়েছে,“ মওদুদী জামাত ও এই দলের বই-পুস্তকের দ্বারা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইমামদের অনুসরণের প্রতি অনিহা ও সম্পর্কহীনতার সৃষ্টি হয়। আর এটা সাধারণ মানুষের ধ্বংস ও পথভ্রষ্টতা ডেকে আনে।’-স্বাক্ষর মওলানা মুফতি কেফায়েত উল্লাহ,মওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী,মোহাম্মদ তৈয়ব,মুহতামিম,দারুল উলুম দেওবন্দ,মওলানা আব্দুল লতিফ,মাজাহেরুল উলুম,সাহারাণপুর প্রমুখ।” (দু’মাসআলে,১৬ পৃষ্ঠা, দার"ল উলুম দেওবন্দ।)
এই ফতোয়াটিতে ভারতের সমকালীন অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ স্বাক্ষর প্রদান করেন। হযরত মওলানা আশরাফ থানবী (রঃ) বলেছেন,“আমার অন্তর এই আন্দোলনকে গ্রহন করে না।” (দৈনিক আলজমিয়ত,৩০শে আগষ্ট,১৯৫১।)
আহলে হাদীস জামাতের নেতা ও বিশিষ্ট আলেম হযরত মওলানা আব্দুল মজিদ বলেছেন,“আমি যতদুর পর্যন্ত মওলানা মওদুদীর বই-পুস্তক পড়েছি এবং তাঁর ধ্যান-ধারণা অনুসন্ধান করেছি,তাতে তাকে পথভ্রষ্ট পেয়েছি। আমি দোয়া করি,আল্লাহ তায়ালা তাকে তার ধ্যান-ধারণা পরিত্যাগ ও তওবা করার সামর্থ্য দান করুন।” (মওদুদীয়াত কা পোষ্ট মরটাম,৪১-৪২ পৃষ্ঠা।)
তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মওলানা ইলিয়াস সাহেবের উত্তরসুরি তাঁর পুত্র হযরত মওলানা মোঃ ইউসুফ মওদুদী জামাতের কয়েকজন সদস্যের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন,“ মওদুদী জামাত একটি রাজনৈতিক ও মতালোভী দল। তারা এমন জিনিসের প্রত্যাশী যা শরিয়তের দৃষ্টিতে পরিত্যাজ্য। (জামায়াতে ইসলামী কা র"খে কেরদার,১৭৪ পৃষ্ঠা।)
বেরেলবী চিন্তাধারার বিশিষ্ট আলেম হযরত মওলানা মোস্তাফা খান সাহেব বেরেলবী ও মওলানা সাইয়েদ আফজাল হোসাইন মওদুদী জামাত ও তাঁর ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে একটি ফতোয়া প্রদান করেন। তাতে তাঁরা বলেন,“কিছুদিন আগে এক ব্যাক্তি মওদুদীর ভাষনের প্রথম খণ্ডটি আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। আমরা তা গভীরভাবে দেখি। তাতে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌছি যে,তিনি ইসলামের প্রচার-প্রসার ও উন্নতি বিধানের দাবি করে থাকেন। কিন্তু মূলত তার আন্দোলন ইসলামের ছিদ্র অন্বেষণ,মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং কুফরি ও কাফেরি ছাড়া কিছু নয়। তিনি ইসলামের ভিন্ন অর্থ করে থাকেন। সাধারণ মুসলমানদের তিনি মুসলমান মনে করেন না। তিনি জন্মগত মুসলিম সন্তান সন্ততিকে বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পযর্ন্ত মুসলমান স্বীকার করেন না। তিনি বলেন,
ইসলাম প্রকৃতিগত ধর্ম নয়। অজ্ঞ মুসলমানরা তাঁর মতে মুসলমান নয়। শুধু তাই নয়,তিনি বলেন, অজ্ঞদের মুসলমান হওয়া অসম্ভব ব্যাপার।......মোট কথা মওদুদী সাহেবের আন্দোলন কোন নতুন আন্দোলন নয়। পুরনো খারেজী ধ্যান-ধারণাই নতুন রূপ ধারণ করেছে।.......” (ফেতনায়ে মওদুদীয়াত,৫৮ পৃষ্ঠা।)
অল ইণ্ডিয়া আহলে হাদীস কনফারেন্সের সভাপতি বিশিষ্ট মুহাদ্দিস মওলানা আব্দুল ওহাব বলেছেন,“আমি আহলে হাদীস ভাইদের অনুরোধ করছি, তারা যেন নিজেদেরকে এই সংক্রামক ব্যাধি থেকে রা করে। নতুবা এই ব্যাধি শুধু তাদেরকে নয়,পুরো আহলে হাদীস জামাতকে ধ্বংস করে ফেলবে।” (মওদুদী জামায়াতের স্বরূপ,৩৬৫ পৃষ্ঠা-মওলানা আজিজুর রহমান।)
সরসীনা দারুস সুন্নাহ থেকে প্রকাশিত একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, “জনাব মুওদুদী তাঁর বাতিল আকিদা প্রচারের উদ্দেশ্যেই জামায়াতে ইসলামী নামে মওদুদী জামায়াত কায়েম করেছেন। তদুপরি এটাও অনস্বীকার্য যে,নেতার আক্বায়েদ ও ধ্যান-ধারণা অজ্ঞাতসাই কর্মিদের মধ্যে সংক্রমিত হয়ে থাকে।... এজন্য কেবলমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও মওদুদী জামায়াতে শামিল হওয়া জায়েজ নয়।” (মওদুদী জামায়াতের স্বরূপ,৩৪৫ পৃষ্ঠা-মওলানা আজিজুর রহমান।)
এই ফতোয়ায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পঁচাত্তরজন আলেম স্বাক্ষর করেছেন।
চট্টগ্রাম হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার মুফতি হযরত মওলানা ফয়জুল্লাহ মওদুদী জামাত সম্পর্কে একটি ফতোয়া প্রদান করেন। তাতে তিনি বলেছেন,“মওলানা মওদুদী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতি ও মতবাদ-বিরোধী বিভ্রান্তিকর ও ত্রুটিপূর্ণ ধ্যান-ধারণা পোষণকারী। তাঁর অধিকাংশ লেখায় বিগত মনীষী,সাহাবা কেরাম,তাবেয়ীন,ইমাম মুজতাহিদ ও আওলিয়া কেরামের প্রতি বেআদবি প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর ধৃষ্টতামূলক আক্রমন থেকে মহান নবীরাও রেহাই পান নি। সুতরাং এই দলের সাথে ওঠাবসা করা,সংস্রব রাখা মুসলমানদের জন্য কোন অবস্থাতেই জায়েজ নয়।”(মওদুদী জামায়াতের স্বরূপ, ৪১৬ পৃষ্ঠা-মওলানা আজিজুর রহমান।)
তাঁর এই ফতোয়ার প্রতি অভিন্ন মত প্রকাশ করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের ১৭ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম স্বার করেন। এই ফতোয়ায় স্বারদান প্রসঙ্গে ব্রহ্মণবাড়িয়ার হযরত মওলানা তাজুল ইসলাম লিখেছেন,“আমি মুফতি ফয়জুল্লাহ সাহেবের অভিমত সমর্থন করি। বস্তুত মওদুদী ফেতনা কাদিয়ানী ফেতনার চেয়ে কম নয়।”
বিশিষ্ট মুহাদ্দিস হযরত মওলানা জাকারিয়া (রঃ) মওদুদী জামাত সম্পর্কে ‘ফিতনায়ে মওদুদীয়াত’ শীর্ষক একটি তথ্যসমৃদ্ধ পুস্তক লিখেছেন। তিনি তাঁর এই পুস্তকে মওদুদী জামাতের ইসলামবিরোধী বিষয়গুলো পবিত্র কোরআন-হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি তাঁর বইয়ের এক জায়গায় মওদুদী জামাত সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন,“আমি এই ভ্রান্ত দলে যোগদান করা হারাম মনে করি। তাদের বই-পুস্তক পাঠ করা অত্যন্ত ক্ষতিকর।”
খেলাফত আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর মওদুদী জামাত সম্পর্কে ‘সতর্কবাণী’ শিরোনামে একটি পুস্তক লেখেন। তাতে তিনি মওদুদীর ভ্রান্ত মতবাদ ও জামাতে ইসলামীকে মুসলমানদের ঈমান ও ধর্মবিশ্বাস ধ্বংসকারী ফিতনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি মুসলমানদেরকে ইসলামের মুখোশধারী এই দল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
হাফেজ্জী হুজুরের এই পুস্তকে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় চার শতাধিক আলেম অভিন্ন মত প্রকাশ করে স্বার করেন। উপমহাদেশের সকল মত ও পথের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের উল্লেখিত ভাষ্যগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট। এগুলো ব্যাখ্যা করার কোন প্রয়োজন নেই। তাঁরা অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় জনাব মওদুদী ও তাঁর ধ্যান-ধারণার বাস্তব রূপ জামাত সম্পর্কে তাঁদের সুচিন্তিত অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইসলামের মুখোশধারী জামাতের আসল রূপটি এসব দেশবরেণ্য আলেমদের নিকট অস্পষ্ট নয়। তাই তাঁরা জামাতকে মুসলমানদের বাতিল ফেরকা খারেজি ও কাদিয়ানী সমপ্রদায় থেকেও নিকৃষ্টতর এবং মুসলমানদের ঈমান-আকিদার জন্য মারাত্মক তিকর বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। শুধু উল্লেখিত আলেমগণই নন,উপমহাদেশের খাঁটি আলেমরা সবাই জামাতের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিমত প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অনেকে বিভিন্ন ভাষায় জামাতের বিরুদ্ধে পুস্তক লিখেছেন। এই সংপ্তি পরিসরে সেসব উল্লেখ করা সম্ভব নয়। আমরা মনে করি,জামাত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে যেকোন সত্যসন্ধ মুসলমানের জন্য আমাদের উল্লিখিত ওলামা কেরামের অভিমতই যথেষ্ট।

--তথ্যসূত্র মাওলানা আবদুল আওয়াল, মুক্তি্যুদ্ধ তথ্য ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল্য়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28789405 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28789405 2008-04-19 22:36:38
rePost: পোষ্ট মর্টেম জামাতে ইসলাম : পর্ব ২
সাজালে বোঝা যাবে কতখানি নিচ এবং তৃতীয় শ্রেনীর রাজনীতিক ছিলেন তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
টিক্কা খানের কামানের গোলায় যখন ঢাকা শহর আগুনে জ্বলছিল,তখন গোলাম আযম ৬ এপ্রিল,১৯৭১ টিক্কা খানের সাথে দেখা করে পাকিস্তানি সৈন্যদের পদেেপর প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন জ্ঞাপন করেন।(দৈনিক সংগ্রাম,৭এপ্রিল,১৯৭১)।
৭ এপ্রিল গোলাম আযম সংবাদপত্রে এক বিবৃতিতে বলেন,সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের(মুক্তিবাহিনীদের-লেখক)দেখামাত্র খতম করে দেওয়া হবে। (দৈনিক সংগ্রাম,৮এপ্রিল,১৯৭১)।
১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। গোলাম আযম এই শান্তি কমিটির শীর্ষস্থানীয় সদস্য হিসেবে যোগদান করেন।।(দৈনিক সংগ্রাম,১১এপ্রিল,১৯৭১)।
১২ এপ্রিল ছাত্র সংঘ নেতা মতিউর রহমান নিজামী,মোহাম্মদ ইউনুস,
নুরুল ইসলাম,শাহ জমাল চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন,স্বাধীন বাংলা গোলামে পরিনত করবে।
১২ এপ্রিল ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তি কমিটির মিছিলে গোলাম আযম নেতৃত্ব দেন এবং মিছিল শেষে গোলাম আযম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।।

(দৈনিক সংগ্রাম,১৩ এপ্রিল,১৯৭১)।
১৪ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম বলে যে, দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সকল ঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে এবং সকল অনুপ্রবেশকারী মুক্তিবাহিনীকে নির্মূল করা হয়েছে।
১৫ এপ্রিল জামায়াতে ইসলামের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম পাকিস্তানি সৈন্যদের গ্রামাঞ্চালে গিয়ে দুষ্কৃতকারীদের(মুক্তিবাহিনীকে) আক্রমন করার পরামর্শ দেয়।
২২ এপ্রিল জামালপুরে ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে জামালপুরে প্রথম আলবদর বাহিনী গঠিত হয়। মে মাসে জামায়াত নেতা ইউসুফের নেতৃত্বে খুলনায় রাজাকার

বাহিনী প্রথম কাজ শুরু করে।
২২ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে যে,মাননীয় প্রেসিডেন্ট ইয়হিয়া খান ও টিক্কা খানের সময় উপযোগী পদেেপর জন্য পাকিস্তান রা পেয়েছে।
২৩ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনী ধরার জন্য বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করার পরামর্শ দেয়।
গোলাম আযম পরিচালিত দৈনিক সংগ্রাম ৩০ এপ্রিল সংখ্যায় বলে যে,
যারা পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ করেছিল তাদের পাকিস্তানে জায়গা হবে না।
পয়লা মে দৈনিক সংগ্রাম বলে,দেশের শান্তির জন্য দুষ্কৃতকারীর (মুক্তিবাহিনীর) মূল উৎস উৎখাত হওয়া প্রয়োজন। পত্রিকাটি আরো মন্তব্য করেন,দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিবাহিনীকে)

নিমূল করা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া,পূর্ব পাকিস্তানে ‘বাংলাদেশ সরকার’ নামক কোন কিছুর অস্তিত্বও নেই বলে দৈনিকটি উল্লেখ করে।
৪ মে জামায়াতের এই দৈনিক পত্রিকাটি মুক্তিবাহিনীকে ধরিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করে। পত্রিকাটি বলে,এটা হবে ‘ঈমানি দায়িত্ব’।
৬ মে দৈনিক সংগ্রাম বলে, ‘বাংলাদেশ’ওয়ালারা ভূত তা অকল্যাণ বয়ে এনেছে।
২৫ মার্চ রাতের গনহত্যা ও ধ্বংসলীলাকে সমর্থন করে নির্লজ্জের মতো জামায়োতে ইসলামীর মুখপত্রটি ৮ মে তারিখের সংখ্যায় বলে,শেখ মুজিব ২৬ মার্চ সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলা কায়েমের পরিকল্পনা এঁটে ছিলেন। সেনাবাহিনী তা ২৫ মার্চ হঠাৎ আক্রমন চালিয়ে এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে আমাদের পাকিস্তানকে বাঁচিয়েছে।
২৪ মে জামায়োতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মসমপর্ণের আহ্বান জানায়। পত্রিকাটি বলে,‘গেরিলাগিরির’ নামে মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা পািকস্তানি সেনাবাহিনী তছনছ করে দেবে।
২৭ মে দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনী ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করে।
এদিন পত্রিকাটি মুক্তিবাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার করার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনির কাছে আবেদন জানায়।
২৮ মে জামায়োতে ইসলামীর পত্রিকাটি মুক্তিবাহিনী নির্মূলের জন্য অস্ত্রশস্ত্র দাবি করে। তারা একই সাথে বেসমরিক পোশাকধারী একটি বাহিনী গঠনেরও পরামর্শ দেয়।
১৩ জুন জামায়োতে ইসলামী বলে,‘গেরিলাগিরির’ নামে যেসব দুষ্কৃতকারী দেশের শান্তি ব্যাহত করছে,সামরিক কর্তৃপরে অনুমতিক্রমে প্রয়োজনীয় হাতিয়ার নিয়ে গেরিলা পদ্ধতিতেই

দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিবাহিনীকে) নির্মূল করার জন্য গ্রাম প্রতিরা বাহিনী গঠন করতে হবে।(দৈনিক সংগ্রাম,১৩ জুন,১৯৭১)।
১৫ জুন দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনিকে খতম করার জন্য শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর দিকে তাকিয়ে না থেকে পাকিস্তানপন্থীদের পথ বেছে নিতে বলা হয়।
১৭ জুন গোলাম আযম বলেন,দুষ্কৃতকারীরা (মুক্তিযোদ্ধারা) এখনও ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন,এদের যদি পকিড়াও করা হয়,তবেই পরিস্থিতি দমন করা যাবে। (দৈনিক

সংগ্রাম,১৭ জুন,১৯৭১)।
২০ জুন গোলাম আযম লাহোরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন,যারা প্রকাশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু করেছিল,তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী

সকল দুষ্কৃতকারী(মুক্তিযোদ্ধ) উৎখ্যাত করেছে। তিনি মুক্তিবাহিনী মোকাবেলার জন্য সরকারের কাছে অস্ত্র সরবরাহের দাবি জানান। (দৈনিক সংগ্রাম,২১ জুন,১৯৭১)।
২২ শে জুন গোলাম আযম এক সাাৎকারে বলেন,তারা কখোনই পাকিস্তান ত্যাগ করতে পারবেন না। এই জন্য কোরবানি দেওয়ার জন্যেও তাঁর কর্মীরা প্রস্তুুত রয়েছে।
একই দিন গোলাম আযম এক কর্মিসভায় বলেন,বেআইনী ঘোষিত আওয়ামী লীগ কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানে সৃষ্ট সামপ্রতিক গোলযোগ ১৮৫৭ সালের বাংলা বিদ্রোহের চেয়েও দশগুন বেশি শক্তিশালী

ছিল। তিনি ২৩ জুন বলেন,পূর্ব পাকিস্তানি ভাইয়েরা সর্বদাই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে বাস করবে।(দৈনিক সংগ্রাম,২২ জুন ও ২৩ জুন,১৯৭১)।
২২ জুন গোলাম আযম এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যেসব দল আন্দোলন করছে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষনার আহ্বান জানান।(দৈনিক সংগ্রাম,২৩ জুন,১৯৭১)।
৩০ জুন গোলাম আযম এবং তার রাজনৈতিক পিতা মাওলানা মওদুদী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সংসদ সদস্যদের পদ বাতিল ঘোষনা করায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে অভিনন্দন জানান। (দৈনিক

সংগ্রাম,৩০ জুন,১৯৭১)।
একই দিন জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করাকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা বলে অভিহিত করে।
৪ জুলাই দৈনিক সংগ্রাম এক উপসম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ‘ইহুদী ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করে।
৪ জুলাই ইসলামী ছাত্রসংঘের পরিচালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে ুদ্র অস্ত্রের সাহায্যে রাজাকারদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী লড়াইয়ের প্রশিন শুরু করা হয়।
(দৈনিক সংগ্রাম, ৪ জুলাই, ১৯৭১)।
৮ জুলাই জামায়াতে ইসলামী মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়। একই দিন দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে,পাকিস্তান টিকে থাকার জন্যেই এসেছে।
৯ জুলাই থেকে জামায়াতে ইসলামী,তার নেতারা এবং দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনীকে দুষ্কৃতকারীর সাথে ‘ডাকাত’ নামে অভিহিত করতে শুরু করে।(দৈনিক সংগ্রাম, ৯ জুলাই, ১৯৭১)।
১৬ জুলাই দৈনিক সংগ্রাম এবং জামায়াতের নেতারা ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নির্মিত ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি পকিস্তানি সেনাবাহিনী ভেঙ্গে ফেলায় অভিনন্দন জানায়।
একই দিন দৈনিক সংগ্রাম বলে,য়ারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছে পাকিস্তানপন্থীরা তাদের কোনোদিনই মা করবে না।
১৭ জুলাই দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করে।
জুলাই মাসে বরিশালে মুসলিম লীগের সভায় ব্যারিষ্টার আখতারউদ্দিন আহমদ,মেজর আফসারউদ্দিন,এডভোকেট আব্দুর রহমান বিশ্বাস প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতকারী ও বিদেশী চর

আখ্যায়িত করে এদের উৎখাত করার আহ্বান জানান। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৮ জুলাই, ১৯৭১)।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃটিশ টেলিভিশনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের সচিত্র প্রতিবেদন দেখানো হলে দৈনিক সংগ্রাম ১৯ জুলাই সাফাই গেয়ে লেখে, এগুলো ঘূর্ণিঝড়ের ছবি।
২ আগষ্ট গোলাম আযম ঢাকার মাদ্রাসার ছাত্রদের মিছিলে বলেন,
মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের নয়,এটা আদর্শিক যুদ্ধ। এ যুদ্ধে জিততেই হবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ৩ আগষ্ট, ১৯৭১)।
একই দিন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা মতিউর রহমান নিজামী বলেন,
মুক্তিবাহিনী পাঁচগুণ শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে পরাজিত হবে।
একই সভাই মতিউর রহমান নিজামী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে তাদের ‘ভাই’ আখ্যায়িত করায় ৩ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে,জনাব নিজামী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আমাদের ‘ভাই’ বলে

যথার্থ করেছেন,সেনাবাহিনীর সাথে একাত্ম হয়ে শত্রুর (মুক্তিবাহিনীর) মোকাবেলা করতে হবে।
৮ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামে গোলাম আযম এক উপসম্পাদকীয়তে লেখেন,১৯৬৫ সালের যুদ্ধে টিক্কা খানের বীরত্বের কথা শুনে তাঁকে এক নজর দেখার ইচ্ছা প্রবল হচ্ছিল। তাঁর ছবি আমার

মানসপটে বিশেষ মর্যাদার সাথে আকা রয়েছে।
১২ আগষ্ট গোলাম আযম বাংলাদেশ আন্দোলনের সমর্থকদের দুশমন আখ্যা দিয়ে তন্নতন্ন করে তালাশ করে খুজে বের করার আহ্বান জানান। মতিউর রহমান নিজামী ও মোহাম্মদ ইউনুসও অনুরূপ

বিবৃতি দেন।(দৈনিক সংগ্রাম, ১২ আগষ্ট, ১৯৭১)।
১২ আগষ্ট মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানি সামরিক সরকারের পুতুল পূর্ব পাকিস্তানি ডাঃ মালেকের মন্ত্রিসভায় জামায়াতে নেতারা যোগদান করেন।
১৩ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামও মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তিদানের আহ্বান জানায়।
পাকিস্তানের শেষ আজাদী দিবস ১৪ আগষ্ট সংখ্যায় দৈনিক সংগ্রাম স্বীকার করে,অত্যাচার-অনাচারের কারণে মুক্তিযুদ্ধোবিরোধী তাদের ‘শান্তি কমিটি’ অশান্তি কমিটিতে পরিণত হয়েছে।
১৪ আগষ্ট পাকিস্তানের শেষ আজাদী দিবসে কার্জন হলে আয়োজিত এক সেমিনারে পিডিপি নেতা নূরুল আমীন বলেন,আজ আজাদী দিবস আনন্দের দিন,কিন্তু এই আনন্দের দিনেও আমাদের মন ভারাক্রান্ত।
কিন্তু গোলাম আযম একই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বলেন,এবার প্রাণচাঞ্চল্যের সাথে আজাদী দিবস উদ্‌যাপিত হয়েছে। পাকিস্তানের ভিতরে হাজার হাজার দুশমন জন্ম নিয়েছে। বাইরের চেয়ে ভিতরের দুশমন আরো বেশি

বিপজ্জনক । ঘরে ঘরে এইসব দুশমন খুঁজে বের করতে হবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৬ আগষ্ট, ১৯৭১)।
১৯ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামের সাথে এক সাক্ষাতকারে গোলাম আযম বলেন,মুক্তিযুদ্ধের পাল্টা অভিযান নিয়ে আমাদের আসাম দখল করে নেওয়া উচিত।
২০ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামে গোলাম আযম বেনামে এক উপসম্পাদীয়তে আজাদী দিবস উপলক্ষে ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের তোরণ নির্মাণকে অভিনন্দিত করেন।
২২ আগষ্ট মতিউর রহমান নিজামী এক অনুষ্ঠানে বলেন, পাকিস্তান যারা চায় না,তারা ইসলাম চায় না। (দৈনিক সংগ্রাম, ২৩ আগষ্ট, ১৯৭১)।
২৩ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রাম ‘রাজাকার অর্ডিন্যান্স’ জারি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।
২৬ আগষ্ট গোলাম আযম পেশোয়ারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানকে দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিবাহিনীর)হাত থেকে রা করেছে এবং এই দুষ্কৃতকারীদের ধ্বংস করার জন্য

সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ২৭ আগষ্ট, ১৯৭১)।
জামায়াতে নেতা চৌধুরী রহমত এলাহী একই দিন সামরিক আইন তুলে নেয়ার বিরোধিতা করে বিবৃতি দেন।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের উদ্দেশ্যে একটি বিমান নিয়ে পালিয়ে আসতে গিয়ে শহীদ হন। জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম মতিউর রহমানের নিন্দা করে সম্পাদকীয় লেখে। আমাদের এই

বিরশ্রেষ্ঠকে দৈনিক সংগ্রাম ‘দুষ্কৃতকারী’ বলে আখ্যায়িত করে এবং পাকিস্তানি পাইলট মিনহাজ রশিদ যে মতিউর রহমানকে হত্যা করে দৈনিক সংগ্রাম সেই পাকিস্তানি পাইলটের জন্য আহাজারি করে লেখে,মিনহাজ

রশিদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের কাহিনী শুনে গর্বে বুক ভরে ওঠে। (দৈনিক সংগ্রাম, ৩০ আগষ্ট, ১৯৭১)।
পয়লা সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রাম আবার মন্তব্য করে মুক্তিযোদ্ধা পাইলট (বীরশ্রেষ্ঠ) মতিউর রহমান বিশ্বাসঘাতক এবং পাকিস্তানি পাইলট মিনহাজুর রশীদ ‘শহীদ’।
পয়লা সেপ্টেম্বর গোলাম আযম করাচিতে বলেন যে,বিচ্ছিন্নতাবাদীদের (স্বাধীনতাকামীদের)খতম করার উদ্দেশ্যে রাজাকাররা ভাল কাজই করেছে। (দৈনিক সংগ্রাম, ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
২ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামী এবং দৈনিক সংগ্রাম বাঙালি নিধনকারী রক্তলোলুপ টিক্কা খানের বিদায়ে মন্তব্য করেন যে,তিনি কথা কম বলতেন এবং কাজ বেশি করতেন। তিনি বীরত্বের

সাথে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে পাকিস্তান এতদিনও টিকে থাকতো না। এদেশের মানুষ কোনদিন টিক্কা খানকে ভুলবে না এবং তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
৪ সেপ্টেম্বর জামায়াতের অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা মতিউর রহমান নিজামী বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে ভারতের এজেন্ট ও দুষ্কৃতকারী বলে বিবৃতি দেন।
একই দিন দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থন করায় সংবাদপত্রগুলোকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করে।
৬ সেপ্টেম্বর গোলাম আযম মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেন। (দৈনিক সংগ্রাম, ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
একই দিন দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে,পাকিস্তানের সেনাবাহিনী রাজাকারদের কৃতিত্বে আনন্দিত ও গর্বিত।
৬ সেপ্টেম্বর মতিউর রহমান নিজামী বলেন ছাত্রসংঘ কর্মীরা রক্ত দিয়ে পাকিস্তানের প্রতি ইঞ্চি জমি রা করবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
১৩ সেপ্টেম্বর গোলাম আযম মুক্তিবাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার আহ্বান জানান। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
১৪ সেপ্টেম্বর গোলাম আযম শুধু মুক্তিযোদ্ধাই নয়,তাদের যে কোনো ব্যাক্তিকেই তালাশ করে বের করে শায়েস্তা করার আহ্বান জানান। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
একই দিন দৈনিক সংগ্রাম লেখে,আলবদর একটি নাম। যেখানেই তথাকথিত মুক্তিবাহিনী সেখানেই আলবদর। মুক্তিবাহিনীর কাছে আরবদর সাক্ষাৎ আজরাইল।
১৪ সেপ্টেম্বর যশোরে মতিউর রহমান নিজামী সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের খতম করার আহ্বান জানান। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
১৬ সেপ্টেম্বর মতিউর রহমান নিজামী বলেন,দুনিয়ার কোন শক্তিই পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে পারবে না।
১৭ সেপ্টেম্বর গোলাম আযম মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজ ট্রেনিং গ্রহনরত রাজাকার শিবির পরিদর্শন করেন এবং রাজাকারদের মনোবল ফিরিয়ে আনার জন্য বত্তৃতা দেন।
১৮ সেপ্টেম্বর জামায়াতে নেতা আব্বাস আলী খান মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানপন্থী পূর্ব পাকিস্তানের মালেক মন্ত্রিসভায় যোগদান করেন।
১৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরে রাজাকারদের প্রসিণ ক্যাম্পে গোলাম আযম এক ভাষণে বলেন,বাইরের চেয়ে ঘরের শত্রু বেশি তিকর। এদের তম করতে হবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
২১ সেপ্টেম্বর জামায়াতে নেতা আব্বাস আলী খান বলেন,পাকিস্তান ধ্বংসের জন্য একদল ছাত্র দায়ী। (দৈনিক সংগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী তাঁবেদার মন্ত্রীদের জামায়াতে ইসলামী এক সংবর্ধনা দেয়। এখানে গোলাম আযম বলেন,পাকিস্তানই যদি না থাকে,তাহলে জামায়াত কর্মীদের বেঁচে

থেকে লাভ নেই । (দৈনিক সংগ্রাম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
২৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রাম ‘শেখ সাহেবের খাদ্য তালিকা’ শীর্ষক এক নিবন্ধে বলে,রাষ্ট্রদ্রোহী শেখ মুজিব জেলের ভেতরে ভাল খাওয়া-দাওয়া করছেন এটা দুঃখজনক।
৭ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনী মোকাবেলায় রাজাকারদের জন্য ভারি অস্ত্রশস্ত্র দাবি করে বলে,অন্যথায় দুষ্কৃতকারী (মুক্তিবাহিনী) নির্মূল করা যাবে না।
একই দিন ইত্তেহাদুল ওলামার বৈঠকে মাদ্রাসার ছাত্র ও আলেমদের সামরিক টেনিংদানের আহ্বান জানানো হয়।
১১ অক্টোবর মুক্তিবাহিনীর গুলিতে ৩জন রাজাকার নিহত হলে দৈনিক সংগ্রাম একে ‘গৌরবের মৃত্যু’ বলে অভিহিত করে।
এই দিন জামায়াত নেতারা পুনরায় রাজাকার-আলবদরদের জন্য ভারি অস্ত্রশস্ত্র দাবি করে বলে,অন্যথায় মুক্তিবাহিনী দমন করা যাবে না।
১৪ অক্টোবর পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আবুল খালেক এক বিবৃতিতে বলেন,রাজাকাররা সামরিক আইন কর্তৃপরে সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীনে থেকে কাজ করছে।
১৮ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম বলে,যারা পাকিস্তানের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না,তারা যেন এদেশ ছেড়ে চলে যায়।
২০ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম ‘তিক্ত হলেও সত্য’শিরোনামে বলে,জাতি কর্তৃক গোলম আযমের গলাধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
২৯ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম অফিস-আদালত থেকে মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের বের করে দেয়ার আহ্বান জানান।
৪ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে,দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিবাহিনীর) ক্রমবর্ধমান দুঃসাহসিক তৎপরতা উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাদের এই দুর্বৃত্তপনার অবসান করা হবে। ইতিমধ্যেই সারাদেশে রাজাকার,মুজাহিদ ও বদর বাহিনী এই সব দুষ্কৃতকারী (মুক্তিবাহিনী)-কে একের পর এক খতম করে চলেছে।
৭ নভেম্বর ‘বদর দিবস’ শিরোনাম নিবন্ধে উল্লেখ করে,মক্তিযোদ্ধাদের নির্মূলে হয় গাজী,নয় শহীদ হওয়ার শপথ নিতে হবে।
৭ নভেম্বর জামায়াত নেতা আবুল খালেক বদর দিবসের এক জনসভায় বলেন,বাংলাদেশ আন্দোলনকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিতে হবে।
এদিন ইসলামী ছাত্রসংঘ ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধোবিরোধী এক মিছিল বের করে এবং শ্লোগান তোলে,‘আমাদের রক্তে পাকিস্তান টিকবে।’ (দৈনিক সংগ্রাম,৮ নভেম্বর, ১৯৭১)
জামায়াতে ইসলামী দলটি যে ইসলামের নামে বরাবরই মিথ্যা এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেয় তার প্রমান ৮ নভেম্বরের দৈনিক সংগ্রাম। এদিন সংগ্রাম বলে,মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল খরচ ইসরাইল বহন করছে। মুক্তিবাহিনীকে ট্রেনিংও দিচ্ছে দিচ্ছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী। ইহুদীরা মুক্তিবাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্র এবং টাকা-পয়সাও দিচ্ছে।
একই দিন দৈনিক সংগ্রাম বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরই রাজাকারদের স্থান। রাজাকার বাহিনীর দুই শাখা আলবদর ও আলশামস-এর ওপরই পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
১০ নভেম্বর জামায়াতে নেতা আব্বাস আলী খান এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তান টিকে থাকার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। (দৈনিক সংগ্রাম, ১০ নভেম্বর, ১৯৭১)
১২ নভেম্বরের দৈনিক সংগ্রাম প্রকাশ্যে বুদ্ধিজীবি হত্যার পরামর্শ দেয়। এদিন তারা বলে,বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তর থেকে যারা মুক্তিযুদ্ধোকে সমর্থন করছে তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে উৎখাত করতে হবে। এটা যতো বিলম্ব হবে ততোই পাকিস্তানের তি হবে।
ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা মতিউর রহমান নিজামী ১৪ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রামে এক নিবন্ধে বলেন,পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বদর বাহিনী গঠিত হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে আলবদর বাহিনী মুক্তিবাহিনীকে পর্যুদস্ত করবে।
১৬ নভেম্বরের দৈনিক সংগ্রাম মক্তিবাহিনীর তৎপরতা যাতে বিদেশে যেতে না পারে তার জন্য বিদেশী সাংবাদিকদের ওপর কড়া নজর রাখার পরামর্শ দেয়।
একই দিন ছাত্রসংঘ নেতা ও আলবদর বাহিনী প্রধান মতিউর রহমান নিজামী এক নিবন্ধে বলেন,পাকিস্তান হচ্ছে আল্লাহর ঘর।
১৯ নভেম্বরের দৈনিক সংগ্রাম গোলাম আযমকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বানানোর আহ্বান জানায়।
২৪ নভেম্বর ইসলামী ছাত্রসংঘ নেতারা এক বিবৃতিতে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
একই দিন গোলাম আজমও এক বিবৃতি দেন। তিনি পাকিস্তানকে ভারত আক্রমণের আহ্বান জানান এবং রাজাকার-আলবদরদের উন্নতমানের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত করার আহ্বান জানান। (দৈনিক সংগ্রাম, ২৪ নভেম্বর, ১৯৭১)
২৫ নভেম্বর জামায়াত নেতা গোলাম আযম ও আব্বাস আলী খান পাকিস্তান রর জন্য দেহের শেষ রক্তবিন্দু দেয়ার জন্য জামায়াত কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।১২
জামায়াতে ইসলামী তাদের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম এবং গোলাম আযম, আব্বাস আলী খান,মতিউর রহমান নিজামী প্রমুখ ১৯৭১ সালের মুক্তিযদ্ধের নয়টি মাস এভাবে ক্ষিপ্ত কুকুরের মতো বাংলা, বাঙালি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হুমকি,মিথ্যা প্রচারণা দ্বারা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কলুষিত করে তুলেছিল। ২৫ মার্চের পর থেকেই সারাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে মিলে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করে। মা-বোনদের ধরে নিয়ে তাদের প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় এবং সর্বশেষে ১৪ ডিসেম্বর বিজয়ের মাত্র একদিন আগে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
নয় মাসের দৈনিক সংগ্রামের বিভিন্ন পাতা থেকে সংপ্তি করে ছোট যে ডায়রি তুলে দেয়া হয়েছে,তাতেই বোঝা সম্ভব সেদিন কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তারা সৃষ্টি করেছিল। ‘মুক্তিযোদ্ধাদের খতম কর’,‘বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে মুক্তিযোদ্ধা খোঁজ কর’,‘মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের পাকিস্তানে জায়গা হবে না’,‘মুক্তিবাহিনীকে ধরিয়ে দাও’,‘মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কর’, ‘মুক্তিযোদ্ধা নির্মূলের জন্য আরো উন্নত অস্ত্র দাও’,‘মুক্তিবাহিনী খতম করার জন্য সেনাবাহিনীর দিকে তাকিয়ে থাকলেই চলবে না’,‘স্বাধীনতার সমর্থক দলগুলোকে নিষদ্ধ করতে হবে’,মুক্তিযুদ্ধ রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা’,‘স্বাধীন বাংলা ইহুদী ষড়যন্ত্র’,‘পাকিস্তান টিকে থাকার জন্যই এসেছে’,পাকিস্তানের জন্য শেষ রক্তবিন্দুদানের আহ্বান’,‘মক্তিবাহিনীরা ডাকাত’,‘মুক্তিযোদধাদের পাকিস্তানপন্থীরা কোনদিনই মা করবে না’,‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান দুষ্কৃতকারী’,‘আলবদর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সাক্ষাৎ আজরাইল’,‘পাকিস্তান যদি না থাকে তাহলে জামায়াত কর্মিদের বেঁচে থেকে লাভ নেই’, ‘রাজাকারদের গৌরবের মৃত্যু’,‘পাকিস্তানের অস্তিতে যার বিশ্বাস করেনা’,তাদের এদেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে’, ‘অফিস-আদালত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বের কর’,‘বাংলাদেশ অন্দোলনকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিতে হবে’ইত্যাদি বাক্যগুলো প্রতিদিন গোলাম আযম,তাঁর শিষ্যরা,তার মুখপত্র বিরামহীনভাবে প্রচার করেছে। যে কোন সুস্থ মানুষ লাইব্রেরিতে গিয়ে দৈনিক সংগ্রামের পাতা খুললেই এই দলিল পড়ে শিউরে উঠবে।
আজ যেসব ভন্ড,প্রতারক,লম্পট রাজনীতিবিদরা গোলাম আযম ও জামায়াতীদের পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন তাদের জন্য করুনা হয়। তারা অমানুষ এবং খুনীর সহযোগী-খুনী। গোলাম আযমের নির্দেশে এদেশে রাজাকার-আলবদররা যে লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করেছে,তার দায়ভাগ নিতে হবে তাদেরও।
বিএনপি সরকারের তিন লম্পট(ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা,জমিরুদ্দিন সরকার ও রফিকুল ইসলাম মিয়া) যে ভুমিকা নিয়েছিল এদের প্রতিষ্ঠিত করতে,তাকে শুধু নির্লজ্জ বলা যায় না,তাঁরা বাংলা মায়ের কুসন্তান এবং কলঙ্ক। এরা গোলাম আযমের চেয়েও পাপী এবং নরাধম।
যারা আজ গোলাম আযমকে মাফ করে দিতে চায়,তারা হল পিশাচের বন্ধু। গোলাম আযম কি আজও মাফ চেয়েছে,নাকি ভুল স্বীকার করেছে,যে গায়ে পড়ে গিয়ে মাফ করে দিতে হবে!
আজ গোলাম আযমদের নির্মূলের শ্লোগান এবং দাবি উঠেছে,কারন তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মূল করতে চেয়েছিল। তারা বলেছিল,পাকিস্তান না থাকলে তাদের বেঁচে থেকে লাভ নেই।
মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরে ঘরে খুজে বের করার জন্য তারা নির্দেশ দিয়েছিল,তাই তাদেরও আজকে ঘরে ঘরে খুঁজে বের করতে হবে। এবার আর আপোসের কোনো প্রশ্নই নেই।
কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধের পরও গোলাম আযম বাংলাদেশ ধ্বংসের এবং অস্বীকারের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছিলেন। সেই প্রমান এবং সাক্ষ্য তিনি নিজেই রেখেছেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালে পাকিস্তানে‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার সপ্তাহ’নামে যে দিবস পালন করা হয় তার আহ্বায়ক হয়েছিলেন এই গোলাম আযম।
একই বছর ডিসেম্বরে গোলাম আযম লণ্ডনে যান এবং সেখানে ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’নামে এক বাংলাদেশবিরোধী স্থায়ী ষড়যন্ত্র শুরু করেন। দীর্ঘ আট বছর এই কমিটির মাধ্যমে গোলাম আযম লণ্ডনে ষড়যন্ত্রের নেতৃত্ব দেন। (মুহাম্মদ কামরুজ্জামান,গোলাম আযমের সংগ্রামী জীবন,ঢাকা,১৯৮৯ পৃষ্ঠা৭০ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, পূর্বোক্ত,পৃষ্ঠা ৮২।)
গোলাম আযমের নির্দেশে লিখিত তাঁর তথাকথিত সংগ্রামী জীবনীর লেখক আলবদর মুহাম্মদ কামরুজ্জামান জানাচ্ছেন,১৯৭৩ সাল থেকে বেশ কয়েকবার গোলাম আযম সৌদি আরব যান এবং সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজের সাথে দেখা করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়ার আহ্বান জানান।
আলবদর কামরুজ্জামান নিজেই লিখেছেন,বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের ওপর ধর্মনিরপেতার নামে ধর্মহীনতা চাপিয়ে দেয়ার কোন ষড়যন্ত্র যাতে সফল হতে না পারে,সে বিষয়ে গোলাম আযম সৌদি বাদশাহর প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান। (দৈনিক বাংলা, ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।)
আলবদর নেতা গোলাম আযম নিজেও জানাচ্ছেন,‘হজ-পরবর্তী ৬ বছর আমি প্রধানত লণ্ডনে কাটিয়েছি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি।

বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বিপন্ন মনে করাই ছিল স্বাভাবিক। (দৈনিক বাংলা, ১৮ এপ্রিল ১৯৭৩। )

এই স্বীকারোক্তি শুনেছি আমরা গোলাম আযমের নিজের জবানীতেই। এর চেয়ে বড় প্রমান আর দলিল কি প্রয়োজন আছে। গোলাম আযমরা এই পর্যন্ত যতো খুন,হত্যা,লুট,ধর্ষণ ইত্যাদি করেছে তার

সবটাই তারা করেছে ধর্মের নামে, ইসলামের নামে। ইসলামকে এভাবে তারা কীভাবে বারবার তি করেছে,তার একটা বিবরণ পূর্বের পর্ব-1 এ আলোচনা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের তৎকালীন হাক্কানী আলেমরা জামায়াত ইসলামী,মওদুদী, গোলাম আযমদের সম্বন্ধে তাই বারবার সতর্ক করে দিয়েছিলেন। আলেমরা জামায়াতীদের কাফের বলেও ফতোয়া দিয়েছিলো।

জামায়াতীরা হল ধর্মোন্মাদ। ধর্মের মূল প্রেরণার সাথে এদের কোন সম্পর্ক নেই। জামায়াতীরা ইসলামের মূল ভিত্তি নামাজ নিয়ে আন্তরিক নয়,দেশের অনেক জামায়াতীকে দেখা যায় তারা প্রকৃতপক্ষে নামাজই পড়তে

জানে না। তারা ইসলাম কায়েম করবে কিভাবে! মাওলানা সাঈদী তার জনসভা এখন ভিডিও ব্যবসায় পর্যন্ত নিয়ে গেছেন,ইসলামের তি করার আর থাকলো কি!
বহুল কথিত রাজাকার মাফ পাওয়ার আওতায়ও গোলাম আযম পড়ে নি। স্বাধীনতার পরপর জেলখানাগুলো রাজাকারে ভরে গিয়েছিল। সেই সময় দেশে এতো ম্যাজিষ্ট্রেট বা বিচারকও ছিল না যে দ্রুত

বিচার নিষ্পত্তি করা সম্ভব ছিল।
উপরন্তু মাওলানা ভাসানী ও জাসদ দালাল আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে তৎকালীন শেখ মুজিব সরকারের প্রতি প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। হলিডে পত্রিকায় তৎকালীন ভাসানী ন্যাপ

নেতা এনায়েতুল্লাহ খান তো প্রকাশ্যে দালালদের হালাল করার নির্লজ্জ প্রচারণা চালাতেই ছিলেন। ভাসানী ন্যাপ নেতা মশিউর রহমান যাদু মিঞা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় তাঁকেও জেলে আটকে রাখা

হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেয়া হলে তৎকালীন ইসলামিক একাডেমি মিলনায়তনে তাঁর সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনায় প্রধান অথিতির ভাষণ দেন রাশেদ খান মেনন (তিনি তখন ভাসানী ন্যাপের নেতা ছিলেন)
অনেকেই এসব ঘটনা ভুলে গেছেন। এই সময় বড় বাস্তব ঘটনা ছিল পাকিস্থানে কয়েক লাখ বাঙালির আটকেপড়া। বর্তমান সরকারের কৃষিমন্ত্রী জেনারেল মজিদ-উল হক,পররাষ্টমন্ত্রী কর্নেল

মুস্তাফিজ সাহেবরাও এই আটকেপড়ার মধ্যে ছিলেন। স্বদেশ তাদের এই লাখো বাঙালির আত্মীয়স্বজনরা চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল সেদিন। পাকিস্তানিরা তাদের জিম্মি করে রেখেছিল
। ফলে ছেড়ে দিতে হয়েছিল বন্দী পাকিস্তানি এক লাখ সৈন্যকেও।
এত কিছু প্রতিকূলতার মধ্যে কতগুলো পদক্ষেপ ছিল যুগান্তকারী। তৎকালীন সরকার গোলাম আযমসহ তৎকালীন ১৫ জন দালাল রাজনীতিককে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ

দেন। (দৈনিক বাংলা, ২২ এপ্রিল ১৯৭৩।)
১৭ এপ্রিল, ১৯৭৩ সালে সরকারের এক হ্যাণ্ডআউটে বলা হয়,যুদ্ধাপরাধীদের জন্য জেনাভা কনভেনশনের ৩ নং ধারা লংঘনের দায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে। (দৈনিক বাংলা, ২১ এপ্রিল

১৯৭৩, ১৭ মে ১৯৭৩, ৩০ আগষ্ট ১৯৭৩, পয়লা ডিসেম্বর ১৯৭৩।)

যুদ্ধাপরাধীরা আদালতে হাজির না হওয়ায় গোলাম আযমসহ মোট ৩৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। (দৈনিক বাংলা, ২১ এপ্রিল ১৯৭৩, ১৭ মে ১৯৭৩, ৩০ আগষ্ট ১৯৭৩, পয়লা ডিসেম্বর ১৯৭৩।)

এরপর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দালালদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। মুসলিম লীগপন্থী একদল রাজনীতিক ছিলেন যারা মূলত যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক বিরোধিতা করেছে। জামায়াতীদের মতো অস্ত্র নিয়ে

মুক্তিবাহিনী এবং মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করে নি। এই রকমসহ কয়েক প্রকার লোককে মাফ করা হয়।

প্রায় ১২ হাজার মামলা এবং ২৯ হাজার আসামী এই সময় কারাগারে আটকে পড়ায় তাদের ওপর নির্ভরশীল কয়েক লাখ পরিবার-সদস্য নিদারুণ সঙ্কটে পতিত হয় যা তৎকালীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব

ফেলে। কিন্তু বলা হয়,
১. দেশদ্রোহিতা,হত্যা,ধর্ষণ,ডাকাতি,অগ্নিসংযোগের অপরাধী মাফ পাবে না।
২. দালালমন্ত্রী,উপদেষ্টা,রাজাকার কমাণ্ডার মাফ পাবে না।
৩. শান্তি কমিটির নেতা মাফ পাবে না।
৪. ১৮ ধরনের অপরাধী মাফ পাবে না। (দৈনিক বাংলা, ২১ এপ্রিল ১৯৭৩, ১৭ মে ১৯৭৩, ৩০ আগষ্ট ১৯৭৩, পয়লা ডিসেম্বর ১৯৭৩।)(বিভিন্ন প্রকার যুদ্ধাপরাধের দায়)
সুতরাং আজ গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যে জনমত গড়ে উঠেছে তা স্পষ্টতই মুক্তিযদ্ধের চেতনার ভিত্তিমূল থেকে উৎসারিত। গোলাম আযম ও খুনী রাজাকার-আলবদরদের আজ নির্মূল করার কথা উঠেছে,কারণ তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মূল করতে চেয়েছিল।
গোলাম আযমের জায়গা বাংলাদেশে হবে না-এই শ্লোগান উঠছে এই জন্য যে,গোলাম আযম ’৭১ সালে বলেছিলেন,মুক্তিযোদ্ধাদের জায়গা পাকিস্তানে হবে না।
জামায়াতীদের উৎখাত ও খতম করার জনমত গড়ে উঠেছে এই জন্য যে, জামায়াতীরা মুক্তিকামী মানুষকে খতম করেছিল।

গোলাম আযমদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করার কথা উঠেছে এই জন্য যে, গোলাম আযমরাও মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করতে চেয়েছিল।
জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের খুনীদের বিচার চায়। তাদের সকল অপকর্মের দলিল রয়েছে। পিছিয়ে যাওয়ার আর কোন অবকাশ নেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28789404 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28789404 2008-04-19 22:34:24
RePost: পোষ্ট মর্টেম জামাতে ইসলাম : পর্ব-১ _____________________________________

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের সূদীর্ঘ ২৪টি বছর মাওলানা আবু আলা মওদুদী ও তার প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী এবং তাঁর অনুসারীরা
প্রতিনিয়ত বক্ততা,বিবৃতি ও কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে দেশটিকে জাহান্নাম
বানিয়ে ছেড়েছিল। তাদের উগ্রতা,পাষন্ডতা এবং নির্মমতা আধুনিক সভ্যতার
সকল সৃজনশীলতাকে ম্লান করে দিয়েছিল সেদিন। ১৯৫৩ সালে সমগ্র পশ্চিম পাকিস্তানে ধর্মের নামে হাজার হাজার পাকিস্তানিকে হত্যা,খুন,ধর্ষন ও লুটপাট করে এই দলটি ইতিহাসের জঘন্যতম কালিমা সৃষ্টি করেছিল। পাকিস্তানের তৎকালীন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিচারক,বিচারপতি মুনীর ও বিচারপতি কায়ানী এই হত্যাযজ্ঞ,লুন্ঠন,ধর্ষনের পরিকল্পনা ও প্ররোচনাদানের অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মওদুদী কে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন।কিন্তু ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে এই কুখ্যাত মাওলানা মওদুদীকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যদি এই ভুলটি আইয়ুব খাঁর মতো স্বৈরশাসকরা না করতেন তাহলে হয়তো ইতিহাসের একই বর্বরতার পুনরাবৃত্তি নাও ঘটতে পারতো।

যেহেতু মাওলানা মওদুদী ইসলামের নামে খুন করেও বেঁচে গিয়েছিলেন,যেহেতু তাঁর ফাঁসির আদেশ হওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হল না,যেহেতু এই পাপিষ্ঠ তার কৃতকর্মের জন্য কোন প্রকার ভুল বা অনুতাপ প্রকাশ করে নি,সেহেতু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে আবার ১৯৫৩ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটলো। এবারের ঘটনার নায়ক হয়ে আসলেন খুনী মওদুদীর যোগ্য শিষ্য গোলাম আযম। এই আধুনিক খুনীদের একজনের নামের পূর্বে ‘মাওলানা’,আরেকজনের নামের পূর্বে ‘অধ্যাপক’ শব্দজুড়ে অত্যান্ত সুকৌশলে ধর্মের নামে দিনের পর দিন তারা প্রকাশ্যেই হত্যালীলার রাজনীতি চালিয়ে
আসছেন।
গোলাম আযম ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং মওদুদী ছিলেন সমগ্র পাকিস্তানের আমীর। তাঁরা প্রথম থেকেই বলে আসছেন তাঁরা নাকি ‘ইসলামী’আদর্শের রাজনীতি করেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা
মহান ধর্ম ইসলামের বিবৃতি সাধন করে মওদুদীবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রত।
তৎকালীন পাকিস্তানের হাক্কানী আলেমরা অনেকবার ফতোয়া দিয়ে জামায়াতে ইসলামী মওদুদীবাদীদের কাফের ঘোষণা করেছিলেন। আলেমরা এমনকি এই কথাও বলেছিলেন,মওদুদীবাদী গোলাম আযমের পেছনে নামাজ পড়লে নামাজ হবে না।

পীর মোহসীন উদ্দীন দুদু মিয়া ১৯৬৯ সালে জানিয়েছিলেন,মওদুদীর নামের আগে যে ‘মাওলানা’ শব্দটি ব্যবহার করেন তা সনদপ্রাপ্ত ‘মাওলানা’ খেতাব নয়। তিনি বলেন,ভারতের হাইদরাবাদের নিজামের দরবারে মওদুদী প্রভুদের তুষ্ট করার জন্য মওদুদী নানা রকম দালালির কাজকর্ম করতেন। সেখানে তিনি নিয়মিত সুট এবং টাই পরতেন। পরে অনৈসলামিক কাজে নিয়ত সাম্রাজ্যবাদী ওই প্রভুরা মওদুদীকে ‘মাওলানা’ খেতাব দেন। (দৈনিক পাকিস্তান,২০ অক্টোবর,১৯৬৯।)

এছাড়া রাজতন্ত্রের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা তা আবার ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে প্রমান করার জন্য তিনি হাইদরাবাদের নিজামুলমুলক আসিফ জাহর জীবন-চরিতও রচনা করেছিলেন। (বর্তমানে সৌদি রাজতন্ত্রের সাথে জামায়াতে ইসলামীর সখ্যতার কারণও এখানেই নিবন্ধ)। (হালিম দাদ খান,মুক্তিযুদ্ধ ও গোলাম আযম(ঢাকাঃ১৯৯২)পৃষ্ঠা ৯)

১৯৬৯ সালের ৭ নভেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের শ্রদ্ধেয় আলেম মাওলানা অলিউর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ ইসলাম সম্পর্কে ভুল বুঝতে পারে আশংকা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন। (দৈনিক পাকিস্তান,৭ নভেম্বর ১৯৬৯।)

১৯৭০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নিখিল পাকিস্তান ইসলামী বিপ্লবী পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ওবায়দুল্লহ বিন সাইদ জামায়াতে ইসলামী সমর্থক ইমামের পেছনে নামাজ না পড়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। (দৈনিক পাকিস্তান,১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০।)

৬৯ সালের ৩০ অক্টোবর পাকিস্তানের ১৩ জন আলেম জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের কাফের ঘোষনা করে ফতোয়া দিয়েছিলেন। (দৈনিক পাকিস্তান,৩০ অক্টোবর ১৯৬৯।)

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি জামে মসজিদের ইমাম ১৯৬৯ সালে জানিয়েছিলেন, মাওলানা মওদুদী কোরআনের অপব্যাখ্যা করে বই লিখে প্রচার করে ধর্মপ্রান মুসলমানদের ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তিনি দাবি করেন,মওদুদী তার বইগুলো প্রত্যাহার করবেন বলে ওয়াদা দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি ওয়াদা খেলাপকারী মোনাফেকের পরিচয় দিয়েছিলেন। (দৈনিক পাকিস্তান,২২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।)

এখানে বলাবাহুল্য,পবিত্র ইসলাম ও কোরআনের অপব্যাখ্যা করা এই বইগুলোই বর্তমান বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী এবং তার শিরোমণি গোলাম আযম, আব্বাস আলী খান,মওদুদীবাদ যা উগ্রধর্মান্ধ ও ক্ষমতার লিপ্সা থেকে জাত, যা আধ্যাত্মিকতা নয়,প্রচণ্ড ভোগ-বিলাস ও মোহ সৃষ্টির প্রয়োজনে সৃষ্ট।

সারা দুনিয়ার মানুষ ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবেই জানে। এই ধর্মের প্রচারক হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সঃ) দ্বারে দ্বারে গিয়ে দাওয়াতের মাধ্যমে মানুষকে সৎ ও ন্যায়ের পথে এনেছিলেন। এই জন্যে রসুলকে সীমাহীন নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
কিন্তু গোলাম আযমের গুরু মওদুদী হযরত রসুলে আকরামের এই আত্মত্যাগকে অপমানিত করছেন কোন প্রকার কৌশলে নয়,একেবারে প্রকাশ্য কৌশলে। মওদুদী তাঁর ‘আল জেহাদ কিল ইসলাম’ গ্রন্থে' লিখেছেন ;
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম তের বছর পর্যন্ত আরবকে ইসলামের আহ্বান জানাতে থাকেন,মানুষকে বুঝানোর যত প্রকার উৎকৃষ্ট পন্থা আছে তা অবলম্বন করেন,যুক্তি-প্রমান দেন....তিনি সত্য প্রকাশ ও সংস্থাপনের জন্য উপযোগী কোন উপায় বাদ দেয় নাই।... কিন্তু ওয়াজ নসিয়ত ব্যর্থ হওয়ার পর ইসলামের আহ্বায়ক তলোয়ার হাতে লইলেন...তিনি (সঃ)তলোয়ার হাতে লওয়ার পর মানুষের মন থেকে ক্রমে ক্রমে পাপ ও দুস্ক্কৃতির কালিমা দূর হতে লাগলো।’ (মওলানা আবু আলা মওদুদী,আল জেহাদ কিল ইসলাম,পৃষ্ঠা ১৩৭-১৩৮(হযরত মিয়া তাহের আহমদ (আইঃ),পাকিস্তান সরকারের শ্বেতপত্রের উত্তর, দ্বিতীয় খণ্ড (ঢাকা,১৯৮৭) প্রশ্নে উদ্ধৃত।)

দুনিয়ার বুকে ইসলাম প্রচারিত হওয়ার এই তত্ব হচ্ছে অমুসলমানদের। ইসলামবিরোধীরা সব সময় প্রচার করে এসেছে যে,ইসলাম দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত
হয়েছে গায়ের জোরে তলোয়ার দিয়ে। মওদুদীর এই ব্যাখ্যায় শুধু ইসলামের
দুশমনরাই খুশি হতে পারে,মুসলমানেরা নয়।
শুধু তা-ই নয়,মওদুদী চ্যালেঞ্জ করেছেন পরম শক্তিমান আল্লাহ তায়ালার প্রতিও,অপমান করেছেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদকেও(নাউজিবিল্লাহ!)। এছাড়া ইসলামের সুবিখ্যাত সাম্য ও কেন্দ্রীয় আদর্শের আকর্ষণের কথাও এতে অস্বীকার করা হয়েছে।এমনি করে এই জামায়াতে ইসলামী এবং গোলাম আযমরা সুকৌশলে এদেশে ইসলামের মূল প্রেরনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

১৯৬৯-৭০ সালে যখন এদেশের আপামর মানুষ তাদের প্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসাবে শ্লোগান তুলেছিলেন,‘আমার নেতা-তোমার নেতা : শেখ মুজিব-শেখ মুজিব’ তখন জামায়াতে ইসলামী পাল্টা আমাদের প্রিয় নবীকে শেখ মুজিবের প্রতিপক্ষ দাঁড় করিয়ে
বলল,‘আমার নেতা-তোমার নেতা : বিশ্ব নবী মোস্তফা।’ জামায়াতে ইসলামীরা
জানতো,এদেশের মানুষ বাংলাদেশের নেতা হিসেবেই শেখ মুজিবের শ্লোগান
দিচ্ছে। তারপরেও প্রিয় নবীর নামে পাল্টা শ্লোগান তুলে তারা বলেছিল,আমাদের নেতা হযরত মোহম্মদকে মানলে পাল্লায় ভোট দাও। কিন্তু বাংলার মানুষ ভোট দিল শেখ মুজিবের নৌকায়। তাহলে অর্থটা কি দাঁড়ায়,ভোটে কি শেখ মুজিবের কাছে হযরত মোহম্মদ(সঃ)-এর পরাজয় ঘটলো(নাউজিবিল্লাহ)!

এভাবেই পলেপলে দিনে দিনে জামায়াত আমাদের ধর্ম ,আমাদের ইসলামকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

পৃথিবীর সকল দেশেই যার যার রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড,জাতিসত্তা,ইতিহাস,ঐতিহ্য,আইনবিধি নিয়ে আলাদা সংবিধান থাকে। পৃথিবীর সকল দেশেই তা আছে,শুধু তাই নয়,সকল মুসলিম দেশেও আছে। কিন্তু বুঝেশুনেই জামায়াত চটকদার শ্লোগান দেয়,‘আমাদের সংবিধান কোরআন’।
প্রকৃতপক্ষে কোরআনকে কে অস্বীকার করছে ? কেউ না। তবুও জামায়াত একটি
দেশের সংবিধানের প্রতিপক্ষ হিসেবে কোরআনকে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। খুব
সচেতনভাবে পবিত্র গ্রন্থ কোরআনকে তারা এভাবে অপমানিত করছে।

প্রিয় নবী হযরত মোহম্মদ(সঃ)-এর সময়ে তার নেতৃত্বে বদরের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই পবিত্র ধর্মীয় যুদ্ধে যেসব বীর অংশ নিয়েছিলেন তারা ইসলামের ইতিহাসে আলবদর নামে খ্যাতি লাভ করেছিল। গোলাম আযমরা ১৯৭১ সালে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সময় এই নামেই একটি খুনী বাহিনী তৈরি করলো। মহান আল্লাহ সেদিন তাদের অবশ্যই শায়েস্তা করেছিল,তাদের ধ্বংস করেছিল,সমূলে এদেশ থেকে উৎপাটন করেছিল। কিন্তু একটি ক্ষত থেকেই গেল, মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যাকারী, আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণকারী এই বাহিনীকে এখন বাংলার মানুষ রাজাকার-আলবদর বলে গাল দেয়। পবিত্র ‘আলবদর’ শব্দটির এই অপব্যবহারের ফলে মহান ইসলামের এক বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল।

পৃথিবীর সব দেশের গনতান্ত্রিক সমাজ বলে থাকে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।
চীনের মাও সে তুং অবশ্য বলতেন,বন্দুকের নলই সকল ক্ষমতার উৎস। তার বিপরীতে এই রাজনৈতিক বাক্যটি ব্যবহার হত। ইদানিং জামায়াতে ইসলামী ও গোলাম আযমরা সারাদেশে একটি শ্লোগান দেয়ালের গাঁয়ে সেঁটে দিচ্ছে : ‘আল্লাহই সকল ক্ষমতার উৎস’। এই শ্লোগানটি নতুন করে তুলে গোলাম আযমরা আসলে কি বলতে চায় : একটি হচ্ছে,তারা জনগনকে ভয় পায়,জনগনের রায়কে ভয় করে,তারা জানে যতোই ইসলাম,আল্লাহ,কোরআন,নবী ইত্যাদি নিয়ে তারা রাজনৈতিক ব্যবসা করুক না
কেন,জনগণ সময়ে এসে ঠিকই তাদের ঝাড়ু-পেটা নয় শুধু, এবার একেবারে নির্মূল
করে ছাড়বে। কারণ আমাদের মহান আল্লাহ অবশ্যই সকল ক্ষমতার উৎস। এ
ব্যাপারে কারো শুধু নিরংকুশ নয়,বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকলে সে আর মুসলমান থাকতে পারে না। কিন্তু ‘জনগন সকল ক্ষমতার উৎস’ কথাটি আসছে একটা দৈশিক প্রশ্নে, এরশাদের মতো অবার্চীনরা মনে করে রাইফেল একটা উচিয়ে ধরতে পারলেই ক্ষমতাই যাওয়া যায়,‘ জনগন ক্ষমতার উৎস’ বলতে এই বন্দুকওয়ালাদেরকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে,জামায়াতী-গোলামরা তা জানেও। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালাকে তারা সজ্ঞানে হেয় করতে চায় বলেই এই ‘আল্লাহ ক্ষমতার উৎস’ শ্লোগানটি পাল্টা সামনে তুলে দিচ্ছে।

জামায়াতী-গোলাম আযমরা যুগে যুগে যে মার খেয়েছে, ধ্বংস হয়েছে এই কারনেই। পবিত্র ধর্ম ,আল্লাহ এবং আমাদের প্রিয় নবীকে নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসা করার কারণেই আজ সমাজে তারা উচ্ছিষ্ট,তারা নরাধম,অসভ্য,বর্বর বলে পরিচিত। এই জন্যেই বাংলার পবিত্র ভূমিতে তাদের জায়গা নেই বলে ধ্বনি ওঠে। শুধু বাংলা কেন,এই পৃথিবীর কোন দেশই এই গণ্ডমূর্খ, জ্ঞানপাপী, রাফেজী ধর্মদ্রোহী বাতিল মতবাদীদের আজকে গ্রহন করতে রাজি হচ্ছে না। এদের প্রতি আল্লাহর গজব ও অভিশাপ নাজিল হয়েছে। ১৯৫৩ সালে এদের আমীর মওদুদীর ফাঁসি হয়েছিল,সেই রায় কার্যকর না
করাতে এদেশের জনগন ১৯৭১ সালে এদের পাপের ফলকে ভোগ করেছে। আবার ১৯৭১ সালে এদের পাপের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়াতে আজকে আবার এইসব ‘বাতেল
মতবাদে’র লাঞ্ছনা জনগনকে ভোগ করতে হবে। যেহেতু জনগন তার মনোবাঞ্ছা
পূরণে দেরিতে হলেও গোলাম আজমের ফাঁসি দিতে প্রস্তুত এবং পবিত্র দায়িত্ব পালনে যারাই পিছপা হবেন,আল্লাহ তাদেরও শাস্তি দিতে ভুলবেন না।আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর বিদায় হজের শেষ ভাষণে বলেছিলেন,ধর্ম নিয়ে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না,অতীতে অনেক জাতি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে ধ্বংস হয়ে গেছে।
এই সেদিনই তো আমরা দেখলাম,কথায় কথায় পাকিস্তানে ধর্মের নামে হোলিখেলার রাজনীতি। এই বর্বর ধর্ম ব্যবসায়ীদের জন্য পৃথিবীর সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশ ‘পাকিস্তান’ টিকতে পারলো না,ধ্বংস হয়ে গেল।

আজও দেখতে পাচ্ছি,আমাদের দেশের এক শ্রেনীর মাওলানা সেই পূর্বের মতোই আবারও ধর্মের নামে ডিগবাজি খাচ্ছেন,মনের খুশিতে যা ইচ্ছা বলছেন, যা
ইচ্ছা ফতোয়া দিচ্ছেন,ইসলামের নামে লড়াই করতে চাচ্ছেন। তাদের জন্য এক
প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় অপেক্ষা করছে,সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে,উড়ে যাবে এইসব জোশ, আলেম হিসেবে তারা কখনোই তখন আর বিবেচিত হবেন না। কারন তাঁরা
রাজনীতির মাঠে নেমেছেন,তাঁরা রাজনৈতিক নেতার মর্যাদা হিসেবেই আল্লাহর ইচ্ছায় সীমা লঙঘনের দায়ে জনগন কর্তৃক হেদায়িত হবেন।

এখানে বলে নেওয়া ভাল, আমাদের দেশের হাক্কানী আলেমরা কখনই তাদের সাথে ছিলেন না,তাঁরা এই নোংরা রাজনীতিতে কখনই আসেন না। আমাদের দেশের
মাদ্রাসার ছাত্র এবং আলেম সমাজ বেশির ভাগ ‘দেওবন্দী’ আলেম সমাজের
অনুসারী। এরা কখনই জামায়াতে ইসলামীর মওদুদীবাদকে সমর্থন করেন নি, বরং
জামায়াতদের তারা কাফেরই মনে করে থাকেন। এছাড়া,আমাদের দেশের আরেকটি
দাওয়াতী প্রতিষ্ঠান আছে, ‘তবলীগ জামাত’ যার নাম,তারাও কখনই ধর্মের সাথে
রাজনীতিকে মেলাতে আসেন নি । অনেক সচেতন রাজনৈতিক কর্মীই তাদের সম্বন্ধে ভুল বুঝে থাকেন। জামায়াতী ইসলামী গোলাম আযমরা আজ মনেপ্রানে এদেরই প্রধান শত্রু বলে বিবেচনা করে থাকে। কারন জামায়াতে ইসলামী ও গোলাম আযমদের মওদুদীবাদী আদর্শকে তাত্ত্বিকভাবে এরাই সবসময় প্রত্যাখ্যান করে আসছে। প্রকতপক্ষে এরাই আসল ইসলামিক মৌলবাদী।

জামায়াতে ইসলামীকে আজ যারা ‘মৌলবাদ’ বলছেন তাঁরা আসলে ভূল করছেন।
কারণ জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতা-কর্মীরা সেই গোলাম আযম, মাওলানা সাঈদী যেই হোন,তারা কেউ ইসলামের মূলকে ধরে রয় নি,বরং ইসলামের বিকৃতি সাধন করে
তারা এখন তথাকথিত আধুনিক ইসলাম করার চেষ্টা করছেন,যা রসুলের ইসলামের সাথে কোন মিল নেই। মাওলানা সাঈদী,গোলাম আযমরা এখন অডিও-ভিডিও, নাচ,গান, বাদ্য,চার রঙা ছবির আত্মজীবনীর বই সবই করে চলেছেন।জামায়াতে ইসলামী এবং গোলাম আযম-মাওলানা সাঈদীদের সবচেয়ে বড় অধঃপতন দেখতে পাই তাদের মিথ্যাচারে। তাদের প্রচারিত দৈনিক সংগ্রাম,মিল্লাত প্রভৃতি দৈনিকগুলোকে দিনের পর দিন মিথ্যা এবং জ্বলন- মিথ্যাগুলো জেনেশুনে প্রচার করতে দেখা যায়। তা যেকোনো সুসভ্য মানুষকে বিচলিত করবে। প্রতিদিন সংবাদ আর মিল্লাত পড়লে মনে হবে দেশে বুঝি এখন কোন যুদ্ধ চলছে। তাদের অবিরাম মিথ্যার বেসাতি এবং অসহনীয় উস্কানির ফলে দেশে যদি কোনো প্রলয়ংকরী ঘটনা ঘটে যায় তাহলে পরবর্তীকালে এগুলোই হবে দলিল,যেকোনো সুসভ্য মানুষ পড়লে বুঝতে পারবে এইসব পাপিষ্ঠ অমানুষের দল কেমন করে ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে এনেছিল ১৯৭১ সালের মতোই।

জামায়াতে ইসলামী ও গোলাম আযমের মিথ্যাচারের কতকগুলো নমুনা এই প্রসংগে উল্লেখ করা যায়। প্রথমেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মীমাংসা হওয়া উচিত তথাকথিত ‘ভাষা সৈনিক’ হিসেবে গোলাম আযমের দাবি।
প্রকৃতপক্ষে ভাষা আন্দলন বলতে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির আত্মদানকেই বোঝানো হয়ে থাকে। ভাষার সংগ্রাম হিসেবে এদিনটিকেই বাংগালি জাতি প্রতিবছর স্মরণ করে থাকে। বর্তমানের ভাষা শহীদ মিনার ’৫২সালের এই দিনটির স্মৃতি সামনে রেখেই।
গোলাম আযম ১৯৫২ সালে ছাত্র ছিলেন না,রাজনৈতিক নেতাও ছিলেন না। গোলাম আযমের নির্দেশে তাঁরই অনুগামী শিষ্য আলবদর নেতা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান গোলাম আযমের যে জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছেন তাতে দাবি করেছেন যে,১৯৪৮ সালে চকবাজারে গোলাম আযম অন্যদের সাথে প্রচারপত্র বিলি করতে গিয়েছিলেন। আরও একটি তথ্য দিতে গিয়ে এই গ্রন্থেই বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান যখন ঢাকায় এসেছিলেন, তখন ডাকসুর পক্ষ থেকে একটি মানপত্র পড়া হয়েছিল এবং তা ডাকসুর সহ-সভাপতি অরবিন্দ বোস পড়বেন বলে ঠিক হলেও হিন্দু বলে তিনি পড়েন নি,পড়েছেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম আযম। ব্যস্‌,এই তো বীর! আজ ভাষা আন্দোলন যখন বাঙাগালির হৃদয়ে এমন প্রাণবিদ্ধ হয়ে আছে,কোন রকম তার সাথে কৃতিত্ব নিয়ে ভাষা সৈনিক খেতাব নিতে পারলেই বাংগালির হৃদয়ে স্থান পাওয়া সম্ভব হবে।
কিন্তু সম্ভব নয়। কারণ প্রথমেই বলেছি,ভাষা সৈনিক বলতে এদেশের মানুষ ’৫২ সালের একুশের মিছিলের সৈনিকদের বুঝে থাকেন। গোলাম আযম ১৯৪৮ সালে ভাষার লড়াইয়ের এই তথাকথিত সংযোগের দাবী ধোপে টেকে না। কারণ ১৯৪৮
কেন,এরকম বাংলা ভাষার দাবির সমর্থনে ছোটখাট সূত্রপাত ১৯৫৭,এমনকি’৪৭-পূর্ববর্তী সময়েও ঘটেছে। বরং ১৯৪৮ সালে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ভাষার সংগ্রামে গোলাম আযম ছিলেন নীরব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে
সেদিন বাংলা ভাষার পক্ষে একটি বিবৃতিও তিনি দেন নি। দালাল ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি সেদিন ছিলেন নীরব। সেদিনের আন্দলনের পক্ষে তিনি তাঁর একটি বিবৃতির প্রমানও দেখাতে পারবেন না। ভাবতে লজ্জা হয়,সেদিনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যেসময় জিন্নাহর মুখের উপর ‘না-না’ করে থুতু ছিটিয়ে দিয়েছিলেন,গোলাম আযম তখন গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। বরং গোলাম আযম নিজেই ঐ গ্রন্থেই স্বীকার করেছেন,জিন্নাহ সম্মানে রেসকোর্সের সংবর্ধনায় তিনি নাকি ‘মঞ্চের কাছেই বসেছিলেন’ এবং সেদিন জিন্নাহ উর্দূর পক্ষে কথা বললে তিনি নাকি কোন প্রতিবাদ দেখেন নি।
(মুহাম্মদ কামরুজ্জামান,অধ্যাপক গোলাম আযমের সংগ্রামী জীবন,ঢাকা, ১৯৮৯,
পৃষ্ঠা ২৭-২৮।)

এর চেয়ে নির্লজ্জ মিথ্যা আর কি হতে পারে! প্রকৃতপক্ষে সেদিনও গোলাম আজমের ভূমিকা ছিল সুস্পষ্টভাবে উর্দূরই পক্ষে। ফলে জিন্নাহর সাথে যখন ছাত্র নেতারা দেখা করতে গিয়েছিলেন, এবং বাংলার পক্ষে দাবি জানিয়েছিলেন তখন সেই প্রতিনিধিদলে গোলাম আযম কেন স্থান পান নাই। তার সেদিনের একই গনবিরোধী ভূমিকার জন্যই ডাকসুর মতো প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরও কোন জায়গায় তাঁর প্রতিনিধিত্ব নেই। তিনি বাংলার দাবিতে কোথাও যান নি। কোন দলিলে তাঁর নাম পাওয়া যায় না। গোলাম আযম বাঙালি সন্তান হয়েও আজীবনই যে পাঞ্জাবী প্রভুদের ‘দাস’ ছিলেন তার প্রমান রয়েছে তাঁর প্রমাণ রয়েছে তাঁর কর্মকাণ্ডেই। ১৯৭০ সালের ১১ এপ্রিল রাজশাহীতে গোলাম আযম বলেছিলেন,‘বাঙালিরা কখোন জাতি ছিল না’। (দৈনিক পাকিস্তান, ১৩ এপ্রিল, ১৯৭০।)

একই বছর ১৮ জুন তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুরে তাঁর পাঞ্জাবি প্রভুদের দেওয়া এক সংবর্ধনার জবাবে বলেন, বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি তাতে অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু এই জন্য তিনি অনুতপ্ত। তিনি আরো বলেন, এদেশের মুসলমানদের ভাষা হওয়া উচিত উর্দূ। (দৈনিক পাকিস্তান, ১৯ জুন, ১৯৭০।)

গোলাম আযম ডাকসুর একজন নেতা হয়েও ’৪৮সলে চকবাজারে একটি সামান্য
প্রচারপত্র বিলি করার কৃতিত্ব নিয়েই ভাষা আন্দোলনের অংশগ্রহনের খেতাব নিতে চাচ্ছেন,অথচ বাংলা ভাষার পক্ষে ডাকসুর নেতা হিসেবে একটি বিবৃতি সেদিন তিনি কুন্ঠাবোধ করেছিলেন। আর তিনিই সেই অংশগ্রহনের দাবিদার না হয়েও বলছেন ,ভুল করেছিলেন। আজকে আবার তাঁর যখন বিচারের সম্মুখিন হবার সম্ভাবনা হচ্ছে,তখন আবার বলছেন,তিনি ‘ভাষা সৈনিক’ ছিলেন।
ভাবতে অবাক লাগে যে,এদের মতো পাপাচারী-মিথ্যাবাদী এবং ভণ্ড প্রতারক ‌ কোন কালে কি হতে পারে! পৃথিবীতে এই চিড়িয়ার আর একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ!


- তথ্যসূত্র : মুক্তিযুদ্ধ তথ্য ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28789401 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28789401 2008-04-19 22:28:29
পোষ্ট মর্টেম জামাতে ইসলাম :সকল পর্ব প্রতিনিয়ত বক্ততা,বিবৃতি ও কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে দেশটিকে জাহান্নাম
বানিয়ে ছেড়েছিল। তাদের উগ্রতা,পাষন্ডতা এবং নির্মমতা আধুনিক সভ্যতার

সকল সৃজনশীলতাকে ম্লান করে দিয়েছিল সেদিন। ১৯৫৩ সালে সমগ্র পশ্চিম পাকিস্তানে ধর্মের নামে হাজার হাজার

পাকিস্তানিকে হত্যা,খুন,ধর্ষন ও লুটপাট করে এই দলটি ইতিহাসের জঘন্যতম

কালিমা সৃষ্টি করেছিল। পাকিস্তানের তৎকালীন আন্তর্জাতিক

খ্যাতিসম্পন্ন বিচারক,বিচারপতি মুনীর ও বিচারপতি কায়ানী এই

হত্যাযজ্ঞ,লুন্ঠন,ধর্ষনের পরিকল্পনা ও প্ররোচনাদানের অপরাধে

জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মওদুদী কে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান

করেছিলেন।
কিন্তু ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে এই কুখ্যাত

মাওলানা মওদুদীকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যদি এই ভুলটি আইয়ুব খাঁর মতো

স্বৈরশাসকরা না করতেন তাহলে হয়তো ইতিহাসের একই বর্বরতার পুনরাবৃত্তি

নাও ঘটতে পারতো।
যেহেতু মাওলানা মওদুদী ইসলামের নামে খুন করেও বেঁচে

গিয়েছিলেন,যেহেতু তাঁর ফাঁসির আদেশ হওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হল

না,যেহেতু এই পাপিষ্ঠ তার কৃতকর্মের জন্য কোন প্রকার ভুল বা অনুতাপ

প্রকাশ করে নি,সেহেতু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে আবার ১৯৫৩ সালের

পুনরাবৃত্তি ঘটলো। এবারের ঘটনার নায়ক হয়ে আসলেন খুনী মওদুদীর যোগ্য

শিষ্য গোলাম আযম। এই আধুনিক খুনীদের একজনের নামের পূর্বে

‘মাওলানা’,আরেকজনের নামের পূর্বে ‘অধ্যাপক’ শব্দজুড়ে অত্যান্ত সুকৌশলে

ধর্মের নামে দিনের পর দিন তারা প্রকাশ্যেই হত্যালীলার রাজনীতি চালিয়ে

আসছেন।
গোলাম আযম ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর

আমীর এবং মওদুদী ছিলেন সমগ্র পাকিস্তানের আমীর। তাঁরা প্রথম থেকেই বলে

আসছেন তাঁরা নাকি ‘ইসলামী’আদর্শের রাজনীতি করেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা

মহান ধর্ম ইসলামের বিবৃতি সাধন করে মওদুদীবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে

রত।
তৎকালীন পাকিস্তানের হাক্কানী আলেমরা অনেকবার ফতোয়া দিয়ে

জামায়াতে ইসলামী মওদুদীবাদীদের কাফের ঘোষণা করেছিলেন। আলেমরা এমনকি

এই কথাও বলেছিলেন,মওদুদীবাদী গোলাম আযমের পেছনে নামাজ পড়লে নামাজ হবে

না।
পীর মোহসীন উদ্দীন দুদু মিয়া ১৯৬৯ সালে জানিয়েছিলেন,মওদুদীর

নামের আগে যে ‘মাওলানা’ শব্দটি ব্যবহার করেন তা সনদপ্রাপ্ত ‘মাওলানা’

খেতাব নয়। তিনি বলেন,ভরতের হাইদরাবাদের নিজামের দরবারে মওদুদী

প্রভুদের তুষ্ট করার জন্য মওদুদী নানা রকম দালালির কাজকর্ম করতেন।

সেখানে তিনি নিয়মিত সুট এবং টাই পরতেন। পরে অনৈসলামিক কাজে নিয়ত

সাম্রাজ্যবাদী ওই প্রভুরা মওদুদীকে ‘মাওলানা’ খেতাব দেন। (দৈনিক

পাকিস্তান,২০ অক্টোবর,১৯৬৯।)

এছাড়া রাজতন্ত্রের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা তা আবার ইসলামী

দৃষ্টিকোন থেকে প্রমান করার জন্য তিনি হাইদরাবাদের নিজামুলমুলক আসিফ

জাহর জীবন-চরিতও রচনা করেছিলেন। (বর্তমানে সৌদি রাজতন্ত্রের সাথে

জামায়াতে ইসলামীর সখ্যতার কারণও এখানেই নিবন্ধ)। (হালিম দাদ

খান,মুক্তিযুদ্ধ ও গোলাম আযম(ঢাকাঃ১৯৯২)পৃষ্ঠা ৯)

১৯৬৯ সালের ৭ নভেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের শ্রদ্ধেয় আলেম

মাওলানা অলিউর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ ইসলাম

সম্পর্কে ভুল বুঝতে পারে আশংকা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন। (দৈনিক

পাকিস্তান,৭ নভেম্বর ১৯৬৯।)

১৯৭০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নিখিল পাকিস্তান ইসলামী

বিপ্লবী পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ওবায়দুল্লহ বিন সাইদ

জামায়াতে ইসলামী সমর্থক ইমামের পেছনে নামাজ না পড়ার আবেদন

জানিয়েছিলেন। (দৈনিক পাকিস্তান,১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০।)

৬৯ সালের ৩০ অক্টোবর পাকিস্তানের ১৩ জন আলেম জামায়াতে ইসলামী

সমর্থকদের কাফের ঘোষনা করে ফতোয়া দিয়েছিলেন। (দৈনিক পাকিস্তান,৩০

অক্টোবর ১৯৬৯।)

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি জামে মসজিদের ইমাম ১৯৬৯ সালে

জানিয়েছিলেন, মাওলানা মওদুদী কোরআনের অপব্যাখ্যা করে বই লিখে প্রচার

করে ধর্মপ্রান মুসলমানদের ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তিনি দাবি করেন,মওদুদী

তার বইগুলো প্রত্যাহার করবেন বলে ওয়াদা দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি ওয়াদা

খেলাপকারী মোনাফেকের পরিচয় দিয়েছিলেন। (দৈনিক পাকিস্তান,২২

সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।)

এখানে বলাবাহুল্য,পবিত্র ইসলাম ও কোরআনের অপব্যাখ্যা করা এই

বইগুলোই বর্তমান বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী এবং তার শিরোমণি গোলাম

আযম, আব্বাস আলী খান,মওদুদীবাদ যা উগ্রধর্মান্ধ ও ক্ষমতার লিপ্সা থেকে

জাত, যা আধ্যাত্মিকতা নয়,প্রচণ্ড ভোগ-বিলাস ও মোহ সৃষ্টির প্রয়োজনে

সৃষ্ট।
সারা দুনিয়ার মানুষ ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবেই জানে। এই

ধর্মের প্রচারক হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সঃ) দ্বারে দ্বারে গিয়ে

দাওয়াতের মাধ্যমে মানুষকে সৎ ও ন্যায়ের পথে এনেছিলেন। এই জন্যে রসুলকে

সীমাহীন নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
কিন্তু গোলাম আযমের গুরু মওদুদী হযরত রসুলে আকরামের এই

আত্মত্যাগকে অপমানিত করছেন কোন প্রকার কৌশলে নয়,একেবারে প্রকাশ্য

কৌশলে। মওদুদী তাঁর ‘আল জেহাদ কিল ইসলাম’ গ্রন্থে' লিখেছেন ;
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম তের বছর পর্যন্ত

আরবকে ইসলামের আহ্বান জানাতে থাকেন,মানুষকে বুঝানোর যত প্রকার

উৎকৃষ্ট পন্থা আছে তা অবলম্বন করেন,যুক্তি-প্রমান দেন....তিনি সত্য

প্রকাশ ও সংস্থাপনের জন্য উপযোগী কোন উপায় বাদ দেয় নাই।... কিন্তু ওয়াজ

নসিয়ত ব্যর্থ হওয়ার পর ইসলামের আহ্বায়ক তলোয়ার হাতে লইলেন...তিনি

(সঃ)তলোয়ার হাতে লওয়ার পর মানুষের মন থেকে ক্রমে ক্রমে পাপ ও

দুস্ক্কৃতির কালিমা দূর হতে লাগলো।’ (মওলানা আবু আলা মওদুদী,আল জেহাদ

কিল ইসলাম,পৃষ্ঠা ১৩৭-১৩৮(হযরত মিয়া তাহের আহমদ (আইঃ),পাকিস্তান সরকারের

শ্বেতপত্রের উত্তর, দ্বিতীয় খণ্ড (ঢাকা,১৯৮৭) প্রশ্নে উদ্ধৃত।)

দুনিয়ার বুকে ইসলাম প্রচারিত হওয়ার এই তত্ব হচ্ছে অমুসলমানদের।

ইসলামবিরোধীরা সব সময় প্রচার করে এসেছে যে,ইসলাম দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত

হয়েছে গায়ের জোরে তলোয়ার দিয়ে। মওদুদীর এই ব্যাখ্যায় শুধু ইসলামের

দুশমনরাই খুশি হতে পারে,মুসলমানেরা নয়। শুধু তা-ই নয়,মওদুদী চ্যালেঞ্জ

করেছেন পরম শক্তিমান আল্লাহ তায়ালার প্রতিও,অপমান করেছেন আমাদের

প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদকেও(নাউজিবিল্লাহ!)। এছাড়া ইসলামের সুবিখ্যাত

সাম্য ও কেন্দ্রীয় আদর্শের আকর্ষণের কথাও এতে অস্বীকার করা হয়েছে।
এমনি করে এই জামায়াতে ইসলামী এবং গোলাম আযমরা সুকৌশলে এদেশে

ইসলামের মূল প্রেরনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ১৯৬৯-৭০ সালে যখন এদেশের

আপামর মানুষ তাদের প্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসাবে শ্লোগান

তুলেছিলেন,‘আমার নেতা-তোমার নেতা : শেখ মুজিব-শেখ মুজিব’ তখন জামায়াতে

ইসলামী পাল্টা আমাদের প্রিয় নবীকে শেখ মুজিবের প্রতিপক্ষ দাঁড় করিয়ে

বলল,‘আমার নেতা-তোমার নেতা : বিশ্ব নবী মোস্তফা।’ জামায়াতে ইসলামীরা

জানতো,এদেশের মানুষ বাংলাদেশের নেতা হিসেবেই শেখ মুজিবের শ্লোগান

দিচ্ছে। তারপরেও প্রিয় নবীর নামে পাল্টা শ্লোগান তুলে তারা

বলেছিল,আমাদের নেতা হযরত মোহম্মদকে মানলে পাল্লায় ভোট দাও। কিন্তু

বাংলার মানুষ ভোট দিল শেখ মুজিবের নৌকায়। তাহলে অর্থটা কি দাঁড়ায়,ভোটে

কি শেখ মুজিবের কাছে হযরত মোহম্মদ(সঃ)-এর পরাজয় ঘটলো(নাউজিবিল্লাহ)!

এভাবেই পলেপলে দিনে দিনে জামায়াত আমাদের ধর্ম ,আমাদের ইসলামকে

ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

পৃথিবীর সকল দেশেই যার যার রাষ্ট্রীয়

ভূখণ্ড,জাতিসত্তা,ইতিহাস,ঐতিহ্য,আইনবিধি নিয়ে আলাদা সংবিধান থাকে।

পৃথিবীর সকল দেশেই তা আছে,শুধু তাই নয়,সকল মুসলিম দেশেও আছে। কিন্তু

বুঝেশুনেই জামায়াত চটকদার শ্লোগান দেয়,‘আমাদের সংবিধান কোরআন’।

প্রকৃতপক্ষে কোরআনকে কে অস্বীকার করছে ? কেউ না। তবুও জামায়াত একটি

দেশের সংবিধানের প্রতিপক্ষ হিসেবে কোরআনকে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। খুব

সচেতনভাবে পবিত্র গ্রন্থ কোরআনকে তারা এভাবে অপমানিত করছে।

প্রিয় নবী হযরত মোহম্মদ(সঃ)-এর সময়ে তার নেতৃত্বে বদরের যুদ্ধ

হয়েছিল। সেই পবিত্র ধর্মীয় যুদ্ধে যেসব বীর অংশ নিয়েছিলেন তারা

ইসলামের ইতিহাসে আলবদর নামে খ্যাতি লাভ করেছিল। গোলাম আযমরা ১৯৭১ সালে

বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সময় এই নামেই একটি খুনী বাহিনী তৈরি করলো। মহান

আল্লাহ সেদিন তাদের অবশ্যই শায়েস্তা করেছিল,তাদের ধ্বংস করেছিল,সমূলে

এদেশ থেকে উৎপাটন করেছিল। কিন্তু একটি ক্ষত থেকেই গেল, মুক্তিযুদ্ধের

সময় হত্যাকারী, আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণকারী এই বাহিনীকে এখন বাংলার

মানুষ রাজাকার-আলবদর বলে গাল দেয়। পবিত্র ‘আলবদর’ শব্দটির এই

অপব্যবহারের ফলে মহান ইসলামের এক বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল।

পৃথিবীর সব দেশের গনতান্ত্রিক সমাজ বলে থাকে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।

চীনের মাও সে তুং অবশ্য বলতেন,
বন্দুকের নলই সকল ক্ষমতার উৎস। তার বিপরীতে এই রাজনৈতিক বাক্যটি

ব্যবহার হত। ইদানিং জামায়াতে ইসলামী ও গোলাম আযমরা সারাদেশে একটি

শ্লোগান দেয়ালের গাঁয়ে সেঁটে দিচ্ছে : ‘আল্লাহই সকল ক্ষমতার উৎস’। এই

শ্লোগানটি নতুন করে তুলে গোলাম আযমরা আসলে কি বলতে চায় : একটি হচ্ছে,তারা

জনগনকে ভয় পায়,জনগনের রায়কে ভয় করে,তারা জানে যতোই

ইসলাম,আল্লাহ,কোরআন,নবী ইত্যাদি নিয়ে তারা রাজনৈতিক ব্যবসা করুক না

কেন,জনগণ সময়ে এসে ঠিকই তাদের ঝাড়ু-পেটা নয় শুধু, এবার একেবারে নির্মূল

করে ছাড়বে। কারণ আমাদের মহান আল্লাহ অবশ্যই সকল ক্ষমতার উৎস। এ

ব্যাপারে কারো শুধু নিরংকুশ নয়,বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকলে সে আর

মুসলমান থাকতে পারে না। কিন্তু ‘জনগন সকল ক্ষমতার উৎস’ কথাটি আসছে একটা

দৈশিক প্রশ্নে, এরশাদের মতো অবার্চীনরা মনে করে রাইফেল একটা উচিয়ে ধরতে

পারলেই ক্ষমতাই যাওয়া যায়,‘ জনগন ক্ষমতার উৎস’ বলতে এই

বন্দুকওয়ালাদেরকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে,জামায়াতী-গোলামরা তা জানেও।

কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালাকে তারা সজ্ঞানে হেয় করতে চায় বলেই এই

‘আল্লাহ ক্ষমতার উৎস’ শ্লোগানটি পাল্টা সামনে তুলে দিচ্ছে।

জামায়াতী-গোলাম আযমরা যুগে যুগে যে মার খেয়েছে, ধ্বংস হয়েছে এই

কারনেই। পবিত্র ধর্ম ,আল্লাহ এবং আমাদের প্রিয় নবীকে নিয়ে রাজনৈতিক

ব্যবসা করার কারণেই আজ সমাজে তারা উচ্ছিষ্ট,তারা নরাধম,অসভ্য,বর্বর বলে

পরিচিত। এই জন্যেই বাংলার পবিত্র ভূমিতে তাদের জায়গা নেই বলে ধ্বনি

ওঠে। শুধু বাংলা কেন,এই পৃথিবীর কোন দেশই এই গণ্ডমূর্খ, জ্ঞানপাপী,

রাফেজী ধর্মদ্রোহী বাতিল মতবাদীদের আজকে গ্রহন করতে রাজি হচ্ছে না।

এদের প্রতি আল্লাহর গজব ও অভিশাপ নাজিল হয়েছে।
১৯৫৩ সালে এদের আমীর মওদুদীর ফাঁসি হয়েছিল,সেই রায় কার্যকর না

করাতে এদেশের জনগন ১৯৭১ সালে এদের পাপের ফলকে ভোগ করেছে। আবার ১৯৭১

সালে এদের পাপের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়াতে আজকে আবার এইসব ‘বাতেল

মতবাদে’র লাঞ্ছনা জনগনকে ভোগ করতে হবে। যেহেতু জনগন তার মনোবাঞ্ছা

পূরণে দেরিতে হলেও গোলাম আজমের ফাঁসি দিতে প্রস্তুত এবং পবিত্র

দায়িত্ব পালনে যারাই পিছপা হবেন,আল্লাহ তাদেরও শাস্তি দিতে ভুলবেন না।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর বিদায় হজের শেষ ভাষণে

বলেছিলেন,ধর্ম নিয়ে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না,অতীতে অনেক জাতি ধর্ম নিয়ে

বাড়াবাড়ি করে ধ্বংস হয়ে গেছে।
এই সেদিনই তো আমরা দেখলাম,কথায় কথায় পাকিস্তানে ধর্মের নামে

হোলিখেলার রাজনীতি। এই বর্বর ধর্ম ব্যবসায়ীদের জন্য পৃথিবীর সদ্য

স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশ ‘পাকিস্তান’ টিকতে পারলো না,ধ্বংস হয়ে গেল।

আজও দেখতে পাচ্ছি,আমাদের দেশের এক শ্রেনীর মাওলানা সেই পূর্বের মতোই

আবারও ধর্মের নামে ডিগবাজি খাচ্ছেন,মনের খুশিতে যা ইচ্ছা বলছেন, যা

ইচ্ছা ফতোয়া দিচ্ছেন,ইসলামের নামে লড়াই করতে চাচ্ছেন। তাদের জন্য এক

প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় অপেক্ষা করছে,সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে,উড়ে যাবে

এইসব জোশ, আলেম হিসেবে তারা কখনোই তখন আর বিবেচিত হবেন না। কারন তাঁরা

রাজনীতির মাঠে নেমেছেন,তাঁরা রাজনৈতিক নেতার মর্যাদা হিসেবেই আল্লাহর

ইচ্ছায় সীমা লঙঘনের দায়ে জনগন কর্তৃক হেদায়িত হবেন।
এখানে বলে নেওয়া ভাল,আমাদের দেশের হাক্কানী আলেমরা কখনই তাদের

সাথে ছিলেন না,তাঁরা এই নোংরা রাজনীতিতে কখনই আসেন না। আমাদের দেশের

মাদ্রাসার ছাত্র এবং আলেম সমাজ বেশির ভাগ ‘দেওবন্দী’ আলেম সমাজের

অনুসারী। এরা কখনই জামায়াতে ইসলামীর মওদুদীবাদকে সমর্থন করেন নি, বরং

জামায়াতদের তারা কাফেরই মনে করে থাকেন। এছাড়া,আমাদের দেশের আরেকটি

দাওয়াতী প্রতিষ্ঠান আছে, ‘তবলীগ জামাত’ যার নাম,তারাও কখনই ধর্মের সাথে

রাজনীতিকে মেলাতে আসেন নি । অনেক সচেতন রাজনৈতিক কর্মীই তাদের

সম্বন্ধে ভুল বুঝে থাকেন। জামায়াতী ইসলামী গোলাম আযমরা আজ মনেপ্রানে

এদেরই প্রধান শত্রু বলে বিবেচনা করে থাকে। কারন জামায়াতে ইসলামী ও

গোলাম আযমদের মওদুদীবাদী আদর্শকে তাত্ত্বিকভাবে এরাই সবসময়

প্রত্যাখ্যান করে আসছে। প্রকতপক্ষে এরাই আসল ইসলামিক মৌলবাদী।
জামায়াতে ইসলামীকে আজ যারা ‘মৌলবাদ’ বলছেন তাঁরা আসলে ভূল করছেন।

কারণ জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতা-কর্মীরা সেই গোলাম আযম, মাওলানা সাঈদী

যেই হোন,তারা কেউ ইসলামের মূলকে ধরে রয় নি,বরং ইসলামের বিকৃতি সাধন করে

তারা এখন তথাকথিত আধুনিক ইসলাম করার চেষ্টা করছেন,যা রসুলের ইসলামের

সাথে কোন মিল নেই। মাওলানা সাঈদী,গোলাম আযমরা এখন

অডিও-ভিডিও,নাচ,গান,বাদ্য,চার রঙা ছবির আত্মজীবনীর বই সবই করে চলেছেন।
জামায়াতে ইসলামী এবং গোলাম আযম-মাওলানা সাঈদীদের সবচেয়ে বড়

অধঃপতন দেখতে পাই তাদের মিথ্যাচারে। তাদের প্রচারিত দৈনিক

সংগ্রাম,মিল্লাত প্রভৃতি দৈনিকগুলোকে দিনের পর দিন মিথ্যা এবং জ্বলন-

মিথ্যাগুলো জেনেশুনে প্রচার করতে দেখা যায়। তা যেকোনো সুসভ্য মানুষকে

বিচলিত করবে। প্রতিদিন সংবাদ আর মিল্লাত পড়লে মনে হবে দেশে বুঝি এখন

কোন যুদ্ধ চলছে। তাদের অবিরাম মিথ্যার বেসাতি এবং অসহনীয় উস্কানির ফলে

দেশে যদি কোনো প্রলয়ংকরী ঘটনা ঘটে যায় তাহলে পরবর্তীকালে এগুলোই হবে

দলিল,যেকোনো সুসভ্য মানুষ পড়লে বুঝতে পারবে এইসব পাপিষ্ঠ অমানুষের দল

কেমন করে ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে এনেছিল ১৯৭১ সালের মতোই।
জামায়াতে ইসলামী ও গোলাম আযমের মিথ্যাচারের কতকগুলো নমুনা এই

প্রসংগে উল্লেখ করা যায়। প্রথমেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের

মীমাংসা হওয়া উচিত তথাকথিত ‘ভাষা সৈনিক’ হিসেবে গোলাম আযমের দাবি।
প্রকৃতপক্ষে ভাষা আন্দলন বলতে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির

আত্মদানকেই বোঝানো হয়ে থাকে। ভাষার সংগ্রাম হিসেবে এদিনটিকেই বাংগালি

জাতি প্রতিবছর স্মরণ করে থাকে। বর্তমানের ভাষা শহীদ মিনার ’৫২সালের এই

দিনটির স্মৃতি সামনে রেখেই।
গোলাম আযম ১৯৫২ সালে ছাত্র ছিলেন না,রাজনৈতিক নেতাও ছিলেন না।

গোলাম আযমের নির্দেশে তাঁরই অনুগামী শিষ্য আলবদর নেতা মুহাম্মদ

কামরুজ্জামান গোলাম আযমের যে জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছেন তাতে দাবি

করেছেন যে,১৯৪৮ সালে চকবাজারে গোলাম আযম অন্যদের সাথে প্রচারপত্র বিলি

করতে গিয়েছিলেন। আরও একটি তথ্য দিতে গিয়ে এই গ্রন্থেই বলা হয়েছে,
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান যখন ঢাকায় এসেছিলেন, তখন

ডাকসুর পক্ষ থেকে একটি মানপত্র পড়া হয়েছিল এবং তা ডাকসুর সহ-সভাপতি

অরবিন্দ বোস পড়বেন বলে ঠিক হলেও হিন্দু বলে তিনি পড়েন নি,পড়েছেন সাধারণ

সম্পাদক গোলাম আযম। ব্যস্‌,এই তো বীর! আজ ভাষা আন্দোলন যখন বাঙাগালির

হৃদয়ে এমন প্রাণবিদ্ধ হয়ে আছে,কোন রকম তার সাথে কৃতিত্ব নিয়ে ভাষা

সৈনিক খেতাব নিতে পারলেই বাংগালির হৃদয়ে স্থান পাওয়া সম্ভব হবে।
কিন্তু সম্ভব নয়। কারণ প্রথমেই বলেছি,ভাষা সৈনিক বলতে এদেশের

মানুষ ’৫২ সালের একুশের মিছিলের সৈনিকদের বুঝে থাকেন। গোলাম আযম ১৯৪৮

সালে ভাষার লড়াইয়ের এই তথাকথিত সংযোগের দাবী ধোপে টেকে না। কারণ ১৯৪৮

কেন,এরকম বাংলা ভাষার দাবির সমর্থনে ছোটখাট সূত্রপাত

১৯৫৭,এমনকি’৪৭-পূর্ববর্তী সময়েও ঘটেছে।
বরং ১৯৪৮ সালে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ভাষার সংগ্রামে

গোলাম আযম ছিলেন নীরব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে

সেদিন বাংলা ভাষার পক্ষে একটি বিবৃতিও তিনি দেন নি। দালাল ছাত্রনেতা

হিসেবে তিনি সেদিন ছিলেন নীরব। সেদিনের আন্দলনের পক্ষে তিনি তাঁর একটি

বিবৃতির প্রমানও দেখাতে পারবেন না। ভাবতে লজ্জা হয়,সেদিনের ঢাকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যেসময় জিন্নাহর মুখের উপর ‘না-না’ করে থুতু

ছিটিয়ে দিয়েছিলেন,গোলাম আযম তখন গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন।
বরং গোলাম আযম নিজেই ঐ গ্রন্থেই স্বীকার করেছেন,জিন্নাহ

সম্মানে রেসকোর্সের সংবর্ধনায় তিনি নাকি ‘মঞ্চের কাছেই বসেছিলেন’ এবং

সেদিন জিন্নাহ উর্দূর পক্ষে কথা বললে তিনি নাকি কোন প্রতিবাদ দেখেন নি।

(মুহাম্মদ কামরুজ্জামান,অধ্যাপক গোলাম আযমের সংগ্রামী জীবন,ঢাকা, ১৯৮৯,

পৃষ্ঠা ২৭-২৮।)

এর চেয়ে নির্লজ্জ মিথ্যা আর কি হতে পারে! প্রকৃতপক্ষে সেদিনও

গোলাম আজমের ভূমিকা ছিল সুস্পষ্টভাবে উর্দূরই পক্ষে। ফলে জিন্নাহর

সাথে যখন ছাত্র নেতারা দেখা করতে গিয়েছিলেন, এবং বাংলার পক্ষে দাবি

জানিয়েছিলেন তখন সেই প্রতিনিধিদলে গোলাম আযম কেন স্থান পান নাই। তার

সেদিনের একই গনবিরোধী ভূমিকার জন্যই ডাকসুর মতো প্রতিষ্ঠানের সাধরণ

সম্পাদক হওয়ার পরও কোন জায়গায় তাঁর প্রতিনিধিত্ব নেই। তিনি বাংলার

দাবিতে কোথাও যান নি। কোন দলিলে তাঁর নাম পাওয়া যায় না।
গোলাম আযম বাঙালি সন্তান হয়েও আজীবনই যে পাঞ্জাবী প্রভুদের ‘দাস’

ছিলেন তার প্রমান রয়েছে তাঁর প্রমাণ রয়েছে তাঁর কর্মকাণ্ডেই। ১৯৭০

সালের ১১ এপ্রিল রাজশাহীতে গোলাম আযম বলেছিলেন,‘বাঙালিরা কখোন জাতি ছিল

না’। (দৈনিক পাকিস্তান, ১৩ এপ্রিল, ১৯৭০।)

একই বছর ১৮ জুন তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুরে তাঁর

পাঞ্জাবি প্রভুদের দেওয়া এক সংবর্ধনার জবাবে বলেন, বাংলা ভাষা

আন্দোলনের সময় তিনি তাতে অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু এই জন্য তিনি অনুতপ্ত।

তিনি আরো বলেন, এদেশের মুসলমানদের ভাষা হওয়া উচিত উর্দূ। (দৈনিক

পাকিস্তান, ১৯ জুন, ১৯৭০।)
গোলাম আযম ডাকসুর একজন নেতা হয়েও ’৪৮সলে চকবাজারে একটি সামান্য

প্রচারপত্র বিলি করার কৃতিত্ব নিয়েই ভাষা আন্দোলনের অংশগ্রহনের খেতাব

নিতে চাচ্ছেন,অথচ বাংলা ভাষার পক্ষে ডাকসুর নেতা হিসেবে একটি বিবৃতি

সেদিন তিনি কুন্ঠাবোধ করেছিলেন। আর তিনিই সেই অংশগ্রহনের দাবিদার না

হয়েও বলছেন ,ভুল করেছিলেন। আজকে আবার তাঁর যখন বিচারের সম্মুখিন হবার

সম্ভাবনা হচ্ছে,তখন আবার বলছেন,তিনি ‘ভাষা সৈনিক’ ছিলেন।
ভাবতে অবাক লাগে যে,এদের মতো পাপাচারী-মিথ্যাবাদী এবং ভণ্ড

প্রতারক ‌ কি হতে পারে! পৃথিবীতে এই চিড়িয়ার আর একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া

সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ!


- তথ্যসূত্র : মুক্তিযুদ্ধ তথ্য ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।

পর্ব -২

মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাস সীমাহীন উত্তেজনামূলক বক্তৃতা,বিবৃতি ইত্যাদি প্রচারণার মাধ্যমে গোলাম আযম এবং তার দল জামায়াতে ইসলামী চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। এর একটি তালিকা ক্রমধারা অনুযায়ী

সাজালে বোঝা যাবে কতখানি নিচ এবং তৃতীয় শ্রেনীর রাজনীতিক ছিলেন তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
টিক্কা খানের কামানের গোলায় যখন ঢাকা শহর আগুনে জ্বলছিল,তখন গোলাম আযম ৬ এপ্রিল,১৯৭১ টিক্কা খানের সাথে দেখা করে পাকিস্তানি সৈন্যদের পদেেপর প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন জ্ঞাপন করেন।(দৈনিক সংগ্রাম,৭এপ্রিল,১৯৭১)।
৭ এপ্রিল গোলাম আযম সংবাদপত্রে এক বিবৃতিতে বলেন,সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের(মুক্তিবাহিনীদের-লেখক)দেখামাত্র খতম করে দেওয়া হবে। (দৈনিক সংগ্রাম,৮এপ্রিল,১৯৭১)।
১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। গোলাম আযম এই শান্তি কমিটির শীর্ষস্থানীয় সদস্য হিসেবে যোগদান করেন।।(দৈনিক সংগ্রাম,১১এপ্রিল,১৯৭১)।
১২ এপ্রিল ছাত্র সংঘ নেতা মতিউর রহমান নিজামী,মোহাম্মদ ইউনুস,
নুরুল ইসলাম,শাহ জমাল চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন,স্বাধীন বাংলা গোলামে পরিনত করবে।
১২ এপ্রিল ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তি কমিটির মিছিলে গোলাম আযম নেতৃত্ব দেন এবং মিছিল শেষে গোলাম আযম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।।

(দৈনিক সংগ্রাম,১৩ এপ্রিল,১৯৭১)।
১৪ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম বলে যে, দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সকল ঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে এবং সকল অনুপ্রবেশকারী মুক্তিবাহিনীকে নির্মূল করা হয়েছে।
১৫ এপ্রিল জামায়াতে ইসলামের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম পাকিস্তানি সৈন্যদের গ্রামাঞ্চালে গিয়ে দুষ্কৃতকারীদের(মুক্তিবাহিনীকে) আক্রমন করার পরামর্শ দেয়।
২২ এপ্রিল জামালপুরে ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে জামালপুরে প্রথম আলবদর বাহিনী গঠিত হয়। মে মাসে জামায়াত নেতা ইউসুফের নেতৃত্বে খুলনায় রাজাকার

বাহিনী প্রথম কাজ শুরু করে।
২২ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে যে,মাননীয় প্রেসিডেন্ট ইয়হিয়া খান ও টিক্কা খানের সময় উপযোগী পদেেপর জন্য পাকিস্তান রা পেয়েছে।
২৩ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনী ধরার জন্য বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করার পরামর্শ দেয়।
গোলাম আযম পরিচালিত দৈনিক সংগ্রাম ৩০ এপ্রিল সংখ্যায় বলে যে,
যারা পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ করেছিল তাদের পাকিস্তানে জায়গা হবে না।
পয়লা মে দৈনিক সংগ্রাম বলে,দেশের শান্তির জন্য দুষ্কৃতকারীর (মুক্তিবাহিনীর) মূল উৎস উৎখাত হওয়া প্রয়োজন। পত্রিকাটি আরো মন্তব্য করেন,দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিবাহিনীকে)

নিমূল করা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া,পূর্ব পাকিস্তানে ‘বাংলাদেশ সরকার’ নামক কোন কিছুর অস্তিত্বও নেই বলে দৈনিকটি উল্লেখ করে।
৪ মে জামায়াতের এই দৈনিক পত্রিকাটি মুক্তিবাহিনীকে ধরিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করে। পত্রিকাটি বলে,এটা হবে ‘ঈমানি দায়িত্ব’।
৬ মে দৈনিক সংগ্রাম বলে, ‘বাংলাদেশ’ওয়ালারা ভূত তা অকল্যাণ বয়ে এনেছে।
২৫ মার্চ রাতের গনহত্যা ও ধ্বংসলীলাকে সমর্থন করে নির্লজ্জের মতো জামায়োতে ইসলামীর মুখপত্রটি ৮ মে তারিখের সংখ্যায় বলে,শেখ মুজিব ২৬ মার্চ সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলা কায়েমের পরিকল্পনা এঁটে ছিলেন। সেনাবাহিনী তা ২৫ মার্চ হঠাৎ আক্রমন চালিয়ে এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে আমাদের পাকিস্তানকে বাঁচিয়েছে।
২৪ মে জামায়োতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মসমপর্ণের আহ্বান জানায়। পত্রিকাটি বলে,‘গেরিলাগিরির’ নামে মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা পািকস্তানি সেনাবাহিনী তছনছ করে দেবে।
২৭ মে দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনী ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করে।
এদিন পত্রিকাটি মুক্তিবাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার করার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনির কাছে আবেদন জানায়।
২৮ মে জামায়োতে ইসলামীর পত্রিকাটি মুক্তিবাহিনী নির্মূলের জন্য অস্ত্রশস্ত্র দাবি করে। তারা একই সাথে বেসমরিক পোশাকধারী একটি বাহিনী গঠনেরও পরামর্শ দেয়।
১৩ জুন জামায়োতে ইসলামী বলে,‘গেরিলাগিরির’ নামে যেসব দুষ্কৃতকারী দেশের শান্তি ব্যাহত করছে,সামরিক কর্তৃপরে অনুমতিক্রমে প্রয়োজনীয় হাতিয়ার নিয়ে গেরিলা পদ্ধতিতেই

দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিবাহিনীকে) নির্মূল করার জন্য গ্রাম প্রতিরা বাহিনী গঠন করতে হবে।(দৈনিক সংগ্রাম,১৩ জুন,১৯৭১)।
১৫ জুন দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনিকে খতম করার জন্য শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর দিকে তাকিয়ে না থেকে পাকিস্তানপন্থীদের পথ বেছে নিতে বলা হয়।
১৭ জুন গোলাম আযম বলেন,দুষ্কৃতকারীরা (মুক্তিযোদ্ধারা) এখনও ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন,এদের যদি পকিড়াও করা হয়,তবেই পরিস্থিতি দমন করা যাবে। (দৈনিক

সংগ্রাম,১৭ জুন,১৯৭১)।
২০ জুন গোলাম আযম লাহোরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন,যারা প্রকাশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু করেছিল,তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী

সকল দুষ্কৃতকারী(মুক্তিযোদ্ধ) উৎখ্যাত করেছে। তিনি মুক্তিবাহিনী মোকাবেলার জন্য সরকারের কাছে অস্ত্র সরবরাহের দাবি জানান। (দৈনিক সংগ্রাম,২১ জুন,১৯৭১)।
২২ শে জুন গোলাম আযম এক সাাৎকারে বলেন,তারা কখোনই পাকিস্তান ত্যাগ করতে পারবেন না। এই জন্য কোরবানি দেওয়ার জন্যেও তাঁর কর্মীরা প্রস্তুুত রয়েছে।
একই দিন গোলাম আযম এক কর্মিসভায় বলেন,বেআইনী ঘোষিত আওয়ামী লীগ কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানে সৃষ্ট সামপ্রতিক গোলযোগ ১৮৫৭ সালের বাংলা বিদ্রোহের চেয়েও দশগুন বেশি শক্তিশালী

ছিল। তিনি ২৩ জুন বলেন,পূর্ব পাকিস্তানি ভাইয়েরা সর্বদাই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে বাস করবে।(দৈনিক সংগ্রাম,২২ জুন ও ২৩ জুন,১৯৭১)।
২২ জুন গোলাম আযম এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যেসব দল আন্দোলন করছে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষনার আহ্বান জানান।(দৈনিক সংগ্রাম,২৩ জুন,১৯৭১)।
৩০ জুন গোলাম আযম এবং তার রাজনৈতিক পিতা মাওলানা মওদুদী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সংসদ সদস্যদের পদ বাতিল ঘোষনা করায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে অভিনন্দন জানান। (দৈনিক

সংগ্রাম,৩০ জুন,১৯৭১)।
একই দিন জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করাকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা বলে অভিহিত করে।
৪ জুলাই দৈনিক সংগ্রাম এক উপসম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ‘ইহুদী ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করে।
৪ জুলাই ইসলামী ছাত্রসংঘের পরিচালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে ুদ্র অস্ত্রের সাহায্যে রাজাকারদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী লড়াইয়ের প্রশিন শুরু করা হয়।
(দৈনিক সংগ্রাম, ৪ জুলাই, ১৯৭১)।
৮ জুলাই জামায়াতে ইসলামী মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়। একই দিন দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে,পাকিস্তান টিকে থাকার জন্যেই এসেছে।
৯ জুলাই থেকে জামায়াতে ইসলামী,তার নেতারা এবং দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনীকে দুষ্কৃতকারীর সাথে ‘ডাকাত’ নামে অভিহিত করতে শুরু করে।(দৈনিক সংগ্রাম, ৯ জুলাই, ১৯৭১)।
১৬ জুলাই দৈনিক সংগ্রাম এবং জামায়াতের নেতারা ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নির্মিত ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি পকিস্তানি সেনাবাহিনী ভেঙ্গে ফেলায় অভিনন্দন জানায়।
একই দিন দৈনিক সংগ্রাম বলে,য়ারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছে পাকিস্তানপন্থীরা তাদের কোনোদিনই মা করবে না।
১৭ জুলাই দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করে।
জুলাই মাসে বরিশালে মুসলিম লীগের সভায় ব্যারিষ্টার আখতারউদ্দিন আহমদ,মেজর আফসারউদ্দিন,এডভোকেট আব্দুর রহমান বিশ্বাস প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতকারী ও বিদেশী চর

আখ্যায়িত করে এদের উৎখাত করার আহ্বান জানান। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৮ জুলাই, ১৯৭১)।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃটিশ টেলিভিশনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের সচিত্র প্রতিবেদন দেখানো হলে দৈনিক সংগ্রাম ১৯ জুলাই সাফাই গেয়ে লেখে, এগুলো ঘূর্ণিঝড়ের ছবি।
২ আগষ্ট গোলাম আযম ঢাকার মাদ্রাসার ছাত্রদের মিছিলে বলেন,
মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের নয়,এটা আদর্শিক যুদ্ধ। এ যুদ্ধে জিততেই হবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ৩ আগষ্ট, ১৯৭১)।
একই দিন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা মতিউর রহমান নিজামী বলেন,
মুক্তিবাহিনী পাঁচগুণ শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে পরাজিত হবে।
একই সভাই মতিউর রহমান নিজামী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে তাদের ‘ভাই’ আখ্যায়িত করায় ৩ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে,জনাব নিজামী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আমাদের ‘ভাই’ বলে

যথার্থ করেছেন,সেনাবাহিনীর সাথে একাত্ম হয়ে শত্রুর (মুক্তিবাহিনীর) মোকাবেলা করতে হবে।
৮ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামে গোলাম আযম এক উপসম্পাদকীয়তে লেখেন,১৯৬৫ সালের যুদ্ধে টিক্কা খানের বীরত্বের কথা শুনে তাঁকে এক নজর দেখার ইচ্ছা প্রবল হচ্ছিল। তাঁর ছবি আমার

মানসপটে বিশেষ মর্যাদার সাথে আকা রয়েছে।
১২ আগষ্ট গোলাম আযম বাংলাদেশ আন্দোলনের সমর্থকদের দুশমন আখ্যা দিয়ে তন্নতন্ন করে তালাশ করে খুজে বের করার আহ্বান জানান। মতিউর রহমান নিজামী ও মোহাম্মদ ইউনুসও অনুরূপ

বিবৃতি দেন।(দৈনিক সংগ্রাম, ১২ আগষ্ট, ১৯৭১)।
১২ আগষ্ট মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানি সামরিক সরকারের পুতুল পূর্ব পাকিস্তানি ডাঃ মালেকের মন্ত্রিসভায় জামায়াতে নেতারা যোগদান করেন।
১৩ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামও মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তিদানের আহ্বান জানায়।
পাকিস্তানের শেষ আজাদী দিবস ১৪ আগষ্ট সংখ্যায় দৈনিক সংগ্রাম স্বীকার করে,অত্যাচার-অনাচারের কারণে মুক্তিযুদ্ধোবিরোধী তাদের ‘শান্তি কমিটি’ অশান্তি কমিটিতে পরিণত হয়েছে।
১৪ আগষ্ট পাকিস্তানের শেষ আজাদী দিবসে কার্জন হলে আয়োজিত এক সেমিনারে পিডিপি নেতা নূরুল আমীন বলেন,আজ আজাদী দিবস আনন্দের দিন,কিন্তু এই আনন্দের দিনেও আমাদের মন ভারাক্রান্ত।
কিন্তু গোলাম আযম একই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বলেন,এবার প্রাণচাঞ্চল্যের সাথে আজাদী দিবস উদ্‌যাপিত হয়েছে। পাকিস্তানের ভিতরে হাজার হাজার দুশমন জন্ম নিয়েছে। বাইরের চেয়ে ভিতরের দুশমন আরো বেশি

বিপজ্জনক । ঘরে ঘরে এইসব দুশমন খুঁজে বের করতে হবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৬ আগষ্ট, ১৯৭১)।
১৯ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামের সাথে এক সাক্ষাতকারে গোলাম আযম বলেন,মুক্তিযুদ্ধের পাল্টা অভিযান নিয়ে আমাদের আসাম দখল করে নেওয়া উচিত।
২০ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামে গোলাম আযম বেনামে এক উপসম্পাদীয়তে আজাদী দিবস উপলক্ষে ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের তোরণ নির্মাণকে অভিনন্দিত করেন।
২২ আগষ্ট মতিউর রহমান নিজামী এক অনুষ্ঠানে বলেন, পাকিস্তান যারা চায় না,তারা ইসলাম চায় না। (দৈনিক সংগ্রাম, ২৩ আগষ্ট, ১৯৭১)।
২৩ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রাম ‘রাজাকার অর্ডিন্যান্স’ জারি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।
২৬ আগষ্ট গোলাম আযম পেশোয়ারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানকে দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিবাহিনীর)হাত থেকে রা করেছে এবং এই দুষ্কৃতকারীদের ধ্বংস করার জন্য

সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ২৭ আগষ্ট, ১৯৭১)।
জামায়াতে নেতা চৌধুরী রহমত এলাহী একই দিন সামরিক আইন তুলে নেয়ার বিরোধিতা করে বিবৃতি দেন।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের উদ্দেশ্যে একটি বিমান নিয়ে পালিয়ে আসতে গিয়ে শহীদ হন। জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম মতিউর রহমানের নিন্দা করে সম্পাদকীয় লেখে। আমাদের এই

বিরশ্রেষ্ঠকে দৈনিক সংগ্রাম ‘দুষ্কৃতকারী’ বলে আখ্যায়িত করে এবং পাকিস্তানি পাইলট মিনহাজ রশিদ যে মতিউর রহমানকে হত্যা করে দৈনিক সংগ্রাম সেই পাকিস্তানি পাইলটের জন্য আহাজারি করে লেখে,মিনহাজ

রশিদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের কাহিনী শুনে গর্বে বুক ভরে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28781422 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28781422 2008-03-22 10:08:51
পোষ্ট মর্টেম জামাতে ইসলাম : শেষ পর্ব জামাতে ইসলামী পবিত্র ইসলামের মুখোশধারী একটি কালো শক্তি। জামাতীরা একাত্তরে ঘাতক দালালই নয়,তারা একটি বাতিল ফেরকা। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা মওদুদীর বাতিল ধ্যান-ধারনার বাস্তব রূপ হচ্ছে জামাতে ইসলামী। মওদুদী উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রত্যেক নেতারই সমালোচনা করেছেন। তাঁর এই সমালোচনা রাজনৈতিক ব্যাপারেই সীমিত ছিলো না,ধর্মীয় বিষয়েও তিনি অনেক বাড়াবাড়ি করেছেন। নবী-রাসুল,সাহাবা কেরাম,ইমাম-মুজতাহিদ ও মনীষীদের সম্পর্কেও তিনি অনেক ধৃষ্টতামূলক উক্তি করেছেন। এমনকি পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালার নবী-রাসুল পাঠানোর ব্যাপারেও তার আপত্তিকর মন্তব্য রয়েছে। এখানে তার বিভিন্ন লেখা থেকে কিছু উদ্ধৃতি দৃষ্টান্ত হিসাবে উল্লেখ করা যাক।

মওদুদী সাহেব তাঁর তফসীরের এক স্থানে লিখেছেন,“আল্লাহ্‌ সর্বপ্রথম যে মানুষটি সৃষ্টি করেন তাকে তিনি একথাও বলে দিয়েছিলেন,হাকিকত বা সত্য কি এবং তোমার জন্য সঠিক পথ কোনটি। কিছুকাল পর্যন্ত আদমের বংশধররা সঠিক পথে ছিলো এবং একই উম্মত বা জাতি হিসেবে থাকে। মানুষ নতুন নতুন রাস্তা বের করে এবং বিভিন্ন মত ও পথ উদ্ভাবন করে। (এই উদ্ভাবন)এজন্য নয় যে,তাদের সঠিক পথ জানা সত্ত্বেও তাদের কেউ কেউ নিজের বৈধ অধিকার অতিক্রম করে আরো ফায়দা ও মুনাফা হাসিল করতে চাচ্ছিলো। এই মন্দ প্রবণতা দূর করার জন্য আল্লাহ্‌ তায়ালা নবীদের পাঠানো শুরু করেন”। (তাফহিমুল কোরআন/১৬২ পৃষ্ঠা-মওদুদী।)

মওদুদী সাহেব তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে সর্বজ্ঞ ও সর্বদ্রষ্টা মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার অসীম জ্ঞানের ওপর কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মন্তব্যের অর্থ দাঁড়ায়, প্রথমে আল্লাহ্‌ তায়ালার নবী-রাসুল পাঠানোর পরিকল্পনা ছিলো না। মানুষকে তিনি সঠিক পথের জ্ঞান দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান। এই পদ্ধতিতে আল্লাহ্‌ তায়ালা মানুষ কে সঠিক পথে রাখতে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি নবী-রাসুল পাঠানো শুরু করেন। মওদুদীর এই ব্যাখ্যা দ্বারা আল্লাহ্‌ তায়ালার জ্ঞানকে অসম্পূর্ণ বুঝানো হয়েছে। তাঁর এই উক্তি কোরআন-হাদীসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

নবী রাসুলদের নিষ্পাপ হওয়া সম্পর্কে সকল ইমাম-মুজতাহিদ ও ইসলামিক চিন্তাবিদরা অভিন্ন মত পোষণ করেন। কিন্তু শুধু মওদুদী সাহেব ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি বলছেন,“ইসমত বা নিষ্পাপ হওয়াটা মূলত নবীদের প্রকৃতিগত গুণ নয়। বরং নবুয়তের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য আল্লাহ্‌ তায়ালা কৌশলগতভাবে তাঁদেরকে ভুলত্রুটি ও পদস্খলন থেকে নিরাপদ রেখেছেন। নতুবা তাঁদের ওপর আল্লাহ্‌ তায়ালার হেফাজত ক্ষনিকের জন্য উঠে গেলে সাধারণ মানুষের মত তাঁরাও ভুলভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় এই যে, আল্লাহ্‌ তায়ালা ইচ্ছে করেই প্রত্যেক নবীর উপর থেকে কোন না কোন সময় তাঁর হেফাজত উঠিয়ে নেন এবং তাঁকে দু’একটি গুনাহে লিপ্ত হতে দেন। তাতে করে মানুষ যেন নবীদেরকে খোদা বলে ধারণা না করে এবং জেনে রাখে এঁরাও মানুষ” (তাফহিমাত,২য় খণ্ড,৪৩ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)

মওদুদী সাহেবের এই উক্তিটি ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। অত্যন্ত স্পষ্ট। ইসলামের নামে তিনি সম্পূর্ণ ভুল ও বাতিল ধারণা প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর এই অভিমত প্রমাণের জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন নবী ও রাসুলের নিষ্পাপ জীবনকে কলঙ্কিত করার দৃষ্টতা দেখিয়েছেন। হযরত মুসা (আঃ) সম্পর্কে মুওদুদী সাহেব বলেছেন,‘নবী হওয়ার পূর্বে হযরত মুসা (আঃ) দ্বারা একটি বড় গুনাহ হয়েছিলো। তিনি এক ব্যাক্তিকে কতল করেছিলেন।” (রাসায়েল ও মাসায়েল,প্রথম খণ্ড,৩১ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)

মূলত হযরত মুসা (আঃ) ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কতল বা খুন করেন নি। সেকালে মিসরে কিবতী বংশীয়রা ছিল শাসক। তারা বনি ইসরাইলীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাতো। একদিন এক কিবতী একজন বনি ইসরাইলীকে মারধোর করছিলো। নির্যাতিত লোকটি হযরত মুসা সাহায্যে প্রার্থনা করে। হযরত মুসা অত্যাচারী কিবতীকে একটি ঘুষি মারেন। তাতে ঘটনাচক্রে লোকটি মারা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মওদুদী সাহেব হযরত মুসাকে খুনী হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

মওদুদী সাহেব পবিত্র কোরআনের একটি ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে হযরত ইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে বলেছেন,“এখানে আর একটি প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে,হযরত ইবরাহীম (আঃ)যখন নত্র দেখে বলেছিলেন,‘এটা আমার প্রতিপালক’ এবং চন্দ্র-সূর্য দেখে এগুলোকে নিজের প্রতিপালক হিসেবে অভিহিত করেন তখন সাময়িকভাবে হলেও তিনি কি শিরক-এ নিপতিত হন নি ?........” ( তাফহিমুল কোরআন,১ম খণ্ড, ৫৫৮ পৃষ্ঠা।)

হযরত ইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে এ ধরনের প্রশ্ন ওঠানোই একটা চরম দৃষ্টতা ছাড়া কিছু নয়। কারণ নবী-রাসুলগন নবুয়াত লাভের আগে ও পরে নির্বিশেষে জন্মগতভাবেই নিষ্পাপ। আর ইসলাম বলে, আল্লাহ চাইলে সকল পাপ মাফ করবেন, কিন্তু তিনি শিরক মাফ করবেন না। তাহলে, কি মওদূদীর ভাষ্য অনু্যায়ী, আমাদের মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) দো্যখে যাবেন? আল্লাহ মাফ করুন আমাদের।

মুওদুদী সাহেব তাঁর তফসীরে হযরত ইউনুস (আঃ) সম্পর্কে বলেছেন, “হযরত ইউনুস দ্বারা নবুয়তের দায়িত্ব পালনে কিছুটা অবহেলা বা অসতর্কতা হয়েছিলো।” (তাফহিমুল কোরআন,২য় খণ্ড, সুরা ইউনুস।)

মওদুদীর উদ্ভট অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত। এর দ্বারা শুধু হযরত ইউনুসই সমালোচিত হন নি,আল্লাহ্‌ তায়ালার নবী মনোনয়নেও কটাক্ষ করা হয়েছে। কারণ তাঁর মন্তব্য থেকে বোঝা যায়,আল্লাহ্‌ তায়ালা কর্তৃক হযরত ইউনুসকে নবী নির্বাচন সঠিক হলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

মওদুদী সাহেব হযরত ইউসুফকে (আঃ) বিংশ শতাব্দীর ঘৃণ্য ডিকটেটর মুসোলিনীর সাথে তুলনা করেছেন। তিনি আল্লাহর নবী হযরত ইউসুফের মর্যাদাকে মুসোলিনীর সমমর্যাদার বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন,
“ ইউসুফের (আঃ) দাবি নিছক অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদ প্রার্থনাই ছিলো না,যেমনটি কোন কোন লোক ধারণা করে থাকে। বরং তা ছিলো ডিকটেটরশিপ লাভের দাবি। এর ফল হিসেবে হযরত ইউসুফের (আঃ) যে মর্যাদ অর্জিত হয়েছিল, তা ছিল অনেকটা বর্তমান মুসোলিনীর মর্যাদার অনুরূপ।” (তাফহিমাত,২য় খণ্ড,১২২ পৃষ্ঠা।)

পবিত্র কোরআনে হযরত ইউসুফের (আঃ) এর নামে একটি সুরা রয়েছে। উক্ত সুরাকে আল্লাহ্‌ তায়ালা ‘সুন্দরতম কাহিনী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর মওদুদী সাহেবের ভাষায় হযরত ইউসুফ ডিকটেটরশিপের দাবি করেছিলেন। তিনি হযরত ইউসুফকে ইতিহাসের অন্যতম ঘৃন্য ব্যাক্তি মুসোলিনীর সমমর্যাদায় নামিয়ে এনেছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালার সম্মানিত নবী সম্পর্কে এর চেয়ে ধৃষ্টতামূলক উক্তি আর কি হতে পারে।

হযরত দাউদ (আঃ) সম্পর্কে মওদুদী সাহেব বলেছেন,“উরইয়ার স্ত্রীর ব্যাপারটির মূলতত্ত্ব শুধু এতটুকু ছিলো যে, হযরত দাউদ (আঃ) সমকালীন ইসরাইলী সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উরইয়ার নিকট তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন।.........” (তাফহিমাত,২য় খণ্ড, ৪২ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)

হযরত দাউদ (আঃ) সম্পর্কে মওদুদীর এই মন্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর। কারণ পূতপবিত্র নবী-রাসুলগণ কোন অবস্থাতেই সামাজিক কুপ্রথা দ্বারা প্রভাবিত হন নি। বিশিষ্ট তফসীরকারদের অভিমত হলো,উরইয়ার স্ত্রীর ঘটনাটাই কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন।এই কাহিনী ইয়াহুদীদের প্রচলিত কাহিনী। মওদূদী সাহেব ইয়াহুদীদের কাহিনি প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছিলেন কি কারনে?

হযরত দাউদ (আঃ) সম্পর্কে জনাব মওদুদী আরো বলেছেন,“এর দ্বারা স্বভাবতই প্রকাশিত হয়,যে কাজ তাঁর (হযরত দাউদ) দ্বারা হয়েছিলো তাতে তাঁর কুপ্রবৃত্তির কিছু না কিছু দখল বা প্রভাব ছিলো। তাঁর শাসকসুলভ অসঙ্গত ব্যবহারেরও কিছুটা সম্পর্ক ছিলো। আর তা এমন কাজ ছিলো,যা ন্যায়পরায়ণ কোন শাসকের জন্য শোভনীয় ছিলো না।” (তাফহিমুল কোরআন,৪র্থ খণ্ড,২২৭ পৃষ্ঠা।)

পবিত্র কোরআনে হযরত দাউদের (আঃ) প্রতি আল্লাহ্‌ তায়ালা তাঁর বিশেষ অনুগ্রহের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা হযরত দাউদের উচ্চ প্রশংসা করেছে। কিন্তু মওদুদী সাহেব এই মহান মর্যাদার অধিকারী রাসুলকে ‘কুপ্রবৃত্তির বশীভূত ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী’ বলে মন্তব্য করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। সত্যি মওদুদী সাহেবের এসব বাতিল ধ্যান-ধারণা দেখে যেকোন বিবেকবান লোক বিস্মিত না হয়ে পারেন না।

মওদুদী সাহেব তাঁর বিভিন্ন লেখায় মহানবী (সঃ) সম্পর্কেও সমালোচনা করেছেন,তাঁর সম্পর্কে ধৃষ্টতামূলক উক্তি করেছেন। দজ্জাল সম্পর্কিত হাদীসগুলো সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন,“এ সম্পর্কে যেসব কথা হুজুরের নিকট থেকে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,মূলত এগুলো ছিল তাঁর অনুমান (কিয়াস)। এসব সম্পর্কে তিনি নিজেও সন্দিগ্ন ছিলেন। এসব কথা তিনি ওহী লাভের ভিত্তিতে বলেন নি,বরং অনুমান করে বলেছিলেন।...” (রাসায়েল ও মাসায়েল,৫৫-৫৬ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
ইসলাম বলে, মহানবী (স<img src=" style="border:0;" /> নিজে থেকে কিছুই বলেন নাই, তিনি তাই বলেছেন যা আল্লাহ তাকে বলতে বলেছেন।

মহানবীর (সাঃ) হাদীস সম্পর্কে মওদুদী সাহেব বলেছেন,“হাদীস কিছু লোক থেকে কিছু লোক পর্যন্ত অর্থাৎ মানুষের মুখে মুখে বর্ণিত হয়ে আসছে। এসব বড়জোর সঠিক বলে ধারণা করা যায়,কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা যায় না। আর একথা স্পষ্ট যে,আল্লাহর ধর্মের যেসব বিষয় এতো গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলোর দ্বারা ঈমান ও কাফেরের পার্থক্য পরিস্কার হয়ে যায়,সেগুলো কয়েকজন লোকের বর্ণনা নির্ভর করে মানুষকে বিপদাপন্ন করা আল্লাহ তায়ালা কখনো পছন্দ করতে পারেন না।” (রাসায়েল ও মাসায়েল,৬৭ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)

পবিত্র কোরআনের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে মওদুদী সাহেব বলেছেন,“কোরআন করিম হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট; কিন্তু নাজাত বা মুক্তির জন্য নয়।” (তাফহিমাত,প্রথম খণ্ড,প্রথম খণ্ড,৩১২ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
ইসলামিক দৃষ্টিকোন থেকে ইহকালের কল্যান এবং পরকালের নাজাত বা মুক্তিলাভই হচ্ছে হেদায়েত বা সৎ পথ গ্রহনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। মওদুদী সাহেবের মতে পবিত্র কোরআন হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট,মুক্তির জন্য নয়। তাঁর এই উদ্ভট উক্তি থেকে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে,তা’হলে মুক্তির জন্য মানুষ অপর কোন ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ করবে ? সেসব কি মওদুদী রচনাবলি ? মনে হয় স্পষ্ট বলতে সাহস না করলেও কৌশলে তিনি তাই বুঝাতে চেয়েছেন।

নবী-রাসুলদের পরই সাহাবাদের মর্যাদা। তাঁদের সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) বলেছেন,“আমার সাহাবারা নক্ষত্রের মত। তাদের মধ্যে যাকে তোমরা অনুসরণ করবে,সঠিক পথ লাভ করবে।” আর মহানবী প্রশংসিত সাহাবা কেরামরাও মওলানা মওদুদীর সমালোচনা থেকে অব্যাহতি পান নি। তাঁদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন,“দীর্ঘদিনের শিক্ষাদীক্ষার পর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁদেরকে রণাঙ্গনে নিয়ে আসেন। তাঁদের মনমানসিকতায় মহাবিপ্লব চিত্রিত হওয়ার পরও ইসলামের প্রাথমিক যুদ্ধগুলোতে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদের মূল তাৎপর্য অনুধাবনে সাহাবা কেরামরা বারবার ভুল করতেন।” (তরজমানুল কোরআন,রবিউসসানী,১৩৫৭ হিজরী।)

মওদুদী সাহেব সাহাবাদের সম্পর্কে আরো বলেছেন,“সাহাবায়ে কেরামের অনেকে মনগড়া হাদীস বর্ণনা করেছেন।” (তরজমানুল কোরআন,৩৫শ’ সংখ্যা ৩২৭ পৃষ্ঠা।)

“সাহাবাদের মধ্যে জাহিলিয়াতের বদস্বভাবের পুনরাবৃত্তি ঘটে।” (তাফহিমাত,২য় খণ্ড ১৫৫ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
“অনেক সময় সাহাবাদের মধ্যে মানবিক দুর্বলতা প্রাধান্য লাভ করতো। তাঁরা একে অপরকে অক্রমন করে বসতেন এবং পরস্পরে গালিগালাজ শুরু করতেন।” (তরজমানুল কোরআন, মওদুদী)
ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর(রাঃ) সম্পর্কে মওদুদী সাহেব লিখেছেন,“ইসলাম মানুষকে এই নির্দেশ দেয় যে,সে যেন কখোন রিপুর প্রভাবে প্রভাবিত না হয়।....এটা অত্যন্ত সূ ব্যাপার। একবার হযরত আবু বকর সিদ্দিকের মত রিপুর তাড়নামুক্ত খোদাভীরু ও আল্লাহতে নিবেদিতপ্রাণ ব্যাক্তিও তা পূরণ করতে ব্যর্থ হন।”(তরজমানুল কোরআন, মওদুদী)
তরজমানুল কোরআনের একই সংখ্যায় হযরত ওমর (রাঃ) সম্পর্কে মওদুদী সাহেব বলেছেন,“বিশ্ব প্রতিটি উঁচুর সামনে মাথানত করতে অভ্যস্ত ছির। এবং প্রত্যেক বুজর্গ মানুষকে সাধারণ মানুষের স্তর থেকে কিছু না কিছু উর্ধ্বে ধারণা করে আসছিল। এই ধারণার প্রভাব বিলুপ্ত হওয়ার পথও কখনো কখনো স্পষ্ট হয়ে উঠতো...। সম্ভবত এই ব্যাক্তি-শেষ্ঠত্বের ধারণাই রাসুলুল্লাহর
ইন্তেকালের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও কিছুণের জন্য হযরত ওমরকে পরাভূত করে ফেলেছিলো।” (তরজমানুল কোরআন, মওদুদী)

মওদুদী সাহেব হযরত ওসমানের(রাঃ) সমালোচনা করে বলেছেন,
“একদিকে ইসলামী রাষ্ট্র দ্রুত সমপ্রসারণের দরুন কাজ দিন দিন কঠিনতর হচ্ছিল, অপরদিকে হযরত ওসমান যার ওপর এই বিরাট কাজের বোঝা ন্যস্ত করা হয়েছিলো, তিনি ততটা যোগ্যতা ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন না যা তাঁর পূর্বসুরিদের ছিলো। এজন্য জাহিলিয়াত ইসলামী সমাজব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের পথ পেয়ে যায়।” (তাজদীদ ও এহইয়ায়ে দ্বীন,৩৩ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
হযরত ওসমানের (রাঃ) হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধের দাবি উঠানো হলে হযরত মায়াবিয়ার লোকদের উদ্দেশে চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রাঃ) বলেন,
“এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। যথাসময়ে অব্যশ্যই এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেয়া হবে।’ কিন্তু মওদুদী সাহেব হযরত আলীর (রাঃ) এই জবাবের সমালোচনা করে বলেন,“ইনসাফ করো,তুমি যদি মায়াবিয়া হতে কিংবা মায়াবিয়া না হও অন্তত সিরিয়ার একজন সাধারণ নাগরিক হতে,তাহলে বর্ণিত পটভূমির প্রেক্ষিতে তুমি কি আলীর জবাবকে একটা বাহানা,গড়িমসি,ছলনা ও অস্বীকৃতি ছাড়া সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করতে ?” (তাজাল্লী,দেওবন্দ,ডিসেম্বর,১৯৫৭।)
এই উদ্ধৃতিতে মওদুদী সাহেব হযরত আলীকে একজন প্রতারক হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

মহানবী (সাঃ) বলেছেন, প্রত্যেক শতাব্দীতে আল্লাহ তায়ালা একজন কামেল ব্যাক্তি সৃষ্টি করেন। তিনি আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহে সত্য ধর্মকে বাতিলের সংমিশ্রণ বা অনুপ্রবেশ থেকে পূতপবিত্র রাখেন। শরিয়তের পরিভাষায় এধরনের শতাব্দী-শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তিত্বকে ‘মুজাদ্দিদ’ বা সংস্কারক বলা হয়। মুজাদ্দিদের আগমন সম্পর্কে জনাব মওদুদীর বক্তব্য হচ্ছে, “ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে জানা যায়,এ পযর্ন্ত কোন ‘কামেল মুজাদ্দিদের’ আবির্ভাব হয় নি। ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের এই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু তিনি কামিয়াব বা সফল হতে পারেন নি। তারপর যত মুজাদ্দিদের আগমন হয়েছে,তাদের প্রত্যেকে কোন না কোন একটা বিশেষ বিভাগ কিংবা কয়েকটি বিভাগে কাজ করেছেন। কামেল মুজাদ্দিদ বা পরিপূর্ণ সংস্কারকের স্থান এখনো শূণ্য রয়েছে।” (তাজদীদ ও এহইয়ায়ে দ্বীন,৩১ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
মওদুদী সাহেবের এই উদ্ধৃতিটি অতান্ত স্পষ্ট। তাঁর মতে এ পযর্ন্ত যতো মুজাদ্দিদ এসেছেন,তাঁরা সবাই ছিলেন নাকেস বা অসম্পূর্ণ। কামেল মুজাদ্দিদের স্থান এখনো শূন্য। এর দ্বারা তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন,পাঠকরা নিশ্চয়ই তা বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু তাঁর সে আশা পূরণ হলো না। উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কেউই তাঁকে মুজাদ্দিদ দূরের কথা,আলেমের কাতারে স্থান দিতেই রাজি হলেন না।

হযরত ইমাম গাজ্জালীর (রাঃ) সমালোচনা প্রসঙ্গে মওদুদী সাহেব লিখেছেন,“ইমাম গাজ্জালীর সংস্কারমূলক কাজে জ্ঞানগত ও চিন্তাগত দিক থেকে কয়েকটি ত্রুটিও ছিলো। এগুলো তিনটি শিরনামে বিভক্ত করা যেতে পারে। প্রথমত,ইলমে হাদীসে দুর্বলতার দরুন তাঁর গবেষণায় কতকগুলো ত্রুটি দেখা দেয়। দ্বিতীয়ত,তাঁর মধ্যে দর্শনের প্রাধান্য থাকায় কতকগুলো গবেষণায় ত্রুটিবিচ্যুতি দেখা দেয়। তৃতীয়ত,তাসাউফ বা আধ্যাত্মবাদের প্রতি তাঁর প্রয়োজনাতিরিক্ত আকর্ষন থাকার দরুন সৃষ্ট ত্রুটিবিচ্যুতি।” (তাজদীদ ও এহইয়ায়ে দ্বীন,৪৫ পৃষ্ঠা- মওদুদী।)
ইসলামের বিধান অনুযায়ী পবিত্র কোরআনের মনগড়া তফসীর করা হারাম। মহানবী (সঃ) বলেছেন,“যে ব্যাক্তি পবিত্র কোরআনের মনগড়া ব্যাখ্যা করে সে যেন তার স্থান দোযখে তালাশ করে”-(তিরমিযী)। বস্তুত পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা করার কতকগুলো নিয়মনীতি রয়েছে। আর এসব নিয়মনীতি জানতে হলে সাহাবা কেরাম ও তাঁদের পরবর্তীকালের মনীষীদের তফসীর এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষদীক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু মওদুদী সাহেব বলেছেন,“কোরআন ও রাসুলের সুন্নতের শিক্ষাই সবার আগে। তবে তফসীর ও হাদীসের পুরনো ভাণ্ডার থেকে নয়।” (তানকিহাত,১১৪ পৃষ্ঠা -মওদুদী।)
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদীক্ষাহীন মওদুদী সাহেব সুরা বাকারায় রোযা সম্পর্কিত আয়াতের ব্যাখ্য করতে গিয়েও অমার্জনীয় অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। সকল তফসীরকার একমত যে,রোজাদাররা সোবহে সাদেক বা পূর্বাকাশে সাদা আভা প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পানাহার করতে পারবে। এরপর করতে পারবে না। কিন্তু মওদুদী সাহেব উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,“যদি ঠিক সোবহে সাদেকের সময় কারো ঘুম ভাঙ্গে,তাহলে তার জন্য পানাহার করে নেয়া জায়েজ হবে।"
এভাবে আল্লাহ তায়ালার নবী পাঠানো থেকে শুরু করে নবী-রাসুল, সাহাবা,ইমাম-মুজতাহিদ,বিভিন্ন যুগের মুসলিম মনীষী,হাদীস,ফেকাহ্‌ শাস্ত্র প্রভৃতি কোন কিছুই মওদুদী সাহেবের অভিনব গবেষণা ও সমালোচনা থেকে অব্যাহতি পায় নি। তাঁর লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ ও প্রবন্ধরাজির সর্বত্র আপত্তিকর ও ধৃষ্টতামূলক বক্তব্য ছড়িয়ে আছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে এখানে কিছু কিছু বক্তব্য উল্লেখ করা হল। এই উদ্ভট ধ্যান-ধারণার বাস্তব রূপ দেয়ার আকাঙ্খা নিয়ে মওদুদী সাহেব ইসলামের মুখোসধারী জামাত গঠন করেন। বর্তমানে জামাতে ইসলামীও বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের নামে মওদুদী সাহেবের এসব ইসলামবিরোধী উদ্ভট ধ্যান-ধারণার প্রচার করে চলেছে। দেশের সরলমনা ও ধর্মপরায়ণ লোকেরা,বিশেষ করে স্কুল-কলেজ,মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একশ্রেনীর ছাত্র ধর্মের নামে এই বাতিল ধ্যান-ধারণার শিকার হয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে। জামাত দাবি করছে তাদের সব কর্মকাণ্ডই নাকি ইসলাম কায়েম করার জন্য। ইসলামের প্রচার-প্রসার ও প্রতিষ্ঠাই তাদের চরম ও পরম লক্ষ্য। তারা সবকিছুই ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে থাকে। কিন্তু উপমহাদেশের সকল আলেমগন মনে করেন, জামাত ইসলামের মুখোশধারী একটি ফ্যাসিষ্ট চক্র। চল্লিশের দশকের শুরুতে মওদুদী সাহেবের উদ্ভট ধ্যান-ধারনার ফল হিসেবে জামাতের অভ্যুদয় ঘটে। একটি বিশেষ কৌশল হিসেবে মওদুদী সাহেব তাঁর দলের নামে পবিত্র ইসলাম শব্দটি সংযোজন করেন। উপমহাদেশের ধর্মপরায়ণ মুসলমানদের জামাতের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য এই কৌশলটি অবলম্বন করা হয়েছে। তা’ছাড়া যারা জামাতের বিরোধিতা করবে তাদেরকে সহজে ‘ইসলামবিরোধী’ হিসেবে চিত্রিত করা যাবে। সর্বোপরি তাতে পবিত্র ইসলামকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সহজ হবে। বিগত পঞ্চাশ বছরব্যাপী জনাব মওদুদী ও তাঁর অনুসারীরা তাই করেছেন। এখনো করছেন। বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমলে পবিত্র ইসলাম এর নামে বৃটিশের প্রচ্ছন্ন দালালি করা হয়েছে। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনকে ইসলামবিরোধী আন্দোলন বলে অপপ্রচার করা হয়েছে। একই পদ্ধতিতে পাকিস্থান আমলে পবিত্র ইসলামকে সামন্তশ্রেণী ও পুজিঁপতিদের স্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পবিত্র ধর্মের নামে জামাতের এই উন্মাদনা আরো উলঙ্গ রূপ ধারণ করে। জামাত পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগিতা করে। রাজাকার আলবদর বাহিনী গঠন করে লুটতরাজ,নারী ধর্ষণ ও বাঙালি নিধনে নামিয়ে দেয়। স্বাধীনতাউত্তরকালে জামাতের সহিংসতা আরো ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার শ্লোগান দিয়ে মুসলমানদের হত্যা করেছে। এরূপ পরিস্থিতিতে যেকোন সচেতন লোকের মনে এই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক,জামাতের এসব কর্মকাণ্ড এবং জামাতের স্থপতি ও তাত্ত্বিক গুরু জনাব মওদুদী তথাকথিত ইসলামিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকে উপমহাদেশের আলেম সমাজ কিরূপ দৃষ্টিতে দেখেন। তাঁরা কি এসব সমর্থন করেন ? আমরা যতটুকু জানি,দলমত নিবিশেষে উপমহাদেশের কোন খাঁটি আলেমই জামাতের এসব কর্মকাণ্ড সমর্থন করেন না। শুধু সমর্থন করেন না বললে ঠিক হবে না,তাঁরা এসবের চরম বিরোধিতা করে থাকেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র,সাময়িকী ও বই-পুস্তকের মাধ্যমে তাঁরা জামাত ও মওদুদী সম্পর্কে তাদের অভিমত প্রকাশ করে থাকেন। এখানে জামাত ও মওদুদী সম্পর্কে উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় এবং সর্বজনবরেণ্য কয়েকজন আলেমের অভিমত সংক্ষেপে তুলে ধরা হল।
মওদুদী ও মওদুদী জামাত সম্পর্কে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছে। সেখানকার শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ ব্যাক্তিগতভাবেও তাঁদের অভিমত প্রকাশ করেছেন। একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে,
“ মওদুদী ফেতনা নির্মূল করে দাও। মওদুদী আন্দোলন ধ্বংস সাধনকারী ও জীবন সংহারক বিষ। মওদুদীর অনুসারীরা পথভ্রষ্ট। তাদের পেছনে নামাজ পড়বে না।” (মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম,প্রথম খণ্ড,৫৬ পৃষ্ঠা।)
অপর একটি ফতোয়ায় মওদুদীর বই-পুস্তক ও তাঁর সংগঠন জামাত সম্পর্কে বলা হয়েছে,“ মওদুদী জামাত ও এই দলের বই-পুস্তকের দ্বারা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইমামদের অনুসরণের প্রতি অনিহা ও সম্পর্কহীনতার সৃষ্টি হয়। আর এটা সাধারণ মানুষের ধ্বংস ও পথভ্রষ্টতা ডেকে আনে।’-স্বাক্ষর মওলানা মুফতি কেফায়েত উল্লাহ,মওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী,মোহাম্মদ তৈয়ব,মুহতামিম,দারুল উলুম দেওবন্দ,মওলানা আব্দুল লতিফ,মাজাহেরুল উলুম,সাহারাণপুর প্রমুখ।” (দু’মাসআলে,১৬ পৃষ্ঠা, দার"ল উলুম দেওবন্দ।)
এই ফতোয়াটিতে ভারতের সমকালীন অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ স্বাক্ষর প্রদান করেন। হযরত মওলানা আশরাফ থানবী (রঃ) বলেছেন,“আমার অন্তর এই আন্দোলনকে গ্রহন করে না।” (দৈনিক আলজমিয়ত,৩০শে আগষ্ট,১৯৫১।)
আহলে হাদীস জামাতের নেতা ও বিশিষ্ট আলেম হযরত মওলানা আব্দুল মজিদ বলেছেন,“আমি যতদুর পর্যন্ত মওলানা মওদুদীর বই-পুস্তক পড়েছি এবং তাঁর ধ্যান-ধারণা অনুসন্ধান করেছি,তাতে তাকে পথভ্রষ্ট পেয়েছি। আমি দোয়া করি,আল্লাহ তায়ালা তাকে তার ধ্যান-ধারণা পরিত্যাগ ও তওবা করার সামর্থ্য দান করুন।” (মওদুদীয়াত কা পোষ্ট মরটাম,৪১-৪২ পৃষ্ঠা।)
তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মওলানা ইলিয়াস সাহেবের উত্তরসুরি তাঁর পুত্র হযরত মওলানা মোঃ ইউসুফ মওদুদী জামাতের কয়েকজন সদস্যের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন,“ মওদুদী জামাত একটি রাজনৈতিক ও মতালোভী দল। তারা এমন জিনিসের প্রত্যাশী যা শরিয়তের দৃষ্টিতে পরিত্যাজ্য। (জামায়াতে ইসলামী কা র"খে কেরদার,১৭৪ পৃষ্ঠা।)
বেরেলবী চিন্তাধারার বিশিষ্ট আলেম হযরত মওলানা মোস্তাফা খান সাহেব বেরেলবী ও মওলানা সাইয়েদ আফজাল হোসাইন মওদুদী জামাত ও তাঁর ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে একটি ফতোয়া প্রদান করেন। তাতে তাঁরা বলেন,“কিছুদিন আগে এক ব্যাক্তি মওদুদীর ভাষনের প্রথম খণ্ডটি আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। আমরা তা গভীরভাবে দেখি। তাতে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌছি যে,তিনি ইসলামের প্রচার-প্রসার ও উন্নতি বিধানের দাবি করে থাকেন। কিন্তু মূলত তার আন্দোলন ইসলামের ছিদ্র অন্বেষণ,মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং কুফরি ও কাফেরি ছাড়া কিছু নয়। তিনি ইসলামের ভিন্ন অর্থ করে থাকেন। সাধারণ মুসলমানদের তিনি মুসলমান মনে করেন না। তিনি জন্মগত মুসলিম সন্তান সন্ততিকে বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পযর্ন্ত মুসলমান স্বীকার করেন না। তিনি বলেন,
ইসলাম প্রকৃতিগত ধর্ম নয়। অজ্ঞ মুসলমানরা তাঁর মতে মুসলমান নয়। শুধু তাই নয়,তিনি বলেন, অজ্ঞদের মুসলমান হওয়া অসম্ভব ব্যাপার।......মোট কথা মওদুদী সাহেবের আন্দোলন কোন নতুন আন্দোলন নয়। পুরনো খারেজী ধ্যান-ধারণাই নতুন রূপ ধারণ করেছে।.......” (ফেতনায়ে মওদুদীয়াত,৫৮ পৃষ্ঠা।)
অল ইণ্ডিয়া আহলে হাদীস কনফারেন্সের সভাপতি বিশিষ্ট মুহাদ্দিস মওলানা আব্দুল ওহাব বলেছেন,“আমি আহলে হাদীস ভাইদের অনুরোধ করছি, তারা যেন নিজেদেরকে এই সংক্রামক ব্যাধি থেকে রা করে। নতুবা এই ব্যাধি শুধু তাদেরকে নয়,পুরো আহলে হাদীস জামাতকে ধ্বংস করে ফেলবে।” (মওদুদী জামায়াতের স্বরূপ,৩৬৫ পৃষ্ঠা-মওলানা আজিজুর রহমান।)
সরসীনা দারুস সুন্নাহ থেকে প্রকাশিত একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, “জনাব মুওদুদী তাঁর বাতিল আকিদা প্রচারের উদ্দেশ্যেই জামায়াতে ইসলামী নামে মওদুদী জামায়াত কায়েম করেছেন। তদুপরি এটাও অনস্বীকার্য যে,নেতার আক্বায়েদ ও ধ্যান-ধারণা অজ্ঞাতসাই কর্মিদের মধ্যে সংক্রমিত হয়ে থাকে।... এজন্য কেবলমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও মওদুদী জামায়াতে শামিল হওয়া জায়েজ নয়।” (মওদুদী জামায়াতের স্বরূপ,৩৪৫ পৃষ্ঠা-মওলানা আজিজুর রহমান।)
এই ফতোয়ায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পঁচাত্তরজন আলেম স্বাক্ষর করেছেন।
চট্টগ্রাম হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার মুফতি হযরত মওলানা ফয়জুল্লাহ মওদুদী জামাত সম্পর্কে একটি ফতোয়া প্রদান করেন। তাতে তিনি বলেছেন,“মওলানা মওদুদী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতি ও মতবাদ-বিরোধী বিভ্রান্তিকর ও ত্রুটিপূর্ণ ধ্যান-ধারণা পোষণকারী। তাঁর অধিকাংশ লেখায় বিগত মনীষী,সাহাবা কেরাম,তাবেয়ীন,ইমাম মুজতাহিদ ও আওলিয়া কেরামের প্রতি বেআদবি প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর ধৃষ্টতামূলক আক্রমন থেকে মহান নবীরাও রেহাই পান নি। সুতরাং এই দলের সাথে ওঠাবসা করা,সংস্রব রাখা মুসলমানদের জন্য কোন অবস্থাতেই জায়েজ নয়।”(মওদুদী জামায়াতের স্বরূপ, ৪১৬ পৃষ্ঠা-মওলানা আজিজুর রহমান।)
তাঁর এই ফতোয়ার প্রতি অভিন্ন মত প্রকাশ করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের ১৭ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম স্বার করেন। এই ফতোয়ায় স্বারদান প্রসঙ্গে ব্রহ্মণবাড়িয়ার হযরত মওলানা তাজুল ইসলাম লিখেছেন,“আমি মুফতি ফয়জুল্লাহ সাহেবের অভিমত সমর্থন করি। বস্তুত মওদুদী ফেতনা কাদিয়ানী ফেতনার চেয়ে কম নয়।”
বিশিষ্ট মুহাদ্দিস হযরত মওলানা জাকারিয়া (রঃ) মওদুদী জামাত সম্পর্কে ‘ফিতনায়ে মওদুদীয়াত’ শীর্ষক একটি তথ্যসমৃদ্ধ পুস্তক লিখেছেন। তিনি তাঁর এই পুস্তকে মওদুদী জামাতের ইসলামবিরোধী বিষয়গুলো পবিত্র কোরআন-হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি তাঁর বইয়ের এক জায়গায় মওদুদী জামাত সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন,“আমি এই ভ্রান্ত দলে যোগদান করা হারাম মনে করি। তাদের বই-পুস্তক পাঠ করা অত্যন্ত ক্ষতিকর।”
খেলাফত আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর মওদুদী জামাত সম্পর্কে ‘সতর্কবাণী’ শিরোনামে একটি পুস্তক লেখেন। তাতে তিনি মওদুদীর ভ্রান্ত মতবাদ ও জামাতে ইসলামীকে মুসলমানদের ঈমান ও ধর্মবিশ্বাস ধ্বংসকারী ফিতনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি মুসলমানদেরকে ইসলামের মুখোশধারী এই দল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
হাফেজ্জী হুজুরের এই পুস্তকে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় চার শতাধিক আলেম অভিন্ন মত প্রকাশ করে স্বার করেন। উপমহাদেশের সকল মত ও পথের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের উল্লেখিত ভাষ্যগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট। এগুলো ব্যাখ্যা করার কোন প্রয়োজন নেই। তাঁরা অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় জনাব মওদুদী ও তাঁর ধ্যান-ধারণার বাস্তব রূপ জামাত সম্পর্কে তাঁদের সুচিন্তিত অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইসলামের মুখোশধারী জামাতের আসল রূপটি এসব দেশবরেণ্য আলেমদের নিকট অস্পষ্ট নয়। তাই তাঁরা জামাতকে মুসলমানদের বাতিল ফেরকা খারেজি ও কাদিয়ানী সমপ্রদায় থেকেও নিকৃষ্টতর এবং মুসলমানদের ঈমান-আকিদার জন্য মারাত্মক তিকর বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। শুধু উল্লেখিত আলেমগণই নন,উপমহাদেশের খাঁটি আলেমরা সবাই জামাতের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিমত প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অনেকে বিভিন্ন ভাষায় জামাতের বিরুদ্ধে পুস্তক লিখেছেন। এই সংপ্তি পরিসরে সেসব উল্লেখ করা সম্ভব নয়। আমরা মনে করি,জামাত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে যেকোন সত্যসন্ধ মুসলমানের জন্য আমাদের উল্লিখিত ওলামা কেরামের অভিমতই যথেষ্ট।

--তথ্যসূত্র মাওলানা আবদুল আওয়াল, মুক্তি্যুদ্ধ তথ্য ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল্য়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28781411 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28781411 2008-03-22 09:44:29
পোষ্ট মর্টেম জামাতে ইসলাম : পর্ব ২
মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাস সীমাহীন উত্তেজনামূলক বক্তৃতা,বিবৃতি ইত্যাদি প্রচারণার মাধ্যমে গোলাম আযম এবং তার দল জামায়াতে ইসলামী চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। এর একটি তালিকা ক্রমধারা অনুযায়ী

সাজালে বোঝা যাবে কতখানি নিচ এবং তৃতীয় শ্রেনীর রাজনীতিক ছিলেন তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
টিক্কা খানের কামানের গোলায় যখন ঢাকা শহর আগুনে জ্বলছিল,তখন গোলাম আযম ৬ এপ্রিল,১৯৭১ টিক্কা খানের সাথে দেখা করে পাকিস্তানি সৈন্যদের পদেেপর প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন জ্ঞাপন করেন।(দৈনিক সংগ্রাম,৭এপ্রিল,১৯৭১)।
৭ এপ্রিল গোলাম আযম সংবাদপত্রে এক বিবৃতিতে বলেন,সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের(মুক্তিবাহিনীদের-লেখক)দেখামাত্র খতম করে দেওয়া হবে। (দৈনিক সংগ্রাম,৮এপ্রিল,১৯৭১)।
১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। গোলাম আযম এই শান্তি কমিটির শীর্ষস্থানীয় সদস্য হিসেবে যোগদান করেন।।(দৈনিক সংগ্রাম,১১এপ্রিল,১৯৭১)।
১২ এপ্রিল ছাত্র সংঘ নেতা মতিউর রহমান নিজামী,মোহাম্মদ ইউনুস,
নুরুল ইসলাম,শাহ জমাল চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন,স্বাধীন বাংলা গোলামে পরিনত করবে।
১২ এপ্রিল ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তি কমিটির মিছিলে গোলাম আযম নেতৃত্ব দেন এবং মিছিল শেষে গোলাম আযম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।।

(দৈনিক সংগ্রাম,১৩ এপ্রিল,১৯৭১)।
১৪ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম বলে যে, দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সকল ঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে এবং সকল অনুপ্রবেশকারী মুক্তিবাহিনীকে নির্মূল করা হয়েছে।
১৫ এপ্রিল জামায়াতে ইসলামের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম পাকিস্তানি সৈন্যদের গ্রামাঞ্চালে গিয়ে দুষ্কৃতকারীদের(মুক্তিবাহিনীকে) আক্রমন করার পরামর্শ দেয়।
২২ এপ্রিল জামালপুরে ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে জামালপুরে প্রথম আলবদর বাহিনী গঠিত হয়। মে মাসে জামায়াত নেতা ইউসুফের নেতৃত্বে খুলনায় রাজাকার

বাহিনী প্রথম কাজ শুরু করে।
২২ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে যে,মাননীয় প্রেসিডেন্ট ইয়হিয়া খান ও টিক্কা খানের সময় উপযোগী পদেেপর জন্য পাকিস্তান রা পেয়েছে।
২৩ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনী ধরার জন্য বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করার পরামর্শ দেয়।
গোলাম আযম পরিচালিত দৈনিক সংগ্রাম ৩০ এপ্রিল সংখ্যায় বলে যে,
যারা পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ করেছিল তাদের পাকিস্তানে জায়গা হবে না।
পয়লা মে দৈনিক সংগ্রাম বলে,দেশের শান্তির জন্য দুষ্কৃতকারীর (মুক্তিবাহিনীর) মূল উৎস উৎখাত হওয়া প্রয়োজন। পত্রিকাটি আরো মন্তব্য করেন,দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিবাহিনীকে)

নিমূল করা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া,পূর্ব পাকিস্তানে ‘বাংলাদেশ সরকার’ নামক কোন কিছুর অস্তিত্বও নেই বলে দৈনিকটি উল্লেখ করে।
৪ মে জামায়াতের এই দৈনিক পত্রিকাটি মুক্তিবাহিনীকে ধরিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করে। পত্রিকাটি বলে,এটা হবে ‘ঈমানি দায়িত্ব’।
৬ মে দৈনিক সংগ্রাম বলে, ‘বাংলাদেশ’ওয়ালারা ভূত তা অকল্যাণ বয়ে এনেছে।
২৫ মার্চ রাতের গনহত্যা ও ধ্বংসলীলাকে সমর্থন করে নির্লজ্জের মতো জামায়োতে ইসলামীর মুখপত্রটি ৮ মে তারিখের সংখ্যায় বলে,শেখ মুজিব ২৬ মার্চ সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলা কায়েমের পরিকল্পনা এঁটে ছিলেন। সেনাবাহিনী তা ২৫ মার্চ হঠাৎ আক্রমন চালিয়ে এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে আমাদের পাকিস্তানকে বাঁচিয়েছে।
২৪ মে জামায়োতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মসমপর্ণের আহ্বান জানায়। পত্রিকাটি বলে,‘গেরিলাগিরির’ নামে মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা পািকস্তানি সেনাবাহিনী তছনছ করে দেবে।
২৭ মে দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনী ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করে।
এদিন পত্রিকাটি মুক্তিবাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার করার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনির কাছে আবেদন জানায়।
২৮ মে জামায়োতে ইসলামীর পত্রিকাটি মুক্তিবাহিনী নির্মূলের জন্য অস্ত্রশস্ত্র দাবি করে। তারা একই সাথে বেসমরিক পোশাকধারী একটি বাহিনী গঠনেরও পরামর্শ দেয়।
১৩ জুন জামায়োতে ইসলামী বলে,‘গেরিলাগিরির’ নামে যেসব দুষ্কৃতকারী দেশের শান্তি ব্যাহত করছে,সামরিক কর্তৃপরে অনুমতিক্রমে প্রয়োজনীয় হাতিয়ার নিয়ে গেরিলা পদ্ধতিতেই

দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিবাহিনীকে) নির্মূল করার জন্য গ্রাম প্রতিরা বাহিনী গঠন করতে হবে।(দৈনিক সংগ্রাম,১৩ জুন,১৯৭১)।
১৫ জুন দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনিকে খতম করার জন্য শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর দিকে তাকিয়ে না থেকে পাকিস্তানপন্থীদের পথ বেছে নিতে বলা হয়।
১৭ জুন গোলাম আযম বলেন,দুষ্কৃতকারীরা (মুক্তিযোদ্ধারা) এখনও ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন,এদের যদি পকিড়াও করা হয়,তবেই পরিস্থিতি দমন করা যাবে। (দৈনিক

সংগ্রাম,১৭ জুন,১৯৭১)।
২০ জুন গোলাম আযম লাহোরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন,যারা প্রকাশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু করেছিল,তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী

সকল দুষ্কৃতকারী(মুক্তিযোদ্ধ) উৎখ্যাত করেছে। তিনি মুক্তিবাহিনী মোকাবেলার জন্য সরকারের কাছে অস্ত্র সরবরাহের দাবি জানান। (দৈনিক সংগ্রাম,২১ জুন,১৯৭১)।
২২ শে জুন গোলাম আযম এক সাাৎকারে বলেন,তারা কখোনই পাকিস্তান ত্যাগ করতে পারবেন না। এই জন্য কোরবানি দেওয়ার জন্যেও তাঁর কর্মীরা প্রস্তুুত রয়েছে।
একই দিন গোলাম আযম এক কর্মিসভায় বলেন,বেআইনী ঘোষিত আওয়ামী লীগ কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানে সৃষ্ট সামপ্রতিক গোলযোগ ১৮৫৭ সালের বাংলা বিদ্রোহের চেয়েও দশগুন বেশি শক্তিশালী

ছিল। তিনি ২৩ জুন বলেন,পূর্ব পাকিস্তানি ভাইয়েরা সর্বদাই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে বাস করবে।(দৈনিক সংগ্রাম,২২ জুন ও ২৩ জুন,১৯৭১)।
২২ জুন গোলাম আযম এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যেসব দল আন্দোলন করছে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষনার আহ্বান জানান।(দৈনিক সংগ্রাম,২৩ জুন,১৯৭১)।
৩০ জুন গোলাম আযম এবং তার রাজনৈতিক পিতা মাওলানা মওদুদী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সংসদ সদস্যদের পদ বাতিল ঘোষনা করায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে অভিনন্দন জানান। (দৈনিক

সংগ্রাম,৩০ জুন,১৯৭১)।
একই দিন জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করাকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা বলে অভিহিত করে।
৪ জুলাই দৈনিক সংগ্রাম এক উপসম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ‘ইহুদী ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করে।
৪ জুলাই ইসলামী ছাত্রসংঘের পরিচালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে ুদ্র অস্ত্রের সাহায্যে রাজাকারদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী লড়াইয়ের প্রশিন শুরু করা হয়।
(দৈনিক সংগ্রাম, ৪ জুলাই, ১৯৭১)।
৮ জুলাই জামায়াতে ইসলামী মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়। একই দিন দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে,পাকিস্তান টিকে থাকার জন্যেই এসেছে।
৯ জুলাই থেকে জামায়াতে ইসলামী,তার নেতারা এবং দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনীকে দুষ্কৃতকারীর সাথে ‘ডাকাত’ নামে অভিহিত করতে শুরু করে।(দৈনিক সংগ্রাম, ৯ জুলাই, ১৯৭১)।
১৬ জুলাই দৈনিক সংগ্রাম এবং জামায়াতের নেতারা ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নির্মিত ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি পকিস্তানি সেনাবাহিনী ভেঙ্গে ফেলায় অভিনন্দন জানায়।
একই দিন দৈনিক সংগ্রাম বলে,য়ারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছে পাকিস্তানপন্থীরা তাদের কোনোদিনই মা করবে না।
১৭ জুলাই দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করে।
জুলাই মাসে বরিশালে মুসলিম লীগের সভায় ব্যারিষ্টার আখতারউদ্দিন আহমদ,মেজর আফসারউদ্দিন,এডভোকেট আব্দুর রহমান বিশ্বাস প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতকারী ও বিদেশী চর

আখ্যায়িত করে এদের উৎখাত করার আহ্বান জানান। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৮ জুলাই, ১৯৭১)।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃটিশ টেলিভিশনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের সচিত্র প্রতিবেদন দেখানো হলে দৈনিক সংগ্রাম ১৯ জুলাই সাফাই গেয়ে লেখে, এগুলো ঘূর্ণিঝড়ের ছবি।
২ আগষ্ট গোলাম আযম ঢাকার মাদ্রাসার ছাত্রদের মিছিলে বলেন,
মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের নয়,এটা আদর্শিক যুদ্ধ। এ যুদ্ধে জিততেই হবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ৩ আগষ্ট, ১৯৭১)।
একই দিন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা মতিউর রহমান নিজামী বলেন,
মুক্তিবাহিনী পাঁচগুণ শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে পরাজিত হবে।
একই সভাই মতিউর রহমান নিজামী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে তাদের ‘ভাই’ আখ্যায়িত করায় ৩ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে,জনাব নিজামী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আমাদের ‘ভাই’ বলে

যথার্থ করেছেন,সেনাবাহিনীর সাথে একাত্ম হয়ে শত্রুর (মুক্তিবাহিনীর) মোকাবেলা করতে হবে।
৮ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামে গোলাম আযম এক উপসম্পাদকীয়তে লেখেন,১৯৬৫ সালের যুদ্ধে টিক্কা খানের বীরত্বের কথা শুনে তাঁকে এক নজর দেখার ইচ্ছা প্রবল হচ্ছিল। তাঁর ছবি আমার

মানসপটে বিশেষ মর্যাদার সাথে আকা রয়েছে।
১২ আগষ্ট গোলাম আযম বাংলাদেশ আন্দোলনের সমর্থকদের দুশমন আখ্যা দিয়ে তন্নতন্ন করে তালাশ করে খুজে বের করার আহ্বান জানান। মতিউর রহমান নিজামী ও মোহাম্মদ ইউনুসও অনুরূপ

বিবৃতি দেন।(দৈনিক সংগ্রাম, ১২ আগষ্ট, ১৯৭১)।
১২ আগষ্ট মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানি সামরিক সরকারের পুতুল পূর্ব পাকিস্তানি ডাঃ মালেকের মন্ত্রিসভায় জামায়াতে নেতারা যোগদান করেন।
১৩ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামও মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তিদানের আহ্বান জানায়।
পাকিস্তানের শেষ আজাদী দিবস ১৪ আগষ্ট সংখ্যায় দৈনিক সংগ্রাম স্বীকার করে,অত্যাচার-অনাচারের কারণে মুক্তিযুদ্ধোবিরোধী তাদের ‘শান্তি কমিটি’ অশান্তি কমিটিতে পরিণত হয়েছে।
১৪ আগষ্ট পাকিস্তানের শেষ আজাদী দিবসে কার্জন হলে আয়োজিত এক সেমিনারে পিডিপি নেতা নূরুল আমীন বলেন,আজ আজাদী দিবস আনন্দের দিন,কিন্তু এই আনন্দের দিনেও আমাদের মন ভারাক্রান্ত।
কিন্তু গোলাম আযম একই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বলেন,এবার প্রাণচাঞ্চল্যের সাথে আজাদী দিবস উদ্‌যাপিত হয়েছে। পাকিস্তানের ভিতরে হাজার হাজার দুশমন জন্ম নিয়েছে। বাইরের চেয়ে ভিতরের দুশমন আরো বেশি

বিপজ্জনক । ঘরে ঘরে এইসব দুশমন খুঁজে বের করতে হবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৬ আগষ্ট, ১৯৭১)।
১৯ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামের সাথে এক সাক্ষাতকারে গোলাম আযম বলেন,মুক্তিযুদ্ধের পাল্টা অভিযান নিয়ে আমাদের আসাম দখল করে নেওয়া উচিত।
২০ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রামে গোলাম আযম বেনামে এক উপসম্পাদীয়তে আজাদী দিবস উপলক্ষে ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের তোরণ নির্মাণকে অভিনন্দিত করেন।
২২ আগষ্ট মতিউর রহমান নিজামী এক অনুষ্ঠানে বলেন, পাকিস্তান যারা চায় না,তারা ইসলাম চায় না। (দৈনিক সংগ্রাম, ২৩ আগষ্ট, ১৯৭১)।
২৩ আগষ্ট দৈনিক সংগ্রাম ‘রাজাকার অর্ডিন্যান্স’ জারি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।
২৬ আগষ্ট গোলাম আযম পেশোয়ারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানকে দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিবাহিনীর)হাত থেকে রা করেছে এবং এই দুষ্কৃতকারীদের ধ্বংস করার জন্য

সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ২৭ আগষ্ট, ১৯৭১)।
জামায়াতে নেতা চৌধুরী রহমত এলাহী একই দিন সামরিক আইন তুলে নেয়ার বিরোধিতা করে বিবৃতি দেন।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের উদ্দেশ্যে একটি বিমান নিয়ে পালিয়ে আসতে গিয়ে শহীদ হন। জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম মতিউর রহমানের নিন্দা করে সম্পাদকীয় লেখে। আমাদের এই

বিরশ্রেষ্ঠকে দৈনিক সংগ্রাম ‘দুষ্কৃতকারী’ বলে আখ্যায়িত করে এবং পাকিস্তানি পাইলট মিনহাজ রশিদ যে মতিউর রহমানকে হত্যা করে দৈনিক সংগ্রাম সেই পাকিস্তানি পাইলটের জন্য আহাজারি করে লেখে,মিনহাজ

রশিদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের কাহিনী শুনে গর্বে বুক ভরে ওঠে। (দৈনিক সংগ্রাম, ৩০ আগষ্ট, ১৯৭১)।
পয়লা সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রাম আবার মন্তব্য করে মুক্তিযোদ্ধা পাইলট (বীরশ্রেষ্ঠ) মতিউর রহমান বিশ্বাসঘাতক এবং পাকিস্তানি পাইলট মিনহাজুর রশীদ ‘শহীদ’।
পয়লা সেপ্টেম্বর গোলাম আযম করাচিতে বলেন যে,বিচ্ছিন্নতাবাদীদের (স্বাধীনতাকামীদের)খতম করার উদ্দেশ্যে রাজাকাররা ভাল কাজই করেছে। (দৈনিক সংগ্রাম, ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
২ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামী এবং দৈনিক সংগ্রাম বাঙালি নিধনকারী রক্তলোলুপ টিক্কা খানের বিদায়ে মন্তব্য করেন যে,তিনি কথা কম বলতেন এবং কাজ বেশি করতেন। তিনি বীরত্বের

সাথে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে পাকিস্তান এতদিনও টিকে থাকতো না। এদেশের মানুষ কোনদিন টিক্কা খানকে ভুলবে না এবং তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
৪ সেপ্টেম্বর জামায়াতের অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা মতিউর রহমান নিজামী বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে ভারতের এজেন্ট ও দুষ্কৃতকারী বলে বিবৃতি দেন।
একই দিন দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থন করায় সংবাদপত্রগুলোকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করে।
৬ সেপ্টেম্বর গোলাম আযম মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেন। (দৈনিক সংগ্রাম, ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
একই দিন দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে,পাকিস্তানের সেনাবাহিনী রাজাকারদের কৃতিত্বে আনন্দিত ও গর্বিত।
৬ সেপ্টেম্বর মতিউর রহমান নিজামী বলেন ছাত্রসংঘ কর্মীরা রক্ত দিয়ে পাকিস্তানের প্রতি ইঞ্চি জমি রা করবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
১৩ সেপ্টেম্বর গোলাম আযম মুক্তিবাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার আহ্বান জানান। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
১৪ সেপ্টেম্বর গোলাম আযম শুধু মুক্তিযোদ্ধাই নয়,তাদের যে কোনো ব্যাক্তিকেই তালাশ করে বের করে শায়েস্তা করার আহ্বান জানান। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
একই দিন দৈনিক সংগ্রাম লেখে,আলবদর একটি নাম। যেখানেই তথাকথিত মুক্তিবাহিনী সেখানেই আলবদর। মুক্তিবাহিনীর কাছে আরবদর সাক্ষাৎ আজরাইল।
১৪ সেপ্টেম্বর যশোরে মতিউর রহমান নিজামী সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের খতম করার আহ্বান জানান। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
১৬ সেপ্টেম্বর মতিউর রহমান নিজামী বলেন,দুনিয়ার কোন শক্তিই পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে পারবে না।
১৭ সেপ্টেম্বর গোলাম আযম মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজ ট্রেনিং গ্রহনরত রাজাকার শিবির পরিদর্শন করেন এবং রাজাকারদের মনোবল ফিরিয়ে আনার জন্য বত্তৃতা দেন।
১৮ সেপ্টেম্বর জামায়াতে নেতা আব্বাস আলী খান মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানপন্থী পূর্ব পাকিস্তানের মালেক মন্ত্রিসভায় যোগদান করেন।
১৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরে রাজাকারদের প্রসিণ ক্যাম্পে গোলাম আযম এক ভাষণে বলেন,বাইরের চেয়ে ঘরের শত্রু বেশি তিকর। এদের তম করতে হবে। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
২১ সেপ্টেম্বর জামায়াতে নেতা আব্বাস আলী খান বলেন,পাকিস্তান ধ্বংসের জন্য একদল ছাত্র দায়ী। (দৈনিক সংগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী তাঁবেদার মন্ত্রীদের জামায়াতে ইসলামী এক সংবর্ধনা দেয়। এখানে গোলাম আযম বলেন,পাকিস্তানই যদি না থাকে,তাহলে জামায়াত কর্মীদের বেঁচে

থেকে লাভ নেই । (দৈনিক সংগ্রাম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।
২৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রাম ‘শেখ সাহেবের খাদ্য তালিকা’ শীর্ষক এক নিবন্ধে বলে,রাষ্ট্রদ্রোহী শেখ মুজিব জেলের ভেতরে ভাল খাওয়া-দাওয়া করছেন এটা দুঃখজনক।
৭ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম মুক্তিবাহিনী মোকাবেলায় রাজাকারদের জন্য ভারি অস্ত্রশস্ত্র দাবি করে বলে,অন্যথায় দুষ্কৃতকারী (মুক্তিবাহিনী) নির্মূল করা যাবে না।
একই দিন ইত্তেহাদুল ওলামার বৈঠকে মাদ্রাসার ছাত্র ও আলেমদের সামরিক টেনিংদানের আহ্বান জানানো হয়।
১১ অক্টোবর মুক্তিবাহিনীর গুলিতে ৩জন রাজাকার নিহত হলে দৈনিক সংগ্রাম একে ‘গৌরবের মৃত্যু’ বলে অভিহিত করে।
এই দিন জামায়াত নেতারা পুনরায় রাজাকার-আলবদরদের জন্য ভারি অস্ত্রশস্ত্র দাবি করে বলে,অন্যথায় মুক্তিবাহিনী দমন করা যাবে না।
১৪ অক্টোবর পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আবুল খালেক এক বিবৃতিতে বলেন,রাজাকাররা সামরিক আইন কর্তৃপরে সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীনে থেকে কাজ করছে।
১৮ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম বলে,যারা পাকিস্তানের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না,তারা যেন এদেশ ছেড়ে চলে যায়।
২০ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম ‘তিক্ত হলেও সত্য’শিরোনামে বলে,জাতি কর্তৃক গোলম আযমের গলাধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
২৯ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম অফিস-আদালত থেকে মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের বের করে দেয়ার আহ্বান জানান।
৪ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রাম মন্তব্য করে,দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিবাহিনীর) ক্রমবর্ধমান দুঃসাহসিক তৎপরতা উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাদের এই দুর্বৃত্তপনার অবসান করা হবে। ইতিমধ্যেই সারাদেশে রাজাকার,মুজাহিদ ও বদর বাহিনী এই সব দুষ্কৃতকারী (মুক্তিবাহিনী)-কে একের পর এক খতম করে চলেছে।
৭ নভেম্বর ‘বদর দিবস’ শিরোনাম নিবন্ধে উল্লেখ করে,মক্তিযোদ্ধাদের নির্মূলে হয় গাজী,নয় শহীদ হওয়ার শপথ নিতে হবে।
৭ নভেম্বর জামায়াত নেতা আবুল খালেক বদর দিবসের এক জনসভায় বলেন,বাংলাদেশ আন্দোলনকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিতে হবে।
এদিন ইসলামী ছাত্রসংঘ ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধোবিরোধী এক মিছিল বের করে এবং শ্লোগান তোলে,‘আমাদের রক্তে পাকিস্তান টিকবে।’ (দৈনিক সংগ্রাম,৮ নভেম্বর, ১৯৭১)
জামায়াতে ইসলামী দলটি যে ইসলামের নামে বরাবরই মিথ্যা এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেয় তার প্রমান ৮ নভেম্বরের দৈনিক সংগ্রাম। এদিন সংগ্রাম বলে,মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল খরচ ইসরাইল বহন করছে। মুক্তিবাহিনীকে ট্রেনিংও দিচ্ছে দিচ্ছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী। ইহুদীরা মুক্তিবাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্র এবং টাকা-পয়সাও দিচ্ছে।
একই দিন দৈনিক সংগ্রাম বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরই রাজাকারদের স্থান। রাজাকার বাহিনীর দুই শাখা আলবদর ও আলশামস-এর ওপরই পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
১০ নভেম্বর জামায়াতে নেতা আব্বাস আলী খান এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তান টিকে থাকার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। (দৈনিক সংগ্রাম, ১০ নভেম্বর, ১৯৭১)
১২ নভেম্বরের দৈনিক সংগ্রাম প্রকাশ্যে বুদ্ধিজীবি হত্যার পরামর্শ দেয়। এদিন তারা বলে,বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তর থেকে যারা মুক্তিযুদ্ধোকে সমর্থন করছে তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে উৎখাত করতে হবে। এটা যতো বিলম্ব হবে ততোই পাকিস্তানের তি হবে।
ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা মতিউর রহমান নিজামী ১৪ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রামে এক নিবন্ধে বলেন,পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বদর বাহিনী গঠিত হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে আলবদর বাহিনী মুক্তিবাহিনীকে পর্যুদস্ত করবে।
১৬ নভেম্বরের দৈনিক সংগ্রাম মক্তিবাহিনীর তৎপরতা যাতে বিদেশে যেতে না পারে তার জন্য বিদেশী সাংবাদিকদের ওপর কড়া নজর রাখার পরামর্শ দেয়।
একই দিন ছাত্রসংঘ নেতা ও আলবদর বাহিনী প্রধান মতিউর রহমান নিজামী এক নিবন্ধে বলেন,পাকিস্তান হচ্ছে আল্লাহর ঘর।
১৯ নভেম্বরের দৈনিক সংগ্রাম গোলাম আযমকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বানানোর আহ্বান জানায়।
২৪ নভেম্বর ইসলামী ছাত্রসংঘ নেতারা এক বিবৃতিতে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
একই দিন গোলাম আজমও এক বিবৃতি দেন। তিনি পাকিস্তানকে ভারত আক্রমণের আহ্বান জানান এবং রাজাকার-আলবদরদের উন্নতমানের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত করার আহ্বান জানান। (দৈনিক সংগ্রাম, ২৪ নভেম্বর, ১৯৭১)
২৫ নভেম্বর জামায়াত নেতা গোলাম আযম ও আব্বাস আলী খান পাকিস্তান রর জন্য দেহের শেষ রক্তবিন্দু দেয়ার জন্য জামায়াত কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।১২
জামায়াতে ইসলামী তাদের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম এবং গোলাম আযম, আব্বাস আলী খান,মতিউর রহমান নিজামী প্রমুখ ১৯৭১ সালের মুক্তিযদ্ধের নয়টি মাস এভাবে ক্ষিপ্ত কুকুরের মতো বাংলা, বাঙালি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হুমকি,মিথ্যা প্রচারণা দ্বারা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কলুষিত করে তুলেছিল। ২৫ মার্চের পর থেকেই সারাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে মিলে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করে। মা-বোনদের ধরে নিয়ে তাদের প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় এবং সর্বশেষে ১৪ ডিসেম্বর বিজয়ের মাত্র একদিন আগে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
নয় মাসের দৈনিক সংগ্রামের বিভিন্ন পাতা থেকে সংপ্তি করে ছোট যে ডায়রি তুলে দেয়া হয়েছে,তাতেই বোঝা সম্ভব সেদিন কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তারা সৃষ্টি করেছিল। ‘মুক্তিযোদ্ধাদের খতম কর’,‘বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে মুক্তিযোদ্ধা খোঁজ কর’,‘মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের পাকিস্তানে জায়গা হবে না’,‘মুক্তিবাহিনীকে ধরিয়ে দাও’,‘মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কর’, ‘মুক্তিযোদ্ধা নির্মূলের জন্য আরো উন্নত অস্ত্র দাও’,‘মুক্তিবাহিনী খতম করার জন্য সেনাবাহিনীর দিকে তাকিয়ে থাকলেই চলবে না’,‘স্বাধীনতার সমর্থক দলগুলোকে নিষদ্ধ করতে হবে’,মুক্তিযুদ্ধ রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা’,‘স্বাধীন বাংলা ইহুদী ষড়যন্ত্র’,‘পাকিস্তান টিকে থাকার জন্যই এসেছে’,পাকিস্তানের জন্য শেষ রক্তবিন্দুদানের আহ্বান’,‘মক্তিবাহিনীরা ডাকাত’,‘মুক্তিযোদধাদের পাকিস্তানপন্থীরা কোনদিনই মা করবে না’,‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান দুষ্কৃতকারী’,‘আলবদর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সাক্ষাৎ আজরাইল’,‘পাকিস্তান যদি না থাকে তাহলে জামায়াত কর্মিদের বেঁচে থেকে লাভ নেই’, ‘রাজাকারদের গৌরবের মৃত্যু’,‘পাকিস্তানের অস্তিতে যার বিশ্বাস করেনা’,তাদের এদেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে’, ‘অফিস-আদালত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বের কর’,‘বাংলাদেশ অন্দোলনকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিতে হবে’ইত্যাদি বাক্যগুলো প্রতিদিন গোলাম আযম,তাঁর শিষ্যরা,তার মুখপত্র বিরামহীনভাবে প্রচার করেছে। যে কোন সুস্থ মানুষ লাইব্রেরিতে গিয়ে দৈনিক সংগ্রামের পাতা খুললেই এই দলিল পড়ে শিউরে উঠবে।
আজ যেসব ভন্ড,প্রতারক,লম্পট রাজনীতিবিদরা গোলাম আযম ও জামায়াতীদের পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন তাদের জন্য করুনা হয়। তারা অমানুষ এবং খুনীর সহযোগী-খুনী। গোলাম আযমের নির্দেশে এদেশে রাজাকার-আলবদররা যে লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করেছে,তার দায়ভাগ নিতে হবে তাদেরও।
বিএনপি সরকারের তিন লম্পট(ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা,জমিরুদ্দিন সরকার ও রফিকুল ইসলাম মিয়া) যে ভুমিকা নিয়েছিল এদের প্রতিষ্ঠিত করতে,তাকে শুধু নির্লজ্জ বলা যায় না,তাঁরা বাংলা মায়ের কুসন্তান এবং কলঙ্ক। এরা গোলাম আযমের চেয়েও পাপী এবং নরাধম।
যারা আজ গোলাম আযমকে মাফ করে দিতে চায়,তারা হল পিশাচের বন্ধু। গোলাম আযম কি আজও মাফ চেয়েছে,নাকি ভুল স্বীকার করেছে,যে গায়ে পড়ে গিয়ে মাফ করে দিতে হবে!
আজ গোলাম আযমদের নির্মূলের শ্লোগান এবং দাবি উঠেছে,কারন তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মূল করতে চেয়েছিল। তারা বলেছিল,পাকিস্তান না থাকলে তাদের বেঁচে থেকে লাভ নেই।
মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরে ঘরে খুজে বের করার জন্য তারা নির্দেশ দিয়েছিল,তাই তাদেরও আজকে ঘরে ঘরে খুঁজে বের করতে হবে। এবার আর আপোসের কোনো প্রশ্নই নেই।
কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধের পরও গোলাম আযম বাংলাদেশ ধ্বংসের এবং অস্বীকারের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছিলেন। সেই প্রমান এবং সাক্ষ্য তিনি নিজেই রেখেছেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালে পাকিস্তানে‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার সপ্তাহ’নামে যে দিবস পালন করা হয় তার আহ্বায়ক হয়েছিলেন এই গোলাম আযম।
একই বছর ডিসেম্বরে গোলাম আযম লণ্ডনে যান এবং সেখানে ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’নামে এক বাংলাদেশবিরোধী স্থায়ী ষড়যন্ত্র শুরু করেন। দীর্ঘ আট বছর এই কমিটির মাধ্যমে গোলাম আযম লণ্ডনে ষড়যন্ত্রের নেতৃত্ব দেন। (মুহাম্মদ কামরুজ্জামান,গোলাম আযমের সংগ্রামী জীবন,ঢাকা,১৯৮৯ পৃষ্ঠা৭০ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, পূর্বোক্ত,পৃষ্ঠা ৮২।)
গোলাম আযমের নির্দেশে লিখিত তাঁর তথাকথিত সংগ্রামী জীবনীর লেখক আলবদর মুহাম্মদ কামরুজ্জামান জানাচ্ছেন,১৯৭৩ সাল থেকে বেশ কয়েকবার গোলাম আযম সৌদি আরব যান এবং সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজের সাথে দেখা করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়ার আহ্বান জানান।
আলবদর কামরুজ্জামান নিজেই লিখেছেন,বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের ওপর ধর্মনিরপেতার নামে ধর্মহীনতা চাপিয়ে দেয়ার কোন ষড়যন্ত্র যাতে সফল হতে না পারে,সে বিষয়ে গোলাম আযম সৌদি বাদশাহর প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান। (দৈনিক বাংলা, ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।)
আলবদর নেতা গোলাম আযম নিজেও জানাচ্ছেন,‘হজ-পরবর্তী ৬ বছর আমি প্রধানত লণ্ডনে কাটিয়েছি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি।

বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বিপন্ন মনে করাই ছিল স্বাভাবিক। (দৈনিক বাংলা, ১৮ এপ্রিল ১৯৭৩। )

এই স্বীকারোক্তি শুনেছি আমরা গোলাম আযমের নিজের জবানীতেই। এর চেয়ে বড় প্রমান আর দলিল কি প্রয়োজন আছে। গোলাম আযমরা এই পর্যন্ত যতো খুন,হত্যা,লুট,ধর্ষণ ইত্যাদি করেছে তার

সবটাই তারা করেছে ধর্মের নামে, ইসলামের নামে। ইসলামকে এভাবে তারা কীভাবে বারবার তি করেছে,তার একটা বিবরণ পূর্বের পর্ব-1 এ আলোচনা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের তৎকালীন হাক্কানী আলেমরা জামায়াত ইসলামী,মওদুদী, গোলাম আযমদের সম্বন্ধে তাই বারবার সতর্ক করে দিয়েছিলেন। আলেমরা জামায়াতীদের কাফের বলেও ফতোয়া দিয়েছিলো।

জামায়াতীরা হল ধর্মোন্মাদ। ধর্মের মূল প্রেরণার সাথে এদের কোন সম্পর্ক নেই। জামায়াতীরা ইসলামের মূল ভিত্তি নামাজ নিয়ে আন্তরিক নয়,দেশের অনেক জামায়াতীকে দেখা যায় তারা প্রকৃতপক্ষে নামাজই পড়তে

জানে না। তারা ইসলাম কায়েম করবে কিভাবে! মাওলানা সাঈদী তার জনসভা এখন ভিডিও ব্যবসায় পর্যন্ত নিয়ে গেছেন,ইসলামের তি করার আর থাকলো কি!
বহুল কথিত রাজাকার মাফ পাওয়ার আওতায়ও গোলাম আযম পড়ে নি। স্বাধীনতার পরপর জেলখানাগুলো রাজাকারে ভরে গিয়েছিল। সেই সময় দেশে এতো ম্যাজিষ্ট্রেট বা বিচারকও ছিল না যে দ্রুত

বিচার নিষ্পত্তি করা সম্ভব ছিল।
উপরন্তু মাওলানা ভাসানী ও জাসদ দালাল আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে তৎকালীন শেখ মুজিব সরকারের প্রতি প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। হলিডে পত্রিকায় তৎকালীন ভাসানী ন্যাপ

নেতা এনায়েতুল্লাহ খান তো প্রকাশ্যে দালালদের হালাল করার নির্লজ্জ প্রচারণা চালাতেই ছিলেন। ভাসানী ন্যাপ নেতা মশিউর রহমান যাদু মিঞা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় তাঁকেও জেলে আটকে রাখা

হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেয়া হলে তৎকালীন ইসলামিক একাডেমি মিলনায়তনে তাঁর সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনায় প্রধান অথিতির ভাষণ দেন রাশেদ খান মেনন (তিনি তখন ভাসানী ন্যাপের নেতা ছিলেন)
অনেকেই এসব ঘটনা ভুলে গেছেন। এই সময় বড় বাস্তব ঘটনা ছিল পাকিস্থানে কয়েক লাখ বাঙালির আটকেপড়া। বর্তমান সরকারের কৃষিমন্ত্রী জেনারেল মজিদ-উল হক,পররাষ্টমন্ত্রী কর্নেল

মুস্তাফিজ সাহেবরাও এই আটকেপড়ার মধ্যে ছিলেন। স্বদেশ তাদের এই লাখো বাঙালির আত্মীয়স্বজনরা চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল সেদিন। পাকিস্তানিরা তাদের জিম্মি করে রেখেছিল
। ফলে ছেড়ে দিতে হয়েছিল বন্দী পাকিস্তানি এক লাখ সৈন্যকেও।
এত কিছু প্রতিকূলতার মধ্যে কতগুলো পদক্ষেপ ছিল যুগান্তকারী। তৎকালীন সরকার গোলাম আযমসহ তৎকালীন ১৫ জন দালাল রাজনীতিককে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ

দেন। (দৈনিক বাংলা, ২২ এপ্রিল ১৯৭৩।)
১৭ এপ্রিল, ১৯৭৩ সালে সরকারের এক হ্যাণ্ডআউটে বলা হয়,যুদ্ধাপরাধীদের জন্য জেনাভা কনভেনশনের ৩ নং ধারা লংঘনের দায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে। (দৈনিক বাংলা, ২১ এপ্রিল

১৯৭৩, ১৭ মে ১৯৭৩, ৩০ আগষ্ট ১৯৭৩, পয়লা ডিসেম্বর ১৯৭৩।)

যুদ্ধাপরাধীরা আদালতে হাজির না হওয়ায় গোলাম আযমসহ মোট ৩৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। (দৈনিক বাংলা, ২১ এপ্রিল ১৯৭৩, ১৭ মে ১৯৭৩, ৩০ আগষ্ট ১৯৭৩, পয়লা ডিসেম্বর ১৯৭৩।)

এরপর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দালালদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। মুসলিম লীগপন্থী একদল রাজনীতিক ছিলেন যারা মূলত যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক বিরোধিতা করেছে। জামায়াতীদের মতো অস্ত্র নিয়ে

মুক্তিবাহিনী এবং মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করে নি। এই রকমসহ কয়েক প্রকার লোককে মাফ করা হয়।

প্রায় ১২ হাজার মামলা এবং ২৯ হাজার আসামী এই সময় কারাগারে আটকে পড়ায় তাদের ওপর নির্ভরশীল কয়েক লাখ পরিবার-সদস্য নিদারুণ সঙ্কটে পতিত হয় যা তৎকালীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব

ফেলে। কিন্তু বলা হয়,
১. দেশদ্রোহিতা,হত্যা,ধর্ষণ,ডাকাতি,অগ্নিসংযোগের অপরাধী মাফ পাবে না।
২. দালালমন্ত্রী,উপদেষ্টা,রাজাকার কমাণ্ডার মাফ পাবে না।
৩. শান্তি কমিটির নেতা মাফ পাবে না।
৪. ১৮ ধরনের অপরাধী মাফ পাবে না। (দৈনিক বাংলা, ২১ এপ্রিল ১৯৭৩, ১৭ মে ১৯৭৩, ৩০ আগষ্ট ১৯৭৩, পয়লা ডিসেম্বর ১৯৭৩।)(বিভিন্ন প্রকার যুদ্ধাপরাধের দায়)
সুতরাং আজ গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যে জনমত গড়ে উঠেছে তা স্পষ্টতই মুক্তিযদ্ধের চেতনার ভিত্তিমূল থেকে উৎসারিত। গোলাম আযম ও খুনী রাজাকার-আলবদরদের আজ নির্মূল করার কথা উঠেছে,কারণ তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মূল করতে চেয়েছিল।
গোলাম আযমের জায়গা বাংলাদেশে হবে না-এই শ্লোগান উঠছে এই জন্য যে,গোলাম আযম ’৭১ সালে বলেছিলেন,মুক্তিযোদ্ধাদের জায়গা পাকিস্তানে হবে না।
জামায়াতীদের উৎখাত ও খতম করার জনমত গড়ে উঠেছে এই জন্য যে, জামায়াতীরা মুক্তিকামী মানুষকে খতম করেছিল।

গোলাম আযমদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করার কথা উঠেছে এই জন্য যে, গোলাম আযমরাও মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করতে চেয়েছিল।
জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের খুনীদের বিচার চায়। তাদের সকল অপকর্মের দলিল রয়েছে। পিছিয়ে যাওয়ার আর কোন অবকাশ নেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28780987 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28780987 2008-03-20 23:36:38
পোষ্ট মর্টেম জামাতে ইসলাম : পর্ব-১ প্রতিনিয়ত বক্ততা,বিবৃতি ও কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে দেশটিকে জাহান্নাম
বানিয়ে ছেড়েছিল। তাদের উগ্রতা,পাষন্ডতা এবং নির্মমতা আধুনিক সভ্যতার

সকল সৃজনশীলতাকে ম্লান করে দিয়েছিল সেদিন। ১৯৫৩ সালে সমগ্র পশ্চিম পাকিস্তানে ধর্মের নামে হাজার হাজার

পাকিস্তানিকে হত্যা,খুন,ধর্ষন ও লুটপাট করে এই দলটি ইতিহাসের জঘন্যতম

কালিমা সৃষ্টি করেছিল। পাকিস্তানের তৎকালীন আন্তর্জাতিক

খ্যাতিসম্পন্ন বিচারক,বিচারপতি মুনীর ও বিচারপতি কায়ানী এই

হত্যাযজ্ঞ,লুন্ঠন,ধর্ষনের পরিকল্পনা ও প্ররোচনাদানের অপরাধে

জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মওদুদী কে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান

করেছিলেন।
কিন্তু ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে এই কুখ্যাত

মাওলানা মওদুদীকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যদি এই ভুলটি আইয়ুব খাঁর মতো

স্বৈরশাসকরা না করতেন তাহলে হয়তো ইতিহাসের একই বর্বরতার পুনরাবৃত্তি

নাও ঘটতে পারতো।
যেহেতু মাওলানা মওদুদী ইসলামের নামে খুন করেও বেঁচে

গিয়েছিলেন,যেহেতু তাঁর ফাঁসির আদেশ হওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হল

না,যেহেতু এই পাপিষ্ঠ তার কৃতকর্মের জন্য কোন প্রকার ভুল বা অনুতাপ

প্রকাশ করে নি,সেহেতু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে আবার ১৯৫৩ সালের

পুনরাবৃত্তি ঘটলো। এবারের ঘটনার নায়ক হয়ে আসলেন খুনী মওদুদীর যোগ্য

শিষ্য গোলাম আযম। এই আধুনিক খুনীদের একজনের নামের পূর্বে

‘মাওলানা’,আরেকজনের নামের পূর্বে ‘অধ্যাপক’ শব্দজুড়ে অত্যান্ত সুকৌশলে

ধর্মের নামে দিনের পর দিন তারা প্রকাশ্যেই হত্যালীলার রাজনীতি চালিয়ে

আসছেন।
গোলাম আযম ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর

আমীর এবং মওদুদী ছিলেন সমগ্র পাকিস্তানের আমীর। তাঁরা প্রথম থেকেই বলে

আসছেন তাঁরা নাকি ‘ইসলামী’আদর্শের রাজনীতি করেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা

মহান ধর্ম ইসলামের বিবৃতি সাধন করে মওদুদীবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে

রত।
তৎকালীন পাকিস্তানের হাক্কানী আলেমরা অনেকবার ফতোয়া দিয়ে

জামায়াতে ইসলামী মওদুদীবাদীদের কাফের ঘোষণা করেছিলেন। আলেমরা এমনকি

এই কথাও বলেছিলেন,মওদুদীবাদী গোলাম আযমের পেছনে নামাজ পড়লে নামাজ হবে

না।
পীর মোহসীন উদ্দীন দুদু মিয়া ১৯৬৯ সালে জানিয়েছিলেন,মওদুদীর

নামের আগে যে ‘মাওলানা’ শব্দটি ব্যবহার করেন তা সনদপ্রাপ্ত ‘মাওলানা’

খেতাব নয়। তিনি বলেন,ভরতের হাইদরাবাদের নিজামের দরবারে মওদুদী

প্রভুদের তুষ্ট করার জন্য মওদুদী নানা রকম দালালির কাজকর্ম করতেন।

সেখানে তিনি নিয়মিত সুট এবং টাই পরতেন। পরে অনৈসলামিক কাজে নিয়ত

সাম্রাজ্যবাদী ওই প্রভুরা মওদুদীকে ‘মাওলানা’ খেতাব দেন। (দৈনিক

পাকিস্তান,২০ অক্টোবর,১৯৬৯।)

এছাড়া রাজতন্ত্রের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা তা আবার ইসলামী

দৃষ্টিকোন থেকে প্রমান করার জন্য তিনি হাইদরাবাদের নিজামুলমুলক আসিফ

জাহর জীবন-চরিতও রচনা করেছিলেন। (বর্তমানে সৌদি রাজতন্ত্রের সাথে

জামায়াতে ইসলামীর সখ্যতার কারণও এখানেই নিবন্ধ)। (হালিম দাদ

খান,মুক্তিযুদ্ধ ও গোলাম আযম(ঢাকাঃ১৯৯২)পৃষ্ঠা ৯)

১৯৬৯ সালের ৭ নভেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের শ্রদ্ধেয় আলেম

মাওলানা অলিউর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ ইসলাম

সম্পর্কে ভুল বুঝতে পারে আশংকা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন। (দৈনিক

পাকিস্তান,৭ নভেম্বর ১৯৬৯।)

১৯৭০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নিখিল পাকিস্তান ইসলামী

বিপ্লবী পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ওবায়দুল্লহ বিন সাইদ

জামায়াতে ইসলামী সমর্থক ইমামের পেছনে নামাজ না পড়ার আবেদন

জানিয়েছিলেন। (দৈনিক পাকিস্তান,১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০।)

৬৯ সালের ৩০ অক্টোবর পাকিস্তানের ১৩ জন আলেম জামায়াতে ইসলামী

সমর্থকদের কাফের ঘোষনা করে ফতোয়া দিয়েছিলেন। (দৈনিক পাকিস্তান,৩০

অক্টোবর ১৯৬৯।)

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি জামে মসজিদের ইমাম ১৯৬৯ সালে

জানিয়েছিলেন, মাওলানা মওদুদী কোরআনের অপব্যাখ্যা করে বই লিখে প্রচার

করে ধর্মপ্রান মুসলমানদের ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তিনি দাবি করেন,মওদুদী

তার বইগুলো প্রত্যাহার করবেন বলে ওয়াদা দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি ওয়াদা

খেলাপকারী মোনাফেকের পরিচয় দিয়েছিলেন। (দৈনিক পাকিস্তান,২২

সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।)

এখানে বলাবাহুল্য,পবিত্র ইসলাম ও কোরআনের অপব্যাখ্যা করা এই

বইগুলোই বর্তমান বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী এবং তার শিরোমণি গোলাম

আযম, আব্বাস আলী খান,মওদুদীবাদ যা উগ্রধর্মান্ধ ও ক্ষমতার লিপ্সা থেকে

জাত, যা আধ্যাত্মিকতা নয়,প্রচণ্ড ভোগ-বিলাস ও মোহ সৃষ্টির প্রয়োজনে

সৃষ্ট।
সারা দুনিয়ার মানুষ ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবেই জানে। এই

ধর্মের প্রচারক হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সঃ) দ্বারে দ্বারে গিয়ে

দাওয়াতের মাধ্যমে মানুষকে সৎ ও ন্যায়ের পথে এনেছিলেন। এই জন্যে রসুলকে

সীমাহীন নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
কিন্তু গোলাম আযমের গুরু মওদুদী হযরত রসুলে আকরামের এই

আত্মত্যাগকে অপমানিত করছেন কোন প্রকার কৌশলে নয়,একেবারে প্রকাশ্য

কৌশলে। মওদুদী তাঁর ‘আল জেহাদ কিল ইসলাম’ গ্রন্থে' লিখেছেন ;
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম তের বছর পর্যন্ত

আরবকে ইসলামের আহ্বান জানাতে থাকেন,মানুষকে বুঝানোর যত প্রকার

উৎকৃষ্ট পন্থা আছে তা অবলম্বন করেন,যুক্তি-প্রমান দেন....তিনি সত্য

প্রকাশ ও সংস্থাপনের জন্য উপযোগী কোন উপায় বাদ দেয় নাই।... কিন্তু ওয়াজ

নসিয়ত ব্যর্থ হওয়ার পর ইসলামের আহ্বায়ক তলোয়ার হাতে লইলেন...তিনি

(সঃ)তলোয়ার হাতে লওয়ার পর মানুষের মন থেকে ক্রমে ক্রমে পাপ ও

দুস্ক্কৃতির কালিমা দূর হতে লাগলো।’ (মওলানা আবু আলা মওদুদী,আল জেহাদ

কিল ইসলাম,পৃষ্ঠা ১৩৭-১৩৮(হযরত মিয়া তাহের আহমদ (আইঃ),পাকিস্তান সরকারের

শ্বেতপত্রের উত্তর, দ্বিতীয় খণ্ড (ঢাকা,১৯৮৭) প্রশ্নে উদ্ধৃত।)

দুনিয়ার বুকে ইসলাম প্রচারিত হওয়ার এই তত্ব হচ্ছে অমুসলমানদের।

ইসলামবিরোধীরা সব সময় প্রচার করে এসেছে যে,ইসলাম দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত

হয়েছে গায়ের জোরে তলোয়ার দিয়ে। মওদুদীর এই ব্যাখ্যায় শুধু ইসলামের

দুশমনরাই খুশি হতে পারে,মুসলমানেরা নয়। শুধু তা-ই নয়,মওদুদী চ্যালেঞ্জ

করেছেন পরম শক্তিমান আল্লাহ তায়ালার প্রতিও,অপমান করেছেন আমাদের

প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদকেও(নাউজিবিল্লাহ!)। এছাড়া ইসলামের সুবিখ্যাত

সাম্য ও কেন্দ্রীয় আদর্শের আকর্ষণের কথাও এতে অস্বীকার করা হয়েছে।
এমনি করে এই জামায়াতে ইসলামী এবং গোলাম আযমরা সুকৌশলে এদেশে

ইসলামের মূল প্রেরনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ১৯৬৯-৭০ সালে যখন এদেশের

আপামর মানুষ তাদের প্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসাবে শ্লোগান

তুলেছিলেন,‘আমার নেতা-তোমার নেতা : শেখ মুজিব-শেখ মুজিব’ তখন জামায়াতে

ইসলামী পাল্টা আমাদের প্রিয় নবীকে শেখ মুজিবের প্রতিপক্ষ দাঁড় করিয়ে

বলল,‘আমার নেতা-তোমার নেতা : বিশ্ব নবী মোস্তফা।’ জামায়াতে ইসলামীরা

জানতো,এদেশের মানুষ বাংলাদেশের নেতা হিসেবেই শেখ মুজিবের শ্লোগান

দিচ্ছে। তারপরেও প্রিয় নবীর নামে পাল্টা শ্লোগান তুলে তারা

বলেছিল,আমাদের নেতা হযরত মোহম্মদকে মানলে পাল্লায় ভোট দাও। কিন্তু

বাংলার মানুষ ভোট দিল শেখ মুজিবের নৌকায়। তাহলে অর্থটা কি দাঁড়ায়,ভোটে

কি শেখ মুজিবের কাছে হযরত মোহম্মদ(সঃ)-এর পরাজয় ঘটলো(নাউজিবিল্লাহ)!

এভাবেই পলেপলে দিনে দিনে জামায়াত আমাদের ধর্ম ,আমাদের ইসলামকে

ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

পৃথিবীর সকল দেশেই যার যার রাষ্ট্রীয়

ভূখণ্ড,জাতিসত্তা,ইতিহাস,ঐতিহ্য,আইনবিধি নিয়ে আলাদা সংবিধান থাকে।

পৃথিবীর সকল দেশেই তা আছে,শুধু তাই নয়,সকল মুসলিম দেশেও আছে। কিন্তু

বুঝেশুনেই জামায়াত চটকদার শ্লোগান দেয়,‘আমাদের সংবিধান কোরআন’।

প্রকৃতপক্ষে কোরআনকে কে অস্বীকার করছে ? কেউ না। তবুও জামায়াত একটি

দেশের সংবিধানের প্রতিপক্ষ হিসেবে কোরআনকে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। খুব

সচেতনভাবে পবিত্র গ্রন্থ কোরআনকে তারা এভাবে অপমানিত করছে।

প্রিয় নবী হযরত মোহম্মদ(সঃ)-এর সময়ে তার নেতৃত্বে বদরের যুদ্ধ

হয়েছিল। সেই পবিত্র ধর্মীয় যুদ্ধে যেসব বীর অংশ নিয়েছিলেন তারা

ইসলামের ইতিহাসে আলবদর নামে খ্যাতি লাভ করেছিল। গোলাম আযমরা ১৯৭১ সালে

বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সময় এই নামেই একটি খুনী বাহিনী তৈরি করলো। মহান

আল্লাহ সেদিন তাদের অবশ্যই শায়েস্তা করেছিল,তাদের ধ্বংস করেছিল,সমূলে

এদেশ থেকে উৎপাটন করেছিল। কিন্তু একটি ক্ষত থেকেই গেল, মুক্তিযুদ্ধের

সময় হত্যাকারী, আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণকারী এই বাহিনীকে এখন বাংলার

মানুষ রাজাকার-আলবদর বলে গাল দেয়। পবিত্র ‘আলবদর’ শব্দটির এই

অপব্যবহারের ফলে মহান ইসলামের এক বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল।

পৃথিবীর সব দেশের গনতান্ত্রিক সমাজ বলে থাকে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।

চীনের মাও সে তুং অবশ্য বলতেন,
বন্দুকের নলই সকল ক্ষমতার উৎস। তার বিপরীতে এই রাজনৈতিক বাক্যটি

ব্যবহার হত। ইদানিং জামায়াতে ইসলামী ও গোলাম আযমরা সারাদেশে একটি

শ্লোগান দেয়ালের গাঁয়ে সেঁটে দিচ্ছে : ‘আল্লাহই সকল ক্ষমতার উৎস’। এই

শ্লোগানটি নতুন করে তুলে গোলাম আযমরা আসলে কি বলতে চায় : একটি হচ্ছে,তারা

জনগনকে ভয় পায়,জনগনের রায়কে ভয় করে,তারা জানে যতোই

ইসলাম,আল্লাহ,কোরআন,নবী ইত্যাদি নিয়ে তারা রাজনৈতিক ব্যবসা করুক না

কেন,জনগণ সময়ে এসে ঠিকই তাদের ঝাড়ু-পেটা নয় শুধু, এবার একেবারে নির্মূল

করে ছাড়বে। কারণ আমাদের মহান আল্লাহ অবশ্যই সকল ক্ষমতার উৎস। এ

ব্যাপারে কারো শুধু নিরংকুশ নয়,বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকলে সে আর

মুসলমান থাকতে পারে না। কিন্তু ‘জনগন সকল ক্ষমতার উৎস’ কথাটি আসছে একটা

দৈশিক প্রশ্নে, এরশাদের মতো অবার্চীনরা মনে করে রাইফেল একটা উচিয়ে ধরতে

পারলেই ক্ষমতাই যাওয়া যায়,‘ জনগন ক্ষমতার উৎস’ বলতে এই

বন্দুকওয়ালাদেরকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে,জামায়াতী-গোলামরা তা জানেও।

কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালাকে তারা সজ্ঞানে হেয় করতে চায় বলেই এই

‘আল্লাহ ক্ষমতার উৎস’ শ্লোগানটি পাল্টা সামনে তুলে দিচ্ছে।

জামায়াতী-গোলাম আযমরা যুগে যুগে যে মার খেয়েছে, ধ্বংস হয়েছে এই

কারনেই। পবিত্র ধর্ম ,আল্লাহ এবং আমাদের প্রিয় নবীকে নিয়ে রাজনৈতিক

ব্যবসা করার কারণেই আজ সমাজে তারা উচ্ছিষ্ট,তারা নরাধম,অসভ্য,বর্বর বলে

পরিচিত। এই জন্যেই বাংলার পবিত্র ভূমিতে তাদের জায়গা নেই বলে ধ্বনি

ওঠে। শুধু বাংলা কেন,এই পৃথিবীর কোন দেশই এই গণ্ডমূর্খ, জ্ঞানপাপী,

রাফেজী ধর্মদ্রোহী বাতিল মতবাদীদের আজকে গ্রহন করতে রাজি হচ্ছে না।

এদের প্রতি আল্লাহর গজব ও অভিশাপ নাজিল হয়েছে।
১৯৫৩ সালে এদের আমীর মওদুদীর ফাঁসি হয়েছিল,সেই রায় কার্যকর না

করাতে এদেশের জনগন ১৯৭১ সালে এদের পাপের ফলকে ভোগ করেছে। আবার ১৯৭১

সালে এদের পাপের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়াতে আজকে আবার এইসব ‘বাতেল

মতবাদে’র লাঞ্ছনা জনগনকে ভোগ করতে হবে। যেহেতু জনগন তার মনোবাঞ্ছা

পূরণে দেরিতে হলেও গোলাম আজমের ফাঁসি দিতে প্রস্তুত এবং পবিত্র

দায়িত্ব পালনে যারাই পিছপা হবেন,আল্লাহ তাদেরও শাস্তি দিতে ভুলবেন না।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর বিদায় হজের শেষ ভাষণে

বলেছিলেন,ধর্ম নিয়ে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না,অতীতে অনেক জাতি ধর্ম নিয়ে

বাড়াবাড়ি করে ধ্বংস হয়ে গেছে।
এই সেদিনই তো আমরা দেখলাম,কথায় কথায় পাকিস্তানে ধর্মের নামে

হোলিখেলার রাজনীতি। এই বর্বর ধর্ম ব্যবসায়ীদের জন্য পৃথিবীর সদ্য

স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশ ‘পাকিস্তান’ টিকতে পারলো না,ধ্বংস হয়ে গেল।

আজও দেখতে পাচ্ছি,আমাদের দেশের এক শ্রেনীর মাওলানা সেই পূর্বের মতোই

আবারও ধর্মের নামে ডিগবাজি খাচ্ছেন,মনের খুশিতে যা ইচ্ছা বলছেন, যা

ইচ্ছা ফতোয়া দিচ্ছেন,ইসলামের নামে লড়াই করতে চাচ্ছেন। তাদের জন্য এক

প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় অপেক্ষা করছে,সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে,উড়ে যাবে

এইসব জোশ, আলেম হিসেবে তারা কখনোই তখন আর বিবেচিত হবেন না। কারন তাঁরা

রাজনীতির মাঠে নেমেছেন,তাঁরা রাজনৈতিক নেতার মর্যাদা হিসেবেই আল্লাহর

ইচ্ছায় সীমা লঙঘনের দায়ে জনগন কর্তৃক হেদায়িত হবেন।
এখানে বলে নেওয়া ভাল,আমাদের দেশের হাক্কানী আলেমরা কখনই তাদের

সাথে ছিলেন না,তাঁরা এই নোংরা রাজনীতিতে কখনই আসেন না। আমাদের দেশের

মাদ্রাসার ছাত্র এবং আলেম সমাজ বেশির ভাগ ‘দেওবন্দী’ আলেম সমাজের

অনুসারী। এরা কখনই জামায়াতে ইসলামীর মওদুদীবাদকে সমর্থন করেন নি, বরং

জামায়াতদের তারা কাফেরই মনে করে থাকেন। এছাড়া,আমাদের দেশের আরেকটি

দাওয়াতী প্রতিষ্ঠান আছে, ‘তবলীগ জামাত’ যার নাম,তারাও কখনই ধর্মের সাথে

রাজনীতিকে মেলাতে আসেন নি । অনেক সচেতন রাজনৈতিক কর্মীই তাদের

সম্বন্ধে ভুল বুঝে থাকেন। জামায়াতী ইসলামী গোলাম আযমরা আজ মনেপ্রানে

এদেরই প্রধান শত্রু বলে বিবেচনা করে থাকে। কারন জামায়াতে ইসলামী ও

গোলাম আযমদের মওদুদীবাদী আদর্শকে তাত্ত্বিকভাবে এরাই সবসময়

প্রত্যাখ্যান করে আসছে। প্রকতপক্ষে এরাই আসল ইসলামিক মৌলবাদী।
জামায়াতে ইসলামীকে আজ যারা ‘মৌলবাদ’ বলছেন তাঁরা আসলে ভূল করছেন।

কারণ জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতা-কর্মীরা সেই গোলাম আযম, মাওলানা সাঈদী

যেই হোন,তারা কেউ ইসলামের মূলকে ধরে রয় নি,বরং ইসলামের বিকৃতি সাধন করে

তারা এখন তথাকথিত আধুনিক ইসলাম করার চেষ্টা করছেন,যা রসুলের ইসলামের

সাথে কোন মিল নেই। মাওলানা সাঈদী,গোলাম আযমরা এখন

অডিও-ভিডিও,নাচ,গান,বাদ্য,চার রঙা ছবির আত্মজীবনীর বই সবই করে চলেছেন।
জামায়াতে ইসলামী এবং গোলাম আযম-মাওলানা সাঈদীদের সবচেয়ে বড়

অধঃপতন দেখতে পাই তাদের মিথ্যাচারে। তাদের প্রচারিত দৈনিক

সংগ্রাম,মিল্লাত প্রভৃতি দৈনিকগুলোকে দিনের পর দিন মিথ্যা এবং জ্বলন-

মিথ্যাগুলো জেনেশুনে প্রচার করতে দেখা যায়। তা যেকোনো সুসভ্য মানুষকে

বিচলিত করবে। প্রতিদিন সংবাদ আর মিল্লাত পড়লে মনে হবে দেশে বুঝি এখন

কোন যুদ্ধ চলছে। তাদের অবিরাম মিথ্যার বেসাতি এবং অসহনীয় উস্কানির ফলে

দেশে যদি কোনো প্রলয়ংকরী ঘটনা ঘটে যায় তাহলে পরবর্তীকালে এগুলোই হবে

দলিল,যেকোনো সুসভ্য মানুষ পড়লে বুঝতে পারবে এইসব পাপিষ্ঠ অমানুষের দল

কেমন করে ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে এনেছিল ১৯৭১ সালের মতোই।
জামায়াতে ইসলামী ও গোলাম আযমের মিথ্যাচারের কতকগুলো নমুনা এই

প্রসংগে উল্লেখ করা যায়। প্রথমেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের

মীমাংসা হওয়া উচিত তথাকথিত ‘ভাষা সৈনিক’ হিসেবে গোলাম আযমের দাবি।
প্রকৃতপক্ষে ভাষা আন্দলন বলতে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির

আত্মদানকেই বোঝানো হয়ে থাকে। ভাষার সংগ্রাম হিসেবে এদিনটিকেই বাংগালি

জাতি প্রতিবছর স্মরণ করে থাকে। বর্তমানের ভাষা শহীদ মিনার ’৫২সালের এই

দিনটির স্মৃতি সামনে রেখেই।
গোলাম আযম ১৯৫২ সালে ছাত্র ছিলেন না,রাজনৈতিক নেতাও ছিলেন না।

গোলাম আযমের নির্দেশে তাঁরই অনুগামী শিষ্য আলবদর নেতা মুহাম্মদ

কামরুজ্জামান গোলাম আযমের যে জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছেন তাতে দাবি

করেছেন যে,১৯৪৮ সালে চকবাজারে গোলাম আযম অন্যদের সাথে প্রচারপত্র বিলি

করতে গিয়েছিলেন। আরও একটি তথ্য দিতে গিয়ে এই গ্রন্থেই বলা হয়েছে,
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান যখন ঢাকায় এসেছিলেন, তখন

ডাকসুর পক্ষ থেকে একটি মানপত্র পড়া হয়েছিল এবং তা ডাকসুর সহ-সভাপতি

অরবিন্দ বোস পড়বেন বলে ঠিক হলেও হিন্দু বলে তিনি পড়েন নি,পড়েছেন সাধারণ

সম্পাদক গোলাম আযম। ব্যস্‌,এই তো বীর! আজ ভাষা আন্দোলন যখন বাঙাগালির

হৃদয়ে এমন প্রাণবিদ্ধ হয়ে আছে,কোন রকম তার সাথে কৃতিত্ব নিয়ে ভাষা

সৈনিক খেতাব নিতে পারলেই বাংগালির হৃদয়ে স্থান পাওয়া সম্ভব হবে।
কিন্তু সম্ভব নয়। কারণ প্রথমেই বলেছি,ভাষা সৈনিক বলতে এদেশের

মানুষ ’৫২ সালের একুশের মিছিলের সৈনিকদের বুঝে থাকেন। গোলাম আযম ১৯৪৮

সালে ভাষার লড়াইয়ের এই তথাকথিত সংযোগের দাবী ধোপে টেকে না। কারণ ১৯৪৮

কেন,এরকম বাংলা ভাষার দাবির সমর্থনে ছোটখাট সূত্রপাত

১৯৫৭,এমনকি’৪৭-পূর্ববর্তী সময়েও ঘটেছে।
বরং ১৯৪৮ সালে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ভাষার সংগ্রামে

গোলাম আযম ছিলেন নীরব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে

সেদিন বাংলা ভাষার পক্ষে একটি বিবৃতিও তিনি দেন নি। দালাল ছাত্রনেতা

হিসেবে তিনি সেদিন ছিলেন নীরব। সেদিনের আন্দলনের পক্ষে তিনি তাঁর একটি

বিবৃতির প্রমানও দেখাতে পারবেন না। ভাবতে লজ্জা হয়,সেদিনের ঢাকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যেসময় জিন্নাহর মুখের উপর ‘না-না’ করে থুতু

ছিটিয়ে দিয়েছিলেন,গোলাম আযম তখন গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন।
বরং গোলাম আযম নিজেই ঐ গ্রন্থেই স্বীকার করেছেন,জিন্নাহ

সম্মানে রেসকোর্সের সংবর্ধনায় তিনি নাকি ‘মঞ্চের কাছেই বসেছিলেন’ এবং

সেদিন জিন্নাহ উর্দূর পক্ষে কথা বললে তিনি নাকি কোন প্রতিবাদ দেখেন নি।

(মুহাম্মদ কামরুজ্জামান,অধ্যাপক গোলাম আযমের সংগ্রামী জীবন,ঢাকা, ১৯৮৯,

পৃষ্ঠা ২৭-২৮।)

এর চেয়ে নির্লজ্জ মিথ্যা আর কি হতে পারে! প্রকৃতপক্ষে সেদিনও

গোলাম আজমের ভূমিকা ছিল সুস্পষ্টভাবে উর্দূরই পক্ষে। ফলে জিন্নাহর

সাথে যখন ছাত্র নেতারা দেখা করতে গিয়েছিলেন, এবং বাংলার পক্ষে দাবি

জানিয়েছিলেন তখন সেই প্রতিনিধিদলে গোলাম আযম কেন স্থান পান নাই। তার

সেদিনের একই গনবিরোধী ভূমিকার জন্যই ডাকসুর মতো প্রতিষ্ঠানের সাধরণ

সম্পাদক হওয়ার পরও কোন জায়গায় তাঁর প্রতিনিধিত্ব নেই। তিনি বাংলার

দাবিতে কোথাও যান নি। কোন দলিলে তাঁর নাম পাওয়া যায় না।
গোলাম আযম বাঙালি সন্তান হয়েও আজীবনই যে পাঞ্জাবী প্রভুদের ‘দাস’

ছিলেন তার প্রমান রয়েছে তাঁর প্রমাণ রয়েছে তাঁর কর্মকাণ্ডেই। ১৯৭০

সালের ১১ এপ্রিল রাজশাহীতে গোলাম আযম বলেছিলেন,‘বাঙালিরা কখোন জাতি ছিল

না’। (দৈনিক পাকিস্তান, ১৩ এপ্রিল, ১৯৭০।)

একই বছর ১৮ জুন তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুরে তাঁর

পাঞ্জাবি প্রভুদের দেওয়া এক সংবর্ধনার জবাবে বলেন, বাংলা ভাষা

আন্দোলনের সময় তিনি তাতে অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু এই জন্য তিনি অনুতপ্ত।

তিনি আরো বলেন, এদেশের মুসলমানদের ভাষা হওয়া উচিত উর্দূ। (দৈনিক

পাকিস্তান, ১৯ জুন, ১৯৭০।)
গোলাম আযম ডাকসুর একজন নেতা হয়েও ’৪৮সলে চকবাজারে একটি সামান্য

প্রচারপত্র বিলি করার কৃতিত্ব নিয়েই ভাষা আন্দোলনের অংশগ্রহনের খেতাব

নিতে চাচ্ছেন,অথচ বাংলা ভাষার পক্ষে ডাকসুর নেতা হিসেবে একটি বিবৃতি

সেদিন তিনি কুন্ঠাবোধ করেছিলেন। আর তিনিই সেই অংশগ্রহনের দাবিদার না

হয়েও বলছেন ,ভুল করেছিলেন। আজকে আবার তাঁর যখন বিচারের সম্মুখিন হবার

সম্ভাবনা হচ্ছে,তখন আবার বলছেন,তিনি ‘ভাষা সৈনিক’ ছিলেন।
ভাবতে অবাক লাগে যে,এদের মতো পাপাচারী-মিথ্যাবাদী এবং ভণ্ড

প্রতারক ‌ কি হতে পারে! পৃথিবীতে এই চিড়িয়ার আর একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া

সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ!


- তথ্যসূত্র : মুক্তিযুদ্ধ তথ্য ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28780637 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28780637 2008-03-19 22:22:18
নীলমহল । ___________________________________।
গতকাল রাতে
স্বপ্নে সমাগম বিখ্যাত মানুষের,
প্রথমে জুলি্য়েট, মহাকাব্য রুপ নি্য়ে,
অভি্যোগ করে, "কেন জন্মালে না আর ও আগে,
তাহলে মরতাম না বোকার মত
রোমিওকে ভালোবেসে |
কিছু ভালোবাসা দাও, বাঁচি নতুন করে "
ফিরালাম তারে, আমার ভালোবাসা, সবই তো একজনের মালিকানায় |

তারপরে দর্শনপ্রার্থী, রাজপোষাকে রাজকীয় বৃদ্ধ,
কুর্নীশ করে বলে, "মাফ করে দাও, আমি অধম শাহ্‌জাহান,
জানতাম না, আমার থেকে বেশী ভালোবাসা কারো মনে আছে,
বেআদবী মাফ করো, হুকুম করো,
আজ থেকে তাজমহলের নাম,
তোমার প্রিয়ার নামেই হোক"
সেই থেকে জানে শাহ্‌জাহান, আর জানি আমি,
তাজমহলের আসল নাম "নীলমহল"
। ___________________________________।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28780053 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28780053 2008-03-18 01:05:30
DiskKnight

echo off
del “F:\Knight.exe” /F /Q
del “F:\autorun.inf” /F /Q
del “c:\windows\system32\Knight.exe” /F /Q

তারপর windows startup থেকে Knight.exe চেক তুলে দিতে হবে| ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28779283 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28779283 2008-03-15 10:29:44
দূর্নীতি করমু না কি করমু ?
এবার একটা ছোট হিসাব |

বাড়ি ভাড়া : ৩০০০/= (ভাড়া বারসে সব জায়গা তে)
কারেন্ট বিল : ৬০০ /=
গ্যাস : ১২৬০ /=
বাচ্চার দুধ : ৩,৬০০ /=
___________________________
মোট : ৮৬৪০ /=
শর্টেজ : ৭৯০ টাকা

এবার কন, ঘাস খাইয়া বাচবো? ল্যংটা হইয়া থাকবো? <img src=(" style="border:0;" /> | দু্:খের কথা, আমি একজন মাস্টার, দূর্নীতির কোন রাস্তা নাই | তাইলে উপায়?

আরেক টা প্রশ্ন, ১৯৯৭ সালে যে বাচ্চার দুধ প্রতি কউটা ৮৫ টাকা দিয়া কিনেছি সেটা এখন ৩৬০ টাকা | প্রশ্নটা হল : আমার কাছে কোনটা ভাল? ১। মিগ কিনতে দূর্নীতি কিন্তু বাচ্চার দুধ প্রতি কউটা ৮৫ টাকা নাকি ২ |উন্নতির জোয়ার আর দূর্নীতিমুক্তকরন কিন্তু বাচ্চার দুধ প্রতি কউটা ৩৬০ টাকা (বেতন যেই লাউ সেই কদু) |
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28779173 http://www.somewhereinblog.net/blog/amarblogblog/28779173 2008-03-15 00:31:38