স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সন্তোষদা বললেন, এমনিতে ঠিকই আছে, কিন্তু প্রাইভেসি বলতে আর কিছু রইলো না।
২। এটাও সন্তোষ দা কে নিয়ে। একদিন তিনি সংবাদ অফিসে বসে কাজ করছেন। ফোন করলেন সম্পাদক আহমেদুল কবির। বললেন- সন্তোষ, আমি কবির বলছি।
একটা অন্যমনস্ক ছিলেন হয়তো সন্তোষ দা, তিনি মনে করলেন তার এক বন্ধু আছে নাম কবির, সে মনে হয় ফোন করেছেন। সন্তোষ দা বন্ধু কবির মনে করে বলে ফেললেন-কিরে কবির কেমুন আছিস।
ও পাস থেকে আহমেদুল কবির-সন্তোষ তুমি কি দিনে বেলায়ই খেয়ে এসেছো?
৩। বশির ভাই সংবাদের অত্যন্ত পুরোনো ক্রাইম রিপোর্টার। একদিন তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। আর কাউকে না পেয়ে বার্তা সম্পাদক বশির ভাইকেই বললেন বৃষ্টি নিয়ে একটা রিপোর্ট লিখে দিতে। বশির ভাই ক্রাইম রিপোর্টার মানুষ, থানার সঙ্গেই তার নিত্য যোগাযোগ। রিপোর্ট লিখতে হবে তাই কি আর করা। ফোন করলেন থানায়, ওসির কাছে জানতে চাইলেন বৃষ্টি হচ্ছে কি না।
ওসি বললো-আরে ভাই জানালা দিয়ে তাকালেই তো দেখা যাচ্ছে যে বৃষ্টি হচ্ছে।
বশির ভাই নিজেও কিন্তু বৃষ্টি দেখছেন। তারপরেও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবার বললেন- আপনি আমারে কনফার্ম করেন যে বৃষ্টি হচ্ছে।
৪। সংবাদের আরেকটা বিখ্যাত গল্প বলি। স্বাধনিতা যুদ্ধের পর পর। সংবাদের এক বড় সাংবাদিক একটা রিপোর্ট লিখলেন, বিষয় ছিলো যুদ্ধে কতগুলো গরু মারা গেছে। রিপোর্টটি পড়ে বঙ্গবন্ধু মন্তব্য করেছিলেন যে, একটা গরু তো দেখি এখনো বাইচা আছে। তারপর থেকে ঔ রিপোর্টারের নাম হয়ে গেলো গরু-------(নাম আর বললাম না)।
৫। এরশাদের সামরিক শাসন। দীর্ঘদিন রাজনীতি বন্ধ থাকার পর ঘরোয়া রাজনীতি মাত্রই চালু করা হয়েছে। চালুর পর সর্বদলীয় রাজণীতিবিদদের প্রথম বৈঠকটি হয়েছিল একজন বড় মহিলা কবির বাসায়। পরেরদিন ঐ বৈঠকের ছবি সহ সংবাদ তৈরি করা হলো ইত্তেফাকের জন্য। তখন হ্যান্ড কম্পোজ ছিল। ছবিটা ছিল এই রকম, বেগম---------- চা দিয়ে আপ্যায়ন করছেন রাজনীতিবিদদের। কিন্তু ছাপার ভুলে চা এর আ কার বাদ দিয়ে হয়ে গেল চ উ কার। ফলে বুঝতেই পারছেন উচ্চারণ কি হবে।
৬। এরশাদের সময়। এরশাদের মন্ত্রী তখন ইত্তেফাকের এক মালিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। আরেক মালিক ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন। তখন ছিল এরশাদের পথকলি ট্রাস্ট। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এই ট্রাস্টে ইত্তেফাকের পক্ষে সম্ভবত ৩০ লাখ টাকা দান করলেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের ঝগড়া। মুখোমুখি ঝগড়া। ঝগড়া করতে করতে তারা চলে আসলেন নিউজ রুমে। বার্তা সম্পাদক তখন সারোয়ার ভাই। নিউজ রুমে সব সাংবাদিক তখন উপস্থিত। সবার সামনেই তুমুল ঝগড়া। গালাগালিও চলছে। এক পর্যায়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু খারাপ একটা গালি দেওয়ায় ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন চিৎকার করে বলে উঠলেন-তুই আমারে চাকর বাকরদের সামনে গালি দিলি। ইত্তেফাকে এই গল্প এখনও শোনা যায়।
৭। প্রেস কাবের আরেকটি চালু গল্প। নির্মল সেন ও ফয়েজ আহমেদ-দুজনের কেউই বিয়ে করেন নি। একদিন প্রেস কাবে নির্মল সেন মধ্যরাতের অশ্বারোহী ফয়েজ আহমেদকে বললেন, -আয়ে ফয়েজ আল্লাহ তোরে একটা জিনিষ দিলো তাই খালি মুইত্যাই শেষ করলি, আর কোনো কামে লাগাইলি না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

