somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি: হিচককের রহস্য জগতে স্বাগতম

০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাস লিখতে হলে স্যার আলফ্রেড জোসেফ হিচককের নামটি চলে আসবে সবার আগে। খুব বেশি পুরস্কার তার ভাগ্যে জোটেনি, সমালোচকরাও শুরুতে তার প্রতি সদয় ছিলেন না। কিন্তু হিচকক এখন সবারই প্রিয় একজন পরিচালক।
রহস্য তাঁর তৈরি চলচ্চিত্রগুলোর মূল সুর। বলা যায় রহস্য সিনেমা জগতের সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিচালক তিনি। বহু পরিচালক এখনো তাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করছেন। রোমান পোলানস্কির মতো পরিচালকও ফ্রান্টিক নামের একটি চলচ্চিত্র তৈরি করে হিচকককে অনুসরণের চেষ্টা করেছিলেন। তার অনুরসরণ করার তালিকায় আছে ব্রায়ান ডি পালমার মতো পরিচালকও।
হিচকক জন্মে§ছিলেন লন্ডনে, ১৮৯৯ সালের ১৩ আগস্ট। মারা যান ১৯৮০ সালের ২৯ এপ্রিল। ১৯২২ সালে তিনি লন্ডনেই চলচ্চিত্র পরিচালনা শুরু করেছিলেন। ১৯৩৯ থেকে হিচকক হলিউডমুখী হন এবং ১৯৫৬ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব নেন। তার চলচ্চিত্র জীবন ছিল ৬ দশকের। নির্বাক যুগ থেকেই তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন আর সবাক যুগে হয়ে উঠেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।
সেরা চলচ্চিত্রের তালিকা করতে হলে হিচকককে বাদ দিয়ে কোনো তালিকাই করা সম্ভব না। সম্প্রতি আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিউট সর্বকালের সেরা ১০০ ছবির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে স্থান পেয়েছে হিচককের চারটি ছবি। এর আগে টাইম ম্যাগাজিন, সাইট অ্যান্ড সাউন্ড কিংবা চ্যানেল ফোর সর্বকালের সেরা ছবির যে তালিকা করেছিল তাতেও হিচককের ছিল অনিবার্য উপস্থিতি।
হিচকক ৫৯টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে তার নির্বাক ছবির সংখ্যা ১১টি। ১৬টি ছবি তৈরি করেছেন লন্ডনে। বাকিগুলো পরিচালনা করেন হলিউডে। তার ভালছবিগুলো হলিউডেই তৈরি। হিচকক সমালোচকদের দৃষ্টি কাড়েন ১৯৫০ দশকে এসে। ফ্রান্সের নিউ ওয়েভ সমালোচকরা প্রথমে হিচককের কাজ নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। তারপরেই শুরু হয় হিচকক বন্দনা।
কিন্তু তার সেরা পাঁচটি ছবি কি কি? উত্তর দেওয়াটা সহজ নয়। তারপরেও তার যে পাঁচটি ছবি বিভিন্ন তালিকায় বার বার উঠে আসে সেগুলোর কথা বলা যেতে পারে।
১। সাইকো- এক মানসিক বিকারগ্রস্ত খুনির গল্প। সেরা ছবির যে কোনো তালিকায় এটি থাকবেই। ১৯৬০ সালে মুক্তি পায় সাইকো। এন্থনি পারকিনস ও জেনেট লেই ছবির মূল অভিনেতা-অভিনেত্রী। সাইকোর বিখ্যাত গোসলের দৃশ্য এখনও চলচ্চিত্র ছাত্রদের পাঠ্য বিষয়। কিভারে এর দৃশ্যায়ন হয়েছিল, দৃশ্যটি কিভাবে এতোটা আতঙ্কজনক ভাবে তৈরি হয়েছিল তা নিয়ে এখনো বিতর্ক হয়। হিচককের ছেলে বেলা সুখের ছিল না। সামান্য অপরাধে তার মা তাকে নানা ধরণের শাস্তি দিতেন। মা-ছেলের এই সম্পর্ক অনেকটাই জুড়ে ছিল সাইকোতে।
২। ভার্টিগো- ১৯৫৮ সালে মুক্তি পায়। একধরণের মাথা ঝিম ঝিম করা রোগ। ছবির নায়ক জেমস স্টুয়ার্ট উচুঁতে উঠলে এই রোগ পেয়ে বসতো। ছবিতে আরো আছেন কিম নোভাক। ছবিটি প্রথমে সমালোচক বা দর্শকদের আনুকূল্য পায়নি। কিন্তু এখন এটিকে ধরা হয় সর্বকালের সেরা ছবির একটি হিসাবে। ১৯৮৩ সালে ছবিটিকে পুনরায় মুক্তি দেওয়া হলে সারা বিশ্বে হৈ চৈ পড়ে গিয়েছিল।
৩। রিয়ার উইন্ডো-জেমস স্টুয়ার্ট ও গ্রেস কেলি এই ছবির মূল দুই চরিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রী। ১৯৫৪ সালে মুক্তি পায়। একজন ফটো সাংবাদিক পা ভেঙ্গে ঘরে বসে থাকেন আর ক্যামেরা দিয়ে চারদিকের ছবি তোলা বা গোয়েন্দাগিরি করার চেষ্টা করেন। এভাবেই এক খুনের আলামত পান জেমস স্টুয়ার্ট। বলা হয় রিয়ার উইন্ডো হিচককের সবচেয়ে থ্রিলিং মুভি। ছবিটির জন্য সেরা চরিচালকের মনোনয়ন পেয়েছিলেন হিচকক।
৪। নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট- হিচককের ছবির বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার ছবির নায়ক বা নায়িকারা সাধারণ মানুষ হিসাবেই থাকেন, কিন্তু তারাই পড়ে যার ভীতি ও রহস্যের মধ্যে। যেমন ১৯৫৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি। ক্যারি গ্রান্ট ছবির মূল অভিনেতা। ভুলে আরেক দেশের সিক্রেট এজেন্টরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। তারপরেই ঘটতে থাকে একের পর এক রহস্যজনক ঘটনা।
৫। রেবেকা-হলিউডে হিচককের প্রথম ছবি। ১৯৪০ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি সেরা ছবির অস্কার জিতে নেয়। এটিও একটি মনস্তাত্বিক থ্রিলার। উপন্যাস থেকে নেওয়া। স্যার লরেন্স অলিভিয়ের ও জন ফনটেইন মূল চরিত্রে ছিলেন।
হিচককের প্রতিটি ছবিই দেখা যায়। এই পাঁচটির বাইরেও তার লাইফবোট, স্পেলবাউন্ড, নটোরিয়াস, রোপ, স্ট্রেনজারস অন ও ট্রেইন, ডায়াল এম ফর মার্ডার, দ্য ম্যান হু নিউ টু মাচ, দি বার্ডস, টন কার্টিন কিংবা ফ্রেনজি-প্রতিটিই ঢুকতে পারে সে কারোরই প্রিয় ছবির তালিকায়। সবশেষে বলে রাখি, হিচকক প্রায় ছবিতেই নিজেকে রাখতেন। হয়তো দেখা যাবে রাস্তা দিয়ে হাটছেন হিচকক কিংবা ট্রেন থেকে নামছেন। তার ছবির এটিও একটা বড় আকর্ষন।

আজ প্রথম আলোতে প্রকাশিত

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×