somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি: দ্য পারস্যুট অফ হ্যাপিনেস-সত্য ঘটনা নিয়ে ছবি। অসাধারণ!!!

১২ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১। দ্য পারস্যুট অফ হ্যাপিনেস নামের মুভিটা যে দেখা অবশ্যই উচিত তা আমাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জন বলেছেন। আমরাবন্ধু গ্রুপের রিয়াদ ভাই বললেন সর্বশেষ। ছবি কেনা আমার সবচেয়ে প্রিয় সখ। কিনে ফেললাম।
ক্রিস গার্ডনারের জীবন সংগ্রামের ছবি। ক্রিস (উইল স্মিথ) ও তার ছেলে ক্রিস্টোফারের (জাডেন স্মিথ) জীবনের কাহিনী এই ছবি। ক্রিস ও তার বান্ধবি জমানো সব অর্থ দিয়ে চিকিৎসা সামগ্রী-এক ধরনের স্কানার বিক্রি করে। দুই হাতে ভারি দুই স্কানার ফেরিওয়ালার মতো বিক্রি করে ক্রিস। সহজে বিক্রি হয় না। বাড়ি ভাড়া বাকি, গাড়ি ক্রমাগত পার্কিং টিকেট খেতে খেতে এক পর্যায়ে গাড়িটাই হাতছাড়া হয়, ডে কেয়ারে রাখা ছেলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে হিমসিম ক্রিস। স্কানারও চুরি হয় ক্রিসের। বান্ধবিও এক সময় ক্রিসকে ছেড়ে চলে যায় নিউইয়র্কে।
সেই ক্রিস একদিন এক ব্রোকার হাউজের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় একদল সুখী মানুষের চেহারা দেখে তারও ইচ্ছা হয় এখানে কাজ করতে। কিন্তু ক্রিসের সেই শিক্ষাও নেই, নেই কোনো পরিচিত। তারপরেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। কিভাবে সে ইন্টার্নির সুযোগ পায় সেও এক বিশাল গল্প। বিনা বেতনে ইন্টর্নি, ভাল করলে তারপরেই চাকরি। ইন্টার্নির ইন্টারভ্যুর আগের দিন পার্কিং ফি ক্রমাগতভাবে না দেওয়ায় জেলে যেতে হয় ক্রিসকে। পরেরদিন সাড়ে নটায় ছাড়া পেয়ে খালি পায়ে ক্রিস যায় ইন্টাভ্যু দিতে।
ইন্টার্নির কাশ শেষ করেই প্রতিদিন ক্রিস বের হয় স্কানার বিক্রি করতে। একদিন অর্থের অভাবে বাড়িও ছাড়তে হয় ক্রিসকে। ক্রিস ও তার ছেলে হয়ে পড়ে হোমলেস। শুরু হয় রাতের জন্য আশ্রয় খোঁজা। দিনে ছেলেকে ডে-কেয়ারে রেখে, স্যুটকেস একটা হাতে নিয়ে ক্রিস যায় ইন্টার্ণি করতে। রাতে খুঁজে ফেরে থাকার জায়গা। অনেক সংস্থা একরাতের জন্য থাকার জায়গা দেয়। মার্কিন হোমলেসরা লাইন ধরে সেই জায়গা পেতে চেষ্টা করে। লাইনে দাঁড়ায় ক্রিস ও ক্রিস্টোফার। মাঝে মধ্যে চাতুরির আশ্রয় নেয়। একদিন তো তারা স্টেশনের বাথরুমে সারা রাত কাটায়। ছবিটা না দেখলে এসব বুঝিয়ে লেখাটা কষ্টকর।
একদিন শেষ হয় ইন্টার্ণি, ক্রিসকে ডেকে যখন বলা হয় চাকরিটা সেই পাচ্ছে সেসময়ে উইল স্মিথের অভিনয় চেয়ে চেয়ে দেখার মতো। এক দৌড়ে চলে যায় ছেলের কাছে, ডে-কেয়ার থেকে ছেলেকে নিয়ে বের হয় রাস্তায়।
ছবি শেষ, শেষে লেখা পড়ি আমি এই ক্রিস এখন শিকাগোর গার্ডনার রিচ অ্যান্ড কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এই ব্রোকারেজ ফার্মটির সামান্য শেয়ার ২০০৬ সালে ক্রিস বিক্রি করেছে ১ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাত যে ছবিটা দেখলাম তা একটি সত্যি ঘটনা।
২। ক্রিস গার্ডনারের জš§ ১৯৫৪ সালে। ২০০২ সালে তার এই জীবন সংগ্রাম ও সাফল্য নিয়ে তিনি একটা সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন। মানুষের আগ্রহ দেখে তিনি লিখে ফেলেন আÍজীবনী দ্য পারস্যুট অব হ্যাপিনেস। সেই বই নিয়েই তৈরি ছবি, যা মুক্তি পায় ২০০৬ এর ডিসেম্বরে। ছবির প্রযোজকও তিনি। প্রথমে তিনি উইল স্মিথতে নিতে চাননি, পরে মেয়ের সুপারিশে নেন। অসাধারণ অভিনয় করেন উইল স্মিথ, অস্কারে মনোনয়নও পেয়েছিলেন। ছেলে ক্রিস্টোফারের ভূমিকায় অভিনয় করে উইলিরই ছেলে জ্যানেট স্মিথ। অসাধারণ অভিনয়। শেষ দৃশ্যে যখন উইল ও তার ছেলে হেঁটে যায়, তার উল্টো দিক দিয়ে যাচ্ছিলেন প্রকৃত ক্রিস। ছবির ক্রিস (উইল) একবার পেছন ফিরে দেখে আবার হাঁটতে থাকেন।
ক্রিস এখন একজন বড় দানবিরও। হোমলেসদের যারা সহায়তা দেয় তাদের সাহায্য করেন ক্রিস। যারা তাকে আশ্রয় দিয়েছিল তাদের বড় পৃষ্ঠপোষক এখন ক্রিস।
ছবি ও সত্যির মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। ছবিতে দেখায় ক্রিস বিনা বেতনে ইন্টার্নি করে, আসলে ১ হাজার ডলার পেতো ক্রিস। ক্রিস একদিন নয়, জেলে ছিল ১০ দিন। ছবিতে দেখায় হোমলেস হিসাবে তারা ছিল অল্প কয়েকটা দিন, আসলে ছিল কয়েক বছর। কোনো কোনো দিন ক্রিস অফিসে ডেস্কের নিচেও রাত কাটাতো।
যারা দেখেননি, তারা জানেননা কি দেখেননি। আমি দেখেছি, আবার দেখবো।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৩
৩১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×