আমার প্রিয় পোস্ট

রাজনীতি ও অর্থনীতি এই দুই সাপ পরস্পর পরস্পরকে লেজের দিক থেকে অনবরত খেয়ে যাচ্ছে

একজন পাকিস্তানির দৃষ্টিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ-২: রাজাকার-আলবদর বাহিনীর নানা কাহিনী

২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৫

শেয়ারঃ
0 0 0

বইটি অনেকেই পড়েছেন। সিদ্দিক সালিকের উইটনেস টু সারেন্ডার। সিদ্দিক সালিক একজন মেজর ছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলেন, ১৬ ডিসেম্বর আÍসমর্পনের পর যুদ্ধবন্দী হিসেবে ভারত যান। মুক্তি পেয়ে এই বইটি লিখেছিলেন। এই বইটি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। একজন পাকিস্তানীর লেখা এই বইটি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বই হিসাবে গন্য। বলে রাখি সিদ্দিক সালিক বিগ্রেডিয়ার থাকা অবস্থায় ১৯৮৮ সালের ১৭ আগস্ট বিমান দূর্ঘটনায় মারা যান, প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের সফরসঙ্গী ছিলেন তিনি।
বলা যায় বইটি একজন পাকিস্তানীর দৃষ্টি দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে দেখা। অনেকেই বলে থাকেন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা চাননি বা স্বেচ্ছায় ধরা দিয়ে দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন ইত্যাদি। কিংবা জামায়াতের ভূমিকা নিয়েও অনেকে অনেক কিছু বলেন। বলেন আল বদর-রাজাকার নিয়ে অনেক কথা। অনেক প্রশ্নের উত্তরই পাওয়া যাবে বইটি থেকে।


মেজর সিদ্দিক সালিক লিখেছেন, বেশিরভাগ বাঙ্গালিই বিশ্বাস করতো যে মুজিব বের হয়ে আসবে এবং দেশ স্বাধীন হবে। এর বিপরীতে কিছু ডানপন্থী পাকিস্তানিদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছিল। যেমন, কাউন্সিল মুসলীম লীগের খাজা খায়রুদ্দিন, কনভেনশন মুসলিম লীগের ফজলুল কাদের চৌধুরী, কাইয়ুম মুসলীম লীদের খান সবুর এ খান, জামাতে ইসলামির অধ্যাপক গোলাম আজম এবং নিজাম-ই-ইসলামি পার্টির মৌলবী ফরিদ আহমেদ।
সিদ্দিক সালিকের ভাষায়, এরা সবাই ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে পরাজিত হয়েছিল এবং বাঙ্গালিদের কাছে তাদের গ্রহনযোগ্যতা ছিল খুবই কম। মানুষ সাধারণ ভাবে মনে করতো এরা সবাই অচল মুদ্রা যাদের পাক আর্মি নতুন করে চালাতে চেষ্টা করছে। পাকি আর্মি তাদের গুরুত্ব দিত এবং তাদের পরামর্শ শুনতো।
বইটিতে বলা হয়েছে, এসমস্ত দেশপ্রেমিক পাকিস্তানিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় অভিযানও চালানো হতো। কেউ কেউ পাকিস্তানের অখন্ডতা রাখতেই সঞায়তা দিয়েছে আবার কেউ কেউ নিজেদের শত্র“ হিসাবে আওয়ামী পন্থীদের ধংস করতে পাক আর্মিদের ব্যবহার করেছে। সিদ্দিক সালিক উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, একজন ডানপন্থী রাজনীতিবিদ এটি কিশোর ছেলেকে নিয়ে এসছিল মার্শাল ল হেডকোয়ার্টারে। সে জানায় যে তার কাছে বিদ্রোহীদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য আছে। সিদ্দিক সালিকই তাকে নিয়ে যায় একজন নির্দিষ্ট আর্মি অফিসারের কাছে। সেখানে সেই রাজনীতিবিদ জানায় যে বুড়িগঙ্গা পার হয়ে কেরানিগঞ্জে মুক্তি বাহিনী আশ্রয় নিয়ে আছে এবং তারা সেখান থেকে পালিয়ে এসেছে খবর দিতে। সাথে সাথে বিশাল বাহিনী নিয়ে পাক আর্মি অভিযান চালায় এবং সবাইকে গুলি করে মারা হয়। অভিযান শেষে দেখা গেল ওখানো কোনো বিদ্রোহীই ছিল না, ছিল কেবল নারী ও শিশু। সিদ্দিক সালিক এই ঘটনার জন্য নিজেকে দায়ী করেছেন। (অথচ স্বাধীনতা বিরোধীরা বলে তখন নাকি কোনো স্বাধীনতাবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধী ছিল না!)।
সিদ্দিক সালিক আরো লিখেছেন তাদের পক্ষে সে সময় কোনো গন সমর্থন ছিল না। ইসলাম ও পাকিস্তানের নাম নিয়ে কিছু লোক জীবনের ঝুকি নিয়ে তাদের সমর্থন দিয়েছিল। এই দেশপ্রেমিকদের (তার ভাষায়) ছিল মূলত দুই ভাগ। এর মধ্যে বয়স্করা ছিল শান্তি কমিটির সদস্য এবং অল্প বয়স্করা রাজাকার। এরা পাক আর্মি ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে সংযোগ হিসাবে কাজ করতো। রাজাকারদের সশস্ত্র আকার দেওয়া হচ্ছিল।
তবে সেপ্টেম্বরে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে অভিযোগ আসে যে, পাক আর্মি মূলত জামায়াত ইসলামীদেরই পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এই অভিযোগ পাওয়ার পর সিদ্দিক সালিক লিখেছেন যে, লে. জে. নিয়াজি তাকে একদিন ডাকলেন। ডেকে বললেন যে, এখন থেকে রাজাকারদের আল বদর ও আল শামস বলেও ডাকবে। যাতে বুঝা না যায় যে সবাই একটি দলেরই সদস্য। তিনি লিখেছেন এই আল বদর ও আল শামস তাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছিল।

কিছু বাড়তি তথ্য-জামাতিরা বলার চেষ্টা করে যে আল বদর তাদের সৃষ্টি না। আসুন দেখি এর ইতিহাস। আল বদর প্রথম সৃষ্টি হয়েছিল জামালপুর শহরে। প্রতিষ্ঠাতা ছিল মোমেনশাহী জেলার ইসলামি ছাত্র সংঘের (এরাই পরে ছাত্র শিবির) সভাপতি আশরাফ হোসাইনের নেতৃত্বে। পরে জামায়াতিরা এর নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়ে নেয়। আল বদর কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের সারা পাকিস্তান প্রধান ছিল মতিউর রহমান নিজামী, পুর্ব পাকিস্তান প্রধান ছিল আলী আহসান মুজাহিদ এবং ৩ নম্বর সদস্য ছিল মীর কাশেম আলী।

 

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:২৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৭
বিরক্তিকর বলেছেন: জামাতিরা নাকি রাজাকার আছিলো না? সন্ধ্যাবাত্তি তো তাই কইলো
২. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৭
সাইমুম বলেছেন: ৫। এবার পড়া শুরু করলাম।
৭. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:২১
নাভদ বলেছেন: একটা টপ-রেটেড পোস্টের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে !
৮. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:২১
নাভদ বলেছেন: একটা টপ-রেটেড পোস্টের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে !
৯. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:২৪
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: গুউউউড হইছে...
বিরক্তিকর এর প্রশ্ন কি সঠিক?
১০. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:৩২
এস্কিমো বলেছেন: আল বদর কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের সারা পাকিস্তান প্রধান ছিল মতিউর রহমান নিজামী, পুর্ব পাকিস্তান প্রধান ছিল আলী আহসান মুজাহিদ এবং ৩ নম্বর সদস্য ছিল মীর কাশেম আলী।


- কিন্তু আজ খবরে দেখলাম, নিজামী বলছে..........
............৫
১১. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৩
মদন বলেছেন: তথ্যবহুল সুন্দর পোষ্ট
১৩. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৫
সর্বদাবেলায়েত বলেছেন: রেটিং দিতে লগ-ইন করলাম। সবাই রেটিং দেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং ইতিহাসের ওপর মাসুম ভাইয়ের এই কাজগুলা এক সময় বিশ্ব নন্দিত হবে। এই পোস্ট টপ রেটেড হলে সেটা সাহোইনের জন্য গৌরবময় একটা ঘটনা হবে। আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ বোধ করছি মাসুম ভাই। ৫।
১৪. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪১
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: প্রশ্নোত্তর- কিসের ঝড়?
১৬. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৪
অনুনাদ বলেছেন: এই পোস্ট এ ৫ দিতে ই হবে।
১৭. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:৫৪
প্রশ্নোত্তর বলেছেন: বাধভাঙ্গার ঝড়, শত্রু চেনার ঝড়... @শওকত হোসেন মাসুম
১৯. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:০০
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: জামাতিরা নাকি রাজাকার আছিলো না? সন্ধ্যাবাত্তি তো তাই কইলো
২০. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৪৪
সৈয়দ দেলগীর বলেছেন: মাসুম ভাই... ভালো লাগলো পড়ে। থ্যাঙ্কস।
২১. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৪৭
প্রশ্নোত্তর বলেছেন: সন্ধ্যা যখন রাত হবে তখন হুশ ফিরবে ... @শওকত হোসেন
২২. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:০৮
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: ধন্যবাদ দেলগীর ভাইয়া
২৪. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৩০
সংস্কার বলেছেন: জামাত-শিবির, ওয়ার্ল্ড ব্যান্ক-আইএমএফ নিপাত যাক ।
~
২৫. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৫৫
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: সংস্কার-জামাত-শিবিরের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আইএমএফ মিলাইলেন কেন?
২৬. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৪
সংস্কার বলেছেন: এরা সবাই "দেশ-বন্ধু" বইলা ।
২৭. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:২৮
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: তবুও এক কইরেন না. জামাতের সঙ্গে কারোই তুলনা হয় না
২৮. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:৩৪
কেএসআমীন বলেছেন: পড়লাম। ভাল লাগল। ৫ দিলাম। এই মীর কাশেমরা এখন এদেশে মিডিয়াতে হাত দিছে। ধন্যবাদ মাসুম ভাই। আমার ব্লগে "ট্রাফিক আইনের খসড়া" বিষয়ক একটি পোস্ট আছে। মতামত দিলে খুশী হবো।
২৯. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:০৭
কামভাই বলেছেন: মীর কাশেমের দিগন্ত টিভিতে শুরুতেই ঝামেলা হইছে। আল্লার বিচার আছে না..
৩০. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৮
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: দিগন্ত টিভিতে আবার কি শুরু হইলো?
৩১. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৫
আমি সাগর বলেছেন: দিগন্ত টিভিতে আবার কি শুরু হইলো?
৩২. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৫০
সুমি বলেছেন: ভাইয়া ---- ধন্যবাদ
বইটা আমি পড়েছি---
৩৫. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৪:৫৫
বিহংগ বলেছেন: শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ,
আপনি আমার "একটি ফুল খুনের গল্প" টি পড়ে দেখবেন,প্লিজ।
৩৮. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫১
লাল মিয়া বলেছেন: "জামাতিরা নাকি রাজাকার আছিলো না? সন্ধ্যাবাত্তি তো তাই কইল"
জামাত রাজাকার ছিল না আল বদর ছিল
৪০. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:১৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: বইটার কি বাংলা অনুবাদ আছে? থাকলে অনুগ্রহ করে কোথায় পাব জানাবেন কি?

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৫৮৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আকাল-তবু স্বপ্ন থাকে
বিরোধ-তবু স্বপ্ন থাকে
ভাঙ্গন-তবু স্বপ্ন থাকে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ