আইসিজি গত ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ নিয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। আমার মতে বাংলাদেশ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এটিই সবচেয়ে ভাল রিপোর্ট। মতা নেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয় রয়েছে এতে। আছে অনেক গোপনীয় বিষয় নিয়ে লেখা।
রাজনীতি নিয়ে যারা খোঁজ খবর রাখেন তারা এটি সংগ্রহ করে পড়তে পারেন। রেফারেন্স হিসেবে এই রিপোর্ট আপাতত তুলনাহীন।
অনেক কথা আছে রিপোর্টে। কিছু কথা আমি দিলাম। আগ্রহ থাকলে রিপোর্টটি ডাউনলোড করে পড়তে পারেন। রিপোর্টটির নাম রেস্টোরিং ডেমোক্রেসী ইন বাংলাদেশ
১। প্রধান দুই দলের উপর অনেক ঝড় ঝাপটা গেলেও জামায়াতি ইসলামিকে স্পর্শ করা হয়নি। এর ফরে মোল্লা-মিলিটারি নেক্সাস সন্দেহ আরও জোরদার হয়েছে।
২। ২। ১/১১ ছিল আদতে একটি শান্ত অভ্যুত্থান
৩। সামরিক বাহিনীকে আনার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ, আমেরিকান, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার দূতাবাস সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল, জাতিসংঘ প্রধান কার্যালয় থেকে সমর্থন ছিল-একজন সিনিয়র সামরিক বাহিনীর সদস্যের সক্ষাৎকার
৪। তত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতি দমনসহ নানা ধরণের সংস্কার কর্মসূচী হাতে নিলেও রিয়েল এজেন্ডা ছিল অন্যরকম। যেমন, বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর প্রভাব বাড়ানো ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলার মাধ্যমে রাজনৈতিক দল ও প্রধান নেতা-নেত্রীদের দুর্বল করে তোলা।
৫। মিলিটারি রুলের প্রধান চালিকা শক্তি ডিজিএফআই। নীতি তৈরি ও সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে তারাই মূল প্রতিষ্ঠান।
৬। ‘আর্মি বলে দেয় আমরা কি লিখবো’-সাাৎকারে চট্টগ্রামের একজন সাংবাদিক
৭। ডিজিএফআইর চেষ্টা সত্বেও আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করা যায়নি এবং খালেদা জিয়াকেও বিএনপি থেকে আলাদা সম্ভব হয়নি।
৮। প্রধান দুই দল ধারণার চেয়েও অনেক বেশি প্রতিরোধ মতা দেখিয়েছে।
৯। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামায়াতের প্রধান নেতারা দীর্ঘমেয়াদে বিএনপি জোটের জন্য আসলে একটি দায়
১০। সংস্কার কর্মসূচী আর্মির জন্য দ্রুত সাফল্যের পরিবর্তে এখন দায় হিসেবে দেখা দিয়েছে।
১১। তত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে হানিমুন সময় আর নেই।
১২। তত্বাবধায়ক সরকারের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা ঢাকতে পারেনি আর্মি
১৩। মাইনাস-টু তত্ব পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে
১৪। নির্বাচনের আগে যদি রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যর্থ হয়, তাহলে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
১৫। দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পর্যাপ্ত প্রমাণ যদি আনা না যায়, তাহলে দুই নেত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বাড়তে পারে। আবার যদি একজনের সাজা হয়, তাহলেও এর পরিণাম কোনো দিক থেকেই ভালো হবে না। বিচার ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
১৬। মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত হয়ে পড়েছে ভবিষ্যতে তাদের কোনো ভাবেই দায়মুক্তি দেওয়া যাবে না।
১৭। বাংলাদেশে সামরিক শাসন কখনোই দুর্নীতি কমাতে কার্যকর হতে পারেনি। বরং এই শাসন দুর্নীতি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান যেমন, বিচার ব্যবস্থা, বেসামরিক প্রশাসন ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে দূর্বল করে ফেলে।
১৮। সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত হলে তা ঐতিহাসিকভাবে ইসলামী জঙ্গিদের জন্য সহায়ক হয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে দূর্বল করার কারণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়, সেখানে ঢুকে পড়ে এসব চরমপন্থীরা। অতীতে জিয়াউর রহমান ও এরশাদকেও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিকদলগুলোর সমর্থন নিতে দেখা গেছে।
১৯। সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



