আমার মেয়ের পেছরে পেছরে দৌঁড়ায় আমার ছেলেটা। ওর বয়স দুই। পুরোটা বলতে পারে না, খালি বলে- বাবা অফিসে যাচ্ছেহহহহহহহহহহহহ।
ছেলেটার কথা বলি। আমার যখন একটু বড় মনে হলো আহা বাসায় ছোট বাচ্চা থাকলে কতই না মজা। যেন একটা পুতুল আর আমাদের খেলার সঙ্গী। মনে হলো আমার মেয়ে এভাবে একা একা মানুষ হবে? আমরা পিঠাপিঠি চার ভাইবোন এক সাথে বড় হয়েছি। আর আমাদের ছেলে মেয়েরা থাককে একা। মনে হলো আর একটা নেই না কেন? ছেলে হোক মেয়ে দুটো সন্তানই যথেষ্ট।
ওরা দুই ভাই বোন মারামারি করে। আবার এক সাথে খেলে। একজনকে কিছু বললে আরেকজন মারতে আসে। কোন জিনিষই একটা আনা যায় না। ছেলেটা পরিস্কার উচ্চারণ এখনো কথা বলতে শেখেনি, তাও শুনতে কি মজা। এক সময় এই ছেলেটাও বড় হয়ে যাবে। অথচ বাসায় সব সময় দেড়-দুই বছরের বাচ্চা থাকাটা যে কি মজা!
বউকে বলি আহা আমার এরকম ছোট ছোট বাচ্চা যদি সব সময় থাকতো। আমি ভাবি- আমার যদি অনেক টাকা পয়সা থাকতো তাহলে ঘর ভরে থাকতো ছেলে- মেয়ে..............। কি যে ভাল লাগে দেখতে।
চাকরি করি। মেয়েকে স্কুলে দেবো। তারপর দিতে হবে ছেলেকে। ভাল স্কুলে দিতে হবে। মধ্যবিত্তের এই তো স্বপ্ন। তারপরে এখন মনে হয় আরেকটা থাকলে কেমন হয়। এই দুর্দিনে আকাঙ্খা করি, সাহসে কুলায় না।
কাল রাতে অফিসে যেয়ে সিটিব্যাংক এনএর মামুন ভাইয়ের একটা মেইল পেলাম। মেইলে একটি ছবি। ছবিটা দেখে আবার সাহস পেলাম। হাতে আঁকা ছবি। কিন্তু কী জীবন্ত। মনে হলো ভাল থাকতে কি অনেক কিছু থাকতে হয়? নাকি যা আছে তা নিয়েই থাকা যায়। ছবিটায় দেখুন, কত কষ্ট, তারপরেও প্রত্যেকের মুখেই নির্মল হাসি। ছবি ছবিই, তারপরেও সাহস যোগাচ্ছে। কি বলেন, সাহস রাখা যায়?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


