জলিল কেন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তার একটি বর্ণনা আছে 'এক জেনারেলের নীরব সাক্ষী: স্বাধীনতার প্রথম দশক' নামের বইটিতে। লেখক, মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী (বি.) বীরবিক্রম। এই বইটিতে তিনি দুইটি গালগল্প বা মিথের জবাব দিয়েছেন। একটি হলো জলিলের গ্রেপ্তার এবং অন্যটি ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে শেখ কামালের গুলিবিদ্ধ হওয়া।
এথম পর্বে জলিল নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। আসুন দেখি বইটিতে কি লেখা আছে। বইটিতে আরও কিছু মন্তব্য আছে সেটার গুরুত্বও তম নয়।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একপাশে (বর্তমান পুলিশ নিয়ন্ত্রণ ক) অস্থায়ী অফিস চালু করি। কয়েকদিনের মধ্যেই ঢাকা শহর ও আশপাশ এলাকা থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ, আর্মির গাড়ি ইত্যাদি উদ্ধার করি এবং সেগুলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়ে আসি।
ডিসেম্বরের মাসেরই শেষের দিকে মেজর জলিলকে খুলনা থেকে ধরে এনে বন্দি করার জন্য আমার কাছে হস্তান্তর করা হয়। তৎকালীন ক্যাপ্টেন কে এস হুদা (পরে কর্ণেল এবং ১৯৭৫ এর ৭ নভেম্বর অভ্যুত্থানে নিহত) তাকে ধরে নিয়ে আসেন। মেজর জলিলের বিরুদ্ধে উচ্ছৃঙ্খলতা ও অন্যান্য সামরিক শঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ছিল। খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক জলিলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এবং গ্রেপ্তার সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। যদিও প্রচার করা হয় যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক অস্ত্রশস্ত্র লুটতরাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জলিলকে আমি পাকিস্তান মিলিটারি অ্যাকাডেমি থেকে চিনি। গ্রেপ্তারের পর তাকে আমার অস্থায়ী অফিসের পাশে আমার অধীনে প্রহরায় রাখা হয়। মাঝে মাঝে তার সঙ্গে আমার আলাপ হতো। জলিল আমাকে বলতো, 'আর্মিতে থেকে কী লাভ হবে? বড়জোর জেনারেল হবেন। তার চেয়ে বরং চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসুন। তা না হলে যারা ভারতের কলকাতা ও আগরতলায় শরনার্থী ছিল এবং যারা নয় মাসের যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল না তারাই দেশ শাসন করবে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙ্গিয়ে। তাই সব মুক্তিযোদ্ধাদের উচিৎ রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়া।'
লে. কর্ণেল তাহেরের সভাপতিত্বে ১৯৭২ সালে জলিলের কোর্ট মার্শাল হয়েছিল। কিন্তু জলিলের কোনো শাস্তি হয়নি। তবে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে তিনি জাসদের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


