তারপরে শুরু হলো স্যালাইন এবং একটু একটু পর ন্যাবুলাইজ করা। কারণ ফুসফুসে পানি এসে যাওয়ায় শ্বাস কষ্ট থেকে সাময়িক স্বস্তি।
লেখাটা লিখছি আসলে আমার অসুস্থ্যতার বিবরণ দিতে নয়, বরং ক্লিনিকটার একজন নার্সের কথা লিখতে। নার্সদের সাধারণত সিস্টার বলতেই অভ্যস্থ, তাঁরাও মনে হয় এটাই শুনতে চায়। এবার অভিজ্ঞতা হলো অন্যরকম।
টেস্টগুলো করে আসার পর আসলো একজন নার্স, ২০ বছরের বেশি হবে না। হাতে স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়ার জন্য ক্যানোলা লাগাবে। মেয়েটি এসেই কেবল বাবা বাবা বলতে লাগলো। যেমন, বাবা স্যালাইন দিতে হবে, বাবা এই ওষুধটা খেতে হবে।
ক্যানোলায় ইনজেকশন পুশ করার সময় রগে ব্যাথা লাগে, জানতে চায় বাবা ব্যাথা লাগছে কীনা, হ্যা বললে মালিশ করে দেয়।
২০ বছরের একটা মেয়ে বাবা বাবা বলছে, এটা শুনতে অভ্যস্থ না। কেউ আংকেল বললেই রাগ লাগে। সেখানে বাবা শুনতে কেমন যেন লাগে। তবে মেয়েটা এতো সুন্দর করে বাবা বলছিলো যে, শুনতে খুব খারাপও লাগছিলো না।
এক পর্যায়ে আমি মেয়েটির বাবা বাবা শুনতে শুনতে জিজ্ঞাসই করে ফেললাম যে এই ক্লিনিকে বাবা বলা নিয়ম কীনা? আমার মেয়েটি এই প্রশ্ন হয়তো আশা করেনি। একটু থমকে গেল। তারপর পাল্টা প্রশ্ন করলো আমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে কীনা। আমি বললাম, অসুবিধা হচ্ছে না, শুনতে ভালই লাগছে বলেই জানতে চাচ্ছি। তারপর আমার মেয়ে ছোট একটা বক্তৃতা দিল। যেমন, বাবা মাকে যেভাবে সেবা করে সবাই, নার্সদের উচিৎ সবাইকেই একইভাবে সেবা করা। একারণেই বাবা বলতে তার ভাল লাগে।
এরপর যে কদিন ছিলাম, আমি আর আমার মেয়ে ভালই ছিলাম। আমার মেয়ে আমাকে ভালই সেবা শুশ্রসা করলো। আমারো কেন যেন মেয়েটাকে বেশ ভাল লাগলো। সেবা করেছেও অনেক যত্ন নিয়ে। এই বয়সে এত বড় মেয়ের মুখে বাবা শুনতেই ভালই লাগলো।
১। জীবনে প্রথম হাসপাতে ভর্তি হলাম
২। জীবনে প্রথম স্যালাইন দিলাম
৩। জীবনে প্রথম শ্বাসকষ্ট হলো
৪। জীবনে প্রথম ১০ দিন দাড়ি রাখলাম
৫। জীবনে প্রথম ২০ বছর বয়সের মেয়ের মুখে বাবা ডাক শুনলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



