আমার প্রিয় পোস্ট

রাজনীতি ও অর্থনীতি এই দুই সাপ পরস্পর পরস্পরকে লেজের দিক থেকে অনবরত খেয়ে যাচ্ছে

মনোবিজ্ঞানি অধ্যাপক জেমস ম্যাস, আমাদের ছানোয়ার হোসেন ও যৌন হয়রানি: প্রয়োজন নীতিমালা

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৪

শেয়ারঃ
0 1 0

ড. জেমস ম্যাস একজন নামকরা মনোবিজ্ঞানী। যুক্তরাষ্ট্রের কর্ণেল ইউনিভার্সিটির অত্যন্ত নামকরা এই প্রফেসর ঘুম নিয়ে কাজ করে আজ অব্দি প্রসিদ্ধ। ১৪ বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়িয়েছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিখ্যাত। তাঁর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯শ এবং তাঁর কাশই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড়। তাকে বলা হতো জুয়েল অব দ্য কর্ণেল। পাওয়ার স্লীপ তার লেখা একটি বেস্ট সেলিং বই।
এবার ড. ম্যাসের আরেকটি দিকের কথা বলি। সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৪ সালে ড. ম্যাসের প্রাক্তন চারজন ছাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রাণির অভিযোগ আনে। দুজনের অভিযোগ ছিল ড. ম্যাস তাদের স্পর্শ করতেন, চুমুও খেয়েছেন। একজন বলেছিলেন যে ড. ম্যাস তার স্তন চেপে ধরেছিলেন। আর সর্বশেষ জনের অভিযোগ ড. ম্যাস তাকে অত্যন্ত দামী উপহার দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল পোশাক ও অলঙ্কার।
এর পরে শুরু হয় তদন্ত। কলেজের প্রফেশনাল এথিকস কমিটির সিনিয়র সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট কাউনসিলার তদন্ত শেষে পাঁচদিন ব্যাপী শুনানীর আয়োজন করেন। শুনানী শেষে রায় দেওয়া হয় যে অধ্যাপক জেমস ম্যাস যারা করেছেন তা যথাযথ ছিল না এবং তা যৌন হয়রানির মধ্যেই পড়ে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপ কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।
তবে ড. ম্যাসের বক্তব্য ছিল অন্যরকম। তিনি বলেছিলেন তিনি মূলত কাশের পরিবেশ সহজ করতেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশতেন। এর পেছনে অন্য কিছু ছিল না। ড. ম্যাস কর্ণেলের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে ১৫ লাখ ডলার তিপূরণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিউইয়র্ক কোর্টে ১৯৯৫ সালে। আদালত ১৯৯৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষেই রায় বহাল রেখেছিলেন। অর্থাৎ এত বড় একজন শিক্ষাবিদ হয়েও তিনি শেষ পর্যন্ত আইনী লড়াইতেও হেরে যান। একজন অতি জনপ্রিয় শিকের ছিল এই পরিণতি। এর পর পর্যায়ক্রমে ড. ম্যাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরে যান। কেননা তাকে বলে দেওয়া হয়েছিল এ ধরণের ঘটনা আরও ঘটলে চাকরি চলে যাবে।

ইন্টারনেট ঘাটতে গিয়ে পেলাম এই কাহিনী। বিশ্বের সেরা ২০টি যৌন হয়রানির কাহিনীতে ড. ম্যাসের অবস্থান ১৫তম। এই তথ্য ঘাটতে হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌণ হয়রানির অভিযোগ থেকে শিক্ষক ছানোয়ার হোসেনের রেহাই পাওয়া নিয়ে। সাক্ষী ছাড়া ধর্ষনও আসলে এখানে আইনসঙ্গত।
এখন সময় এসেছে আসলে যৌন হয়রানি নিয়ে নীতিমালা গঠনের। রাসেল, কৌশিক, ভাস্করদা এবং আরিফ জেবতিক ভাই পোস্ট দিয়েছেন। সমর্থন করে আমার এই পোস্ট দেওয়া। নীতিমালা গঠন এবং তা দেখভাল করার জন্য বাইরের মতো কোনো এথিকস কমিটি বা কাউন্সিলও থাকা প্রয়োজন। আসুন আমরা সবাই সচেতন হই। আমার বোন এখন পড়ে, কদিন পর আমার মেয়েও পড়বে। এভাবেও কি ভেবে দেখবেন সবাই?

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): হয়রানি ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৭
মুকুল বলেছেন: পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
২. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২১
বিবর্তনবাদী বলেছেন: সচেতনতার প্রকাশ কেমনে ঘটাব!!!
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২৪

লেখক বলেছেন: নীতিমালা তৈরির জন্য দাবী জানাতে পারি।

৩. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২২
অরণ্যচারী বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার পোস্টের জন্য।
৪. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২৯
রাসেল ( ........) বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ মাসুম ভাই।
৫. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩০
জামাল ভাস্কর বলেছেন: মাসুম ভাই, নামটা মনে হয় ছানোয়ার ...
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১০

লেখক বলেছেন: ঠিক কইরা দিছি। তয় ছ এর জায়গায় জ হইলে ভাল হইতো।

৬. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩১
বিবর্তনবাদী বলেছেন: দাবী জানাইলাম। এখন বলেন কি নীতিমালা চান। মানে আপনার প্রস্তাব কি?
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৬

লেখক বলেছেন: আমি তো নীতিমালা বানাবো না। মহিলা পরিষদ একটি বানিয়েছে বলে জানি। দায়িত্ব তো সরকারের।

৭. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪১
দূরন্ত বলেছেন: পোস্টের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
৮. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৫
বিবর্তনবাদী বলেছেন: আপনি আমি নীতি বানাইলে কি আর না বানাইলে কি। শুনবে কে?


মহিলা পরিষদকে কি খুব রিলায়েবল মনে হয়। ঐ ইউনিভার্সিটিতে কি মহিলা টিচার নাই। তারা চুপ কেন? আনু মোহাম্মদ ছাড়া আর কারো গলার শব্দতো শুনি না। সেই সব টিচারদের চাইতে মহিলা পরিষদে কি অতিরিক্ত নীতিবান মহিলারা বসে আছেন?? ধান্ধাবাজ দলীয় শিক্ষকের তুলনায় মহিলা পরিষদ কি পিছিয়ে আছেন?

একটু ধারণা দিলে ভাল হত, আমি মহিলা পরিষদ নিয়ে তেমন কিছু জানি না।

৯. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫০
পথিক!!!!!!! বলেছেন: দূর কোন দেশের সাথে কোন দেশের আইনের তুলনা
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩

লেখক বলেছেন: তুলনা না। একটা উদাহরণ মাত্র।

১০. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫২
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ মাসুম ভাই।
১১. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৭
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: নীতিমালা চাই, দিতে হবে
১২. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০১
মদন বলেছেন: সুন্দর পোস্ট। দাবীর সাথে একমত।
১৩. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:০৫
নুশেরা বলেছেন: একমত। এটা সময়ের প্রয়োজন। প্রচলিত আইনের শরণাপন্ন হবার মতো নয়; স্পর্শকাতরতা কিংবা অন্য জটিলতা আছে, এমন ক্ষেত্রগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন করা জরুরী। সরকারী পদক্ষেপ আশা করা না করা একই কথা। এবিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের আশু সুদৃষ্টি কামনা করি। মহিলা পরিষদের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রশ্ন ওঠেনি বলেই জানি।
১৪. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৫২
মাহবুব সুমন বলেছেন: দেশে নীতিমালারতো অভাব নাই, প্রয়োগটাই আসল ব্যপার।

দেশে প্রচলিত আইনেতো এ ব্যপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে। সেটা নেয়া হচ্ছে না কেনো ?

১৫. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:০৮
নুশেরা বলেছেন: @ মাহবুব সুমন- আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ(!), প্রচলিত ধ্যানধারণা, বেশীরভাগের মনমানসিকতা, জনপ্রতিক্রিয়া- এই স্পর্শকাতর দিকগুলো বিবেচনা করলেই দেখা যায়, সবক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের শরণাপন্ন হওয়াটা খুব সুবিধাজনক কিছু না। (আপনি ঋতুপর্ণ ঘোষের "দহন" দেখে থাকলে হাল্কা আঁচ পাবেন।)

সাক্ষ্যপ্রমাণের সিস্টেমের জালে প্রচলিত আইনে কে কতদিন এধরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলা চালাতে পারে আর পরিণতি কী হয়, পেশাগত জীবনে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বললাম।

তবে সবশেষে আপনার কথাটাই সবচেয়ে বড় সত্যি- প্রয়োগটাই আসল।
১৬. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:০৯
মাহবুব সুমন বলেছেন: নুশেরা আপনার সাথে একমত।

নীতিমালার কথা যদি বলেন তবে দেখবেন, নীতিমালার কিন্তু অভাব নাই- কিন্তু তার প্রয়োগের প্রচন্ড অভাব।

আইনের প্রয়োগ ও শাস্তির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অপরাধী শাস্তি পায় না, আইনের প্রয়োগ হয় না অনেক সময় বিচারই হয় না। এটাই সমস্যা।

সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে, মন মানসিককতায়ও। না হলে কিচ্ছুই হবে না।
আজ ছানোয়ার, কাল জানোয়ার, পরশু আনোয়ার। চলতেই থাকবে।
১৭. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৪১
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
প্রথমে নীতিমালা চাই, তারপর তার সুষ্ঠ প্রয়োগ ।
১৮. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৬
তেলাপোকা বলেছেন: মনোবিজ্ঞানী বলে কথা!
১৯. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৯
তেলাপোকা বলেছেন: @ সুমন, উপরের মন্তব্য বেশি বর্ণবাদী হয়ে গেল না? আমরা নিজেরাই জানিনা বেশি ভাব চো*াইতে গিয়া কখন কি বলি।
২০. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫১
আহমেদ হেলাল ছোটন বলেছেন: তথ্যসমৃদ্ধ ও সময়োপযোগী পোস্ট।
ধন্যবাদ।
২১. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৩৯
মামু বলেছেন: যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈধ অবৈধ বলে কিচুই তাকা উচিৎ না।
২২. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩৬
নষ্ট মাথার দুষ্ট বালিকা... বলেছেন: আজ ছানোয়ার, কাল জানোয়ার, পরশু আনোয়ার। চলতেই থাকবে।

সত্যি কথা...
২৩. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩২
মাহফুজ ইসলাম বলেছেন: একটা নীতিমালার জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে আমাদের।
মজার বিষয় হলো, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এটাকে overlook করে যাচ্ছে।
এই সমস্যাটা যে হারে বাড়ছে, এর প্রতিকার না হলে এটা সবজায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। আরও মজার বিষয় হল, ওনারা নাকি শিক্ষিত মানুষ।
২৫. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৮
নাহীন বলেছেন: ঐ দেশে স্তন চেপে ধরা কোন ব্যাপার না। অনেক টিন এজার রা এটা এনজয় করে।
২৬. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫১
জয় শান্ত বলেছেন: অনুরূপ বিষয় নিয়ে আমি বহু দিন আগে একটা লেখা পোষ্ট করেছি।
তবে আমার কথা,শিক্ষকদের কেন নীতি আদর্শ শিখাতে হবে আইন করে।
আমার লেখার লিংকটি দিয়ে দিলাম সময় হলে দেখে নিয়েন। লেখাটি সমকাল পত্রিকায় এডিট করে ছাপাও হয়েছে।
Click This Link
২৭. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৪
মানবিক ৩০ বলেছেন: পারিবারক যৌনতা যা নিকআত্মীয় রা করে এ বিষয়ৈ কথা বলা দরকার

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬১৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আকাল-তবু স্বপ্ন থাকে
বিরোধ-তবু স্বপ্ন থাকে
ভাঙ্গন-তবু স্বপ্ন থাকে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ