somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাংবাদিক জীবন ও কয়েকটা গল্পB-):P

২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
শাহ এ এম এস কিবরিয়া তখন অর্থমন্ত্রী। সেবারই প্রথম ঢাকায় অনুষ্ঠিত হল দাতাগোষ্ঠীর বৈঠক। এর আগে এসব বৈঠক হতো প্যারিসে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভাল না। বিএনপি সংসদ বয়কট করছে। প্রায়ই হরতাল হচ্ছে। বলা যায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল।
সেবার বৈঠকটা হলো হোটেল সোনারগাঁও-এ। আমরা সারাদিন লবিতে বসে থাকতাম সংবাদের আশায়। দুপুর থেকেই গুঞ্জন শুনছিলাম যে দাতাদেশগুলো রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটা যৌথ বিবৃতি দিতে পারে। বিষয়বস্তু হবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভাল না হলে সাহায্য তারা দেবে না।
তিনদিনের বৈঠক। নিয়ম ছিল প্রতিদিন বৈঠক শেষে সারাদিনের আলোচনা নিয়ে ব্রিফিং করবেন সে সময়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ড. মশিউর রহমান।
দ্বিতীয় দিন, ড. মশিউর রহমান ব্রিফিং করছেন। আমার পাশে দাঁড়ানো বিবিসির ঢাকা অফিসে সে সময়ের রিপোর্টার ফ্রান্সিস নামের এক মেয়ে। ব্রিফিং-এর মাঝ পথে ফ্রান্সিস প্রশ্ন করে বসলো দাতারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো যৌথ বিবৃতি দিয়েছে কীনা? মশিউর রহমান অস্বীকার করলেন। কিছুপরে ফ্রান্সিস আবারো প্রশ্ন করলো। এবারেও মশিউর রহমান বললেন যে, রাজনীতি নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। কিছুক্ষন পরে আবারো ফ্রান্সিসের একই প্রশ্ন। এবারো ড. মশিউরের অস্বীকার। এরকম ৫ বা ৬ বার হলো। প্রতিবারই অস্বীকার। সপ্তম বারের মতো একই ঘটনা ঘটলে ফ্রান্সিস আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। ব্যাগ খুলে একটা কাগজ বের করে ড. মশিউরকে দেখিয়ে বললো রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যদি আলোচনাই না হবে তাহলে এটা কী?
ড. মশিউর বিব্রত এক চেহাড়া নিয়ে আস্তে করে চলে গেলেন। আর আমরা দৌঁড়ালাম ফান্সিসের পিছনে। বিবৃতি ফটোকপি করবে। সেবার এটাই ছিল লিড স্টোরি।
সেই ড. মশিউর রহমান এখন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ে উপদেষ্টা। ;)
২. গেছি অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে। সচিবালয়ে তাঁর রুমে। আমি আর আমাদের ফটোগ্রাফার, সম্ভবত ইত্তেফাকের আলম ভাই। বসে আছি। সাক্ষাৎকার পর্ব শুরুর আগে বললেন, তুমরা একটু বসো। আমি একটু ফুন করিয়া লই।

আমাদের বসিয়ে রেখে ফোন করলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী শাহ মো. আবুল হোসাইনকে। এই প্রতিমন্ত্রী তখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তদারকি করতেন। আমরা কান পেতে রইলাম। শুনলাম ফোনের কহিনী। আগের দিন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজের ছেলে গিয়েছিল গুলশানের ফু ওয়াং কাবে। সেখানে সম্ভবত কাব কর্তৃপরে সাথে কিছু একটা হয়েছে। শাহজাহান সিরাজ ফোন করে নালিশ করেছে সাইফুর রহমানের কাছে। এই সাইফুর রহমান ফোন করে বললেন যে, প্রতিমন্ত্রী যেন ফু ওয়াং কাবে এনবিআরকে পাঠায়, দেখতে তারা ঠিক মতো ট্যাক্স দেয় কিনা। মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে বেয়াদবী। X(
৩.
এবার একটু আলম ভাইয়ের কথা বলি।আলম ভাই নিয়ে অনেক অনেক মজার গল্প আছে। তিনি আবার পানীয় রসিক। গল্পটা বলি। বঙ্গবন্ধু গেছেন রাশিয়া সফরে। সঙ্গে আলম ভাই। দেশে ফিরলেন। আলম ভাইয়ের হাতে একটা ভদকার বোতল। সমস্যা তৈরি করলেন বঙ্গবন্ধু নিজেই। এয়ারপোর্টে কাস্টমস অফিসারদের বলে দিলেন যাতে কেউ বেআইনি কিছু নিতে না পারে। আলম ভাইরে আটকালো অফিসাররা।

বোতল নেওয়া যাবে না। আলম ভাই অনেক তর্ক করলেও কাজ হলো না। বঙ্গবন্ধুর নিষেধ আছে।
আলম ভাই তখন ভদকার বোতলটা খুলে সবার সামনে পুরো বোতল ভদকা খেয়ে ফেলে বললেন, -এইবার আমারে আটকাও।
এই গল্প আমার প্বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের কাছ থেকে শোনা। তিনি ছিলেন আলম ভাইয়ের পিছনেই।
৪.
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন গভর্ণর। নাম বললাম না সঙ্গত কারণেই। খবর দিলেন বাসায় যাওয়ার জন্য। তিনি একজন আমার ভাল সোর্স ছিলেন। অফিস থেকে বাসায় ফাইল নিয়ে যেতেন, আর আমি দেখে দেখে নোট নিতাম। একদিন এরকম তাঁর ড্রয়িং রুমে বসে কাজ করছি। তিনিও সামনে বসে আছেন। টুকটাক গল্প করছি। উঠলো এরশাদ প্রসঙ্গ। এরশাদকে নিয়ে তখন টানাটানি। এরশাদ হাসিনার না খালেদার?

গভর্ণর সাহেব একজন নেত্রীর নাম উচ্চারণ করে বললেন, আগের পাঁচ বছরে জেলে রেখে তাকে যে পরিমান যৌনযন্ত্রণা দেওয়া হয়েছিল, সেই যৌনযন্ত্রণা থেকে তাকে উদ্ধার করেছিলেন ঐ নেত্রী। সুতরাং এরশাদের উচিৎ না ঐ নেত্রীর বিপক্ষের জোটে যাওয়া। তারপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এরশাদের সাব জেলে কে প্রথম গিয়েছিল জানেন? আমি সহজ নামটাই বললাম, কে জিনাত। তিনি একটু হাসি দিয়ে বললেন, হলো না। স......মাহমুদ।
যৌনযন্ত্রণা-নতুন একটা কথা শিখেছিলাম সেদিন। :P
৫.
এরশাদ প্রসঙ্গ যখন আসলো, একটা গল্প বলি। বলেছিলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। আমি তখন ইত্তেফাকে। এক রিপোর্টার্স মিটিং-এ তিনি এই গল্ল্পটা বলেছিলেন।

এরশাদ প্রায়ই অনেক সকালে মিটিং করার জন্য তাঁর বাসায় সব মন্ত্রীদের ডেকে পাঠাতেন। আর সবাইকে ছুটতে হতো। আর এভাবে ডাক পড়লেই শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ফোন করতেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে। বলতেন, ‘মঞ্জু, চলো ফাকিংহাম প্যালেস থেকে ডাক এসেছে’। :D
৬.
মাত্র মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছি। ড. আতিউর রহমান তখন বিআইডিএস-এ। আমার বন্ধু বিন্দু তাঁর সাথে কাজ করে। সংবাদের অথর্নীতি পাতা দেখার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হল তাঁকে। তিনি বলে দিলেন তার পছন্ত হয় আর অর্থনীতির ছাত্র পাওয়া যায় তাহলে তিনি সাহায্য করবেন।
আমি লেখলেখি করতাম। বিন্দু আমাকে ফোন করলো কাজটা করবো কিনা। না করে দিলাম একবাক্যে। সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। পরে বিন্দু আবার দুইদিন পর ফোন দিল, আমারে পটাইলো। বললো যতদিন রেজাল্ট পেয়ে বিসিএস বা অন্য কোথাও চাকরি না পাই ততদিন তো করতে পারি। মাসে মাসে ৪/৫ হাজার টাকা পেলে ক্ষতি কি। আমিও ভাবলাম ক্ষতি কি? দেখা করলাম ড. আতিউর রহমানের সাথে। কথা বলে তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন সংবাদে। আর আমি হলাম সাংবাদিক। সেই যে এই পেশায় ঢুকেছি, আজও আছি।

আমাকে সাংবাদিক বানিয়েছেন এই ড. আতিউর রহমান। আর আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর নিযুক্ত হলেন। :)
৪৭টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×