আমার প্রিয় পোস্ট

রাজনীতি ও অর্থনীতি এই দুই সাপ পরস্পর পরস্পরকে লেজের দিক থেকে অনবরত খেয়ে যাচ্ছে

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, আমাদের গলাবাজি, আমাদের দায়িত্ববোধ

১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৬

শেয়ারঃ
0 9 0

এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোনো সশস্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফোজদারীতে সোপর্দ কিংবা দন্ডদান করিবার বিধান সম্বলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোনো বিধানের সহিত সামঞ্জস্য বা তাহার পরিপন্থী, আই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।
-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ধারা-৪৭ (৩)।

দেশ চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসেছে। বিচার করবে না এ কথাও তারা বলছে না। তবে বলার ক্ষেত্রে আগে গলায় যে জোরটি ছিল তা যেন মনে হয় খানিকটা কমে এসেছে। একবার তো দিন-তারিখও প্রায় দেওয়া হয়েছিল। এখন বলা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পর শুরু হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই প্রণীত হয়েছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইবুনাল) অ্যাক্ট’। সরকার বলছে এই আইনেই বিচার করা হবে। ১৯৭৩ সালে করা আইন দিয়ে ২০০৯ সালে বিচার করতে হলে আইনটির খানিকটা সংশোধন করা প্রয়োজন বলেই অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে আইনটি আন্তর্জাতিক মানের কিনা সে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে সকলেই এই প্রশ্নটি তুলছেন। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য আইন না হলে বিচার করা সম্ভব হয়তো হবে না।
দেশে একটি আইন কমিশন রয়েছে। তাদের একটি কাজ হচ্ছে আইনকে সংশোধন বা পরিমার্জন করা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইবুনাল) অ্যাক্ট’ নিয়ে তারা কাজটি করছে। আইন কমিশনের একটি ওয়েব সাইট রয়েছে। কমিশন সাধারণত সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে আইন সংশোধনের সুপারিশ করে। ওয়েব সাইটে গিয়ে অবাকই হলাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আমরা অনেক কথা বলছি। বিচার করার দাবি জানাচ্ছি জোড়ালো গলায়। কিন্তু আমরা যারা গলাবাজি করছি তাদের অনেক কিছু করারও আছে। সেই কাজটি যে আমরা করছি না তার প্রমান পাওয়া যায় আইন কমিশনের ওয়েব সাইটে গিয়ে।
সরকার আইনটি পর্যালোচনার জন্য আইন কমিশনের কাছে পাঠায় ২০০৯ সালের ২১ মে। কমিশন এরপর ৩৩জন বিশেষজ্ঞের কাছে মতামত চায়। আসুন দেখি কাদের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছিল।
১. বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন
২. বিচারপতি এ টি এম আফজাল
৩. বিচারপতি হাবিবুর রহমান
৪. বিচারপতি মোস্তফা কামাল
৫. বিচারপতি গোলাম রব্বানি
৬. বিচারপতি কাজি এবাদুল হক
৭. চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৮. চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
৯. চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
১০. চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
১১. চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
১২. সভাপতি, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন
১৩. সাধারণ সম্পাদক, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন
১৪. সভাপতি, ঢাকা বার এসোসিয়েশন
১৫. সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বার এসোসিয়েশন
১৬. ওয়ালিউর রহমান, পরিচালক, বিলিয়া
১৭. ব্যারিষ্টার টি এইচ খান
১৮. ব্যারিষ্টার রফিক উল হক
১৯. ড. এম এ জহির
২০. ব্যারিষ্টার খোন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ
২১. ড. কামাল হোসেন
২২. ব্যারিষ্টার আমির-উল-ইসলাম
২৩. ব্যারিষ্টার মাহমুদুল ইসলাম
২৪. ব্যারিষ্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ
২৫. ব্যারিষ্টার আবদুল বাসেত
২৬. ব্যারিষ্টার আজমালুল হোসেন
২৭. ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন
২৮. ব্যারিষ্টার আখতার ইমাম
২৯. ব্যারিষ্টার শেখ রাজ্জাক আলী
৩০. ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক
৩১. ব্যারিষ্টার তওফিক নেওয়াজ
৩২. ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক খান এবং
৩৩. ব্যারিষ্টার খান সাইফুর রহমান।

এবার আসল কথায় আসি। এই ৩৩ জনের মধ্যে মতামত দিয়েছে মাত্র ২ জন। একজন হলেন বিচারপতি কাজি এবাদুল হক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক। সময় বাড়িয়েও কমিশন আর কারো কাছ থেকেই কোনো মতামত পায়নি। এর মধ্যে আবার ড. কামাল হোসেন এবং আজমালুল হোসেন সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। সময় বাড়ানো হলেও তারা কোনো মতামত দেননি।

আইন কমিশনের রিপোর্টটি পাবেন এখানে

এই হচ্ছে আমাদের দায়িত্ববোধ। টেলিভিশনে টক শো বা সেমিনারে যেয়ে এদের অনেকেই যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে অনেক কথা বলেন। কলামও লেখেন কেউ কেউ। কিন্তু আসল কাজটি কেউ করলেন না।
আমি বিশেষজ্ঞ নই, তবে দু-একজনের সাথে কথা বলে বুঝেছি যে আইন কমিশন আইনটির যেসব ধারা সংশোধনের সুপারিশ করেছেন তা পর্যাপ্ত হয়নি। এখনও নাকি এর অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। সমস্যা থাকার কারনেই আইনটি সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক মানের হতে পারেনি। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে শেষ পর্যন্ত লাভবান হবে চিহ্নিত-অচিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরাই।


২.
আইন: ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইনে তিন থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট ট্রাইবুনালকে হাইকোর্টের সম-মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলা বিরতিহীনভাবে চলবে এই ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
এ আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী, প্রতিরক্ষা অথবা অক্সিলারি ফোর্সেস এর যে কোন দেশের নাগরিকের বিচার করতে পারবে ট্রাইবুনাল। এ আইন প্রণয়নের আগে বা পরে আইন ভঙ্গ করলে অপরাধীদের বিচারের মতা ট্রাইবুনালকে দেওয়া হয়েছে।
৩(২) ধারায় অপরাধের প্রকৃতিগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী হত্যা, ধ্বংস, জোরপূর্বক অবরুদ্ধ রাখা, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ প্রভৃতি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ যখন কোন বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা হয় তখন তা এ আইনে বিচার হবে। এছাড়া গণহত্যা, যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচার এ আদালতে হবে।
এ আইনের ৪ ধারায় ‘অপরাধের দায়’ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংগঠিতভাবে অনেকে মিলে অপরাধ সংগঠন করলেও সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। এেেত্র ওই অপরাধ তিনি একাই করেছেন বলে সাব্যস্ত হবে।
এ আইনে আরো বলা হয়েছে অপরাধ সংগঠনের নির্দেশদাতা কমান্ডার, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এবং অপরাধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই এ আইনের ৩ ধারায় অপরাধের জন্য দোষী হবেন।
এ আইনের ৩ ধারায় বর্ণিত অপরাধের বিচারের জন্য সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এক বা একাধিক ট্রাইবুন্যাল গঠন করতে পারবে। প্রতিটি ট্রাইবুনালে একজন চেয়ারম্যান এবং সর্বনিম্ন দুই বা সর্বোচ্চ চারজন সদস্য থাকবে। হাইকোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন কেউ অথবা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কাউকে ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান বা সদস্য করা যাবে।
এ আইনের বিচারের জন্য সরকার প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবেন। এমনকি সরকার চাইলে আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধ তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থাও গঠন করতে পারেন।
বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আইনের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য দিকের মধ্যে হলো, পুরো বিচার হবে ইংরেজীতে। তবে কারো প্রয়োজন হলে সরকার দোভাষী নিয়োগ দেবেন। ট্রাইবুনালের বিচার সকলের জন্য উস্মুক্ত থাকবে। তবে আদালত মনে করলে ‘ক্যমেরা ট্রায়াল’ বিচার হতে পারে।
আইনের ১৩ ধারায় বলা হয়েছে, বিচার কার্যক্রম স্থগিত করা যাবে। তবে ট্রাইবুনাল যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে ন্যায় বিচারের স্বার্থে মুলতবি প্রয়োজন তাহলে তারা সে আদেশ দিতে পারবেন।
আদালত বৈধ মনে করলে যে কোন সংবাদ পত্র, ম্যাগাজিনে প্রকাশিত খবর বা ছবি, ফিল্ম এবং রেকর্ড করা টেপ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন।
এ আইনের আওতায় দোষী ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ডসহ উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার আদালতকে দেওয়া হয়েছে। এ আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধের জন্য দণ্ডিত আসামি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাজা ঘোষনার ৬০ দিনের মধ্যে আপিল আবেদন করতে পারবেন। প্রচলিত সাক্ষ্য আইন এবং দণ্ডবিধির বিধান এই আইনের বিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): যুদ্ধাপরাধীবিচারমুক্তিযুদ্ধ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫০
রোহান বলেছেন: এই হচ্ছে আমাদের দায়িত্ববোধ। টেলিভিশনে টক শো বা সেমিনারে যেয়ে এদের অনেকেই যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে অনেক কথা বলেন। কলামও লেখেন কেউ কেউ। কিন্তু আসল কাজটি কেউ করলেন না।

এই কাজটি কেউই করতে চায়না... কেনো কে জানে :(
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৬

লেখক বলেছেন: সেইটাই তো জানতে চাই। কেনো?

১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৩. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৯
মুকুট বলেছেন: হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দিলেন, চুচিল সমাজের কি হবে।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৩

লেখক বলেছেন: দায়িত্বের কথাটা বললাম কেবল।

৪. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৯
আমি স্বার্থপর বলেছেন: আমরা সাধারণ মানুষ হইলাম মন্দিরের ঘন্টা যে ক্ষমতায় আসে সেই বাজায়।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩২

লেখক বলেছেন: যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতেই হবে।

৫. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:০২
মাহবুব সুমন বলেছেন: আওয়ামী লিগ সরকার বিচার করবো না ।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৮

লেখক বলেছেন: চাপ রাখতে হবে, করাতে হবে।

৬. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:০৩
লীনা দিলরূবা বলেছেন: টেলিভিশনে টক শো বা সেমিনারে যেয়ে এদের অনেকেই যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে অনেক কথা বলেন। কলামও লেখেন কেউ কেউ। কিন্তু আসল কাজটি কেউ করলেন না।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:২০

লেখক বলেছেন: সেইটাই লীনা। কী আর করা

৭. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:১০
কালের সাক্ষী বলেছেন: বিচার একদিন হবেই হবে..
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:৪৫

লেখক বলেছেন: বিচার করতেই হবে।

৮. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৫
নাঈম বলেছেন: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ সরকার করবেনা তাদের নিজেদের স্বার্থেই, কারণ তাদের দলেও এমন লোক আছে............


আপনার লেখাটি পড়ে অনেককিছু জানতে পারলাম মাসুম ভাই, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: বিচার তারপরেও করতে হবে। বিচার কাজ শুরু করবে বলেই আমার ধারণা। শেষ কবে সেটাই প্রশ্ন।

৯. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৯
রুদ্রাক্ষ বলেছেন: সদিচ্ছার অভাব কিনা কে জানে?
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:১৫

লেখক বলেছেন: দায়িত্ববোধরে অভাব

১০. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:২২
লীনা দিলরূবা বলেছেন: মাসুম ভাই, শিরোনামের 'দায়িত্বরোধ'টায় টাইপো হয়ে গেছে, মনেহয় দায়িত্ববোধ হবে। এছাড়া লেখাটায় ক্ষ গুলো ছুটে গেছে.....
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৪৭

লেখক বলেছেন: ঠিক করে দিয়েছি। আরও কি ভুল আছে?

১১. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৮
অনির্বান বলেছেন: এরা আসলেই ফাউল সব... শুধু বড় বড় কথাই বলতে পারে, এরাই আবার গলাবাজি ও করবে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করবে না। পেপার গুলো ও এখন কেমন যেনো চুপ মেরে গেছে।

মাসুম ভাই আপনিতো সাংবাদিক, পেপার এ কেনো এই ব্যাপারটা নিয়ে এখন আর লেখালেখি হয়না বলতে পারেন???

আমরা শুধু সরকারকে গালাগালি করছি কিন্তু আমাদের ও তো দায় আছে। আমরা ধরেই নিয়েছি যে আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় গেছে, বিচার ও করে ফেলবে। সরকার এর উপর প্রেশার না দিলে তারা ও দেরি করবে।

আগে যেই পরিমান সেমিনার, লেখালেখি হতো, মানুষ জন আলোচনা করতো, তার কিছুই এখন নাই। নির্বাচন এর আগে আমরা সবাই যেইরকম একটা সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছিলাম সেটা বিচার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালানোর দরকার ছিল। আমার মনে হয় আবার সেটা শুরু করার সময় হয়ে গেছে। পেপার এ লিখতে হবে, সামাজিক আন্দোলন চালাতে হবে, তাহলেই সরকার আর এটা নিয়ে সময় নষ্ট করার সাহস পাবে না।

আপনাকে অনেক অনেক ধণ্যবাদ ব্যাপারটা জানানোর জন্যে।
+++
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:০২

লেখক বলেছেন: একমত। আমারো মনে হয় আবার সব কিছু শুরু করা উচিৎ। কেননা ধরে নিলেই হবে না। চাপ রাখতে হবে। এটাও ঠিক বিচার করা সরকারের জন্যও খুব সহজ হবে না। নানা ধরণের চাপ রয়েছে। কিন্তু মানুষকে দেওয়া অঙ্গিকার রক্ষাই হবে বড় কাজ।

১২. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৫
মুহিব বলেছেন: গত ২ বছর্‌ আইনের কাজ কিছু কিছু করেছি। তাতে আমি দেখেছি যা দিবালোকের মত সত্য তাও অনেক সময় আইন দ্বারা সিদ্ধ হয় না। কারন আইনের কিছু ফাক থাকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার সময় যদি কোনভাবে ১জনও খালাস পায় সেটাও হবে মারাত্নক। কাজেই যা করা হবে তা যেন খুব সাবধানে সবরকম ব্যবস্থা নিয়েই করা হয়।

*আমি মনে করি না এই সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আদৌ করবেন।
১৩. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৬
মেসবাহ য়াযাদ বলেছেন: আসল কাজ অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মত সাহস কারো নাই। সদিচ্ছা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর চাপ এ সবকে অস্বীকার করার উপায় নেই। তাছাড়া কথায় বলে না, গরীবের বৌ সবার বৌ... আমাদের রাষ্ট্র হচ্ছে আসলে গরীবের বৌয়ের মতন... আর রাষ্ট্রচালকেরা এক একজন হিজড়া কিসিমের। না পুং, না মং...
১৪. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৩
দারাশিকো বলেছেন: এই দায়িত্ববোধের ব্যাপারটা খুবই অস্পষ্ট, নেতাদের বেলায় আরো বেশী। টিপাইমুখ নিয়া আন্দোলনে সবাই আছে, কিন্তু রাস্তায় মাইর খাইলো ল্যাম্পপোস্টের ছেলেরা... যুদ্ধাপরাধীর বিচারে স্বাক্ষর কর্ছে সবাই, মাগার, বিচারের বেলায় কেউ নাই ... সব ভাওতাবাজি.... আসল লোক পাবো কবে?
১৫. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৬
জানজাবিদ বলেছেন: আইন যেভাবে আছে সেটা দিয়েই বিচার করলে কি সমস্যা? শুধুশুধু সময় ক্ষেপণ!
১৬. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪২
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: চমৎকারট একটা সাইড যেটা আমাদের মত আমজনতার পক্ষে সংবাদপত্র ছাড়া কোনভাবেই জানা সম্ভব না (সম্ভবতঃ সংবাদপত্রগুলো এসব চেপেই যাবেন আজীবন;)), সেটা তুলে ধরেছেন

আইন কমিশন সম্পর্কে জেনে আমি কিছুটা অবাকই হলাম ... আমার মনে উল্টো প্রশ্ন জাগলো লিস্টের আইনজীবিদের মতো এরাও বা আসলে কতটা সিনসিয়ার?
লিস্টের ২০ আর ২৯ নম্বরে বিএনপির সাবেক দুই আইনজীবির নাম দেখে অবাক হলাম? এরা তো যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনকারী!!
৩০ নংয়ের ব্যরিস্টার আঃ রাজ্জাক নিশ্চয়ই ইদানিং পরিচিত হয়ে ওঠা জামাতী আইনজীবিটি নন ...

তবে বস্, আমার মনে হয় ঠিকমতো বাজেট করে প্রফেশনালি আইনজীবিদের মাধ্যমে ইস্যুটি নিয়ে এগুতে হবে ... সেখানেই সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে ... যেমন উপরের লিস্টের লোকদের মধ্যে কারা আসলেই আইনটিকে আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠতে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারবেন তাঁদেরকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে প্রজেক্টে নিয়োগ দিতে হবে বলে মনে করি
টিপিকাল বাংলাদেশী আমলাতান্ত্রিক স্টাইলে কমিশন গঠন করে কিছু হবেনা বলেই মনে হচ্ছে
১৭. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৬
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন: ভোটের জন্য যা বললে সুবিধা তাই বলছেন তারা। এখন ভোটের ব্যাপার নাই তাদের দরকার ও নাই। সিম্পল ম্যাটার ।
১৯. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:৫৩
একরামুল হক শামীম বলেছেন: বিষয়টা খুবই হতাশার। এই তালিকার ৩১ (মোট ৩৩ জনের দুইজন যেহেতু মতামত দিয়েছে) জনের অনেকেই মিডিয়াতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য লেখেছেন, প্রবন্ধ লেখেছেন, এমনকি সমাবেশে বক্তব্যও রেখেছেন।

কিন্তু ২১ মে'তে মতামত চাওয়ার পর তারা আসল কাজটিই করছেন না। সবাই নিজ নিজ জীবনে ব্যস্ততা দেখাচ্ছেন। অথচ অনেকেরই টকশো'তে সরব উপস্থিতি দেখিয়ে যাচ্ছেন।

এবার মনে হয় আবারো কোন উদ্যোগ নেওয়ার সময় উঠেছে। গণস্বাক্ষর থেকে এই উদ্যোগটিকে আমি বেশি কার্য্যকর মনে করছি। তালিকার ৩৩ জনের মধ্যে ৩১ জনকে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও আইন সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত স্বল্প সময়ের মধ্যে জানানোর অনুরোধ জানিয়ে আবেদন অথবা চিঠি পাঠাতে পারি। এইটা হতে পারে ব্লগীয় প্ল্যাটফর্ম থেকে অথবা অন্য কোনভাবে ব্যবস্থা করে। নাহলে এটিও একসময় ইস্যু হয়ে দাড়াবে। আইন কমিশন এবং সরকারের মন্ত্রণালয় থেকে মতামত জানতে চাওয়া ব্যক্তিবর্গের মতামত না জানানোর যুক্তি দিয়ে বিচারের বিষয়টি দীর্ঘায়িত করবে।

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করে মতামত জানানোর জন্য অনুরোধ করবো। আসেন আমরা অন্যদের ক্ষেত্রেও একই ধরণের উদ্যোগ নেই।
২০. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:২৪
জনৈক আরাফাত বলেছেন: প্লাস। পোস্টটা ফেসবুকে শেয়ার করতে ইচ্ছে করছে!
২১. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:২৮
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
একরামুল হক শামীম বলেছেন: .......আইন কমিশন এবং সরকারের মন্ত্রণালয় থেকে মতামত জানতে চাওয়া ব্যক্তিবর্গের মতামত না জানানোর যুক্তি দিয়ে বিচারের বিষয়টি দীর্ঘায়িত করবে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করে মতামত জানানোর জন্য অনুরোধ করবো। আসেন আমরা অন্যদের ক্ষেত্রেও একই ধরণের উদ্যোগ নেই।



প্রস্তবনা থাকলে ভেবে দেখা উচিৎ। ব্লগারদেরই এগিয়ে আসতে হবে এমন কথা নেই, বা আমাদের আশায় বসে থেকে লাভ নেই। সৎ, স্বেচ্ছাসেবী যে কোন কর্মীকে এধরনের উদ্যোগে সামিল করা যেতে পারে।
২৩. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৩৮
অন্যরকম বলেছেন: +
চমৎকার কাজ করেছেন মাসুমভাই!
দেখতে অবাক লাগে, এসমস্ত বড় বড় আইনজীবি কিংবা আইন বিশেষচ্ঞরা অনেক বড় বড় কথা বললেও কাজের সময় ঠুটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছেন!
এইলেখাটা আরও বড় কোন মিডিয়া যেমন পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া যেমন টিভিতে রিপোর্টিং করা যায় না?
২৪. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:০৫
নুশেরা বলেছেন: Good job done.
Just a little correction needed in "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ধারা-৪৭ (৩)". "dhara" must be replaced with "onucched" (Constitution has got "article"s).


sorry; couldn't write in Bangla
২৫. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:১৪
সুবিদ্ বলেছেন: ভাইয়া: আমার প্রশ্ন হলো এখানে ভূতাপেক্ষা কার্যকারিতা কি দেয়া যাবে আদৌ.......১৯৭১-এর ঘটনার বিচার ১৯৭৩-এর আইনে বা ২০০৯-এর সংশোধনীর উপরে কি করা যাবে???

আমরা যেমন দেখলাম বি.ডি.আর. আইন সংশোধন করে ২৫/২৬ ফেব্রুয়ারীর বিদ্রোহের ঘটনা বিচার সম্ভব নয়......

২৬. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৫৫
ফারহান দাউদ বলেছেন: সদিচ্ছা দরকার সবার আগে, সেটা না আছে রাজনীতিবিদদের, না আছে বুদ্ধিজীবিদের, সবই ক্ষমতায় যাওয়ার খেলা।
২৮. ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫
রাতমজুর বলেছেন:
মাসুম ভাই একটু যোগাযোগের দরকার ছিলো, আমাকে ০১৫৫৩২৬৬৩৩৮ এ পাবেন,
২৯. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩১
জেরী বলেছেন: ক্ষমতায় গেলে সব দেওয়া প্রতিশ্রুতিই ভুলে যায়
৩০. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:২০
দাদাভাই এর ব্লগ বলেছেন: সরকারের ওপর চাপ না রাখলে তারা বিচার করতে ভূলে যেতে পারে।
জনমত তৈরি করা আর চাপ রাখাটাই এখন জরুরি......
৩১. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:০৮
রোবোট বলেছেন: এটার আপডেইট নিয়ে রিপোর্টিং করা যায় না? আপনি না করুন, আপনার কোন সহকর্মী?
৩২. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:১৯
চাষী বলেছেন: পাকিস্থান আর সৌদিআরব সরকারকে ধমক দিছে তাই সরকার পিছলাইতেছে।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮১০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আকাল-তবু স্বপ্ন থাকে
বিরোধ-তবু স্বপ্ন থাকে
ভাঙ্গন-তবু স্বপ্ন থাকে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ