somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... একটা শিক্ষামূলক পোস্ট
রাজার ছেলে ও ধোপার ছেলে একসাথে লেখাপড়া করে। বড় হয়ে রাজার ছেলে রাজা হলো, আর ধোপার ছেলে ধোপা। ধোপা প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে গাধার পিঠে কাপড় নিয়ে রাজপ্রসাদে যায়, কেউ দেখার আগেই ফিরে আসে।

একদিন রাজা যাবে শিকারে। প্রধানমন্ত্রী জ্যোতিষীকে দিয়ে দিন গননা করে ভাল একটা তারিখ বের করলেন। খুব ভোরে রওয়ানা দিয়েছেন রাজা। সামনেই পড়ে গেল ধোপা। মন্ত্রীরা হায় হায় করে উঠলেন, ধোপার মুখ দেখা নাকি অপয়া। কিন্তু ছোটবেলার বন্ধু বলে কথা। রাজা কথা বললেন। শিকারে যাবে শুনে ধোপা মানা করলো রাজাকে, দিনটা নাকি খারাপ। তেড়ে আসলের মন্ত্রী ও জ্যোতিষী। তাদের গননায় দিনটা সবচয়ে অপয়া।

রাজা গেলেন শিকারে। মাঝপথে শুরু হলো ঝড়। কোনো রকম বেঁচে গেলেন রাজা। মন্ত্রীদের উপর প্রচন্ড ক্ষেপে গেলেন। ঢেকে আনলেন সেই ধোপাকে। জড়িয়ে ধরে বললেন, বন্ধু তুমি আমার প্রধানমন্ত্রী হও। কারণ তুমিই ঠিক কথা বলেছিলে। ধোপা তখন বললো, রাজা মশাই, আমার একটা কথা আছে। সেটা হল, প্রতিদিন ভোরে উঠে আমি আমার গাধার লেজের দিকে তাকাই। যখন দেখি লেজ নরম তখন বুঝি দিনটা ভালই যাবে, ঝড় বৃষ্টি হবে না। কিন্তু সেদিন দেখলাম লেজটা শক্ত হয়ে আছে, তখনই বুঝেছিলাম দিনটা ভাল যাবে না। সুতরাং মন্ত্রী বানালে আমার গাধাটাকেই বানান।

শিক্ষা: এই গল্পের শিক্ষা হচ্ছে-সেই থেকে গাধারাই মন্ত্রী হচ্ছে।

পাদটিকা: এক মন্ত্রীনির কথা শুনে তারাপদ রায়ের এই গল্পটা আবার মনে পড়লো।

২.

ছেলেটা আর্ট স্কুলে একটা ছবি আঁকলো। ছবিটা দেখেই আর্টের শিক্ষক জোড়ে একটা চড় মারলেন। ছেলেটা চীৎকার করে কান্না শুরু করলো। কান্না শুনে চলে আসলো হেড মাস্টার। ছবিটা তিনি দেখলেন। সাথে সাথে টিসি দিয়ে দিলেন ছেলেটাকে। বাসায় যেয়ে বললো ছবি আঁকার কারণে এই অবস্থা। বাবা-মা ছবিটা দেখলো এবং ত্যাজ্যপুত্র করে দিল সাথে সাথেই।

রাস্তায় একা ঘুরতে ঘুরতে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ। সব শুনে ছবিটা দেখতে চাইলো। দেখেই হাজতে ঢুকিয়ে পরেরদিন চালান করে দিল কোর্টে। মামলা উঠলো কোর্টে। আলামত হিসেবে উপস্থিত করা হলো ছবিটি। বিচারক ছবিটা দেখেই ২০ বছরের জেল দিয়ে দিলেন।

২০ বছর পর জেল থেকে মুক্তি পেলো ছেলেটি। ছবিটি এখনও তার হাতে। হঠাৎ দেখলো রাস্তার ওপারে একটা চার্চ। ভাবলো পাদ্রিকে ছবিটা দেখিয়ে এর প্রতিকার চাইতে হবে। সে কথা ভেবে রাস্তা পার হতে হাঁটা শুরু করা মাত্রই উল্টা দিক থেকে একটা ট্রাক এসে পিষে ফেললো ছেলেটিকে।

শিক্ষা: রাস্তা পার হওয়ার সময় দুই দিক দেখে পার হতে হয়

পাদটিকা: যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আজ আদালত রুল দিছে।

৩.

ডালিম কুমার ভালবাসে কাজলরেখাকে। বিয়েও ঠিকঠাক। একদিন ডালিমকুমার গেলো কাজলরেখার বাসায়। গিয়ে দেখে কাজলরেখার বোন তাজেল ছাড়া আর কেউ বাসায় নেই।

তাজেল বললো সে ডালিম কুমারের জন্যই অপোয় আছে। তাজেল জানালো, সেও ডালিমকুমারতে ভালবাসে এবং কাজল রেখার চেয়ে সেও কোনো অংশে কম নয়।

ডালিমকুমার আতকে উঠলো। জোর প্রতিবাদ করে বললো, এটা কিছুতেই হতে পারে না। সে কাজল রেখাকেই চায়। তাজেল বললো, বিয়ে না হোক, তারা তো অন্য কিছুও করতে পারে এবং তার কোনো আপত্তি নাই। এবারো ডালিমকুমার ছি ছি করে উঠলো।

তাতেও দমলো না তাজেল। ডালিমকুমার অবাক হয়ে দেখলো তাজেল একে একে সব পোশাক খুলে ফেলছে। এবার ডালিম কুমার ছিটকে বের হয়ে আসলো বাসা থেকে। বের হয়ে দেখে তার পার্ক করা গাড়িটার পেছনেই আরেকটা গাড়ি এবং তাতে বসে আছে,কাজলরেখাসহ তার হবু শ্বশুর-শ্বাশুরীসহ সবাই। তার হবু শ্বশুর বললো, তোমার সাথেই আমার মেয়ের বিয়ে হবে। আমরা আসলে তোমাকে পরীক্ষা করছিলাম। তুমি পাশ করেছো।

শিক্ষা- কনডম সর্বদা গাড়িতে রাখতে হয়।

এইটার সচিত্র ভার্সন এইখানে

৪.

বয়স যখন ১৮ থেকে ২১, মেয়েরা তখন আফ্রিকার মতো। সে তখন অর্ধেক আবিস্কৃত, অর্ধেক বন্য

বয়স যখন ২২ থেকে ৩০, মেয়েরা তখন আমেরিকার মতো। সে তখন সম্পূর্ণ আবিস্কৃত ও বিজ্ঞানসম্মত ভাবেই পরিপূর্ণ

বয়স যখন ৩০ থেকে ৩৫, মেয়েরা তখন যেন ভারত ও জাপানের মতো। অত্যন্ত উত্তেজিত, জ্ঞানী এবং সুন্দর।

বয়স যখন ৩৫ থেকে ৪০, মেয়েরা তখন ফ্রান্সের মতো। যেন যুদ্ধের পর সে অর্ধেক ধ্বংসপ্রাপ্ত কিন্তু এখনো যথেষ্ট আকাঙ্খিত।

বয়স যখন ৪০ থেকে ৫০, মেয়েরা যেন জার্মানির মতো। যুদ্ধে সে হেরে গেছে কিন্তু এখনো আশা ছাড়েনি।

বয়স যখন ৫০ থেকে ৬০, মেয়েরা তখন রাশিয়ার মতো। অনেক বেশি ছড়ানো, শান্ত কিন্তু সেখানে কেউ যেতেই চায় না।

বয়স যখন ৬০ থেকে ৭০, মেয়েরা তখন ঠিক যেন ইংল্যান্ড। অত্যন্ত গৌরবময় অতীত আছে তার, কিন্তু কোনো ভবিষ্যত নেই।

৭০ এর পর থেকে মেয়েরা সাইবেরিয়ার মতো হয়ে যায়। সবাই জানে সে কোথায়, কিন্তু কেউ যায় না, ভুল করেও না।

শিক্ষা: এইটায় তো লাইনে লাইনে শিক্ষা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29097882 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29097882 2010-02-14 22:46:22
ভারত থেকে ঋণ নয়, বাণিজ্য সুবিধা পাওয়া বেশি প্রয়োজন ভারতের দেওয়া ঋণ উপকারে আসবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে এটিকেই বড় সাফল্য ধরে নেওয়াটা কতখানি যৌক্তিক সে প্রশ্ন থেকেই যায়। সবচেয়ে বড় কথা ঋণ পাওয়াটাই সফরের বড় অর্জন হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ঋণ নয়, বাজার সুবিধা কতখানি বাড়লো সেটাই হতে হবে আলোচনার মূল বিষয়। অথচ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর শেষে বাংলাদেশ ভারতের বাজারে প্রবেশের বাড়তি কি সুবিধা পেলো সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এমনকি বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানিতে ভারত যেসব অশুল্ক বাধা দিয়ে আসছে সেগুলো কতখানি দূর হলো তাও ভাল করে জানা গেল না।
একটা সময় ছিল যখন ঋণ পাওয়াই ছিল বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য । বাংলাদেশের পরিচয় ছিল পরনির্ভর একটি দেশ হিসেবে। ৮০ এর দশকে এরশাদের শাসনামলে উন্নয়ন বাজেটের পুরোটাই ছিল বৈদেশিক ঋণ নির্ভর, এমনকি রাজস্ব বাজেটেও ঢুকে পড়েছিল বৈদেশিক ঋণ।
১৯৮১-৮২ অর্থবছরে বাংলাদেশের নেওয়া মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশ। এর বিপরীতে সে সময় রপ্তানি আয় ছিল জিডিপির সাড়ে তিন শতাংশের সামান্য বেশি, আর প্রবাসী-আয় বা রেমিট্যান্স ছিল আরও কম, প্রায় ২ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশ সে সময় ছিল অনেকটাই পরনির্ভর, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়ার ক্ষেত্রে। তখন প্রতিবছর প্যারিসে সাহায্য দাতাদের বৈঠক হতো। কোন সরকার কতখানি সফল তা মাপা হতো সেখানে বৈদেশিক সাহায্য পাওয়ার পরিমানের উপর।
সেই বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এখন দেশটির বৈদেশিক সাহায্য জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ, অন্যদিকে রপ্তানি আয় অনেক বেড়ে হয়েছে ১৮ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স প্রায় ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ঋণ গৌণ হয়ে পড়েছে, উঠে এসেছে বাণিজ্য।
সবমিলিয়ে বলা যায় ঋণ নির্ভর বাংলাদেশ বাণিজ্য নির্ভর দেশে পরিণত হয়েছে। ঋণ পাওয়া এখন বাংলাদেশের মূল ল্য নয়, বরং বাজার সুবিধা পাওয়াই প্রধান ল্য। এই বাজার সুবিধা পেতে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনে বেশি বেশি পণ্য রপ্তানি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি দুই প্রতিবেশি দেশের সাথে। নিকট প্রতিবেশি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৩শ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে, চীনের সাথে আড়াইশ কোটি ডলারের বেশি। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সংখ্যা যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি পণ্য রপ্তানির বিদ্যমান অশুল্ক বাঁধা দূর করাও জরুরী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরে এ েেত্র গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে সকলেরই আশা ছিল।
যৌথ ঘোষণার ৩৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে রেলওয়ে অবকাঠামো, রেল ইঞ্জিন ও বগি, সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের উন্নয়ন, আর্টিকুলেট বাসসহ বিভিন্ন বাস ক্রয় এবং ড্রেজিং প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহার করার জন্য এক বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।’
প্রথমত: যৌথ ঘোষণা থেকে মনে হতে পারে, ভারতের দেওয়া ঋণ সরবরাহকারীর ঋণের (সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট) মতোই। সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট শর্তযুক্ত ঋণ। সরবরাহকারী দেশের শর্ত অনুযায়ী এই ঋণ ব্যবহার করতে হয়। যেমন সরবরাহকারী দেশ হয়তো বলে দিলো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য তারাই ঋণ দেবে, কিন্তু কাজটি তাদের দিয়েই করাতে হবে। সুতরাং প্রশ্ন হলো, ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহার, রেল ও সড়ক যোগাযোগসহ যে ধরণের সুযোগ সুবিধা ভারতকে দেওয়া হচ্ছে সেগুলো ভালভাবে পেতেই কি এসব প্রকল্প এবং ১শ কোটি ডলার ঋণ। যৌথ ঘোষণায় যে সব প্রকল্পের কথা বলা আছে সেগুলো বাস্তবায়ন না করলে কি ঋণ পাওয়া যাবে না। নাকি, এই ১শ কোটি ডলার যেখানে খুশী সেখানে খরচ করা যাবে।
ভারতে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে স্থল বন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন আছে, সীমান্ত এলাকার অবকাঠামোও ভাল করতে হবে। বাংলাদেশ স্টান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনষ্টিটিউশনের (বিএসটিআই) দতা ও সামর্থ্য বাড়ানো প্রয়োজন। বাণিজ্য বাড়ানোর স্বার্থে যদি ১শ কোটি ডলারের ঋণকে এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হিসেবে ব্যবহার করা যায় তাহলেই হয়তো বাংলাদেশ লাভবান হতে পারবে।
দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশের জন্য ঋণ পাওয়া এখন তেমন বড় কোনো সমস্যা না। আবার চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন বা রেলওয়ের সংস্কারের কথা বলে বহুজাতিক দাতাসংস্থাদের কাছ থেকে এর চেয়েও বেশি এবং সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া সম্ভব। বিশ্বব্যাংক যে সহজ শর্তের ঋণ দেয় তা ৩৫ থেকে ৪০ বছরে পরিশোধ করতে হয়, আরও বাড়তি ১০ বছর পাওয়া যায়। এ জন্য সুদ নয়, সার্ভিস চার্জ হিসেবে দিতে হয় দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতের প্রতিশ্রুত এই ঋণের জন্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে যত সহজ শর্তই হোক না কেন, বলা যায় ঋণ পাওয়া নয় ঋণ ব্যবহার করাই বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা।
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া ১৭৯ কোটি ডলার ঋণ এখনো অব্যবহৃত পড়ে আছে। ব্যবহার করতে না পারাসহ নানা কারণে এখন পর্যন্ত ১৭৫ কোটি ডলার ঋণ বাতিল করেছে তারা। অন্যান্য দাতাসংস্থার হিসেব নিলে অব্যবহৃত ঋণের পরিমাণ ৪শ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এমনকি রেলওয়ে সংস্কার প্রকল্পের প্রায় ৪৬ কোটি ডলার পড়ে আছে, ছাড় করাতে পারছে না।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, এই ঋণের অর্থ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে ব্যবহার করা যাবে। ১শ কোটি ডলার বা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) চার ভাগের এক ভাগেরও কম। তার উপর এডিপি ব্যবহার করতে না পারার অদতা তো আছেই। এডিপি বাস্তবায়নের সামর্থ্য ক্রমান্বয়ে কমছে। চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ২৯ শতাংশ। সুতরাং ঋণের টাকা এডিপিতে খরচ করার সমতাও বড় ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন। সরকার যে ভাল বিনিয়োগকারী নন সেটি মোটামুটি প্রমানিত।
সুতরাং কোনো অবস্থাতেই ভারত থেকে ১শ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া বড় ধরণের অর্জন হতে পারে না। ঋণের অভাবে অর্থনীতির কোনো কিছু থেমে নেই। আর ভারত থেকে ঋণ নয়, বাণিজ্য সুবিধা পাওয়াই হবে বেশি লাভজনক এবং কার্যকরী। সুকরাং বাজার সুবিধা পাওয়াই হওয়া উচিৎ যে কোনো দেশের ক্ষেত্রেই, যে কোনো অর্থনৈতিক আলোচনার মূল নীতি।
বাংলাদেশ বহুদিন ধরে ভারতের কাছ থেকে শূণ্য শুল্ক সুবিধা চেয়ে আসছে। বিগত আওয়ামী লীগের সময় অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকেই এই আলোচনা চলে আসছে। ভারত ৪৬০টি স্পর্শকাতর পণ্যের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এ থেকে ৪৭টি পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেবে বলে অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এই ৪৭টি কি ধরণের পণ্য, বাংলাদেশ এসব পণ্য তৈরি করে কীনা, বাংলাদেশ কতটুকু লাভবান হলো-তা এখনো কিছুই জানা গেল না। সফরেও জানা যায়নি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও কিছু জানে না। বাংলাদেশের আশা ছিল ভারতের পে কোনো স্পর্শকাতর তালিকাই থাকবে না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য বাজার খুলে দিতে হচ্ছে। গত নভেম্বরে জেনেভায় অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিওর বৈঠকে জানুয়ারী থেকে বাজার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্রাজিল। ভারতকেও একই ধরণের ঘোষনা দিতে হবে। একারণেও আশা ছিল ভারত হয়তো প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় এই সুযোগটা নেবে। কিন্তু তারা কোনো ঘোষণাই দিল না।
সফরে একটি যৌথ ঘোষণা হয়েছে। এখন এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পালা। আর এ কাজটি করবে আমলারা। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, আলোচনার টেবিলে আমরা দুর্বল। সুতরাং যৌথ ঘোষণার আলোকে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সুবিধা আদায় করতে হলে যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে। আর তা করা না গেলে যৌথ ঘোষণায় দেওয়া যে কোনো সুবিধা আদায় করাই দুষ্কর হয়ে পড়বে।

আজ প্রথম আলোতে প্রকাশিত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29086836 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29086836 2010-01-27 20:27:38
যেদিন মোনালিসা দেখতে গেলাম
প্যারিসে গেলে লুভর মিউজিয়ামে যাওয়া নিয়ম। বিশেষ করে মোনালিসা দেখে না আসা অপরাধের মধ্যে পড়ে। তাতে মোনালিসাকেও অপমান করা হয়। তাই প্যারিসে গেলেই মোনালিসাকে দেখে আসতে হয়। মোনালিসার বাস লুভর মিউজিয়ামে।
ইউরোপে সহজে ফ্রি কিছু পাওয়া যায় না। সবকিছুই দাম দিয়ে কিনতে হয়। খানিকটা ব্যতিক্রম লুভর। তবে এজন্য একটি যদি আছে। আর তা হলো মাসের প্রথম রোববার লুভরে যেতে হবে। এদিন লুভরে প্রবেশ বিলকুল ফ্রি। ফ্রি বলেই নানা সমস্যা। পুরো প্যারিসবাসী মনে হয় এইদিনের অপোয় থাকে। লম্বা লাইন, প্রবেশ কষ্টকর।
নানা জনের নানা পরামর্শ মেনে লুভরের সামনে হাজির হলাম ভোর আটটায়। প্যারিসে সূর্যের আলো দেখা যায় ৯টা দিকে, আটটা মানে তখনো অন্ধকার। দেখলাম আমার চেয়েও বুদ্ধিমান মানুষ আছে, লাইনে আমার সামনে আরও চারজন। কনকনে শীত। মোনালিসা দেখার আনন্দে মাফলার আনতে ভুলে গেছি, সবচেয়ে বড় অপরাধ করেছি ছাতা না এনে। চরম বিরক্তিকর হিসেবে ইউরোপের বৃষ্টি পৃথিবী বিখ্যাত। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল থেমে থেমে।
আমার সামনে ভিনদেশি এক জুটি, ঠিক পেছনেও তাই। কথা শুনে ভাষা চেনা গেল না। পিছনের মহিলা সুন্দরী অথচ হৃদয়হীনা নন। বৃষ্টি হতেই তাঁর নিজের ছাতাটা আমাকে দিয়ে দিলেন। মমতাময়ীর মমতায় বৃষ্টির সমস্যা মিটলেও শীত থেকে সহজে বাঁচা গেল না। সামনের জুটি ইউরোপীয়ান কায়দায় শীত থেকে মুক্তির চেষ্টা করে যেতে লাগলো পুরোটা সময়। (ফেঞ্চ কিসের ইমো হবে)
আটটার সময় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু কখন ঢুকতে দেবে কেউ জানি না। লুভরের প্রবেশ পথটা পিরামিড আকারের মতো তৈরি করা। পেছন ফিরে দেখলাম লোকে লোকারণ্য। সামনের খোলা চত্বরটা দীর্ঘ। লাইন লুভর ছাড়িয়ে বাইরে চলে গেছে। মানুষের সংখ্যা পাঁচ হাজারের কম হবে না। সবই ঠিক আছে, কিন্তু দরজা আর খোলে না। এদিকে অনেক ভোরে এসেছি বলে সকালের খাওয়া হয়নি। অভিজ্ঞদের দেখলাম খাবার সাথে নিয়েই এসেছে, কেবল আমিই অভুক্ত।
প্রতিবছর ৬০ লাখের বেশি মানুষ লুভরে যায় মোনালিসাকে দেখতে। এই ৬০ লাখের বড় অংশই যে মাসের প্রথম রোববার যায় তা বুঝতে সময় লাগলো না। ১০টার মধ্যে পুরো চত্বরটা ভরে গেল। ১০টার দিকে দেখি দুইটা বোর্ড রাখলো আমাদের সামনে। এই প্রথম সেখানে ইংরেজি কিছু লেখা পেলাম। ফরাসী ভাষায় তো আছেই লেখা, নীচেই আবার ইংরেজি করে দেওয়া। সেখানে বলা আছে যাদের কাছে ব্যাগ আছে তারা ঢুকবেন ডানের দরজা দিয়ে, আর ব্যাগ নাই যারা তারা বায়ের দরজা দিয়ে। মুহুর্তের মধ্যে আমি বায়ের দরজার একনম্বর ব্যক্তি হয়ে গেলাম। ইতিহাসে লেখা হয়ে থাকলো যে, ঐদিন লুভরে প্রথম প্রবেশ করেছিল একজন বাংলাদেশী। ঠিক সোয়া দশটায় এই ইতিহাসটি রচিত হয়েছিল।
একদিনে লুভর দেখা সম্ভব না। সাত দিনে দেখা সম্ভব একথাও বলা যায় না। আমার হাতে সময় মাত্র একদিন। সে কারণেই সবার আগে লুভরের যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল মাথায়, লুভরে ঢুকলামও সবার আগে। পুরো লুভর হেঁটে হেঁটে দেখতে হলে প্রচুর প্রাণশক্তির প্রয়োজন। তাই ভাবলাম আগে কিছু খেয়ে নেই। খাওয়ার ব্যবস্থা আছে সেখানে। উদরপূর্তি করে ভাবলাম এবার তাহলে লুভর দেখা হোক। যেখানে বসে খেলাম তার ঠিক পাশে ছোট একটা সিড়ি। কোথা থেকে লুভর দেখা শুরু করবো, মোনালিসা আগে দেখবো না পড়ে এসব ভাবতে ভাবতে সেই ছোট সিড়িটা দিয়ে উপরে উঠলাম কিছুটা। তারপর দেখলাম আরেকটা সিড়ি। সেটা দিয়ে খানিকটা উপরে উঠতেই একটু বেশী শীত শীত করতে লাগলো। ভিতরে তো এতোটা শীত লাগার কথা না। ভাবলাম এখানে মনে হয় বিশেষ কোনো চিত্রকর্ম রয়েছে। সেই আগ্রহে আরেকটু এগিয়ে যেতেই খোলা এক চত্বরে চলে আসলাম। আর নিজেকে আবিস্কার করলাম লুভরের বাইরে। নিজের অজান্তে আমি আসলে লুভরের জরুরী নিগর্মনের সিড়ি দিয়ে বাইরে চলে এসেছি। এর মাধ্যমে রচিত হলো আরেকটি ইতিহাস। লুভরে সবচেয়ে কম থাকা দর্শনার্থীদের মধ্যে আমার অবস্থান সম্ভবত শীর্ষে।
তারপর? আবার লাইনের শেষ খুঁজে পেলাম লুভরের একদম বাইরের রাস্তায়। আমি যখন দাঁড়ালাম আমার সামনে তখন ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। কে জানে দ্বিতীয়বার লাইনে দাঁড়ানো মানুষের মধ্যেও হয়তো আমিই ছিলাম প্রথম।

আজ রস+আলোতে প্রকাশিত


লুভরে ঢোকার লাইন, এর শেষ দেখা যায় না


আমি যখন লাইনের সামনে


আমি যখন লাইনে সবার পেছনে


লুভরের দেওয়াল চিত্র। সারা লুভর জুরে এসব স্থাপত্য দেখা যায়


লাইনে দাঁড়াইয়া এসবই দেখতে হয়েছে


আমার পেছনের লাইন


এই পিরামিড দিয়ে ঢুকতে হয় লুভরে


লুভরে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29076535 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29076535 2010-01-11 20:13:03
মুভি ব্লগ: শূন্য দশকের সেরা ১০ ছবি
ক. পিটার ট্রেভার্স একজন নামকরা চলচ্চিত্র সমালোচক। লেখেন রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনে। এখানে তার মতে সেরা ১০ ছবির তালিকা দেওয়া হল।


১. দেয়ার উইল বি ব্লাড
২. চিলড্রেন অব ম্যান
৩. মুলহল্যান্ড ড্রাইভ
৪. এ হিস্ট্ররি অব ভায়োলেন্স
৫. নো কান্ট্রি ফর ওল্ডম্যান
৬. দি ইনক্রেডিবলস
৭. ব্রকব্যাক মাউন্টেন
৮. দি ডিপারটেড
৯. মিসটিক রিভার
১০. দি লর্ড অব দি রিংস (ট্রিলজি)

খ. টাইম ম্যাগাজিন মানেই বিশেষ কিছু। তারাও একটি তালিকা দিয়েছে শূন্য দশকের সেরা ১০টি ছবির।


১. ওয়াল-ই (২০০৮)
২. দি লর্ড অব দি রিংস (২০০১-০৩)
৩. টক টু হার (২০০২)
৪. স্ল্যামডগ মিলিওনিয়র (২০০৮)
৫. ক্রচিং টাইগার, হিডেন ড্রাগন (২০০০)
৬. মুলান রুজ (২০০১)
৭. দি হার্ট লকার ২০০৯)
৮. হোয়াইট ডায়মন্ড (২০০৫)
৯. ফারেনহাইট ৯/১১ (২০০৪)
১০. আভাটার (২০০৯)

গ. রজার এভার্ট আরেকজন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র সমালোচক। এবার তার তালিকাটি দেখতে পারি।


১. ব্যাড লেফটেনেন্ট
২. ক্রেজি হার্ট
৩. অ্যান এডুকেশন
৪. দি হার্ট লকার
৫. ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ড
৬. নোয়িং
৭. প্রেসিয়াস: বেসড অব দ্য নোবেল পুশ বাই সেপিরে
৮. এ সিরিয়াস ম্যান
৯. আপ ইন দি এয়ার
১০. দি হোয়াইট রিবন

ঘ. আইএমডিবি মূলত দর্শকদের ভোটের মাধ্যমে তালিকা করে। সে হিসেবে এর একটি আলাদা মূল্য আছে। এই তালিকাটি হচ্ছে-


১. দি ডার্ক নাইট
২. দি লর্ড অব দি রিংস: রিটার্ন অব দি কিং
৩. সিডেড ডি ডিউস (সিটি অব গড) (২০০২)
৪. দি লর্ড অব দি রিংস : ফেলোশিপ অভ দি রিং
৫. মেমেন্টো
৬. আভাটার
৭. দি লর্ড অব দি রিংস: দি টু টাওয়ার্স
৮. ওয়াল-ই
৯. এমেলি
১০. দি লাইভস অব আদারস

ঙ. মেটাক্রিটিক হলো চলচ্চিত্র সমালোচকদের নিয়ে তৈরি একটি সাইট। শূন্য দশকে সমালোচকরা সবচেয়ে বেশি নম্বর দিয়েছেন এই দশটি ছবিকে-


১. প্যানস ল্যাবিরিন্থ
২. ৪ মান্থস, ৩ উইকস অ্যান্ড দু ডেজ
৩. র‌্যাটাটুইলি
৪. স্পিরিটেড অ্যাওয়ে
৫. দি হার্ট লকার
৬. লর্ড অব দি রিংস: দি রিটার্ন অব দি কিং
৭. সাইডওয়েজ
৮. ওয়াল-ই
৯. ক্রচিং টাইগার, হিডেন ড্রাগন
১০. ৩৫ শটস অব রাম

চ. এবার সেরা ব্যবসা সফল ছবির তালিকা। শূন্য দশকের সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবির একটি তালিকাও করা যায়। সর্বশেষ হিসেবে-


১. আভাটর-১,১৩১,৭৫২,৪৬৪ ডলার
২. লর্ড অব দি রিংস: দি রিটার্ন অব দ্য কিং-১,১১৯,২১৯,২৫২ ডলার
৩. পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: ডেড ম্যানস চেস্ট-১,০৬৬,১৭৯,৭২৫ ডলার
৪. দি ডার্ক নাইট-১,০০১,৯২১,৮২৫ ডলার
৫. হ্যারি পটার অ্যান্ড দি ফিলোসফারস স্টোন-৯৭৪,৭৩৩,৫৫০ ডলার
৬. পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: এট ওয়ার্ল্ডস এন্ড-৯৬০,০০৬,৪৯২ ডলার
৭. হ্যারি পটার অ্যান্ড দি ওর্ডার অব দি ফিনিক্স-৯৩৮,২১২,৭৩৮ ডলার
৮. হ্যারি পটার অ্যান্ড হাফ ব্লাগ প্রিন্স-৯৩৪,২১২,৭৩৮ ডলার
৯. দি লর্ড অব দ্য রিংস: দি টু টাওয়ার্স-৯২৫,২৮২,৫০৪ ডলার
১০. স্রেক টু-৯১৯,৮৩৮,৭৫৮ ডলার।

ছ. এবার আমার তালিকা। ক্রমানুসারে না। প্রথম বা দ্বিতীয় করা সম্ভব না। তালিকাটা সম্পূর্ণ বলা যাবে না। লেখার সময় যেগুলোর কথা মনে পড়েছে সেগুলো নিয়েই এই তালিকা।


১. হোটেল রোয়ান্ডা-যুদ্ধ, সংঘাত, রাজনীতি-এসব নিয়ে সিনেমা আমাকে সবসময়েই বেশি টানে। সেই দিক থেকে হোটেল রোয়ান্ডা আমার অনেক পছন্দের ছবি। আমার কাছে শূন্য দশকের অন্যতম সেরা ছবি এটি।
২. বর্ণ সিরিজ- আমার ধারণা স্পাই থ্রিলার ঘরানার এটাই সেরা ছবি। এমনকি অবাস্তব জেমস বন্ড সিরিজের চেয়েও। সমালোচকরাও মানেন এই ছবির পর জেমস বন্ড ছবির স্টাইলও পাল্টে যেতে বাধ্য হয়েছে।
৩. লস্ট ইন ট্রান্সসেলেশন-ছবিটা অন্যরকম। নাটকীয়তা নাই, একের পর ঘটনা ঘটে না। শান্ত একটা ছবি। অসম বন্ধুত্বের। স্কারলেট জোহানসনকে যারা পছন্দ করেন তাদের অবশ্যই দেখা উচিৎ
৪. দি রিডার-২০০৮ সালের ছবি। কেন উইনস্লেট এ থেকে সেরা অভিনেত্রীর অস্কার পেয়েছিল। অসাধারণ অভিনয়, ছবিটাও চমৎকার।
৫. ৪ মান্থস, ৩ উইকস অ্যান্ড দু ডেজ-রুমানিয়ার ছবি। চচেস্কুর সময় রুমানিয়ায় গর্ভপাত নিষিদ্ধ ছিল। সেই সময়ে গর্ভপাত করানোর একটি ঘটনা নিয়ে এই ছবি। অন্যরকম এক ছবি। এই ছবির রেস সহজে যায় না।
৬. দিল চাহাতা হ্যায়-তালিকায় একটি হিন্দী ছবি দিলাম। ফারহান আখতারের এই ছবি হিন্দী ছবির জগৎকে অনেকখানি আধুনিক করে দিয়েছে বলে মনে করি। আমি আবারও এটি দেখতে আগ্রহী
৭. ডিপারচারস- জাপানের এই ছবিটি আমাকে দারুণ ভাবে অবাক করে দিয়েছিল। আমি কোনো ধরণের উচ্চাশা ছাড়াই ছবিটা দেখতে শুরু করেছিলাম। ছবি শেষ করার পর মুগ্ধতা আমার এখনো কাটেনি। মৃত্যু যাত্রা নিয়ে এই ছবি।
৮. ফ্রস্ট/নিক্সন-সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট আর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন নিয়ে এই ছবি। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর পদত্যাগ করেছেন নিক্সন। নবীন সাংবাদিক ফ্রস্ট তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নিতে আগ্রহী। সেটি নিয়ে ছবি। আমার খুবই প্রিয়।
৯. মুলহল্যান্ড ড্রাইভ: ছবিটা দেখে প্রথমে বুঝাই যায় না শেষ পর্যন্ত কি হলো। কোনটা আসল আর কোনটা কল্পনা। দর্শকদের দারুণভাবে বিভ্রান্ত করতে পেরেছে এই ছবি। একেকজন একেক ভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই ছবির। আমি তো মুগ্ধ।
১০. দি পারস্যুট অব হ্যাপিনেস-ভীষণ আবেগি একটি ছবি। সত্যি ঘটনা নিয়ে ছবি। অসাধারণ অভিনয়। উইল স্মিথের জীবনে সেরা ছবি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29075174 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29075174 2010-01-09 18:06:37
শীতের সময় কী কেউ প্যারিস যায়? আমি জেনেভা থেকে উঠলাম এরকম এক ট্রেনে। ছাড়লো সময় মতোই, ঠিক সাতটা ১৭তে। যাবো প্যারিস। ট্রেনে উঠার ঠিক আগে মোবাইলে ২০ ফ্রাঁ দিয়ে রিচার্জ করেছি। ট্রেনে উঠেই ভাবলাম ফেসবুকে একটা স্টাটাস দিয়ে দেই। মোবাইল দিয়ে ঢুকলাম নেটে, স্ট্যাটাস দিতে সবমিলিয়ে সময় লেগেছে ৪ থেকে ৫ মিনিট। নেট থেকেই বের হতেই দেখি এসএমএস। আমাকে জানালো আমার ক্রেডিট আছে মাত্র ২ ফ্রাঁ। সুইজারল্যান্ডের সিম, ফ্রান্সে ঢুকেছি বলে এতো টাকা কাটবে? (ফেসবুকরে মাইনাস)।
তাও যদি ট্রেনে লোভনীয় কিছু ঘটতো। আমার পাশে আমার দেশের সাংবাদিক দিলাল। ঐপাশের সিটে সুন্দরী এক মেয়ে, উঠেই মুখের উপর কোনো এক ভাষার একটা বউ সেই যে মুখের উপর রাখলো, বই নামলো সেই প্যারিসে যেয়ে। দ্রুত গতির ট্রেন, চার ঘন্টা কেটে গেল দ্রুতগতিতে, কোনো ঘটনা ছাড়াই।
প্যারিসে টুরিস্ট চেনা খুব সহজ। হাতে থাকবে হয় ক্যামেরা, না হয় মেট্রোর ম্যাপ। এখানে ফরাসী ছাড়া আর কোনো ভাষা চলে না বলে ম্যাপ দেখে দেখে পথ চলা ছাড়া উপায় নেই। আর যে কোনো জায়গায় দেখা যাবেই যে একদল কেবল ছবি তুলছে। আমার হাতে ম্যাপ ছিল না, প্যারিস ঘুরে দেখানোর জন্য একজন সঙ্গী ছিল। তবে খাটি টুরিস্টের মতো ক্যামেরা অবশ্যই ছিল।
আমার বড় ধরণের বৃষ্টি প্রেম আছে। কিন্তু এই বৃষ্টি যে কী পরিমান বিরক্তিকর হতে পারে তা ইউরোপে না গেলে বোঝা যাবে না। কখন নামবে আর কখন নামবে না বোঝা মুশকিল। ফলে বাধ্য হয়ে ১০ ইউরো দিয়ে একটা ছাতা কিনতে হলো। ছাতার গায়ে বড় করে লেখা প্যারিস আর ছোট করে লেখা মেড ইন চায়না। একটু জোরে বাতাস আসলেই উল্টে যায়।
প্যারিস দেখতে হলে অনেক সময় নিয়ে এখানে থাকতে হয়। সেই সাধ্য আমার নাই। তাই টুরিস্টরা সাধারণত যে জায়গায় যায় সেসব জায়গায়ই গিয়েছি আমি। তীব্র শীত অবশ্য একটা বড় সমস্যা। সারা শরীর যতো পারো ঢাকতে হয়। তীব্র শীত আর বৃষ্টি। কোনাটাতেই আমরা অভ্যস্ত না। সবচেয়ে বড় সমস্যা চোখের। প্যারিস সুন্দরীদের কত না গল্প শুনেছি। কিন্তু মন-প্রাণ ভরে সুন্দরীদের সুন্দর কিছু দেখা গেল না। দেখবো কেমনে সবই তো ঢাকা। সবাইরই কপাল কুচকানো। কোনো রকম বাসার ফিরতে পারলেই যেন শান্তি। প্যারিসের সবাই অপো করে গরমের জন্য। সেই সময়ের প্যারিসের মতো সুন্দর আর আকর্ষনীয় নাকি কখনোই হয় না।
এবার প্যারিস যেয়ে ফিরে আসার পর আমার প্রথম সিদ্ধান্ত হলো ইউরোপে কখনো শীতের সময় যেতে হয় না।


স্যাক্ররে ক্রু। মূলত একটি চার্চ। তবে এতো সুন্দর এর পুরো জায়গাটা যে, টুরিস্টরা এখানে যাবেই।


স্যাক্ররে ক্রু


স্যাক্ররে ক্রুর খোলা চত্বরে তিনি গান গাইছিলেন জন লেননের ইমাজিন। অসাধারণ। অর্থ আয়ের এটাও একটা পথ


এভাবেও আয় করা যায়। মূর্তীর মতো এই মানষটি দেখে অনেকেই তার সামনে রাখা পাত্রে পয়সা দিচ্ছিল। আমিও দিলাম।


উপর থেকে তোলা প্যারিস


প্যারিস গেট


প্যারিস গেট


প্যারিসের রিকসা, টুরিস্টদের জন্য


আইফেল টাওয়ার যাওয়ার পথে রাস্তার দেওয়াল চিত্র


আইফলে টাওয়ার। একটু হেলান দিয়া দাঁড়াইছিলাম, তাই বাঁকা লাগতাছে মনেহয়।


লা ডে ফ্রঁসে, নতুন প্যারিস। মাত্র একটি জায়গায় এরকম আধুনিক বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। প্যারিস বলতে চায় চাইলে তারাও এরকম ভবন বানিয়ে শহর ভরে ফেলতে পারে, কিন্তু করবে না।


বিখ্যাত অপেরা হাউজ


প্যারিস আই। বিশ্বের সব শহরেই একটা থাকে


মুলান রুজ। বিখ্যাত নাইট ক্লাব ও রেস্তোরা। টিকেটের দাম দেখলাম ১৮০ ইউরো। এর পাশেই প্যারিসের বিখ্যাত রেড লাইট এরিয়া। অনেককেই দেথলাম রাস্তা পার হচ্ছেন না, দূর থেকে কেবল ছবি তুলছে। আমিও তাই করলাম।


প্যারিসেও মিছিল। বৈধ অভিবাসনের দাবী


ভার্সাই রাজার প্রাসাদ। ফরাসী বিপ্লবের সময় এখান থেকেই ধরে নেওয়া হয়েছিল রাজা-রানীকে


প্রাসাদের সামনের বাগান


বাগান


বাগানে স্থাপিত মূর্তী


বাগানের সব গাছ এভাবে কাটা। অতিরিক্ত গুছানো একটা বাগান। বুঝা যায় লক্ষ্য টুরিস্টরা


দূর থেকে তোলা বাগানের একাংশ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29070483 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29070483 2010-01-02 18:44:25
মুভি ব্লগ: ২০ বছর আগের দেখা পাঁচ ক্লাসিক সেই বয়সে, সেই সময়ে ভাল কিছু ছবি দেখেছিলাম। ছবিগুলো দেখে মহামুগ্ধ হয়েছিলাম। সেসব ছবির অনেক কিছুই ভুলে গেছিলাম, খালি মনে আছে মুগ্ধতার কথা।
তারপর এলো ভিসিডির যুগ। এই যুগ দ্রুত শেষ হয়ে চলে আসলো ডিভিডির যুগ। মুভি কেনার একটা ঝোঁক চাপলো। দুহাত ভরে মুভি কিনেছি। এরমধ্যে আগের দেখাও মুভি কিনেছি অনেক। ঠিক করলাম প্রায় ২০ বছর আগের দেখা সেইসব মুগ্ধ ছবি আবার দেখবো। তারপর একে একে পাঁচটা ছবি দেখলাম। মুগ্ধতা কমেনি, বরং বেড়েছে। বলা যায় দর্শকের মৃত্যু হয়নি।

১. সোফিস চয়েজ: ১৯৮২ সালের ছবি, পরিচালক অ্যালান জে পাকুলা। বেশিরভাগ সমালোচক মানেন এটাই মেরিল স্ট্রিপের অভিনয় জীবনের সেরা ছবি। সেরা অভিনেতার অস্কার পায় এ ছবি থেকে মেরিল স্ট্রিপ।
সোফি একজন পোলিস, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাজী বন্দী শিবিরে বন্দী ছিল।

ছবি শুরু হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ব্রুকলিনে থাকতে আসে স্টিঙ্গো। স্টিঙ্গোর ধারাবিবরণী সারাটা ছবি জুড়ে। একই বিল্ডিং-এ থাকে সোফি ও তার প্রেমিক নাথান (কেভিন ক্লেইন)। তিনজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। নাথান সবসময় সন্দেহ করে সোফিকে, আস্তে আস্তে জানা যায় নাথানের আসলে মানসিক সমস্যা রয়েছে। যুদ্ধ শেষে সোফি যখন অনাহারে ছিল তখন নাথানই তাকে আশ্রয় দেয়। আমেরিকার এই জীবন ছবির একদিকের কাহিনী।
আরেকটি কাহিনী হচ্ছে সোফির নাজী শিবিরের বন্দী জীবন। সোফি একজন মা, তাঁর এক ছেলে আর ছোট একটা মেয়ে। সোফি ধরা পড়েছিল ছেলে ও মেয়ে সহ। ছেলে ও মেয়েকে মায়ের সাথে থাকতে দেওয়া হতো না। বাচ্চাদের বাঁচিয়ে রাখতেও ছিল নাজীদের অনীহা। কারণ বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানো যায় না। সোফিকে বলা হল তাকে যে কোনো একজনকে বেছে নিতে হবে। আরেকজন যাবে গ্যাস চেম্বারে। সোফি কাকে বাঁচাবে? ছেলে না মেয়ে? মা হয়েও সোফি শেষ পর্যন্ত একজনকেই বেছে নিয়েছিল? কাকে? যারা ছবিটা দেখবেন তাদের জন্য উত্তরটা আর দিলাম না।
সোফি যখন বেছে নেয় সেই সময়কার মুখের অভিব্যক্তিকে চলচ্চিত্রের সেরা একটি মোমেন্ট বলে ধরা হয়। যদিও মেরিলকে মাথায় রেখে এই চরিত্রটি নির্মাণ করা হয়নি। পরিচালকের পছন্দ ছিল উরসুলা আন্ড্রেস। মেরিল স্ট্রিপ চুরি করা একটি চিত্রনাট্য পড়ে রীতিমত পরিচালকের পায়ের উপর পড়েছিলেন চরিত্রটা পাওয়ার জন্য। তারপর তো ইতিহাস।

২. দি গ্রাজুয়েট: ছবিটি ১৯৬৭ সালের, পরিচালক মাইক নিকোলস। অভিনয়ে জাস্টিন হফম্যান, ক্যাথারিণ রস ও অ্যানা ব্যানক্রফট। এটিকে সর্বকালের সেরা ছবির একটি বলে মানেন সমালোচকরা।
বেঞ্জামিন সদ্য গ্রাজুয়েট। কলেজ জীবন শেষ করে বাসায় ফিরেছে, বয়স মাত্র ২৩। গ্রাজুয়েশন উপলক্ষে বাসায় পার্টি, এখানেই পরিচয় মিসেস রবিনসনের সঙ্গে। মি. রবিনসন বেঞ্জামিনের বাবার ল’ পার্টনার। মিসেস রবিনসন একা, বাসায় পৌঁছে দিতে বলে বেঞ্জামিনকে। মিসেস রবিনসন সফলতার সাথে সিডিউস করে বেঞ্জামিনকে।
তাদের এই সম্পর্ক চলছিল সবার অগোচরে।

বেঞ্জামিনের বাবা-মা ও মি. রবিনসনের ইচ্ছা তাঁর মেয়ে এলেইনের সাথে ডেট করুক বেঞ্জামিন। সম্পর্ক মায়ের সঙ্গে, মেয়ের সঙ্গে ডেট করার কোনো ইচ্ছা ছিল না বেঞ্জামিনের। তারপরেও বাধ্য হয় একদিন বাইরে যেতে। এক সময় এলেইনকে ভালও লাগে। সম্পর্ক হয় দুজনের। কিন্তু আগের সম্পর্ক গোপন থাকে না। এলেইন জেনে যায় সব, সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়।
এলেইন চলে যায় অন্য শহরে, সেখানে হাজির হয় বেঞ্জামিন। এলেইনের সম্পর্ক তখন আরেক ডাক্তারের সাথে। আবার সম্পর্কও হতে থাকে বেঞ্জামিনের সাথে। এসময় হাজির হয় মি. রবিনসন। সব কিছু ভেস্তে যায়। এলেইন বিয়ে করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় সেই ডাক্তারকে। নানা নাটক করে সেই বিয়েতে হাজির হয় বেঞ্জামিন।
শেষটা অনেক নাটকীয়। খানিকটা এদেশীয় আবহাওয়ার সাথে মেলে। তারপরেও ছবি হিসেবে অত্যন্ত উপভোগ্য এটি। আর এই ছবির আরেকটি সেরা জিনিষ হচ্ছে গান। পল সায়মন আর গারফুনকেল। তাদের বিখ্যাত প্রায় সব গান পাওয়া যায় এই ছবিতে। বিশেষ করে সাউন্ড অব সাইলেন্স। শেষ দৃশ্যটায় তো এই গানটি অসাধারণ লাগে।
এই ছবির চরিত্রদের নিয়ে ২০০৫ সালে রব রেইনার্স করেছিলেন রিউমার হ্যাজ ইট। সদ্য মুক্তি পাওয়া (৫০০) ডেজ অব সামার ছবির মূল থিমই হলো দি গ্রাজুয়েট ছবিটি।

৩. অন গোল্ডেন পন্ড: ১৯৮১ সালের ছবি। অভিনয়ে হেনরি ফন্ডা, ক্যাথারিন হেপবার্ন এবং জেন ফন্ডা। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ছবি। হেনরি ফন্ডা ও ক্যাথারিন হেপবার্ন এই মুভি থেকে সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীর অস্কার পেয়েছিলেন।

৭০ বছরের নর্মান (হেনরি ফন্ডা) ও ৬০ উত্তীর্ণ ইথেল (ক্যাথারিন হেপবার্ন) প্রতি সামারে গোল্ডেন পন্ড নামের লেকের পাশে কিছুদিন থাকেন। এবারও এসেছেন। কিছুদিন পর নর্মানের ৭০ তম জন্মদিন। তাদের একমাত্র মেয়ে চেলসি (জেন ফন্ডা)। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হয়েছে। সেও উপস্থিত, সাথে নতুন ছেলে বন্ধু ও তার ১৩ বছরের ছেলে। বাবা ও মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল না। মেয়ের ইচ্ছা ১৩ বছরের বিলকে এখানে রেখে সে তার নতুন বন্ধুকে নিয়ে ইউরোপ বেড়াতে যাবে।
বিলের সাথে সম্পর্ক, মেয়ের ফিরে আসা, বাবার সাথে সম্পর্কের উন্নতি এবং বাবার অসুস্থ্য হওয়া। ছবিটা আসলে প্রেমের ছবিও বটে। শেষ দৃশ্যে নর্মান ও ইথেলের যে সংলাপ, তাতে এটিকে প্রেমের ছবিও বলা যায়।
মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে এর চেয়ে ভাল ছবি আমি কমই দেখেছি।
এই ছবির সেরা সম্পদ অভিনয়, লোকেশন আর ফটোগ্রাফি। অসাধারণ কিছু দৃশ্যকল্প আছে এই ছবিতে।
শেষ বয়সের জীবন নিয়ে যারা ভাবেন তাদের জন্য অবশ্য দ্রষ্টব্য এই ছবি। অসাধারণ! অসাধারণ!
প্রথমে এটি ছিল একটি মঞ্চ নাটক। মেয়ে জেন ফন্ডা বাবার জন্য এর স্বত্ত্ব কিনে নেয়। যদিও ছবিতে যেমনটি দেখানো হয়েছে, বাস্তবেও বাবা-মেয়ের সম্পর্ক সেরকমই ছিল। এই ছবির আগে হেনরি আর ক্যাথারিন কখনোই একসঙ্গে অভিনয় করেননি। এমনকি তাদের সঙ্গে নাকি এর আগে কখনো দেখাও হয়নি। হেনরি ফন্ডার মাথার যে টুপি সেটি আসলে ক্যাথারিন হেপবার্নের জীবনসঙ্গী স্পেন্সার ট্রেসির। যারা একটু ভিন্ন স্বাদের ছবি পছন্দ করেন তারা চোখ বুজে ডিভিডিটা কিনে আনেন।

৪. গেজ হু ইজ কামিং টু ডিনার: ১৯৬৭ সালের আরেকটি ছবি। স্পেন্সার ট্রেসি, ক্যাথারিন হেপবার্ন ও সিডনি পটিয়ার। এ ছবি থেকেও ক্যাথারিন হেপবার্ন সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জিতেছিলেন।
ম্যাট ও ক্রিস্টিয়া সুখী, উদারমনা বাবা-মা। তাদের একমাত্র মেয়ে গেছে বেড়াতে হাওয়াই। ২৩ বছরের মেয়ে জোয়ানা ফিরে আসলো ছেলে বন্ধু নিয়ে। ছেলে বন্ধু বিপত্নীক, বয়স ৩৮। সবচেয়ে বড় কথা ছেলে বন্ধু ডা. জন প্রেন্টিক একজন আফ্রিকান-আমেরিকান।

সময়টা ১৯৬৭ সাল। সে সময়ে আমেরিকার বেশিরভাগ রাজ্যে সাদা-কালো বিয়ে ছিল অবৈধ। স্বাভাবিক ভাবেই জোয়ানার বাবা-মা হতভম্ব হয় পড়েন। তবে মেয়ে ঘোষণা দিয়ে দেয় সেই এই ছেলেকেই বিয়ে করবে এবং সে চায় বাবা-মা আশীর্বাদ করুক, অনুমোদনের ধার সে ধারে না। জন আবার অন্যরকম। পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সফল। নিজ পেশায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সুতরাং ছেলে ভাল না বলে উড়িয়ে দেওয়াও যাচ্ছে না। জন গোপনে জোয়ানার বাবাকে বলে আসে তারা অনুমোদন না দিলে এই বিয়ে হবে না। জন সেই রাতেই চলে যাবে নিউইয়র্ক। সুতরাং সময় রাত পর্যন্ত। এরই মধ্যে আবার হাজির হয় জনের বাবা-মা। এর মধ্যে জনের বাবাও সাদা মেয়ে দেখে আরও বেশি হতভম্ব।
পুরো ছবিটাই এই ঘটনা নিয়ে। সংলাপ এই ছবির মূল প্রাণ। অভিনয় তো আছেই। এটাও সম্পর্কের ছবি, উপলব্ধির ছবি। ভালবাসারও ছবি।
হলিউডে সর্বপ্রথম যে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল তা হচ্ছে স্পেন্সার ট্রেসী ও ক্যাথারিন হেপবার্ন-এর প্রেম। এই ছবিটির শুটিং শেষ হওয়ার ১৭ দিন পর স্পেন্সার ট্রেসী মারা যান। আর ছবিটি মুক্তি পায় তার মৃত্যুর ৬ মাস পর। শুটিং চলার সময় সবাই জানতেন এটাই ট্রেসীর শেষ ছবি। এমনকি শেষ দৃশ্যে যখন ট্রেসি বক্তব্য দিচ্ছিল তখন তখন ক্যাথারিন হেপবার্নের চোখে ছিল টলটলে অশ্রু। এই চোখের পানি ছিল সত্যিকারের, ট্রেসীর জন্য। ছবিটি কখনোই দেখেননি ক্যাথারিন, ট্রেসীর জন্য।

৫. ওয়ান ফ্লু ওভার দ্য কাক্কুস নেস্ট: এখন পর্যন্ত তিনটি ছবি অস্কারে সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা ও সেরা অভিনেত্রী ও সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার পেয়েছে। ১৯৩৪ সালে পেয়েছিল ইট হ্যাপেন্ড ওয়ান নাইট, ১৯৭৫ সালে এই ছবিটি আর ১৯৯১ সালে সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্ব।
এই ছবির পরিচালক মিলোস ফোরম্যান, তাঁর অ্যামাদিউস দেখেও আমি সমান মুগ্ধ।
ছবিতে আছে জ্যাক নিকলসন ও লুইজি ফ্লেচার।

পুরো ঘটনা একটা মানসিক সংস্থার ভিতরের। নিকলসন মূলত অপরাধী। তবে তাঁর মানসিক সমস্যা আছে কিনা সেটা দেখতে তাকে পাঠানো হয়েছে এই সংস্থায়। সংস্থার হেড নার্স লুইজি ফেচার। এখানে নিকলসন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশে আটকা পড়ে। সংস্থার পুরো আবহাওয়াই পাল্টে দেয় সে। সে প্রতিবাদ করে সংস্থার কার্যক্রমকে, তবে সেটিও করা হয় নিজস্ব ভঙ্গীতে। যেভাবে রোগীদের ভাল করার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে, একসাথে বসে আলোচনা করা হয়, নার্সকে সবার ভয় পাওয়া-সবকিছুই পাল্টে দিতে চায় নিকলসন।
নিকলসন একদিন সবাইকে নিয়ে পালিয়ে যায়, মাছ ধরে নিয়ে আসে। আরেক রাতে দুজন মেয়ে নিয়ে আসে সংস্থায়। এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়া ভাল হয় না।
মুভির ঘটনা লিখতে গেলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠার চলে যাবে। তার চেয়ে যারা দেখেননি তাদের বলি আপনারা জানেন না আপনারা কি মিস করেছেন।
এটি একটি উপন্যাস থেকে করা ছবি। এ নিয়ে মঞ্চ নাটকও হয়েছে। কার্ক ডগলাস এখানে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তিনি এর স্বত্ব কিনে নেন, আশা ছিল নিজেই অভিনয় করবেন। ছবির স্বত্ব কার্ক তাঁর ছেলে মাইকেল ডগলাসকে দিয়ে দেন। মাইকেল মনে করলো চরিত্রের তুলনায় তাঁর বাবার বয়স অনেক বেশি। ফলে কার্ককে আর অভিনয় করা হয়নি। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে সম্পর্কও খানিকটা খারাপ হয়েছিল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29069135 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29069135 2009-12-31 17:57:57
কেমন গেল বছরটা? কেউ বিশ্বাস করবেন না, একবছরে ওবামাকে নিয়ে মাত্র দুইটা গল্প বা কৌতুক চালু হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো দুটো ঘটনাই সত্যি। তারপরেও তা শুনে মানুষ হাসছে। এর মধ্যে একটিকে তো বছরের সেরা রাজনৈতিক কৌতুক বলা হচ্ছে। আর সেটি হচ্ছে শান্তিতে এই বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বারাক ওবামা। এটাকেই বছরের সেরা কৌতুক মানছেন অনেকেই।
শান্তিতে নোবেল দিলেই তো হবে না। বারাক ওবামা সেটি গ্রহণ করতে নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে যেতে সময় পাবেন কীনা সেটা নিয়েও কিন্তু জল্পনা-কল্পনা ছিল ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। কারণ দুই দুইটি যুদ্ধ চালাতে হচ্ছে তাকে। ওবামার শান্তি পুরস্কার নেওয়ার এতো সময় কোথায়। যাক, শেষ পর্যন্ত খানিকটা সময় বের করতে পেরেছিলেন তিনি।
এই সুযোগে একটা ভবিষ্যৎবাণী করা যেতে পারে। সেটা হলো বারাক ওবামার নোবেল জয় কিন্তু ২০০৯ সালেই শেষ নয়। ২০১০ সাল বা আরও সামনে কেমিষ্ট্রি বা রসায়নে ওবামা নোবেল পেয়ে গেলে কেউ অবাক হবেন না যেন। অনেক মার্কিনিই বিশ্বাস করে তিনি সেটা পাবেন। নোবেল কর্তৃপক্ষও হয়তো মানেন। জানেন তো, শান্তিতে নোবেল পাওয়ার সময় নোবেল কমিটি কী বলেছে? বলেছে, ‘হি হ্যাজ জাস্ট গট গ্রেট কেমিষ্ট্রি’। সুতরাং আগামিতে কেমিষ্ট্রিতে যে ওবামাই নোবেল পাচ্ছেন তা ধরেই নিতে পারেন।
এইবার দ্বিতীয় গল্পটা বলি। বহু আগে কোনো একজন ভবিষ্যৎবাণী করে বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন কালো মানুষ প্রেসিডেন্ট তখনই হবেন যখন শুকররা উড়তে শুরু করবে। ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন কালো মানুষ বারাক ওবামা, আর বিশ্বজুড়ে দেখা দিছে সোয়াইন ফ্লু। ইংরেজিতে ফু বানানটা একটু ঘুরিয়ে ছবি আকা হচ্ছে উড়ন্ত শুকরের আর এর সাথে বারাক ওবামা তো আছেই।
সোয়াইন ফ্লু অবশ্য বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়ালেও এর যাবতীয় বিক্রম নষ্ট হয়ে এক জায়গায় এসে। আতঙ্ক ছড়ানোর একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যেতে পারে। টাইম সাময়িকীর হিসেবে ২০০৯ সালে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্ত হয়েছে ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। আতঙ্কে ছিল বাংলাদেশের মানুষও। কিন্তু সোয়াইন ফ্লু চূড়ান্ত ফ্লপ করেছে বাংলাদেশে এসে।
বাংলাদেশে মানুষ বেশি, সোয়াইন ফ্লু ছড়াবে দ্রুতগতিতে, এমনটি মনে করেছিলেন অনেকে। কিন্তু সেরকম কিছু হয়নি। ভেজাল খেয়ে খেয়ে এ দেশের মানুষের প্রতিরোধ মতা হয়তো অনেক বেশি বেড়ে গেছে, আর তাতেই নাকি এখানে পাত্তা পেল না সোয়াইন ফ্লু। ভেজাল খাওয়ার উপকার তো পাওয়া গেল অবশেষে।
২০০৯ সালের আরেকটি বড় ঘটনা ছিল বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা। মাটির ব্যাংকে পয়সা রাখার অভ্যাস অনেকেরই আছে। তবে ধনী দেশে তেমননি দেখা যায় না। আমেরিকায় সেরকম একজনকে খুঁজে পাওয়া গেছিল। শোনা যাচ্ছিল তাকেই নাকি ২০০৯ সালের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে অর্থনীতিতে। সঞ্চয় ধরে রাখার এই একটাই উদাহরণ খুঁজে পাওয়া গেছে ২০০৯ সালে।
তবে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা আতঙ্ক যেমন ছড়িয়েছে, আশাবাদীও করেছে অনেককে। ১৯৮০ সালে ভারতের অন্যতম বড় শিল্পপতি আম্বানি ভাইদের ঋণ দেয়নি ভারতের ভারতের আইডিবিআই ব্যাংক। সেই আম্বানি ভাইয়ের একজন এখন ব্যাংকটি কিনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সুতরাং, পাঠক-পাঠিকা, আপনারা আশাহত হবেন না। ব্যাংক যদি এখন ঋণ না দেয়, আরেকটা বিশ্বমন্দার জন্য অপেক্ষা করেন। একদিন হয়তো ব্যাংক কিনে নেওয়ার মতাই আপনাদের হয়ে যাবে। অতিরিক্ত আশাবাদীরা আবার ২০১০ সালেই আবার মন্দার অপেক্ষায় থাকবেন না। এতোটা ধকল বিশ্ব সহ্য করতে পারবে না।
কেবল সোয়াইন ফ্লুই না, বিশ্বে আতঙ্ক ছড়ানো এই বিষয়টি কিন্তু এবার খুব একটা পাত্তা পায়নি বাংলাদেশে। অর্থনীতির মন্দায় বিশ্বে একে একে বন্ধ হয়েছে বড় বড় ব্যাংক। দেউলিয়ার হাত থেকে বাঁচাতে বিভিন্ন সরকারকে দিতে হয়েছে কোটি কোটি ডলার। গোল্ডম্যান স্যাক্স নামের একটি বিখ্যাত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বলেছে, বিশ্বের চারটি দেশ অর্থনীতির মন্দা মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি দক্ষতা দেখিয়েছে। আর এই চারটি দেশের মধ্যে একটি হল বাংলাদেশ। তবে এটা নিয়ে বছরের সেরা কৌতুকটি করেছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। গত রোজার ঈদে তারা ঘোষণা দেয়, মন্দায় তাদের অবস্থা এতোটাই খারাপ যে ঠিকমতো বেতন ভাতাও দিতে পারবে না। পরে অবশ্য পোশাক ব্যবসায়ীদের কাউকেই রাস্তা-ঘাটে হাত পাততে দেখা যায়নি।
বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত হয়েছে ২০০৯ সালেই। আর বিভ্রান্ত করার কাজটি সফলতার সাথে করেছে সরকার। আর যে অস্ত্র দিয়ে কাজটি করা হয়েছে সেটি হল ‘ডে লাইট সেভিং’। ঘড়ির কাটা আগানো হলো এক ঘন্টা। রহিমের কথাই ধরি। প্রতিদিনকার মতো ঘুমানোর সময় বিছানায় গেলো, ঘুম আসলো না, বিছানার এপাশ-ওপাশ করতে হলো এক ঘন্টা। সকালে ঘুম ভাঙতেই মনো হলো পুরা ঘুম হয়নি। আবার রাতের খাওয়ার সময় দেখা গেল রহিমের আসলে ক্ষুধাই পায়নি, তারপরেও খেতে হলো। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিল সন্ধ্যায়। সন্ধ্যা যেন আর শেষ হতে চায় না। দীর্ঘ সন্ধ্যা কাটাতে শরীরের ও ঘরের বাড়তি জ্বালানি খরচ করতে হল রহিমকে।
তবে বছরের সেরা কৌতুকটি কিন্তু করেছে জামাতে ইসলামি। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এই দলটির নেতৃবৃন্দের বড় অংশের বিচার করা উচিৎ বলে মনে করে দেশের মানুষ। তারাই ডিসেম্বর অর্থাৎ বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা দেওয়ার ঘোষনা দেয়। তাদের আমীর দাবী করে যে, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাদেরও ভূমিকা আছে। আরেক নেতা তো আরেক ধাপ এগিয়ে। তিনি বলেছেন, রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে তারা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে এই কৌতুকের জবাব দেওয়া ছাড়া কিইবা আর করার আছে।
নিউ ইয়ার্স রেজুলেশন বা নতুন বছরের অঙ্গীকার বলে একটা কথা পশ্চিমে খুব চালু আছে। এটা বাংলাদেশেও চালু করা প্রয়োজন। হাত ধোয়া দিবস যদি হতে পারে তাহলে এটা হতেই বা দোষ কী। যদিও বিষয়টা নতুন না। বদলে যাওয়ার অঙ্গীকার বলা যায়। নতুন বছরে নতুন করে জীবন শুরু করতে যা কিছু খারাপ সেসব ত্যাগ করার অঙ্গীকার সত্যিকার ভাবেই করতে পারলে ক্ষতি কী। আসুন অঙ্গীকার করি-
১। দিনে ৬ ঘন্টার বেশি ফেসবুকে থাকবো না (টাইম সাময়িকীর হিসেবে ২০০৯ সালে নতুন করে ২০ কোটি মানুষ ফেসবুকের সদস্য হয়েছে)
২। অতীতের স্মৃতি রোমন্থন না করে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করবো (যেমন জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে ভাবনা)
৩। কাজের ফাঁকি দিতে একই অজুহাত বার বার দেবো না, নতুন কিছু বের করবো (নতুন নিয়মে রাস্তার জ্যাম মনে হয় একটু কমেছে)
৪। দিনে চারটার বেশি হিন্দি সিরিয়াল দেখবো না-(এক চ্যানেলে চারটার বেশি সিরিয়াল একদিনে হয়?)
৫। পানির অপচয় করবো না (পানির অনেক দাম। নাসা চাদে পানি খুঁজে পেয়েছে। এক গ্যালন পানি খুঁজে পেতে নাসার খরচ হয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৬১ ডলার)
৬। কৌতুক শুনে হাসবো (মন্ত্রীদের বক্তৃতা নিয়মিত শুনলেই তো চলে!)
৭। ভাল গান শুনবো, বেশি বেশি বই পড়বো (তোমার পাঞ্জাবীটা জোস/ আমার দোপাট্টাও সুন্দর/ তাই আমরা হলাম আজ/ ডিসকো বান্দর.........)
৮। জ্বালানি সাশ্রয় করার উপায়গুলো মুখস্ত রাখবো (২০১০ সালেও জ্বালানি সমস্যার সমাধান হচ্ছে না)
৯। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইবো (২০১০ সালে হবে?)
১০। ২০১০ সালে একই অঙ্গিকার করবো (ভদ্র লোকের এক কথা)।

সবশেষে পুরোনো একটা গল্প বলি-
প্রশ্ন: ২০০৯ সাল কেমন গেলো?
উত্তর: ২০০৮ এর চেয়ে খারাপ কিন্তু ২০১০ সালের চেয়ে ভাল।

(রস+আলো তে প্রকাশিত)


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29067640 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29067640 2009-12-29 13:17:03
প্যারিসের আগে: সুইজারল্যান্ড পর্ব জেনেভায় আছে অসংখ্য সদর দপ্তর। জাতিসংঘের অনেকগুলো সংস্থার প্রধান কার্যালয় বা সদর দপ্তর এখানে। জেনেভা লেক ছাড়া এখানে দেখতে হলে এগুলোই দেখতে হয়। আগের বার জেনেভায় সেসবও দেখা হয়ে গেছে। আর আছে একটা ভাঙ্গা চেয়ার।

ভাঙা চেয়ার। এটা দেখতেও অনেকে আসেন এখানে।

জাতিসংঘের অফিস যে চত্বরে সেখানে দাঁড় করানো আছে এই ভাঙ্গা চেয়ার। মূলত এটি স্থল মাইন এবং কাস্টার বোমা বিরোধী একটি স্থাপনা। অল্প সময়ের জন্য এটি স্থাপন করা হয়েছিল, এখন সেটা স্থায়ী হয়ে আছে।

পারমানবির বোমার বিরুদ্ধে একাই এভাবে প্রতিবাদ করছিলেন একজন, ভাঙ্গা চেয়ারের ঠিক সামনে

এর ঠিক পাশেই জেনেভার আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। এখানে হয়ে গেলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ৭ম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। এর একটু দূরেই ডব্লিউটিওর প্রধান কার্যালয়। বাসে উঠলে ঠিক পরের স্টপেজে। জেনেভা ছোট্ট জায়গা। পায়ে হেটেও নানা জায়গায় যাওয়া যায়। তার উপর হোটেলে থাকলে ঐ কয়দিনের জন্য বাস ও ট্রামের ফ্রি টিকেট দেয়। ফলে যাতায়তে মহা আরাম। আবার টিকেট আছে কিনা কেউ পরীক্ষা করে না। শুনতে পেলাম হঠাৎ হঠাৎ পরীক্ষা করতে নেমে যায়, ধরা পড়লে মোটা অংকের জরিমানা।

মিডিয়া সেন্টারে কাজ করছি

ডব্লিউটিওর প্রধান কার্যালয় এখন যে ভবনে সেটি এক সময় ছিল আইএলওর প্রধান অফিস। ২০০৮ সালে যখন এসেছিলাম আমি আর এনটিএনের মামুন তখন ডব্লিউটিওর উপ-মহাপরিচালক হর্ষবর্ধন সিং আমাদের এক ঘন্টা সময় দিয়েছিলেন। তাই এবার আর প্রধান কার্যালয়ের নীচ থেকে উপরে উঠা হয়নি। আবার সবাই ব্যস্ত ছিলেন সম্মেলন নিয়ে।
আতিথিয়তার এশীয়ানরাই ভাল। ২০০৫ সালে হয়েছিল মন্ত্রী পর্যায়ের ৬ষ্ঠ সম্মেলন। ব্যাপক আয়োজন ছিল। এয়ারপোর্টেই ছিল সম্মেলনে আগতদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। সেবার পুরো হংকং জুড়েই ছিল সম্মেলনের আবহাওয়া। এবার জেনেভায় নেমে তেমনটি টের পাওয়া গেল না। আসলে জেনেভায় এতো বেশি সম্মেলন হয় যে আলাদা করে কোনোটিই হয়তো চোখে পড়ে না। তবে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা ছিলেন এয়ারপোর্টে, আমাদের হোটেলে পৌঁছে দিলেন। বিদেশ-বিভূইয়ে সেটাই বা কম কিসে।

সুইজারল্যান্ড অনেক ধনী দেশ। জীবন যাপনের মানের দিক থেকে জেনেভা ও জুরিখ বিশেষ ২য় ও ৩য় স্থানে। শহরটি ব্যয়বহুল। ১৫৮ ডলার দিয়ে যে হোটেলে উঠলাম সেটি তিন তারকা মানের। সেবার মানও তেমন ভালো না। সর্বত্রই ওয়াই ফাই কনেকশন পেলেও কোনো কিছুই ফ্রি না। অথচ হংকং-এ হোটেলে ইন্টারনেট ফ্রি পেয়েছিলাম। তবে চাইলে ১০ ফ্রায় পেট ভরে তার্কিস কাবাব খাওয়া যায়। সুস্বাদু, এমনই বড়, পেটও টুইটুম্বুর।

সম্মেলন কেন্দ্রের ঠিক সামনে
ডব্লিউটিও মূলত বেটন উডস সংস্থার মধ্যে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিধ্বস্থ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ঠিক করতে মিত্র শক্তির ৪৪টি দেশ ১৯৪৪ সালে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পসায়ারে ব্রেটন উডস-এর ওয়াশিংটন হোটেলে সম্মেলনে বসেছিল। সেখান থেকে জন্ম নেয় তিনটা সংস্থা। আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থাকে ঠিকঠাক রাখতে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ, ইউরোপকে পুনর্গঠনসহ অর্থায়ন ব্যবস্থা তৈরিতে ক্রমান্বয়ে সৃষ্টি হয় বিশ্বব্যাংক এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য তৈরি করার কথা বলা হয় ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বা আইটিও। তবে যুক্তরাষ্ট্র মেনে না নাওয়ায় সেই আইটিও আর কখনো আলোর মুখ দেখেনি। এর পরিবর্তে শুরু হয় গ্যাট (জেনারেল এগ্রিমেন্ট অন ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ) আলোচনা। ১৯৪৮ থেকে এই আলোচনা শুরু হয় এবং শেষ হয় ১৯৯৫ সালে ডব্লিউটিও প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
মূলত গ্যাটের ৮ম রাউন্ড আলোচনাই ডব্লিউটিওর মূল ভিত্তি। এই আলোচনাকে বলা হচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড। এই আলোচনার সমাপ্তি ঘটে ১৯৯৪ সালে মরোক্কোর মারাকাসে, মারাকাস চুক্তির মাধ্যমে। আর পরের বছর থেকেই শুরু হয়েছিল ডব্লিউটির পথ চলা।

সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরের বিক্ষোভ

মুখ রার জন্য ৭ম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন হয়ে গেল জেনেভায়। আগেই কথা ছিল কোনো ঘোষণা থাকবে না। এমনকি পরবর্তী বৈঠক কোথায় ও কবে হবে তাও ঠিক করা যায়নি। তবে ২০১০ সালের মধ্যে দোহা আলোচনা শেষ করার একটা প্রতিশ্রুতি এসময় পাওয়া গেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর তিন মিনিটের বক্তৃতা

দর কষাকষির বৈঠক ছিল না বলে এবারে জেনেভায় তেমন কোনো উত্তেজনা ছিল না। দরকষাকষির বৈঠকের যে উত্তেজনা তা কোনো অংশেই একটি জমজমাট থ্রিলারের চেয়ে কম না। সেটা এবার পাওয়া গেল না। সবাই ছিল অনেকটা সফরের মুডে। বিক্ষোভও এবার ধারাবাহিকভাবে হয়নি। কেবল ২৮ নভেম্বর বিক্ষোভ মিছিল চলার সময় জেনেভার রাস্তায় বেশ কিছু দামী গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। এর বাইরে সম্মেলনের তিন দিন সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরে মৎস্য খাতের ভর্তুকি নিয়ে খানিকটা বিক্ষোভ করতে দেখেছি।

সম্মেলন কেন্দ্রের মধ্যে বিক্ষোভ

আর ডেলিগেট হিসেবে আসা কিছু এনজিও কর্মী সম্মেলন কেন্দ্রের মধ্যে পথ নাটক ও গানের মাধ্যমে খানিকটা বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেছে।

আমাদের বিশ্ব বিক্রির জন্য নয়-এই শ্লোগানই সবচেয়ে শোনা গেছে এবার জেনেভায়

এবার সুইজারল্যান্ডে সম্মেলনের বাইরে সফরের আর কিছু ছিলই না বলতে গেলে। সব আকর্ষন আমি জমিয়ে রেখেছিলাম প্যারিসের জন্য।

সম্মেলনের সমাপনী প্রেস কনফারেন্স


মার্কিণ বাণিজ্য প্রতিনিধি রন কার্ক সবশেষে সংবাদ সম্মেলন করেন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29063772 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29063772 2009-12-22 20:12:11
প্যারিসে আমি (পর্ব-১) ২০০৮ সালে যখন সুইজারল্যান্ড যাই, সেসময় দেশটি সেনজেনের মধ্যে ছিল না। ফলে সুইজারল্যান্ড থেকেই ফিরে আসতে হয়েছিল। চুরি করে অবশ্য ফ্রান্সে ঢুকেছিলাম তিন ঘন্টার জন্য, তবে সেটিকে নিশ্চই ফ্রান্স দেখা বলা যায় না।
২ ডিসেম্বর সম্মেলন শেষ হবে, আমি ৫ তারিখ ফিরে আসবো বলে ভিসা ফর্মে লিখে দিয়েছিলাম। তারপরেই আমার মনে হল আমি কেন আরও দু’চারটি দেশ দেখে আসছি না। অফিসকে বলে ফিরতি টিকেট করলাম প্যারিস থেকে। ভিসা পেয়ে দেখি ১৫ তারিখ পর্যন্ত আমি সেখানে থাকতে পারবো। মনে হলো সাগর আছে জার্মানির বনে, সেখানে যাওয়া যায়। সাগর ওর বাসায় থাকতে বলেছে। ব্রাসেলস-এ মাসুদ আছে। ওখানেও থাকা যাবে। কিন্তু আমার একমাত্র আগ্রহ প্যারিস। যদিও হোটেল ছাড়া সেখানে আমার থাকার কোনো জায়গা নেই।
দেবপ্রিয় দা এখন জেনেভায়। তাকে ফোন করে বললাম আমার জন্য প্যারিসে যাওয়ার একটা টিকেট কেটে রাখতে আর একটা হোটেল ঠিক করে দিতে। দেবপ্রিয়দা তাঁর সেক্রেটারীকে দিয়ে যে হোটেলের খবর দিলেন তাতে আমি অনেকটা উৎসাহ হারিয়ে ফেললাম। এক রাতের ভাড়া প্রায় ১শ ইউরো। তাতে আমি ২ বা ৩ দিনের বেশি প্যারিস থাকার সাহস পেলাম না।
এক সময় আমরা বন্ধু নামে আমি একটা ইয়াহু গ্রুপের সদস্য ছিলাম। আমরা বন্ধু এখনো আছে, ইয়াহু গ্রুপ থেকে সেটা ব্লগে পরিণত হয়েছে। একসময়ের জমজমাট সেই গ্রুপের সদস্য প্রীতি। টুটুল জানালো প্রীতিরা সপরিবারে প্যারিস থাকে। প্রীতি আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডও। ওর সাথে খুব কথা হতো না, দুবার মনে হয় একটা কাজে ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু ফেসবুকে প্রীতিকে আর খুঁজে পেলাম না। তার অ্যাকাউন্ট নিস্ক্রিয়। টুটুলই প্রীতির ই-মেইল ঠিকানা জোগাড় করে দিল। ছোট্ট একটা চিঠি লিখলাম প্রীতিকে। সস্তায় একটা হোটেল খুঁজে দিতে অনুরোধ। সেই মেয়ে ঐদিনই ই-মেইলের জবাব দিয়ে জানালো, আমি তার বাসায়ই থাকতে পারি, যদিও তার বাসা ছোট। কিন্তু বড় কোনো জায়গা যদি লাগে তাহলে প্যারিসে আসার পর হোটেল খুঁজে নেওয়া যাবে।
মনে মনে প্রচন্ড খুশী হলেও ভদ্রলোকের মতো ভদ্রতা করে পাল্টা মেইল করে বললাম তোমাদের তো অসুবিধা হবে। আমি হোটেলেই থাকতে পারবো। প্রীতি অভয় দিয়ে বললো ও তার বাবা-মার সাথে কথা বলেই আমাকে লিখছে। প্যারিসে থাকার জায়গার বন্দোবস্ত হওয়ায় আরাম করে একটা ঘুম দিলাম।
প্রথম যাবো জেনেভা। কিন্তু অন্তর জুড়ে প্যারিস। আবার যেতে হবে ঈদের দিন রাতে। আমি কাতার এয়ারওয়েজে উঠলাম ঈদের দিন রাত ৯টায়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29060480 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29060480 2009-12-17 12:52:03
বেতন-ভাতা নিয়া বড়দের গপসপ <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /> (১৮+++) -স্যার আমারও বেতন বাড়াইতে হইবে। আমার পেছনে কিন্তু তিনটা কোস্পানি লেগে আছে।
বস-রিয়েলি? তা কোম্পানিগুলো কে কে?
-স্যার, গ্যাস কোম্পানি, টেলিফোন কোম্পানি ও বিদ্যুৎ কোম্পানি।

গল্পটা খুব নিরস হয়ে গেল। তাইলে বরং একটা সরস গল্প বলি। বহু পুরোনো এবং খানিকটা অশ্লীল। তারপরেও গল্পটা আমার ব্যাপক পছন্দের।
বেতন হলো মেয়েদের পিরিয়ডের মতো। সারা মাস অপেক্ষা করতে হয়, কিন্তু তিনদিনেই শেষ হয়ে যায়।

কপাল কুচকাইলেন কেউ? তাইলে বেতন নিয়া একটা শিক্ষামূলক গল্প বলি-

কিসমত মিয়া অফিসে পৌঁছেই চলে গেল বসের কাছে-
-স্যার আমার বেতন বাড়ান।
বস-কেন, বেতন বাড়াবো?
-স্যার, আমি বিয়ে করেছি।
বস খুব গম্ভীর ভাবে বললো, অফিসের নিয়ম অনুযায়ী অফিসের বাইরের কোনো দূর্ঘটনার জন্য অফিস দায়ী নন।

এবার বেতন নিয়া আরেকটা গল্প বলি।
শেষ পর্যন্ত তিনিও বেতন-ভাতা বাড়ানোর আবেদন করলেন। বেতন-ভাতা বাড়ানোর কারণ হিসাবে লম্বা একটা দরখাস্ত করলেন। সেখানে একটি একটি করে কারণ ব্যাখ্যা করলেন তিনি।
১. আমি কায়িক পরিশ্রম করি
২. আমাকে অনেক গভীরে যেয়ে কাজ করতে হয়
৩. শুরুতেই আমাকে মাথা দিয়ে কাজ করতে হয়, তারপর পুরো শরীর
৪. আমার কোনো সাপ্তাহিক বা সরকারি ছুটি নেই
৫. আমাকে স্যাতস্যাতে পরিবেশে কাজ করতে হয়
৬. আমাকে কোনো ওভারটাইম দেওয়া হয় না
৭. কাজের জায়গায় ভ্যান্টিলেশন বলতে কিছু নেই, দমবন্ধ অবস্থা
৮. তীব্র গরমের মধ্যে কাজ করতে হয়, এবং
৯. রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রশাসনিক বিভাগ অত্যন্ত সক্রিয়। দ্রুত বেতন-ভাতা দেওয়ার দরখাস্তের জবাব দেওয়া হল।

প্রিয়.........আপনার অনুরোধ মূল্যায়ন করে প্রশাসন আপনার আবেদন বাতিল করেছে। কেন গ্রহণযোগ্য হয়নি, তার কারণও দেওয়া হল-

১. আপনি টানা ৮ ঘন্টা কাজ করতে পারেন না
২. অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময় কাজ করেই আপনি কান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন
৩. আপনি সর্বদা আপনার কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুসরণ করতে পারেন না
৪. আপনি সর্বদা আপনার জন্য নির্ধারিত স্থানে থাকেন না, অন্যত্রও চলে যান
৫. আপনি নিজ উদ্যোগী হয়ে কোনো কাজ করেন না। সর্বদা কাজ শুরু করার জন্য আপনারে প্রণোদনা বা উদ্দীপনা দিতে হয়
৬. কাজ শেষ করার পর কর্মক্ষেত্র আপনি নোংরা করে রাখেন
৭. সর্বদা প্রয়োজনীয় সেফটি রেগুলেশন মানেন না, নির্ধারিত প্রতিরোধক পোশাক পড়েন না
৮. ৬৫ বছর হওয়ার আগেই অবসরে চলে যান
৯. ডাবল শিফট-এ কাজ করতে পারেন না
১০. আপনি সর্বদা আপনার কর্মেক্ষেত্রে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকেন, সঙ্গে থাকে দুটো সন্দেহজনক ব্যাগ বা লাগেজ
১১. কেবল তাই না, আপনি অনেক সময় আপনার জন্য নির্ধারিত পুরো কাজটি করতেও পারেন না।

এ কারণেই আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য হল না।

আবেদনকারীর নামটা ভুলে গেছি। /<img src=" style="border:0;" />





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29042393 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29042393 2009-11-12 17:14:31
বাজারের নাম শেয়ার বাজার এরপর ঘোষণা এলো, একটি বানরের জন্য এবার দেওয়া হবে ২০ টাকা। শহরবাসি আবার নেমে গেল বানর ধরতে। খুব বেশি পাওয়া গেল না, যা পাওয়া গেল তাতেও মুনাফা কম হলো না। এবার ঘোষণা এলো বানরপ্রতি ৩০ টাকা করে দেওয়া হবে। শহরবাসী আবার নামলো বানর সংগ্রহে। অনেক কষ্ট করে এবার পাওয়া গেল কয়েকটা মাত্র।
ঘোষণা কিন্তু বন্ধ হলো না। আবার ঘোষণা হলো, এবার ধরে দিতে পারলে বানর প্রতি দেওয়া হবে ৪০ টাকা। শহরের মানুষজন সবাই মিলে অনেক খুঁজেও একটার বেশি বানর পেল না। আগস্তুক তাতেও সন্তুষ্ট না। ঘোষণা দেওয়া হল, এবার দেওয়া হবে ৫০ টাকা। এবার কেউ একটা বানরও ধরে দিতে পারলো না। কিন্তু শহরবাসী খুঁজেই চলছে। আর এই সুযোগে আগস্তুক কিছু দিনের জন্য তার এক সহকারীতে দায়িত্ব দিয়ে গেলো অন্য এক শহরে।
আমাদের এই সহকারীর আবার কিঞ্চিত স্বভাবের দোষ আছে আর শহরবাসীর আছে খানিকটা লোভ। দ্রুতই যে শহরবাসীর দলে ঢুকে গেল। প্রস্তাব দিল, খাঁচায় আটকে রাখা বানরগুলো সে ৩৫ টাকায় বিক্রি করে দিতে রাজী আছে। শহরবাসী ভাবলো ভালই তো, ৩৫ টাকায় কিনে ৫০ টাকায় বিক্রি করা যাবে। গোপন চুক্তি অনুযায়ী, শহরবাসীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো সব বানর। কিন্তু সেই আগস্তুক আর ফিরে এলো না, সহকারীও লাপাত্তা। শহর আবার ভরে গেল বানরে।
এটাই হচ্ছে আসলে শেয়ার বাজার। সবাইকে স্টক মার্কেটে স্বাগতম।
বাঙ্গালী যেহেতু, একথা নিশ্চই সবাই শুনেছেন, আজ যা বাংলা ভাবে সারা বিশ্ব তা ভাববে আগামিকাল। কথাটা নতুন করে টের পাওয়া যায় এবারের বিশ্বমন্দার সময়। বিশ্বমন্দায় ইন্টারনেটে ছড়িয়ে গেল একটা গল্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাকি নতুন এক মারণাস্ত্র আবিস্কার করেছে। তাতে ভবন, রাস্তাঘাট ঠিক থাকে, খালি মানুষগুলোই উধাও হয়ে যায়। আর সেই মারণাস্ত্রের নাম শেয়ার বাজার।
বাংলাদেশ তো এই অস্ত্র আবিস্কার করে বসে আছে সেই ১৯৯৬ সালেই। সেই যে, ঘটি-বাটি বিক্রি করে সবাই মতিঝিলের রাস্তায় নেমে গিয়েছিল। তারপর কিভাবে হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছিল তাও নিশ্চই সবার জানা। এরপর মনে হয় আর কাউকে বলে দিতে হবে না শেয়ার বাজার কী, বা কাকে বলে।
তারপরেও যারা জানেন না, তাদের একটু বুঝিয়ে বলি। শেয়ার বাজার হলো এমন এক বাজারে যেখানে প্রতিদিন সকালে দুই দল মানুষ মিলিত হয়। এর মধ্যে একদলের থাকে অর্থ, আরেকদলের অভিজ্ঞতা। দিন শেষে তারা কেবল নিজেদের সম্পদ হাতবদল করে। যাদের অর্থ ছিল তারা অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরে, আর অভিজ্ঞরা ফেরে অর্থ নিয়ে।
সুতরাং শেয়ার বাজারের প্রথম পাঠই হচ্ছে অর্থ আয় করতে হলে অভিজ্ঞ হতে হবে। জানেন তো, শেয়ার বাজারে তিন ধরণের বিনিয়োগকারী থাকে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ বাজারের কিছুই জানেন না। ১০ শতাংশ আছেন যারা কিছুটা জানেন। আর ৮০ শতাংশ জানেন না যে তারা আসলে কিছুই জানেন না। সুতরাং আপনাকে কিছু জানার দলে থাকতে হবে।
জানতে যাওয়ার হ্যাপাও কম না। এক নব্য বিনিয়োগকারী ভাবলেন তাকে কিছু জানতে হবে। চলে গেলেন এক ব্রোকারের বাসায়। ড্রয়িং রুমে বসে আছেন ব্রোকার ভদ্রলোকের অপোয়, রুমে ঢুকলো ছয় বছরের এক ছেলে। তিনি কথা বলতে লাগলেন ছেলেটার সাথে।
-তোমার বাবা কৈ? কী করেন তিনি?
-আমার বাবা মাছ ধরে।
একটু খাবি খেলেন তিনি। অবাক হয়ে বললেন, মাছ ধরে?
ছেলেটা মাথা দুলিয়ে বললো, মাছই তো ধরে। বাবার কাছে আপনার মতো লোকজন আসে, চলে যাওয়ার পর আমার বাবা মাকে বলে, আরও একটা বড় মাছ ধরলাম। ভালই লাভ হবে।
সেই নব্য বিনিয়োগকারী ভদ্রলোক এই ব্রোকারের অপেক্ষায় আর ছিলেন কি না তা অবশ্য জানা যায় না। নিউইয়র্ক শহরে একবার চরম ঠান্ডা পড়েছিল। ওয়াল স্ট্রিটের এক নামকরা ব্রোকারকে সে সময়ে নিজের প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একবার হাঁটতে দেখা যায়। ঐ একবারই নাকি ব্রোকাররা নিজের পকেটে হাত দিয়েছিলেন, আর বাকি সময় তাদের হাত থাকে অন্যের পকেটে।
বাংলাদেশে অবশ্য সবাই যে হারে শেয়ার বাজারের দিকে ছুটছে তাতে অন্যের পকেটে হাত দেওয়া ব্রোকারের ইন্ধনের প্রয়োজন হচ্ছে না। যা কিছু আছে বিক্রি করে সহজে বড় লোক হওয়ার আশায় ভীড় করছে শেয়ার বাজারে। কাজ-কর্মে মন নাই, চোখ সারাণ স্টক মার্কেটের খবরের দিকে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইট খুলে বসে থাকার লোকজন ক্রমশই বাড়ছে, তাও আবার জ্যামিতিক হারে। আর কেউ কেউ তো অফিসই করেন না।
বড় সাহেব অফিসের যেয়েই খবর দিলেন ক্যাশিয়ারকে। কিন্তু ক্যাশিয়ার সাহেব আর আসেন না। বার বার খবর দিয়েও পাওয়া গেল না। শেষে হাত কচলাতে কচলাতে অফিসের ম্যানেজার এসে জানালো, ক্যাশিয়ার অফিসে নেই, স্টক মার্কেটের দিকে গেছে।
-স্টক মার্কেটে কেন?
-স্যার, তিনি তো তিন দিন ধরেই যাচ্ছেন, কিন্তু তাকে বলে দেওয়া হয়েছে যে আজই শেষ দিন।
-শেষ দিন কেন?
-না মানে, হিসাব মিলছে না তো, তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে শেয়ার বাজারে গেছে। আজও যদি টাকা নিয়ে এসে হিসাব মেলাতে না পারে তাহলে তো পুলিশকে খবর দিতেই হবে।
এই দেশটির মানুষের আয় কম। আয় আর ব্যয়ের হিসেব মেলে না। ফলে নানা ভাবে এই হিসেব মেলাতে হয়। আর এই হিসেব মিলানোর নতুন জায়গা হয়েছে শেয়ার বাজার।
যারা নিয়মিত হিসেব মিলাতে যান এবং শত ভয় দেখালেও বাজার ছেড়ে যাবেন না, তাদের জন্য আরও তিনটা শিক্ষা। আমি নিজে দিলে কেউ মানবে না। তাই বিখ্যাত তিনজনের তিনটা কথা বলা যায়।
উইলিয়াম আর্থার ওয়ার্ড নামের একজন মার্কিন ভদ্রলোক লিখেছিলেন, ‘ইনভেস্ট করার আগে ইনভেস্টিগেট করো’।
বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেট বাফেট বলেছেন, ‘আমি কখনো স্টক মার্কেট থেকে অর্থ কামানোর কথা ভাবি না। আমি সব সময় ভাবি, যে শেয়ারটা কিনবো সেটি পরেরদিনই বন্ধ হয়ে যাবে, আর এর পরের পাঁচ দিনেও লেনদেন হবে না।’
বার্নার্ড বারুখ নামের একজন মার্কিন বিনিয়োগকারী বলেছিলেন, ‘কখনো সর্বনিম্ন দামে শেয়ার কেনার চেষ্টা করো না, আর সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রিও চেষ্টাও করো না।’
এতসব কথা কেন বললাম? অন্যকিছু ভাববেন না, জাস্ট একটু শেয়ার করলাম আর কি!

আজ প্রথম আলোর রস+আলোতে প্রকাশিত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29040575 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29040575 2009-11-09 17:08:47
মুভি ব্লগ: হিচকক, অন্তহীন, কখনো আসেনি আর...... সময় হাতে থাকে কম, তারপরেও ফাঁকে ফাঁকে ছবি দেখা হয়েই যায়। সেরকম কিছু ভাল লাগার ছবি-

হিচকক আর হিচকক: গুনে দেখলাম আমার কাছে হিচককের ১৮ টা ছবি আছে, আরও দেখা ছিল ৪টা। কিছু ছবি তো পাওয়াই যেতো না। এবার পেয়ে গেলাম, একসাথে ৪৮টা। কিনে ফেললাম পেয়েই। মনে করেছিলাম টানা সবগুলো দেখে ফেলবো। এর মধ্যে অন্য কোনো ছবি আর দেখবো না।
হিচককের ছবির বিশেষত্ব হল, ছবির চরিত্ররা সাধারণ মানুষ, এরাই বড় ধরণের বিপদের মধ্যে পড়ে যায়। বেশিরভাগ চরিত্র এরকমই। দি রং ম্যান এই ধারার ছবি।

হেনরি ফন্ডা একজন মিউজিসিয়ান। সৎ এবং সাধারণ মানুষ। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বীমার পলিসির বিপরীতে অর্থ ঋণ নিতে গেয়ে বড়লো সংকটে। অফিসের সবাই সনাক্ত করলো একজন ডাকাত হিসেবে, যে একবার এই বীমা অফিস থেকে অর্থ ডাকাতি করে নিয়েছিল। শুরু হয়ে গেল মহাঝামেলা।
ডায়াল এম ফর মার্ডার তার বহু বিখ্যাত একটা ছবি। অনেক আগে এইতবার নামে একটা হিন্দি ছবি দেখেছিলাম। ডিম্পল আর রাজ বাব্বর। ছবিটা দেখে ভেবেছিলাম বাহ! এরকম ভাল ছবি হিন্দিতেও হয়। তারপর দেখলাম দি পারফেক্ট মার্ডার।

মাইকেল ডগলাসের। সেটি আর এইতবার প্রায় এক রকম। এবার ডায়াল এম ফর মার্ডার দেখে বুজলাম এইতবার হচ্ছে এটির হিন্দি সংস্করন। পারফেক্ট মার্ডার খানিকটা অন্যরকম। টাকার লোভে বউকে খুন করার মতলব আটে টনি ওয়েনডিচ। অসাধারণ এক পরিকল্পনা তৈরি করে। এইটা নিয়াই ছবি।
লাইফবোট একটু ভিন্ন ধারার ছবি। জন স্টেইনবেকের গল্প নিয়ে ছবি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকার সময়ের ছবি।

জার্মানিদের গোলায় ডুবে যাওয়া জাহাজের কয়েকজন আশ্রয় নেয় লাইফবোটে। ঘটনাক্রমে এদের একজন জার্মান, শত্রুপক্ষ। পুরো ছবিটা লাইফবোটে। ঘটনা আগাতে থাকে, ছবিটির প্রতি ভাললাগাও বাড়তে থাকে। চমৎকার একটা ছবি।
তবে নতুন দেখা ছবির মধ্যে সবচেয়ে ভাল লেগেছে আই কনফেস ছবিটি। মন্টোগোমারি কিফট একজন তরুণ প্রিস্ট। যুদ্ধ থেকে ফিরে প্রিস্ট হয়েছেন। চার্চের কেয়ারটেকার একজন দরিদ্র্য মানুষ। বউয়ের কষ্ট দেখে টাকা চুরি করতে যায় এক আইনজীবীর বাসায়। ধরা পড়লে খুন করে পালিসে আসে। কিন্তু শান্তি পায় না, কনফেস করে ফাদারের কাছে।

ফাদারেরও একটা অতীত আছে। ভালবাসার বিয়ে হয়ে যায়, সেই মেয়েকে আবার ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেছিল খুন হওয়া আইনজীবীটি। পুলিশ এই ঘটনা জানতে পারায় সন্দেহ পড়ে ফাদারের উপর। ধরেও নিয়ে যায়। অথচ ফাদার জানে কে আসল খুনী। কিন্তু তার কাছে কনফেস করায় নৈতিক কারণে বলতে পারে না কাউকে। এরকমই এক ঘটনা নিয়ে ছবি। টানটান উত্তেজনার এক ছবি। হিচককের ছবিগুলোই এরকম। প্রথমেই জানা যায় কে খুনী। কিন্তু সে কি ধরা পড়বে? তার বেশিরভাগ ছবি সাধারণত এই প্রশ্ন নিয়েই।
আইনজীবীর কাজ মক্কেলকে বাঁচানো। নিজের অজান্তে কখনো উল্টোটাও ঘটতে পারে। দি প্যারাডাইন কেস সেইরকম একটি ছবি। অ্যানা পারাডাইনকে ধরা হয়েছে তার অন্ধ ও বয়স্ক ধনী স্বামীকে হত্যার দায়ে।

আইনজীবী গ্রেগরি পেকের দায়িত্ব তার পে মামলা লড়া। গ্রেগরি পেক প্রমান করতে চায় অ্যানা খুন করেনি, বরং তার সন্দেহ বাসায় কাজ করা ল্যাটো। ল্যাটো ঘৃণা করে অ্যানাকে, অ্যানাও তাই। কিন্তু অ্যানা চায় না ল্যাটোকে খুনের জন্য সন্দেহ করা হোক। তারপরের ঘটনা চমৎকৃত হওয়ার মতো।
আমার এখন হিচককেক ৩১ নম্বর ছবি দেখা চলছে। দেখছি ফরেন করসপনডেন্ট।


অন্তহীন: এটি কোলকাতার বাংলা ছবি। পরিচালক অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী। এটি তার দ্বিতীয় ছবি। প্রথম ছবি অনুরণন দেখেছিলাম। মুগ্ধ হয়েছি বলা যায়। বিশেষ করে ক্যামেরার কাজ, লোকেশন ও অভিনয় দেখে। থিমও অনেক আধুনিক। তাঁর দ্বিতীয় ছবি অন্তহীন।

রাহুল বোস, অপর্না সেন, শর্মিলা ঠাকুর ও রাধিকা। বৃন্দা আর অভিকের গল্প। রঞ্জন আর পারমিতারও গল্প এটি। বৃন্দা টেলিভিশন সাংবাদিক, অভিক পুলিশ কর্মকর্তা। সম্পর্ক পেশাগত। বৃন্দার অফিসে কাজ করে অপর্না, অপর্নার ছাড়াছাড়ি হওয়া স্বামী রঞ্জনের ছোট ভাই অভিক। সম্পর্ক গড়ে ওঠে দুজনের মধ্যে। অথচ দুজনের মধ্যে সম্পর্ক আছে অনেক আগে থেকেই।

ইন্টানেনেট চ্যাটের মাধ্যমে তৈরি সেই সম্পর্ক। সম্পর্ক, পেশা, জীবন-যাপন, সম্পর্কের পরিণতি, ভালবাসা, অপেক্ষা-এসব নিয়েই অন্তহীন। আধুনিক একটি ছবি, দেখতে ভাল লাগে। কোলকাতার বাণিজ্যিক ছবি খুব একটা দেখা হয় না। তবে ধারণার চেয়েও তারা যে অনেক এগিয়েছে সেটি বুঝা গেল ছবিটি দেখে। তবে ছবিটার মূল সম্পদ এর গান। অসাধারণ সুন্দর প্রায় প্রতিটি গান। আমি তো মহামুগ্ধ। চলচ্চিত্রের গান নিয়ে আমার ধারণাই পাল্টে গেছে।

অন্তহীনের গানগুলো পাবেন এখানে......

কখনো আসেনি: ছবিটা দেখে ভাবতে কষ্ট হয় এটি ১৯৬১ সালের ছবি। বাংলাদেশে এরকম ছবি হয়েছে, তাও ১৯৬১ সালে। পরিচালক জহির রায়হান। এই লোকটি যে কি মানের পরিচালক ছিলেন তা বুঝা যায় এই একটি ছবি দেখেই।

কখনো আসেনি জহির রায়হানের প্রথম ছবি। অভিনয়ে খান আতা ও সুমিতা। জহির রায়হান যে সময়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে ছিলেন তা এই ছবিতেই প্রমানিত।
প্রয়োজনীয় তথ্য হচ্ছে এর ডিভিডি বাজারে পাওয়া যায়। জি সিরিজ বের করেছে, ভাল প্রিন্ট। আর ছবিটা নিয়ে খুব বেশি কিছু না বলে একটা লিঙ্ক দেই, নজরুলের এই লেখাটা পড়লেই যথেষ্ট।

রেভোল্যুশনারি রোড: এই ছবিটা কেন আমি দেরী করে দেখলাম তার কোনো ব্যাখ্যা নাই। গত বছরের ছবি। কেট উইনস্রেট ও লিওনার্দো ডি ক্যাপরিও। আমার দেখা সেরা ছবির একটা।

দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে এতো ভাল ছবি খুবই কম আছে। রিডার ও এই ছবিটি ২০০৮ সালের। নিঃসন্দেহে ২০০৮ সাল ছিল কেটের। ছবিটা দেখে তীব্র মন খারাপও হলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29036554 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29036554 2009-11-02 20:11:33
বড়লোকদের ব্যাপারস্যাপার ব্লগ লেখা আর পত্রিকায় লেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। ভাষাগত পার্থক্য তো আছেই, বিষয়বস্তু নিয়ে অনেক সাবধান থাকতে হয়। কোন লেখায় কে আবার আহত হয় বোঝা মুশকিল, হোক না রম্য। তাই লিখতে হলো একটা শালীন রম্য। আজ ছাপা হয়েছে রসালোতে।


আবারও সেরা ধনী হয়েছেন বিল গেটস। তিনি নাকি সেকেন্ড আয় করেন ৩ হাজার ডলার। মানিব্যাগ থেকে ১ হাজার ডলারের নোট পড়ে গেলে তা আবার পকেটস্থ করেন না। কারণ তাতে যে সময় চলে সেই একই সময়ে এরচেয়েও বেশি আয় করেন। বিল গেটস-এর একার যে সম্পদ, বিশ্বের ১৪০টি দেশের এক বছরের আয় তার চেয়ে কম। এই অক্টোবর মাসেই সংবাদটা ছাপা হয়। তারপরেই জুলমত তরফদারের মাথায় ধনী মানুষরা মোটামুটি গেঁথে গেল।
ছোটবেলায় পড়েছিলেন অর্থই অনর্থের মূল। এখন আর এসব কথা বিশ্বাস করেন না। এটা ঠিক যে দুনিয়ায় অর্থ ছাড়াও আরও অনেক লোভনীয়, মোহনীয়, রসালো জিনিষ আছে। কিন্তু সমসা হচ্ছে সেই সব জিনিষও কিনতে হয় অর্থ দিয়েই।
ধনী হওয়ার নানা তরিকা আছে। টাকা ধার নিয়ে বেমালুম ভুলে যাওয়া একটা বড় তরিকা। বাংলাদেশে একসময় একসময় এটাই ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় পন্থা। তবে নিয়ম হচ্ছে অল্প টাকা ঋণ নিলে চলবে না। নিতে হবে বড় অংকের অর্থ। কেউ যদি ১শ টাকা ধার নেয় তাহলে সেটা একান্তই তার সমস্যা। কিন্তু ব্যাংক থেকে ১শ কোটি টাকা ধার নিলে সেটা তখন ব্যাংকের সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা থেকে অনেক ব্যাংক এখনও বের হতে পারেনি। আর এই সমস্যা ব্যাংকের ঘাড়ে দিয়ে কোটিপতি হওয়ার সংখ্যা বাংলাদেশে মোটেই কম নয়।
জুলমত তরফদারের বন্ধু সালেম মিয়া, একজন সফল ব্যক্তি। কারণ সালেম মিয়া দুই হাতে টাকা আয় করে। তবে জুলমত জানে, সালেম মিয়ার চেয়েও সফল ব্যক্তি এই দেশে আছে। এই যেমন, মিসেস সালেম। কেননা তিনি বিয়ে করার জন্য সালেম মিয়াকে খুঁজে বের করতে পেরেছিলেন।
সালেম মিয়ার বউয়ের কথাই যখন আসলো তখন জুলমত তরফদারের সেই পুরানো গল্পটা মনে পড়লো। একজন মহিলা কি কোনো পুরুষকে লাখপতি বানাতে পারে? উত্তরটা হলো- পারে, যদি পুরুষটি কোটিপতি হন।
পরিস্থিতি আর আগের মতো নাই। বরং উল্টাটাও আছে। গজনফর আলী একজন কোটিপতি। সদ্য একটি চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সাংবাদিকরা গেছে সাক্ষাৎকার নিতে। নানা প্রশ্ন। একজন প্রশ্ন করলেন-‘আমরা জেনেছি যে আপনি শূন্য হাতে একটা মফস্বল শহর থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। তাহলে আপনার কোটিপতি হওয়ার রহস্য কী।
গজনফর আলী-আমার পকেটে ছিল মাত্র ১০ টাকা। আজ থেকে ৩০ বছর আগের ঘটনা। আমি সেই ১০টাকা দিয়ে ৪টা আপেল কিনেছিলাম। সেই আপেল কলের পানি দিয়ে ধুয়ে চকচকা করে বিক্রি করি ১২ টাকায়। দু’টাকা লাভ হয়েছিল।
সাংবাদিক: তারপর?
গজনফর আলী: ১২টাকা দিয়ে আমি আবার ৫টি আপেল কিনি। সেই আপেল পরিস্কার আর চকচকে করে বিক্রি করি ১৫ টাকায়। সেই ১৫ টাকা দিয়ে ৬টি আপেল কিনে বিক্রি করে পাই ২০ টাকা।
সাংবাদিক: তারপর?
গজনফর আলী: এভাবে প্রথম মাস শেষে আমার লাভ হয় ৪০ টাকা।
সাংবাদিক: তারপর কী হল? এভাবেই কোটিপতি হয়ে গেলেন?
গজনফর আলী: আরে না। এভাবে কি আর কোটিপতি হওয়া যায়। তারপরেই তো আমার স্ত্রীর বাবা মানে আমার শ্বশুর মারা গেলেন। আর আমি তার কয়েক কোটি টাকার পুরো সম্পত্তি পেয়ে গেলাম।
জুলমত তরফদার জানেন এই যুগে আজকাল সবাই প্রায় এই পথেই বড় লোক হয়েছেন। শ্বশুরের সম্পত্তি অবশ্য সবচেয়ে বেশি পান সরকারি আমলারা। বেতন যাই পান, ঢাকায় অনেকেরই একাধিক গাড়ি-বাড়ি-ফ্ল্যাটের মালিক। ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা। যখনই কেউ ধরা পড়েন জানা যায় সবই শ্বশুর বাড়ির সম্পত্তি, বউয়ের নামে রাখা।
জুলমতের বন্ধু সোলায়মান মৃধা বাড়াবাড়ি ধরণের বড়লোক। কত টাকা আছে তা সে নিজেও জানে না। নিজের কত টাকা আছে তা যিনি জানেন তিনি নাকি আর ধনীর সংজ্ঞায় পড়েন না। কিন্তু এক সময়ে এই সোলায়মান মৃধাও ফেঁসে গেলেন এক মামলায়। জেল থেকে বাঁচতে গেলেন শহরের নামি একজন আইনজীবীর কাছে।
সোলায়মান মৃধা-আমি জেলে যেতে চাই না।
আইনহজীবী-কেন, জেলে যেতে চান না। অপরাধ করলে তো শাস্তি পেতেই হবে।
সোলায়মান মৃধা-আমার অনেক টাকা। আমি জীবনকে এখনো উপভোগ করতে চাই। তাছাড়া আমি জানি ধনীরা কখনো জেলে যায় না।
আইনজীবী-ঠিক আছে। আমি ব্যবস্থা করছি। আসলেই ধনীরা কখনো জেলে যায় না। আপনি বাসায় যান।
কথা রেখেছিলেন আইনজীবী। সোলায়মান মৃধা ৫ বছর মামলা চলার পর যখন জেলে গেলেন তখন সে আর ধনী ছিল না। এখন সেই আইনজীবী নিজেই দেশের সবচেয়ে বড় ধনীদের একজন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29028669 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29028669 2009-10-19 21:15:38
ছবি ব্লগ-গণ আদালত ১৯৯২

২.

৩.

৪.

৫.

৬.

৭.

৮.

৯.

১০.

১১.

১২.

১৩.

১৪.

১৫.

১৬.

১৭.

১৮.

১৯.

২০.

২১.

২২.

২৩.

২৪.

স্থান: সোহরাওয়াদী উদ্যান। কৃতজ্ঞতা- আবু সাইদ খান। আবু সাইদ খান অবশ্য ফেসবুকে ছবিগুলোর জন্য মঞ্জুরুল আজিম পলাশকে কৃকজ্ঞতা জানিয়েছেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29027464 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29027464 2009-10-17 20:06:57
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, আমাদের গলাবাজি, আমাদের দায়িত্ববোধ এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোনো সশস্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফোজদারীতে সোপর্দ কিংবা দন্ডদান করিবার বিধান সম্বলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোনো বিধানের সহিত সামঞ্জস্য বা তাহার পরিপন্থী, আই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।
-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ধারা-৪৭ (৩)।

দেশ চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসেছে। বিচার করবে না এ কথাও তারা বলছে না। তবে বলার ক্ষেত্রে আগে গলায় যে জোরটি ছিল তা যেন মনে হয় খানিকটা কমে এসেছে। একবার তো দিন-তারিখও প্রায় দেওয়া হয়েছিল। এখন বলা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পর শুরু হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই প্রণীত হয়েছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইবুনাল) অ্যাক্ট’। সরকার বলছে এই আইনেই বিচার করা হবে। ১৯৭৩ সালে করা আইন দিয়ে ২০০৯ সালে বিচার করতে হলে আইনটির খানিকটা সংশোধন করা প্রয়োজন বলেই অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে আইনটি আন্তর্জাতিক মানের কিনা সে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে সকলেই এই প্রশ্নটি তুলছেন। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য আইন না হলে বিচার করা সম্ভব হয়তো হবে না।
দেশে একটি আইন কমিশন রয়েছে। তাদের একটি কাজ হচ্ছে আইনকে সংশোধন বা পরিমার্জন করা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইবুনাল) অ্যাক্ট’ নিয়ে তারা কাজটি করছে। আইন কমিশনের একটি ওয়েব সাইট রয়েছে। কমিশন সাধারণত সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে আইন সংশোধনের সুপারিশ করে। ওয়েব সাইটে গিয়ে অবাকই হলাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আমরা অনেক কথা বলছি। বিচার করার দাবি জানাচ্ছি জোড়ালো গলায়। কিন্তু আমরা যারা গলাবাজি করছি তাদের অনেক কিছু করারও আছে। সেই কাজটি যে আমরা করছি না তার প্রমান পাওয়া যায় আইন কমিশনের ওয়েব সাইটে গিয়ে।
সরকার আইনটি পর্যালোচনার জন্য আইন কমিশনের কাছে পাঠায় ২০০৯ সালের ২১ মে। কমিশন এরপর ৩৩জন বিশেষজ্ঞের কাছে মতামত চায়। আসুন দেখি কাদের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছিল।
১. বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন
২. বিচারপতি এ টি এম আফজাল
৩. বিচারপতি হাবিবুর রহমান
৪. বিচারপতি মোস্তফা কামাল
৫. বিচারপতি গোলাম রব্বানি
৬. বিচারপতি কাজি এবাদুল হক
৭. চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৮. চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
৯. চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
১০. চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
১১. চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
১২. সভাপতি, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন
১৩. সাধারণ সম্পাদক, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন
১৪. সভাপতি, ঢাকা বার এসোসিয়েশন
১৫. সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বার এসোসিয়েশন
১৬. ওয়ালিউর রহমান, পরিচালক, বিলিয়া
১৭. ব্যারিষ্টার টি এইচ খান
১৮. ব্যারিষ্টার রফিক উল হক
১৯. ড. এম এ জহির
২০. ব্যারিষ্টার খোন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ
২১. ড. কামাল হোসেন
২২. ব্যারিষ্টার আমির-উল-ইসলাম
২৩. ব্যারিষ্টার মাহমুদুল ইসলাম
২৪. ব্যারিষ্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ
২৫. ব্যারিষ্টার আবদুল বাসেত
২৬. ব্যারিষ্টার আজমালুল হোসেন
২৭. ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন
২৮. ব্যারিষ্টার আখতার ইমাম
২৯. ব্যারিষ্টার শেখ রাজ্জাক আলী
৩০. ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক
৩১. ব্যারিষ্টার তওফিক নেওয়াজ
৩২. ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক খান এবং
৩৩. ব্যারিষ্টার খান সাইফুর রহমান।

এবার আসল কথায় আসি। এই ৩৩ জনের মধ্যে মতামত দিয়েছে মাত্র ২ জন। একজন হলেন বিচারপতি কাজি এবাদুল হক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক। সময় বাড়িয়েও কমিশন আর কারো কাছ থেকেই কোনো মতামত পায়নি। এর মধ্যে আবার ড. কামাল হোসেন এবং আজমালুল হোসেন সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। সময় বাড়ানো হলেও তারা কোনো মতামত দেননি।

আইন কমিশনের রিপোর্টটি পাবেন এখানে

এই হচ্ছে আমাদের দায়িত্ববোধ। টেলিভিশনে টক শো বা সেমিনারে যেয়ে এদের অনেকেই যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে অনেক কথা বলেন। কলামও লেখেন কেউ কেউ। কিন্তু আসল কাজটি কেউ করলেন না।
আমি বিশেষজ্ঞ নই, তবে দু-একজনের সাথে কথা বলে বুঝেছি যে আইন কমিশন আইনটির যেসব ধারা সংশোধনের সুপারিশ করেছেন তা পর্যাপ্ত হয়নি। এখনও নাকি এর অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। সমস্যা থাকার কারনেই আইনটি সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক মানের হতে পারেনি। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে শেষ পর্যন্ত লাভবান হবে চিহ্নিত-অচিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরাই।


২.
আইন: ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইনে তিন থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট ট্রাইবুনালকে হাইকোর্টের সম-মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলা বিরতিহীনভাবে চলবে এই ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
এ আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী, প্রতিরক্ষা অথবা অক্সিলারি ফোর্সেস এর যে কোন দেশের নাগরিকের বিচার করতে পারবে ট্রাইবুনাল। এ আইন প্রণয়নের আগে বা পরে আইন ভঙ্গ করলে অপরাধীদের বিচারের মতা ট্রাইবুনালকে দেওয়া হয়েছে।
৩(২) ধারায় অপরাধের প্রকৃতিগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী হত্যা, ধ্বংস, জোরপূর্বক অবরুদ্ধ রাখা, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ প্রভৃতি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ যখন কোন বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা হয় তখন তা এ আইনে বিচার হবে। এছাড়া গণহত্যা, যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচার এ আদালতে হবে।
এ আইনের ৪ ধারায় ‘অপরাধের দায়’ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংগঠিতভাবে অনেকে মিলে অপরাধ সংগঠন করলেও সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। এেেত্র ওই অপরাধ তিনি একাই করেছেন বলে সাব্যস্ত হবে।
এ আইনে আরো বলা হয়েছে অপরাধ সংগঠনের নির্দেশদাতা কমান্ডার, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এবং অপরাধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই এ আইনের ৩ ধারায় অপরাধের জন্য দোষী হবেন।
এ আইনের ৩ ধারায় বর্ণিত অপরাধের বিচারের জন্য সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এক বা একাধিক ট্রাইবুন্যাল গঠন করতে পারবে। প্রতিটি ট্রাইবুনালে একজন চেয়ারম্যান এবং সর্বনিম্ন দুই বা সর্বোচ্চ চারজন সদস্য থাকবে। হাইকোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন কেউ অথবা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কাউকে ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান বা সদস্য করা যাবে।
এ আইনের বিচারের জন্য সরকার প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবেন। এমনকি সরকার চাইলে আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধ তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থাও গঠন করতে পারেন।
বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আইনের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য দিকের মধ্যে হলো, পুরো বিচার হবে ইংরেজীতে। তবে কারো প্রয়োজন হলে সরকার দোভাষী নিয়োগ দেবেন। ট্রাইবুনালের বিচার সকলের জন্য উস্মুক্ত থাকবে। তবে আদালত মনে করলে ‘ক্যমেরা ট্রায়াল’ বিচার হতে পারে।
আইনের ১৩ ধারায় বলা হয়েছে, বিচার কার্যক্রম স্থগিত করা যাবে। তবে ট্রাইবুনাল যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে ন্যায় বিচারের স্বার্থে মুলতবি প্রয়োজন তাহলে তারা সে আদেশ দিতে পারবেন।
আদালত বৈধ মনে করলে যে কোন সংবাদ পত্র, ম্যাগাজিনে প্রকাশিত খবর বা ছবি, ফিল্ম এবং রেকর্ড করা টেপ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন।
এ আইনের আওতায় দোষী ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ডসহ উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার আদালতকে দেওয়া হয়েছে। এ আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধের জন্য দণ্ডিত আসামি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাজা ঘোষনার ৬০ দিনের মধ্যে আপিল আবেদন করতে পারবেন। প্রচলিত সাক্ষ্য আইন এবং দণ্ডবিধির বিধান এই আইনের বিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29024551 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29024551 2009-10-12 16:46:49
আমার ছোট মার জন্মদিন আজ আমার এই মায়ে মন ভরলো না। আমি আরেকটা মা নিয়ে আসলাম। আমার নতুন মা অনেক ছোট। তার একটা নাম আছে, কিন্তু আমি মা বলেই ডাকি। ছোট বেলায় আমি মাকে জড়িয়ে ধরে শুতাম। দুই মেয়ের পরে আমি ছিলাম ছেলে। আদর যত্নে ছিল অনেক বেশি। এখন আমার ছোট মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাই। আমার মা ঘুমের মধ্যে বার বার আমার বুকে পা তুলে দেয়। আমি যত্ন করে নামিয়ে দেই। সবাই বলে আমার স্বভাব আর চেহাড়ার সাথে খুব মিল আমার এই মার।

আমার দুই মা

আমার প্রতি আমার মায়ের অনক অভিযোগ। নতুন মা পেয়ে আমি নাকি তাকে ভুলেই গেছি। স্নেহ নিম্নগামি, এইটা আমি এখন ভালই বুঝি। আমি যখন ছোট মাটিকে মা বলে ডাক দেই আমার নিজের মা বলে এতো সুন্দর করে ডাকিস, বুকের মধ্যে যেন কেমন করে উঠে।

কেবলই পুতুল
মা নতুন মা স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। সকালে আমার হাত ধরে স্কুলে যায়। যেতে যেতে কত গল্প, কত প্রশ্ন। আমি স্কুল ছুটির পর লুকিয়ে লুকিয়ে আইসক্রিম খাওয়াই, পোলো কিনে দেই। ফক্স চকলেটের বক্সটা লুকিয়ে রাখে তার ড্রয়ারে।

এই দাঁতের একটিকে বিসর্জন দিতে হল মাত্রই
আমার এই মা অনেক লক্ষ্মী। বেশি আইসক্রিম খাওয়া ভাল না এইটা সে জানে। বেশি চকলেট খেলে দাঁত নষ্ট হয় এটাও জানে। চারপাশে সবাই বড় গাড়িতে চড়ে। তবে আমার ছোট গাড়িটাই যে সেরা এইটা সে মানে। আমি যা যা সেটাই তা পছন্দের।
একসময় তিনতলার একটা রুমে আমি থাকতাম। মনে হতো এটাই আমার পৃথিবী। আমার চাওয়া পাওয়া ছিল খুব কম।

আমার মেয়ে যখন মডেল
আমার খুব বড় লোক হতে ইচ্ছা করে না। গাড়ির মডেল বদলাবার ইচ্ছা আমার নাই। আমার পৃথিবী এখন আমার এই মাকে নিয়ে। আমার মা আরও বড় হবে। মানুষ হবে। মানুষের দুঃখে কাঁদবে, আনন্দে খুশী হবে। লেখাপড়া করবে। তারপর কোনো ছেলের জন্য আমার মার মন হয়তো কেমন কেমন করবে। আমি চাই সেই খবরও আমি আগে জানি। তারপর আমার একদিন নিজেই সত্যিকার মা হবে। স্নেহ নিম্নগামী। সেই মা তার নতুন ছেলেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। আমিও আমার মার মতো হয়তো বলবো, কী আমার নতুন ছেলে পেয়ে বুড়া ছেলেটাকে ভুলে গেলি!

আমরা চারজন।

আমার এই ছোট মাটি যেদিন আসলো, খুব মনে আছে সেইদিনের কথা। সময়টা ছিল দুপুর। তারিখ ছিল আরো দুদিন পর। ডাক্তার বললো সময় নেওয়া যাবে না। এখনই অপারেশন করতে হবে। দুপুর ঠিক ১২টার দিকে আমার মা কোলে তুলে দিল পরীর মতো ছোট্ট তুলতুলে একটা মেয়েকে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলাম, এইটা আমার মেয়ে। সেই অনুভূতি কে কবে প্রকাশ করতে পেরেছে?
তারপর চলে গেছে ৬ বছর। আজ ২৯ সেপ্টেম্বর আমার মেয়ে প্রিয়ন্তীর জন্মদিন। আজ ওর ৬ বছর হল।

প্রিয়ন্তী


পল সায়মনের একটা গান আছে ফাদার অ্যান্ড ডটার
শেষ কথাগুলো এরকম
I'm gonna watch you shine
Gonna watch you grow
Gonna paint a sign
So you'll always know
As long as one and one is two
There could never be a father
Who loved his daughter more than I love you

এখানে পাবেন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29017554 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29017554 2009-09-29 16:07:47
আমার ঈদ শপিং " style="border:0;" />
এখনও যারা বোঝেন নাই, তাদের জন্য বলি-এই ড্রাইভারটা আসলে আমি। এই রোজার সময় আমাকে ড্রাইভারেরই কাজ করতে হয়। এমনিতে আমার অফিসটা মজার। যে কোনো অফিসে যাই বলে বাসা থেকে বের হওয়া যায়। আর অফিসে যদি বলি একটা গুরুত্বপূর্ণ নিউজ পেতে সোর্সের সঙ্গে দেখা করতে হবে তাহলেও যে কোনো সময় বাইরে থাকা যায়। সপ্তাহের ৬দিন অফিসে যাই বইলা বউরে এড়াইতে পারছি। <img src=" style="border:0;" />
কিন্তু শুক্রবার পুরা ধরা। শপিং-যেতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিতে না, ড্রাইভার হওয়ার জন্য। আগেই একবার বলছিলাম, টিপাইমূখ বাঁধ, তেল-গ্যাস চুক্তি কিংবা ওবামার স্বাস্থ্যনীতি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাসায় আমিই নেই। আর রান্না কি হবে, ছেলে-মেয়েরা কোথায় পড়বে কিংবা ঈদের সময় কার জন্য কী কিনতে হবে-এ ধরণের ছোট খাট সিদ্ধান্ত আমার বউই নেয়।
এইটা একটা পুরানা জোকস হইলেও এর অন্তত অর্ধেক যে সত্যি তা টের পাইলাম শপিং-এ যাইয়া। জোকসটা হইল-শপিং আর ‘ওইটা আর কী’ ছেলেরা পাঁচ মিনিটের বেশি ধরে রাখতে পারে না। আমিও শপিং-এ যাই, ৫ মিনিটের মধ্যে আগ্রহ হারাইয়া ফেলি। <img src=" style="border:0;" />
গেছি সানরাইজ প্লাজায়, তিনতলা। বউ ঢুকলো চৈতিতে। রাশি রাশি মেয়ে। কোনটা আমার বউ আর খুঁজে পাই না। মার্কেটে যাইয়া বউ হারাইয়া ফেললাম। কী আর করি খুঁজে বের করলাম সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটিকে। যত কাছে যাওয়া যায় ততটাই যাইয়া বললাম-‘আপনার সঙ্গে দুই মিনিট কথা বলতে পারি।’ ভয়ে ছিলাম, আবার বলে বসে নাকি- বলেন আংকেল। তাকিয়ে দেখলাম চোখ দুটা মাছের মতো, তেমন কোনো ভাষা নাই। একটু কপাল কুচকে বললো, ‘কী কথা বলবেন, আর কেন বলবেন।’ বললাম, আমি আমার বউকে খুঁজে পাচ্ছি না। এখন খুব সুন্দরী কোনো মেয়ের সাথে কথা বলছি দেখলে আমার বউ ঠিকই কাছে চলে আসবে।
সাথে সাথে ফল। বউ আমারে টান দিয়ে নিয়ে গেল উল্টো দিকের রং-এ। যাইতে যাইতে বললাম, চৈতিই তো ভাল, সুন্দর সুন্দর মেয়ে দেখা যায়। গোপনে কই-এইটা কিন্তু মাথা খাটাইয়া বলছি। এই কথা শুইনা যদি বউ আমারে নিয়া শপিং-এ আর না আসে। <img src=" style="border:0;" />
গেলাম রং-এ। নতুন একটা বুদ্ধি পাইলাম। একটা শর্ট পাঞ্জাবি ধইরা বললাম এইটা আমি কিনবো। কিনলাম। বউ খালি একবার চিপায় নিয়া কইলো-তোমার জন্য কিছু কিনতে আসছি নাকি?
এর পর গেলাম পাশেই নবরূপায়। নবরূপায় কখনো আমি সুন্দরী মেয়ে দেখি না। এইটা আমার আবিস্কার। ঐ খানেও আমি আগের বুদ্ধি ধরলাম। একটা সাদার মধ্যে কাজ করা শার্ট ধইরা বললাম, এইটা আমার পছন্দ হইছে। পুরা নবরূপায় ঐ একটা শার্টই কেনা হইলো। বউ হালকা ঝাড়ি দিয়া কইলো তোমারে আর নিয়া আসা যাবে না। বুঝলাম বুদ্ধি কাজে লাগতাছে।<img src=" style="border:0;" />
নতুন আরেকটা বুদ্ধির বাইর করছিলাম। আর সেইটা হইল একটা ঝগড়া লাগানো। সফলও হইলাম। চোখ কান খোলা রাখলে অজুহাতের অভাব হয়না। একটা ঝগড়া লাগাইতে পারলে আমি নিশ্চিত ছিলাম এক সপ্তাহ অন্তত শপিং থেকে বাইচা যাবো। গত মঙ্গলবার এক অজুহাত আপনিই আইসা ধরা দিল। আমিও জন্টি রোডস-এর মতো খপ কইরা ক্যাচটা ধরলাম। তারপর দেখি বউ কথা বলে না। আমিও মহা ফূর্তিতে দিন কাটাইতে লাগলাম। অফিস করি, সিনেমা দেখি, ঈদ আর পূজা সংখ্যা পড়ি। এইসব কইরা শুক্রবারও পার কইরা দিলাম। বউ মনে হয় ঘটনা টের পাইয়া রোববার থেইকা নিজে থেকেই কথা বলা শুরু করছে। <img src=(" style="border:0;" />
আগামি শুক্রবার কেমনে শপিং এড়াবো ভাবতাছি। কারো কাছে কী কোনো বুদ্ধি আছে?? <img src=" style="border:0;" />

মেয়েদের কেনাকাটা নিয়া একটা ফাও গল্প কই। ৬ তলা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। এই স্টোরে কেবলমাত্র স্বামী বিক্রি হয়। মেয়েরা যায়, পছন্দ হলে স্বামী কিনে নিয়ে বাসায় চলে আসে। তবে শর্ত হচ্ছে একবার এক তলা দেখে অন্য তলায় চলে গেলে আবার আগের জায়গায় ফিরতে পারবে না। মানে আগেরটার সাথে যাচাই করা যাবে না।
শেফালী রানী গেল এই স্টোরে, স্বামী কিনতে। এক তলায় যেয়ে দেখে লেখা-এই ফ্লোরের ছেলেদের একটা চাকরী আছে। শেফালী ভাবলো খারাপ না, চাকরি তো একটা আছে। তারপর সে মনস্থির করতে না পেরে দোতালায় গেলো।
দোতালায় লেখা-এই ফ্লোরের ছেলেদের চাকরি আছে এবং তারা বাচ্চা পছন্দ করে। শেফালী রাণীর পছন্দ হইল। চাকরিও করবে আবার বাচ্চা পালবে। বাহ..। তাহলে একবার তিনতলায় দেখে আসা যাক। শেফালি রানী গেল তিন তলায়।
তিন তলায় লেখা-এই ফ্লোরের ছেলেদের চাকরি আছে, তারা বাচ্চাদের পছন্দ করে এবং ছেলেগুলো দেখতেও খুব সুন্দর। এইবার শেফালী রানী ভাবলো এর পরের তলায় তাহলে আরও ভাল ছেলে পাওয়া যাবে।
গেল চার তলায়। এখানে লেখা আছে--এই ফ্লোরের ছেলেদের চাকরি আছে, তারা বাচ্চাদের পছন্দ করে, ছেলেগুলো দেখতে খুব সুন্দর এবং ঘরের কাছে সাহায্য করে।
শেফালী রানী ভাবলো এরপরের তলায় আরও ভাল স্বামী পাওয়া যাবে। গেল সেখানে। এখানে লেখা দেখলো-এই ফ্লোরের ছেলেদের চাকরি আছে, তারা বাচ্চাদের পছন্দ করে, ছেলেগুলো দেখতে খুব সুন্দর, ঘরের কাছে সাহায্য করে এবং অত্যন্ত রোমান্টিক।
তারপরেও শেফালী রানীর আগ্রহ কমলো না। ভাবলো ৬ তলায় নিশ্চই আরো ভাল ছেলে আছে। ৬ তলার এক ছেলেকেই কিনে নেওয়ার আশা করে গেল ৬ তলায়।

৬ তলা পুরোটা খালি। ডিসপ্লেতে একটি ছেলেও নেই। খালি লেখা রয়েছে, ‘আপনি এই ফ্লোরের ৬,৮৭৫,৯৫৩,০১২ নম্বর ভিজিটর। আপনি কিভাবে আশা করেন এখনও এই ফ্লোরে কোনো ছেলে অবশিষ্ট থাকবে!!

শিক্ষা: মেয়েদের সন্তুষ্ট করার সাধ্য কারোই নেই।<img src=(" style="border:0;" />

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29010451 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29010451 2009-09-14 16:46:10
আমাদের সময়ের সেইসব গান<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /> " style="border:0;" /> বড় জোর শাবানা সমুদ্রের পানিতে ঝাপাঝাপি করে গাইতো ‘ও দরিয়ার পানি তোর মতলব জানি। তোর ছোঁয়ায় যৌবনে মোর লাগলো শিহরণ, লাগলোরে কাঁপন……….’। আফসুস, এই গানটা বহু খুঁজলাম, পাইলাম না।
তবে খুঁজতে যেয়ে পেলাম সেই সময়ের বিখ্যাত কিছু গান। বড়ই নষ্টালজিক হইলাম। এইগুলাই ছিল সে সময়ের গরম মশল্লা টাইপ গান। বেশিরভাগ গানের শিল্পী রুনা লায়লা।

‘মনে মনে যৌবনে/ লাগলো রে আগুন, জল দিলে নিভে না/ জ্বলে যে দ্বিগুন’ -এই গানটা কারে উৎসর্গ করবো তাই ভাবতাছি। কোন সিনেমার গান মনে নাই। পুরা গানটা শুইনা দেখলে একটু একটু অশ্লিল লাগলে লাগতেও পারে। ‘…..এই মধু তোমার তরে আমি রেখেছি যতন করে, ওগো প্রানেরও প্রাণ তুমি জানেরও জান…..’। আহা…..<img src=" style="border:0;" />

‘রূপে আমার আগুন জ্বলে/ যৌবন ভরা অঙ্গে,/ প্রেমের সুধা পান করে নাও/ হায়রে আমার দিওয়ানা ……….এইটা সম্ভবত বেদ্বীন সিনেমার গান। শাবানার গলায়। অলিভিয়াও ছিল কী? আহা……..কি গান। এইটা পাড়ার পোলাপারে জাতীয় সঙ্গীত ছিল একসময়।

তোমাকে চাই আমি আরো কাছে/ তোমাকে বলার অনেক কথা আছে/ আমি বলতে পারি না মুখে তওবা তওবা/দিলে যখম হলো উহু আহা/ একি শরম লাগে লাগে উহু আহা ……এইটা নসিব সিনেমার গান। আবারও শাবানা। শাবানা আফায় সে সময়ই এই জাতীয় সিনেমাই বেশি করতো। পরে না হয় স্বামীর দোয়া, স্বামীর আদর, স্বামীর আদেশ, স্বামীর প্রেম-টাইপ ছবি করছে বেশি।

অলিভিয়ার কথা কী আর বলবো। বিখ্যাত ছবি দি রেইন বা যখন বৃষ্টি এলো। সাথে ছিল ওয়াসিম। সম্পর্কে ভাবী-দেবর তারা। সব বিখ্যাত গান ছিল এইটায়। আনোয়ার পারভেজ সুরকার। যেমন, চোখে যদি চোখ পড়ে যায় লজ্জা কেন পাও বাবু/ তোমাকে আমি কিছু বলতে চাই/ বলবো কেমন করে ভাবছি চাই……… যারা যারা কিছু বলবেন বলে ভাবছেন তারা আর দেরি কইরেন না।

আর যদি না বলতে পারেন তাহলে দি রেইন-এর গানটাই গাইতে হবে খালি-একা একা কেন ভাল লাগে না, কোনো কাজে মন কেন বসে না/ আমার কী হতে কী হয়ে গেল/ আমি নিজেই কিছু বুঝি না।

সেই বয়সে ববিতার প্রেমে পড়ছিলাম। আহা……..কী কঠিন প্রেম। কী যে সুন্দর ছিল। এই গানটা ববিতার গলায়। ফকির মজনু শাহ সিনেমার। সাথে জাফর ইকবাল। ‘প্রেমের আগুনে/প্রেমের আগুনে জ্বলে গেলাম সজনি গো/ সেই আগুন চোখে দেখলাম না …গানটাও সুন্দর। যারা বিয়ে করেন নাই তাদের জন্য একটা লাইন আছে……..আমও মিঠা জামও মিঠা/আরও মিঠা ফুলেরও মৌ/সেই না মিঠা লাগে রে তিতা/না থাকলে কাছে সুন্দরী বউ।<img src=" style="border:0;" />

তারপর আসলো অঞ্জুর যুগ। আবে হায়াত সিনেমার একটা গান ছিল, চাকভুম চাকভুম চাদনী রাতে…….গানটা খুঁেজ পেলাম না। তারচেয়ে নরম গরম সিনেমার এই গানটা শুনতে পারি। আহা………মনটা জুড়ায় গানটা শুনলে। ‘এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেও না/বৃষ্টিরও গন্ধে বকুলেরও ছন্দে…….

এতো গানের কথা বললাম। আসলটাই তো বলা হয় নাই। অঞ্জুর কথা থাকবে অথচ বেদের মেয়ে জোৎস্না থাকবে না তাই কী হয়……..বেদের মেয়ে জোছনা আমার কথা দিয়েছে/ আসি আমি বলে জোসনা ফাকি দিয়েছে …….. ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29000635 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/29000635 2009-08-27 21:37:28
দ্রব্যমূল্য: এ ব্যর্থতা সম্পূর্ণই বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘দ্রব্যমূল্যের দুঃসহ চাপ প্রশমনের লক্ষ্যে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করা হবে। দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সময় মতো আমদানির সুবন্দোবস্ত, বাজার পর্যবেক্ষণসহ বহুমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মজুতদারি ও মুনাফাখোরি সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। ‘ভোক্তাদের স্বার্থে ভোগ্যপণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ গড়ে তোলা হবে। সর্বোপরি সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য কমানো হবে ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
এই কথাগুলো আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার থেকে নেয়া। এই ইশতেহার আমি হাতের কাছেই রাখি। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে অঙ্গীকার কতখানি রাখতে পারলো তার বিচার করা সম্ভব কেবল ইশতেহার বিশ্লেষন করেই।

২.
আন্তর্জাতিক বাজার এখন অনেকখানি সংযত। বিশেষ করে ২০০৭ ও ২০০৮ সালের তুলনায় বাজার যথেষ্ট স্থিতিশীল বলা যায়। কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও তা আগের মতো লাফ দেয়নি। শেষ ফসল বোরো ভাল হয়েছে। দেশের মধ্যে সরবরাহের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই। তারপরেও বাজার স্থিতিশীল বলা যাবে না।
এটিকে আমি বলছি বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা। আর এর দায় পুরোটাই বাণিজ্যমন্ত্রীর। সরকার প্রধান হিসেবে এর দায় প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। বাজার নিয়ে আসলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। বাণিজ্যমন্ত্রী অনেক কথাই বলেছেন, এখনও বলছেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিকল্পনা দেখতে পাওয়া যায়নি।

৩.
বাণিজ্যমন্ত্রী একের পর এক বৈঠক করেছেন। অনেক ধরণের ব্যবসায়ীদের এসব বৈঠকে থাকতে হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী কেন মনে করলেন মুখের কথাতেই কাজ হবে তা ঠিক বুঝতে পারলাম না। জরুরী অবস্থার সময় ভয় দেখিয়ে যা করা যায়নি, এখন মিষ্টি মিষ্টি কথা বা নসিহত করে তা সম্ভব কী করে হবে?
বাণিজ্যমন্ত্রীর সমস্ত মনোযোগ ছিল খুচরা পর্যায়ের ব্যবসার উপর। কিন্তু পণ্য কোথা থেকে আসছে, কী দামে আসছে, কতটা আসছে, কয় হাত ঘুরে আসছে সেদিকে কোনো নজরই ছিল না। খাদ্যমন্ত্রীর বলার পর বাণিজ্যমন্ত্রীর মনে পড়েছে পরিবহন চাঁদাবাজির কথা। আগে কেন মনে পড়লো না?

৪.
৭ মাস ধরে শুনে আসছি টিসিবি যথেষ্ট পরিমাণ পণ্য আনবে এবং তাতে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। বাণিজ্যমন্ত্রী কী একবারও টিসিবিকে ডেকে জানতে চেয়েছেন যে, তাদের এই ক্ষমতা আছে কীনা। বহু বছর ধরে টিসিবি কোনো পণ্যই আমদানি করে না। তারা যা করে তা হচ্ছে আউট সোর্সিং। সুতরাং টিসিবিবে নির্ভর থাকতে হয় অন্যের উপর।
টিসিবির অদক্ষতার একটা উদাহরণ দেই। ১০ হাজার টন চিনির জন্য তারা টেন্ডার দিল। টিসিবি এই তথ্যটাই জানে না যে, সাড়ে ১২ হাজার টনের নীচে চিনি জাহাজে উঠে না। পরে নতুন করে টেন্ডার দেওয়ার পর সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজের অর্ডার দেওয়া হল না। কারণ, একজন বড় ব্যবসায়ী কাজটি পাননি। দরপত্র খোলার দিনই নাকি তিনি বলেছিলেন কিভাবে এই চিনি আসে তা তিনি দেখে নেবেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিসিবি নিয়ে অনেক বাগাড়ম্বর করেছেন টিসিবির ক্ষমতা ও দক্ষতা সামান্যতম বৃদ্ধি না করেই। টিসিবির নিজস্ব তথ্য চাইলেও তারা চেয়ে থাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দিকে। পৃথিবীর সবচেয়ে ভীতু মানুষগুলো কাজ করে টিসিবিতে। টিসিবির কোনো যোগ্যতাই নাই যথেষ্ট পরিমাণ পণ্য আমদানি করে বাজারে হস্তক্ষপে করার। অথচ দিনের পর দিন এই আশার কথা শুনিয়ে ফারুক খান চরম পরিহাস করেছেন মানুষের সাথে। কাল শুনলাম তিনি বলছেন, টিসিবি বেশি পণ্য আনতে পারেনি। এর দায় টিসিবির না, বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের, মন্ত্রীর।

৫.
টিসিবি আবার ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। প্রথম চিঠিতে বলা ছিল স্থানীয় সাংসদের সুপারিশ লাগবে। পরে এই ধারাটি তুলে দিলেও বাস্তবে দলের লোকজনই নিয়োগ পেয়েছে। দোকান নেই, তেল ও চিনি রাখার জায়গা নেই-কিন্তু তারা ডিলার। এর দায়ও নিতে হবে বাণিজ্যমন্ত্রীকে।

৬.
গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে কিন্তু আমাদের জানা আছে কি করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের কাছে থাকতে হবে আন্তর্জাতিক মূল্য, উৎপাদন পরিস্থিতি, আমদানির পরিমাণ, সরবরাহ পরিস্থিতি ও চাহিদার পরিমাণ। আমি নিশ্চিত করে জানি এসব তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই।
আমরা জানি চিনি, ভোজ্যতেল, গম, ডালসহ বেশ কিছু পণ্য নিয়ন্ত্রণ করে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী। কারা সকলেই তা জানে। এই ব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য কিছুই করেনি বাণিজ্যমন্ত্রণালয়।
কৃষকের হাত থেকে একজন ভোক্তার কাছে পণ্য আসতে ৮ থেকে ১০ হাত ঘোরে। আর এর মধ্যে দাম বাড়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। কৃষক ও ভোক্তার এই দূরত্ব কমাতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ নিয়েও কিছু করেনি।
বাজারে পণ্য তালিকা টানাতে হবে। যদি না টানায়, বা টাঙানো তালিকার চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে? কোনো শাস্তি নেই। তাহলে বাজার তদারকি দল কি নিয়ে বাজারে নামবে?
তাহলে কী করে আশা করবো সরকার বাজার স্থিতিশীল করতে পারবে?

৭.
অর্থনীতিতে কবওয়েব থিউরি নামে একটি কথা আছে। মোদ্দা কথা হলো একবছর যদি ভাল উৎপাদন হয় এবং কৃষকরা ভাল দাম না পায় তাহলে পরের বছর উৎপাদন কম হবে।
বোরো মৌসুমে ভাল দাম পায়নি কৃষকরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামি মৌসুমে ধান উৎপাদন কম হবে এবং তার কিছু লক্ষ্মনও দেখা যাচ্ছে। যেমন, এবার আমন-আউশের বীজ বিক্রি কম হয়েছে। সুতরাং ভবিষ্যত নিয়ে দুঃশ্চিন্তার যথেষ্ট কারণ আছে।
ভারতে এবার খরা। উৎপাদন কম হয়েছে। ভারতকেই এবার আমদানি করতে হবে বলে দেশটির অর্থমন্ত্রী বলেছেন। চাল রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞায় গতবার চালের দাম উঠেছিল ১ হাজার ডলার। সুতরাং এখন থেকেই সাবধান হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।

৮.
সব কিছু মিলিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনার যথেষ্ট কারণ আছে। ব্যর্থতা ব্যবস্থাপনারই বেশি। এই ব্যর্থতা থেকে বের না হতে পারলে এর দায় আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28999544 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28999544 2009-08-25 16:47:32
গান ব্লগ: পছন্দের ১০ বাংলা ছবির গান এখানে দিলাম ১০টি গান। পাওয়া গেছে এমন পছন্দের গান এই ১০টি। বিমূর্ত এই রাত্রি আমার বা চেনা চেনা লাগে কারো লাগলে সেটাও দেওয়া যাবে।

১. আমি যে আধারের বন্দিনী ………সূর্যকন্যার এই গানটি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া। আলমগীর কবিরের ছবিটাও ছিল চমৎকার।

২. ভালবাসার মূল্য কতো …….আজাদ রহমান মূলত সুরকার। কিছু গানও গেয়েছিলেন। এপার ওপার ছবির এই গানটা আগে প্রায়ই ছায়াছন্দে দেখানো হতো।

৩. এই মন তোমাকে দিলাম .…..সাবিনার এই গানিট আমার সব সময়ের পছন্দের। রোজিনার গলায় গানটা। ছবির নামটা ভুলে গেছি।

৪. কতো কাঁনলাম কতো ডাকলাম আইলা না ……….ভাত দে ছবির গান। এই গানটা আবার তপন চৌধুরীর গলায়ও আছে। তবে রেকর্ডিং ভাল সৈয়দ আবদুল হাদীরটারই। খুবই পছন্দের একটা গান।

৫. মনেরও রঙে রাঙাবো ……মাসুদ রানা নিয়ে একটা ছবি হয়েছিল। বিস্মরণ গল্পটা থেকে। সেই ছবির গান। সেলিনা পারভিনের গাওয়া। গায়িকা আজাদ রহমানের বউ। চমৎকার এক গান।

৬. পাখিটা বন্দী আছে .……….আমি এখনো মনে করি মমতাজের গলায় সেরা গান এটি। মাটির ময়না ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।

৭. পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া …………কলিম শরাফীর এই গানটা যত শুনি ততই ভাল লাগে। সম্ভবত নদীও নারী ছবিতে এটা ব্যবহার করা হয়েছিল।

৮. সবাই বলে বয়স বাড়ে আমি বলি কমে রে ……..রথীন্দ্রনাথ রায়ের এই গাটনা ফকির মজনু শাহ ছবির। অসাধারণ একটা গান।

৯. তুমি যে আমার কবিতা ………..সম্ভবত আবির্ভাব ছবির গান। মাহমুদুননবী ও সাবিনা ইয়াসমিন। অসম্ভব সুন্দর একটা গান।

১০. তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো ………আমার কাছে সেরা রোমান্টিক গান মাহমুদুন নবীর এই গানটি। অসাধারণ কথা, তেমনই সুর ও গায়কী। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28991644 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28991644 2009-08-10 15:16:14
একজন ‘মৃত’ ব্যক্তির গল্প আমার বসের সঙ্গে কাজ করতে সুবিধা-অসুবিধা দুটোই আছে। মাঝে মধ্যে অতি মধুর ব্যবহার, কখনো ঝাড়ি। সেইদিন ছিল ঝাড়ির দিন। ঝাড়ি খাইয়া মেজাজ খারাপ। রাম্তায় ট্যাক্সি পাইলাম না। মেজাজ আরো বিলা। বাসায় ফিরতে ফিরতে মহাক্লান্ত।
দরজা খুলে দিলো ৭ বছরের পুরোনো বউ। কিন্তু দেখলাম যেন নতুন বউ, সেজেছে, চুলও কি কেটেছে? শাড়িটাও মনে হল নতুন, নাকি অনেক দিন পড়ে না?
মনে হলো মুগ্ধ যখন হয়েছি তখন কিছু একটা বলা দরকার।
বললামও, ‘তোমাকে আজ একদম পরের বউ এর মতো লাগতাছে’
এই জীবনে এখন পর্যন্ত আমার বউকে দেওয়া এটাই আমার সেরা কমপ্লিমেন্টস। <img src=" style="border:0;" />

২.
আমার ছেলের বয়স ২ বছর ৯ মাস। রাতে ঘুমাতে গেছি, ছেলে বলে, ”বাবা, আম্মুর জ্বালায় ঘরেই থাকা যায় না!!”। ছেলের উপলিব্ধতে আমি মহামুগ্ধ। আমি যা বলতে পারলাম না ছেলে কেমন অবলীলায় বলে দিল।
সকালে বের হয়ে রাতে বাসায় ফিরি। বউয়ের প্রশ্ন, বাসায় ফিরতে ভাল লাগে না? আমি অফিসের অজুহাত দেই। আর মনে মনে ছেলের কথাটা মনে করি।
আমার বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না! <img src=" style="border:0;" />

৩.
গত মাসের ঘটনা। একিদন বাসায় যেয়ে দেখি ছেলে দুই কানে তুলা দিয়ে ঘুরতাছে। জিগাইলাম, বাবা কানে তুলা কেন। ছেলে বললো, আম্মু আর আপু খালি জোরে জোরে কথা বলে।
কয়েক দিন ধরে ভাবছি তুলা কিনতে হবে কয়েক টন। <img src=" style="border:0;" />

৪.
জীবনের কিছু দ্বন্দ্ব
তুমি যা চাও তা পাও না (ভালবাসা)
আবার যা পাও তা উপভোগ করো না (বিয়ে)
যা উপভোগ করো তা আবার চিরস্থায়ী নয় (বান্ধবী)
যা চিরস্থায়ী সেটা আবার বিরক্তিকর (বউ)।/<img src=" style="border:0;" />

৫.
এই এসএমএসটা আমার এক বিবাহিত বন্ধু পাঠাইছিল। ইংরেজি তর্জমা কইরা দিলাম
সবসময় মানিব্যাগে স্ত্রীর ছবি রাখুন। যখনই বড়ো কোনো সমস্যায় পড়বেন তখন মানিব্যাগ বের করে স্ত্রীর ছবিটা দেখবেন, আর মনে করবেন এর চেয়ে বড় সমস্যা আর কিছুই হতে পারে না। <img src=(" style="border:0;" />
(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: আমার মানি ব্যাগে আমার বউয়ের ছবি নাই)
৬.
সরকারের উচিত ব্যাচেলরদের উপর ১৫ শতাংশ কর বসানো।
কিছূ মানুষ অন্যদের তুলনায় সুখে থাকবে এটা তো হতে পারে না। <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28986443 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28986443 2009-07-30 22:31:01
একেকটি সত্য ঘটনা নিয়ে একাধিক পছন্দের ছবি
১। রোয়ান্ডার গণহত্যা-২০০৪: ২০০৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে রোয়ান্ডায় হুটুদের হাতে মারা যায় ৮ থেকে ১০ লাখ টুটসি। জাতিগত এই দাঙ্গা ঘটেছিল সভ্য এই দুনিয়ার সবার চোখের সামনে, জাতিসংঘকেও দায়ী করা হয় এজন্য।

১৯৯৪ সালে ১১ এপ্রিল রোয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট খুন হলে শুরু হয় গণহত্যা। হুতুরা সংখ্যাগরিষ্ট। তাদের হাতে মারা যায় টুটসিরা। জাতিসংঘ বাহিনী তখন ছিল রোয়ান্ডায় মতা ভাগাভাগি পর্যবেনে। গণহত্যা শুরু হলে স্কুলে ক্যাস্প করে জাতিসংঘ মিশন। একরাতে এখানে আশ্রয় নেয় আড়াই হাজার টুটসি। বাইরে তখন চলছে গণহত্যা। একসময় জাতিসংঘ বাহিনীও চলে যায়। ফলে গণহত্যা অনিবার্য হয়ে ওঠে।
এই ঘটনা নিয়ে দুটি ছবি আছে। দুটোই বিখ্যাত। ছবি দুটো দেখাই বিশাল অভিজ্ঞতা।
হোটেল রোয়ান্ডা-নতুন কিছু বলার নাই ছবিটা নিয়ে। অনেকেরই পছন্দের তালিকায় আছে
এইটা। রোয়ান্ডার গণহত্যা নিয়ে সেরা ছবি হোটেল রোয়ান্ডা। যাকে বলে আফ্রিকান সিন্ডার্স লিস্ট। গণহত্যা নিয়ে অন্যতম সেরা ছবি বলা হয় হোটেল রোয়ান্ডাকে। আবার ছবিটা নিয়ে সমালোচনাও আছে। যেমন রোয়ান্ডায় সে সময় অবস্থানরত ইউনাইটেড ন্যাশন অ্যাসিসট্যান্স মিশন ফর রোয়ান্ডা (ইউএনএএমআইএর)-এর ভূমিকা নিয়ে। বলা হয় তারা আসলে গণহত্যা থামাতে তেমন উদ্যোগ নেয় নাই। তাদের ভূমিকা ছবিটাতে সঠিকভাবে আসেনি।
হোটেল কর্মকর্তা পল একজন হুতু, তার বউ টুটসি। পল জীবন বাজী রেখে রা করেছিল হোটেলে আশ্রয় নেওয়া কয়েকশ টুটসিকে। এটা নিয়েই ছবি হোটেল রোয়ান্ডা। ২০০৪ এটি মুক্তি পায়।
শুটিং ডগস: সব টুটসি হোটেলে আশ্রয় নিতে পারেনি। ফলে বাঁচতে পারেনি বেশিরভাগ টুটসি। সেটি নিয়েই শুটিং ডগস ছবিটি। ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটির আরেকটি নাম আছে, বিয়োন্ড দ্য গেটস।

হোটেল রোয়ান্ডা দেখলে শেষ পর্যন্ত একধরণের ফিলগুড অনুভূতি হলেও এটি দেখে হয় না। কিভাবে গণহত্যা হয়েছে এবং জাতিসংঘের কি ভূমিকা ছিল তা অনেক বেশি পরিস্কার ভাবে এসেছে এই ছবিতে। দুর্বলচিত্তদের এই ছবি না দেখাই ভাল।

২. মিউনিক ম্যাসাকার: ১৯৭২ সালে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমস-এর সময় অলিম্পিক ভিলেজে ব্লাক সেপ্টেম্বর নামে একটি সশস্ত্র সংগঠন ইসরাইলি খেলোয়ারদের জিম্মি করে। এই ব্লাক সেপ্টেম্বর ইয়াসির আরাফাতের ফাতাহ গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। তাদের দাবি ছিল ইসরাইলি কারাগারের আটক ২৩৪ জনের মুক্তি। শেষ পর্যন্ত এই অভিযান সফল হয়নি। তারা ১১ ইসরায়লি খেলোয়ার ও কোচকে হত্যা করে। ৮জন ব্লাক সেপ্টেম্বর সদস্যের মধ্যে ৫ জন পুলিশের গুলীতে মারা যায়। বাকি তিনজনকে মুক্ত করতে ব্লাক সেপ্টেম্বর পরে জার্মানির লুফথানসার একটি প্লেন হাইজ্যাক করে এবং মুক্ত করে আনে। এই ঘটনা এবং পরের কাহিনী নিয়ে দুটো ছবি আছে।
আওয়ার্স অ্যাট মিউনিখ: ১৯৭৬ সালে এই ছবি মুক্তি পায়। জিম্মি ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত

পুরো ঘটনা নিয়ে এই ছবি। টান টান এই ছবিটা একদমই অন্যরকম।
মিউনিখ: ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবির পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ। মিউনিখ ম্যাসাকারের পরের ঘটনা নিয়ে এই ছবি। ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়লি গুপ্তচর সংস্থা

মোসাদ যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, পরিকল্পনা করেছিল সেটি নিয়ে এই ছবি। বলা যায় মোসাদের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে এই ছবি।

৩. জন এফ কেনেডি হত্যাকান্ড: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি আততায়ীর গুলিতে মারা যায় ১৯৬৮ সালে। রহস্যময় এই ঘটনা নিয়ে দুটি ছবি হয়েছে।
ববি: এটি মুক্তি পায় ২০০৬ সালে। কেনেডির হত্যাকান্ডের সময় আশে পাশে থাকা কিছু মানুষের

প্রতিক্রিয়া নিয়ে এই ছবি। ছবিতে হত্যাকান্ডের বেশ কিছু প্রকৃত ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। এন্টনি হপকিন্স, ডেমি মুর, হিদার গ্রাহাম, হেলেন হান্টসহ অনেক বিখ্যাতরা অভিনয় করেছেন এই ছবিতে।
জেএফকে: অলিভার স্টোনের বিতর্র্কিত এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯১ সালে। কেভিন কষ্টনার এর

মূল অভিনেতা। নিউ অর্লিন্স-এর একজন আইনজীবী কষ্টনার তদন্ত শুরু করে কেনেডি হত্যাকান্ডের। বেশকিছু প্রমান হাজির করে এবং কারা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাও প্রকাশ করে। এ নিয়ে সে সময় মহা বিতর্ক হয়েছিল। লম্বা এই ছবিটা টানা দেখতে একটু কষ্ট হয় না।

৪. নিক্সন ও ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি: নির্বাচন সংক্রান্ত গোপন তথ্য জানতে ডেমোক্রাটদের অফিসে গোপনে আড়িপাতা যন্ত্র বসাতে যেয়ে ধরা পরে ৫জন। পরে জানা যায় এরা প্রেসিডেন্ট নিক্সনের কর্মকর্তা। এর ফলে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয় নিক্সনকে। এখনো যে কোনো রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ঘটলে তার নাম দেওয়া হয় ওয়াটারগেট। ডেমোক্রেটদের অফিস ছিল ওয়টারগেট কমপ্লেক্সে। এনিয়ে তিটি ছবি আছে।
নিক্সন: আবার অলিভার স্টোন। আর নিক্সন চরিত্রে এন্টনি হপকিন্স। ১৯৯৫ সালে এটি মুক্তি

পায়। নিক্সনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে এই ছবি। স্বাভাবিকভাবে বড় অংশ জুড়ে আছে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ও পদত্যাগের ঘটনা।
অল দি প্রেসিডেন্টস ম্যান: ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিল দুই সাংবাদিক।

ওয়াশিংটন পোস্টের বব উডওয়ার্ড এবং পল বার্নস্টেইন। প্রতিবেদন তৈরির পুরো ঘটনা এবং এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে পুরো ছবি। তাদের সংবাদের উৎস ছিল ডিপ থ্রোট নামের একজন গোপন ব্যক্তি। অসাধারণ একটা ছবি। অ্যালান জে পাকুলার এই ছবি মুক্তি পায় ১৯৭৬ সালে। অভিনয়ে রবার্ট রেডফোর্ড এবং ডাস্টিন হফম্যান।
ফ্রস্ট/নিক্সন: পদত্যাগ করে এক প্রকার নির্বাসিত জীবন যাপন করছিলেন নিক্সন। মার্কিনীদের

ঘৃণার পাত্র সে। পদত্যাগ করলেও মুখ খোলেননি নিক্সন। ফ্রস্ট একজন অখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক। মোটা অর্থের বিনিময়ে সাাৎকার দিতে রাজী হয় নিক্সন। সেই সাাৎকার নিয়ে ছবি। অসাধারণ এক ছবি, অসাধারণ অভিনয়ের ছবি। ২০০৮ সালে এটি মুক্তি পায়, রন হাওয়ার্ড এর পরিচালক।

৫. ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার: ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল কায়েদার হামলার ঘটনা সবার জানা। সেই ফুটেজ চাইলে সবসময় দেখা যায়। মার্কিনীদের গর্ব চূর্ন করে দিয়েছিল এই হামলা। এর ফলাফল অবশ্য শেষ পর্যন্ত ভাল হয়নি। এই ঘটনা নিয়েও দুটো ছবি আছে।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার: আবার অলিভার স্টোন, ২০০৬ সালে মুক্তি পায়। এটি মূলত উদ্ধার

অভিযানের পর উদ্ধারকারীদের বীরত্বের ছবি। অভিনয়ে নিকোলাস কেজ। দুই পোর্ট অথরিটি পুলিশ কর্মকর্তা তৎপরতা, বীরত্ব আর উদ্ধার অভিযানের ছবি। ঠিক হামলার পরের ঘটনা এর মূল বিষয়।
ইউনাইটেড ৯৩: ছবি হিসেবে এটিই বেশি ভাল। ইউনাইটেড ৯৩-এই ফাইটিও হাইজ্যাক হয়।

উদ্দেশ্য ছিল সম্ভবত হোয়াইট হল বা হোয়াইট হাউজে বিস্ফোরন। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি যাত্রীদের বীরত্ব ও ত্যাগের জন্য। ২০০৬ সালে এটি মুক্তি পায়। যাত্রীদের অভিজ্ঞতা, তাদের স্বজনদের আহাজারি। সবমিলিয়ে খুবই ভাল একটা ছবি।


প্রথম ছবিটি মিউনিখ ঘটনার প্রকৃত ছবি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28985208 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28985208 2009-07-28 18:25:55
বড়দের সেরা ২০ ছবি আমার দেখা প্রথম বড়দের ছবি ব্লু লেগুন। রীতিমত আয়োজন করে দেখা। বয়সে বড় খালাতো ভাইয়ের বন্ধুরা সবাই মিলে দেখেছিল, আমিও কেমনে যেন ঢুকে যাই সে দলে। আমাদের সময়ে বড়দের বড়দের বড়দের ছবি দেখানো হতো বেগম বাজারে, ১০টাকা টিকিট। শুরুতে ব্রুস লী, তারপর আসল ছবি। বেগম বাজারে কখনো গেছি কীনা এতোদিন পর মনে পড়তাছে না। <img src=" style="border:0;" />
একবার বাসায় সবাই মিলে দেখছিলাম ম্যালোনি গ্রিফিত ও হ্যারিসন ফোর্ডের ওয়ার্কিং গার্ল। রোমান্টিক কমেডি। সারা ছবিতে একটা মাত্র কিস আর জড়াজড়ি ছিল। দৃশ্যটা শুরু হওয়ার সাথে সাথে বেড রুম থেকে বাবা ড্রয়িং রুমে এসে হাজির। এক নজর দেখেই চলে গেলেন। আমি নিশ্চিত বাবা এটাকে বড়দের ছবিই ধরে নিয়েছিলেন।
ইংরেজি ছবিতে বড়দের দৃশ্য থাকবেই। সেরকম ছবি আমার প্রথম দেখা অ্যান অফিসার অ্যান্ড জেন্টেলম্যান। এখনো আমার খুব পছন্দের ছবি। ডেবোরা উইংগার ছিল আমার প্রথম প্রেম।
এখানে আমি একটা তালিকা দিলাম বড়দের ছবির। ব্যক্তিগত তালিকা। সবার সাথে মিলবে না। আমার তালিকায় নিছকই বড়দের ছবি নেই। ভাল ছবি কিন্তু বড়দের এমন ছবি থেকে আমি ২০টি বেছে নিয়েছি। আমি নিশ্চিত এই তালিকার পর অনেকেই ফরাসী একাধিক ছবির কথা বলবেন। সেরকম ছবি অভাবও নেই। কিন্তু দেখা কম, যা আছে তাকে এর মধ্যে ফেলতে পারলাম না। এই তালিকা ক্রমানুসারে না। বিশেষ করে প্রথমটা ছাড়া। বেসিক ইন্সটিংক্ট সবসমেয়ই এক নম্বের থাকবে।

১. বেসিক ইন্সটিংক্ট (Basic Instinct)-এটা নিয়ে নতুন কিছু বলার নাই। ১৯৯২ সালের ছবি। সেবার সেরা ছবির অস্কার পেয়েছিল আনফরগিভেন। এর পরিবর্তে যদি বেসিক ইন্সটিংক্টকে দিতো আমার আপত্তি থাকতো না। বড়দের ছবির তালিকায় সর্বদা এক নম্বরে থাকবে শ্যারন স্টোনের এই ইরোটিকা থ্রিলার।

২. ড্যামেজ (Damage)-এক অস্বস্থিকর সম্পর্কের ছবি। জেরেমি আয়রন ও জুলিয়েট বিনোসে। এটিও ১৯৯২ সালের ছবি। জেরেমি আয়রন একজন ব্রিটিশ এমপি, প্রেমে পড়ে ছেলের প্রেমিকার। একদমই ভিন্ন মাত্রার ছবি। শেষটাও অন্যরকম।

৩. ইয়া তু মামা তাম্বেইন (Y tu mamá también)-মেক্সিকান ছবি। তুমুল বক্স অফিস হিট ছবি। সমালোচকদেরও পছন্দ। দু বন্ধু, তাদের জীবন, প্রেম এবং নানা ধরণের সম্পর্কের ছবি।

৪. বডি হিট (Body Heat)-উইলিয়াম হার্ট ও ক্যাথলিন টার্নারের বিখ্যাত ছবি। ১৯৮১ সালে মুক্তি পায়। হার্ট একজন আইনজীবি। ক্যাথলিন তাকে নিজের জীবনে জড়ায়। তারপর পরিকল্পনা করে কোটিপতি স্বামীকে হত্যার। খুবই ভাল একটা ছবি।

৫. মালিনা (Malèna)-ইতালির এই ছবিটা দেখে নাই এমন দর্শক খুব কমই আছে। আর ছবি হিসেবেও এটি চমৎকার। মালিনা দেখে মনিকার প্রেমে পড়েন নাই এমন মানুষও কম আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সিসিলির মালিনার জীবন কাহিনী। বয়সে ছোট এক ছেলে বা কিশোরের দৃষ্টি দিয়ে দেখা।

৬. নাইন অ্যান্ড হাফ উইকস (9½ Weeks)-অল্পের জন্য মিকি রোউকির কাছ থেকে অস্কার ফস্কে গেছে। এক সময়ে অনেক বিখ্যাত ইরোটিক ছবিতে থাকতেন এই অভিনেতা। এর মধ্যে সেরা ছবি এটি। আমার কাছে ছবি হিসেবেও খুব পছন্দের ছবি এটি। সাথে আছে হট কিম বেসিংগার।

৭. নোটস অন এ স্ক্যান্ডাল (Notes on a Scandal)- এটাকে পুরোপুরি ইরোটিক মুভি বলা যাবে না। বলা যায় সাইকোলজিকাল ড্রামা। কেট ব্লেনচেট আর জুডি ডেন্স। চমৎকার এক ছবি। অভিনয়ও অসাধারণ। এটিও এক অস্বস্থিকর সম্পর্কের ছবি। স্কুল টিচার কেট সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তারই ১৩ বছরের এক ছাত্রের সঙ্গে। আর পুরো বিষয়টি জেনে যায় সিনিয়র টিচার জুডি। অসম্ভব পছন্দের এক ছবি। মুক্তি চায় ২০০৬ সালে।

৮. কোজার (Closer)-২০০৪ সালের এই ছবির পরিচালক মাইক নিকোলস। এটিকে পুরোপুরি ইরোটিক মুভি বলা যাবে না। ঐ রকম দৃশ্যও তেমন নেই। তারপরেও আমি তালিকায় রাখবো থিমের জন্য। মানুষের সাথে সম্পর্ক, প্রেম আর প্রতারণার ছবি। অভিনয় শিল্পীদের নামগুলো বলি-জুলিয়া রবার্টস, নাতালি পোর্টম্যান, জুড ল আর কাইভ ওয়েন।

৯. কিলিং মি সফটলি (Killing Me Softly)-হিদার গ্রহাম আর জোসেফ ফিনেসের এই ছবি ২০০২ সালের। এটি আরিক অর্থেই ইরোটিক ফিল্ম। তবে গতানুগতিক ধারার না। তাই এটি আমার তালিকায় থাকছে। এক অচেনা মানুষের প্রেম ও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে হিদার। তারপর বাড়তে থাকে জটিলতা।

১০. আনফেইথফুল (Unfaithful)-আড্রিয়ান লীনের আরেক বিখ্যাত ছবি। এই ছবির অনুকরণে যে কত ছবি হয়েছে তার হিসেব নেই। রিচার্ড গিয়ার ও ডায়ানা লেন। ডায়ানা স্বামীকে লুকিয়ে সম্পর্কে জড়ায় এক রহস্যময় বই বিক্রেতার সাথে। একদিন খুন হয় সেই প্রেমিকটি। এটিও ২০০২ সালের ছবি।

১১. আইজ ওয়াইড শাট (Eyes Wide Shut)-স্ট্যানলি কুবরিক সেরা পরিচালকের একজন। তার শেষ ছবি। টম ক্রুজ ও নিকোল কিডম্যান। আমার খুবই পছন্দের ছবি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমনকি শেষ সংলাপটি উপভোগ্য। টম ক্রুজ একজন চিকিৎসক। স্ত্রী নিকোল জানায় এক বছর আগে জড়িয়ে পড়া এক সম্পর্কের কথা। রুগী দেখতে গিয়ে সেও জড়িয়ে পরে নানা ধরণের ইরোটিক অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গে।

১২. আমেরিকান পাই (American Pie)- এটা একটা গতানুগতিক আমেরিকান ছবি। কমেডি ও ইরোটিকার মিশেল। হাই স্কুল গ্রাজুয়েশনের ঠিক আগে ৪ বন্ধুর অ্যাডভেঞ্চারের ছবি। গতানুগতিক ছবি হলেও এই ধারার ছবির মধ্যে এটাই আমার কাছে সেরা মনে হয়।

১৩. কামসূত্র (Kama Sutra: A Tale of Love)-মিরা নায়ারের এই ছবিটি আমার পছন্দ এর প্রথম ১৫ মিনিটের জন্য। এই ১৫ মিনিট নিয়েই একটা ভাল ছবি হতে পারতো। মায়া ও তারা একই সাথে বড় হয়েছে। মায়া গরীব দাসী। তারা রাজকুমারী। মায়া বড় হয়েছে তারার উচ্ছিষ্ট খাবার আর ফেলে দেওয়া কাপড় পরে। তারার বিয়ে। রাজপুত্র এসেছে বিয়ে করতে। এর মধ্যেই রাজপুত্রের চোখে পড়ে যায় মায়া, সম্পর্কও হয়। বিয়ে শেষ। তারা যখন চলে যাচ্ছে মায়া বলে, আজীবন তোমার এঁটো খেয়ে ও ব্যবহার করে বড় হয়েছি। আজ আমার এঁটো তোমাকে দিয়ে দিলাম।

১৪. ওয়াইল্ড অ্যাট হার্ট (Wild at Heart)-ডেভিড লিঞ্চের এই ছবি কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির পুরস্কার পাওয়া। লরা ডার্ন ও নিকোলাস কেইজ অর্থাৎ সেইলর ও লুলার জীবন নিয়ে ছবি। এটাও অনেকের ভাল লাগতে পারে। ।

১৫. বিটার মুন (Bitter Moon)-পরিচালক হিসেবে রোমান পোলানস্কি আমাকে সবসময় আকর্ষন করে। এটিও তার বিখ্যাত ছবির একটি। হিউ গ্রান্ট ও ক্রিষ্টিন স্কট থমাস-ঘুরতে বের হয়েছে, সমুদ্রে। জাহাজে পরিচয় আরেক দম্পতির সাথে। মেয়েটি ফরাসী আর ছেলেটি আমেরিকান। জড়িয়ে যায় এই দুই দম্পতি।

১৬. দি আনবিয়ারাবল লাইটসেন অব বিয়িং (the Unbearable Lightness of Being)- মিলন কুন্ডেরার উপন্যাস নিয়ে ছবি। পরিচালকও বিখ্যাত ফিলিপ কফম্যান। দুইবার অস্কার পাওয়া ড্যানিয়েল যে লুইস আর ফরাসী জুলিয়েট বিনোসে আছে এই ছবিতে। মেয়ে পটানোতে ওস্তাদ এক ডাক্তারের কাহিনী।

১৭. দি পোস্টম্যান অলওয়েজ রিংগস টোয়াইস: (The Postman Always Rings Twice)- ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি পুরোপুরি এরোটিক না। তারপরেও তালিকায় রাখছি একটি দৃশ্যের জন্য। জ্যাক নিকলসন কাজ নিয়ে আসার পর প্রথম দেখা হয় মালিকের বউ জেসিকা ল্যাঙ্গের সাথে। প্রথম দুজনের সেই দেখা হওয়ার দৃশ্যটাই এটিকে ইরোটিক ছবির তালিকায় রেখে দিচ্ছে। ছবিটা খুব ভাল। একই উপন্যাস নিয়ে ১৯৪৬ সালেও এই নামে আরেকটি ছবি হয়েছিল। সেটিকেই অবশ্য বেশি বিখ্যাত বলা হয়।

১৮. আমেরিকান গিগোলো (American Gigolo)- ১৯৮০ সালে মুক্তি পাওয়া রিচার্ড গিয়ারের এই ছবিটি একটি থ্রিলার। মেল প্রস গিয়ার এক খুণের ঘটনায় জড়িয়ে যায়। তারই এক মক্কেল খুন হয়। অথচ সে সময় গিয়ার ছিল আরেকজনের সাথে। সেই মেয়ে তার স্বামী ও নিজেকে রা করতে সাী হতে অস্বীকার করে। তারপর ঘটনা ঘটতে থাকে।

১৯. লাস্ট ট্যাঙ্গো ই প্যারিস (Last Tango in Paris)-এটি কাসিক হিসেবে মর্যাদা পাওয়া ছবি। ইতালির পরিচালক বার্নানদো বাতিলুচ্চির ছবি। মূল অভিনেতা মার্লোন ব্রান্ডো। এ নিয়ে এতো বেশি লেখা হয়েছে যে নতুন করে কিছু বলার নেই। আমেরিকান মধ্য বয়স্ক ব্রান্ডো আর ফরাসী তরুনী মারিয়ার সম্পর্ক নিয়ে ছবি।

২০.দি গ্রাজুয়েট (The Graduate)-১৯৬৭ সালের এই ছবি অবশ্যই একটি ইরোটিক ছবি না। তারপরেও রাখা যায়। ডাস্টিন হফম্যানের সেরা ছবির একটি। পরিচালক মাইক নিকোলস। সদ্য গ্রাজুয়েট হওয়া হফম্যান একজন বয়স্ক রমনী মিসেস রবিনসনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। সেখান থেকে বের হয়ে আসে একদিন। তারপর প্রেমে পড়ে সুন্দরী আরেক রবিনসনের। ধাক্কা খায় তখনি জানতে পারে এই রবিনসন মিসেন রবিনসনেরই মেয়ে। ছবির শেষ দৃশ্য তো অসাধারণ। আর আছে সায়মন ও গারফুনকেলের বিখ্যাত গানগুলো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28984099 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28984099 2009-07-26 17:54:16
এইটা একটা আত্মপ্রচারণামূলক পুস্ট <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /> ‌‌''আপনার মুখ দেইখা সকালে বাইরাইছি বস।''
এই লাইনটা আমার লেখা না। এইটা আমাগো ব্রগার অচেনা বাঙালীর। অচুদা ফেসবুকে আমার ওয়ালে এইটা দিয়া রাখছে।

কিছুক্ষণ পরে সে একটা নোট দিছে ফেসবুকে। আসেন এইটা পড়ি-

''প্রত্যেকদিনের মত বুয়ার কলিং বেলের আওয়াজ শুনে সকালের ঘুম ভাঙলো। মহা বিরক্তি নিয়ে উঠতে হয় কারণ ভোরের দিকেই ঘুমটা জমে ভালো । এদিকে আরেক হ্যাপা, নতুন সময়ানুযায়ী এক ঘন্টা আগে উঠতে হয়।

ঘুম ঘুম চোখে টিভির সামনে বসলাম। সংবাদ পত্র নিয়ে আলোচনা হচ্ছে ইটিভিতে। উপস্থাপকের সাথে অতিথি প্রথম আলোর মাসুম ভাই। স্বরাষ্ট্র সচিবের গতকালের করা বক্তব্য নিয়ে আলোচনা চলছে। সচিব মিয়া বলছে মন্ত্রি প্রতিমন্ত্রি ছাড়া তাদের মন্ত্রনালয় চালাতে কোনো সমস্যা হয় নাই। তাইলে মন্ত্রী পোষার দরকার কি?

নাস্তা খেয়ে বের হয়েছি রিক্সার খোঁজে। অফিসে যাওয়ার আগে রাজউকে যেতে হবে। একটা বাড়ির ডিজাইনের বিষয়ে খবর নেয়ার জন্য। সরকারি অফিসে যাওয়ার কথা মনে আসলে মেজাজ খারাপ হয়। পয়সা ছাড়া কেউ কথাই বলতে চায় না, কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায় না। সেজন্য মনে মনে নেতিবাচক প্রিপারেশন নিয়েই রাজউকে ঢুকলাম। কিন্তু ছিমছাম পরিবেশ দেখে অবাক হলাম। সামনেই হোটেলের রিসেপসনের মত হেল্প ডেস্ক। লোকজন কার্ড পাঞ্চ করে এটেন্ডেন্স দিচ্ছে। আরো আচানক বিষয় হল হেল্প ডেস্কে বাসা লোকের কাছে ইনফরমেশন চাইতেই ইনফরমেশন দিয়ে দিল কোথায় যেতে হবে। তার কথা মত রেকর্ড রুমে গেলাম। এখানে তো আরো মহা আশ্চর্য্য ব্যাপার। ঢুকতেই সালাম দিয়ে বসতে বললেন। প্রয়োজন বলতেই হাসিমুখে আলমারি, ফাইল ঘেটে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করে দিলেন। আমি ধন্যবাদ দিয়ে বের হয়ে আসলাম।

দিনটা কী অসাধারণভাবেই না শুরু হল!''

আমি মন্তব্য করলাম-
''কারণটা বুঝেন নাই? কেন দিনটা অসাধারণ শুরু হইছে? টিভিতে আমারে দেখছেন যে তাই। আমার একটা ছবি নিয়া যাইয়েন''

কার কার আমার ছবি লাগবো জায়গায় দাড়াইয়া আওয়াজ দিয়েন<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28982493 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28982493 2009-07-23 14:16:01
প্রেম যেবার আমার উপর পড়ছিলো…..
আমার উদাস ভাব দেইখা বাপ-মায়ের দয়া হইল। জ্বীনা, বিবাহ দেন নাই। বরং চালাইতে শিখতে কইল। অন্যকিছু নারে ভাই, গাড়ির কথা বলতাছি। বাপের ধারণা ছিল আমি শিগগিরই আমেরিকা পারি দেব, লেখাপড়া করতে। (আমাদের সময় বাপ-মারা ছেলেমেয়েদের কত কম বুঝতো)। তাই গাড়ি চালানো শিখে রাখাটা দরকার।

তখন নাখাল পাড়ায় থাকি। পাশের বাসায় থাকে দিয়া আপা। (তার একখান ছোট বোন ছিল, মনটা আবার উদাস হইলো) দিয়া আপার ভাই থাকে শান্তিনগর, তার একখান পুরান ভক্সওয়াগন আছে, সেইটা সে ড্রাইভিং শিখাতেই ব্যবহার করে। দিয়া আপার ভাই নিজেই মালিক, প্রশিক্ষক। ভর্তি হইলাম সেখানে। রোজ ভোর বেলা, সাড়ে ৬টার সময় তাঁর বাসায় যাইতে হইত। আবার ভোর বেলায় ঘুম বাদ? উফফফ।

তবে দুইদিনের মাথায় ব্যাপক উৎসাহ পাওয়া শুরু করলাম। আমি সাড়ে ৬টায় হাজির হই। একটু পরেই বাড়ির ড্রয়িং রুমের জানালা খুলে যায়। একটা মহাসুন্দরী বালিকাকে দেখি, যতক্ষণ গাড়ি নিয়ে বের না হই সেই বালিকা জানালায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। আমার তখন ড্রাইভিং শেখায় ব্যাপক উৎসাহ।

দিনের পর দিন যায়, আমি বালিকাকে দেখি, বালিকা আমাকে দেখে। বালিকার বাবা পাশে বসে থাকে। আমরা গাড়ি নিয়ে বের হই মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুলের সামনের রাস্তায়।

কয়েকদিন পর রচিত হইল আসল নাটক। একদিন ভোরে যেয়ে দেখি বালিকার বাবা নিজেই বাইরে দাঁড়ানো। আমাকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে বসালেন। চা আসলো। চা খেতে খেতে খাবি খেলাম যখন দেখি সেই মেয়েও আসলো ড্রয়িং রুমে। ঘটনা কোন দিকে যাবে বুঝতে পারতাছিলাম না। দিয়া আপার ভাই মেয়েটাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন আমার সাথে। সুন্দরী বালিকা তমিজের সাথে আমার দিকে তাকিয়ে হাত কপালের পাশে রেখে বললো ‘সালামালাইকুম আংকেল’।

২৪ বছর পর।

গেছি মেয়ের স্কুলে, ছুটির পর নিয়ে আসতে। ১৫ মিনিট সময় হাতে। এদিক-ওদিক তাকাচ্ছি। চোখ পড়লো এক সুন্দরী বালিকার দিকে। দেখে মনে হলো ইউনিভার্সিটির ছাত্রী হতে পারে।
কিছু পরে অবাক হয়ে দেখলাম, আমার দিকেই আসছে। সামনে এসে বললো, সালাম আংকেল, আপনি তো প্রিয়ন্তীর বাবা, আপনার মেয়েটা খুব লক্ষ্মী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28982165 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28982165 2009-07-22 19:13:01
কবিতারা……..
আধুনিক কবিতা তেমন বুঝি না। উত্তরাধুনিক কবিতা তো নাইই। তারপরেও হঠাৎ হঠাৎ দু’একটা বুঝে ফেলি। যেমন নৃসিংহমুরারি দের এই কবিতা। পশ্চিমবঙ্গে এই নামে যে একজন কামেল কবি আছেন সেটাই তো জানতাম না। কবিতা পাই বুদ্ধিজীবীর নোট বই নামের একটি বইয়ের মূখবন্ধে। আত্মপরিচয়ের সংকট বুঝাতে যেয়ে এই কবিতার এই কটি লাইনের উদাহরণ।

আপনার বাড়িতে ফ্রিজ আছে।
বিদেশী রঙ্গিন টিভি আছে
এবং এন্তার ভিডিও ক্যাসেট আছে।
আপনার অনেক লকার আছে
ভল্ট আছে-
আপনার এয়ারকন্ডিশন্ড গাড়ি আছে-
উলেন কার্পেট এবং জাজিম আছে।
আপনার পাঁচটা বিলিতি কুকুর আছে-
বাথরুমে ইলেকট্রিক শাওয়ার আছে।
আচ্ছা বেশ তো-
আপনি কোথায় আছেন আপনার বাড়িতে?

কবিতাটা পড়ার পর আসেন নিজের আত্মপরিচয়টা বের করার চেষ্টা করি। কেউ কি সফল হলেন? আপনার বাড়িতে আপনি আসলেই কৈ?
কিংবা ধরেন এই কবিতাটা-

টুং টাং
মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে
টুং টাং
পছন্দসই চাকরি পেতে হলে লিরিল সাবান ব্যবহার করুণ
টুং টাং
ভারতবর্ষ বাবাদের দেশ
টুং টাং
ভারতেরর রাজনীতি ও অর্থনীতি এই দুই
এঁটুলি সাপ পরস্পর পরস্পরকে
লেজের দিক থেকে অনবরত খেয়ে যাচ্ছে।
(সোমক দাস)

কেমন যেন লাগে না? মনে হয় এক লাইন কবিতার পরেই বলছে এখন এখন বিজ্ঞাপন বিরতি। আমাদের সাথেই থাকুন। তবে চমৎকৃত হলাম শেষ লাইনগুলো পড়ে। আসলেই কি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি পরস্পরকে খাচ্ছে না? খাচ্ছেই তো। ভারতের চেয়ে দ্রুত গতিতে খাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গই যখন আসলো তখন শঙ্খ ঘোষের সেই বিখ্যাত কবিতাটা একটু পড়ি। শেষ লাইনটা সবসময়ই শোনা যায়। বিশেষ করে বিজ্ঞপনের আধিক্যের বা বিজ্ঞাপন নির্ভরতার উদাহরণ দিতে গিয়ে।

একলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি
তোমার জন্য গলির কোণে
ভাবি আমার মুখ দেখাব
মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।

এবার একটা কবিতার মাত্র একটা লাইন।

সারাজীবন একটা গরম কড়াইয়ের ওপর নেচে গেলাম।

এই লাইনটা ভাস্কর চক্রবর্তী নামের এক কবির এক কবিতা থেকে নেওয়া। আত্মপরিচয়ের সংকটের কথা শুরুতে বলেছিলাম। কে বলে সংকট? এই তো আমি জানি। এই যে গরম কড়াইয়ের উপর নাচছে যে লোকটি সেটি আসলে আমিই।

তারচেয়ে বরং সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের উপর ভর করি। গরম কড়াইর উপর নাচতে থাকা ভাল না টুপ করে জীবনটা খসে পড়লা বেশি ভালো? কে দেবে উত্তর?

একদিন গোগ্রাসে গিলতে গিলতে
দু-আঙুলের ফাঁক দিয়ে
কখন
খসে পড়লো তার জীবন
লোকটা জানলই না।
(সুভাষ মুখোপাধ্যায়)

সুভাষ অধ্যায় আগে শেষ করি। তার এই কবিতাটা বরং পড়ি। পড়ে কেমন যেন গোলমেলে লাগে। মনে হয় চলতি বিশ্বমন্দা নিয়ে লেখা। আসলে সুভাষ যে কথা বলেছেন সেই মন্দা আমাদের মতো দেশে সারা বছরই লেগে থাকে।

যার হাত আছে তার কাজ নেই
যার কাজ আছে তার হাত নেই
আর যার ভাত আছে তার হাত নেই।
(সুভাষ মুখোপাধ্যায়)

আগে বলছিলাম অর্থনীতি আর রাজনীতি পরস্পরকে খাচ্ছে। তাহলে পুরা পৃথিবীর কি অবস্থা? পৃথিবী নাকি কেবলচি ঘুরছে, সূর্যকে কেন্দ্র করে। প্রশ্ন হলো কিভাবে ঘুরছে। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতাটি পড়ি তাহলে।

পৃথিবীটা যেন রাস্তার খেঁকী কুকুরের মতো
পোকার জ্বালায়
নিজের ল্যাজ কামড়ে ধরে
কেবলি পাক খাচ্ছে।
(সুভাষ মুখোপাধ্যায়)

তাহলে উপায় কী? বদলাতে হবে। পরিবর্তনের সনদ বানাতে হবে। শ্লোগান দিয়ে গাইতে হবে দিনবদলের গান। শপথ করতে হবে বদলে দেওয়ার, বদলে যাওয়ার। কিন্তু কারা বদলাবে? যারা আগেও বদলাবার কথা বলেছিল তারা কৈ?

আমার যে বন্ধুরা পৃথিবীকে বদলাবে বলেছিল
ত্বর সইতে না পেরে
এখন তারা নিজেরাই নিজেদের বদলে ফেলছে।
(সুভাষ মুখোপাধ্যায়)

আসলে কিছুই শেষ পর্যন্ত বদলায় না। কেন বদলায় না? সমস্যাটা কোথায়? সম্প্রতি আদালত যে রায় দিয়েছে সেটা কথা মনে করি। বলেছে, যাদের চোর বলেছিলাম তারা আসলে কেউই চোর না। অন্তত ভুল ভাবে চোর ধরায় তাদের আর চোর বলা যাবে না। আইনসিদ্ধ পথে আবার চোর ধরতে হবে। সুতরাং আবার চোর ধরার আগ পর্যন্ত তরা সবাই সাধু। আর এই সাধুরা এখন কী করছে?-

অসুস্থ অসুখী দেশ। চোর
প্রহরী তাড়ায়।
(দিনেশ দাশ)

অনেক ভারী ভারী কথা বললাম। এবার একটু প্রেম-পীরিতি নিয়ে আলাপ করা যায়। প্রেমের কথা বলবো, নাকি প্রেমহীনতার কথা বলবো? বরং দুইটাই বলি-

এরা বিয়ের আগে করে প্রেম
প্রেম থাকে না-
শুধু বিয়ে থেকে যায়।
তারপর বিয়ের পর করে প্রেম
প্রেম মেলে না-
শুধু বিয়ে ভেঙ্গে যায়।
(সন্তোষকুমার ঘোষ)

বিরহের কথাও না হয় একটু বলি। বিরহ নিয়ে কি কবিতার অভাব আছে। আবার বিরহের ভিন্ন ভিন্ন মাত্রাও আছে। যেমন এই কবিতাটা-

বিয়ের দিন সকল মেয়ের
সত্যিকার দরাজ মন
বিফল প্রেমিক পাবেই পাবে
রঙিন খামে নিমন্ত্রণ।
(অমিতাভ চৌধুরী)

সত্যি করে বলি, সবার দিব্যি, আমার প্রেমিকার বিয়ের কার্ড একটা আমিও পেয়েছিলাম। কয়টা পেয়েছিলাম? সময় লাগবে যে গুণতে!

হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয়
সারা জীবন বইতে পারা সহজ নয়
এক কথা খুব সহজ, কিন্তু কে না জানে
সহজ কথা ঠিক ততটা সহজ নয়।
(শঙ্খ ঘোষ)

প্রেম বা বিরহ যাই বলিনা কেন, হাতের উপর হাত রাখা আসলেই সহজ না। গোপন কথা বলি, প্রথম যখন প্রেমে পড়ি তখন বালিকাকে বলেছিলাম, ‘তোমার হাতটা একটু ধরবো?’। এর ফলাফল? ঐ যে বললাম একটা কার্ড পেয়েছিলাম, বিয়ের কার্ড। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28980483 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28980483 2009-07-19 15:54:39
রাজনীতির কড়চা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_51.gif" width="23" height="22" alt="/:)" style="border:0;" /> ফেরত আনার কী দরকার?<img src=" style="border:0;" />
আজ বিএসএফ-বিডিআর (এই নাম বলা যাবে তো?) যৌথ বৈঠক হইছে। বৈঠকে বিশাল এক অগ্রগতির খবর পাইলাম আমরা। আর সেইটা হইলো সন্ত্রাসীদের তালিকা বিনিময়। বাংলাদেশ দিছে ১ হাজার ২২৭ জনের নাম। আর ভারত দিছে ৭৭ জনের নাম। ভারত যে নাম দিছে তার বেশির ভাগই কোনো না কোনো বিচ্ছিন্নবাদী নেতা। আর বাংলাদেশ দিছে সব খুনী, মাস্তানদের নাম।
প্রশ্ন হইলো আমরা ১২২৭ জন সন্ত্রাসীরে ফেরত চাইতাছি কেন? আমাদের কি সন্ত্রাসীদের অভাব পড়ছে? এমনিতেই এখন প্রতিদিন খুন বা গোলাগুলি হইতাছে। ছিনতাই তো ডাইল ভাত। দেশের মধ্যে যারা আছে তাগো যন্ত্রনাতেই বাঁচতাছি না। এখন আবার ভারত থেকে ১২২৭ জনরে ফেরত আইনা নতুন কইরা যন্ত্রনা বাড়াইতাছি কেন। তার চাইতে ওরা ঐখানেই থাকুক না। কী দরকার ফেরত আনার।

চোরে চোরে বেয়াই<img src=" style="border:0;" />
বইতে পড়ছি চোরে চোরে মাসতুতে ভাই। কেন কয় জানি না। সম্ভবত চোরের সাক্ষী আরেক চোর দেয় বইলা হয়তো। তয় এখন থেইকা চোরে চোরে বেয়াই কওন যাইতে পারে। কেন বলা যায় তার একটা কারণও আছে।
একটা শুভ বিবাহের খবর দেই। কাইল এই বিয়া। পাত্রের বাবা শেখ সেলিম। আর কন্যার বাবা ইকবাল হাসান মাহমুদ। ঠিকই ধরছেন দুই জন দুই দলের। শেখ সেলিম আওয়ামী লীগের আর ইকবাল হাসান মাহমুদ ছিলেন বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রী। দুই দল তো ঝগড়া করতেই ব্যস্ত, মিল-মহব্বত কেমনে হইলো?
সেই কাহিনী কই। গত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুইজনরে তালিকাভুক্ত করছিল দুদক বা টাস্কফোর্স। দুইজনেই ছিলেন জেলে। আবার দুইজনেই কিন্তু ছিলেন একই সেলে। জেলের সেই সেল দুই শক্ররে বন্ধু বানাইছিল। সেই বন্ধুত্ব এখন বেয়াই সম্পর্কে গড়াইতাছে।
বাংলা সিনেমার পরিচালকরা এইটা নিয়া সিনেমা করে না কেন?

চোর কি বলা যাইবেক?/<img src=" style="border:0;" />
আদালত ঘোষণা দিছে সাবেক মন্ত্রী ও সচিব মহিউদ্দিন খাল আলমগীর বেকসুর খালাস। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ১৩ বছর জেল হইছিল। কেন খালাস পাইলেন? কারণ যখন দুর্নীতি দমন কমিশন তালিকাভূক্ত করছে তখন এই জাতীয় মামলা করার এখতিয়ার দুদকের ছিল না। আইন করা হইছে ধরার পড়ে। এই এক যুক্তিতেই মামলা খালাস। এই কারণে আরও ৫০ জনও খালাস পাইয়া যাইবেন। এখন কথা হইলো ৫০ জনের সবাই কি সাধু ছিলেন বা আছেন? কিন্তু সবাই এবার সাধু হইয়া গেলেন। তাইলে কি তাদের আর চোর বলা যাইবে না? নাকি যে আইনে চোর বলছি সেই আইনে যাইবে না? বুঝতাছি না।

*কার্টুনটা ই-বাংলাদেশের। গুগলে সার্চ দিয়া পাওয়া গেছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28978317 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28978317 2009-07-14 21:39:08
সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-১৯৮১): মঞ্জুরের হত্যাকান্ডসহ কিছু অজানা তথ্য ও আমাদের সুশীল সমাজ। প্রকাশনা উৎসব ২১ জুলাই মেজর রেজা সকালে ঘুম থেকে উঠে জানলেন সব। প্রথমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পড়ে থাকা লাশ সরিয়ে নেওয়ার। অন্য কাজ চাইলে দেওয়া হয় চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুরের দেহররি দায়িত্ব। শেষ সময় পর্যন্ত এই কাজটি করেছেন।
মেজর রেজা শুরু থেকে পুরোটা বলেছেন প্রমান্য চিত্রটিতে। এটাই তার প্রথম সাক্ষাৎকার। জিয়া হত্যা থেকে শুরু করে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত সেনা কর্মকর্তাদের ফাঁসি পর্যন্ত ঘটনা নিয়ে অসংখ্য গল্প চালু আছে। কোনোটা একদমই মিথ্যা, কিছু সত্যের কাছাকাছি। পুরো সত্য মনে হয় মেজর রেজার জবানীতেই জানা যায়।
বিস্তারিত না বলে উল্লেখযোগ্য একটা অংশ বলি। ধরা পড়ার পর তাদের জেনারেল মঞ্জুরসহ সবাইকে নিয়ে আসা হয় হাটহাজারি থানায়। ওসি গোলাম কুদ্দুস। থানায় সবাই অপেক্ষায় আছেন। আসলেন চট্টগ্রামের ডিআইজি এ এস এম শাহজাহান।
জেনারেল মঞ্জুর প্রথম দাবী করলেন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে দিতে হবে। রাজী হলেন না জনাব শাহজাহান। মঞ্জুর বলেছিলেন, শাহজাহান সাহেব, প্রেসিডেন্ট মারা গেছেন। আমাকে দায়ী করা হয়েছে। সুতরাং আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ দিতে হবে। এ এস এম শাহজাহান বললেন, আপনি যখন ছিলেন তখন আপনার কথা শুনেছি। এখন যারা আছে তাদের কথা শুনতে হচ্ছে। জেনারেল মঞ্জুর তখন বললেন, তাহলে আর্মির কাছে তাঁকে হস্তান্তর করা না হয়। তাঁকে যেন পুলিশের কাছেরা রাখা হয়। ফলে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। এই কথা বার বার বলেছিলেন জনাব শাহজাহানকে।
মঞ্জুরকে ধরার জন্য তখন ৫ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা ছিল। জেনারেল মঞ্জুর বললেন, যার কাছে তিনি ধরা দিয়েছেন সেই যেন টাকাটা পান। এ সময় ওসি গোলাম কুদ্দুস এগিয়ে এলে তিনি বলেন, না, এই সেই ব্যক্তি নন। আমি তো ধরা দিয়েছি একজন হাবিলদারের কাছে। এসময় মেজর রেজা সেই হাবিলদারকে দেখে ডাক দিলে ভিতরে ঢোকেন সেই হাবিলদার। জেনারেল মঞ্জুর এসময় কোমরে লুকানো পিস্তলটি বের করে হাবিলদারকে দেন। পিস্তল দেখে ভয় পেয়েছিলেন থানার অন্যান্যরা। জেনারেল মঞ্জুর অভয় দিয়ে বলেন, আমি যদি নিশ্চিত না থাকতাম যে পুলিশের নিরাপদ কাস্টডিতে আমি নেই তাহলে পিস্তলটা দিতাম না। অন্য কেউ আসলে ব্যবহার করতাম। কিন্তু এখন আমি নিশ্চিত যে পুলিশের কাস্টডিতে আছে, আর্মির না। এ কারণেই সারেন্ডার করছি। এই কথা তিনি বললেন এ এস এম শাহজাহানকে।
সেই এ এস এম শাহাজাহান কি করলেন একটু পরেই?
বাইরে পুলিশের গাড়ি। সাথে একটা পাঁচ টনি ট্রাক। কিন্তু গাড়ি আর ছাড়ে না। কিছু পরে আসলো এক আর্মি জিপ। মেজর এমদাদ সেই গাড়িতে। সব বুঝে ফেললেন জেনারেল মঞ্জুর। খুঁজলেন এ এস এম শাহজাহানকে। কোথাও পেলেন না। আর্মির হাতে তুলে দিয়ে তিনি তখন লুকিয়ে থাকলেন।
তারপরে রেজা জানান, কিভাবে নিরস্ত্র জেনারেল মঞ্জুরকে মেরে ফেলা হয়। জিয়ার হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত না থেকেও এই দায় চাপিয়ে বিনা বিচারে মেরে ফেলা হয় জেনারেল মঞ্জুর।
দুটো পরিচয় নিয়ে কথা বলতে পারি।
ওসি কুদ্দুস। জেনারেল মঞ্জুরকে ধরার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনিই। দিয়েছিলেন এরশাদ। চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। সেই কুদ্দুস এখন দেশের বিশাল ব্যবসায়ী। বিজিএমইএর সভাপতিও ছিলেন। তার গ্রুপের নাম ড্রাগন গ্রুপ।
আর এ এস এওম শাহজাহান?

পরে আইজি হন, সচিব হন, তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও হয়েছিলেন। এখন তিনি সুশীলসমাজের প্রতিনিধি। টক শো তে দেখা যায়। আজও যুগান্তরে একটা কলাম আছে আইনের শাসন নামে। বুদ্ধিজীবি তিনি এখন।
এতোক্ষণ যে প্রমান্য চিত্রটির কথা বললাম সেটির নাম ‘সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-৮১)’। এটা নিয়ে আমি গত বছর জরুরী অবস্থার সময় একটা লেখা লিখেছিলাম সামুতে। সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-১৯৮১) একটি প্রামাণ্য দলিল সেই প্রামান্য চিত্র অবশেষে আলোর মুখ দেখছে।

আগামি ২১ জুলাই এটির প্রকাশনা উৎসব হবে মুক্তিযুক্ত যাদুঘরে। সাড়ে তিনটায়। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীওতে ফাঁসির মঞ্চে জীবন দেওয়া, নিখোঁজ হওয়া কয়েকটি পরিবারের সদস্য, সামরিক আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, জেলখাটা সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে আনোয়ার জানিয়েছে।

সামুতে গত অক্টোবরে এ নিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর সরাসরি পোস্টে মন্তব্য করে এবং আমাকে ব্যক্তিগতভাবে মেইল করে অনেকেই এই প্রামান্য চিত্রটি কিনতে চেয়েছেন। কিন্তু সে সময়টা ভাল ছিল না বলে কাউকেই দেওয়া যায়নি। আশা করি এবার সবাই সংগ্রহ করতে পারবেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28975785 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28975785 2009-07-09 17:00:49
রম্য গল্প: বচনামৃত
আজমল হায়দার কথা বলতে ভালবাসেন। ৩২ বছর চাকরি করেছেন। সচিব ছিলেন তিনটি মন্ত্রণালয়ের। তখন কথা শোনার অনেক মানুষ ছিল। আজমল হায়দার কথা বলতেন আর বাকিরা শুনতেন।

কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে জীবন শুরু করেছিলেন। ঘড়ি ধরে টানা ৪০ মিনিট কথা বলতে হতো। ক্লান্ত হতেন না আজমল হায়দার। তবে কথা বলতে পারলেও তাতে সন্তুষ্টি ছিলো না। আর্থিক স্বচ্ছলতার অভাবই বড় কারণ। তাছাড়া সুফিয়ার বাবা একজন কলেজ শিক্ষকের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে কিছুতেই রাজী ছিলেন না। সিএসএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তবেই বিয়ে করতে পেরেছিলেন সুফিয়াকে। শুরুতে সুফিয়াও কথা শুনতে পছন্দ করতো। পরে অবশ্য শ্রোতার অভাব হয়নি আজমল হায়দারের জন্য।
তিনি চিন্তিত হলেন অবসরে যাওয়ার সময় মাস আগে থেকে। সচিব মানেই প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা। আরে তাতে আসে কামিনী ও কাঞ্চন। কিন্তু চাকরি না থাকলে যে কথা শোনারও কেউ থাকবে না বিলক্ষণ জানেন তিনি। ফলে দলের কাছে তদ্বির করতে হলো। সচিব থাকলে অনেককেই নানাভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায়। তার বদলে কখনো কামিনী, কখনো কাঞ্চন আবার কখনো ভাল জায়গায় পোষ্টিং নিয়েছেন তিনি। শেষবার নিলেন এক্সটেনশন।
চাকরির সব মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও একেবারেই বসে থাকেননি আজমল হায়দার। শ্রোতারও অভাব হয়নি। একটা রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হলো তাকে। একটু আয়েশ করা, আরামে থাকার অভ্যাস হয়ে গেছে ততদিনে। ফলে চেয়ারম্যান হয়েই ৭৫ লাখ টাকা দিয়ে একটা দামী জিপ কিনিয়েছেন ব্যাংককে দিয়ে। পত্রিকাগুলো এ নিয়ে লেখালেখি করায় মেয়াদের বেশি এই পদে আর থাকতে পারেননি। এর পর সরকারি এক কমিশনের চেয়ারম্যান বানিয়ে দেয় সরকার। সরকারের জন্য একটা গণমাধ্যম নীতিমালা তৈরি করে দেয়াই ছিল এই কমিশনের কাজ। আজ যে এতো চ্যানেল এ জন্য খানিকটা তৃপ্তি অনুভব করেন আজমল হায়দার। এজন্য অবশ্য পাঁচটা দেশ ঘুরতে হয়েছে, বৈঠকের পর বৈঠক করতে হয়েছে।
পরিপূর্ণ অবসর জীবন নিয়ে বিপাকে পড়ে গেছেন আজমল হায়দার। কথা বলার ইচ্ছাটা আরও বেড়েছে। কিন্তু একদমই শ্রোতা নেই। একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস হয়ে গেছে। তারপর থেকে অফুরন্ত অবসর। সাফিয়াকে খুব বেশি কাছে পাওয়া যায় না। দুই ছেলের একজন দেশে আছে। সেও মহাব্যস্ত। মেয়েটা স্বামীর সাথে অষ্ট্রেলিয়ায়। কার সাথে কথা বলবেন আজমল হায়দার?
আজমল হায়দারের মনে হয় আজকাল সবাই যেন তাকে একটু এড়িয়ে চলেন। এমনকি সাফিয়া বা ছেলে রাজও। নাতিরা আগে কাছে আসতো, এখন তারাও আসে না। বরং আড়ালে-আবডালে হাসাহাসি করে। ‘দাদা ভাই খালি কথা বলে’-এটাই তাদের হাসির বিষয়। দম বন্ধ হবার মতো অবস্থা এখন আজমল হায়দারের। অনেক কথা জমা হয়, কিন্তু শ্রোতা পান না বলেই সেগুলো বলা হয় না।
বুদ্ধিটা সাফিয়ার। আজমল হায়দারে সূত্রে অনেকের সাথেই এখন ভাল সম্পর্ক সাফিয়ার। সুফিয়া থেকে সাফিয়া হয়েছেন, পরিচিতদের ক্ষেত্রও বেড়েছে। টিভি চ্যানেলগুলোর মালিকদের প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময় আজমল হায়দারের সহযোগিতা নিয়েছেন। কয়েকজন বড় সাংবাদিকও চেনেন সাফিয়া। বলা যায় চিনতে হয় তাদের। ফলে আজমল হায়দারকে কিছু একটা ধরিয়ে দিতে সমস্যা হয়নি সাফিয়ার। কিছুদিন ধরে বড্ড জ্বালাচ্ছিল আজমল হায়দার। এখন আর ফালতু প্যাচাল ভাল লাগে না তার। সাফিয়ার কাছে আজকাল আজমল হাদারের কথাবার্তাকে প্যাচাল বলেই মনে হয়।
আজমল হায়দার এখন টিভি চ্যানেলগুলোর অত্যন্ত পরিচিত মুখ। টক শোতে তাকে দেখা যাবেই। কোনো না কোনো চ্যানেলে তাকে প্রতিদিনই দেখা যায়। এমনিতেই কথা বলতে পছন্দ করেন তিনি। এক সময় সুন্দর করে কথাও বলতে পারতেন। এখন বয়স হয়ে গেছে। কথা বলার সময় সবসময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না তিনি। একটু উল্টাপাল্টা বলে ফেলেন। তাতে অবশ্য কোনো সমস্যা হয়না। এইসব নাকি আজকাল পাবলিক খায়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপকের কাছ থেকে এই কথাটা শিখেছেন তিনি। আরও দুটো জিনিষ শিখেছেন তিনি। যেমন, সব সময় সরকার বিরোধী কথাবার্তা বলতে হবে। এ ধরণের কথা-বার্তার খুব দাম। তবে কিছুটা রয়ে সয়ে বলতে হবে।
দ্বিতীয়টি নিজের উদ্ভাবিত। টক শো শেষে প্রযোজক ছেলেটা এক হাজার টাকার একটা খাম নিয়ে আসে। অর্থের তার অভাব নাই। আর এক হাজার টাকাকে টাকা বলেই গণ্য করেন না তিনি। আজমল হায়দার কাগজে সই করে টাকাটা নেন। তারপর এক ফাঁকে খামটা ঐ প্রযোজক ছেলের পকেটেই আলতো করে ঢুকিয়ে দেন। দুইদিনের মাথায় আবারো টক শো অতিথি হওয়ার ডাক পান।
কথা বলতে যে ভালবাসেন আজমল হায়দার।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28975301 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28975301 2009-07-08 16:52:55
ডাক্তার-ডাক্তার -সে কি, আপনার এরকম চেহাড়া হয়েছে কেনো? খুব ক্লান্ত ও বিধ্বস্থ লাগছে।
-আপনার প্রেসক্রিপশন মানতে গিয়েই তো এই অবস্থা ডাক্তার সাহেব।
-কেন, আপনি আমার পরামর্শ মতো তিন বেলা মিল প্রপারলি খাচ্ছেন না?
এইবার আঁতকে উঠলো আমাদের শেফালী রানী।
-তিন বেলা মিলের কথা বলছিলেন। ও, আমি তো মনে করছিলাম তিন বেলা মেল।

রায়হান সাহেবের অবস্থা অবশ্য এতো খারাপ না। অবসর জীবন যাপন করছেন। এই সময়ে এসে ডাক্তারের পরামর্শ মানতে গিয়ে তারও অবস্থা খারাপ হলো, তবে শেফালী রানীর মতো না। ডাক্তার রায়হান সাহেবকে টিপে-টুপে দেখে মাথা ঝুলিয়ে বললেন, সিগারেট একেবারেই ছাড়তে হবে। সিগারেট আপনার জন্য হারাম। কেবল রাতে খাওয়ার পর, ঘুমের ঠিক আগে তিন পেগ হুইস্কি চলতে পারে। আর কিছু না।
রায়হান সাহেব প্রতিবাদ করে কিছু বলতে চেয়েছিলেন। অতি ব্যস্ত ডাক্তার শুনলেনই না কিছু।
মুশকিলে পড়লেন রায়হান সাহেব। কঠিন জীবন যাপন করেছেন আজীবন। কখনো সিগারেট খাননি, পানেরও আসক্তি নেই। মদ তো দূরের কথা। অথচ শেষ বয়সে এসে এখন ডাক্তারের পরামর্শে প্রতি রাতে তিন পেগ করে হুইস্কি খেতে হচ্ছে। আজকাল ভাল হুইস্কির যে দাম, তাতে টাকার শ্রাদ্ধ হচ্ছে। তবে ঘুমটা ভাল হচ্ছে এটা মানেন রায়হান সাহেব।

আমিও গেলাম সেই ডাক্তারের কাছে। মস্ত বড় ডাক্তার। আধা মিনিটের মধ্যে গলা টিপে ধরলেন। কানের মধ্যে টর্চ জ্বালিয়ে কি সব দেখলেন, দুই দফা গালও টিপলেন। ওষুধ দিলেন তিনটা। স্টিমিটেল, সিনাজিন আর ফেনারগান ১০ এমজি করে দুই বেলা।
মনোযোগ দিয়ে ওষুধ খেলাম। ফেনারগান ঘুমের ওষুধ। আমার বউয়ের সব সময়ের অভিযোগ আমি নাকি বিছানায় শুয়েই ঘুমিয়ে পড়ি। অতিব্যস্ত ডাক্তারকে সে কথা বলাও গেল না। দিয়ে দিলেন দুই বেলা ঘুমের ওষুধ। আমি এখন খালি নিয়ম করে ঝিমাই। ঘুম থেকে উঠি ১১টার সময়। সকালে মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে বললে ঘুম আর জেঁকে বসে। বাজার করতে বললে তো চোখই থুলতে পারি না। অফিসে এসেও ঘুমাই। মাঝে মধ্যে চোখ খুলি, খাই, আবার ঘুমাই। বাড়িতে ঘুমাই, গাড়িতে ঘুমাই, শাড়িতেও ঘুমাই।
আবার গেলাম ডাক্তারের কাছে। সবমিলিয়ে সময় ৩০ সেকেন্ড। এর মধ্যে কোনো রকম ঘুমের কথাটা বলেই ফেললাম। গম্ভীর হয়ে ডাক্তার বললেন, বেশি করে চা, কফি খাবেন। কিন্তু ওষুধ কমানো বা বন্ধ করা যাবে না। দুই মাস খেতে হবে।
আমার অবস্থাও হয়েছে রায়হান সাহেবের মতো। চা বা কফির কোনো অভ্যাস ছিল না। এখন আমি রীতিম চা খোর, কফিসেবক। অফিসের ক্যান্টিন চালায় আমির। সে বেজায় খুশি। পারলে ডাক্তারকে কমিশন দিয়ে আসে। ভাবছি ডাক্তারের কল্যানে সিগারেটটাও ধরবো নাকি?

উপায় অবশ্য আরেকটা আছে। ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়ের গল্পটা বলি। রোগী গেছে ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার ওষুধ দিয়ে বললেন,
-অসুখ হলেই ডাক্তারের কাছে আসবা। কারণ ডাক্তারকেও তো খেয়েপড়ে বাঁচতে হবে।
-ডাক্তার অষুধ লিখে দিতে। সেই প্রেসক্রিপশনটা নিবে। কেননা এত্তো এত্তো ওষুধ কো¤ক্সানি গড়ে উঠেছে। এই সব কোম্পানির মালিকদেরও তো খেয়েপড়ে বেঁচে থাকতে হবে।
-প্রেসক্রিপশনটা নিয়ে যাবে ফার্মেসীতে। মানুষজন টাকা পয়সা খরচ করে ফার্মেসী দিছে। ওষুধ যদি না কেনো তাহলে ওরাই বা খেয়েপড়ে কিভাবে বাঁচবে।
-এরপর প্রেসক্রিপশনটা নিয়ে সোজা ডাস্টবিনে ফেলে দিবে। কারণ তোমাকেও তো বেঁচে থাকতে হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28974313 http://www.somewhereinblog.net/blog/ami_masumblog/28974313 2009-07-06 16:43:53