আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে "নির্যাতন বিরোধী ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ" বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করেছে।
কাদের এর জামিনের শুনানি আগামী সোমবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত হবে।
মুল খবর পড়তে ক্লিক করুন
আব্দুল কাদের এর নিঃশর্ত মুক্তির দাবীসহ মোট ৪ দফা দাবিতে "নির্যাতন বিরোধী ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ" এই ব্যানারে ঢাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চালিয়ে যা্ওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২৮ জুলাই বিকাল ৩.৩০ টায় মধুর কেন্টিন এ।
নির্যাতন বিরোধী ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ শনি থেকে সোমবার পর্যন্ত কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। কর্মসূচীগুলো হলো-
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ- ৩০ জুলাই শনিবার ১১ টা।
ছাত্র-শিক্ষক প্রতিবাদ সমাবেশ- ৩১ জুলাই রবিবার ১১টা।
উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান- ১ আগস্ট সোমবার দুপুর ১২টা।
খিলগাঁও থানা পুলিশের ভাষ্যমতে, খিলগাঁও ফ্লাই ওভারব্রিজের নিচে একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদেরকে পুলিশ ধাওয়া করলে, পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ককটেল নিক্ষেপ করে এবং পালিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের পিছু নেয়। এমতাবস্থায় পুলিশ সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ের সামনে থেকে দুজনকে গ্রেফতার করে।এর মধ্যে একজন হলো আমাদের বিভাগের আব্দুল কাদের।
গভীর রাতে যানবাহন না থাকার কারনে সে হেঁটেই ইস্কাটন থেকে ফজলুল হক মুসলিম হলের দিকে ফিরছিল, কিন্তু সে তখনও জানতো না পথিমধ্যে কতবড় বিপদ তার জন্য অপেক্ষা করছে। পুলিশের মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হবে, তাও সে জানতো না।
পুলিশের গাড়ি ধাওয়া করছিল ছিনতাইকারীদের গাড়ীকে। ছিনতাইকারীরা যখন গাড়ী থেকে পালিয়ে যাচ্ছিল তাদের একজন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এবং তাকে প্রহার করলে সে কাদেরকে দেখিয়ে তাদের সহকারী বলে দাবী করে। তখন তারা ওই ছিনতাইকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে কাদের কে আটক করে। কাদের তখন তাদের বলে, “আমি যদি তার সহকারী হই, তাহলে তাকে আমার নাম বলতে বলেন।” এর উত্তর ওই ছিনতাইকারী দিতে পারেনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেয়ার পর সে আরো রোষানলের স্বীকার হয়। তাকে থানায় নিয়ে বেধড়ক মারপিট করা হয়। সকালে খবর পেয়ে তার রুমমেট তাকে দেখতে গেলে তাকেও শাসানো হয়। সে গিয়ে দেখতে পায় যে কাদের-এর গায়ে মারধরের আলামত ছিল কিন্তু বাম পায়ে কোনো জখমের চিহ্ন ছিল না। সন্ধ্যায় তাকে পুলিশি হেফাযতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে তার বন্ধুরা তাকে দেখতে যায় এবং তারা কাদের-এর বাম পায়ে জখমের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এরই মধ্যে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কাদের তার বন্ধুদের জানায় পুলিশ চাপাতি দিয়ে তার বাম পায়ে এই জখম করেছে।
ঘটনার পরদিন সকালে সহপাঠিদের বিক্ষোভের মুখে বিভাগের শিক্ষকগন বিশেষত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন রশিদ স্যার ও অধ্যাপক ড.আনোয়ার হোসেন স্যার এর উদ্যোগে আপাতত কাদের জামিনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
রিমান্ডের আদেশ ছাড়াই শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আব্দুল কাদের এর উপর এহেন অমানবিক, বর্বোরচিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র ঘৃণা ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
আমরা আব্দুল কাদের-এর বিরুদ্ধে আনিত মিথ্যা অভিযোগ ও মামলার আশু প্রত্যাহার দাবী করছি এবং তার এই নির্যাতনের জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার দাবী করছি ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

