শহিদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাড়িটি শহিদ জিয়ার স্মৃতী বিজরিত দাবি করলে ভুল বলা হবে।শহিদ জিয়া জন্মের পর থেকে এ বাড়িতে বসবাস করতেন না। এমনকি সেনা বাহিনীতে যোগ দেয়ের পর থেকেও এই বাড়িতে বসবাস করতেন না।
তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরে প্রভাব খাটিয়ে বা গনিমতের মাল হিসাবে মেজর হিসাবে সেনা প্রধানের বাড়ির পাশের বিশাল জমির উপর এই বিশাল বাড়িটিতে দখল করেন। পরবর্তীতে চার বছরে মেজর থেকে জেনারেল হন এবং ডেপুটি চীফ অফ স্টাফ হিসাবেও এই বাড়িতেই বসবাস করেন।পরবর্তীতে সেনা প্রধান পরে প্রধান মার্শাল চীফ তারও পরে হ্যাঁ না ভোটে রাষ্ট্রপতি হয়েও ঐ বাড়িতেই বসবাস করে উনি জোর যার মুল্লুক তার এবং বদান্যতা দেখিয়েছেন।
জিয়াউর রহমান শহিদ হওয়ার পর দেড় মাসের মধ্যে সত্তার সাহেব গুলশানে দেড় বিঘা জমির উপর বাড়ি দান করেন ও ক্যান্টনবোর্ড দেড় মাসের সময় দিয়ে নোটিশ দেয়। সেই থেকে থাকা। নব্বুইএর পর ৯৯ বছরের লিজ নেয়া, দলিল করা মিউটেশন করে রেকর্ড সংশোধোন করা সহ সব কিছু সম্পন্ন হয়।
শহিদ জিয়া ঐ বাড়িতে লিগ্যাললী ১৯৭৪ থেকে শহিদ হওয়ার আগ পর্যন্ত ছিলেন। শুধু একুর জন্য শহিদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাড়িটি জিয়ার স্মৃতি যুক্ত বাড়ি কি ভাবে হবে এখানেতো মাত্র ৬ বছর লিগ্যাললী বসবাস করেছেন। তার মত মহান একজন নেতা এটা কোন ভাবেই অস্বীকার করবেন না। আমার মতে শহিদ জিয়ার স্মৃতীবিজরিত বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে ।
এর পরও যদি আরও স্মৃতি বিজরিত বাড়ি চান তবে ১৯৩৬ সালে ১৯ শে জানুয়ারী কোলকাতায় সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে কেমিস্ট হিসেবে কর্মরত মনসুর রহমানের ঘরে কোলনির ছোট্ট সরকারা বাসায় জিয়াউর রহমানের জন্ম গ্রহন করেন।
১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মনসুর রহমান পরিবারকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিছুদিন পর মনসুর রহমান তার পরিবারকে পুনরায় কোলকাতা নিয়ে যায় এবং জিয়াকে কোলকাতার হেয়ার স্কুলে ভর্তী করেন। এবং ঐ কোলনীতেই বসবাস করে।
এই স্কুলে তিনি ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগ পর্যন্ত পরাশুনা করেন অথার্ৎ পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯৪৭ এর আগষ্টে মনসুর রহমান চাকুরীতে সরকারের দেয়া অপশন নিয়ে নব গঠিত মুসলিম স্ট্যেইট পাকিস্তানের করাচি চলে আসেন আরও অনেক বাঙালী মুসলমানের মত। করাচিতে এসে মনসুর রহমহন তার ছেলেকে পঞ্চম শ্রেণীতে করাচি একাডেমী স্কুলে ভর্তী করেন ও সিভিল সার্জন করমচারী কোলনীতে বসবাস করেন। [/sb
এখানেই কাটে জিয়ার কৌশর ও যৌবনের সূচনা লগ্ন। এাখান থেকেই পাঁচ বছর পর জিয়া ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন করে ১৯৫৩ সালে ডি.জে. কলেজে ভর্তী হন। জিয়ার উত্তাল কৈশরের সবটুকুই কাটে করাচির রাজপথে পাকীস্তান প্রমের জোয়ারের সমাজে।
একই সালে পাকিস্তান সেনাবাহীনিতে যোগদান করেন। পাকিস্তান জাতীয়তাবাদের বদ্ধ ভুমি কোয়েটায় সামরিক একাডেমীতে অফিসার ক্যাডেট হিসাবে বসবাস করেন এবং দুই বছরের কঠোর অধ্যবসয় ও পরিশ্রম। পাকিস্তান প্রমের সাহসী ও মেধাবী অগ্নি পরীক্ষা দিয়ে হাই লেভেল মটিভেশন নিয়ে ১৯৫৫ সালে সাফল্যের সাথে কমিশন প্রাপ্ত হন। তখন থেকে প্রশিক্ষন ক্যাম্প সহ বিভিন্ন অফিসার্স মেসে বসবাস করতে থাকেন।
১৯৫৫ এর পরবর্তী দুই বছর করাচিতে পোষ্টেড থাকেন ও সেখানেই বসবাস করেন।১৯৫৭ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলী হন তখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অফিসার্স মেস এগার নম্বর কক্ষে বসবাস করেন। দুই বছর পর পুনরায় করাচি গিয়ে ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ পর্যন্ত পাঁচ বছর পাকিস্তান সামরীক গোয়েন্দা ডিপার্টম্যান্ট আইএসআই গুরুত্বপূর্ন এ্যাসাইনম্যান্টে কাজ করেন ও আইএসআই এর রেস্টিক্টেড কোর্যারটারে বসবাস করেন।
১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধে পাঞ্জাবের Khemkaran সেক্টরে একটি কোম্পানীর নেতৃত্ব নিয়ে ময়দানে চলে যান।সাহসীকতা ও দেশপ্রেমের পুরষ্কার হিসাবে জিয়ার কোম্পানী সে যুদ্ধে সর্বাধিক বীরত্বের মেডেল পায়। জিয়াউর রহমান নিজে (Hilal-e-Jurat) হাইলাল-ই-জুরাত খেতাব পান যা আমাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাধী বীর উত্তমের সমতুল্য।
যুদ্ধের পর জিয়া ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমীতে ইনস্ট্রাকটার হিসাবে যোগদান করেন তখন একাডেমির কোয়ার্টারে বসবাস করেন। এসময়ে তিনি কোয়েটায় Command and Staff College এ উচ্চতর প্রশিক্ষন নেন এবং ১৯৬৯ সালে জার্মানীতে উচ্চতর মিলিটারি প্রশিক্ষনে যান ও সেখানে সংরক্ষিত বাসস্থানে বসবাস করেন।
পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের শেষ দিকে তিনি ৮ম ব্যাটালিয়ানে প্রথমে জয়দেবপুর পোষ্টেড হন পরে চিটাগাংয়ে পোষ্টেড হন ও তার পরিবার ঢাকা কেন্টনমেন্টে ফ্যামিলি ম্যাসে বসবাস করেন।
এই হলো শহিদ জিয়ার স্মৃতী জরিত বাসস্থানের পূর্ন তালিকা। তবে কথা হলো ১৯৭২ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত শহিদ জিয়ার এই বাড়িতেই বাংলার প্রধান মীরজাফরীগুলি হইছে। মূলত সব চক্রান্ত বা ভালো যাই বলেন না কেন সব গোপন কারুকাজ গুলো এবাড়িতেই হয়েছে। তাই এই বাড়িটির কি করা যায় ?
এবাড়িটির এখন কি করা উচিত তা বলার আগে এই বাড়িটির সাথে জড়িত স্মৃতীগুলো দেখে নেয়া দরকার।
১. বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা।
২. সে সময় অনেক সেনা কর্মকর্তা হত্যা।
৩. জেলে চার নেতা হত্যা।
৪. খালেদ মশারফ সহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও সেনা কর্মকর্তা হত্যা।
৫. কর্নেল তাহের সহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা হত্যা।
৬. আটাত্তুরে বিমান বাহিনীর ৭০০ অফিসার হত্যা।
এছাড়া আরও কুনীতি ষড়যন্ত্র অনেক কিছু। উল্লেখ্য উপরের সবগুলি ঘটনায় যদি ঘটনা স্থল থেকে অন্য কোথাও সামান্য লিংক থেকে থাকে তা এই বাড়িতেই ছিল।
আমার মতে পুরো বাড়িটিকে ভেঙ্গে/গেড়ে ফেল উচিত যত শিঘ্রই সম্ভব। আর যেহেতু কেন্টনমেন্টের ভেতর আম জনতার যাওয়ার অধিকার নাই তাই মহাখালি ফ্লাইওভার থেকে একটি লেন বের করে শহিদ মইনুল রোডের ৬ নং বাড়িতে সেটা ড্রপ করা হউক। আর এদিকে ঐ বাড়িটিকে একটি বিশাল ব্যায় বহুল গনশৌচাগারে রুপান্তর করা হউক। যা ইতিহাসে একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং। এক ঢিলে দুই পাখিও মরবে। আম জনতা ফ্লাইওভার দিয়ে গিয়ে চুপচাপ চলে আসবে। সাধারন সৈনিক জেসিও এনসিওরাও এই প্রক্ষালন ময়দান ব্যাবহার করতে পারে।
তাই এই জয়গায় বিডিয়ার বিদ্রহে নিহতদের জন্য বা সেনা অফিসারের জন্য ফ্লাট করা যাবে না। এখানে অনেক খুনের পরিকল্পনা হয়েছে এখানে। তাদের ভূত এখানে কাউকে থাকতে দেবে না । রাতে ছাদে মশলা পিষবে। আর এদিকে ঢাকায় মানুষ মাইলের পর মাইল হেটেও একটা মুতার যায়গা পাওয়া যায় না যদিও পাশেই পরে থাকে গল্ফ খেলার মাঠ। একর একর জায়গায় লন বানাবে কটেজ ইত্যাদী। আমরা ক্যান্টনমেন্টের ভেতর আর কিছু চাই না একটা গন মুতার জায়গা চাই। এই জাতির আকুল আবেদন। চুপচাপ যাবো আর মুতে চলে আসবো, জাতির এই ক্ষুদ্র নিবেদন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



