somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টিআইবি পরোক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে: আইন প্রতিমন্ত্রী

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উকিল সম্পর্কে আমাদের গ্রামে গঞ্জে, হাটে বাজারে এবং কাচারি পাড়ায় অসংখ্য স্বতঃসিদ্ধ প্রবাদ আছে যার একটিও ভালো কিছু ইন্ডিকেশন করে না। একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্য হলো "৩৬০ টা শয়তান মরলে হয় একটা উকিল", কোথাও বলে "যখন একটা উকিলের জন্ম হলো, তখন শয়তান খুশী হয়ে গেলো, বললো, আহ আমিতো সন্তানের পিতা হয়ে গেছি ! "
আর একম একটা উকিল যখন মন্ত্রী হয় তখন তার এ্যাক্সাকারিকুলাম হিসাবে আরও কি পরিমাণ গুন থাকতে হয় তা এই প্রতিমন্ত্রীকে দেখলে বোঝা যায়।

আদালতের দুর্বাও (ঘাসও) টাকা খায় এই সত্যটা বললে রাজাকার বিচারের বিরোধিতা কিভাবে করা হয় ?

প্রতিমন্ত্রীর কথাবার্তাই যুদ্ধাপরাধী বিচার ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্য প্রসূত। তিনি আসলে চৌকশ উকিলের মত এক ঢিলে দুই পাখি মারার জন্য এইকথা বলছেন। উনার মত লোকেরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে সরকারের অঙ্গীকারকেই ব্যার্থ করতে চাচ্ছে।

আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করার জন্য যারা ষড়যন্ত্র করছে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশানাল বাংলাদেশ পরোক্ষভাবে তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

কামরুল ইসলাম বলেন, বিচার বিভাগকে হেয় করার জন্য তারা গতকাল একটা মিথ্যা অভিযোগ বিভাগটির বিরুদ্ধে আনার চেষ্টা করেছে।
কামরুল বলেন, ‘বিচার বিভাগে নিম্ন বেতনভুক কিছু কর্মচারী থাকতে পারে যারা হয়তো ফাইল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ৫-১০-২০ টাকা উেকাচ নিতে পারে। কিন্তু তারা ঢালাওভাবে বিচার বিভাগকে যেভাবে দোষারোপ করেছে, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য যেভাবে চেষ্টা চালিয়েছে, আমি মনে করি আমাদের বিচার বিভাগকে এই মুহূর্তে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এটা একটা ষড়যন্ত্র।’

অথচ বিচার বিভাগ সম্পর্কে আমরা জানি "টিআইবির রিপোর্টে বিচার বিভাগ সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে।" রিপোর্টে বলা হয়ছে "১০০ জন বিচার প্রার্থীর ৮৮ জনকে ঘুষ দিতে হয়" তথ্যটি বিশ্বাস যোগ্য না। ইহা অবাস্তব। প্রকৃত পক্ষে প্রতি ১০০ জন বিচারপ্রার্থীর ১০০ জনকেই কোন না কোন ভাবে ঘুষ দিতে হয়। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাবে যে বিচার হয় সেগুলোতেও ঘুষ নেয়া হয়। আর কিছু না পারলে সবশেষে এক কার্টুন সিগারেট ,নাখেলেও , হলেও নেয়া হবে। এমনকি ৮৮% টাকা দিয়েও তাদের পক্ষে রায় পায়না বলেও অভিযোগ আছে, ঘুষ কম হওয়ার কারনে।

গত সেনাসমর্থিত সরকারের সময় যেখানে একমাত্র ক্ষমতাসীন বাহিনী ছাড়া সকল ডিপার্টমেন্ট ঘুষ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল তখনও এই বিচারবিভাগ খেয়েছে উপরন্তু সময়টাকে দুই বছরের সিজন ধরে সেনাবাহিনীর সাথে যোগ হয়ে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের গলায় পাড়া দিয়ে ঘুষ খেয়েছে।

অবশ্য ঘুষ এ অঞ্চলের বিচার বিভাগের জন্য ঐতিহাসিক ভাবেই সত্য। মূলত এ অঞ্চলের দুর্নীতির জন্মই বিচার বিভাগ থেকে বললেও ভুল হবে না। লোকে বলে আদালতের দুর্বাও (ঘাসও) টাকা খায়। কিছুদিন আগে মানবাধিকার কমিশন বলেছিলেনঃ এদেশে আইনের শাসন কখনও ছিলনা আজও নেই। এখানে রায় বিক্রি হয়। এবং বিচার বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাস করে দুর্নিতী।

আদালত সম্পর্কে আমাদের গ্রামে গঞ্জে, হাটে বাজারে এবং কাচারি পাড়ায় অসংখ্য স্বতঃসিদ্ধ প্রবাদ আছে একটিও ভালো কিছু ইন্ডিকেশন করে না। একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্য হলো "৩৬০ টা শয়তান মরলে হয় একটা উকিল", কোথাও বলে "যখন একটা উকিলের জন্ম হলো, তখন শয়তান খুশী হয়ে গেলো, বললো, আহ আমিতো সন্তানের পিতা হয়ে গেছি ! " এদিকে এইরকম ৩৬০ টা শয়তান মরে হয় যে উকিল/ব্যারিস্টার সেই রকম একটা লোক ২০ বছর উকালতি/ব্যারিস্টারী/শয়তানী করার পর হইকোর্টে মানে বিচার ব্যবস্থার মেরুদন্ডের বিচারপতি পদে আবেদন করার যোগ্য মাত্র। আরও অনেক বিশেষ্যণ যোগ করে হন বিচারপতি। তাইতো এদেশে বিচারপতিরাই প্রতিটি অসাংবিধানিক কু'কে বৈধ্যতা দিয়েছে, মানবাধিকারকে অস্বীকার করেছে প্রতিবার।

বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় সারাদেশে উকিল, মুক্তার, পেশকার, আইও, জেলার ও বিচারক এই বিশাল চক্র স্বাধীন ভাবে লোক চক্ষুর আড়ালে এদেশের কোটি কোটি সাধারন মানুষের রক্তো চোষার পাকা ফুলপ্রুফ আয়োজন করে নিয়েছে আইন করে। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, উকি দিলেও অবমাননা, জেল নিশ্চিত। এর ভেতর আজ প্রতিটি জামীন এবং রায় স্বাধীনে ও গোপনে নীলামে উঠছে ও বিক্রি হচ্ছে। দ্যাশের মানুষগুলোর গরু বেচা, ক্ষেত বেচা টাকা খাওয়ার এএক মহা স্বাধীন ও গোপন আয়োজন প্রতিটি জেলায় অর্থাৎ নিম্ন আদালে চলছে। আর উচ্চ আদালতে সেই বেচাকেনা অনেক উচ্চ দরের। যেমন গত বছর নাকি ১৫ হাজার রীটই মামলাই হয়েছে হাইকোর্টে। দুই লাখ পার রীট, কত হয় ?

২৩ ডিসেম্বর টিআইবির রিপোর্টে দুর্নীতি ও হয়রানীর শীর্ষে উঠে এসছে দেশের বিচার বিভাগ। ৮৮ শতাংশ মানুষ কোন না কোনভাবে এই বিভাগের দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশের ৮৪ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি খাতে সেবা নিতে গিয়ে কোন না কোনভাবে ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশী দুর্নীতিগ্রস্থ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। ২০১০ সালের জরিপে বিচার বিভাগের অনিয়ম ও দুর্নীতির ধরণ চিহিৃত করা হয়েছে ঘুষ প্রদান, উকিল কর্তৃক হয়রানি, সময়ক্ষেপন, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক হয়রানি, মুহুরী কর্তৃক হয়রানি, ডকুমেন্ট উঠাতে হয়রানি, দালাল কর্তৃক হয়রানিকে। ঘুষ দিতে হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, জজকোর্ট এবং হাইকোর্টে। বিচারপ্রার্থীদের ৪১ শতাংশ মামলা পরিচালনায় দীর্ঘ সময়ক্ষেপনকেও জরিপে হয়রানি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া দেশের ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষকে মামলার শুনানি দ্রুত করাতে, ৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষকে শুনানির তারিখ পেছাতে , ৩২ দশমিক ৭ শতাংশকে মামলার রায়ে প্রভাবিত করতে, ২২ দশমিক ২ শতাংশকে ডকুমেন্ট উত্তোলনে এবং ১ শতাংশ মানুষকে নথিপত্র গায়েব এবং ৮ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষকে বকশিশ হিসেবে ঘুষ দিতে হয়েছে। আর তৃতীয় অবস্থানে যে ভূমি প্রশাসনের কথা বলা হয়েছে সেখানেও অর্ধেকর বেশি কৃতিত্ব বিচার বিভাগেরই কারন দেওয়ানী আদালত ও দলীল রেজিস্ট্রেশন বিচার বিভাগেরই অংশ।

সুতরাং এই অবস্থায় আমরা চাই, আদালতে উৎসুক পাবলিক, বাদী, বিবাদী, উকিল, পেশকার, আইও, এবং বিচারক ছাড়াও রিপোর্টার সাংবাদিকরা তাদের ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে ছবি তুলতে, ভিডিও করতে পারবে, প্রয়োজনে লাইভ দেখাতে পারবে রাষ্ট্রের মালিক জনগনকে। বিচার কার্যকে স্বাধীন ও প্রকাশ্য করতে হবে। তাতে দেশের মানুষগুলি লোকাল পত্রিকায় জাতীয় ও পত্রিকায় আদালতের খবরগুলো জানতে পারবে। বর্তমানে যা আছে তা হলো স্বাধীনভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে রক্ত চোষার স্বাধীনতা।

উল্লেখ্যঃ আদালত অবমাননা আইনটি অতি সত্বর বাতিল ও আদাল প্রকাশ্য করার আইন করতে হবে। বৃটিশ এবং পাকিস্তানের বিচারকদের যেন এদেশে অবিচার করতে কোন প্রশ্নের সন্মুখীন না হতে হতো তার জন্য যে আইন ছিল সে আইনে স্বাধীন বাংলাদেশ চলতে পারেনা। আমরা মনে করি স্বাধীন বাংলাদেশের বিচারকেরা পাকিস্তান বা হিজ লর্ডের নিযুক্ত ব্যক্তি নয় ।সো ফরগেট কনটেম্পট অব কোর্ট আইন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১১:০৯
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×