ঘুম ভেঙ্গে যায় সৈকতের। শরীরের উপর বাহাত্তর কেজি ওজনের কি যেন একটা চেপে আছে। সৈকতের ছোট্ট শরীর। বড় জোর পয়তাল্লিশ কেজি। সে বুঝতে পারে তার পরনের নীচের কাপড় খোলা। সে শুয়ে আছে উপড় হয়ে। সাধারণত সে উপড় হয়ে শোয় না। সে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভিজে যায় তার উরুদেশ। শরীর থেকে নেমে যায় বাহাত্তার কেজি। অস্পষ্ট স্বরে সোলায়মান বলে, ঘুমাও। কি করবে সৈকত বুঝতে পারেনা। সোলায়মান তার অনাবৃত নিম্নাংশ আবৃত করে দেয়। একটু পরে তার নাক ডাকার শব্দ ভেসে আসে। বাকী রাত আর ঘুমাইতে পারেনি সৈকত।
সোলায়মান। সৈকতের বাবা যে স্কুলের হেডমাষ্টার সেই স্কুলের সহকারি শিক্ষক। সেদিন স্কুলের কাজে শহরে আসায় বাড়ি ফিরতে পারেনি সোলায়মান। তার রাতে থাকার ব্যবস্থা হয় সৈকতের ঘরে। সৈকত তখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। রাতে একই বিছানায় শুয়ে পড়ে দুজন। তারপর পঞ্চাশ বছর বয়সী সোলায়মানের ভেতরের পশুটা জেগে ওঠে। সৈকতের জীবনের প্রথম যৌনতার তিক্ততা।
পরেরদিন সারাটা দিন সৈকতের বিষন্নতায় কেটে যায়। অনেক কিছু ভাবে সে বিষয়টি নিয়ে। বাবা কে বলবে কিনা উত্তর খুঁজে পায়না। শেষ পর্যন্ত কাউকে বলা হয়ে ওঠেনা সে রাতের ঘটনা। এরপর বহুদিন সোলামান এসেছে তাদের বাড়িতে। তাকে দেখলেই ঘৃর্নায় সৈকতের মাথায় রক্ত ওঠে। তারপরও অনেক দিন বাধ্য হয়ে একই ঘরে একই বিছানায় সোলামানের সাথে শুতে হয়েছে তাকে।
এক বছর পরের ঘটনা। সৈকতের বাড়িতে বেড়াতে এলো খালাতো বোন সম্পা। তার চেয়ে চার বছরের বড়। সৈকত পড়াশুনায় ভালো হওযায় তাকে খুব পছন্দ করতো সম্পা। প্রায় তার গালে হাত বুলিয়ে আদর করতো। কখনো কখনো ঝাঁপটে ধরতো। সৈকতের জীবনের প্রখম নারী দেহের উষ্ণতার নাম সম্পা। ইতিমধ্যে তারও দেহের পরিবর্তন হতে থাকে। নাকের নীচে হালকা চুল। কণ্ঠ স্বরের পরিবর্তন। এবং নিজের মাঝে অচেনা আর একজন কে আবিস্কার করে সে। সেদিন দুপুরে বাসায় কেউ ছিলনা। সে আর সম্পা ছাড়া। অন্যরা সবাই কোথায় যেন গেছে। নিজের বিছানায় অসময়ে ঘুমাচ্ছিল সে। হঠাৎ ঘুম পাতলা হয়। হঠাৎ শরীর উষ্ণতার ছোঁয়া পায়। হঠাৎ নিজের মাঝের অচেনা সৈকত জেগে ওঠে। চোখ না খুলে বুঝতে পারে তার শরীর নিয়ে কি এক নিপুণ খেলায় মগ্ন সম্পা। তার নিম্নাংশ ভেজা ভেজা লাগে। সম্পার উষ্ণ শ্বাস-প্রশ্বাস তার শরীরে লাগে। সে পড়ে থাকে নিশ্চুপ।
সোলামান সৈকত কে অভ্যস্ত করে তুলেছিল। সে তার ভেতর ঘৃনার জন্ম দিয়েছিল। সে তার প্রথম যৌনতার তিক্তার অপর নাম। কিন্ত আজ তার সেরকম কিছু মনে হলো না। আজ সে নিজেকে চিনলো। আজ সে সম্পাকে চিনলো। আজ সে নারী কে চিনলো। ওই ঘটনার মাস ছয়েক পরে সম্পার বিয়ে হয়ে যায়। সম্পার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় কেন সে অবোধ শিশুর মতো কেঁদেছিল আজও তা সকলের কাছে অজানা।
সৈকত এখন কলেজে পড়ে। সৈকত এখন দেহ চেনে। সৈকত এখন নিজের মাঝের অচেনা নিজ কে চেনে। তারপরও তার মাঝে অনেক সংশয়। অনেক ভয়। সে এড়িয়ে চলে মেয়েদের। সে কামনা করে মেয়েদের। সে স্বপ্নে দেখে মেয়েদের। কিন্তু ওই পর্যন্ত। এভাবেই দিন কাঁটছিল তার। হঠাৎ তার এক দুর সম্পর্কের আত্মীয়ার সাথে পরিচয়। এমন সুন্দর আগে কাউকে দেখেনি সে। তার ভেতর কেউ কি জেগেছিল? তার কামনায় কেউ কি এসেছিল? ঠিক বুঝতে পারে না সে। এরই মাঝে সেই আত্মীয়া তাকে ভালবাসা শিক্ষা দিতে লাগলো। তাকে স্বপ্ন চেনাতে লাগলো। তাকে উষ্ণতা শেখাতে লাগলো।
সৈকত যেন নতুন কোন পাঠশালার বাধ্য শিক্ষার্থী। সে একাগ্রচিত্তে শেষ করতে লাগলো একের পর এক পাঠ। যখন জমে উঠেছে পাঠশালা। যখন পাগল দুজন। যখন দিন আর রাতের তফাত স্পর্ষ করেনা সৈকত কে ঠিক তখনি ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেল।
আজ সৈকতের চল্লিশ। আজ সৈকতের ঘর আছে। আজ সৈকত ফিরে দেখে। কিছু মধুময় স্মৃতি কিছু তিক্ততা। আজও সৈকত ভুলতে পারেনা সোলায়মান কে। আজও তার ঘৃনা মোছেনি হৃদয় থেকে। সে একটা কথায় কেবল ভাবে..পুরুষরাও যৌন হয়রানির শিকার হয়। কখনো বিকৃত পুরুষ দ্বারা আবার কখনোবা..............
সেবু মোস্তাফিজ
রচনাকাল: ৩ জুন ২০১০
পীরগঞ্জ-রংপুর
দুপুর ১টা ২০মিনিট।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০১০ ভোর ৬:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


