somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ব্লগ লিখে পুরস্কার জিতে নিলেন ব্লগার সামি

এক সময় ব্লগ ছিল কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম। জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে মত প্রকাশ ও বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তর আলোচনা-গবেষণার উন্মুক্ত মঞ্চ। ব্লগিংকে বিশ্বের অনেক মানুষ তাদের উপার্জনের পথ হিসেবেও বেছে নিয়েছেন। আবার অনেকেই কেবল গবেষণা ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা দিয়ে সাজাচ্ছেন তাদের ব্লগভূমি।

বাংলাদেশও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়াবলির পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়েও প্রচুর ব্লগ পোস্ট প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব ব্লগে প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে যেখানে ব্লগাররা জিতে নিতে পারেন বিভিন্ন পুরস্কার। সম্প্রতি তেমনই এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নতুন ব্লগ, আদর্শলিপি

স্বাধীনতার ৪০ বছর উপলক্ষে দেশের তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে মতামত লিখে সেই প্রতিযোগিতা জিতে নিয়েছেন আদর্শলিপির ব্লগার সামি। কম্পিউটার সোর্সের কাছ থেকে লজিটেকের হোম থিয়েটার জিতে নেয়া পোস্টে প্রযুক্তি খাতে দেশের ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলে কেউ খারাপ হয়ে যাবে, অভিভাবকদের এমন ধারণা ভুল। বর্তমান যুগে উন্নতির দিকে পৌঁছতে হলে মুখ্য হাতিয়ারই হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি।

উল্লেখ্য, গত বছর মার্চে আমিও ব্লগিং করে দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি ডিজিটাল ক্যামেরা পেয়েছিলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29538340 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29538340 2012-02-10 11:49:02
আইএসপ্রস ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে
ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29524059 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29524059 2012-01-17 20:44:48
কাল থেকে কিউবি ল্যাপটপ ফেয়ার ২০১২ : প্রতি ল্যাপটপে জিতে নিন ডবল পুরস্কার
প্রতিবারের মতোও এবারও থাকবে বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যের পাশাপাশি মেলার প্রধান আকর্ষণ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সর্বশেষ মডেলের ল্যাপটপ। বহনযোগ্যতার সুবিধার কারণেই হোক অথবা কাজের সুবিধার জন্যই হোক, ল্যাপটপ কেনার জন্য অনেকেই অপেক্ষায় থাকেন এমনই কোনো ল্যাপটপ মেলার। এবারের মেলায়ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ প্রদর্শনী থাকছে।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে ঘুরে ঘুরে পছন্দসই ল্যাপটপ কেনার পাশাপাশি বাড়তি সুবিধা ভোগ করা। আর তা হচ্ছে গিফট ও ডিসকাউন্ট কূপন। মেলা থেকে ফুজিৎসু, ডেল ও এইচপি নোটবুক কিনলেই থাকছে ৪ গিগাবাইট পেনড্রাইভ এবং একটি এক হাজার টাকার ডিসকাউন্ট কার্ড, যা পরবর্তীতে সনির যে কোনো শোরুম থেকে সনি সাইবার শট ডিজিটাল ক্যামেরা, ডিএসএলআর অথবা হ্যান্ডিক্যাম কেনার সময় ক্যাশ ১,০০০ টাকা ডিসকাউন্ট পাওয়া যাবে।

কিউবি ল্যাপটপ ফেয়ার ২০১২ উপলক্ষে ক্রেতাদের জন্য এই অফার ঘোষণা করেছে কম্পিউটার সোর্স। তাই আজই রেডি হয়ে যান। পছন্দের ব্র্যান্ড ও মডেলের ল্যাপটপটি বাছাই করে কেনার ও একই সঙ্গে দু'টি গিফট জেতার এখনই উপযুক্ত সময়।

মেলা আগামীকাল ১২ থেকে ১৪ই জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। মেলার প্রবেশ টিকিটের উপরও রয়েছে আরেকটি নোটবুক জেতার সম্ভাবনা! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29520543 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29520543 2012-01-11 16:27:19
অ্যান্টিভাইরাস রিভিউঃ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশে এলো নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২
সাইবারক্রাইম - যতোটা দেখা যায় তারচেয়েও ভয়ানক
সাইবারক্রাইম বর্তমান বিশ্বে একটি অন্যতম দুশ্চিন্তার বিষয়। কেননা, এটি এমনই এক ধরনের অপরাধ যা ঘটে যাওয়ার অনেক পড়ে ভিকটিম টের পেয়ে থাকেন। আরও বড় কারণ হচ্ছে, এই আক্রমণের হাত থেকে বাঁচার জন্য সাধারণ মানুষ যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। উদাহরণস্বরূপ যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কি চোর-ডাকাত বা রাস্তায় ছিনতাইকারীদের হাতে পড়তে পারেন? উত্তর নিঃসন্দেহে হ্যাঁ-বাচক হবে। কেননা, আমরা কেউই জানি না কখন কোথায় অপরাধীদের কবলে পড়তে হবে।

অথচ যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি সাইবারক্রাইমের শিকার হবেন? তাহলে অনেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে না জবাব দেবেন। মজার ব্যাপার হলো, সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, সব ধরনের অপরাধের মধ্যে ডাকাতি-ছিনতাই ইত্যাদি ফিজিক্যাল ক্রাইম শতকরা ১৫ শতাংশ মাত্র। অন্যদিকে সাইবারক্রাইম সংঘটিত হওয়ার পরিমাণ শতকরা ৪৪ শতাংশ। তাহলে এবার আপনিই বলুন, যে ধরনের অপরাধীদের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেটাকেই খুব একটা গুরুত্ব না দেয়া কি মস্ত বড় ভুল নয়?

নিরাপত্তা কথাটির অর্থ এখন ব্যাপক। এখন কেবল ফাইল স্ক্যানের মধ্যেই আপনার নিরাপত্তা সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তির প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ক্ষেত্রও বেড়ে চলেছে। এখন আপনার প্রিয় ফেসবুক ওয়ালটিও স্ক্যামের শিকার হতে পারে। একটি লিংক ধরে আপনার আইডেটিন্টি হ্যাক হয়ে যেতে পারে। তাই আপনার এমন একটি সফটওয়্যার প্রয়োজন যা আপনাকে নিরাপত্তা দেবে সবদিক থেকে।

তবে বাজারে থাকা অসংখ্য অ্যান্টি-ভাইরাস ও ইন্টারনেট সিকিউরিটি সফটওয়্যার থেকে সেরাটা বেছে নেয়াও জরুরি ও কঠিন কাজ বলে মনে হতে পারে। এ জন্য অনেকেই ইন্টারনেটে রিভিউ-এর সহায়তা নিয়ে থাকেন। আজ তাই ব্যক্তিগত ব্যবহার অভিজ্ঞতা থেকে আলোচনা করবো সিমেন্টেক করপোরেশনের নরটন অ্যান্টি-ভাইরাস ও ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে।

নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২
নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি, অ্যান্টি-ভাইরাস ও নরটন ৩৬০ ২০১২ সম্প্রতি বাজারে এসেছে নতুন সব ফিচার নিয়ে। নতুন এই সংস্করণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি কাজ করে আগের সংস্করণগুলোর চেয়ে অত্যন্ত দ্রুত। ইতিমধ্যেই যারা নরটন এর পুরনো সংস্করণগুলো ব্যবহার করেছেন তাদের হয়তো অভিযোগ রয়েছে এটি কম্পিউটারের গতি ধীর করে দেয়। তাদের জন্য সুখবর হচ্ছে, নরটন ২০১২ খুবই হালকা একটি সফটওয়্যার যা আপনার কম্পিউটারের গতি ঠিক রেখে নিজের কাজ করে যাবে। এছাড়াও আপনি চাইলে যে কোনো সময় নরটনের ইন্টারফেস থেকেই দেখে নিতে পারবেন আপনার কম্পিউটারের কতটুকু রিসোর্স নরটন ব্যবহার করছে। এতে করে অন্য কোনো সফটওয়্যার রিসোর্স টানতে থাকলে নরটন পিসি স্লো করে দিচ্ছে এমন ভুল ধারণাও দূর হয়ে যাবে।

আসুন জেনে নেয়া যাক নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি-এর উল্লেখযোগ্য কিছু ফিচারের সার-সংক্ষেপ।



ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট
একাধিক কম্পিউটার ব্যবহার করেন? অথবা আপনি দূরে অবস্থান করেও বাসার বা অফিসের কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান? নরটন নিয়ে এলো ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট সেবা। এর মাধ্যমে আপনি পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে বসে আপনার কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন। আপনি এই সুবিধাটির উপকারিতা পাবেন যদি আপনার একাধিক ডিভাইস থাকে অথবা আপনাকে যদি দূর থেকেই বাসা, অফিস বা বন্ধুদের কম্পিউটারের অ্যান্টি-ভাইরাস আপডেট, সেটিংস পরিবর্তন, চাইল্ড প্রটেকশন ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতে চান। একটি নরটন অ্যাকাউন্ট দিয়ে এবার আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন আপনার সব কম্পিউটার।

আইডেন্টিটি সেফ
এই সেবাটি তেমন একটা নতুন নয়, তবে কার্যকরী। এর মাধ্যমে আপনি আপনার সোশাল নেটওয়ার্ক, ইমেইল, ব্লগ ইত্যাদি বিভিন্ন সাইটের বিভিন্ন পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখতে পারবেন মাত্র একটি মাস্টার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। ফলে আপনি একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই সব অ্যাকাউন্টে লগইন করতে পারবেন।

এটি অ্যাকটিভ থাকা অবস্থায় কোনো সাইটে লগইন করলে ব্রাউজারের মধ্যেই আপনাকে জিজ্ঞেস করা হবে আপনি সেই সাইটের ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখতে চান কি না। সেভ করে রাখলে তা ক্লাউডে আপনার অ্যাকাউন্টে সিংক্রোনাইজ করে রাখবে। এতে করে নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২ ইন্সটল থাকা যে কোনো কম্পিউটার থেকেই এসব অ্যাকাউন্টে আপনি অ্যাকসেস করতে পারবেন।

ব্যান্ডউইথ অ্যাওয়্যারনেস
বাংলাদেশে লো-ব্যান্ডউইথ যারা ব্যবহার করেন যাদের জন্য এই সুবিধাটি হতে পারতো আরো বেশি সুবিধাজনক। সাধারণত ল্যাপটপ ডিভাইসে যখন তখন বড় আকারের আপডেট (সফটওয়্যার ভার্সন) বন্ধ করতেই এই সুবিধাটি যোগ করা হয়েছে। এই ফিচারের মাধ্যমে আপনি যখন ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ দিয়ে কানেক্টেড থাকেন, তখন বড় আকারের আপডেট ডাউনলোড হওয়া বন্ধ রাখতে পারবেন। পরবর্তীতে যখনই ক্যাবল কানেক্টেড হবে তখন নরটন নিজে নিজেই বড় আকারের আপডেট ডাউনলোড করে নিবে।

বলা বাহুল্য, বাংলাদেশে ব্লুটুথ দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন খুব কম সংখ্যক মানুষই। ডেটা ক্যাবল দিয়ে কানেক্ট করলে নরটন একে ক্যাবল কানেকশন হিসেবেই ডিটেক্ট করে। তাই বলা যায়, এই সুবিধাটি আরো উন্নত হতে পারতো। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে নরটনের ব্যবহার-বান্ধব ইউজার ইন্টারফেস থেকে সহজেই বড় আকারের আপডেট ডাউনলোড করে রাখতে পারবেন।

সিস্টেম স্লো-ডাউন ও স্টার্টআপ ম্যানেজার

সিস্টেম স্লো হয়ে যাওয়া প্রায় অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যারেরই একটি বড় সমস্যা। অনেক ব্যবহারকারী কেবল এই সমস্যার মুখোমুখি হতে চান না বলে অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার ইন্সটল না করে নিজেকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়ে থাকেন। কিন্তু নরটন অ্যান্টি-ভাইরাস ও ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২ এ দিক দিয়ে এগিয়ে গেছে। খুব কম রিসোর্স ব্যবহার করে বিধায় সিস্টেম স্লো-ডাউন খুব একটা হয়ই না। আমি প্রথমবার ইন্সটল করে রিস্টার্ট করার পর একটু সময় নিয়েছিল বুটআপ হতে। কিন্তু তারপর থেকে সিস্টেম আগের মতোই দ্রুতগতির রয়েছে। তবে ফুল সিস্টেম স্ক্যান করতে দিলে ঐ সময়টুকু একটু বেশি রিসোর্স খরচ করে নরটন। তারপরও যদি আমার সন্দেহ হয় যে নরটন অন্য সময়ও সিস্টেম স্লো করে দিচ্ছে, আমার সন্দেহ দূর করার জন্য নরটনে রয়েছে রিসোর্স ইউসেজ দেখার সুবিধা, যেখানে নরটন সিস্টেমের কতটুকু রিসোর্স ব্যবহার করছে তা দেখা যায়।



এছাড়াও নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২-তে রয়েছে স্টার্টআপ ম্যানেজার যার মাধ্যমে আপনি কোন কোন প্রোগ্রাম কম্পিউটার চালু হওয়ামাত্রই রান করতে চান এবং কোন কোন প্রোগ্রাম একটু দেরিতে রান করতে চান তা ঠিক করে দিতে পারবেন। এক কথায়, সিস্টেম ইউটিলিটি হিসেবেও নরটনের নতুন সংস্করণকে মাঝে মাঝে কাজে লাগাতে পারবেন।



নরটন ইনসাইট


এই সুবিধাটি আপনার ফাইলসমূহকে স্ক্যান করে আপনার কম্পিউটারে থাকা ফাইল বা অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে। এই প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে আপনার ইন্সটল করা প্রতিটি সফটওয়্যার কতটুকু নির্ভরযোগ্য, কী পরিমান ব্যবহারকারী এটি ব্যবহার করছে এবং এটি সিস্টেমে কী পরিমান রিসোর্স টানছে। বলা যায়, আমার সবচেয়ে পছন্দের ফিচার এটি। প্রতিবার সিস্টেম স্ক্যান সম্পন্ন হওয়ার পর নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২ আপনাকে নরটন ইনসাইট সুবিধার মাধ্যমে এ জাতীয় বিস্তারিত তথ্য দেখাবে। এর আরেকটি বড় সুবিধা হচ্ছে, কোন অ্যাপ্লিকেশন কতটুকু রিসোর্স টেনে পিসি স্লো করে দিচ্ছে তাও দেখা যায় এখান থেকেই। তাই কম্পিউটার স্লো হয়ে গেলে তার জন্য কোন সফটওয়্যার দায়ী তা খুঁজে বের করতেও নরটন ইনসাইট বেশ কাজের একটি সুবিধা।

অ্যান্ড্রয়েড সিকিউরিটি
এছাড়াও নরটন ২০১২ এসেছে অ্যান্ড্রয়েড-চালিত মোবাইল ফোন ও ট্যাবলেট ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ম্যালিশিয়াস প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশন থেকে নিজেদের ডিভাইসকে দূরে রাখতে ব্যবহার করতে পারেন নরটন ২০১২।

বাংলাদেশে নরটন


গত ১৫ই নভেম্বর ঢাকার হোটেল রূপসী বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে অবমুক্ত করা হয় নরটন ২০১২। অনুষ্ঠানে নরটন ইন করপোরেশনের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ ইফেন্ডি ইবরাহিম বলেন, নরটন ২০১২-এর সবচেয়ে উন্নত দিক হচ্ছে এর পারফরম্যান্স। ব্যবহারকারী সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করেন সিকিউরিটি ও পারফরম্যান্সের জন্য। তাই এই দু’টির উপরে জোর দিয়েই তৈরি করা হয়েছে নরটন ২০১২। কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড নরটন ২০১২ এর অথোরাইজড ডিস্ট্রিবিউটর।

ইফেন্ডি আরো জানান, বিভিন্ন ল্যাবটেস্ট রেজাল্টেও সিমেন্টেকের নরটন ২০১২ শীর্ষস্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১১ (পূর্ববর্তী সংস্করণ) পিসি ম্যাগাজিন ও পিসি ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনে এক নম্বর সিকিউরিটি সফটওয়্যারের স্থান অর্জন করেছে বলেও জানান তিনি।

কেন নরটন ২০১২?
এবারে আসুন এক পলকে দেখে নেয়া যাক পুরো সফটওয়্যারটি ব্যবহার করার পর আমার কেন মনে হয় নিরাপদ থাকতে সবারই নরটন ব্যবহার করা উচিৎ।

১. সর্বোচ্চ সিকিউরিটিঃ নিরাপত্তাই সর্বপ্রথম কথা। আর নরটন কেবল নেটওয়ার্ক ও ফাইলই মনিটর করে না, বরং একটি সফটওয়্যারের রেপুটেশন (জনপ্রিয়তা, ব্যবহারকারী সংখ্যা ইত্যাদি)-এর উপর ভিত্তি করেও স্ক্যান করে রিপোর্ট দিয়ে থাকে। এছাড়াও ফাইলের বিহেভিয়র বা আচার-আচরণও পর্যবেক্ষণ করে নরটন ২০১২।

২. সহজ ইন্টারফেসঃ যে কোনো সফটওয়্যারই ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ হারায় যখন তা ব্যবহার-বান্ধব হয় না। নরটন ২০১২-এর ইন্টারফেসে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন এনে একে সব ধরনের ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী করে তোলা হয়েছে। ফলে, যিনি কম্পিউটার সম্পর্কে খুব একটা জ্ঞান রাখেন না, তিনিও এক ক্লিকে স্ক্যান বা আপডেট করতে পারবেন। আবার যিনি বিভিন্ন সেটিংস ঠিক করে রাখতে চান, তিনিও পারসোনালাইজ করে নিজের মতো সেট করে নিতে পারবেন নরটন ২০১২।



৩. ইন্টারনেট সিকিউরিটিঃ কেবল ফেসবুকই নয়, ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সময় অসংখ্য নতুন সাইট ভিজিট করা হয়। এই সাইটগুলো যেন আমার কম্পিউটারের কোনো ক্ষতি করতে না পারে তা নিশ্চিত করে নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের ওয়ালে পোস্ট করা লিংক ধরে বিভিন্ন স্ক্যামের সম্মুখীন হন। নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২ সেইসব লিংকও স্ক্যান করে আগে থেকেই আপনাকে সতর্ক করে দিতে পারবে। তাই আমার মতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য নরটন আইএস ২০১২ হবে পারফেক্ট চয়েস।

৪. পালস আপডেটঃ ভাইরাস ছড়ানো মাত্রই আপনি এর শিকার হতে পারেন। আপনাকে সেখান থেকেও সুরক্ষা দিতে রয়েছে লাইভ আপডেট ও পালস আপডেট। লাইভ আপডেট সাধারণ প্রতিদিন একবার করে ভাইরাস ডেফিনিশনগুলো আপডেট করে থাকে। আর পালস আপডেট হচ্ছে প্রতি ৪-৫ মিনিটে একবার করে নরটন ২০১২ চেক করবে ইন্টারনেটে নতুন ছড়ানো কোনো ম্যালিশিয়াস প্রোগ্রাম রয়েছে কি না। অর্থাৎ, প্রতি পাঁচ মিনিটেই আপডেটের জন্য চেক করবে নরটন।



উল্লেখ্য, যারা ব্যান্ডউইথ নিয়ে ভাবছেন, তাদেরকে বলছি, পাঁচ মিনিট পরপরই যে আপডেট হবে এমনটা নয়। সাধারণত হঠাৎ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যাওয়া ম্যালিশিয়াস প্রোগ্রাম যেন আপনার কম্পিউটারে আক্রমণ করতে না পারে এ জন্যই এই সুবিধা। তবে আপনি চাইলে লাইভ আপডেট অন রেখে পালস আপডেট অফ করে দিতে পারেন।

৫. ল্যাব টেস্টঃ এভি-কমপেয়ারেটিভ, পাসমার্কসহ বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত ল্যাব টেস্টে নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২ অন্যান্য সবাইকে বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে পেছনে ফেলে দিয়েছে। তাই এসব ল্যাব টেস্টের উপর ভিত্তি করেও এ কথা বলা যায় যে, নরটন ২০১২ সত্যিই আগের চেয়ে অনেক উন্নত ও শক্তিশালী ভাইরাস প্রটেকশন সফটওয়্যার।



সূত্র

এবং একটি বোনাস!
এতোসব সুবিধার সঙ্গে রয়েছে আরেকটি বোনাস। যারা ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে কম্পিউটার সোর্স থেকে নরটন অ্যান্টিভাইরাস ২০১২ (৭০০ টাকা), নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২ (১১০০ টাকা) অথবা নরটন ৩৬০ ২০১২ (১৫০০ টাকা) কিনবেন, তাদের জন্য রয়েছে ফ্রি ব্যাকপ্যাক। নরটনের লোগোসমৃদ্ধ এই ব্যাকপ্যাকে রয়েছে ল্যাপটপ রাখার জন্য আলাদা সুবিধা। তাই যারা কেনার কথা ভাবছেন, তারা অফার ফুরিয়ে যাবার আগেই কিনে ফেলুন কম্পিউটার সোর্সের যে কোনো সেলস সেন্টার থেকে।

সবশেষে একটা কথাই বলবো, ব্যাকপ্যাকের জন্য নয়, সত্যি সত্যিই ভাইরাস, স্ক্যাম, আইডেন্টিটি থেফট এবং সর্বোপরি সাইবার ক্রাইম থেকে বাঁচতে নরটন ২০১২ ব্যবহার করুন। নরটনের তিনটি প্রোডাক্ট থেকে আমার মতে নরটন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০১২-টাই পাঠকদের জন্য পারফেক্ট চয়েস হবে। অনেকে কিছু টাকা বাঁচানোর জন্য পাইরেটেড অ্যান্টি ভাইরাস ব্যবহার করে থাকেন যা একদম ঠিক নয়। অন্তত নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই অ্যান্টি ভাইরাস কিনে ব্যবহার করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

সাইবারক্রাইম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসতে পারে ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশনে নির্মিত বিশ্বের প্রথম সাইবারক্রাইম ইনডেক্স থেকে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29485281 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29485281 2011-11-17 20:05:34
বিক্রি হবেঃ Symphone FT30 ৬ মাসের ওয়ারেন্টিসহ

আর্জেন্ট সেল বলা যেতে পারে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন । কোনো প্রশ্ন থাকলে মন্তব্য করতে পারেন। প্রাইস ৪৫০০ টাকা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29479899 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29479899 2011-11-08 22:12:14
[ফটোগ্রাফি পোস্ট -১ ] বুড়িগঙ্গার পাড়ে এক সন্ধ্যা!
প্রথম শুনে বেশ অবাক হয়েছিলাম। বুড়িগঙ্গার পাড়ে বেড়াতে যাওয়া? আমি তো শুনেছি ওখানে গন্ধের জন্য টেকা দায়। অন্তত এমন কথাই প্রচলিত আছে। আসলে কিন্তু ততোটা নয়। প্রায় সমবয়সী বেশ কিছু নতুন আত্মীয়ের সাথে বুড়িগঙ্গার পাড়ে পৌঁছার পর জোরে শ্বাস টেনে 'আকাঙ্ক্ষিত দুর্গন্ধ' পাওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু তেমন কিছু পেলাম না।

সূত্রাপুর থেকে হেঁটে এসেছিলাম বুড়িগঙ্গার তীরে। ঐ এলাকায় কাঠের দোকান রয়েছে অনেকগুলো। এছাড়াও সন্ধ্যার আগমূহুর্ত বলে ব্যস্ততাও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেবল স্থলেই নয়, জলেও ব্যস্ততা চোখে পড়ছিল। প্রথমে ছবি তুলতে গিয়ে দেখলাম ফোকাস করলেই সূর্য বরাবর ভার্টিক্যালি একটা বেগুনী রশ্মি দেখা যাচ্ছে। ছোট ক্যামেরার যত অসুবিধা! ভাবলাম ছবি তুললেও এটা থেকে যাবে। তাই ছবি আর তুললাম না।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরের দারুণ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার লোভ সামলাতে পারলাম না। তুলে ফেললাম কিছু ছবি। আর সেগুলো থেকে আমার যেই ছবিগুলো বেশি ভালো লেগেছে সেগুলো নিয়েই ফেসবুক অ্যালবাম , ফ্লিকআর সেট এবং এই ব্লগ পোস্ট।

ছবিগুলো এডিট করা হয়েছে কেবল কার্ভ ও লেভেল অ্যাডজাস্ট করার জন্য। এছাড়া আর তেমন কোনো এডিট করা হয়নি।

চলুন তবে ছবিগুলো দেখা যাক।

============================================



























১০


১১


১২


১৩


১৪


১৫




ফেসবুকে নরমাল রেজুলেশনে আপলোড করায় ছবির কোয়ালিটি কিছুটা কমে গিয়ে থাকতে পারে। ফ্লিকআর থেকে এমবেড করা যেত কিন্তু অনেক সময় লাগে বিধায় করলাম না। চাইলে ফেসবুক ও ফ্লিকআর দু'টোতেই দেখে আসতে পারেন (লিংক উপরে রয়েছে)।


উপরের ছবিগুলো ছাড়াও ফটোগ্রাফি, ক্যামেরা সেটিংস, কম্পোজিশন ইত্যাদি সংক্রান্ত যে কোনো পরামর্শের অপেক্ষায় থাকলাম। <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29476529 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29476529 2011-11-01 21:45:00
মুভি দেখার আগে জেনে নিন রেটিং, বুঝে নিন কোন রেটিং কী বোঝায়
যারা নিয়মিত মুভি দেখেন তারা হয়তো ইতিমধ্যেই জানেন বড় পর্দায় মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতিটি ছবিকেই এমপিএএ (Motion Pictures Association of America's film-rating system) বিভিন্ন ধরনের রেটিং দিয়ে থাকে। এসব রেটিং-এর উপর ভিত্তি করে উন্নত রাষ্ট্রে থিয়েটারের টিকেট বিক্রি করা হয়। যেমন, একটি NC-17 মুভি দেখতে সতেরো বছরের কম বয়সী কাউকে থিয়েটারে ঢুকতেই দেবে না কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও মুভি রেটিংগুলো কাজে আসে যাতে দর্শকরা পরিবারের সাথে কোন কোন মুভিগুলো দেখা যাবে তা আগে থেকেই জানতে পারেন এবং রেটিং দেখে নিমিষেই ধারণা করে নিতে পারেন মুভিটিতে আপত্তিকর সামগ্রী আছে কি না।

যারা ইন্টারনেট থেকে মুভি ডাউনলোডের ক্ষেত্রে নিতান্তই নতুন, তাদের উপকার হবে আশা করে এই পোস্টে বিভিন্ন প্রকার রেটিং এবং এর অর্থ সহজভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। এছাড়াও কেবল রেটিং নয়, অন্য কী উপায়ে আপনি মুভিতে কী ধরনের দৃশ্য রয়েছে তা মূহুর্তের মধ্যেই জানতে পারবেন তাও আলোচনা করবো এই পোস্টে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

এমপিএএ রেটিং


জেনারেল অডিয়েন্স
১৯৬৮ থেকে এখনও কার্যকর।
সব বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী।
এই রেটিং নিয়ে বলতে গেলে মাথায় যেটা আসে তা হলোঃ এই রেটিং-এর ছবি আজকাল খুব একটা বের হয় না। <img src=" style="border:0;" />


প্যারেন্টাল গাইডেন্স
১৯৭৮ থেকে এখনও কার্যকর।
কিছু কিছু বিষয় বাচ্চাদের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। এই রেটিং-এর ছবি ১২-১৩ বছর বয়সীদের নিয়ে নিশ্চিন্তে দেখতে পারেন। কেননা, যেসব সামগ্রী বিবেচনা করে বাচ্চাদের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে বলা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশিই অ্যাডভান্সড হয়ে থাকে এই বছরের বাচ্চারা। wink সাধারণত মারামারির দৃশ্য, গোলাগুলি ইত্যাদি স্বাভাবিক ভায়োলেন্সের কারণে এই রেটিং দেয়া হয়।


প্যারেন্টাল গাইডেন্স ১৩
১৯৮৪ থেকে এখনও কার্যকর।
১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য কিছু সামগ্রী অনুপযুক্ত থাকতে পারে।
পিজি আর পিজি-১৩ এর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। তাই নতুন করে কিছু লেখারও প্রয়োজন মনে করছি না।


রেস্ট্রিক্টেড
১৯৭০ থেকে এখনও কার্যকর।
১৭ বছরের কম বয়সীদের থিয়েটারে প্রবেশের ক্ষেত্রে মা-বাবা অথবা বয়স্ক অভিভাবকের প্রয়োজন পড়বে।
যেহেতু বাংলাদেশে থিয়েটারের ঝামেলা নেই, সেহেতু রেটেড আর এর সংজ্ঞা অন্যভাবে দেয়া যেতে পারে। একভাবে বলা যেতে পারে, এই রেটিং-এর ছবিগুলো দর্শকদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। <img src=" style="border:0;" /> কেননা এতে নগ্নতা, সেক্সুয়ালিটি, গ্রাফিক ভায়োলেন্স ইত্যাদি মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে। তবে এ ধরনের ছবিগুলো পরিবারের সঙ্গে দেখতে বসা বোকামি। অবশ্য কেবল ভায়োলেন্সের জন্যও R রেটিং দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে সবার সঙ্গেও দেখতে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, Perfume: The Story of a Murderer মুভিটি রেস্ট্রিক্টেড রেটিং দেয়া হয়েছে Nudity-এর জন্য। আবার, Wrong Turn (I) মুভিটিও একই রেটিং দেয়া হয়েছে স্ট্রং ভায়োলেন্সের জন্য (কোনো নগ্নতা না থাকা সত্ত্বেও)।


No Children 17 or under admitted
১৯৯৬ থেকে এখনও কার্যকর।
১৮ বছর বয়সী না হলে এই মুভি দেখাই উচিৎ না। <img src=" style="border:0;" /> অবশ্য উচিৎ-অনুচিৎ বলে লাভ নেই, এনসি-১৭ অনেকের জন্যই হটকেক। তবে রেটিং R এর মতোই কেবল গ্রাফিক নুডিটি বা সেক্সুয়ালিটির জন্য নয়, অনেক সময় কেবল অত্যধিক দৃশ্যমান ভায়োলেন্সের জন্যও এই রেটিং দেয়া হয়ে থাকে।

বলা বাহুল্য, আরেকটি রেটিং হচ্ছে UR যা দিয়ে আনরেটেড বোঝানো হয়। আনরেটেড মুভি দেখার ব্যাপারে সাবধান। কেননা, আপনি জানতে পারছেন না মুভির রেটিং কী। তবে একটি উপায় আছে মুভির কন্টেন্ট সম্বন্ধে ধারণা পাওয়ার, তা হলো IMDb.

ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে সার্চ করে সংশ্লিষ্ট মুভির টাইটেলে যান। স্ক্রল ডাউন করে Motion Picture Rating (MPAA) প্যারায় যান। সেখানে সংক্ষেপে রেটিং ও তার কারণ লেখা থাকে। নিচে View content advisory লিংকে ক্লিক করলে অধিকাংশ ছবির ক্ষেত্রেই ছবিতে কতটি কী জাতীয় দৃশ্য রয়েছে তার বর্ণনা পেয়ে যাবেন। এখান থেকেও একটু সময় নিয়ে ও ইন্টারনেট সংযোগের সদ্ব্যবহার করে সহজেই জেনে নিতে পারবেন পছন্দের মুভিটি দেখতে হলে কী ধরনের প্রস্তুতি দরকার। <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />

আশা করছি অনেকেরই পোস্টটি কাজে আসবে। ভালো লাগলে অবশ্যই মন্তব্য রেখে যাবেন, ফেসবুক/টুইটারে শেয়ার করবেন এবং পরিচিত মানুষদের মধ্যে যাদের কাজে লাগবে মনে করেন তাদেরকে লিংকটা কষ্ট করে পাঠিয়ে দেবেন। আর ভুলত্রুটি চোখে পড়লে অবশ্যই রিপ্লাইয়ে জানাবেন। যতদ্রুত সম্ভব ঠিক করে দিতে চেষ্টা করবো। <img src=" style="border:0;" />

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেস (আইএমডিবি)।
অনেকে হয়তো বলবেন উইকিতে গেলেই তো এসব জানা যায়, এখানে পড়ে লাভ কী? অনেক কষ্ট করেও তাদের জন্য সন্তোষজনক উত্তর বের করতে পারলাম না। <img src=" style="border:0;" />


প্রথম প্রকাশঃ ওয়ার্ডপ্রেস বাংলা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29475060 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29475060 2011-10-30 16:30:53
সাহায্য চাইঃ বাংলালায়ন কিউবি শেষে এবার পদার্পণ ঘটলো জুম আল্ট্রায় (ডাউনগ্রেড?) কিন্তু লিনাক্সে যে চলে না! মূল প্রশ্নের জন্য শেষ প্যারায় চলে যান।

বাংলালায়ন নিয়ে প্রথমে বেশ শান্তিতে ছিলাম। পরে একটু ঝামেলা হলো। ফেয়ার ইউসেজ পলিসির নামে স্পিড কমিয়ে দেয়ায় মেজাজ চরম খারাপ হলো। পরে মোটামুটি শান্তিতে ছিলাম ফেয়ার ইউসেজ পলিসির ঝামেলাটা আপাতত মিটে যাওয়ায়। কিন্তু ইন্টারনেট নিয়ে স্বস্তি পাওয়ার জন্য যেন আমার জন্ম হয়নি। শুরু হলো নেটওয়ার্ক সমস্যা। শুরুর দিকে ঘরের ভিতরেই নেটওয়ার্ক পেতো একেবারে ফুল। ধীরে ধীরে ঘরের ভেতর দুর্বল নেটওয়ার্ক আর বারান্দায় স্ট্রং নেটওয়ার্ক পেতে থাকলো। একসময় ডেস্কটপ ব্যবহার করতে না পেরে শেষে মডেম বারান্দায় ঝুলিয়ে ল্যাপটপে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে থাকলাম। ডেস্কটপে লেখালেখির কাজ করতে সুবিধা বেশি, তাই একটু অসুবিধার সম্মুখীন হলেও সেটা মেনে নিয়েছিলাম।

সমস্যাটা বাঁধলো যখন বারান্দা থেকেও নেটওয়ার্ক উধাও হয়ে যেতে শুরু করলো। একসময় অবস্থা এমনই দাঁড়ালো যে বারান্দায় রাখরেও কানেকশন পায় না। দশ-পনেরো মিনিট পর নেটওয়ার্ক আসলেও স্পিড হয় জঘন্য রকমের খারাপ। তাই উপায়ন্তর না দেখে সেটা বোনের বাসায় গিফট আকারে পাঠিয়ে দিলাম।

বাকি রইলো ল্যাপটপের সঙ্গে ফ্রি পাওয়া কিউবি প্রিপেইড সার্ভিস।

সাধারণত আমি লিমিটেড ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করে মজা পাই না। কিন্তু ঠেকায় পড়লে কে কী না করে! তাই সিদ্ধান্ত নিলাম বিটিসিএল-এর ব্রডব্যান্ড নিবো। যতদিন না আসে ততদিন কিউবি দিয়েই চালিয়ে যাবো। কিন্তু কিউবিও বারান্দা ছাড়া নেটওয়ার্ক পায় না। প্রতিদিন ডেস্কটপ ঠেলে ঠেলে বারান্দায় নিতে নিতে অসহ্য হয়ে পড়লাম। শেষে বাদই দিলাম ডেস্কটপ বারান্দায় নেয়া। ল্যাপটপ নিয়ে বারান্দায় বসে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে শুরু করলাম।

কিন্তু বারান্দায় বসে কি আর কাজ করা যায়? বিশেষ করে লেখালেখির কাজ যেখানে প্রয়োজন প্রচুর গবেষণা, নোট রাখা, ব্রেইন খাটিয়ে লেখা, সেখানে একটু রিল্যাক্সড হয়ে বসতে না পারলে কি কাজে মন বসে? তাই বাধ্য হয়ে কিউবিও ব্যাগবন্দী করলাম।

বাসাটাই কুফা। ইন্টারনেট সংযোগের পেছনে এতো টাকা ঢাললাম, আজও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পেলাম না। এদিকে আব্বু গেছে হজ্জ্বে। আসার আগ পর্যন্ত বিটিসিএল ল্যান্ডলাইনের জন্য আবেদন করতে পারছি না। আবেদন করলেও নাকি লাইন আসতে এক মাসের মতো সময় লাগবে। তারপর আবার আবেদন করতে হবে ব্রডব্যান্ড লাইনের জন্য। প্রায় দেড়-দুই মাসের ধাক্কা। তাই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম একটু ডাউনগ্রেড করে হলেও সিটিসেল জুম আল্ট্রা নিবো।

৫১২ কেবিপিএস, ১ এমবিপিএস ইন্টারনেট ব্যবহার করে সিটিসেলের ৩০০ কেবিপিএস খুব একটা ভালো না লাগলেও আমি খুশি কারণ অন্তত নেটওয়ার্ক তো পাচ্ছে। এছাড়াও গত কয়েক ঘণ্টার অভিজ্ঞতা বলে স্পিড মোটামুটি ভালোই। আমি সবসময় জিপি ব্যবহার করেছি কিন্তু জিপি কখনোই স্পিডের ব্যাপারে প্রমিজ করে না। সিটিসেল স্পিড প্রমিজ করে বলেই টাকা খরচ করে মডেম + সংযোগ নিলাম। যদিও আমি ১.৫ গিগাবাইট নিয়েছি ৮০০ টাকায়, যা জিপির তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল, তবুও আমি খুশি। (বলা বাহুল্য, সিটিসেলের পোস্টপেইড সিম খুঁজছি। কেউ প্রিপেইড আর পোস্টপেইড এক্সচেঞ্জ করতে চাইলে আওয়াজ দেবেন।)

এবারে আসল কথা। মডেমের গায়ে লেখা মডেম লিনাক্স সাপোর্টেড। অথচ উবুন্টু ১০.১০ এবং লিনাক্স মিন্ট ১১-তে মডেম লাগিয়ে কোনো পাত্তাই পেলাম না। অথচ আমি শুনেছি অনেকেই উবুন্টুতে জুম আল্ট্রা ব্যবহার করেন। কেউ কি জানাবেন কীভাবে উবুন্টুতে/লিনাক্সমিন্টে জুম আল্ট্রার ZTE AC682 মডেমটি চালানো যাবে? সাহায্যের জন্য অগ্রিম ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29473505 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29473505 2011-10-28 01:15:10
গল্পঃ পৃথিবীর যত সুখ নীলার কানের কাছে প্রায় ফিসফিস করে পাঁচ মিনিট ধরে ডেকে যাচ্ছে অনিক। কিন্তু ভালোবাসা মাখা সেই ডাক যেন কানেই যাচ্ছে না নীলার। শরীরটা ভালো না তার। তাই হঠাৎ করে তাকে ডেকে তুলতে চাচ্ছে না অনিক। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আরেকবার ডাকায় আস্তে করে চোখ মেললো নীলা। অনিকের মুখে হাসি ফুটলো। প্রতিদিন সকালে নীলার ঘুম থেকে ওঠার দৃশ্যটা সে কখনোই মিস করে না। কেন যেন এই দৃশ্যের মাঝেও অনেক মানসিক শান্তি খুঁজে পায় সে।

‘আমাকে যে অফিসে যেতে হবে!’ বলল অনিক।
‘ওহ! কয়টা বাজে?’
‘প্রায় সাতটা।’
‘ও।’

মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল অনিকের। নীলা কিছুই বললো না। ওর শরীরটা আসলেই ভালো না। অন্যান্য দিন এমন সময় নীলা ব্যস্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করে অনিকের জন্য নাস্তা রেডি করে। অনিকও যতোটা সম্ভব নীলাকে কাজে সাহায্য করে। কিন্তু আজ নীলার শরীর খারাপ বলে তাকে আর ডাকেনি অনিক। যাবার মূহুর্তে বলে যাওয়ার জন্যই ঘুমটা ভেঙ্গেছে নীলার।

‘আমার আজকে অফিসে যাওয়া একদমই উচিৎ নয়, কিন্তু আজ এমনই কিছু কাজ আছে যে না গিয়েও পারছি না,’ মন খারাপ করে কৈফিয়তের সুরে নীলার কানের কাছে বললো অনিক।
নীলা তার দিকে না তাকিয়েই ক্ষীণ কণ্ঠে বললো, ‘সমস্যা নেই, তুমি যাও।’
তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো অনিক। আর দুই-এক মিনিট, তারপরই নীলা পুরোপুরি সজাগ হয়ে উঠবে। সেই দুই মিনিট সময় পার করলো সে নীলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে।

‘শোনো, আমি নাস্তা তৈরি করে গেছি, তুমি ঠিক এক ঘণ্টা পর আটটায় বিছানা থেকে উঠবে। ফ্রিজে ব্রেড রাখা আছে। আমি জেলি দিয়ে রেখেছি, তুমি খেয়ে নিও। আর খাওয়া শেষে পুরো দুই গ্লাস পানি খাবে। পানি খেয়ে সোজা বিছানায় যাবে। কোনো কাজের বাহাদুরি দেখাতে হবে না, বুঝেছো?’ প্রায় যেন আদুরে ধমক দিলো অনিক।

তার এই আচরণের সঙ্গে পরিচিত নীলা। সে একটু হেসে বললো, ‘আচ্ছা ঠিক আছে।’ অনিক বলে চললো, ‘দুপুরের ভাতও আমি রান্না করে রেখেছি। তরকারি কাল রাতেরটাই আছে, আর রান্নার দরকার হবে না। আমি ফোন করে তোমাকে ডেকে দিবো যদি ঘুমিয়ে থাকো। দুপুরে কিন্তু অবশ্যই খেয়ে নিবে সোনা। তোমার শরীরটা ভালো না। না খেলে কিন্তু শরীর আরো খারাপ হবে।’

খাওয়া নিয়ে বরাবরই নীলার উপর জবরদস্তি করতে হয় অনিককে। আজ সে বাসায় থাকতে পারছে না, নীলার শরীরও খারাপ, তাই নীলাকে বুঝিয়ে বলছে অনিক যাতে মেয়েটা খাবার ফাঁকি না দেয় কোনোভাবেই।

‘আর শোনো, তোমার ঘুম না আসলে টিভির রিমোট তোমার কাছে রেখে গেলাম, টিভি দেখো। গান শুনতে ইচ্ছে করলে ল্যাপটপও রেখেছি খাটের পাশেই। স্পিকারে লাইন দেয়া আছে ল্যাপটপ থেকেই গান চালাতে পারো। তবে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকবে না কিন্ত। তাহলে শরীর আরও খারাপ করতে পারে। আর কোনো কাজ করতে যাবে না। এমনকি খাওয়ার পর মাতব্বরি করে প্লেটটাও ধুয়ে রাখতে হবে না।’

নীলা বললো, ‘আমাদের কি আর কাজের লোক আছে নাকি যে সে এসে ধুয়ে রাখবে?’
‘কাজের লোক থাকা লাগবে না। আমিই এসে ধুয়ে রাখবো। তোমার শরীর খারাপ তুমি এগুলো ছোঁবেও না। ঠিক আছে?’
মাথা নাড়লো নীলা। অনিক বলে চললো, ‘তোমার খরগোশগুলোকে খাবার দিয়ে রেখেছি। ওগুলো নিয়েও আপাতত চিন্তা করতে হবে না। কেউ এলে দরজা খোলার দরকার নেই। কেউ আসবে না আজ। পরিচিত কেউ আসলে দরজা না খুললে ফোনই করবে। ফোন রিসিভ করলেই বুঝতে পারবে। বেল শুনেই দরজার দিকে দৌড় দেবে না। বুঝেছো?’

এবারও মাথা নাড়লো নীলা। তার ঠোঁটের হাসিটা নজর এড়ালো না অনিকের। অনিক নীলার গালে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে বললো, ‘এবার তাহলে আমি যাই সোনামণি। তুমি কিন্তু ঠিক যেভাবে বলেছি সেভাবে থাকবে। কোনো কাজে হাত দেবে না। খুব সাবধানে থাকবে। ঠিক আছে?’

নীলার ঠোঁটটা নড়লো। কী বললো ঠিক শুনতে পেলো না অনিক। তার ঠোঁটের সামনে কান পেতে নীলাকে আবার জিজ্ঞেস করতেই নীলা বললো, ‘যাই না, বলো আসি।’

হাসলো অনিক। মেয়েটা সবসময়ই তার এই ভুলটা ধরে। ‘আচ্ছা জান আসি। এবার হয়েছে?’
হাসিমুখেই এবার মাথা নাড়লো নীলা। অনিক তার কপালে একটা চুমু খেয়ে উঠে দাঁড়ালো। তার সত্যিই আজ মন সায় দিচ্ছে না নীলাকে এভাবে একা রেখে অফিসে যেতে। কিন্তু কিছু করার নেই, আজ তাকে যেতেই হবে। ভয়াবহ কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে আজকের অফিস এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

শেষবারের মতো নীলার দিকে তাকিয়ে বিষণ্ন মনে বাসা থেকে বের হলো অনিক।

*

সকাল ৮টা।
নীলার ফোনটা বাজছে। তিনবার রিং হওয়ার পর রিসিভ করলো নীলা।
ওপাশ থেকে রাস্তার গাড়ি আর হর্নের শব্দ ভেসে এলো প্রথমেই। তারপর শোনা গেলো অনিকের গলা, ‘নীলা, উঠেছো সোনা?’
‘উমম,’ স্পষ্ট করে কিছু বললো না নীলা। তবে অনিকের বুঝে নিতে অসুবিধা হলো না।
‘শোনো জান, এক্ষুণি উঠে পড়ো। মুখ ধুয়ে ফ্রিজ থেকে ব্রেড খাও কয়েকটা। তারপর দু’গ্লাস পানি খাও। তারপর ওষুধটা খেয়ে নেও। আমি তোমার বালিশের নিচেই ওষুধের পাতাটা রেখে এসেছি।’
‘আচ্ছা উঠছি,’ ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল নীলা।
‘আচ্ছা উঠছি না সোনা, এক্ষুণি উঠো। ওষুধটা সময়মতো খেতে হবে না? উঠে পড়ো। আমি থাকলে তো আমিই খাইয়ে দিতাম। আমি নেই বলে কি একটু কষ্ট করে ওষুধটা খাবে না?’
‘আচ্ছা যাচ্ছি।’

অনিকের খুশি হওয়াটাও যেন শুনতে পেলো নীলা। খুব ছোট্ট ছোট্ট ব্যাপারে অনিক খুব খুশি হয়। এগুলো নীলার ভালো লাগে, অবাকও লাগে। তবে ভালোই বোধহয় বেশি লাগে। তাই খুশি হওয়াটা বুঝতে পেরেই যেন শোয়া থেকে উঠলো নাস্তা করতে।

মুখ ধুয়ে ফ্রিজ খুলে ব্রেডগুলো দেখতে পেলো নীলা। হাতে নিয়ে আনমনেই হেসে উঠলো। পাউরুটিগুলোর উপর জেলি এতো মসৃণভাবে মাখিয়েছে অনিক যেন কোনো মেশিন দিয়ে লাগানো। অথচ নিজে খায় সময় যে কীভাবে জেলি লাগায় অনিক!

খাওয়ার সময় খুব একা লাগলো নীলার। প্রতিদিন সে আর অনিক একসঙ্গে নাস্তা করে। প্রতিদিনই অনিক একশো একটা বাহানা দেখিয়ে নিজের শেষ পিসটা নীলাকে খাইয়ে দেয়। ভাবটা দেখায় সে অনেক ভালোবাসে বলে নীলাকে এভাবে খাওয়ায়। কিন্তু নীলার মনে হয় অনিক খাওয়া ফাঁকি দেয়ার জন্যই এটা করে। অনেকবার প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি। ছেলেটা এতো আদর করে সাধে, না খেয়েও পারে না নীলা। অথচ অন্য কারো সাথে এতোটা মিশে কথা বলতে পারে না সে। যেন কেবল নীলার সাথেই সে এতো দুষ্টুমি করে, অন্য কারো সঙ্গেই পারে না।

ফোনের দিকে চোখ পড়তেই ভাবলো, কী ঝামেলার মধ্যে থেকে ফোন করেছে অনিক কে জানে। হয়তো বাসে ঝুলে দাঁড়িয়ে ছিলো। গাড়ি কেনার ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য হয়নি। তাই আর দশজন মানুষের মতোই তাকে যাতায়াত করতে হয়। তা যে কী ভয়াবহ অবস্থা সেটা নীলার অজানা নয়। এতোকিছুর মাঝেও কীভাবে অনিক ফোন করলো, কে জানে!

*

দুপুর ১টা।
এরই মাঝে আরও দু’বার ফোন করেছে অনিক। একবার নীলা ঘুমিয়ে ছিল। আরেকবার টিভি দেখছিল। কিন্তু ঠিক ১টায় অনিক ফোন করলো যখন নীলা রান্নাঘরে সিঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছে প্লেটগুলো ধুয়ে ফেলবে কি না।

নীলার শরীরটা খারাপ লাগছিল বলে রাতে খাওয়ার পর প্লেটগুলো আর ধুয়ে রাখা হয়নি। নীলা না করলে অনিকই সাধারণত এসব কাজ করে ফেলে। কিন্তু নীলার শরীর রাতে আরও বেশি খারাপ ছিল বলে অনিক অন্য কাজ বাদ দিয়ে নীলার পাশেই বসে ছিল। কখন ঘুমিয়েছে জানে না, মাঝরাতে কেবল একবার ঘুম ভেঙ্গে নীলা দেখেছে অনিক নীলার একটা হাত জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।

‘কী করছো নীলা?’
‘কিছু না।’
‘শুয়ে আছো?’
‘না।’
‘তাহলে কোথায়?’
‘রান্নাঘরে।’
‘খিদে পেয়েছে?’
‘হ্যাঁ, আমি খেয়ে নিয়েছি। তুমি কিন্তু ভাত নরম করে ফেলেছো।’
‘ওহ তাই নাকি? সরি! খেতে পেরেছো? নাকি বেশি নরম হয়ে গিয়েছিলো? আমিও যে কেন ভাত বসিয়ে ব্রেডে জেলি লাগাতে গিয়েছিলাম!’

অনিককে অপ্রস্তুত হতে দেখে হাসতে লাগলো নীলা। ‘আরে বোকা ভাত ঠিকই আছে। আমি মজা করছিলাম তোমার সাথে। কিচ্ছু বুঝে না। বুদ্ধু।’
অনিকও লাজুক হাসি হাসলো। নীলাকে হাসতে শুনে তার খুবই ভালো লাগছে। মেয়েটার শরীরের অবস্থার উন্নতি ঘটেছে তাহলে।

*

দুপুরের পর থেকে আরও পাঁচবার ফোন দেয়ার পর ছয়বারের বেলায় নিজেই ঘরে এসে উপস্থিত হলো অনিক। দরজা খুলে দিলো নীলা। প্রথমেই তাকে জিজ্ঞেস করলো অনিক, ‘কেমন আছো? তোমার শরীরটা কেমন এখন?’ গায়ে হাত দিয়ে দেখলো জ্বর আছে কি না।
নীলা বললো, ‘তুমি যা শুরু করেছো, রোগ এসে শান্তি পায় নাকি? চলে গেছে।’
হাসলো অনিক। বলল, ‘ভালো হয়েছে। রোগ দুনিয়ার আর মানুষ পেলো না, না? আমার নীলামণিকেই ধরতে হবে? ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিবো রোগকে!’
‘তুমি আমাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে?’ প্রায় কাঁদো কাঁদো ভঙ্গিতে বললো নীলা।
‘আরে না জান, তোমাকে কি আমি ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে পারি? রোগকে বিদায় করবো। তুমি তো আমার কাছেই থাকবে। তুমি আবার কই যাবে?’
যেমনি হঠাৎ করে কাঁদার ভঙ্গি করেছিল, তেমনি হঠাৎ করেই হেসে নীলা বললো, ‘কোথাও না।’

নীলার এই ছেলেমানুষী অনিকের অনেক ভালো লাগে।

*

রাতে খাওয়ার পর।
বিছানায় এসে শুয়ে পড়েছে নীলা। অনিক কিছুক্ষণ ল্যাপটপে কাজ করলো। নীলা শুতেই সে ল্যাপটপ রেখে নীলার দিকে মনোযোগ দিলো। জিজ্ঞেস করলো, ‘এখন তোমার শরীর কেমন? ভালো লাগছে?’
‘হ্যাঁ, মনে হচ্ছে এখন আমি সুস্থ।’
‘মনে হলেই চলবে না। ওষুধ দিয়েছে ডাক্তার, কোর্স শেষ করতে হবে।’
‘অ্যাঁ, আমি ওষুধ খাবো না।’
‘খাবে সোনা, হাঁ করো।’
‘না করবো না।’
‘না করলে কিন্তু আজ আমি নিচে ঘুমাবো।’
‘আমিও নিচে ঘুমোবো।’
‘জ্বী না, তুমি আমার সাথে শুতে পারবে না। আমি ছাদে গিয়ে ঘুমাবো।’
‘আমিও তোমার সাথে ছাদে গিয়ে ঘুমাবো,’ খুশি খুশি গলায় বললো নীলা।
‘ছাদে গেলে তোমাকে ভ’তে ধরবে।’
‘ইশ, ধরবে না। ভ’ত ধরতে আসলে তুমি আছো না?’
‘আমি কী করবো?’
‘তুমি আমাকে ভ’ত থেকে বাঁচাবে,’ বলে অনিককে জড়িয়ে ধরলো নীলা।
‘সেটাই তো করছি। নাও ওষুধটা খাও।’

হেরে গিয়ে চুপচাপ কিছুক্ষণ অনিকের দিকে তাকিয়ে রইলো নীলা। চুপচাপ ওষুধটা খেয়ে নিয়ে অনিকের বুকে মাথা রাখলো। ‘অনিক, তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো কেন?’
‘কারণ, তুমি শুধু আমার।’
‘তুমি এতো চিন্তা করো কেন আমাকে নিয়ে?’
‘তাহলে কাকে নিয়ে চিন্তা করবো? আমার তুমি ছাড়া আর কেউ তো নেই। যারা আছে, তারা তো আমাকে তোমার মতো করে বুঝে না।’
‘হুম।’
‘আর তোমার শরীর খারাপ। আমি তো অফিসে গিয়েছিই, কিন্তু মনটা সারাদিন পড়ে ছিল তোমার কাছে। কেবলই মনে হচ্ছিল কখন তোমাকে দেখবো।’ নীলার চুলে বিলি কাটতে শুরু করলো অনিক।

নীলা বললো, ‘আজ আমাদের বিয়ের কতোদিন হয়ে গেছে, তাই না?’
‘হুম। অনেক বছর।’
‘তুমি কি আজও আমাকে আমাদের সেই স্টুডেন্ট লাইফে যেমন ভালোবাসতে, তেমন ভালোবাসো অনিক?’
‘তোমার কী মনে হয়?’
জবাব দিলো না নীলা। সে জানে, অনিক তাকে খুব ভালোবাসে। বিয়ের এতোগুলো বছর পরও আজ তাদের কোনো সন্তান নেই। ভবিষ্যতেও না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। অবশ্য আর ভবিষ্যত কীসের। তাদের জীবনকালও প্রায় শেষই হয়ে আসছে। অনিক সবসময়ই বলে, তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এই নীলা। কথাটা যে সত্যি তা নীলা জানে। হয়তো তার জীবনেরও শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি তার স্বামী, অনিক। কিন্তু সে কখনো এটা বলেনি। মেয়েরা কেন যেন মনের কথা চেপে রাখতেই বেশি পছন্দ করে।

নীলা জানে অনিক তাকে ভালোবাসে। তারা বিবাহিত দম্পতি। এতোগুলো বছর পর এখনো নীলার প্রায়ই মনে হয় যেন তারা সবে প্রেমে পড়েছে। যেমনটা ঠিক এখন তার মনে হচ্ছে। অনিকের মনের কথা শুনতেই যেন তার বুকে নিজের কান আরও চেপে ধরলো নীলা।

আর অনিক তখন ভাবলো নীলা ঘুমিয়ে পড়েছে। সে হেডফোন কানে লাগিয়ে তার প্রিয় গানগুলোর একটা শুনতে শুরু করলো। গানটা তার প্রিয়, কারণ কথাগুলো যেন ঠিক তার মন থেকে আসা। নীলার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে চোখ বন্ধ করে নিজের মনের কথাগুলো নিজেই শুনতে থাকলো অনিক।

পৃথিবীর যত সুখ, যত ভালোবাসা, সবই যে তোমায় দেব, একটাই এই আশা, তুমি ভুলে য্ও না আমাকে, আমি ভালোবাসি তোমাকে। ভাবিনি কখনো, এ হৃদয়ে রাঙানো, ভালোবাসা নেবে তুমি, দুয়ারে দাঁড়িয়ে, দু'বাহু বাড়িয়ে, সুখেতে জড়াবো আমি। সেই সুখেরই ভেলায় ভেসে স্বপ্ন ডানা মেলবো হেসে, এক পলকে পৌঁছে যাবো, রুপকথারই দেশে। তুমি ভুলে যেও না আমাকে, আমি ভালোবাসি তোমাকে।।





এমপিথ্রি | প্রথম প্রকাশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29470912 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29470912 2011-10-23 00:10:30
টেক গেজেটের সাথে ছবি তুলে ডিনার করুন ওয়েস্টিনে

প্রযুক্তির অভাবনীয় বিপ্লবে দৈনন্দিন জীবন এখন প্রযুক্তি দিয়েই আচ্ছন্ন। মুঠোফোন, এমপি থ্রি প্লেয়ার থেকে শুরু করে নানা ধরনের গ্যাজেট আমাদের নিত্য সঙ্গী। মানতেই হবে, প্রযুক্তির স্পর্শ ছাড়া আমাদের দিনগুলো হয়ে পড়ে স্থবির। জীবনের বাঁকে বাঁকে নানা প্রকার গ্যাজেট এখন আমাদের নিত্য জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বলতে গেলে, হামেশাই এর অভাববোধ আমাদের পীড়িত করে অজান্তেই।

এবার মনের সেই অব্যক্ত অনুভবের কথা প্রকাশ করে উপভোগ করুন দেশের পাঁচতারা হোটেল ওয়েস্টিনের নৈশভোজ!!

হ্যাঁ, আপনার নিত্যদিনের সহচর যে কোনো প্রকার গ্যাজেটের সঙ্গে ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করুন কম্পিউটার সোর্স ফ্যান ক্লাবে। আপনার ছবিটি সর্বোচ্চ সংখ্যক লাইক পেলেই আপনি হয়ে যাবেন কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড আয়োজিত ফেসবুক ফটো ফেসটিভ্যাল বিজয়ী! কম্পিউটার সোর্স লিমিটেডের ফেসবুক ফ্যানপেজঃ http://www.facebook.com/CSLFanclub

একনজরে নিয়ম-কানুন
কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড’র ফেসবুক ফ্যান পেজে আপনার পছন্দের ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, গেমিং কনসোল কিংবা অন্য যে কোনো গ্যাজেটের সঙ্গে ছবি তুলে আপলোড করলেই আপনি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। এ জন্য অবশ্যই প্রথমে কম্পিউটার সোর্স লিমিটেডের ফ্যান পেজে লাইক করতে হবে। ছবি আপলোডের পর বন্ধুদেরকে উৎসাহিত করুন আপনার ছবিতে লাইক দেয়ার জন্য। কেননা, কেবলমাত্র সর্বোচ্চ লাইক প্রাপ্ত ৫টি ছবিই বিজয়ী হিসেবে বিবেচিত হবে। আর ছবি আপলোডের সময়সীমা ২৪ অক্টোবর ২০১১ পর্যন্ত। কাজেই দেরি না করে এখনই ছবি তুলে আপলোড করুন কম্পিউটার সোর্স’র ফ্যানপেজে। আর বন্ধুদের সঙ্গে তা শেয়ার করে লাইক করতে উৎসাহিত করুন।

কী ধরনের ছবি?
প্রাকৃতিক দৃশ্য বা এ জাতীয় ছবি গ্রহণযোগ্য নয়। ‘দৈনন্দিন জীবনে গ্যাজেট’ থিমের উপর ছবি তুলতে হবে। কেবল গ্যাজেট তথা ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, সেলফোন, স্পিকার, হোম থিয়েটার, গেমিং কনসোল ইত্যাদির ছবি তুললেই হবে না, সঙ্গে অবশ্যই অন্য কাউকে থাকতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি অন্য কাউকে দিয়ে অথবা ক্যামেরার সেলফ-টাইমারের মাধ্যমে যে কোনো গ্যাজেট বা প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারের ছবি তুলতে পারেন। এটা হতে পারে ল্যাপটপে কাজ করার সময়, কম্পিউটারের সামনে বসে, সেলফোনে কথা বলার সময় অথবা গেমিং কনসোলে গেম খেলার সময়। কেবল ছবিতে আপনি অথবা অন্য কেউ এবং গ্যাজেট থাকলেই ছবি গ্রহণযোগ্য হবে।

যদি আপনি একাধিক ছবি নিয়ে কনফিউশনে পড়ে যান, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। কেননা, আপনি চাইলে একাধিক ছবিও আপলোড করতে পারবেন। তবে আপলোডকৃত ছবিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ লাইক প্রাপ্ত একজনের একটি ছবিই বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হবে। সর্বমোট পাঁচজন বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হবেন। আর বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো লটারি হবে না। কোন ছবি কতোটি লাইক পেয়েছে তাই দেখা হবে।

কাজেই ছবি আপলোড করুন কম্পিউটার সোর্স লিমিটেডের ফেসবুক ফ্যান পেজের ওয়ালে আর বেশি বেশি লাইক পাবার জন্য এখনই তা বন্ধুদের মাঝে ছড়িয়ে দিন। কেননা যতোই সময় কমছে, ততই কিন্তু লাইক পাবার সময়ও ফুরাচ্ছে!

২৪শে অক্টোবর পর্যন্ত ছবি আপলোড করা যাবে। এরপর পাঁচজন বিজয়ী হোটেল ওয়েস্টিনে কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড’র সঙ্গে ডিনারের আমন্ত্রণপত্র পেয়ে যাবেন যে কোনো সময়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29464239 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29464239 2011-10-11 22:42:13
বৃষ্টি ঝড়া বর্ষা দিনে খুঁজি তোমায় আনমনে..

বৃষ্টি ঝড়া
বর্ষা দিনে
খুঁজি তোমায়
আনমনে..

সেজেছে আকাশ, মেঘের আড়ালে,
এইতো এলো বৃষ্টি,
আজ ভীষণ ইচ্ছে জাগে,
হারাতে তোমার আলিঙ্গনে।

সেজেছে আকাশ, মেঘের আড়ালে,
এইতো এলো বৃষ্টি,
আজ ভীষণ ইচ্ছে জাগে,
হারাতে তোমার আলিঙ্গনে।

বৃষ্টি ঝড়া
বর্ষা দিনে
খুঁজি তোমায়
আনমনে..

বৃষ্টি ঝড়া
বর্ষা দিনে
খুঁজি তোমায়
আনমনে..।

টুপটাপ বিন্দু জলে,
একি তোমার লুকোনো হাসি,
চেয়ে থাকি অপলক,
আঁকি শুধু তোমার ছবি।

টুপটাপ বিন্দু জলে,
একি তোমার লুকোনো হাসি,
চেয়ে থাকি অপলক,
আঁকি শুধু তোমার ছবি।

বৃষ্টি ঝড়া
বর্ষা দিনে
খুঁজি তোমায়
আনমনে..

বৃষ্টি ঝড়া
বর্ষা দিনে
খুঁজি তোমায়
আনমনে..।

তুমি কি হয়েছো আজ,
সেজেছো অনুরাগে অভিমানী,
মৃদু হাওয়া দিচ্ছে ছোঁয়া,
তোমায় কি অবিরাম..

তুমি কি হয়েছো আজ,
সেজেছো অনুরাগে অভিমানী,
মৃদু হাওয়া দিচ্ছে ছোঁয়া,
তোমায় কি অবিরাম..।

বৃষ্টি ঝড়া
বর্ষা দিনে
খুঁজি তোমায়
আনমনে..

বৃষ্টি ঝড়া
বর্ষা দিনে
খুঁজি তোমায়
আনমনে..।

সেজেছে আকাশ, মেঘের আড়ালে,
এইতো এলো বৃষ্টি,
আজ ভীষণ ইচ্ছে জাগে,
হারাতে তোমার আলিঙ্গনে।

সেজেছে আকাশ, মেঘের আড়ালে,
এইতো এলো বৃষ্টি,
আজ ভীষণ ইচ্ছে জাগে,
হারাতে তোমার আলিঙ্গনে।

বৃষ্টি ঝড়া
বর্ষা দিনে
খুঁজি তোমায়
আনমনে..।

বৃষ্টি ঝড়া
বর্ষা দিনে
খুঁজি তোমায়
আনমনে..।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29449233 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29449233 2011-09-16 18:36:15
Zend Certified হইতে মুঞ্চায় <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_16.gif" width="23" height="22" alt=":((" style="border:0;" /> (" style="border:0;" /> ) শেখার ইচ্ছা অনেকদিনের। কিছু টিউটোরিয়াল জোগাড় করেছি অনেকদিন হয়েছে যেখান থেকে বেসিকগুলো বেশ ভালোভাবেই শিখে নেয়া সম্ভব। অবশ্য আমার কখনোই মনে হয়নি প্রোগ্রামিং আমার সামনা-সামনি টিচার ছাড়া শেখা সম্ভব হবে। তবুও ইচ্ছেটা একটু বেশিই হয়ে গেছে তাই প্রেশার দিয়ে উপায় বের করে নেয়ার চেষ্টা করছি আর কি।

তয় এখন মনে হইতেছে কেবল শিখলে চলবো না সঙ্গে জেন্ড সার্টিফিকেট পাইলে ভালোই হইতো। <img src=" style="border:0;" /> যদিও এইটা চরম দুঃস্বপ্ন। জেন্ড সার্টিফিকেট আর আমি? <img src=" style="border:0;" /> কৈ আইয়ুব খান আর কৈ খিলি পান। :-*:-* তাও স্বপ্ন দেখতে মুঞ্চায়। স্বপ্ন ঘুমাইয়া ঘুমাইয়া দেখে কি না! <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />

কেউ সাহস টাহস দেন একটু। <img src=" style="border:0;" /> পিএইচপিটা যেন বাংলা টাইপিং-এর মতোই সহজ হইয়া যায়। <img src=" style="border:0;" /> আর কিছু টিপস টুপস থাকলে সাদরে গ্রহণ করা হইবে। <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />

বাই দ্য ওয়ে, বেসিকগুলো শেখার জন্য আপাতত টিউটোরিয়ালের উপরই নির্ভর করছি। টিচারের নাম লিন্ডা ভাই। <img src=" style="border:0;" /> জাস্ট ইন কেইস ইউ ওয়ানা নো। <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29428942 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29428942 2011-08-10 00:27:16
কপাল <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_18.gif" width="23" height="22" alt=":|" style="border:0;" /> পড়লাম অ্যাকাউন্টিং আর পরীক্ষা দিলাম ইংরেজি <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_16.gif" width="23" height="22" alt=":((" style="border:0;" />

পূর্ব প্রকাশঃ ইংরেজি ব্লগ

নতুন কলেজে ভর্তি হয়ে একটু সোজা হয়ে বসতেও পারলাম না পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। <img src=" style="border:0;" /> কী আর করা। ক্লাস টেস্ট হলেও এর মার্ক মিড টার্মে যোগ হয় তাই অবহেলা করার উপায় নেই। তাও আবার একদিনে একইসঙ্গে দুইটা পরীক্ষা। <img src=" style="border:0;" />

রুটিন অনুযায়ী ছিল আজ অ্যাকাউন্টিং আর মার্কেটিং পরীক্ষা। মার্কেটিং মোটামুটি পড়া হয়েছে, অ্যাকাউন্টিং তেমন করাই হয়নি। বিশেষ করে অ্যাকাউন্টিং-এর খতিয়ান বা লেজার অধ্যায়ের অংকগুলো স্কুল জামানা থেকেই পারি না। <img src=" style="border:0;" /> এ বছর নাকি এইচএসসিতে খতিয়ান এসেছে তাই আমাদের বেশ জোরদারভাবেই খতিয়ান পড়ানো হচ্ছে। তাছাড়া ২৫ মার্কের ক্লাস টেস্ট পরীক্ষায় ১০ মার্ক রয়েছে খতিয়ানে। তাই রীতিমতো মাথা খারাপ করেই খতিয়ানের পেছনে লেগে থাকলাম গত ৭ দিন (লম্বা গ্যাপ <img src=" style="border:0;" /> )।

বিশেষ করে গতকাল রাতে জাবেদা এন্ট্রি দেয়ার নিয়ম, জাবেদা থেকে খতিয়ানে নেয়া এসব নিয়ে অনেক মাথা খাটালাম। প্রাইভেট টিউটর নেই বা কোনো কোচিং-এও এখনো যাই না তাই নিজেই অংক শিখতে হয়। <img src=" style="border:0;" /> একটা অংক ১০-১২ বার করেও কেন বইয়ের সঙ্গে মিললো না, শার্লক হোমস স্টাইলে ডিটেকটিভগিরি করে সেই প্রশ্নের উত্তর বের করে অবশেষে খতিয়ান তৈরি শিখে ফেললাম। <img src=" style="border:0;" /> এভাবে শিখতে প্রচুর সময় যায়, কিন্তু একটা বিশেষ সুবিধা হচ্ছে প্রাইভেট টিচাররা বারবার বলে বুঝান বলে এটা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর আমি নিজেই সিস্টেম খুঁজে বের করি তাই ভুলে যাবার সম্ভাবনা শতকরা আধা পার্সেন্ট। <img src=" style="border:0;" />

যাই হোক, এতো কষ্ট করলাম সবই মোটামুটি বৃথা গেল যখন আজ ভোরে কলেজে গিয়ে শুনি আজ অ্যাকাউন্টিং নয় ইংরেজি আর মার্কেটিং পরীক্ষা। <img src=" style="border:0;" /> <img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />

ভাগ্য তবু ভালো যে ইংরেজি পরীক্ষা, প্যারাগ্রাফ বানিয়ে টানিয়ে দিয়ে দেয়া যায় (আজীবন বানায়েই প্যারাগ্রাফ লিখে আসলাম <img src=" style="border:0;" /> )। কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে গেল। গ্রামাটিক্যাল কিছু প্রশ্ন ছিল যেগুলোয় একবার চোখ বুলিয়ে গেলে ২৫-এ ২৫ চোখ বুজে উত্তর করতে পারতাম। একেবারে না পড়ে পরীক্ষা দেয়ায় গ্রামারের ১০ মার্কের ৫ মার্ক নিয়েই টেনশনে পড়ে গেছি। <img src=" style="border:0;" /> প্যারাগ্রাফের ১৪ মার্কে মোটামুটি ভালো কিছু আশা করছি কারণ প্যারাগ্রাফ "সাউন্ড পলিউশন"-এ এমন সব বক্তৃতা লিখে এসেছি যেন শব্দদূষণ নিয়ে আমার মতো মাথাব্যাথা পৃথিবীতে দ্বিতীয় কারো নেই। <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> যেহেতু আগে থেকে পড়া নেই আর জীবনে কখনো প্যারাগ্রাফ মুখস্থও করিনি, তাই কলম নিয়ে ভাবলাম ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে পোস্ট লিখতে বসেছি। <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /> তা, পরীক্ষায় ব্লগিং খুব একটা খারাপ করিনি আশা করি। <img src=" style="border:0;" />

ইংরেজি আমার ফেভারিট সাবজেক্ট। আশা ছিল এটায় অন্তত ভালো মার্ক তুলবো। হলো না। <img src=" style="border:0;" /> দেখি এবার অ্যাকাউন্টিং-এ কী করা যায়। <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

শিক্ষাঃ পরীক্ষার রুটিন খাতায় লিখে রাখা অথবা একদিন পরীক্ষা শেষে কাউকে জিজ্ঞেস করে যাওয়া পরদিন কী পরীক্ষা। <img src=" style="border:0;" />


পূর্ব প্রকাশঃ ইংরেজি ব্লগ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29427460 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29427460 2011-08-07 22:57:31
মুভি রিভিউঃ Super Hybrid (2010) (ডাউনলোড লিংকসহ)
কারণ, এর কনসেপ্টটা ভিন্ন আর এটি দেখার সময়ই প্রথম আমার মাথায় এসেছে যে আমরা ভয় পাই কারণ আমরা ভয় পেতে শিখেছি (আগের পোস্টটি না পড়ে থাকলে অনুগ্রহ করে আগে পড়ে নিন)।

সুপার হাইব্রিড ছবিটি কম বাজেটের ছবি। যারা প্রচুর অ্যাকশন বা গ্রাফিক ভায়োলেন্স দেখতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই ছবিটি উপভোগ্য না হলেও যারা ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনার ছবি দেখতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি দারুণ একটি ছবি হতে পারে। সুপার হাইব্রিড সেইসব ছবিগুলোর মধ্যে একটি যেটি আইএমডিবি-তে দুঃখজনকভাবে খুবই কম রেটিং পেয়েছে যার কারণে হয়তো অনেক আগ্রহী দর্শক ছবিটি দেখেননি।

ছবির কাহিনী অনেকটা এরকম, মধ্যরাতে পুলিশের একটি গাড়ি মেরামতের গ্যারেজে অদ্ভূত একটি গাড়ি 'জেগে ওঠে'। কর্মরত সবাই বুঝতে পারে গাড়িটির রয়েছে নিজস্ব সত্ত্বা। সে বুঝতে পারে, দেখতে পারে, যে কোনো সময় যে কোনো গাড়ির রূপ নিতে পারে, শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়, এবং তার বেঁচে থাকার জন্য তেল বা গ্যাস নয়, নেয় রক্ত!

এই অদ্ভূত সুপার হাইব্রিড গাড়ির বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াই নিয়েই পুরোটা মুভি।

সাধারণত আমরা ভূত বা থ্রিলার/হরর মুভিগুলোতে সাসপেন্স থাকে একা যখন চরিত্রগুলো বিভিন্ন ঘরে অন্ধকারে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু এই মুভিতে দেখা যায় গ্যারেজে পার্ক করা প্রচুর গাড়ির মধ্য দিয়ে চরিত্রগুলো হাঁটে এবং দর্শকের মনে একটা ভয় সৃষ্টি হয় এই বুঝি গাড়িটা এলো!

ঠিক তখনই আমার মনে হলো আমরা ভয় পাই কারণ আমরা জানি ঠিক কোন জিনিসটাকে ভয় পেতে হবে।

যাই হোক, মুভি থেকে ফিলোসফি বের করে সেটা নিয়ে পোস্ট করলাম। <img src=" style="border:0;" /> এবার হাতে সময় থাকলে মুভিটাও দেখে ফেলুন। আহামরি কিছু নয়, তবে লো-বাজেট ও ব্যতিক্রমী কনসেপ্টের জন্য এই মুভিকে আমি রেটিং দেবো ৩/৫ (যেখানে আইএমডিবি দিচ্ছে ৩/১০ <img src=(" style="border:0;" /> )।

ডাউনলোড লিংক
http://www.mediafire.com/?kfjii24585j8tlc
http://www.mediafire.com/?bu5kltissrlbyaj
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29426295 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29426295 2011-08-05 23:29:15
আপনি কেন ভয় পান? Why do you fear?



অনেক বিজ্ঞানী বা গবেষকই বিশ্বাস করেন সুপারন্যাচারাল বা অতিপ্রাকৃতিক বিষয়সমূহে। অন্যদিকে অনেক বিজ্ঞানী একে স্রেফ অবিশ্বাস করেন। এর কারণ হতে পারে এই যে, সুপারন্যাচারালের অস্তিত্বের প্রমাণগুলো চাক্ষুস নয়। দেখা যায়, এসব ঘটনা খুব অল্পসংখ্যক মানুষের জীবনেই ঘটে। তবে আমার কথা হচ্ছে, ভৌতিক কিছু না ঘটলেও কিছু কিছু জায়গা কিন্তু আমাদের মনে ভীতির সৃষ্টি করে। যেমন গভীর রাতে কোনো ঝোপ-ঝাড়ে, জঙ্গলে, কিংবা বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত কোনো বাড়িতে ঢুকতে গেলে স্বভাবতঃই আমরা ভয় পাবো। কিছু না ঘটলেও আমাদের মনে ভয়-ভীতি কাজ করবেই। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন?

আমি নিজেকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি আমি কেন ভয় পাই। বরং "ভয়" নিয়ে চিন্তা করার সময় হঠাৎই জবাব পেয়ে গেছি কেন আমরা ভয় পাই। আমরা ভয় পাই এর আসল কারণ হচ্ছে আমাদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

আমার মতে, ভয় হচ্ছে ভাইরাসের মতো। এটি ছোঁয়াচে। খুব শক্তিশালী মনের অধিকারী না হলে যে কারো মধ্যেই যে কোনো স্থান (পুকুর, বাড়ি কিংবা কোনো আস্তানা) সম্পর্কে ভৌতিক কাহিনী শুনিয়ে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া সম্ভব। তাৎক্ষণিকভাবে তার মধ্যে ভীতি সঞ্চার হওয়ার কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলেও সেই ব্যক্তিটির মনের মধ্যে কোথাও না কোথাও ভয়টা লুকিয়ে থাকবেই, যেটা সময়মতো আক্রমণ করে মনকে কাবু করে দিবে; তথা ভয় ধরিয়ে দেবে।

উদাহরণ দিচ্ছি, ধরুন আমরা বেশিরভাগ মানুষই অন্ধকারকে ভয় পাই। পুরনো বাড়ি, কবরস্থান, বাঁশ-ঝাড় ইত্যাদি আমাদের অনেকের মনেই ভয়ের সৃষ্টি করে। প্রশ্ন হচ্ছে কেন? আমার মতে, এর কারণ আমরা ছোটবেলা থেকে এ পর্যন্ত অনেক ভাবে জেনে এসেছি যে এসব জায়গা ভূতের আস্তানা হয়। হতে পারে সেটা কোনো গল্প বা মুভি যা আমাদের মধ্যে ভয় নামক ভাইরাসটি ঢুকিয়ে দিয়েছে। ভেবে দেখুন, একটা মানুষ যদি ছোটবেলা থেকে কখনোই এ জাতীয় গল্প বা মুভি না দেখে, তাহলে কি সে একটা পরিত্যক্ত বাড়িতে রাতের অন্ধকারে যেতে ভয় পাবে? আমার মনে হয় না সে ভয় পাবে।

উইকিপিডিয়া ঘেঁটে দেখলাম ভয়ের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, People develop specific fears as a result of learning. অর্থাৎ, মানুষ ভয় পেতে শিখে। সাঁতার না জেনে পানিতে পড়লে পানি সম্পর্কে একটা ভয় সৃষ্টি হবেই। কিন্তু ভৌতিক বিষয়ে ভীতিটা একটু অন্যরকম। এটা কেবল গল্প বা ছবির মাধ্যমে জানলেই যথেষ্ট। নিজে ভূতের সামনে পড়া লাগে না। এভাবেই আমরা সাহিত্য বা সংস্কৃতির মাধ্যমে ভয় পেতে শিখে এসেছি।

অতএব, আপনি ভয় পান কারণ আপনি ভয় পেতে শিখেছেন। আপনি হয়তো নিজের ইচ্ছেয় শিখেন নি, কিন্তু আপনাকে বিভিন্ন গল্প ও ছবির মাধ্যমে শিখানো হয়েছে। আর এ জন্যই ভয় নামক অনুভূতিটি আপনার মধ্যে কাজ করে।


অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে ডিসকভারির এ হন্টিং দেখতে পারেন যেখানে বাস্তব ঘটনাকে রিকন্সট্রাকশন করে দেখানো হয়। ডিসকভারি বাংলায় সম্প্রচারিত হয় বলে অনেকেই দেখে ঘটনা বুঝতে পারবেন। তবে রাতে দেখা থেকে বিরত থাকবেন (যদিও প্রোগ্রামটি রাতেই দেখায়, পুনঃপ্রচার হয় দুপুরের দিকে)।



যারা ভাবছেন হঠাৎ করে ভয়ের কারণ নিয়ে গবেষণা শুরু করলাম কেন, তারা পরবর্তী পোস্টটি পড়ুন ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29425162 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29425162 2011-08-04 00:16:11
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (শেষ পর্ব)

(পর্ব ১২ )

শেষ পর্ব হওয়ায় এই পর্বের দৈর্ঘ্য স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বড়। একবারে শেষ করতে না পারলে অনুগ্রহপূর্বক খণ্ড খণ্ড করে তিনবারে পর্বটি পড়ুন। ধন্যবাদ।

২৮
আজ রাতটা যেন সাইফের আর কাটতেই চায় না।
এমনিতে সাইফ অনেক কষ্টে অন্য কিছুতে মনোযোগ বসিয়ে রাত পার করে দেয়। কোনো রাতেই সে ঘুমায় না, কিংবা ঘুমাতে পারে না। কেবল ভোরের দিকে কিছুটা তন্দ্রামতো আসে। কিন্তু সেই সময়টুকু পর্যন্ত কোনোরকমে কাটিয়ে দেয় সাইফ। কখনো শুয়ে শুয়ে উপরে ঘূর্ণায়মান ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকে। কখনো লাইট নিভিয়ে অন্ধকারেই চোখ খুলে বসে থাকে। কিন্তু যখন যেভাবেই থাকুক না কেন, ওর মন সব সময় কেবল একটা কথাই ভাবতে থাকে, সিমির কথা।

মাঝে মাঝে সাইফের অবাক লাগে। মনের কি বিরক্ত লাগে না? মানুষের মন আসলে সবচেয়ে রহস্যময় জিনিস। তার আশেপাশে কত ছেলেমেয়ে আছে যারা একের পর এক রিলেশনে গড়ছে আর ভাঙ্গছে। ওদের কাছে এটা যেন সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মতো ঘটনা। সাইফ কেন সে রকম হতে পারলো না কে জানে। হয়তো কাউকে সত্যি সত্যি ভালোবাসলে এমন হওয়া যায় না। হয়তো এই ছেলেমেয়েগুলোও যেদিন কাউকে মন থেকে ভালোবাসবে, তখন সত্যিই সিরিয়াস হয়ে যাবে। তখন আর সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলে এতো কেয়ারলেস থাকতে পারবে না।

মাঝে মাঝে সাইফের নিজেকে মনে হয় মানসিক রোগী। এটা ভাবতে তার খারাপ লাগে না। সে আসলে বিশ্বাসই করে যে সে মানসিক রোগী। নাহলে যে চলে গেছে তার স্মৃতি আঁকড়ে রাখবে কেন? তার চেয়ে বড় কথা, তার স্মৃতি আঁকড়ে থাকার মধ্যেই মানসিক আনন্দ খুঁজে পাবে কেন?

সাইফ হয়তো কোনোদিন সিমিকে বোঝাতেই পারেনি সিমি তার কাছে কতোটা মূল্যবান, কতোটা বেশি আপন। মানুষের সব রকম প্রতিক্রিয়া সাধারণত আপন মানুষের উপরই পড়ে এই সত্যটা হয়তো সিমি বুঝতে পারেনি বা মেনে নিতে পারেনি। সাইফের ব্যক্তিগত যেসব কষ্ট রয়েছে, সেসব কষ্ট সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলেই যে ও বেশ রূঢ় ব্যবহার করে ফেলত, আর সেটা যে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ছিল, তা যেন সৃষ্টিকর্তা জেনেও ইচ্ছে করে সিমির কাছে গোপন করে গেছেন। সিমির সঙ্গে বলা প্রতিটি রুড কথার জন্য সাইফ নিজেকে কতোবার ধিক্কার দিয়েছে তা বুঝি সৃষ্টিকর্তা একাই উপভোগ করেছেন। কে জানে, হয়তো প্রথমদিন সিমির হাত ধরে সাইফ মনে মনে যে স্রষ্টার কাছে বলেছিল যে, এই সিমিকে সবসময় সুখী রাখাই হবে তার জীবনের অন্যতম একটা উদ্দেশ্য, তখন বুঝি সৃষ্টিকর্তা অট্টহাসি দিয়েছিলেন। তিনি নিশ্চয়ই হাসির ফাঁকে আপনমনে বলেছেন, ‘রাখিস সুখী! দেখবো কতোটা সুখী রাখতে পারিস! আগে তো নিজে সুখী থাকবি, নাকি!’

সাইফের জীবনে কখনোই সুখ ছিল না। হাসি-আনন্দ এসব ওর ভাগ্যে লেখা ছিল না কোনোদিনই। কিন্তু তবুও সাইফ জীবনের অল্প ক’টা দিন সুখী ছিল। সব অভাববোধ দূর হয়ে গিয়েছিল কেবল সিমিকে পাওয়ার কারণে। নিজের জীবনের অর্থ খুঁজে বেড়ানো সাইফ ভেবে নিয়েছিল, সিমি আমাকে ভালোবাসে, আমিও সিমিকে ভালোবাসি, সিমি সুখী থাকলে আমিও সুখী থাকি, অতএব আমার দায়িত্ব হবে সবসময় ওকে সুখী রাখা।

পরে অবশ্য সাইফের মনে হয়েছে, ওর ভাগ্যে তো সুখ লেখাই ছিল না। তাহলে সিমিকে সে পাবে কেন? যদিও সে তার চেষ্টার ত্রুটি করেনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সব ভাগ্যেই লেখা ছিল। নইলে রিলেশন কতোবার ভাঙ্গে আবার জোড়া লাগে। এমনকি যেসব রিলেশন শেষ পর্যন্ত টিকে গেছে, সেগুলোও কয়েকবার কোনো না কোনো কারণে ভেঙ্গেছিল। কিন্তু সাইফের বেলায় এসেই সব পাল্টে গেল।

এটা ছিল সাইফের জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট। তাকে বেস্ট ফ্রেন্ড বলে দাবি করতো সিমি। সেই বেস্ট ফ্রেন্ড তার কাছে একটা সুযোগ পেলো না। সাইফ তাকে অনেক ভালোবাসতো। এমনকি সাইফ যতদূর বুঝতে পেরেছে সিমিও তাকে এখনো ভালোবাসে। কিন্তু ও আরেকবার কষ্ট পাওয়ার ভয়ে সাইফকে আর কাছে টানতে চায় না। সাইফ যতোই বলল, যতোই বুঝালো, সিমি কোনো কথাই শুনলো না। সাইফ যদি কোনোদিন সিমিকে এতটুকুই সুখী করতে পারে তাহলে সেই সময়টুকুর দোহাই দিয়ে ওর কাছে জীবনে মাত্র একবার সুযোগ চাইলো। সাইফ তাকে বলল সেদিন রাতে তার ভুল বুঝতে পারার কথা। সাইফ তাকে বলল যে এর আগের সমস্যার পর থেকে তো ও আর তেমন কিছুই করেনি, সব ঠিক করে নিয়েও কেন আবার ইচ্ছে করে ভেঙ্গে দেয়া? সিমির উত্তর ছিল, সাইফ আবারও আগের মতো হয়ে যেতে পারে। ওর এই ভুল ধারণা একটা সুন্দর স্বপ্নকে জ্বলে পুড়ে যাওয়ার ইন্ধন জোগালো। সাইফ অনেক অনুনয় বিনয় করলো। নিজের অজান্তেই কাঁদলো। সিমিকে ছাড়া সে কিছু ভাবতে পারে না। সে জীবনে অন্তত একবার সুযোগ চাইলো। কিন্তু প্রতিবারই তার হাতটা খালিই ফিরিয়ে দিলো সিমি।

অবশেষে সাইফ জানিয়ে দিলো, সে আজীবন সিমিকেই ভালোবাসবে। সিমি হয়তো কোনোদিন তার কাছে আর ফিরে আসবে না। না আসুক। সাইফ তাকে যতোটা গভীরভাবে ভালোবেসেছে, এতে সিমিকে ছাড়া অন্য কাউকে কাছে টানা তার পক্ষে অসম্ভব। কথায় বলে, সময় সব সারিয়ে দেয়। কিন্তু সাইফ নিজেকে চেনে, সময় সারালে ও সেটা বুঝতে পারতো। সিমিকে যে সময় ‘সারিয়ে’ দেবে না, সেটা সে ভালো করেই জানে। তাই সে সিদ্ধান্ত নিলো, সিমির সঙ্গে সে আর যোগাযোগ রাখবে না। বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার যন্ত্রণা অনেক গভীর। সে মনে প্রাণে ভালোবাসবে সিমিকে। সবসময় সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করবে সিমি যেন সুখে থাকে। আর যদি কোনোদিন সে ফিরে আসে, সেটা যতদিন পরেই হোক বা যে অবস্থাতেই হোক না কেন, সিমিকে নিজের বুকে টেনে নিবে সাইফ।

সাইফ আর সিমির এই অদৃশ্য বন্ধনের মধ্যে সিনথিয়াকে নিয়ে ভাবার কোনো অবকাশ রইলো না।







২৯
সাইফ আজ কলেজে এসেছে ঠিকই, কিন্তু সাথে বইপত্র কিছুই আনেনি। একেবারে খালি হাতে এসেছে। ওর কলেজে আসার উদ্দেশ্যই সিনথিয়ার সঙ্গে কথা বলা। ফোনে জেনেছে, সিনথিয়ার আজই কলেজে শেষ দিন। যা জানানোর আজই জানাতে হবে সাইফকে। আর যা জানানোর তা সামনা-সামনি জানতে চায় সিনথিয়া।

কিন্তু সকাল থেকেই সাইফকে কলেজে অনুপস্থিত দেখে বেশ ভেঙ্গে পড়েছিল সিনথিয়া। এই অনুপস্থিতিকে ‘না’ ধরে নিল। অবশেষে কলেজ ছুটির কিছুক্ষণ আগে কোত্থেকে যেন এসে হাজির হলো সাইফ।

ক্লাসমেটরা কিছুক্ষণ ‘হাই, ক্লাসে আসোনি কেন, কী অবস্থা’ ইত্যাদি বলে তারপর চলে গেল যার যার বাসার দিকে। মাঠের পাশে তখন কেবল সাইফ আর সিনথিয়া। বরাবরের মতোই একটা দল তখন মাঠে ফুটবলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিনথিয়ার নিশ্চুপ জিজ্ঞাসু দৃষ্টি সাইফের চোখ এড়ালো না। সাইফের একটু একটু খারাপ লাগছিল না এমনটা না। কিন্তু সে সিনথিয়ার সঙ্গে প্রতারণা করতে চায় না। আজ ভালোয় ভালোয় সব মেনে নিয়ে মাস তিনেক পরে সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলার চেয়ে যা হবার প্রথমবারই হয়ে যাওয়া ভালো মনে করে সাইফ। তাই সেও দূরে মাঠের অপর প্রান্তের দিকে তাকিয়ে বলে দিলো, ‘আমি সিমিকেই ভালোবাসি, সিনথি।’

দীর্ঘশ্বাস ফেলল সিনথিয়া। সেইসঙ্গে কিছুটা রাগও যেন ঝড়লো, ‘একটা মেয়ে, যে চলে গেছে, তাকে ধরে রাখার কী আছে আমাকে বোঝাও তো সাইফ?’
‘বোঝাতে পারবো না। কিছু কিছু ব্যাপার বুঝতে হলে ঠিক ঐ ধরনের অবস্থায় থাকতে হয়। আর ঠিক আমার অবস্থায় তুমি কোনোদিনই আসতে পারবে না।’
‘কেন পারবো না? আমার তো মনে হয় অলরেডি এসেই পড়েছি। কেবল আমাদের মাঝে খোলাখুলি সম্পর্কটা হয়নি। এতটুকুই তো, তাই না?’
সাইফ কিছু বলল না। সিনথিয়া সমান তেজে বলে চলল, ‘সিমি কোনোদিনই তোমার লাইফে আর আসবে না। অন্তত আমার মনে হয় না ও আসবে।’
‘না আসলে আমি আর কী করতে পারবো? ও আসবে না বলে আমি তো আর জোর করে আমার ভালোবাসা ডুবিয়ে দিতে পারবো না তাই না?’
সাইফের দিকে তাকিয়ে রইলো সিনথিয়া। সাইফ সিমিকে ফিরিয়ে আনতে যেমন মরিয়া হয়েছিল, আজ সিনথিয়াও যেন সাইফকে পেতে তেমনই মরিয়া। সে বলল, ‘দেখো সাইফ, বাস্তবতা বুঝতে শেখো। যে যাবার সে চলে গেছে। সিমি তোমাকে এখনো ভালোবাসলে ও তোমাকে ছেড়ে এতোদিন থাকতে পারতো না। তুমি না হয় বাধ্য হয়ে থাকছো, সিমি তো বাধ্য নয়। তাহলে ও থাকছে কী করে?’

সাইফ জবাব দিলো না। হয়তো সিমি তাকে ছাড়া আসলেই শান্তিতে আছে। সারাক্ষণ কাউকে জানাতে হচ্ছে না সে কী করছে, ঠিকমতো খাচ্ছে কি না, ঘুমোচ্ছে কি না। আসলে সিমি কেমন আছে, তা সিমিই জানে। সাইফ এ বিষয়ে আর কিছু আন্দাজ করতে পারে না।

সিনথিয়া বলতে থাকলো, ‘কে জানে হয়তো সিমি অলরেডি কোনো ফ্রেন্ড পেয়ে গেছে, যার সঙ্গে সে তার সবকিছু শেয়ার করছে। দেখা যাবে একসময় তার সঙ্গে সিমির রিলেশন হবে। সিমি হ্যাজ মুভড অন, সাইফ। তোমাকেও বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।’
রিলেশনে মুভ অন কথাটা শুনলেই যেন অনেকটা গা জ্বলে উঠে সাইফের। কিন্তু আজ কিছু বললো না। হয়তো সত্যিই এগিয়ে গেছে সিমি, কিংবা দ্রুতই সাইফকে পেছনে ফেলে নিজের জীবন নিয়ে এগিয়ে যাবে। পারবে না কেবল সাইফ। অন্য কোনো মেয়ে হলে হয়তো পারতো। ইন ফ্যাক্ট, পেরেছিলও। কিন্তু সিমির ব্যাপার সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে সাইফ অসহায়। সে সিমিকে কোনোদিনই ভুলতে পারবে না।
সিনথিয়া বলে চলল, ‘সাইফ কতদিন অপেক্ষা করতে পারবে তুমি সিমির জন্য? আরও ৬ মাস? এক বছর? দুই বছর? তারপর তো কাউকে না কাউকে কাছে টানবেই ঠিক না? আমারই ভাগ্য খারাপ। আমি বেশি আগে চলে এসেছি তোমার কাছে।’

সাইফ স্থির কণ্ঠে বলল, ‘আমি আগেই বলেছি সিনথি, আমি সিমির জন্য সারাজীবনই অপেক্ষা করে থাকবো। ও যদি কোনোদিন আসে তো আসবে। সেটা দশ বছর হোক বা পনেরো বছরই হোক কিংবা তার বেশি হোক। সিমির জন্য অপেক্ষা করতে আমার কোনো কষ্ট নেই। আশাভঙ্গের কষ্ট সহ্য করার চেয়ে আশা করতে করতে মরে যাওয়াও আমার জন্য ভালো।’
‘আর যখন সিমির বিয়ে হয়ে যাবে?’ সাইফের দিকে সরাসরি তাকালো সিনথিয়া। সাইফ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর ধীরেসুস্থে বললো, ‘ওর হাজব্যান্ডের সঙ্গে ও সুখী হোক আমি এটাই চাই। কিন্তু যদি বাই এনি চান্স ও সুখী না হয়, যদি কখনো ও আমার অভাব ফিল করে, ও তো আসতেও পারে। তাই না?’

সিনথিয়া যেন আকাশ থেকে পড়লো। এতক্ষণে বুঝলো সাইফের সঙ্গে তর্ক করা বৃথা। সে এতোদিন সাইফের কাছ থেকে সিমির সম্পর্কে সব শুনেছে কেবল তার নিজের কৌতুহলের জন্যই নয়, বরং সাইফকেও হালকা করার জন্য। যাতে কাউকে কিছু বলে সাইফ নিজের কষ্ট কিছুটা হালকা করতে পারে। কিন্তু এ যে এক অন্য সাইফকে দেখছে সে। যে কি না টোটালি আউট অফ মাইন্ড!

সিনথিয়া আর কথা বাড়ালো না। বুঝলো, ওর যাবার সময় হয়ে এসেছে। এখান থেকে চলে গেলে সাইফের সঙ্গে ওর হয়তো আর কোনোদিন কথা হবে না। সাইফের সঙ্গে নেটে যোগাযোগ নেই সিনথিয়ার। সিনথিয়া চেয়েছিল সাইফই ওর কাছে ওর ইমেইল বা আইডি জানতে চাইবে। কিন্তু সাইফ কখনো জানতে চায়নি, সিনথিয়াও রাগ করে দেয়নি। তাই ওদের যোগাযোগের হয়তো এখানেই ইতি।

সাইফকে প্রায় ফিসফিস করে বলল সিনথিয়া, ‘ঠিক আছে। আমি চলে যাচ্ছি। তুমি ভালো থেকো। আর যদি কখনো সিমি ফিরে আসে, তাহলে সেই সময়ের কথা ভেবে তোমাদের দু’জনের জন্য অগ্রিম শুভ কামনা রইলো।’
সাইফ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলো। দূরে ফুটবল খেলা জমে উঠেছে।

সিনথিয়া ঘুরে হাঁটতে শুরু করলো। আস্তে আস্তে সাইফ আর সিনথিয়ার দূরত্ব বাড়তে থাকলো। সেইসঙ্গে বাড়তে থাকলো আকাশের কালো মেঘ। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যেন বৃষ্টি নামলো। খুশি হলো মাঠে খেলতে থাকা ছেলেগুলো। খুশি হলো সাইফ, খুশি হলো সিনথিয়া। তাদের চোখের পানিগুলো বৃষ্টির আড়ালে ঢাকা পড়বে বলে।

সিনথিয়া হাঁটছে। তার খুব মন খারাপ লাগছে। শেষবারের মতো পেছনে ফিরে তাকাতে খুব ইচ্ছে করছে। সেই ইচ্ছেটাকে জোর করে আটকে রেখেছে সে। মাটির দিকে তাকিয়ে আনমনেই বিড়বিড় করে বলে উঠলো, ‘আই লাভ ইউ, সাইফ।’

আর কিছুদূর পেছনে সাইফও বৃষ্টিতে ভিজছে। কোনোকিছুরই পরোয়া নেই এমনভাবে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালো সাইফ। মনের অজান্তেই নাকি ইচ্ছে করেই সাইফের মুখ থেকেও বেরিয়ে এলো মনের কথা, ‘আই লাভ ইউ, সিমি।’

বৃষ্টির মাঝে তাদের চোখের পানিগুলোকে আলাদা করে চিনতে পারলো না কেউই। এভাবেই বুঝি প্রকৃতি মানুষের যার যার কষ্ট অন্যদের কাছ থেকে আড়াল করে রাখে।









৩০
চুপচাপ বসে রইলো ছেলেটি কিছুক্ষণ। কখন কাঁদতে শুরু করেছে সে নিজেও টের পায়নি। টেবিলে রাখা কাগজ ভিজে যাওয়ায় টের পেলো। কাঁদার সময় অজান্তেই চোখ বন্ধ হয়ে যায় তার। এতে চোখের পানিগুলো তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়। চোখের পানি তাড়াতাড়ি বের করে দিয়ে অবশ্য কষ্টগুলোকেও ঝেঁটিয়ে বিদায় করা যায় না। কিন্তু কিছুটা শান্ত থাকা যায়। মেঘ যেমন অনেক পানি জমলে বৃষ্টি ঝড়িয়ে নিজেকে হালকা করে নেয়, মানুষও যেন অনেকটা তেমনই।

টেবিলে ছড়িয়ে থাকা কাগজগুলোর প্রথম পৃষ্ঠাটা খুঁজে বের করলো সে। এবার খুব মনোযোগের সঙ্গে পুরোটা লেখা আবার পড়তে শুরু করলো। কলমটার কালি প্রায় শেষ হয়ে আসছে। আরেকটা কলম বের করে নিল। পুরোটা লেখা জুড়ে যতগুলো সাইফ আর সিমি লেখা আছে, সবগুলো একটা একটা করে কেটে নিজের নাম আর নিজের ভালোবাসার মানুষটার নাম বসালো সে। এতোদিন নামগুলো বদলে রেখেছিল, যেন কারো হাতে পড়লে হঠাৎ করে কেউ বুঝতে না পারে। এবার আসল নামগুলো বসিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লো সে। কখনো সিমির কথা পড়ে হাসলো। কখনো চোখের পানি শুকানোর জন্য পড়া থামিয়ে সময় নিল।

পুরোটা লেখা পড়া শেষ হওয়ার পর স্ট্যাপলার দিয়ে পিন আপ করলো সবগুলো। রাত এখন প্রায় সাড়ে তিনটা। রান্নাঘর থেকে ম্যাচের বাক্সটা এনে রাখতে ভুল করেনি ছেলেটা। কাগজগুলো তুলে ধরে এক কোণে আগুন ধরিয়ে দিলো সে। আগুন নিজের ইচ্ছেমতো গিলে খেলো সবগুলো কাগজ। পাশে রাখা বিনে সেটা ফেলল সে। পুরো কাগজটা পুড়ে কেবল স্ট্যাপলারের পিনটা অক্ষত রইলো। ছেলেটা আগে থেকে গুণে রাখেনি, তাহলে সে জানতো ঐ বিনে এমন আরও ছয়টা অক্ষত পিন রয়েছে।

কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলো ছেলেটা। তার ভালোবাসার মেয়েটার অনেক কথাই মনে পড়ছে তার। সেসব কথা বলার মতো কেউ নেই তার। কারো সঙ্গে কোনোদিনই সে ভালোমতো মিশতে পারেনি। আর মেয়েদের সঙ্গে মেশার তো প্রশ্নই আসে না। আগে যাই মিশতো, এখন যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলে। কারণ, প্রত্যেকটা মেয়ে ওকে ওর ভালোবাসার মানুষটার কথা অনেক বেশি মনে করিয়ে দেয়। সে তাকে ভুলে থাকতে চায় এমনটা না, কিন্তু তবুও সে কষ্ট পেতে চায় না। সে কেবল এক বুক আশা আর ভালোবাসা নিয়ে অপেক্ষা করে।

কিন্তু মানুষকে কারো সঙ্গে মনের কথা ভাগাভাগি করে নিতেই হয়। ছেলেটি ভাগাভাগি করে নেয় নিজের সঙ্গে। আর এখানে সঙ্গী হিসেবে থাকে কলম আর একগুচ্ছ কাগজ। প্রতিবার কল্পনায় কাউকে বন্ধু হিসেবে ধরে নেয়, নিজের মতো করে সাজায় ঘটনাক্রম। এরপর তার ভালোবাসার মানুষ ও তার নিজের সুখময় স্মৃতি ও কষ্টময় ইতির কথাগুলো লিখতে থাকে। নিজের আনন্দ নিজেই তৈরি করে নেয়, আর কষ্ট তো সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে তার জন্য দেয়াই আছে।

আজ রাতে আর নতুন করে শুরু করতে ইচ্ছে করছে না। তাই কাগজগুলো গুছিয়ে রেখে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো ছেলেটা। ভাবতে থাকলো তার সুখী সময়গুলোর কথা। তার জীবনে সেই মেয়েটা আসার আগ পর্যন্ত নিজের জীবনে বড় কিছু হওয়ার প্রত্যাশা তার প্রায় ছিলই না। ও আসার পরই নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ও। প্রথম স্বপ্ন হয় মেয়েটার সঙ্গে সুখী সংসার গড়ে তোলা। তারপর নিজের পায়ে দাঁড়ানো। বড় কিছু একটা করার। আর ও চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলোও নিয়ে গেছে।

হতাশাগ্রস্থ কোনো মানুষের জীবনে হয়তো একটা মেয়ে ও তার ভালোবাসাই জাগিয়ে তুলতে পারে। বোধহয় এ জন্য বলা হয়, প্রতিটা সফল মানুষের পেছনেই একজন মেয়ে থাকে। বাস্তবে প্রতিটা সফল মানুষের পেছনে না থাকলেও বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এটা হয়। আর ও তেমনটাই আশা করেছিল। কিন্তু জীবন তাকে রেহাই দিল না।

শুয়ে শুয়ে ছেলেটা কল্পনা করলো একটা নিজস্ব দুনিয়া। ছোট্ট একটা ঘর। সামনে সুন্দর একটা বাগান। সেই বাগানে ফুটে রয়েছে নানান ফুল। তার ভালোবাসার মেয়েটা সেই বাগানে ফুলগুলো দেখছে আর ধীরপায়ে হাঁটছে। ছেলেটা তার পেছন পেছন হাঁটছে। মেয়েটার সঙ্গে দু’টো প্রজাপতিও উড়ছে। তাদের আসল আকর্ষণ ফুল হলেও ছেলেটার মনে হচ্ছে মেয়েটাই তাদের প্রধান আকর্ষণ। মেয়েটার বিছানার কোলবালিশের প্রতি ছেলেটার যেমন জেলাস, ঠিক তেমনি জেলাস হলো প্রজাপতি দু’টোর প্রতি। কিছুক্ষণ দৌড়ে প্রজাপতিগুলোতে যতটা সম্ভব দূর-দূর করে তাড়িয়ে দিয়ে এলো সে। তার এই পাগলামী আর ছেলেমানুষী দেখে মেয়েটা হাসতে থাকলো। এই একটা দৃশ্য দেখার জন্য ছেলেটা কতো কিছুই না করে।

বিভোর হয়ে সে তাকিয়ে থাকলো মেয়েটার হাসিমাখা মুখটার দিকে। স্বভাবমতো মেয়েটার গালে হাত রাখলো সে। মেয়েটাও যেন লজ্জায় হাসি ভেতরে নিয়ে গেল। এখন কেবল তার ঠোঁটগুলো হাসছে। এবার ছেলেটার মুখেও হাসি দেখা দিল। মেয়েটা নিজেই এগিয়ে এসে ছেলেটার বুকে মাথা রাখলো। যেন ছেলেটার মনের কথা মুখ দিয়ে বের হওয়া পর্যন্ত আর সহ্য হচ্ছে না, কান পেতে নিজেই মনের কথা শুনে নিবে। ছেলেটাও তার মাথায় হাত বুলাতে থাকলো।

কিন্তু কল্পনার দুনিয়া থেকে বের হয়ে বাস্তবে আসতেই দেখা গেল, ছেলেটার এ আনন্দ বাস্তবে আসলে এক বেদনা। কান্না থামানোর চেষ্টা না করেই সে আপন মনে বলে উঠলো, ‘আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। তুমি সারাজীবনই আমার একমাত্র পরী হয়ে থাকবে। শুধু একটাই অনুরোধ তোমার প্রতি, যতদিন পরেই হোক, যে অবস্থায়ই হোক, তুমি আমার কাছে ফিরে এসো। আমি সবসময় অপেক্ষা করে থাকবো একবুক ভালোবাসা জিইয়ে রেখে। এ ভালোবাসা কোনোদিন মরবে না। এ ভালোবাসা কোনোদিন তোমাকে আর কাঁদাবে না। কোনোদিন কষ্ট দেবে না। এ ভালোবাসা কেবল তোমাকে সুখীই করবে।’

It’s been so long
That I haven’t seen your face
I’m trynna be strong
But the strength I have is washing away
Won’t be long before I get you by my side
And just hold you, tease you, squeeze you tell you
What’s been on my mind

I wanna make up right now na na
I wanna make up right now na na
Wish we never broke up right na na na
We need to link up right na na na

Girl I know mistake were made between us too
And we showed our eyes that night even said somethings weren’t true
Why’d you go and haven’t seen my girl since then
Why can it be the way it was
Cause you are my homie, lover, and friend

I wanna make up right now na na
I wanna make up right now na na
Wish we never broke up right na na na
We need to link up right na na na.




I can’t lie
I miss you much
Watching everyday that goes by
I miss you much
Tell I get you back I m gonna cry
I miss you much
Cause you are the apple of my eye
Girls I miss you much
I miss you much
I can’t lie
I miss you much
Watching everyday that goes by
I miss you much
Tell I get you back I m gonna cry
I miss you much
Cause you are the apple of my eye
I miss you much
I miss you much

I wanna make up right now na na
I wanna make up right now na na
Wish we never broke up right na na na
We need to link up right na na na


[ সমাপ্ত...............? ]


(গানটির এমপিথ্রি ডাউনলোড লিংক )


(প্রথম প্রকাশ )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29421173 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29421173 2011-07-28 00:06:32
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ১২)


(পর্ব ১১ )

২৫
আজও কলেজ প্রায় ফাঁকা। সকাল থেকে এক নাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসতে পারেনি। সেই সুযোগে যাদের বাসা কাছেই তারাও ফাঁকি দিতে মিস করেনি। কিন্তু সাইফ আজ ঠিকই এসেছে। সে অনেক ভালো ছাত্র তাই বলে নয়, সে যখন বেরিয়েছে তখন বৃষ্টি থেমেছিল। তাই ইচ্ছে থাকলেও কলেজে যাওয়া বাদ দিতে পারেনি।

কলেজে এসে দেখে তার ক্লাসরুমে মাত্র দশজন আছে। তাদের মধ্যে অনিকও ছিল। অনিক ছেলেটা বেশ প্রাণচঞ্চল। শারমিন নামের একটা মেয়ের সঙ্গে ওর রিলেশন আছে আজ প্রায় তিন বছরেরও বেশি হয়েছে। এতো দীর্ঘ সময় রিলেশন ধরে রাখা কঠিন। ওদের মাঝে অনেকবার ব্রেকআপ হওয়ার কথা শুনেছে সাইফ। কিন্তু প্রতিবারই সব ঠিক করে নেয় অনিক। ব্যক্তিগতভাবে অনিক খুব ফাস্ট। কথা দিয়ে মানুষকে ভোলাতে তার এক মিনিট সময়ও লাগে না। বিশেষ করে মার্কেটিং-এর কাজে ওকে লাগালে ও বেশ ভালো করতে পারবে বলে সাইফের বিশ্বাস। এসব মানুষই হয়তো রিলেশন টিকিয়ে রাখতে পারে। রিলেশন টিকিয়ে রাখতে কেবল ভালোবাসা আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশই যথেষ্ট না। ভুলিয়ে-ভালিয়েও রাখতে হয়, যেটাকে শুদ্ধ বাংলায় পটানো বলে!

আনমনেই হাসলো সাইফ। মাঝের দিকে একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলো। ওকে দেখেই অনিক আসলো। পাশে এসে বসে বলল, ‘তোমার কী হয়েছে বলো তো?’
‘কই কী হয়েছে?’
‘আমি যতদূর ধারণা করেছিলাম সিনথিয়ার সঙ্গে রিলেশন আছে বা হবে। কিন্তু তোমাদের ব্যাপারটা আমি ঠিক বুঝতেসি না। একটু বলো তো ঘটনা কী?’
‘ঘটনা কিছুই না। সিনথিয়ার সঙ্গে আমার কোনো রিলেশন নেই, হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। কারণ, আমি আরেকটা মেয়েকে পছন্দ করি। যদিও সেই মেয়েটা আমাকে আর পছন্দ করে না।’
অন্য দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকালো অনিক, ‘হুম, আর পছন্দ করে না। মানে একসময় করতো। কী হয়েছিল?’
‘সে অনেক কথা।’
‘শর্টকাট বলো।’
‘শর্টকাটে বলা যাবে না। কারণ, কী হয়েছিল তা আমি নিজেও জানি না। হয়তো দুই ধরনের লাইফস্টাইল থেকে আসা, দুই ধরনের পরিবার থেকে আসা দুইটা মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে মিল কখনোই হয় না।’

অনিক বেশ চালাক ছেলে। ও সবটা না বুঝলেও এতটুকু কথা থেকেই অনেক কিছু বুঝে নিল। বলল, ‘দোস্ত, যা গেছে তো গেছে। এটা নিয়ে এতো মন খারাপের কী আছে? আমাদের সবার লাইফেই এমন হয়। গেট ইউজড টু ইট। তোমার লাইফেও দেখবে আরও অনেক মেয়ে আসবে, যাবে। ইভেন এখনই দেখো সিনথিয়া তোমার লাইফের অনেক কাছাকাছিই আছে। আমার তো পুরো বিশ্বাস তুমি সিনথিয়াকে সুন্দর দেখে একটা সময়ে প্রোপোজ করলে ও একবাক্যে রাজি হয়ে যাবে।’
সাইফ কেবল মাথা নাড়লো। সিনথিয়ার প্রোপোজ করার কথাটা বললো না অনিককে। ‘হয়তো আসবে, কিন্তু আমি আর কাউকে আপন করে নিবো না, কিংবা নিতে পারবো না।’
‘না পারার কী আছে?’
‘তুমি বুঝবে না। আর তোমাকে বোঝানো সম্ভবও নয়। এই পুরো ব্যাপারটাই একটু ভিন্ন। তাই বাদ দেও।’
অনিক বুঝলো আর কিছু বলে লাভ হবে না। সে কেবল সাইফের কাঁধ চাপড়ে দিয়ে বলল, ‘থিংক অ্যাবাউট সিনথিয়া। ও বেশ ভালো একটা মেয়ে।’

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল সাইফ। অনিক উঠে সামনের দিকে চলে গেল। সাইফ তাকালো বাইরের দিকে। সিনথিয়াকে দেখতে পেলো। ছাতা বন্ধ করতে করতে বারান্দা দিয়ে দরজার দিকে এগোচ্ছে।

সিনথিয়া এসে সাইফের দিকে তাকিয়ে একবার হাত নাড়লো কেবল। আর কিছু বললো না। সাইফের একটু মনে হলো ওর কোনো কারণে মন খারাপ। কিন্তু এটা নিয়ে মাথা ঘামালো না বেশি। ক্লাস শুরু হচ্ছে, ক্লাসে মন দেয়ার চেষ্টা করলো।


২৬
টিফিনে ক্যান্টিন থেকে দু’বোতল কোক নিয়ে বারান্দার সেই বেঞ্চে বসলো সাইফ আর সিনথিয়া। উপস্থিতি কম তাই কোলাহলও নেই। বৃষ্টি থামার পর থেকেই কী একটা পাখি যেন উপর থেকে এক নাগাড়ে ডেকে চলেছে। সাইফ অনেকক্ষণ ধরেই পাখিটাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। আর সিনথিয়া খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে কী বলে সাইফের সঙ্গে কথা বলা শুরু করবে।

‘সিমির কথা তোমার অনেক মনে পড়ে তাই না?’ অবশেষে বলল সিনথিয়া।
‘ওর কথা আমার মনে পড়ে না, মনেই থাকে সবসময়,’ অনেকটা দায়সারা ভঙ্গিতে জবাব দিলো সাইফ।
‘ও তোমাকে কেন ছেড়ে গেল? আই মিন, সমস্যা তো হয়ই। এটা সহ্য না করার মতো রিলেশন তো তোমাদেরটা ছিল না।’
‘জানি না। ওর আর আমার ব্যাকগ্রাউন্ড হচ্ছে অনেকটা সাদা আর কালোর মতো। একটা থেকে আরেকটার পার্থক্য এতোটাই উজ্জ্বল আর ব্যতিক্রম।’
‘ব্যাকগ্রাউন্ড?’ সিনথিয়ার প্রশ্ন।
‘ওর কাছে মাঝে মাঝে অনেক কথা শুনতাম ওর ছোটবেলা সম্পর্কে। ওর ফ্যামিলিতেও প্রবলেম ছিল। কিন্তু ও যথেষ্ট ভালোও ছিল। যেমন ধরো ওর এমন স্মৃতি আছে যে ও অনেক ঘুরে বেড়িয়েছে। দেশের বাইরে বেরিয়েছে। একটা সময় ছিল যখন ও আশেপাশের বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে রাতদুপুরে ছাদে খোলা আকাশের নিচে বসে তারা দেখেছে। মজা করেছে। এমনকি কোথাও না গেলেও ওর আত্মীয়রা বাসায় আসলে গল্প করেছে, বাসার মানুষদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে। এগুলোর সবই একটা মানুষের লাইফে খুব সাধারণ কিছু ব্যাপার।’

সিনথিয়া চুপ করে রইলো। এগুলোর মধ্যে অনেক স্মৃতি তার জীবনেও আছে।
সাইফ বলতে থাকলো, ‘কিন্তু যখন আমার মতো কোনো ছেলের সঙ্গে তুলনা করবে, তখন এই সাধারণ ব্যাপারগুলোই হয়ে উঠবে যেন স্বর্গীয় আনন্দ। বন্ধুদের সঙ্গে ছাদে রাতে থাকার আনন্দ কী জিনিস আমি জানি না। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো কাকে বলে আমি জানি না। বাসায় আত্মীয়-স্বজনেরা আসবে, অনেক বন্ধু-বান্ধব থাকবে, মজা করবো, বাইরে যাবো, এসব কী জিনিস আমি জানি না। সবচেয়ে মজার ব্যাপার কী জানো? কোনোদিন জানবোও না। হয়তো একদিন আয় করবো অনেক। জীবনে উন্নতি আসবে। কিন্তু সেই বয়সটা তো আর আসবে না। ছোটবেলার এসব স্মৃতি যাদের আছে তাদের যেমন সারাজীবনই থাকবে, যাদের নেই তাদের তেমনি সারাজীবনই শূন্যই থাকবে।’

সিনথিয়া তখনও চুপ করে রইলো। সে নিজেও কখনো বিষয়গুলো এভাবে ভাবেনি। প্রথমবারের মতো নিজের জীবনকে নিয়ে নিজেকে সুখী মনে হলো তার। তার চেয়েও খারাপ অবস্থায়ও তো মানুষ থাকে।

‘সিমি আমার লাইফে আসার পর এর সবই আমি ভুলে গেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, জীবনে এসব হয়তো যে কোনো বড়লোকের সন্তানই পায়, কিন্তু লাইফে একজন সিমি সবার ভাগ্যে জোটে না। এই চিন্তাটা নিজে নিজেই আমার দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছিল। আমি সিমিকে এতোটাই ভালোবেসেছি যে আমি সারাজীবন ওকে এমনভাবেই আগলে রাখতাম যে কোন শীতকালে যদি দমকা হাওয়া আসে ওকে কাঁপিয়ে দিতে, তাহলে ওর আগে সেই হাওয়া আমার গায়ে লাগাতাম।’

সিনথিয়া তখনও চুপ। তবে ওর কেন যেন কান্না পাচ্ছে। ছবি দেখে মানুষ যেমন অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে উঠে, সাইফের মুখে ওর নিজের কথাগুলো শুনে সিনথিয়ার যেন অনেকটা তেমনই অনুভূতি হচ্ছে।

সাইফ উঠে দাঁড়ালো। টিফিন টাইম প্রায় শেষ। সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমি সিমিকে আজও অনেক অনেক ভালোবাসি, সিনথি। দে সে, টাইম হিলস এভরিথিং। বাট দে ডিডন’ট হ্যাভ এ লাইফ লাইক মাইন।’

কথাটা যেন গায়ে বিঁধলো সিনথিয়ার। ওর মনে হলো, ওকে যে সাইফ অ্যাক্সেপ্ট করছে না এটাই বুঝিয়ে দিয়ে গেল আরেকবার।


২৭
ছুটির পর সাইফকে নিচে গিয়ে দাঁড়াতে বলল সিনথিয়া। সিনথিয়া বইপত্র গোছগাছ করে ধীরেসুস্থে নিচে নেমে এলো। কীভাবে কী বলবে বোধহয় তাই মনে মনে ঠিক করে নিল। সাইফের পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বলল, ‘গতকাল আব্বু একটা কথা জানালো।’
‘কী কথা?’
‘আমি আর আব্বু আগামী সপ্তাহে আমেরিকা যাচ্ছি।’
‘হুম। কোনো কাজে? নাকি এমনি ঘুরতে?’
‘একেবারে।’
‘সরি?’ সাইফ যেন বুঝতে পারলো না।
‘আব্বু চায় আমি বাইরে লেখাপড়া করি। বাংলাদেশের এডুকেশন সিস্টেম আমার তো নাই আব্বুরও পছন্দ নয়। আমার তো অনেকদিন ধরেই ইচ্ছে ছিল যে বাংলাদেশ ছাড়বো। তুমিও তো বলতে বাংলাদেশ ছাড়তে পারলে ছাড়াই উচিৎ। এখন আব্বু ঠিক করেছে আমি আর আব্বু আমেরিকা চলে যাবো। আম্মু আর আপু হয়তো পরে আসবে।’

সাইফ মাথা ঝাঁকালো। কী বলবে বুঝতে পারছে না।
সিনথিয়া বলল, ‘তবে আমার কাছে অপশন আছে এটা ক্যানসেল করার। আই মিন, আমি যদি যেতে না চাই আমাকে জোর করা হবে না। পছন্দ আমার। আমি সবসময় বিদেশে লেখাপড়া করতে চাইলেও এই প্রথম আমার দেশ ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। কেন জানো সাইফ?’
‘কেন?’ সাইফ জিজ্ঞেস করলো।
‘কারণ, আমি তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি,’ অনেকটা যেন সকালের কথা ভুলে গেছে এমনভাবে বলল সিনথিয়া। ‘যদি তোমাকে পাওয়ার বিন্দুমাত্র আশা থাকে, আমি থেকে যাবো। আর যদি কোনোদিনই না পাই, তাহলে আমি চলে যাবো। তোমাকে আর বিরক্ত করবো না।’

সাইফ চুপ করে রইলো। এমন একটা ঝামেলায় পড়বে ভাবতে পারেনি।
সিনথিয়া বলল, ‘তুমি চিন্তা করে তাড়াতাড়ি আমাকে জানাও। তোমার ডিসিশনের উপরে আমার ফিউচার, সাইফ। আর আরেকটা কথা কি জানো? আই স্টিল লাভ ইউ।’

সিনথিয়া আর দাঁড়ালো না। কনফিউজড হয়ে যাওয়া সাইফকে পেছনে রেখে হেঁটে গেট দিয়ে বের হয়ে গেল সিনথিয়া। একবার পেছন ফিরে তাকালোও না।

আর এদিকে সাইফ তখন নতুন দোটানায়। বন্ধু হিসেবে সিনথিয়া সত্যিই ভালো। ওকে হারালে একটু খারাপ আর একাকী লাগবেই। কিন্তু তাই বলে ওকে নিজের লাইফে টানতেও পারছে না সে। সিমির জায়গা সে আর কাউকে দেবে না। হয়তো সিমি তার জায়গায় দ্রুতই অন্য কাউকে দিয়ে দেবে। কিন্তু তার ভালোবাসা ছিল অনেক বেশি গাঢ়, সে সিমির জায়গা আর কাউকে দেবে না।

কিন্তু তবুও তার মনে কনফিউশন রয়েই যায়।

(শেষ পর্ব )

প্রথম প্রকাশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29418800 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29418800 2011-07-24 01:08:30
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ১১)

(পর্ব ১০ )

২৩
সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। তবে আজ সাইফের কলেজ না যাওয়ার ছুতো বের করার সুযোগ নেই। কেননা, আজ শুক্রবার। বৃষ্টি হোক বা রোদ উঠুক, আজ সে বাসায়ই থাকবে। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সে শোয়া থেকে উঠেনি। প্রতিদিনের মতোই সেদিনও তেমন একটা ঘুম হয়নি রাতে। তাই সকালে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলো সাইফ। কিন্তু তার ঘুম আসলো না।

সিনথিয়ার কথা ভাবলো সাইফ। সিনথিয়া তাকে প্রোপোজ করেছিল। সে বেশ অবাক হয়েছিল সেদিন। এভাবে তাকে ভালোবেসে বসবে সিনথিয়া, সাইফ সেটা ভাবেনি। সিনথিয়াকে মুখের উপর না বলে দেয়ার কথাও মনে করলো সে। হয়তো তাকে আরেকটু বুঝিয়ে বলা উচিৎ ছিল। মেয়েটা নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে আর বেশি মন খারাপ করলো না সাইফ। সিনথিয়া এখন ওর জীবন সম্পর্কে যথেষ্টই জানে। এরপরও যদি পুরনো ভালোবাসা ধরে রাখে, তাহলে সাইফের এখানে কী-ই বা করার আছে?

সিমির কথা মনে পড়লো সাইফের। এ অবশ্য নতুন কিছু নয়। প্রতিদিন সারাক্ষণই সিমির কথা মনে পড়ে ওর। সিমি এই মুহুর্তে কী করছে, কেমন আছে জানার জন্য সাইফের মন খুব ছটফট করে। এক রকম দাঁত চেপে রেখে নিজের কষ্টটা নিজেই চাপা দিয়ে রাখে সে। যতোই চেষ্টা করে না কেন অন্য কিছু ভাবার, তার মনে কেবল একটাই জিনিস ঘুরেফিরে আসে, সিমির স্মৃতি।

আজ সিমির হাত ধরে হাঁটছে সাইফ। অনেকদিন পর সিমির হাত ধরেছে ও। সিমির হাত ধরায় যে কতো আনন্দ তা কোনোদিনই সাইফের অনুভূতি এড়িয়ে যায়নি। কিন্তু আজ যেন এই আনন্দ অসীম হয়ে উঠেছে। সিমি ইতস্তত ভঙ্গিতে হাঁটছে ওর সঙ্গে। সাইফ তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছে, তারা দু’জন আবার আগের মতো হয়ে উঠতে পারে।
‘না সাইফ,’ সিমি বলল, ‘আমার মনে হয় না।’
সাইফ তাকে আশ্বস্ত করলো, ‘তুমি কষ্ট পেয়েছো, এ জন্য তোমার মন মানতে চায় না সিমি। বিশ্বাস করো, একটু চেষ্টায়ই আমরা আগের মতো হতে পারবো।’
সিমি চুপ করে রইল। সাইফ বলল, ‘মানুষ হয়তো নিজেকে বদলাতে পারে না। আমাদের তো কারোরই কাউকে বদলানোর দরকার নেই। মাঝখানে এতোদিন আমাদের মাঝে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে কেবল সেটা ঠিক হলেই আমরা আবার ঠিক হয়ে যাবো। আর ভুল বোঝাবুঝিটা তো আর এখন নেই, তাই না?’

সিমি তবুও চুপ করে রইল। তার মনে হয়তো ভয় হচ্ছে আবারও কষ্ট পাওয়ার। কিন্তু সাইফের মনে হচ্ছে সিমি ওর এতো অনুরোধ কখনোই ফেলতে পারবে না। সিমি ওকে ভালোবাসে। সাইফের এই দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই সে সিমিকে বারবার কাছে টানতে চাইছে। সে সিমিকে অনেক অনেক ভালোবাসে। সিমিকে ছাড়া ও অনেক বেশি একা হয়ে যায়। কিছুতেই তাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারবে না সাইফ।

সিমিকে দেখে সাইফের মনে হচ্ছে সিমি আরেকবার কাছে আসতে চাইছে। সাইফ সিমির কাঁধে হালকা করে একটা চুমু খেলো। সিমির শরীরটা যেন কেঁপে উঠলো। সাইফ মনে মনে হাসলো। সিমি সেই প্রথমদিন থেকেই সাইফের প্রতিটা স্পর্শ অনেক বেশি ফিল করে। এমনকি শেষবারও সাইফ ওর কাঁধে আদর করার পর সিমি কেঁপে উঠেছিল। সাইফের ব্যাপারটা খুবই সুইট মনে হয়। আজ এতোগুলো দিন পর সিমির সেই কেঁপে উঠা দেখে সাইফের মনে হলো যেন শত-সহস্র বছর পর আকাশে বিশাল চাঁদ উঠেছে। সাইফ কিছু বলল না। এ যে শুধুই অনুভব করার জন্য।

সিমিও একসময় নিজেকে সাইফের দিকে ঠেলে দিলো। তাদের দু’জনের সেই পুরনো হাঁটার রীতি যেন ফিরে এলো। সিমি হাঁটছে, কিন্তু সাইফের দিকে যেন ঠিক ঝুঁকে আছে। সাইফের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় সাইফকে নিচু হতে বলল সাইফ। সাইফ নিচু হলো। সেও তার কাঁধে সিমির সেই ভালোবাসা ভরা আদর অনুভব করলো, যা থেকে সে যেন অনন্তকাল ধরে বঞ্চিত ছিল।

সাইফের পৃথিবী কেমন যেন রঙিন হয়ে উঠলো। চোখ ঝাপসা হয়ে উঠলো। একটু পরেই বুঝতে পারলো এই ঝাপসা হওয়া চোখের পানির কারণে নয়। কেন যেন তার আশপাশের সবকিছু ঘোলা হয়ে উঠছে। সিমির ভালোবাসায় তার শরীর যেন কাঁপতে শুরু করেছে।
কিছু বুঝে উঠার আগেই একসময় সব সাদা হয়ে গেল।
তারপর সব কালো।
আর তারপর, চোখের সামনে ভেসে উঠলো তার বিছানার নীল চাদর।

স্বপ্নের রেশটা কাটতে অনেক সময় লাগলো সাইফের। তার শরীর এখনো শিরশির করছে। মনে হচ্ছে যেন সিমি সত্যিই তাকে ছুঁয়ে দিয়ে গেছে। চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানিতে বালিশ তখনো ভিজে আছে। সেদিকে চেয়ে সাইফ ভাবলো, একসময় তার চোখের পানির অনেক দাম ছিল সিমির কাছে। ওর মন ভালো করার জন্য যে কোনো কিছুই করতে পারতো সিমি। আর আজ তার কষ্টের কোনো মূল্যই নেই সিমির কাছে। কতো নিষ্ঠুর হয়ে গেছে ও।

কিন্তু আসলে কে বেশি নিষ্ঠুর? সিমি? নাকি সৃষ্টিকর্তা? প্রশ্নটার উত্তর খুবই কঠিন।

২৪
পরদিন থেকে সাইফের আর কোনো খোঁজ নেই। টানা চারদিন ক্লাসে না আসার পর বেশ উদ্বিগ্ন হয়েই সাইফকে ফোন করলো সিনথিয়া। জানা গেল, তার বাসায় সমস্যা। পারিবারিক সমস্যা। সিনথিয়ার সাথে বিস্তারিত শেয়ার করতে চায়নি সাইফ। সিনথিয়া সেটা বুঝতে পেরেই আর বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করেনি। তবে বাসায় সমস্যা যেটাই হোক, সেটা যে বেশ গুরুতর সমস্যা, তা সাইফের কণ্ঠ শুনেই বুঝতে পেরেছে সিনথিয়া।

তারও কিছুদিন পর সাইফ ক্লাসে আসলো। কী হয়েছিল জিজ্ঞেস করতেই বাসার সমস্যা বলে এড়িয়ে গেল। স্যারদের বোঝানো কঠিন হলো না। কিন্তু সিনথিয়ার বিস্তারিত জানতে খুবই ইচ্ছে হচ্ছিল। কেউ নিজে থেকে না বললে বড়জোর দু-একবার জিজ্ঞেস করা যায়, জোরাজুরি তো আর করা যায় না। তাই বাসার সমস্যাটা রহস্যই রয়ে গেল সিনথিয়ার কাছে।

‘তারচেয়ে বরং সিমির গল্পটা শুনে নেই,’ ভাবলো সিনথিয়া।

কলেজ ছুটির পর সাইফের সঙ্গে নিচে এসে নামলো সিনথিয়া। ছেলেদের একটা দল ইতিমধ্যেই খেলতে চলে গেছে। তারা দু’জন আবারও সেই ফেলে রাখা বেঞ্চগুলোর একটায় বসলো। আজ আবহাওয়াটা খুবই সুন্দর। কোনো বৃষ্টি নেই, কিন্তু আকাশ খুব মেঘলা আর অনেক বাতাস। এমন দিনে মোটামুটি সবারই বুঝি মেজাজ ফুরফুরে থাকে। কলেজের বাংলা স্যারও আজ ক্লাসে মজা করেছেন, যা দেখে সবাই বেশ অবাকই হয়েছে। কিন্তু সাইফ? সে যেন আবহাওয়া আর ফিল করে না।

সাইফকে ডেকে নিয়ে নিচে এনে বসানোর কারণটা জানে সাইফ। তাই সিনথিয়ার জিজ্ঞেস করার জন্য আর অপেক্ষা করলো না। বলতে শুরু করলো, ‘সিমির সঙ্গে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবার পর আমাদের সবকিছু ভালোই চলছিল। এরমধ্যে একদিন জানলাম ও ঢাকার বাইরে যাবে। কী একটা কাজে যেন বাসার অন্যদের সাথে তাকে দু-তিনদিনের জন্য ঢাকার বাইরে যেতে হবে। দু-তিনদিন বড় কিছু না। কিন্তু আমার তাতেই মন খারাপ লাগছিল। মনে হচ্ছিল এই দু’দিন সারাদিন ও নেটে থাকবে না, কথা বলতে পারবে না। তাই মন খারাপ করে ওর সঙ্গে কথা বলছিলাম। এমন সময় ওর স্যার আসলো বাসায় পড়াতে। ও পড়তে চলে গেল তাড়াহুড়ো করে। আর আমি মন খারাপ করে বসে রইলাম ওর পড়া শেষ করে ফিরে আসার।’

‘প্রায় দুই কি আড়াই ঘণ্টা পর নেটে ওর একটা পোস্ট দেখলাম। অর্থাৎ, ও বেশ লম্বা সময় ধরে নেটে বসে আছে কিন্তু মেসেঞ্জারে সাইন ইন করেনি। তাই আমিও কথা বলতে পারিনি। বিশ্বাস করো সিনথি, এটা দেখে আমি যেন আকাশ থেকে পড়েছিলাম। অনেক বড় একটা ধাক্কা খেয়েছি তখন। সিমি জানতো যে আমার মন খারাপ কারণ ও পরদিন চলে যাচ্ছে। ঐ সময় ওর সঙ্গে কথা বলার জন্য আমি কতোটা ব্যাকুল ছিলাম সেটা ও জানতো। তারপরও ও কীভাবে পারলো কথা না বলে থাকতে? ওর কিছু লেখার ছিল, সেটা কি পরে লিখলেই হতো না?’

‘আমি দেখলাম লেখাটা এমন যে ওর মন খারাপ। আমি সঙ্গে সঙ্গে ফোন করলাম। ও নেটে কেন আসলো না এই প্রশ্ন না করে ওকে বারবার প্রশ্ন করতে থাকলাম কী হয়েছে জানার জন্য। স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম ওর মন খারাপ। কিন্তু ও কিছুতেই বললো না যে কী হয়েছে। একটানা কিছু না কিছু না বলে গেল। তখন আমার প্রচণ্ড রাগ লাগলো। তখন বললাম, ওর কি এতটুকুও গায়ে লাগলো না যে আমি ওর জন্য বসে আছি? ওর কি এতটুকু খারাপ লাগলো না যে আমি কথা বলার জন্য অধৈর্য্য হয়ে আছি? কিংবা ওর যদি এমন কিছু হয়েই থাকে যার কারণে ওর মন খারাপ, তাহলে সেটা আমাকে বললেই তো পারে। আমি তো ফোন করেই ওকে কিছু বলিনি। প্রথমেই জানতে চেয়েছি কী হয়েছে। কিন্তু ও কিছুতেই বলল না। ঐ মূহুর্তে আমার মানসিক অবস্থাটা আন্দাজ করতে পারো সিনথি?’

‘এরপর কী হলো?’ সিনথিয়ার প্রশ্ন।
‘এরপর আমি ফোন কেটে দিলাম। রাগ আর ক্ষোভে খুব খারাপ লাগছিল। কিন্তু সিমি আর ফোন করলো না। পরদিন দুপুর পর্যন্ত ওর কোনো খবর নেই। কিছুক্ষণের জন্য ওকে নেটে দেখলাম কিন্তু ও কোনো কথা বললো না। তারপর আমি ফোন বন্ধ করে দিলাম। কে যেন ফোন করেছিল আমাকে। কিন্তু তখন আমার মন এতোই খারাপ ছিল যে আমি টানা ফোন বন্ধ করে রেখে দিয়েছিলাম। কারো সঙ্গেই কথা বলার মতো মন-মানসিকতা ছিল না আমার। ফোন যখন খুললাম ও তখন সম্ভবত ঢাকায় ফিরে এসেছে।’

‘এরপর ওর সঙ্গে কয়েকদিন রাগারাগি করেই অল্প কথাবার্তা হয়েছে। ও সেদিন কী হয়েছিল তা তো বলেইনি, একবার মুখ দিয়ে সরি কথাটাও বলেনি। যেন সেখানে ওর কোনো দোষই ছিল না। বিশেষ করে এর আগের সমস্যাগুলোর পর এমন একটা ঘটনা আমি আশা করিনি। আর সেখানে আমি এখনো নিজের কোনো দোষ দেখতে পাইনি। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলেও হয়তো এ কাজই করতো।’

‘হুম।’
‘তারপর ও একদিন সাফ জানিয়ে দিলো ও আর আমার সাথে থাকছে না। আমি বেশ অবাক হলাম। সিমি এই কথা বলতে পারে না। বিশেষ করে আমি নিজের ভুলগুলো বুঝে নেয়ার পর, ও নিজের ভুলগুলো বুঝে নেয়ার পর দু’জনে মিলে সব ঠিক করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ও এই কথা বলতে পারে না। কারণ, আমি সেদিন রাতে সারারাত ভেবেছিলাম। যেদিন ও বলল আমাদের আরেকবার ভাবা উচিৎ। আমি নিজেকে ওকে ছাড়া কল্পনা করেছি। নিজের ভুলগুলো দেখেছি। নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করেছি আর ওকে বিন্দুমাত্র কষ্ট না দেয়ার। আর তারপর আমি আর কোনো ভুল করিওনি। অন্তত আমার তাই বিশ্বাস। তারপরও সিমি আমাকে ছেড়ে যাবে কোন যুক্তিতে?’

‘সিমি সোজা জানিয়ে দিলো, যুক্তি দেখাতে গেলে সারাদিনই যুক্তি দেখানো যাবে। তাই তার এক কথা, সে আমার সঙ্গে আর থাকবে না। আমি একরকম হতবাক হয়ে গেলাম। সিমিকে আমি সবসময়ই অনেক অনেক ভালোবাসতাম। কোনো কারণ নিয়ে ওর সঙ্গে ঝগড়া হলেও ঐ সময়টায়ও কখনো ওর প্রতি ঘৃণা বা এমন কিছু জন্ম নেয়নি। ওকে আমি অনেক ভালোবেসেছি। আর জানোই তো ওর জন্য আমার একটা অ্যাটেম্পট বাদ দিয়েছি আমি। আমার ইচ্ছে ছিল ওর খেয়াল রাখা, ওর যত্ন নেয়া, ওকে হাসিখুশি রাখা। আমি হয়তো তা পেরেছিও। কিন্তু একটা মানুষকে কি ১০০ ভাগ সময় হাসিখুশি রাখা যায়?’

মাথা নাড়লো সিনথিয়া। ‘সেটা তো সম্ভব নয়। ঝগড়া-সমস্যা এসব হবেই। এসব না থাকলেই বরং সেই সম্পর্কটাকে অস্বাভাবিক বা আর্টিফিশিয়াল বলতে হবে।’
‘সেটাই। ততটুকু ঝগড়া বা রাগারাগি ও মেনে নিতে পারবে না এটা আমি অন্তত আশা করিনি। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। ওকে বুঝিয়েছি। একটা মানুষের পক্ষে যতভাবে বলা সম্ভব বলেছি। বলেছি আমি কি ওকে এক মূহুর্তের জন্যও সুখী করিনি? তাহলে ঐ এক মূহুর্তের বিনিময়ে ও আমাকে একবার বিশ্বাস করুক, আমাকে একবার সুযোগ দিক।’
‘বিশ্বাস করুক মানে কী?’ সিনথিয়ার প্রশ্ন।
‘সিমির মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মে গেছে যে আমরা আর সুখী হতে পারবো না। আমরা এক হলেই ও আবার কষ্ট পাবে। আমি যতোই ওকে বলি ও আমাকে বিশ্বাস করে না। তুমিই বলো, আমি কি সম্পর্কের জীবনে মাত্র একবার সুযোগ পেতে পারি না? এভাবে আমাদের ব্রেকআপ এই প্রথম। মানুষের কতবার ব্রেকআপ হয়। মানুষ মানুষকে সুযোগ দেয়। আমি কী এমন পাপ করেছি যে আমি সিমির মতো ভালো একটা ফ্রেন্ডের কাছে, যাকে এতোটা ভালেবেসেছি তার কাছ থেকে জীবনে একবার সুযোগ পাবো না এটাই আমি বুঝতে পারি না।’

সিনথিয়া চুপ করে রইল। সাইফ বলল, ‌’ব্রেকআপটা যদি এমন কোনো সময় হতো যখন আমি বড় কোনো সমস্যা করেছি তাও আমি সান্তনা দিতে পারতাম নিজেকে। কিন্তু আমি তো সব ঠিক করে নিয়েছিলাম। ও-ই তো কেন যেন এমন একটা কাণ্ড করলো। তারপরও কি এই আজীবনের শাস্তিটা আমারই প্রাপ্য ছিল?’

‘সিমি বলে ও আমাকে এখনো ভালোবাসে। কিন্তু আমার কাছে কখনো আসবে না। আমার কষ্ট এখানেই যে ও একটা ভুল ধারণাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের সাজানো স্বপ্নগুলোকে নিজের হাতে ধ্বংস করে দিলো।’

সাইফ কাঁদছে না। অন্তত ওর কণ্ঠ শুনে সেটা মনে হচ্ছে না। কিন্তু ওর চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া পানি সিনথিয়ার নজর এড়ালো না। সে চুপচাপ বসে রইল। তার এখন কী বলা উচিৎ সে জানে না।

সাইফ একবুক কষ্ট নিয়ে বলল, ‘ঠিক এক বছর আগে সিমিকে যেই কষ্টের সময় আমি সঙ্গ দিয়েছিলাম, ইন্সপায়ার করে ওর মন ভালো রাখতে চেষ্টা করেছিলাম, যার জন্য স্বেচ্ছামৃত্যুকে বাদ দিয়ে জীবনকে বেছে নিয়েছিলাম, সেই সিমিই আজ আমাকে তার সেই কষ্টটাই উপহার দিলো। এই ছিল আমাদের বন্ধুত্বের উপহার। এই ছিল গভীর ভালোবাসার পাওনা।’

সাইফকে সান্তনা দেয়ার কোনো ভাষা সিনথিয়ার আজ নেই।

(পর্ব ১২ )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29416065 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29416065 2011-07-19 21:17:47
ঘুম আসছে না তাই...(১) <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /> : টেম্পল অফ দ্য কিং

ঘুম আসছে না তাই জোর করে লেখা পোস্ট এটি। সারাদিন তেমন একটা না ঘুমালেও মাঝে মাঝেই রাতে ঘুম আসে না। অবশ্য ঘুম কম হওয়া মনে হয় ভালোই। যতদিন বেঁচে থাকা যায় তার মধ্যে কম ঘুমালে বেশি সময় পাওয়া যায়। (ডাক্তার আপুরা ঘুমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে লেকচার দেয়া শুরু কইরেন না আবার <img src=" style="border:0;" /> ) ভাবলাম ঘুম আসছে না যখন, একটা গান শেয়ার করি।

ইংরেজি এই গানটা অনেকদিন আগে অফিসে শুনেছিলাম। তখন কেবল শুরুর 'ওয়ান ডে' এতটুকু মনে ছিল। এতটুকু লিরিক্স জেনে তো আর গান বের করা সম্ভব নয়। তবে আজ প্রায় এক-দেড় বছর পর হার্ডডিস্কে এই গান দেখে বেশ অবাকই লাগলো। গানটা কেন যেন প্রথমটার শুনেই ভালো লেগেছিল। তাই এখন এটা ইনফিনিট লুপে আছে।

আমি মোটামুটি নিশ্চিত যারা গান শোনেন তারা এই গান আগেও বহুবার শুনেছেন। তবুও এখন আরেকবার শুনুন। অলস রাত্রিতে গানটা শুনতে একটু অন্যরকমই লাগে।




বোনাস

One day, in the year of the fox
Came a time remembered well,
When the strong young man of the rising sun
Heard the tolling of the great black bell.
One day in the year of the fox,
When the bell began to ring,
It meant the time had come for one to go
To the temple of the king.

There in the middle of the circle he stands,
Searching, seeking.
With just one touch of his trembling hand,
The answer will be found.
Daylight waits while the old man sings,
Heaven help me!
And then like the rush of a thousand wings,
It shines upon the one.
And the day has just begun.

One day in the year of the fox
Came a time remembered well,
When the strong young man of the rising sun
Heard the tolling of the great black bell.
One day in the year of the fox,
When the bell began to sing
It meant the time had come for the one to go
To the temple of the king.

There in the middle of the people he stands,
Seeing, feeling.
With just a wave of the strong right hand, he's gone
To the temple of the king.

Far from the circle, at the edge of the world,
He's hoping, wondering.
Thinking back on the stories he's heard of
What he's going to see.
There, in the middle of a circle it lies.
Heaven help me!
Then all could see by the shine in his eyes
The answer had been found.

Back with the people in the circle he stands,
Giving, feeling.
With just one touch of a strong right hand, they know
Of the temple and the king.

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29415624 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29415624 2011-07-19 01:07:09
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ১০)

(পর্ব ৯ )

২১
কলেজ ছুটি হয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক আগেই ছুটি হয়ে যাওয়ায় অনেকেই কলেজের মাঠে ঘোরাফেরা করছে। উপস্থিতিও কম, স্যাররাও কিছু বলছেন না তাই বেশ চুটিয়ে মজা করছে সবাই। আর একটু দূরে কলেজ বিল্ডিং-এর বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসে তাদের মজা করার দিকে তাকিয়ে আছে সাইফ। পাশে তার সিনথিয়া। সিনথিয়া ঠিক করেছে এখনই বাসায় যাবে না। এই ছেলেগুলো যতক্ষণ আছে ততক্ষণ থাকবে। সাইফের কথা শুনবে।

আকাশ তখন মেঘাচ্ছন্ন। বৃষ্টি আবারো নামবে নামবে করছে। সিনথিয়া সাইফকে বলল, ‘আবহাওয়াটা কেমন না? আনপ্রেডিক্টেবল।’
‘হুম,’ আনমনে জবাব দিলো সাইফ। ‘এমন আবহাওয়া অনেক পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।’
‘কী রকম? সিমির কথা?’
‘হ্যাঁ। ও আমার জীবনে তুলনামূলকভাবে খুব ছোট্ট একটা সময়ের জন্য ছিল। কিন্তু এই সময়েই সে আমার মধ্যে তার একটা রাজ্য তৈরি করে দিয়ে গেছে। সেই রাজ্যে নেই এমন প্রায় কিছুই নেই।’
‘তাই? কী রকম বলো তো শুনি,’ সিনথিয়ার কণ্ঠে আগ্রহ।
‘এই যেমন ধরো আবহাওয়ার কথা। এমন কোনো আবহাওয়া নেই যখন আমি ওর সঙ্গে ছিলাম না। এই যে এখন যেই আবহাওয়া, এই আবহাওয়ায় আমি ওর সঙ্গে ঘুরেছি। খুব বেশি সময় না, তবে ঘুরেছি। বিভিন্ন জায়গায় বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থেকেছি। ওর বৃষ্টিতে ভেজা খুবই পছন্দ ছিল। কিন্তু ঠাণ্ডা লেগে যাবে এই ভয়ে আমি আমার ব্যাগ ওর মাথার উপরে ধরতাম। সঙ্গে সঙ্গে ওর মনটা খারাপ হয়ে যেত। ব্যাগটা সরালেই ফিরে আসতো দীপ্তিময় হাসি। আমি দেখে খুব মজা পেতাম। ও রীতিমতো কাকুতি-মিনতি করতো ভেজার জন্য। অবশ্য তেমন কাকভেজা আমরা মাত্র একবার ভিজেছি।’

সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘আর?’
‘আর ধরো বৃষ্টি হচ্ছে এমন আবহাওয়া। এমন আবহাওয়ায় ওর সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। বৃষ্টি শুরু হলেই ওর কথা মনে পড়তো। ওকে ফোন করতাম বা ও আমাকে ফোন করতো। বৃষ্টির সময়গুলোতে আমরা দু’জনেই খুব আবেগঘন হয়ে যেতাম। যেন ছাদের নিচে বসেও বৃষ্টি আমাদের দু’জনের হৃদয় ছুঁয়ে যেত। সেই মুহুর্তগুলো আমি আজও খুব ফিল করি।’
‘হুম।’
‘তারপর মনে করো প্রখর রোদের কথা, যেটা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আমার রোদ ভীষণ অপছন্দ। রোদ উঠেছে দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু এখন রোদ আমার মেজাজ খারাপ করে না। এখন রোদ আমাকে মনে করায় অনেক সুখের সব স্মৃতি।’
‘কী স্মৃতি?’ সিনথিয়ার প্রশ্ন।
‘আমি আর সিমি যতটুকু সময় বাইরে ঘুরেছি, তার নাইনটি পার্সেন্টই ছিল তপ্ত রোদের মধ্যে। এতো রোদ আগে আমার খুব অসহ্য লাগতো। কিন্তু বিশ্বাস করবে না, সিমি সাথে থাকলে রোদ যত কড়াই হোক না কেন, আমার যেন গায়েই লাগতো না। দরদর করে ঘামতাম। সিমিও খুব ঘামতো। আমরা হাঁটার সময় হাত ধরে হাঁটতাম। রিকশায় বসলে ওর কাঁধে হাত দিয়ে আমার দিকে টেনে রাখতাম। বাসেও এভাবে আমার দিকে ঝুঁকে থাকতো সিমি। যার কারণে আমরা দু’জনের ঘামে নিজেরা একাকার হয়ে যেতাম। একদিন সিমি প্রায় এক ঘণ্টা টানা আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়েছে বাসে। এতো গরমে ঘামতে ঘামতে কীভাবে ঘুমালো ঠিক বুঝিনি। কিন্তু আমার খুব ভালো লেগেছিল। ওকে জড়িয়ে রেখেছিলাম, আর বারবারই ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছিলাম। খুব ভালো লাগছিল আমার সিমিটার দিকে তাকাতে।’

হাসলো সিনথিয়া। ব্যাপারটা তার কাছে ছেলেমানুষীও মনে হচ্ছে, আবার খুব সুইটও মনে হচ্ছে।
সাইফ বলে চলল, ‘ওর কপাল বা নাক যখন খুব ঘেমে যেত, তখন ও কী করতো জানো?’
‘কী?’
‘আমার কাঁধে সেটা মুছতো। মুছে আবার আমার দিকে বাচ্চা মানুষের মতো একটা ভাব করে তাকিয়ে থাকতো। ওর সেই দৃষ্টিটা আমার এতো ভালো লাগতো; বোঝাতে পারবো না। আবার আমি ঘামলে আমার কপাল বা ঘাড় থেকে ঘাম নিয়ে ওর জামায় মুছতো। বলতো, আমার চিহ্ন নাকি রেখে দিচ্ছে ওর কাপড়ে। যাতে বাসায় গিয়েও আমাকে দেখতে পারে। আমার খুব হাসি আসতো। ভালোও লাগতো, ওর এতো সুন্দর ভালোবাসা দেখে নিজেকে সবচেয়ে সুখী আর ভাগ্যবান মনে হতো।’
সিনথিয়া চুপ করে রইলো। তবে ওর মুখটা হাসি হাসি ভাব করে রেখেছে। এগুলো শুনতে সত্যিই ওর ভালো লাগছে। কিছুক্ষণের জন্য যেন নিজের না পাওয়াগুলো ও ভুলে গেছে।

২২
‘সিমিকে আমি অনেক ভালোবাসি। ওর আর আমার মধ্যে একটা মিল ছিল এই যে, আমরা কেন যেন একজন আরেকজনকে বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড ভাবতে পারতাম না। শব্দগুলো কেন যেন এই যুগের সাময়িক সঙ্গীর প্রতিশব্দ বলে মনে হতো। মনে হতো, বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড হলেই একদিন সে চলে যাবে। তাই আমরা একজন আরেকজনকে অনেক আপন বলেই ভাবতাম। আর সেভাবেই ফিল করতাম দু’জন দু’জনের জন্য।’
‘কী রকম আপন?’ বুঝেও না বোঝার ভান করে জিজ্ঞেস করলো সিনথিয়া। তার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসি দেখতে পেলো সাইফ। সাইফও একটু হেসে বললো, ‘এই তো…লাইক..হাজব্যান্ড-ওয়াইফ।’

সিনথিয়া হাসতে শুরু করলো। সাইফের কথা শুনে নয়, সাইফকে লজ্জা পেতে দেখে। এই প্রথম সে সাইফকে লজ্জা পেতে দেখলো। ছেলেটার মাঝে সবরকম অনুভূতিই আছে। ইচ্ছে করে ও সব যেন চেপে রেখে দেয়।
সাইফ বলতে থাকলো, ‘আমি নানা কারণে খুব চুপচাপ অবস্থায় বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকেই একদম চুপচাপ ও ঠাণ্ডা স্বভাবের ছিলাম। বড় হতে হতে পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে সেই চুপচাপ ভাবটাও আমার সঙ্গে সঙ্গেই বড় হয়েছে। আমি কথা বলায় কখনো পটু ছিলাম না। কারো সঙ্গে মিশতে পারতাম না। কিছু ক্লাসমেট ছিল বটে, যাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতাম। কিন্তু প্রতিটা মানুষেরই কিছু একান্ত কথা থাকে যেগুলো সে হয়তো কোনো বেস্ট ফ্রেন্ড বা ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে শেয়ার করে। আমার ক্ষেত্রে সিমিই হয়ে উঠেছিল সেই বেস্ট ফ্রেন্ড। আর আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে ভালো দিক ছিল এই যে, শেষ পর্যন্ত আমরা দু’জনই দু’জনের বেস্ট ফ্রেন্ডই ছিলাম।’

একটু থামলো সাইফ। তারপর আস্তে আস্তে বলল, ‘জানি না কেন এখন ও আমাকে এভাবে দূরে ঠেলে দিলো।’
সিনথিয়া ভাবতে লাগলো কীভাবে প্রসঙ্গ ঘুরানো যায়। এমন দিনে সিমির সঙ্গে কীভাবে ব্রেকআপ হলো সেই মন খারাপ করা কথা শুনতে সিনথিয়ার আর ইচ্ছে করছে না। সে তাড়াতাড়ি জিজ্ঞেস করলো, ‘সিমির আর কী কী কথা তোমার অনেক মনে পড়ে?’
সাইফ বলল, ‘অনেক কিছুই মনে পড়ে। ওর সঙ্গে আমার এতো বেশি স্মৃতি জড়িয়ে গেছে যে, ২৪ ঘণ্টার ২৪ ঘণ্টাই ওর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তবে ইদানীং একটা স্মরণীয় মূহুর্তের কথা খুব বেশি মনে পড়ে।’
‘কী সেটা?’
‘আমার পায়েল খুব পছন্দ। কেন জানি না, কিন্তু পায়েল আমার ভালো লাগে। শব্দ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই, পায়েল হলেই চলবে। আর এই কথাটা সিমি জানতো। তাই ও একদিন কোত্থেকে যেন একটা পায়েল জোগাড় করে রেখে দিল। আমি কী একটা কারণে যেন ওর বাসায় গেলাম, তখন ও পায়েলটা বের করে আনলো। আমাকে বলল পরিয়ে দিতে।’
‘তাই?’
‘হ্যাঁ, ঐ সময়টা খুব রোমান্টিকতায় ভরা ছিল। আর সিমির ছিল চরম লজ্জা। আমাকে পরিয়ে দিতে বলে নিজেই লজ্জায় যেন নেই হয়ে গেল।’
‘তারপর কি তুমি পরিয়ে দিলে?’
‘হ্যাঁ, ও খাটে বসেছিল। আমি চেয়ার থেকে উঠে ওর সামনে মাটিতে বসলাম। ও তখন পারলে পা খাটের নিচে ঢুকিয়ে বসে থাকে। আমি প্রায় জোরাজুরি করেই ওর পা আমার হাঁটুর উপরে রাখলাম। তারপর পায়েলটা পরিয়ে দিলাম তাড়াহুড়ো করে।’
‘তাড়াহুড়ো করে কেন?’
‘কারণ কেউ দেখে ফেলার ভয় ছিল। তবে তাড়াহুড়োর ফলও খারাপ ছিল। পায়েলটা উল্টো করে পরিয়ে ফেলেছিলাম। অবশ্য আমার দোষ না, আমি তো আর জানি না মেয়েদের এসব কীভাবে পরতে হয়।’

সিনথিয়া হাসতে থাকলো। ‘আহারে! বেচারি সিমির নিশ্চয়ই মন খারাপ হয়েছিল?’
‘একটুও না। ও নিজে আবার ঠিক করে নিয়েছিল। মন খারাপ হয়েছিল আমার। আমিই পরাতে গিয়ে উল্টো করে ফেলেছিলাম।’
‘তারপর থেকে ও নিশ্চয়ই পায়েল পরতো সবসময়?’
‘হ্যাঁ। আর ও নাকি কেবলই পায়েলটা দেখতো আর মনে মনে ভাবতো, আমি অনেক আদর করে ওকে এটা পরিয়ে দিয়েছি। আমার অবশ্য একটা দুঃখ ছিল যে, পায়েলটা আমি কিনে দিতে পারিনি। তখন হাতে একদমই টাকা ছিল না।’
‘হুম।’ সিনথিয়া তখন মাঠের দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুটা যেন আনমনেই বলল, ‘তুমি সিমিকে অনেক আদর করতে তাই না?’

কথাটার জবাব না দিয়ে সিনথিয়ার দিকে তাকালো সাইফ। আর তখনই যেন সিনথিয়া বুঝতে পারলো, কথাটা অন্য অর্থও দাঁড়াতে পারে। সে বলল, ‘আই মিন, ওকে অনেক জড়িয়ে ধরে রাখা, সারাক্ষণ হাত ধরে রাখা, কাছে থাকলে হাত ধরে রাখা, এইসব।’
সাইফ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সেও তার দৃষ্টি অনেক দূরে ফেলে বলল, ‘হ্যাঁ, ও আমার কাছে খুবই প্রিয় একটা মানুষ। ওকে আমার পরীর মতো মনে হয়। সাধারণ কোনো পরী না, কেবল আমার জন্য পাঠানো পরী। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার সব অনুভূতি, যার একটু হাসির মধ্যে ছিল আমার অসীম আনন্দ, যার একটু স্পর্শের মধ্যে ছিল আমার অনেক প্রাপ্তি। আর সবচেয়ে ভালো লাগতো এটা যে ওর হাত ধরলে, ওর কাঁধে হাত রাখলে আমার এইসব সাধারণ স্পর্শগুলোও ও এতো বেশি ফিল করতো, দেখেই বোঝা যেত যে এগুলো যেন ওর মন ভরিয়ে দিচ্ছে। ওর চোখেই দেখতে পেতাম আমার প্রতি ওর ভালোবাসা।’

সিনথিয়া চুপ করে রইলো। এখন কী বলা উচিৎ যে ঠিক ভেবে পাচ্ছে না। তাই দু’জনেই যেন চুপ করে রইল। তখন বাইরে আবারও ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। ছেলেগুলো চলে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু বৃষ্টি দেখে লোভ সামলাতে পারলো না। কোত্থেকে যেন একটা ফুটবলও জোগাড় হয়ে গেল। শুরু হয়ে গেল বৃষ্টিতে ফুটবল খেলা।

আর একটু দূরে বসে কলেজ বারান্দার বেঞ্চে সাইফ আর সিনথিয়া বসে চুপচাপ তাকিয়ে খেলা দেখছে। যেন এক জোড়া চড়ুই গাছের ডালে বসে আছে। পার্থক্য এতটুকুই, তাদের কারোরই খেলায় মন নেই। যে কেউ দেখলে ভাববে কতো রোমান্টিক একটা মূহুর্ত। কিন্তু এখানেই যেন প্রকৃতির রহস্যময়তা খেলা করে। এই পরিবেশে দু’জন একসঙ্গে বসে আছে ঠিকই, কিন্তু দু’জনের মনেই রয়েছে নিজস্ব কষ্ট। একান্তই নিজস্ব কিছু না পাওয়ার বেদনা।

(পর্ব ১১ )

প্রথম প্রকাশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29414307 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29414307 2011-07-16 23:06:53
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ৯)

(পর্ব ৮)

১৯
পরদিন যথারীতি তুমুল বৃষ্টি। ভোর থেকেই বৃষ্টি শুরু হলো। সেই বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। বাসায় বসে সাইফ ভাবছে আর আধঘণ্টা বৃষ্টি হলে কলেজেই যাবে না। কিন্তু যেই সে ভাবলো, সঙ্গে সঙ্গেই যেন বৃষ্টি কমে এলো। তাই সাইফের কলেজে না যাওয়া আর হলো না। আবার বৃষ্টি নামার আগেই কলেজে পৌঁছানোর জন্য তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়লো।

কলেজে আজ ছাত্র-ছাত্রী প্রায় নেই বললেই চলে। সবাই বৃষ্টিকে অজুহাত বানিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়েছে। অবশ্য এমন দিনগুলোতে ক্লাস করে অভ্যাস আছে সাইফের। তাই ওর মন খারাপ হলো না। বরং অবাক হলো যখন দেখলো ক্লাসরুমে সাত-আটজন ছেলে ছাড়াও মেয়েদের মধ্যে সিনথিয়া বসে আছে। এই বৃষ্টির দিনে সিনথিয়া কলেজে আসবে ভাবতেই পারেনি সাইফ। অবশ্য ওর আসতে কি! নিজেদের গাড়ি আছে। গ্যারেজ থেকে গাড়িতে উঠবে, কলেজের সামনে এসে নামবে। বিত্তশালীদের অনেক সমস্যাই কোনো সমস্যা না।

‘যাক এলে তাহলে,’ সিনথিয়া বলল হেসে। ‘যা বৃষ্টি নেমেছিল, আমি তো ভাবছিলাম তুমি কেন, স্যাররাই আসতে পারবে না। অবশ্য ক’জন এসেছে কে জানে।’
সাইফ বলল, ‘আমিও ভাবছিলাম আসবো না। কিন্তু যেই ভাবা সেই কাজ হওয়ার আগেই বৃষ্টি থেমে গেল। তাই আসতে হলো।’
হাসলো সিনথিয়া। ‘কপাল খারাপ তোমার। অবশ্য ভালোই হয়েছে। তুমি না আসলে আমার বোরিং কাটতো সময়।’
সাইফ কিছু বলল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লাস শুরু হলো। স্যার এসে রোলকল করে গেলেন। যাবার সময় বলে গেলেন আজ দুই কি তিনটা ক্লাস পরে ছুটি হয়ে যাবে। তাই তারা যেন গোলমাল না করে।

অবশ্য এমনিতেও আজ কলেজে গোলমাল করার মতো কেউ নেই। যারা এসেছে তারা সবাই বসে বসে গল্প করতেই বেশি পছন্দ করে।

এমন সুবর্ণ সুযোগ মিস করার কোনো মানে হয় না - ভাবলো সিনথিয়া। সে সাইফের বরাবর পাশের বেঞ্চে এসে বসলো। জিজ্ঞেস করলো, ‘রাতে ঘুমিয়েছো কয়টায়?’
‘সাড়ে তিনটার দিকে। কেন?’
‘এমনি। সকালে উঠলে কয়টায়?’
‘চারটা।’

সিনথিয়া এমন ভাবে সাইফের দিকে তাকালো যেন খুবই বেরসিক কোনো কৌতুক করেছে সাইফ। কিন্তু সাইফের চোখেমুখে কোনো ভাবান্তর না দুষ্টুমির চিহ্ন না দেখে বুঝলো সত্যি কথাই বলছে। ‘মানে তুমি সারারাতে আধা ঘণ্টা ঘুমিয়েছো?’
‘হুম।’
সিনথিয়া আর কিছু বললো না। সাইফকে কিছু বলে লাভ নেই। ও ওর মতোই চলবে। তার চেয়ে সময় নষ্ট না করে সিমির গল্প শুনে ফেলাটাই ভালো হবে বলে মনে হলো তার। তাই সে সাইফকে জিজ্ঞেস করলো, ‘সিমির সাথে ব্রেকআপ হলো কেন?’

কোনো ভূমিকা ছাড়া এর আগে সরাসরি সিমির ব্যাপারে প্রশ্ন সিনথিয়া তেমন একটা করেনি। তাই প্রথমে একটু অবাক লাগলো সাইফের। তবে সে কিছু না বলে বলতে শুরু করলো তার আর সিমির স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে যাবার গল্প।

‘সিমির আর আমার মধ্যে সম্পর্কটা এমনই ছিল যে আমাদের জীবনে অন্য কোনো ফ্রেন্ড বা কেউ বেশি কাছে আসলে আরেকজন হিংসায় জ্বলতাম। ব্যাপারটা আমার মধ্যেও ছিল, ওর মধ্যেও ছিল। আর এটাকে স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছিলাম। অবশ্য এটা কোনো সমস্যারও সৃষ্টি করেনি আমাদের মধ্যে। আমরা একজন আরেকজনকে মন দিয়ে ভালোবাসতাম। যতটা সম্ভব খেয়াল রাখতাম। মাঝে মাঝে দেখা করতাম। আর ওকে আমি একটু বেশিই ঝাড়ি দিতাম। কারণ ও সুযোগ পেলেই ওষুধ খাওয়া বা নাস্তা করা ফাঁকি দিতো। কেবল তাই না, আগেই বলেছি ও ততোটা কেয়ারফুলি চলাফেরা করতো না। রাস্তা পার হতে গেলে মনে হয় যেন পেছনে কেয়ামত শুরু হয়ে গেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তার অন্যপাশে গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে হবে!’

‘যাই হোক, আমাদের মাঝে সবই ঠিক ছিল। খুব অল্প কয়েকজনই আমাদের সম্পর্কের কথা জানতো। আমাদের প্ল্যান ছিল আমরা, বিশেষ করে আমি একটা ভালো অবস্থানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ক্লোজ ফ্রেন্ডস ছাড়া আর কারো কাছে আমাদের সম্পর্কের কথা বলবো না। তাতে করে কেবল সমস্যাই তৈরি হবে। আর যেহেতু আমরা ভালো ফ্রেন্ড এটা সবাই জানতো, তাই আমাদের সেই সমস্যাগুলোও ছিল না যেগুলো সাধারণত প্রতিটা সম্পর্কেই ছেলেমেয়েকে ফেস করতে হয়। যেমন লুকিয়ে কথা বলা, লুকিয়ে দেখা করা ইত্যাদি।’

সিনথিয়া মাথা নাড়লো। আসলেই অনেক দিক দিয়ে ভাগ্য সিমি আর সাইফকে সাহায্য করেছে। এমন রিলেশন সচরাচর দেখা যায় না।

সাইফ বলতে থাকলো, ‘ছোটখাটো সমস্যা আমাদের মাঝে একেবারে যে হতো না তেমনটা না। মাঝে মাঝে ও ফোন করতে থাকতো আমি ধরতে পারতাম না। দেখা যেত বালিশের নিচে ফোন রেখে আম্মুর রুমে গিয়ে বসে আছি। এসে দেখি ওর অনেকগুলো মিসকল। তখন ও খুব রাগ করে থাকতো। কিন্তু তখন আমার নিজেরই এতো খারাপ লাগতো আর মন খারাপ হতো যে ওর রাগ ভাঙ্গানো যে দরকার সেটা খুব একটা মনে পড়তো না। আর এর মাধ্যমেই শুরু হলো একটা ভুল বোঝাবুঝি।’

‘কী রকম ভুল বোঝাবুঝি?’ সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো।
‘এই যেমন ধরো প্রত্যেকবার যখন এমন সমস্যা হতো, তখন আমার নিজেরই খারাপ লাগতো, অপরাধবোধটা অনেক বেশি লাগতো। যার কারণে আমি চুপ করে থাকতাম। আর আমার এই চুপ করে থাকাটাকেই কেয়ারলেস হিসেবে ধরে নিয়েছে সিমি। যার ফলে ওর মধ্যে আস্তে আস্তে এই ধারণাটা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে আমি ওকে পাত্তা দিচ্ছি না, ওর রাগ ভাঙ্গানোর প্রয়োজন মনে করছি না, কিংবা ওর রাগটাকে কিছু মনেই করছি না। বিশ্বাস করো সিনথি, আমি যদি ঘুণাক্ষরেও কোনোদিন টের পেতাম যে ওর মনে এই ধারণাটা দানা বাঁধছে, আমি সত্যিই এই ব্যাপারটায় খেয়াল করতাম। কিন্তু তখন আমার মধ্যে কমন সেন্সের চেয়ে অপরাধবোধই বেশি কাজ করতো। যে কারণে এই দূরত্বটা তৈরি হতে থাকলো।’

বাইরে তখন আবারো বৃষ্টি নেমেছে। ততোটা ভারি বর্ষণ নয়, কিন্তু আকাশ ধোঁয়ার মতো কালো হয়ে আছে। সাইফ জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখের কোণের অশ্রু সিনথিয়ার নজর এড়ালো না। এখানে বসে থাকার চেয়ে বারান্দায় চলে যাওয়া ভালো মনে হলো সিনথিয়ার কাছে। তাই সে উঠে সাইফকে বলল, ‘বারান্দায় চলো। বারান্দায় শুনবো।’

সাইফ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে উঠে সিনথিয়াকে অনুসরণ করলো।


২০
আকাশটা কালো হয়ে আছে। দেখলে যে কেউ হয়তো বলবে, আকাশটার আজ মন খারাপ। থেকে থেকেই বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। সামনের বিশাল মাঠে পানি জমে গেছে সকাল থেকে ভারি বৃষ্টিতে। সেই পানিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার দৃশ্য দেখে যে কেউ তার স্বপ্নগুলো মনে মনে কল্পনা করতে ভালোবাসবে। কিন্তু যাদের স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে, তাদের জন্য বুঝি এ দৃশ্য আরো মন খারাপ করে দেয়।

সিনথিয়া বলল, ‘তারপর কী হলো?’
সাইফ বলতে থাকলো, ‘এভাবে ওর মধ্যে একটা ধারণা সৃষ্টি হতে থাকলো যে আমি ওকে আগের মতো আর পাত্তা দেই না, ভালোবাসি না। সত্যি কথাই বলবো, ও আমাকে অনেকবারই বলেছে যে এভাবে চলতে পারে না। আমি নিজেও ও যতোবার বুঝিয়েছে ততোবারই বুঝেছি। ভেবেছি এখন থেকে সব ঠিকঠাক রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। কারণ সত্যি বলছি, ও আমার জীবনে না থাকলে আমার যে কী অবস্থা হবে তা আমি আজ নতুন বুঝছি না, আমি আগে থেকেই ধারণা করতে পারতাম ও আমার সাথে না থাকলে আমার কষ্ট কতোটা কঠিন হবে। পার্থক্য এতটুকুই, আগে আন্দাজ করতে পারতাম, আর এখন ভোগ করি।’

সিনথিয়া চুপ করে থাকলো। তার কাছে এখন চুপ করে অপেক্ষা করা ছাড়া করার বা বলার কিছু নেই।

কিছুক্ষণ পর সাইফ আবার বলতে শুরু করলো, ‘একদিন আমাদের সমস্যাটা অনেক বেড়ে গেল যখন ওর এক ফ্রেন্ড ওকে পরপর তিনদিন এসএমএস দিলো।’
‘কী এসএমএস?’
‘আহামরি কিছু না। এই যেমন গুড মর্নিং, ওয়েক আপ ইত্যাদি।’
‘ছেলে ফ্রেন্ড ছিল?’ সিনথিয়ার প্রশ্ন।
‘হ্যাঁ, কিন্তু সেখানে আমার সমস্যা নয়। আমার সমস্যা হলো একটা ফ্রেন্ড হঠাৎই পরপর তিনদিন মেসেজ দেয়া শুরু করে দিলো কেন? যেন হঠাৎই সিমির নজরে পড়তে চাচ্ছে, কিংবা সিমিকে তার নজরে পড়েছে হঠাৎ। এজন্য তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, সিমি বলল এটা কিছু না। সেটা নাকি খুবই স্বাভাবিক ছিল।’

সিনথিয়া চুপ করে রইলো। সাইফ বলতে থাকলো, ‘সিমির ছেলে বন্ধু থাকতেই পারে; আছেও। সে এসএমএস দিলে সেটাও কোনো মহা সমস্যা নয়। কিন্তু তাই বলে হঠাৎ করে পরপর তিনদিন মেসেজ দেয়া শুরু করে দিলো? এরপর আমার রাগ আরও বাড়লো যখন জানলাম ও সিমির সঙ্গে পরপর দুইদিন দেখাও করেছে।’
‘কীভাবে?’ সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো।
‘প্রথমদিন কী যেন একটা নোট নিবে বলে ওকে বাইরে ডেকে নিয়ে গেল। আমি জানতাম সেটা। তখন কোনো সমস্যা মনে হয়নি। পরদিন আবার ওর বাসার সামনে গিয়ে ওকে ফোন করে বলল বারান্দায় আসতে। বারান্দায় গেল সিমি, ওর সঙ্গে ছেলেটার দেখা হলো দূর থেকে। আর ঠিক ঐ তিনদিনই সকালে ওকে মেসেজ দিয়েছিল ও।’

সিনথিয়া চিন্তায় পড়ে গেল। ওর কাছেও খুব একটা মানানসই মনে হচ্ছে না ব্যাপারটা। সাইফ বলল, ‘সত্যি কথা বলতে কি, এরপর থেকে কয়েকদিন ঐ ছেলেটা কোনো মেসেজ পাঠায়নি বা দেখা করতে চায়নি। অবশ্য সিমি পড়তে গেলে এমনিতেই দেখা হতো। কিন্তু টানা তিনদিন এভাবে মেসেজ দেয়া, দেখা করা, এমন হলে আমার ধারণা যে কোনো ছেলেরই বেমানান লাগবে এবং খুব খারাপ লাগবে।’

‘লাগাটাই স্বাভাবিক।’
‘আমাদের সমস্যাটা আরও বড় আকার ধারণ করে সেখানেই। ব্যাপারটা তিনদিন ঘটলেও এর রেশ ছিল প্রায় এক সপ্তাহ। আমি ওকে যতোই বুঝাতে চেষ্টা করলাম যে ব্যাপারটা স্বাভাবিক না, ও ততোই জেদ করলো যে এটা কিছুই না। বিলিভ মি, সিমি নিজেই একদিন বলেছিল যে দ্বিতীয়দিন বারান্দায় ডেকে দেখা করাটা একটু অন্যরকম মনে হওয়ার মতো। কিন্তু তিন-চারদিন পর সিমি নিজের কথাটাও ভুলে গেল। ও বলতে শুরু করলো ব্যাপারটা কিছুই না।’

‘তখন আমি কিছুতেই ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছিলাম না। আমি সিমিকে সন্দেহ করছিলাম এমনও না। কিন্তু ছেলেটার অ্যাপ্রোচ আমার ভালো লাগেনি তাই ওর সঙ্গে তর্ক করছিলাম। আমি স্বীকার করছি, ব্যাপারটা নিয়ে হয়তো আমি তর্ক একটু বেশিই করেছি। হয়তো আমার ব্যাপারটা ইগনোর করা উচিৎ ছিল। এখন এটা মনে হচ্ছে কারণ, সিমি এখন যুক্তি দেখাচ্ছে, আগে আমাদের ঝগড়া হতো একদিন কি দুইদিন, আর এখন ঝগড়া হয় এক সপ্তাহ। আর এটা বাড়বেই।’

সিনথিয়া চুপ করে রইলো। ভুল বোঝাবুঝিটা সে বুঝতে পারছে।

‘তুমিই বলো সিনথি, তর্ক-ঝগড়া হবেই। এটা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। এটা মেনে নিয়েই রিলেশনে থাকতে হয়। তুমি কারো কাছ থেকে কেবল ভালো আশা করতে পারো না। তার ভালো দিকের সঙ্গে খারাপ দিকও কিছুটা থাকবেই। আমি স্বীকার করবো, যে সিমির কাছে আমি বলার মতো কোনো খারাপ দিকই পাইনি। আগেই বলেছি, ও ছিল অন্যরকম একটা মেয়ে। কিন্তু আমি ঐ সময়ে তর্ক না করেই বা কীভাবে থাকতাম বলো? যদি ইগনোর করতামও, আমার মনে কি একটা সন্দেহ দানা বাঁধতো না? আমার কি একটা অস্বস্তি থেকে যেতো না যে অন্য একটা ছেলে ওর কাছে আসতে চাচ্ছে কি না? আমি বিশ্বাস করি সিমি আমার সাথে প্রতারণা করতো না। কিন্তু যতই বিশ্বাস থাকুক না কেন, এমন সময়ে কি শান্ত থাকা যায়?’

মাথা নাড়লো সিনথিয়া। সাইফ বলতে থাকলো, ‘এই ঘটনার পর দুই-তিনদিন আমাদের কোনো কথা হলো না। তারপর সিমি জানালো, আমাদের দু’জনেরই আরেকবার ভেবে দেখা উচিৎ রিলেশনটা রাখা যাবে কি না। ও আমাকে ভাবার জন্য একদিন সময় দিলো। নিজেও একদিন সময় নিলো। কিন্তু ও একদিন অপেক্ষা করতে পারেনি। সেদিন রাতেই, মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই ও আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলো আমি কী ঠিক করেছি। আমি বললাম, আমি তাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। তাই আমি চেষ্টা করবো বদলাতে।’

‘সিমি বলল, মানুষ নিজেকে বদলাতে পারে না। কিন্তু সিমি এটা লক্ষ্য করলো না যে আমি নিজেকে বদলাচ্ছি না। আমাদের সম্পর্কের প্রথম দিকের বেশ লম্বা একটা সময় আমাদের খুবই ভালো কেটেছে। তখন সেটা কে ছিলো? আমি না? তাহলে আমার নিজেকে বদলানোর তো প্রশ্ন আসছে না।’

সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘তারপর সিমি কী বলল?’
‘সেদিন রাতে আর তেমন কথা হয়নি। পরদিন সকালে সিমি ফোন করে বলল, আমাদের যেভাবে চলছে সেভাবে সে থাকতে পারবে না। আবার সম্পর্ক ভেঙ্গে দিয়েও সে থাকতে পারছে না। এখন সে কী করবে? আমার খুব খারাপ লেগেছিল, আবার ভালোও লেগেছিল যে ও আমাকে এতো ভালোবাসে দেখে। আমি বললাম, ঠিক আছে, আমরা দু’জন আবারো চেষ্টা করি আগের মতো হয়ে যেতে। যেহেতু আমরা এমন ছিলাম, অবশ্যই আমরা চেষ্টা করলে আগের মতো হতে পারবো। ও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলো। আমিও জোর করে মন থেকে ঐ ছেলে আর তার মেসেজের কথা দূর করলাম।’

‘কিন্তু তবুও আমাদের সম্পর্কটা টিকলো না!’ সাইফের গলা পরিবর্তিত হতে শুনে ঝট করে সাইফের দিকে তাকালো সিনথিয়া। কান্না ঠেকানোর প্রাণপণ চেষ্টাটা ওর নজর এড়ালো না। বাইরে তখন তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। সেই বৃষ্টির ফোঁটার দিকে তাকিয়ে সিনথিয়া আপনমনে ভাবলো, কিছু কিছু মানুষ এতো বেশি ভালোবাসে কী করে? আর যারা এতো বেশি ভালোবাসে, তাদেরই কষ্ট পেতে হয় কেন?

সিনথিয়া অপেক্ষা করতে থাকলো ঘটনার শেষটা শোনার জন্য।

(চলবে)


প্রথম প্রকাশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29413138 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29413138 2011-07-15 00:02:45
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ৮)

(পর্ব ৭ )

১৭
দুপুরের পর আবার বৃষ্টি নেমেছে। দুপুরের দিকে বৃষ্টি যা-ই একটু থেমেছিল, সেই ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতেই যেন আকাশ ভেঙ্গে ঢল নেমেছে। একটানা এতো লম্বা সময় এভাবে বৃষ্টি হতে খুব কমই দেখা যায়। সাইফ তার জানালা দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটার মাটিতে পড়া দেখছে। পানি জমে আছে তার জানালার সামনে। সেই জমে থাকা পানির উপর অনবরত বৃষ্টির ধারা পড়ছে। সব মিলিয়ে যেন ছোট্ট একটা লেক তৈরি হয়েছে ওর জানালার সামনেই।

অন্য কোনো সময় হলে হয়তো দৃশ্যটা খুব উপভোগ করতে পারতো সাইফ। কিন্তু এখন আর সে কিছুই উপভোগ করে না। উপভোগ করতে হলেও অনুভূতি থাকতে হয়। আজ তার মধ্য থেকে অনুভূতিগুলো পালিয়ে গেছে। সে এখন চাইলেও কিছু অনুভব করতে পারে না। কেবল একটাই তার অনুভ’তি রয়েছে, তা হলো সিমির অভাব।

তুমুল বৃষ্টির শব্দে কখন থেকে সাইফের ফোন বাজছে সে খেয়ালও করেনি। যখন দেখলো ততক্ষণে দশবার মিসকল হয়ে গেছে। সিনথিয়া ফোন করেছিল। সাইফ আবার ফোন করবে ভাবছে এমন সময় সিনথিয়া আবার ফোন করলো। ফোন ধরলো সাইফ।

‘হ্যালো!’
‘কী ব্যাপার সাইফ? তুমি কোথায় ছিলে? ফোন ধরছিলে না কেন?’ সিনথিয়া উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো।
‘আমি আসলে শুনতে পাইনি। বৃষ্টি হচ্ছিল তো খুব, টেরই পাইনি কখন থেকে ফোনটা বাজছে। সরি।’
‘ওহ, ইট’স ওকে,’ সিনথিয়ার চেপে রাখা শ্বাস ফেলার শব্দ শুনতে পেলো সাইফ, ‘আর আমি ভাবছি কী না জানি কী হলো। তারপর বলো, কী খবর?’
‘এই তো, আছি। বৃষ্টি দেখছি।’
‘বৃষ্টিতে ভিজেছো?’
‘নাহ, আজ ভিজতে ইচ্ছে করছে না। তাছাড়া আমি বৃষ্টি এড়িয়েই চলি।’ মিথ্যেটা সুন্দর করে বলে দিলো সাইফ।
‘হুমম, আমি আজ ভিজেছি অনেকক্ষণ। ছাদে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো ভিজেছি। এতো জোরে বৃষ্টি হচ্ছে শেষে গায়ে যেন কাঁটা বিঁধছিল। তাই বাধ্য হয়ে চলে আসতে হয়েছে। নইলে আরো অনেকক্ষণ ভিজতাম।’
‘হুম।’
‘দুপুরে খেয়েছো?’
সাইফ প্রশ্নটার জবাব দিলো না। উল্টো প্রশ্ন করলো, ‘আংকেল কিছু বলেননি?’
‘কী ব্যাপারে?’
‘এই যে তোমার সঙ্গে আমাকে দেখলো?’
‘আরে ধুর! ওটা আব্বুর আর মনেও নেই। তুমি চিন্তা করো না। আব্বু এসব নিয়ে এতো ঘাঁটায় না।’
‘হুম।’
‘তুমি তো বললে না খেয়েছো কি না। আমি তো গল্প শুনবো।’ নাছোড়বান্দার মতো আবারও জিজ্ঞেস করলো সিনথিয়া।
‘আমার খিদে লাগেনি। রেস্টুরেন্টে যে খেয়েছিলাম ওটাই এখনো পেটে রয়ে গেছে।’
‘হুম। আমার অবশ্য খিদে লেগেছে আবার। খেয়ে নিয়েছি একটু আগে।’
‘হুম।’

সিনথিয়া বুঝতে পারলো সাইফের মন খারাপ। এই সময় ওকে আবার সিমির কথা জিজ্ঞেস করে মন আরও খারাপ করাতে ইচ্ছে করলো না। তাই ও অন্য বিষয়ে কথা বলতে থাকলো। সাইফও মন খারাপ নিয়েই সিনথিয়ার সঙ্গে কথা বললো। কিন্তু ওর মন কিছুতেই এই কথাবার্তায় থাকছিলো না। ওর কেবলই মনে পড়ছিল সিমির কথা। ওরা একসঙ্গে থাকার সময়, অর্থাৎ ওদের সম্পর্ক থাকার সময় সিমিকে ও কিছুতেই বাসার বাইরে বৃষ্টিতে ভিজতে দিতো না। একদিন সে সিমিকে ভিজে কাঁপতে দেখেছে। সেটাই তার চোখে ভাসে। সে সাফ বলে দিয়েছিল, কোনো জায়গা থেকে বাসায় ফেরার সময় ভিজলে অসুবিধা নেই, কারণ বাসায় ফিরেই কাপড় বদলে ফেলতে পারবে। কিন্তু কোথাও যাওয়ার সময় কিছুতেই যেন বৃষ্টিতে না ভিজে। ভিজলে সাইফ অনেক রাগ করতো। আর সেই রাগটা বুঝতোও সিমি।

আজ সিমি কী করছে, কেমন আছে, সাইফ জানে না। সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরও ও চেষ্টা করেছিল সিমির খোঁজ-খবর অন্তত রাখতে। কিন্তু সিমি আগের মতো ওর সঙ্গে আর কিছুই শেয়ার করেনি। সাইফের একাকীত্বকেও সিমি কোনো পাত্তা দেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই সাইফ কষ্টটা মেনে নিয়েছে। কাউকে ভালোবাসলেই তাকে পাওয়া যায় না। কিন্তু না পাওয়া গেলেও মন খুলে ভালোবাসা যায়। সাইফকে হয়তো বাকি সময়টা এভাবেই সিমিকে ভালোবাসতে হবে। তার সঙ্গী এখন কেবল সিমির স্মৃতি।

১৮
সেদিন রাতে সিনথিয়া ফোন করলো। অসময়ে সিনথিয়ার ফোন দেখে সাইফ বেশ অবাক হলো। ফোন রিসিভ করে অবাক হয়ে সে বলল, ‘হ্যালো, সিনথি?’
‘হ্যাঁ, সাইফ, ডিস্টার্ব করছি না তো?’
‘না বলো, তুমি এই সময়ে?’
‘কথা বলতে ইচ্ছে করছিল তাই ফোন করলাম। তোমার বাসায় সমস্যা হবে না তো?’
‘আমার কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু তোমার সমস্যা হবে না? রাতে ফোনে কথা বলছো?’
‘না আমার সমস্যা হবে না। আজ আমার বড় আপু বাসায় নেই, তার রুমটা দখল করেছি। তাই আজ কথা বলা নিরাপদ।’
‘আপু কোথায় গেছে?’
‘আপু ঢাকার বাইরে গেছে বেড়াতে। সঙ্গে তার কয়েকজন বান্ধবীও গেছে।’
‘হুম। তারপর কী খবর?’
‘এই তো। তুমি কী করছিলে?’
‘পড়া রেডি করলাম। এখন পিসিতে বসতাম।’
‘কাজ আছে নাকি? তাহলে আমি রাখবো?’
‘না কোনো কাজ নেই। প্রতিদিন কম্পিউটারে বসা আমার অভ্যাস। সেটাই। জরুরি কিছু না।’
‘হুম।’

এরপর সিনথিয়া আর সাইফ দু’জনই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। দু’জনেই অপরজনের কথা বলার অপেক্ষা করছে, কিন্তু নিজে বুঝতে পারছে না কী বলা যায়। অবশেষে সিনথিয়াই নীরবতা ভাঙলো। ‘সিমির ব্যাপারে কি এখন বলবে?’
সাইফ এবার জিজ্ঞেস করলো, ‘ওর ব্যাপারে শুনতে তোমার এতো আগ্রহ কেন বলতো?’
সিনথিয়া যেন একটু থমকে গেল। কিছুটা তোতলাতে তোতলাতে বলল, ‘না মানে এমনি। তোমার কথা থেকে যতটুকু বুঝেছি, মনে হয়েছে তোমাদের খুব ভালো একটা সম্পর্ক ছিল। সেটা কীভাবে ভাঙলো, কেনই বা ভাঙলো, এটা জানার আগ্রহই একটু বেশি। আর কিছু না।’

‘তবে তোমার এ ব্যাপারে কথা বলতে ইচ্ছে না করলে না বললেও চলবে,’ তাড়াতাড়ি এটাও বলে নিল সিনথিয়া।

সাইফ বলল, ‘না ঠিক আছে। তোমার শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে, আমার বলতে আপত্তি নেই।’

তারপর আবারো নীরবতা।

তবে এবার নীরবতা ভাঙলো সাইফই। ‘সিমির সঙ্গে ওর বয়ফ্রেন্ডের ব্রেকআপ-এর পর যথারীতি আমাদের ফ্রেন্ডশিপ থাকলো। আমরা একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলতাম। সময় কাটাতাম। দেখা করতাম; যদিও সেটা একেবারেই মাঝে মাঝে। তো এভাবে আমরা একে অপরের আরো কাছে চলে আসলাম।’

‘একটা পর্যায়ে ওর সঙ্গে আমার কথা বলার আর কোনো বাঁধও রইলো না। আমরা দুনিয়ার যত বিষয় আছে সব নিয়ে কথা বলতাম। ওর সঙ্গে টিটকারি দিতাম। আর প্রচুর দুষ্টামি করতাম। এভাবে দুষ্টামি করতে করতেই আমাদের দিন পার হতো।’

‘কী রকম দুষ্টামি?’ সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো।
সাইফ সেটার উত্তর না দিয়ে হাসলো। সিনথিয়া বুঝতে পারলো সাইফ বলতে চাচ্ছে না। ‘আচ্ছা ঠিক আছে তারপর বলো।’
‘তারপর একদিন ও ভাবলো, আমরা দু’জন যেসব দুষ্টামি করতাম, এগুলো যদি সত্যি হতো, তাহলে ভালো হতো। একসময় ও আমাকে জানালো এটা। তখন আমার নিজেকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়নি। ও খুবই ভালো একটা মেয়ে। বিশেষ করে একটা সম্পর্কে ও যতোটা অনেস্ট থাকে, আমি নিজেই দেখেছি, এমন একটা মেয়েকে পাওয়া নিতান্তই ভাগ্যের ব্যাপার। আমি নিজের জন্য ওকে নিয়ে কখনোই ভাবিনি। কারণ, নিজেকে এতোটা লাকি ভাবতে পারিনি আমি। সেই ও-ই যখন নিজে থেকেই বলে সম্পর্কের কথা, তখন নিজের কানকে বিশ্বাস করাও কঠিন হয়ে যায়।’

‘এরপর আর কি। আমাদের সম্পর্ক তৈরি হয় খুবই নাটকীয়ভাবে। ও একদিন এক জায়গায় বেড়াতে যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় রাতে মেসেজের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আমাদের মাঝে খুব ইনটিমেটলি কথা হয়। প্রথম ‘ভালোবাসি’ কথাটা ওর মুখ থেকে শুনি।’

‘আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে চলে। ওকে পেয়ে আমার মনে হয় অবিশ্বাস্য কিন্তু অতি আকাঙ্ক্ষিত কোনো কিছু পেয়ে গেছি। নিজের জীবনকে নিয়ে, নিজেকে নিয়ে এর আগে কোনোদিনই আমি এতোটা সুখী হতে পারিনি যতোটা ওকে পাওয়ার পর হয়েছিলাম। আমার জীবনের কষ্টের শেষ ছিল না। নানা কারণে, নানা সমস্যায় এতটুকু জীবন তখনো জর্জরিত ছিল। কিন্তু কেবল সিমির উপস্থিতি, সিমির ভালোবাসাই আমার হাসিখুশি থাকার প্রেরণা ছিল। হাজারটা কষ্টের মাঝে আমি সুখ খুঁজে নিয়েছি সিমির কথা ভেবে। যে কোনো কষ্ট, বিপদ উপেক্ষা করেছি কেবল ভবিষ্যতে আমি আর ও একসঙ্গে থাকবো ভেবে। আসলে সিনথি, আমার পক্ষে কোনোভাবেই বলা সম্ভব নয় ওকে পেয়ে আমি কতোটা সুখী হয়েছি, ওকে কী পরিমাণ ভালোবেসেছি, আর ওরও কতো ভালোবাসা আমি পেয়েছি।’

‘আমি বুঝতে পারছি সাইফ,’ সান্তনা দেয়ার জন্য বলল সিনথিয়া। কিন্তু সে জানে, প্রিয় কেউ যখন দূরে চলে যায়, সেই কষ্টে কোনো সান্তনাই কাজে লাগে না।

সাইফ বলতে থাকলো, ‘আমার সবচেয়ে ভালো লাগতো ওর খোঁজ-খবর রাখতে, ওর টেক কেয়ার করতে। ও মেয়েটা ছিল বেশ খামখেয়ালী। শরীর খারাপ হলে ডাক্তার ওষুধ দিলে কীভাবে সেই ওষুধ ফাঁকি দেবে সারাক্ষণ এই কুটনামি করতো। আর ভাত খেতো এক প্লেটের চারভাগের একভাগ। শুধু তাই না, রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় তিলের সমান পাথর বা ইটের টুকরোর সঙ্গে পা লেগে বারবারই পড়ে যেতে নিতো।’

সিনথিয়া হাসলো। তার কল্পনায় একটু একটু করে সিমি ভেসে উঠছে। সে বলল, ‘আর তুমি নিশ্চয়ই তাকে খুব বকতে?’

‘তা অবশ্য বকতাম। এক বেলা ওষুধ না খেলে আমি তিন বেলা কিছু খেতাম না। আর কোনো ভাবে দেখা হলে তো কথাই নেই। দোকান থেকে ওষুধ কিনে চেপে ধরে ওষুধ খাইয়ে দিতাম। আর রাস্তায় হাঁটার সময় পিচ্চি মেয়ের মতো ধরে রাখতাম। তারপরও খালি হোঁচট খেতো।’ সাইফ থামলো। তার সেই সুখময় পুরনো দিনগুলোর কথা খুব বেশি মনে পড়ছে।

সিনথিয়া অপেক্ষা করছে।

সাইফ আবার বলতে শুরু করলো, ‘আমার খুবই ভালো লাগতো ওর খেয়াল রাখতে। ওকে পিচ্চি বাবুর মতোই ট্রিট করতাম অনেকটা। একইসঙ্গে ওর মতেরও মূল্য দেয়ার চেষ্টা করতাম। আমার কিছু করতে ইচ্ছে না করলেও ওর খুশির জন্য চেষ্টা করতাম করতে। ওকে খুব বেশিই ভালোবাসতাম আমি। এতোটাই বেশি যে, ওর জন্য আমি সবই করতে পারতাম। মাঝে মাঝে না বুঝে ওকে কষ্টও দিয়ে ফেলতাম। কিন্তু তার জন্য পরে আমি নিজেই বেশি কষ্ট পেতাম।’

‘আর তারপর একদিনের ঘটনায় আমার এতো স্বপ্ন, এতো আশা ভালোবাসা নিয়ে তিলে তিলে গড়া স্বপ্নীল ভবিষ্যত ভেঙ্গে গুড়িয়ে গেল। ও চরমতম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়ে আমাকে ছেড়ে দূরে চলে গেল। আর আসলো না। হয়তো আসবেও না। কিন্তু ওর এই নিষ্ঠুরতায় ছিন্নভিন্ন হয়েও যে ওকে ঘৃণা করতে পারি না। ওকে ভুলতে পারি না। ওর প্রতি রাগ জন্মাতে পারি না। আমি কী করবো সিনথি? আমার সব আশা এভাবেই ভেঙ্গে যাওয়ার দরকার ছিল?’

সিনথিয়া কী বলবে খুঁজে পেলো না। ওর এখন নিজেরই কষ্ট হচ্ছে। সাইফের মনটা মোটামুটি ভালোই ছিল। এখন এই রাতে ফোন করে সাইফের কষ্টটা জাগিয়ে তোলার জন্য নিজেরই অনুশোচনা হচ্ছে। তাই সিনথিয়া আজ রাতে আর তেমন কিছু জিজ্ঞেস করলো না। ঠিক করলো, পরদিন কলেজে গিয়ে জানবে। কী এমন ঘটনা এক জোড়া সুন্দর স্বপ্নকে ছিন্নভিন্ন করে দিল?

(পর্ব ৯ )

প্রথম প্রকাশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29410776 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29410776 2011-07-10 23:34:24
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ৭)

(পর্ব ৬ )

১৫
রেস্টুরেন্টে পৌঁছে দেখলো মাত্র খুলেছে রেস্টুরেন্টটা। এখনো ভেতরটা গোছগাছ করাও হয়নি। রেস্টুরেন্টটা চালাচ্ছে অল্পবয়সী এক ছেলে। সিনথিয়াকে দেখেই সে সিনথিয়ার খোঁজ খবর নিলো। কলেজ পালিয়ে এসেছে সেটা দেখেই বুঝেছে তাই এ নিয়ে আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না। ওদেরকে বসতে বলল। খাবার দিতে আরও কমপক্ষে এক ঘণ্টা লাগবে বলে জানালো। সিনথিয়াও জানিয়ে দিলো ওদের সময় দুপুর পর্যন্ত অফুরন্ত!

সিনথিয়া তার ব্যাগ পাশের চেয়ারে রেখে আরাম করে বসলো। বসেই সাইফকে তাগাদা দিতে শুরু করলো সিমির কথা শুরু করতে। সাইফের খানিকটা অবাকই লাগলো। অন্য কেউ হলে অবাক হতো না। ভালোবাসার সত্যি গল্প শোনার আগ্রহ অনেকেরই থাকে। কিন্তু সিনথিয়ার ক্ষেত্রে তো ব্যাপারটা ভিন্ন। তবুও সে বলতে শুরু করলো।

‘সিমি একদিন জানালো ও আর ওর বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে রিলেশন রাখবে না। ব্যাপারটা শুনে আমি খুব একটা অবাক হইনি। কারণ মাত্র ২ মাসে আমি ওকে বহুবার এমন একশ’ ভাগ সিরিয়াস ডিসিশন নিতে দেখেছি। প্রতিবারই আমার মনে হয়েছে এবার ও আর সুযোগ দেবে না। কারণ, প্রতিবারই ওর এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে কারণ থাকে। সেবার জানলাম ওর বয়ফ্রেন্ড তার একটা ফ্রেন্ডকে দিয়ে সিমিকে কথা শুনিয়েছে। অর্থাৎ, তৃতীয়পক্ষের একটা মানুষকে হর-হামেশাই ওর বয়ফ্রেন্ড ওদের মাঝে ইন্টারফেয়ার করতে দিতো। কেবল তাই না, সে সিমিকে রীতিমতো বকাঝকাও করতো। এসব শুনে আমার অবাকই লাগতো, রাগও হতো। কিন্তু কখনো জোর দিয়ে বলতাম না যে রিলেশন ব্রেক আপ করে ফেল। কারণ, আমিও একটা ছেলে। স্বাভাবিকভাবেই একটা মেয়েকে এই বিষয়ে জোর করলে ব্যাপারটা অন্য রূপ নেয়।’

সিনথিয়া মাথা দোলালো।

‘প্রায় দশ-বারোবার সুযোগ দেয়ার পর সেবারই ছিল সিমির শেষ সিদ্ধান্ত। ও ঠিক করলো, আর যত যাই হোক, ও কখনোই ওর বয়ফ্রেন্ডের কাছে ফিরে যাবে না। আমি প্রথম দিকে কিছু বলিনি। পরে অবশ্য কয়েকবার ওকে বলেছি ওর বয়ফ্রেন্ডের বিষয়টা ভেবে দেখতে। কারণ, ব্যক্তিগতভাবে আমি যে কোনো রিলেশন ভেঙ্গে যাওয়া দেখতে পছন্দ করি না। এমনকি চিনি না জানি না এমন মানুষের ক্ষেত্রেও সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার কথা শুনলে আমার মন খারাপ হয়ে যায়। কারণ, একটা সম্পর্কে শুধু দু’টো মানুষ নয়, তাদের হাজার হাজার স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে। এই একটা জিনিস যে কোনো কঠিন মনের মানুষকেও শিশুর মতো অনুভূতি দিতে পারে। তাই আমি কয়েকবার ওকে বলেছিলাম আর একবার হয়তো ভেবে দেখতে পারে। কিন্তু ও তার সিদ্ধান্তে অটল ছিল। আমারও ওর এতো কষ্ট পাওয়া দেখতে ভালো লাগতো না। তাই আমিও তেমন কিছু বললাম না। ওর জীবন, সিদ্ধান্তও ওর।’

‘কিন্তু পুরোপুরি ব্রেকআপের পর মানসিকভাবে সিমিও অনেক ভেঙ্গে পড়েছিল। ওর মধ্যে এই ধারণাটা পাকাপোক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছিল যে ওর জীবনটা শেষ হয়ে গেছে।’
সিনথিয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘আশ্চর্য! একটা রিলেশন ব্রেকআপ হলে জীবন শেষ হওয়ার কী আছে?’
সাইফ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে তারপর বলল, ‘সিমির সাথে ওর ফিজিক্যাল রিলেশন ছিল।’
‘ওহ!’
‘আর এজন্যই ও খুব ভেঙ্গে পড়েছিল।’
‘বুঝতে পারছি।’
‘তখন আমি ওকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে আজকের যুগে এটা এমন বড় কোনো ব্যাপার না। এমনটা হতেই পারে যেহেতু ওর সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ও তবু মানতে চাইতো না। ও ভাবতো ওর জীবনটা ওখানেই শেষ। আমি ওকে সবসময়ই বলে এসেছি যে দেখ, কেউ যদি তোকে ভবিষ্যতে সত্যি সত্যি ভালোবাসে, সে তোর অতীত নিয়ে ঘাঁটাবে না। ভালোবাসা মানুষের অতীত দেখে না, কেবল ভবিষ্যত নিয়ে স্বপ্ন বুনে। কিন্তু সিমির মনে কোনো ধারণা গেঁথে গেলে সেটা ছাড়ানো প্রায় অসম্ভব। তবুও আমি ওকে সঙ্গ দিলাম। ওকে ইন্সপায়ার করে চললাম।’

সিনথিয়া মাথা দোলালো, ‘তারপর?’
‘এর মধ্যে আরেকটা ঘটনা হয়েছিল। কিছু সমস্যার কারণে আমি বেশ সিরিয়াস একটা ডিসিশন নিয়েছিলাম।’
‘কী ডিসিশন?’
সাইফ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তার দৃষ্টি টেবিলের দিকে। ধীরে ধীরে সে বলল, ‘বলতে পারো আত্মহত্যা করার একটা চেষ্টা।’
সিনথিয়া অবাক হয়ে গেল। বলল, ‘বলো কী? কেন? কী হয়েছিল?’
‘নতুন কিছু না। আমি নিজেও যথেস্ট স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। ব্যাপারটা ছিল পারিবারিক। কাকতালীয়ভাবে আমাদের দু’জনেরই পারিবারিক সমস্যা থাকলেও আমাদের সমস্যাটা বেশি ছিল। কারণ, সব সমস্যার উপর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো আমাদের ছিল প্রবল আর্থিক টানাপোড়েন। সব মিলিয়ে খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে আমি দিন কাটিয়েছি যেটা বাইরের কাউকে এমন কি তোমাকেও বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কিন্তু তবুও আমি ভালো থাকতাম। এর কারণ এই নয় যে সিমি আমাকে ইন্সপায়ার করতো। হ্যাঁ, আমি স্বীকার করবো যে সিমিও আমাকে অনেক উৎসাহ যুগিয়েছে। কিন্তু ঠিক ঐ সময়টায় আমিই সিমিকে বেশি উৎসাহ যুগিয়েছি, মন ভালো করার চেষ্টা করেছি। কারণ, ও একটা রিলেশনশিপের সমস্যায় ছিল। আর আমার মতে একটা রিলেশনশিপের সমস্যা অন্য যে কোনো সমস্যার চেয়ে প্রবলভাবে মনের উপর প্রভাব ফেলে।’

সিনথিয়া বলল, ‘হুম, তা সত্যি।’
‘তবে একটা কথা কি জানো, ওকে এই ইন্সপায়ার করেই আমি অনেক আনন্দ পেতাম। ভেবে দেখো, একটা মেয়ে, যে আমার খুব ভালো ফ্রেন্ড, তাকে উৎসাহ যোগানোর মতো আমি ছাড়া কেউ নেই, যে আমার উপর ভরসা করে, একমাত্র আমিই যার মন ভালো করতে পারি, যে আমার সঙ্গে সব শেয়ার করতে পারে, এই অনুভূতির সঙ্গে পৃথিবীর আর কোনোকিছুর তুলনা হয় না।’
‘হুম।’
‘কিন্তু তবুও একবার আমি নিতান্তই বেপরোয়া হয়ে গেছিলাম। বেশ কিছু জিনিসপত্র জোগাড়ও করে ফেলেছিলাম সুইসাইডের জন্য। সেগুলো আজও সিমিকেও জানাইনি। আসলে সাহস পাইনি। আমরা একজন আরেকজনকে শাসনও করতাম সেভাবেই। তাই বলতে পারো ভয়েই সিমিকে আজও বলতে পারিনি সেদিন আমি কী জোগাড় করেছিলাম,’ সাইফ হাসলো।
‘আমাকে বলা যাবে?’ উৎসাহের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলো সিনথিয়া। কিন্তু তাকে হতাশ করে দিয়ে মাথা নাড়লো সাইফ।

‘সময়টা ছিল কুরবানীর ঈদের সময়। ও বাসায় যেতে বলেছিল। আমি গেলাম। তখনও সিমির বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ওর ব্রেকআপ হয়নি। আমি সেদিন সন্ধ্যায় ওকে সব খুলে বলেছিলাম। ওকে খুব শান্তভাবে বলেছিলাম আমার সিদ্ধান্তের কথা। কিন্তু আমার কথা শেষ করে ওর দিকে তাকাতেই বুকটা যেন ধ্বক করে উঠেছিল। ও চুল দিয়ে যতোই ঢাকার চেষ্টা করুক ওর চোখের পানি আমার নজর এড়ায়নি। সত্যি বলছি, আমি রীতিমতো অবাক হয়েছিলাম। সিমি কাঁদছে কেন?’

‘সিমি সেদিন আমাকে কিছু কথা বলেছিল। কথাগুলো আমিই ওকে বলেছিলাম, সে আমাকে কথাগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছিল।’
সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘কী কথা?’
সাইফ সিনথিয়ার উৎসাহ দেখে বলতে শুরু করল, ‘তেমন কিছু না। আমি মজা করে বলতাম ওদের বিয়ের পর ওর যখন ছেলেমেয়ে হবে তখন আমি খুব রসিয়ে রসিয়ে ওদের দু’জনের প্রেম কাহিনী ওর বাচ্চাদের শোনাবো। আর বলতাম প্রায়ই আমি গিয়ে ওর বাচ্চা নিয়ে চলে আসবো। শুধু বাবুর খিদে পেলে বাবুকে নিয়ে খাইয়ে আবার নিয়ে আসবো।’

সিনথিয়ার মুখটা হাসি হাসি হয়ে গেল। সে কথাগুলো শুনে ও কল্পনা করে খুব মজা পাচ্ছে। যেন অত্যন্ত আন্তরিক দু’জন বন্ধুর গল্প শুনছে।

সাইফ বলল, ‘সিমি সেদিন বলেছিল যে, ও আমার এই সব কথা কল্পনা করেছে। ও মনে মনে ভেবেছে যে একদিন ওদের বিয়ে হবে আর আমি ওদের বাসায় গিয়ে এইসব শয়তানী করবো। আজ আমার এই সিদ্ধান্ত শুনে সে খুবই ভেঙ্গে পড়েছে।’

‘আমি সিমিকে এর আগে একবার কাঁদতে শুনেছি। বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ঝগড়া করে আমার সাথে কাঁদছিল। আমি কোনোরকমে শান্ত করেছিলাম। কিন্তু আজ জীবনের প্রথম ওর মুখে কান্না দেখতে পেলাম, যেই মুখে আমি কেবল হাসি দেখতেই পছন্দ করি। তারচেয়েও বড় কথা, এই কান্না ছিল আমার জন্য। আমার বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছিল যে আমি মরে গেলে কেউ আমাকে “কাঁদার মতো” মিস করবে।’

সাইফ চুপ করলো। রেস্টুরেন্টের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে বাইরে তখন বৃষ্টি হচ্ছে। টুপটাপ বৃষ্টি নয়, একেবারে প্রবল বর্ষণ। সিনথিয়াও অধীর আগ্রহে সাইফের দিকে তাকিয়ে আছে ওর কথা শোনার জন্য।

সাইফ একটু পর বলতে শুরু করলো, ‘বিশ্বাস করবে না সিনথি, আমি কতোটা কষ্ট বুকে নিয়ে সেদিনের সব পরিকল্পনা বাতিল করেছি শুধু সিমির জন্য। ও আমার জাস্ট একটা ফ্রেন্ড ছিল। কিন্তু এতোই মূল্যবান যার জন্য আমি একশো’টা কষ্ট মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি। বিশ্বাস করো, ঐদিন যদি আমি ওর বাসায় না যেতাম বা ও আমাকে না ঠেকাতো, আজ আমি এখানে থাকতাম না। আজ আমি হতাম মৃত পচা-গলা এক লাশ।’

সিনথিয়া মাথা নিচু করে বসে রইলো। ওর এই ধরনের কথা শুনতে গা শিরশির করে।

‘যাই হোক, ওর জন্যই আমি বেঁচে রইলাম। পরে যখন ওর ব্রেকআপ হয়ে গেল, তখন আমি ওকে দিনরাত কেবল বুঝাতাম আর মন ভালো রাখার জন্য লড়াই করতাম। আমার এই দায়িত্বটা খুবই ভালো লাগতো। আরো বেশি ভালো লাগতে কারণ আমি ওকে বুঝালে, ওর মন ভালো করার চেষ্টা করলে ও সেটাকে খুব অ্যাপ্রেশিয়েট করতো। খুব খুশি হতো। আমাদের সেই দিনগুলো অনেক সুন্দর ছিল।’

সাইফের স্বপ্নীল চোখগুলো ছলছল করে উঠতে দেখে সিনথিয়া চোখ ফিরিয়ে নিলো। ও কেন যেন সাইফকে কাঁদতে দেখলে নিজেও ঠিক থাকতে পারে না।

রেস্টুরেন্টে বসে আর তেমন কথা হলো না। দুপুর হয়ে আসছিল তাই ওরা রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে কলেজের পথ ধরলো।

১৬
কলেজের সামনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই ছুটি হলো। ওদের ক্লাসের কয়েকটা ছেলেমেয়ে ওদের একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দূর থেকেই হাসলো। কলেজে একটা কানাঘুষা চলছিল যে সাইফ আর সিনথিয়ার মাঝে রিলেশন আছে বা হবে। আজ বুঝি সেটা পূর্ণতা পেল।

এমন সময় হঠাৎই যেন সামনে মধ্যবয়সী একটা লোক উদয় হলো। সাইফ পরিস্কার দেখলো হঠাৎ লোকটাকে দেখে সিনথিয়া একটু হতচকিয়ে উঠল। কিন্তু সামলে নিয়ে বলে উঠল, ‘আব্বু তুমি এখানে? তোমার না অফিসে যাবার কথা ছিল?’
লোকটা হেসে জবাব দিল, ‘আজ যাইনি। ভাবলাম তোকে নিয়ে যাই এসে।’
সাইফ আর সিনথিয়া একইসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল। তাই সিনথিয়ার এখন উচিৎ সাইফকে তার বাবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া। নইলে ব্যাপারটা খারাপ দেখাবে। এই ভেবে সে তার বাবাকে বলল, ‘আব্বু এটা হচ্ছে সাইফ। আমার ভালো ফ্রেন্ড। আমরা একই ক্লাসে পড়ি।’

সাইফ সিনথিয়ার বাবাকে সালাম দিলো। লোকটা মাথা নেড়ে হ্যান্ডশেক করলো সাইফের সঙ্গে। সাধারণত মেয়েরা বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ধরা পড়লে ফ্রেন্ড হিসেবেই পরিচয় দিয়ে থাকে। আর তখন বাবা বা মা সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায়। সাইফ সিনথিয়ার বাবার চোখেও সেই সন্দেহের দৃষ্টি দেখতে পেল এক মুহুর্তের জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি হেসে সাইফের সঙ্গে কথা বললেন।

দু-চারটা কথা বলার পর সিনথিয়ার বাবা সিনথিয়াকে বললেন, ‘ঠিক আছে তুই দাঁড়া আমি পার্কিং লট থেকে গাড়ি বের করে আনছি।’
‘ওকে আব্বু।’

তিনি বলে যেতেই সিনথিয়া বলল, ‘আমার আব্বুকে কেমন দেখলে? তিনি কিন্তু কিচ্ছু মনে করেননি আমি একটা ছেলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি বলে।’
সাইফ বলল, ‘আমি কিন্তু তার চোখে কিছুক্ষণের জন্য সন্দেহটা টের পেয়েছি।’
সিনথিয়া হাসলো, ‘ওটা কারণ আছে। তুমি সালাম দিয়ে ভালো করেছ। আমি বেঁচে গেছি। সালাম না দিলেই বরং আমি বিপদে পড়তাম।’
সাইফ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘কেন? তোমার আব্বুর সামনে এসে কেউ তার উপর শান্তি বর্ষণের দোয়া না করলে তিনি রাগ করেন বুঝি?’
সিনথিয়া হা হা করে হেসে বলল, ‘আরে না! আমি স্কুলে থাকতে একবার আমার একটা ফ্রেন্ড মানে ক্লাসমেটের সঙ্গে আব্বুর দেখা হয়েছিল। ও ছিল একটু মানে ওভারস্মার্ট টাইপের। কিংবা বলতে পারো ইয়ো ইয়ো টাইপ ছেলে। তো আমি আব্বুর সঙ্গে ওর পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর ও কী বলেছিল জানো?’
‘কী?’
সিনথিয়া আবার হাসতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ হেসে তারপর বলল, ‘আব্বুকে ও সালাম তো দিলোই না, বরং সে ভাব নিয়ে বলল, ইয়ো ম্যান, হোয়াট’স আপ?’ সিনথিয়া আবারও হাসতে লাগলো। ‌
সাইফও এই কথা শুনে আর হাসি চাপতে পারলো না। সিনথিয়ার সঙ্গে ও হাসতে শুরু করলো। কিন্তু ও হাসতে শুরু করতেই সিনথিয়া ওর দিকে তাকিয়ে রইলো।

সাইফকে এভাবে প্রাণখুলে হাসতে ও আগে কোনোদিন দেখেনি।

(পর্ব ৮ )

প্রথম প্রকাশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29409063 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29409063 2011-07-07 21:30:52
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ৬)

(পর্ব ৫ )

১৩
‘সিমির সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব এতোটাই ঘনিষ্ঠ ছিল যে আমাদের দু’জনের এমন কোনো কথা নেই যা অন্যজন জানতো না,’ সাইফ বলতে শুরু করলো। ‘ও ওর জীবনের খুঁটিনাটি যেমন আমার সঙ্গে শেয়ার করতো, আমিও আমার জীবনের খুঁটিনাটি সবই ওর সঙ্গে শেয়ার করতাম। বলা যেতে পারে, আমার জীবনের প্রথম বেস্ট ফ্রেন্ড হওয়ায় আমিও মন খুলে ওর সঙ্গে কথা বলতাম। তবে একটা সময় পরে ওর সঙ্গে যত কথা হতো তার বেশিরভাগই ছিল ওর বয়ফ্রেন্ড নিয়ে। কারণ, ঐ সময়টায় ওদের মধ্যে বেশ সমস্যা চলছিল।’

সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘কী সমস্যা?’

‘সমস্যাটা কী নিয়ে এর উত্তর আসলে এক কথায় দেয়া মুশকিল। আগেই বলেছি, ওর বয়ফ্রেন্ড খুব পজেজিভ মাইন্ডেড ছিল। তাই ছোটখাটো বিষয়েও অনেক বড় সমস্যার সৃষ্টি হতো। যেমন ধরো ওকে জিজ্ঞেস না করে কাউকে সিমি ফেসবুকে ফ্রেন্ড বানালে, কিংবা নিজের কোনো ছবি ফেসবুকে দিলে ও রেগে যেত। এ নিয়ে ওদের সমস্যা দিনকে দিন বেড়েই যাচ্ছিল। আর সিমি এই স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিল।’

‘তখন আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করতাম ওর মন ভালো রাখার। ওর মন অন্য বিষয়ে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করতাম। ওকে হাসানোর চেষ্টা করতাম। খুব একটা পারতাম না অবশ্য। ও আমার সঙ্গে ওর মনের সব কথা খুলে বলতো। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। শুনতে ভালো লাগতো ওর কথা। ওর সমস্যা নিয়ে টেনশন করতাম। পরামর্শ দিতাম। আমি যে ওর কথা শুনছি এ নিয়েও ও বেশ খুশি ছিল। ও বলতো, ওর কথা শোনার কেউ নেই। তা শুনে অবশ্য আমার ভালোই লাগতো। কারো জীবনে একেবারে আলাদা কেউ হওয়ার অন্যরকম একটা অনুভূতি আছে। এই অনুভূতি শুধু ভালোবাসা থাকলেই হবে এমন কিন্তু নয়। কারণ, তখন আমাদের মাঝে এমন কোনো সম্ভাবনাও ছিল না। আমরা অনেক কাছে ছিলাম। আবার একই সঙ্গে বেশ খানিকটা দূরত্ব বজায় রাখতাম।’
‘এর মাঝে সিমির সঙ্গে আমার কয়েকবার দেখা হলো। বেশিরভাগই শুক্রবারে। ও পড়ার নাম করে বের হয়ে আমাকে হঠাৎ হঠাৎ ফোন দিয়ে বাইরে ডাকতো। ডেকে নিয়ে অবশ্য সরি বলতো আমাকে এভাবে যখন-তখন ডেকে নেয়ার জন্য। কিন্তু আমার খারাপ লাগতো না। একটা মেয়ে বলে নয়, সিমি বলে, জাস্ট ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি বলে ও আমাকে যখনই ডাকুক আমার যেতে খারাপ লাগতো না। আমরা রাস্তার ধারে বসে কথা বলতাম। বেশিরভাগই ওর আর ওর বয়ফ্রেন্ডের সমস্যার কথা। আমি মন দিয়ে শুনতাম। মন খারাপ করতাম। কারণ, সিমি অনেক ভালো একটা মেয়ে। অ-নে-ক ভালো এবং খুবই এক্সেপশনাল ধরনের একটা মেয়ে। আর ও ওর বয়ফ্রেন্ডকে খুবই ভালোবাসতো। এমন ভালোবাসা পেয়েও কেউ দিনের পর দিন মানসিক কষ্ট দিতে পারে কীভাবে এটা ভেবে অবাক লাগতো।’

সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘ওর বয়ফ্রেন্ড জানতো যে ও তোমার সঙ্গে দেখা করছে?’
সাইফ বলল, ‘দেখা হচ্ছে এটা জানতো। কিন্তু ঠিক কখন দেখা হচ্ছে এটা জানতো না। এ নিয়ে তখন অবশ্য সিমিকে আমি বলতাম যে এটা ঠিক হচ্ছে না। কিন্তু সিমি ততোদিনে কষ্ট পেতে পেতে কেয়ারলেস হয়ে গিয়েছিল। আর ওর সব কথা আমাকে না বললে ও শান্তি পেতো না।’ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল সাইফ। ‘আর আজ ও আমার থেকে কত দূরে চলে গেল। আমার যে এটা ভাবতেই কতোটা ভালো লাগতো যে ও আমার সঙ্গে সব কথা শেয়ার না করলে থাকতে পারে না, ও কোনোদিনই জানবে না।’

সিনথিয়া চুপ করে রইলো। কষ্টটা মেনে নিয়ে সাইফের আবার বলা শুরু করার অপেক্ষায় রইলো। কিছুক্ষণ পরই সাইফ আবার বলতে শুরু করলো, ‘ওর আর আমার বন্ধুত্বের সময়গুলোর মনে রাখার মতো একটা ঘটনা হলো ওর কলেজ পালানোর কথা। ও একদিন খুব সকালে উঠে আমাকে ফোনে জিজ্ঞেস করলো ও আজ কলেজে যাবে না আমি দেখা করতে পারবো কি না। শুনে তো আমি অবাক। আমি তখনো ঘুমাচ্ছিলাম। ও যখন ডাকছে তাই আর না করিনি। রেডি হয়ে বের হলাম। সেদিন ও আর আমি টিএসসি গিয়েই অর্ধেক দিন কাটালাম। ওটাই ছিল আমার প্রথম টিএসসি যাওয়া।’

‘আমরা গিয়ে নামলাম নিউ মার্কেট। সেখান থেকে রিকশায় টিএসসিতে। ওখানে গিয়ে প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না কোথায় বসা যায়। কতগুলো ছেলেকে দেখলাম বারান্দায় ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে। আর রাস্তার পাশে অনেকগুলো চা-সিগারেটের দোকান। এখানে দাঁড়িয়ে যখন ভাবছিলাম কী করা যায় তখন এক পিচ্চি কতগুলো গোলাপ ফুল নিয়ে উদয় হলো।’

সিনথিয়া হেসে উঠলো। ‘তাই নাকি? তারপর?’
‘পিচ্চি এসে অনেক রিকুয়েস্ট শুরু করে দিলো ‘আপু’কে একটা গোলাপ ফুল দিতে। আমি অনেক মজা পেলাম। আর সিমি পেল লজ্জা। ওর লজ্জা বাড়াতে আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, কিরে ফুল নিবি একটা? ও যেন কয়েক হাত পিছিয়ে গেল আর অর্ধশত বার না করলো। পরে অবশ্য পিচ্চিটাকে দশ টাকা দিয়ে বিদায় করে দিয়েছিলাম। ফুল আর কেনা হয়নি।’

সিনথিয়া বলে উঠলো, ‘আমার মাথায় একটা প্ল্যান এসেছে।’
‘কী প্ল্যান?’ সাইফ অবাক চোখে তাকালো।
‘আজ কলেজ পালাবো।’
‘বলো কী? কেন?’
‘গল্প শোনার জন্য। আজ তেমন ইমপরট্যান্ট ক্লাস নেই। আর দুই-একদিন ক্লাস না করলে কিছু হয়না। চলো।’ এই বলে সিনথিয়া উঠে গেটের দিকে পা বাড়ালো। সাইফ যাবে কি না তা জিজ্ঞেসই করলো না। কিছুক্ষণ চিন্তা করলো সাইফ। এখনো ওর ক্লাসের কাউকে দেখা যাচ্ছে না। ছেলেমেয়েও তেমন বেশি আসেনি। ইচ্ছে করলে চলে যাওয়া যায়।

সাইফ ক্লাসরুম থেকে ব্যাগটা নিয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে গেল।

১৪
কলেজ থেকে একটু দূরে গিয়ে সিনথিয়াকে দেখতে পেল সাইফ। সে জানালো, কলেজের পাঁচ ঘণ্টা ইচ্ছে করলে কোনো পার্কে বসে বা রেস্টুরেন্টে বসে কাটাতে পারে। সাইফ বলল, ‘রেস্টুরেন্টে পাঁচ ঘণ্টা কাটাবো? মাথা খারাপ নাকি?’
সিনথিয়া হেসে বলল, ‘সমস্যা নেই। আমার পরিচিত একটা রেস্টুরেন্ট আছে। আমার বাসা থেকে একটু দূরে। এখান থেকেও দূরে অবশ্য। যেতে সময় লাগবে। রিকশায় যাওয়া যাবে। ওখানে দু’টোর আগ পর্যন্ত কোনো ভিড়ই হয় না। ইচ্ছে করলে সারা সকালই ওখানে কাটানো যাবে। তাছাড়া যেতে আসতেও তো সময় লাগবে, সব মিলিয়ে হয়ে যাবে। কী বলো?’
সাইফ কিছুক্ষণ ভেবে বলল, ‘ঠিক আছে। চলো রিকশা নেয়া যাক।’
আকাশে তখন বিশাল এক মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে আর সূর্যের আলোর তেজ কমিয়ে দিচ্ছে।

রিকশায় যেতে যেতে সিমির কথা বলতে থাকলো সাইফ। ‘সিমির বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ওর একদিন অনেক ঝগড়া হয়েছিল। খুব খারাপ ভাষায় একটা বকা দেয়ার কারণে সিমি একেবারেই বেপরোয়া হয়ে গেছিল। আমাকে হঠাৎই ফোন করে জানালো ও বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে জানে না। আমার তখন অনেক টেনশন হচ্ছিল। ওকে এতো বোঝানোর চেষ্টা করলাম ও আমার কোনো কথাই শুনলো না। ফোন বন্ধ করে দিল। সারাদিন ওর আর কোনো খবর নেই। চরম দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে দিনটা কাটলো। বিকেলে দিকে ওর ফোন খোলা পেলাম। ফোন ধরে ও জানালো ও বাসা থেকে বেরিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ওর বয়ফ্রেন্ড সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল। পরে ওকে বুঝিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেছে। ও তখন সেখানেই ছিল। আমি ও আচ্ছা বলে ফোনটা রেখে দিলাম। সেদিন আমি প্রচণ্ড রকম কষ্ট পেয়েছিলাম।’

সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘কেন? তোমার কথা শোনেনি বলে?’
‘আমার কথা শোনেনি বলে খারাপ লেগেছে এটা ঠিক, কিন্তু ও যে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে মিট করে সব ঠিক হয়ে গেছে এটা আমাকে জানানো উচিৎ ছিল না? ও কি জানতো না যে আমি অনেক টেনশন করছিলাম? জানতো, কিন্তু আমার কথা ওর মনে ছিল না। বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবেই আমি এতটুকু আশা করেছিলাম যে ও কেমন আছে কোথায় আছে এটা আমাকে জানাবে। আমি অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। সেটা রাগ ছিল নাকি অভিমান ছিল জানি না। এর পরের কয়েকদিন ওর সঙ্গে আমি তেমন কথাই বলিনি।’

সিনথিয়ার দিকে তাকালো সাইফ, ‘এমনকি ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ভেঙ্গে যাবার আগ পর্যন্ত ঐ ঘটনাটাই ছিল ওর কাছ থেকে আমার সবচাইতে বেশি কষ্ট পাওয়ার ঘটনা।’

সিনথিয়া চুপ করে রইলো। এই প্রথম সে বুঝতে পারছে, কেবল ভালোবাসাই নয়, সাইফ আর সিমির মাঝে অকৃত্রিম একটা বন্ধুত্বও ছিল।

(পর্ব ৭ )

প্রথম প্রকাশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29408418 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29408418 2011-07-06 22:08:59
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ৫)

(পর্ব ৪ )

১১
বিকেল চারটার দিকে সাইফ তার রুমে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। তার রুম থেকে আকাশ খুব একটা ভালো দেখা যায় না। কিন্তু অল্পখানি আকাশ দেখা যায়। আগে সাইফ আকাশের দিকে তাকাতো বৃষ্টি আসবে কি না তা বোঝার জন্য। আর এখন সে তার দিনের বেশিরভাগ সময়ই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন তার হারানো অতীতের সাক্ষী হয়ে আছে আকাশ।

চারটার কিছু পরে সাইফের ফোন বেজে উঠলো। অসময়ে কে ফোন করলো ভেবে অবাক হলো। ওর কাছে এখন ফোন আসা মানেই অসময়। রিসিভ করে বুঝলো সিনথিয়া ফোন করেছে। ও ভুলেই গিয়েছিল আজ সিনথিয়া ফোন করবে বলেছিল।

‘হাই সাইফ, কী করছো?’
‘কিছু না বসে আছি।’
‘কোথায় বসে আছো?’
‘আমার রুমে।’
‘হুম। দুপুরে কী খেলে?’
‘তেমন কিছু না।’
‘হুম।’ সিনথিয়া বুঝলো সাইফ দুপুরে কিছু খায়নি। কিন্তু এ নিয়ে সে আর তর্কে গেলো না। ও এখন অনেকটা স্বেচ্ছাচারী হয়ে গেছে। নিজের ইচ্ছেয় চলে।
‘তারপর বলো, সিমির কথা শুনবো।’
সাইফ বলল, ‘ফোনে এতো কথা বলা সম্ভব নয়।’
‘কেন সম্ভব নয়? এখনই সব বলতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই। একটু একটু করে বলো। আর বিল নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, আমি রিচার্জ করে নিয়েছি।’
‘তারপরেও।’
‘তুমি কি বলবা?’ খানিকটা রাগ দেখিয়ে সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো।
‘আচ্ছা ঠিক আছে বলছি।’
‘হুম, গুড। বলো শুনি।’

সাইফ বলতে শুরু করলো, ‘সিমির সাথে আমার পরিচয় কীভাবে, সেটা নাহয় না-ই জানলে। কিন্তু পরিচয়ের পর আর দশটা ছেলেমেয়ের মতোই স্বাভাবিকভাবে আমাদের কথাবার্তা হয়। প্রথম কয়েকদিন প্রায় সারাদিনই নেটে কথা হতো। তখনই আমাদের দু’জনের মাঝে অদ্ভূত একটা মিল লক্ষ্য করলাম। মিলটা হলো পারিবারিক। আমার যেমন পারিবারিক সমস্যা রয়েছে, তার বেশিরভাগ সমস্যাই ওর ফ্যামিলিতেও ছিল। তাই এতটুকু জীবনে আমাদের দু’জনের অভিজ্ঞতাই সমবয়সীদের চেয়ে একটু বেশি তিক্তই ছিল। এছাড়াও আরো নানা বিষয়ে কথা বলার পর দেখলাম আমাদের দু’জনের চিন্তাধারার মধ্যেও অবিশ্বাস্যরকমের মিল ছিল। এসব মিল থাকার কারণে আমাদের দু’জনের সময় একসঙ্গে খুব ভালো কাটতো।’

‘ওর তখন একটা বয়ফ্রেন্ড ছিল, যার সম্পর্কে আমি খুব বেশি জানতাম না। তবে বয়ফ্রেন্ড আছে, এতটুকু জানতাম। মাঝে মাঝে মনে হতো বয়ফ্রেন্ড থাকায় ভালোই হয়েছে, ওর আর আমার মাঝে কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনা নেই। বেশিরভাগ সম্পর্কই একটা সময় পরে মলিন হয়ে যায়। তখন সম্পর্কের শুরুর সময়ের সেই তীক্ষ্ম অনুভূতিগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে এটা হয় মেয়ের, কারো কারো ক্ষেত্রে ছেলের। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা মেয়েদেরই হয়। এ জন্য ভালোবাসা-রিলেশন এসবের প্রতি বেশ অনীহা ছিল।’

সিনথিয়া বলল, ‘হুম। তারপর?’

‘তারপর একদিন ও ফোন করলো। তাও নিজের নাম্বার থেকে ফোন করেনি, অন্যের মোবাইল দিয়ে ফোন করলো। কারণটা আমি বুঝেছিলাম। ও তখনও চায়নি আমি ওর ফোন নাম্বার পেয়ে যাই। অবশ্য এ জন্য আমার খারাপ লাগেনি। বরং হাসিই পেয়েছিল কিছুটা।’

সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘তুমি কীভাবে বুঝেছিলে যে ওটা সিমির নাম্বার ছিল না?’
‘সিমি নিজেই বলেছিল যে ওটা তার নাম্বার নয়।’
‘ওহ, আচ্ছা। তারপর?’
‘প্রথম দিন মোটামুটি অল্প কথাবার্তা হলো। আমি কথা বলায় তেমন পটু না তাই বারবার খেই হারিয়ে চুপ করে থাকছিলাম। কিন্তু তার দু-চারদিন পর ও নিজের মোবাইল থেকে ফোন করলো। এরপর মাঝে মাঝেই ও আমাকে ফোন করে খোঁজ-খবর নিতো। আমিও মাঝে মাঝে ফোন দিতাম, কিন্তু প্রায় সময়ই কল ওয়েটিং-এ পড়তাম। তাই পারতপক্ষে আমি ফোন করতামই না। ও-ই ফোন করতো যখন ইচ্ছে হয়। আর বাকি সময় নেটে তো কথা হতোই।’

সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘ওর বয়ফ্রেন্ড তোমার ব্যাপারে জানতো না? ও আপত্তি করেনি তোমার সাথে ওর মেলামেশা?’
সাইফ বলল, ‘ঠিক মেলামেশা তো না, একটু কথা বেশি হতো, এই আরকি। তবে ওর বয়ফ্রেন্ড জানতো। আর ও বিষয়টা স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিল। অবশ্য এতে আপত্তি করার মতো তেমন কিছু ছিলও না। আমরা তখনও এমনি ফ্রেন্ড। খুব ভালো ফ্রেন্ডের পর্যায়ে তখনও যাইনি।’
‘তো খুব ভালো ফ্রেন্ডের পর্যায়ে কীভাবে গেলে?’ সিনথিয়ার প্রশ্ন।
‘সেটা মনে রাখার মতো একটা ঘটনা ছিল।’
‘কী রকম?’
‘আমি একদিন শুনলাম ওর রিলেশনে প্রায়ই সমস্যা হতো। বিষয়টা ভুল বোঝাবুঝি ছিল নাকি ছেলেটার অতিরিক্ত পজেজিভনেস ছিল এটা আমার কাছে ক্লিয়ার ছিল না। কিন্তু যেটা ক্লিয়ার ছিল সেটা হলো সিমি কষ্ট পেলে উল্টাপাল্টা কাজ করে বসতো।’
‘যেমন?’
‘যেমন ঘুমের ওষুধ খাওয়া। ও আমাকে অনেকদিন পরে বলেছে যে ও একবার অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিল। এটা শুনে আমার প্রথমে বেশ মেজাজ খারাপ হলেও পরে দুশ্চিন্তা হলো। মনে হলো, আমার লাইফে ফ্রেন্ড বলতে যা বোঝায় তা একমাত্র ও-ই ছিল। বেশ কিছু কারণে আমার সঙ্গে কারোরই তেমন ভালো পরিচয় ছিল না। তাই নিজের কথা শেয়ার করার মতোও কেউ ছিল না। একমাত্র ও-ই ছিল।’

‘একদিন শুনলাম ওদের মাঝে বড় ধরনের কিছু একটা সমস্যা হয়েছে, তখন খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছিল সিমির জন্য। ও কী না কী করে বসে তার কোনো ঠিক নেই। তাই একদিন দুপুরে আমি ওকে ফোন করলাম।’
সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘কী সমস্যা?’
‘ঠিক মনে নেই। খুব সম্ভবত ওর বয়ফ্রেন্ড ওকে খুব খারাপভাবে কিছু বলে সম্বোধন করেছিল। আসলে ওদের এতো প্রবলেমের কথা শুনেছি যে কোনটা কখন ঘটেছিল তা ঠিক মনে নেই।’
‘আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি বলো।’
‘ও ফোন ধরলো। আমি ওকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। ওর মন ভালো করার চেষ্টা করলাম। পরে ও যখন জানতে পারলো যে আমি ফোনই করেছি ওর খোঁজ নেয়ার জন্য, ওর মন ভালো করার জন্য, ও খুব অবাক হলো। ও বলল, ওর নাকি তখন পর্যন্ত এমন কোনো বন্ধু বা বান্ধবী ছিল না যে কি না ওকে ফোন করে ওর খোঁজ নেবে। কথাটা ঐ মুহুর্তে অবিশ্বাস্য মনে হলেও পরে বিশ্বাস করেছিলাম। আমাদের বেস্ট ফ্রেন্ড অধ্যায়ের এখানেই শুরু।’

১২
সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। অবশ্য বৃষ্টি হচ্ছে না বলে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে বললেই বেশি বাস্তবধর্মী হবে। সাইফ যথারীতি সকাল সকাল কলেজে এসে হাজির। ও এসে সাধারণত ক্লাসে দু-চারজনের বেশি কখনোই দেখে না। কারণ, ও একটু বেশি আগেই চলে আসে। ক্লাস শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এতো সময় বসে থাকাটা অবশ্য তার বেশ বোরিং লাগে। কিন্তু দেরি করে আসাও তার পছন্দ না।

তবে সিনথিয়া সবসময় ক্লাস শুরুর মিনিট বিশেক আগে আসে। কিন্তু আজ ব্যতিক্রম হলো। কলেজের মাঠ তখনো প্রায় ফাঁকা। দু-একজন ছাত্রছাত্রী অলস ভঙ্গিতে হাঁটছে। তাদের মধ্যে সিনথিয়াকে আলাদা করে চিনতে সাইফের কোনো অসুবিধা হলো না। ঘড়ি দেখে অবাক হলো সাইফ। সিনথিয়া এতো সকালে কলেজে আসলো কেন? ক্লাস শুরু হতে এখনো প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি বাকি।

সিনথিয়াকে দূর থেকে দেখেই সাইফ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো। ওর সঙ্গে দেখা হলো মাঠে। সিনথিয়ার সামনে গিয়েই সাইফ বলে উঠলো, ‘তুমি এতো সকালে?’
সিনথিয়া হাসলো, ‘চলে এলাম। গল্প শুনবো বলে।’
‘কিন্তু তাই বলে এতো সকালে? গল্প তো ব্রেকেও শুনতে পারবে।’
‘হ্যাঁ, কিন্তু তর সইছিল না তাই আগেভাগেই চলে এলাম।’

সাইফ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। অন্য সময় হলে খুব একটা অবাক লাগতো না। কারণ, একজনের ভালোবাসার গল্প আরেকজন শুনতে আগ্রহী হতেই পারে। কিন্তু সিনথিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টা অন্যরকম। ও নিজেই সাইফকে প্রোপোজ করেছিল। ওর তো সাইফের যাকে ভালো লাগে তার কথা শুনতে ভালো লাগার কথা না। কিন্তু ওকে বেশ হাসিখুশি দেখাচ্ছে। গতকাল বিকেলেও আগ্রহী মনে হয়েছে। তাহলে কি ও অভিনয় করছে?

সাইফ নিজের কাছে প্রশ্নটার উত্তর পেলো না। মেয়েরা অভিনয় করলে খুব সূক্ষ্মভাবে অভিনয় করে। সেটা বোঝার সাধ্য খুব কম ছেলেরই আছে। আর সাইফ বেশি ছেলেদের দলে।

আগের দিনের সেই গাছটার নিচে ওরা দু’জন বসলো। গাছটা মূল বিল্ডিং থেকে খুব একটা দূরে না। পায়েচলা পথের পাশেই। তাই এখানে ওরা দু’জন নিশ্চিন্তে বসতে পারবে। কেউ কিছু বলবে না।

সিনথিয়া বলল, ‘বলো। এবার তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড অধ্যায়টা শোনা যাক।’

(পর্ব ৬ )

প্রথম প্রকাশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29407234 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29407234 2011-07-04 21:49:29
ফটো ব্লগঃ কিউবি জাংশন ২ - দি হিস্ট্রি অফ রক অ্যান্ড রোল
একটি কথা, পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ক্যামেরা দিয়ে অনেক দূরে বসে মাত্র ৪এক্স অপটিক্যাল জুমের ফুল জুমে তোলা বেশিরভাগ ছবি। তাই কোয়ালিটি বেশি সুবিধার হয়নি। এসব অনুষ্ঠানে গেলে ডিএসএলআর বড়ই মিস করি। <img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />


ইনডোর স্টেডিয়ামের বাইরে।


তখনও অনুষ্ঠান শুরু হয়নি।


চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি।


সাজানো হয়েছিল পুরো ইনডোর স্টেডিয়ামই।


প্রথম পারফর্মার। তবে তাদের চিনতে পারিনি।






সব আর্টিস্টরা একসঙ্গে।


ব্যান্ডদল সোর্সের যাত্রা শুরুর সময় যারা সঙ্গে ছিলেন তারা বহুদিন পর একইসঙ্গে পারফর্ম করছেন।


কনসার্টের বস, মাইলস!


এখনও কাঁপাচ্ছে মাইলস।




আইয়ূব বাচ্চু এবং তার এলআরবি।


আইয়ূব বাচ্চুর অনুরোধে দর্শকরা মোবাইল উঁচু করে ধরে ব্যতিক্রমী এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।


ক্রিপ্টিক ফেইট।






বাপ্পা মজুমদার এবং তার দলছুট।




স্টেজের একটি ডার্ক মোমেন্ট।


পারফর্ম করছে ইয়াংগেস্ট ব্যান্ড দল নেমেসিস, আর স্টেজে উঠে আইয়ূব বাচ্চু তাদের ভিডিও করছেন।



এছাড়াও ব্ল্যাক, আর্টসেল, নেমেসিস, রেনেসাঁ ইত্যাদি আরও ব্যান্ড পারফর্ম করেছেন।

আরেকটা কথা না বললেই নয়, সেটা হলো অনুষ্ঠানের শেষের দিকে আইয়ূব বাচ্চু দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‌দেশের মিউজিকের ভবিষ্যত এখন নেমেসিসের হাতে। কারণ, তারাই বর্তমান প্রজন্মকে রিপ্রেজেন্ট করছে। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন বাংলা গানের অ্যালবাম পাইরেটেড ব্যবহার না করে কিনে শুনতে। মজা লেগেছিল যখন তিনি পা নাচিয়ে বলেছেন, 'আপনারা হাজার হাজার টাকা খরচ করে শিলার জাওয়ানি দেখতে যান, দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি বাঁচানোর জন্যও আপনাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।' <img src=" style="border:0;" />

সবমিলিয়ে অনুষ্ঠান সুন্দরই ছিল, কিন্তু শেষটা আরও ভালো হতে পারতো।


সবগুলো ছবি একসঙ্গে দেখতে ফেসবুকের এই অ্যালবামটি দেখতে পারেন। এছাড়াও সব ছবি রয়েছে ফ্লিকআর-এর এই সেটে


ছবি অন্যত্র বিনা অনুমতিতে ব্যবহার না করার অনুরোধ রইল। ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29406737 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29406737 2011-07-03 22:33:49
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ৪)

(তৃতীয় পর্ব )


সকালে ক্লাসে আসতে একটু দেরি করে ফেলল সাইফ। ও সাধারণত সবার আগে ক্লাসে আসে। আজ বৃষ্টিতে আটকে দেরি হয়ে গেছে। এছাড়াও আরেকটা ঘটনা ঘটেছে। সাইফ বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। কলেজ গেট দিয়ে ঢোকা মাত্রই ক্লাসমেটদের মধ্যে একরকম হৈ-চৈ শুরু হয়ে গেছে যে সাইফ বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। সাইফ সেটা দেখে অবশ্য মজাই পেলো। সবাই ভাবছে অনেকদিন পর বৃষ্টিতে ভিজেছে। অথচ সে যে প্রতিদিন বৃষ্টিতে ভেজে কেবল ভেজা কাপড় গায়েই শুকানোর জন্য, তা সে ছাড়া আর কেউ জানে না।

ভেজা চুলে আঙ্গুল চালাতে চালাতে তিনতলায় উঠলো সাইফ। তাকে দেখে ক্লাসের সবাই বেশ মজা পাচ্ছে। রীতিমতো কাকভেজা ভিজেছে সে। চুলগুলো এলোমেলো। বলা বাহুল্য, ওর চুল এলোমেলো থাকতে কেউ দেখেনি আগে। তাই আজ সবাই যেন এক অন্যরকম সাইফকে দেখছে এমনভাবে তাকিয়ে আছে। কেউ একজন সিনথিয়াকে খবরটা জানালো। কিন্তু ও সাইফকে এগিয়ে নিতে আসলো না।

সাইফ ক্লাসরুমে ঢোকা মাত্রই ক্লাসে যারা বসে বা দাঁড়িয়ে গল্প করছিল তারা যেন চুপ হয়ে গেল। সাইফের ভেজা শরীর আর এলোমেলো চুল দেখে সবাই যেন থমকে গেছে। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সবাই একসঙ্গে হেসে উঠলো। সাইফও প্রাণহীন একটা হাসি দিয়ে একেবারে পেছনের সিটে গিয়ে বসলো। তার কাপড় শুকাতে সময় লাগবে। নিচে তখন ঘণ্টা বাজছে।

সেদিন বাংলা স্যারের ক্লাস ছিল। স্যার প্রায় পাঁচ-ছ’ পৃষ্ঠার হোমওয়ার্ক করতে দিয়েছিল। কিন্তু সাইফ তা করেনি। আগেরদিনের ঘটনার পর রাতে তার পড়ায় আর মন বসেনি। তাই সারারাত চুপচাপ বসে কাটিয়েছে। ওর গোমড়ামুখ দেখে অনিক এসে জিজ্ঞেস করলো, ‘কী ব্যাপার? বৃষ্টির সঙ্গে হেরে গিয়ে মন খারাপ?’
‘না, হোমওয়ার্ক করিনি তাই টেনশন হচ্ছে।’
এইবার অনিকের চোখেমুখেও টেনশন দেখা গেল। ‘হোমওয়ার্ক কর নাই?’
ক্লাসের আরও কয়েকজন কথাটা শুনে ফেলল। সবাই ফিরে তাকালো। সবাই জানে, হোমওয়ার্ক না করলে বাংলা স্যারের গালি-গালাজ তো শুনতেই হবে সঙ্গে কী শাস্তি দেয় তা আল্লাহই ভালো জানে। ক্লাসে সাইফের খুব কাছের বন্ধু যারা ছিল তারা ব্যাপারটা নিয়ে টেনশনে পড়ে গেল। সাইফ বাংলা স্যারের কাছে শাস্তি পাবে এটা মেনে নেয়া যায় না। কয়েকজন এসে প্রস্তাব দিলো বাংলা ক্লাসের আগে বের হয়ে যেতে। কারণ, স্যার বলে দিয়েছেন কেউ তার ক্লাস করতে না চাইলে বা পড়া রেডি করে না আসলে আগে থেকেই যেন বের হয়ে যায়, তিনি কিছু বলবেন না। তার মতলব হচ্ছে অন্য কোনো স্যার ধরে নিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে নিয়ে যাবে, তারপর প্রিন্সিপাল স্যার শাস্তি দিবেন। তবে ক্লাস চলাকালীন তিনি কোনোমতেই বের হতে দিবেন না।

অবশ্য ছাত্ররা এতোই চালাক যে অন্য কোনো স্যার দেখলে একটা না একটা কিছু বলে ঠিকই পার পেয়ে যায়। কিন্তু সাইফের ক্লাস টাইমে বাইরে ঘুরতে ভালো লাগে না। তাই সে এই বুদ্ধি কাজে লাগাতে পারলো না। এমন সময় স্যার চলে আসলো তাই বন্ধুরা আর কোনো শলা-পরামর্শও করতে পারলো না।

বাংলা ক্লাসে স্যার একজন একজন করে হোমওয়ার্ক দেখা শুরু করলেন। এরই মধ্যে অন্য এক স্যার এসে অফিসিয়াল একটা ব্যাপারে আলোচনা করে প্রায় ২০ মিনিট দেরি করিয়ে দিলেন। এতে সাইফের আশা বাড়লো। সে সবার পেছনে বসেছে। তার কাছে আসতে আসতে হয়তো ঘণ্টা পড়ে যাবে। তাহলে স্যার আর তার খাতা দেখতে চাইবেন না।

কিন্তু বিধি বাম। স্যার নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়টুকু পুষিয়ে নিতেই যেন দ্রুত খাতা দেখা শুরু করলেন। অনিকসহ আরো অনেকেই পেছনে ফিরে প্রমাদ গুণছে। আর দুইটা বেঞ্চ পড়েই সাইফের সিট। স্যার দ্রুত পৃষ্ঠা উল্টে সই করে যাচ্ছেন। সবার শেষে যখন স্যার খাতা রেখে সাইফের দিকে এগোচ্ছেন, তখনই পেছন থেকে ডাক শোনা গেল, ‘স্যার!’

স্যারসহ সবাই সামনের দিকে তাকালো। সিনথিয়া দাঁড়িয়ে আছে। ‘একটু বাইরে যাবো স্যার।’
ক্লাসে একটা গুঞ্জন উঠলো। এতোদিন হয়ে গেছে বাংলা স্যার একদিনও কাউকে বাইরে যেতে দেননি। সিনথিয়া সেটা বেশ ভালো করেই জানে। একবার একটা ছেলে বাইরে যেতে চেয়েছিল কিন্তু তাকে বেশ খারাপভাবেই অপমান করেছে স্যার। এসব জেনেও সিনথিয়া বাইরে যেতে চাইছে?

স্যার একটা শয়তানী ভরা হাসি দিলেন, ‘সিনথিয়া! তুমি বাইরে যাবে? কেন? তোমার বর এসেছে বুঝি?’
মুখের ভাব অপরিবর্তিত রেখে সিনথিয়া জবাব দিল, ‘আমার একটু দরকার আছে স্যার। আমাকে বাইরে যেতে হবে।’
‘ওহ, তাই নাকি?’ হা হা করে হাসলেন স্যার। ‘তা এখানে কী হবে না হবে তা বুঝি তোমার ইচ্ছায়?’
সিনথিয়া চুপ করে রইলো।
‘আমি কী বলেছিলাম?’ স্যার অন্য ছেলেদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। সবাই উত্তর দিলো, ক্লাস চলাকালীন কোনো কারণেই বাইরে যাওয়া যাবে না। সব রকম কারণ ক্লাসের আগেই শেষ করে আসতে হবে।
‘হ্যাঁ,’ স্যার সিনথিয়ার দিকে ফিরলেন, ‘ঠিক তাই।’
সিনথিয়া চুপ করে রইলো। তার দৃষ্টি সামনের দিকে নিবদ্ধ।
স্যার বললেন, ‘অন্য কোনো স্টুডেন্ট বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাবার সাহস পায় না, তোমার এতো সাহস কোত্থেকে এলো সিনথিয়া?’
‘সাহসের কিছু নেই স্যার। আমাকে বাইরে যেতে হবে তাই আমি বাইরে যেতে চাচ্ছি।’

স্যারের চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝড়লো। পেছনে বসে সাইফ অবাক চোখে সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। তার মনে খানিকটা ক্ষোভ, খানিকটা অপরাধবোধ। সে নিশ্চিত, সিনথিয়া তাকে বাঁচানোর জন্যই এ কাজ করেছে। আসলে সে একা না, ক্লাসের আরো অনেকেই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে।

স্যার বললেন, ‘শোনো সিনথিয়া। এই কলেজে পড়তে হলে আর দশটা ছেলেমেয়ের মতোই তোমাকে সব নির্দেশ মেনে চলতে হবে। তোমার বাবার অনেক টাকা-পয়সা আছে বলে তুমি নিজের ইচ্ছেমতো চলতে পারবে এই ধারণা তোমাকে কে দিয়েছে?’
সিনথিয়ার রাগ লাগলো। সে ঝাঁজের সঙ্গে বলল, ‘স্যার দিস ইজ মাই পারসোনাল প্রবলেম অ্যান্ড ইট হ্যাজ নাথিং টু ডু উইথ মাই ফাদার’স প্রপার্টিস।’
স্যার এবার রাগে রীতিমতো কাঁপতে থাকলেন। স্যার কখনো ক্লাসে ইংরেজি বলেন না। শোনা যায়, তিনি ইংরেজি পারেন না ভালো। তাই ছাত্রদেরও তার সামনে ইংরেজি বলতে দেন না। কেউ তার সামনে ইংরেজি বলতে গেলেই তিনি রাগ দেখান। আর যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন ত্রিশ লক্ষ শহীদের জয় করা বাংলা ফেলে ইংরেজি কেন বলতে হবে!

কিন্তু সেদিন সিনথিয়ার ভাগ্য ভালো ছিল। তখনই ঘণ্টা পড়লো। স্যার রাগে আর কিছু বলতে পারলেন না। তিনি ক্লাসরুম থেকে জোরে জোরে হেঁটে বেরিয়ে গেলেন। তারপর সিনথিয়াও বের হতে হতে বলল, ‘ওকে গাইজ, শো ইজ ওভার।’

কেউ কেউ হেসে উঠলো, কেউ সিনথিয়ার সাহসের প্রশংসা করলো, কেউ আবার তর্ক শুরু করলো সিনথিয়ার ইংরেজি শুনে স্যারের চেহারাটা চিড়িয়াখানার কোন প্রাণীর মতো হয়েছিল এই নিয়ে। কিন্তু সবার পেছনে সাইফই একমাত্র ছেলে, যার মাথায় তখন চিন্তার ঝড় হচ্ছিল।


১০
‘দ্যাট ওয়াজ স্টুপিড, সিনথি, মিনিংলেস!’
টিফিন পিরিয়ডে বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিনথিয়াকে ঝাড়ছে সাইফ। সিনথিয়া কেয়ারলেস ভাব নিয়ে মাঠের দিকে তাকিয়ে আছে।
‘আমাকে না হয় স্যার দু’চারটা কথা শোনাতেনই। সেটা কোনো ব্যাপার না। তোমার এভাবে অযথা আমাকে বাঁচানোর কী দরকার ছিল?’
সিনথিয়া সাইফের দিকে তাকালো। ‘আমার ইচ্ছে হচ্ছিল, তাই করেছি। তোমার খারাপ লেগে থাকলে সরি।’ এই বলে সোজা হাঁটা দিলো সিনথিয়া। সাইফ আগের জায়গায়ই দাঁড়িয়ে রইলো।



কলেজে নতুন ট্রেন্ড বের হয়েছে। কলেজ ছুটির পর প্রায় সবাই ২০-৩০ মিনিট মাঠে দাঁড়িয়ে গল্প করে। কলেজ প্রাঙ্গণে অনেক গাছপালা থাকায় বৃষ্টির পর সেগুলোর সবুজ আভা যেন আরো আলোক ঝলমলে হয়ে উঠে। তাই সবাই সেখানে কিছুক্ষণ প্রকৃতি উপভোগ করে তারপর বাসায় যায়।

সিনথিয়া আর সাইফ ক্যান্টিন থেকে দু’জনে দু’টো কোকের ক্যান কিনে গাছের ছায়ায় বসে আছে। অবশ্য এখন ভরদুপুর হলেও সর্বত্রই ছায়া। আকাশে তো সূর্যের কোনো খবর নেই। কেবল মেঘের ফাঁক-ফোকর দিয়ে কোনোরকমে আলো পৃথিবীতে পৌঁছে দিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।

সিনথিয়া সাইফকে জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমার বৃষ্টি খুব একটা পছন্দ না তাই না?’
সাইফ বলল, ‘না।’
‘হুম।’
‘এক সময় অনেক পছন্দ ছিল।’
‘তাই?’
‘হ্যাঁ, বৃষ্টি আমার ভয়ানক রকমের পছন্দ ছিল। বিশেষ করে বৃষ্টি হবার আগ মুহুর্তে আকাশ যখন মেঘলা হয়ে ঝিরঝিরে ঠাণ্ডা বাতাস ছাড়ে, ঐ সময়টা আমার অত্যন্ত প্রিয় একটা সময় ছিল। আমার যে কোনো মন খারাপ দূর হয়ে যেত এমন আবহাওয়ার সময়।’
‘তারপর? এখন সেই ভালো লাগা উধাও হয়ে গেল কেন?’
‘জানি না। সিমির সঙ্গে আমার জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মুহুর্তগুলো কেটেছে। আমার আর সিমির দু’জনেরই বৃষ্টি প্রচণ্ড পছন্দ ছিল। অবশ্য আমি ওকে বৃষ্টিতে ভিজতে দিতাম না খুব একটা। ও বৃষ্টিতে ভেজার সময় কাঁপতে থাকে। দু-একবার এটা দেখার পর থেকে আমি ওকে না করে দিয়েছি বাসায় ছাড়া বাইরে কোথাও কখনো বৃষ্টিতে না ভিজতে। এছাড়াও ওর আর আমার অনেক সুখের স্মৃতি আছে বৃষ্টিকে ঘিরে। তাই এখন বৃষ্টি আমার জন্য মন খারাপের বন্যা নিয়ে আসে।’

দূরের একটা গাছের দিকে তাকিয়ে সিনথিয়া বলল, ‘তাহলে তো দেখছি সিমি তোমার জীবন থেকে সুখ কেড়ে নিয়েছে।’
সাইফ সরাসরি সিনথিয়ার দিকে তাকালো। বলল, ‘মোটেই নয়। তোমার কাছে তা মনে হতে পারে, কিন্তু মূল কথা হচ্ছে এই যে, সিমিই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আজ আমি যে বেঁচে আছি সেটা সিমির জন্য। পারিবারিক চাপে আমি দূরে কোথাও চলে যেতে চেয়েছিলাম। নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শুধু সিমির জন্য আমি তা পারিনি। আজ বৃষ্টি হয়তো আমার জন্য এক রাশ মন খারাপ নিয়ে আসে, কিন্তু তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। এই মন খারাপের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সুখের সব স্মৃতি। সিমিকে আমি আজও ভালোবাসি। ওকে পাইনি বলে আমার মধ্যে একটা কষ্ট প্রতিমুহুর্তেই জ্বলতে থাকে। কিন্তু তাই বলে আমি কোনোদিনই বলবো না সিমি এর জন্য দায়ী।’

সিনথিয়া চুপ করে রইলো।

সাইফ বলে চলল, ‘আজ আমার জীবনে সিমি নেই। কিন্তু সিমির যে ভালোবাসাগুলো আমার মধ্যে রয়ে গেছে, সিমির যে স্মৃতিগুলো আমার জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে রয়ে গেছে, সেগুলো আমাকে কেবল কষ্টই দেয় না, সুখও দেয়। আমার মনে পড়ে, আমার জীবনে ওর মতো একটা পরী এসেছিল। আমি তখন অবাক হতাম, আমার জীবনে এতো ভালো, এতো সুইট একটা মেয়ে কীভাবে আসলো? এখন অবশ্য অবাক হই না। কারণ, এটা যে ‘আমি’! তাই সেই পরীটা আমাকে ফেলে চলে গেছে।’

সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘তুমি ওর ব্যাপারে বিস্তারিত আমাকে কখন বলছ?’
‘এখনই বলা যেত। কিন্তু এখন তো সময় নেই। সবাই চলে যাচ্ছে। আমাদেরও উঠতে হবে।’
‘তুমি বিকেলে ফ্রি আছো?’
‘হ্যাঁ, কেন?’
‘আমি ফোন করবো। ফোনেই তোমার কাছ থেকে সব কথা শুনতে হবে।’
‘ফোনে এতো কথা বলা যাবে না। অনেক খরচ হবে।’
‘তা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। আমি ফোন করবো। তুমি আমাকে তোমার আর সিমির ব্যাপারে সব খুলে বলবে।’
সাইফ চুপ করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো সিনথিয়ার দিকে। তারপর বলল, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি ফোন দিও।’

সিনথিয়া সাইফের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল। সাইফ একা গাছের ছায়ায় বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো। মেঘ গর্জন করছে। এখনই বৃষ্টি নামবে। মনে মনে ভাবলো, আজ সিনথিয়ার জায়গায় সিমি হলে ও জীবনেও ওকে এই আবহাওয়ায় একা যেতে দিতো না। কিন্তু সিমি যে আজ ওর জীবনে নেই। এখন নিশ্চয়ই মেয়েটা যখন-তখন ইচ্ছেমতো ভিজছে। কখন যে তার ঠাণ্ডা লেগে যাবে! দুশ্চিন্তাই সার। সাইফ যে আর সিমিকে বৃষ্টিতে ভিজে শরীরেই ভেজা কাপড় শুকাতে নিষেধ করতে পারে না! সিমি যে আর ওর পরী না।

মাটির দিকে তাকিয়ে থাকলো সাইফ। আজ বৃষ্টি আর চোখের পানি একসঙ্গে নেমেছে। তবে এই প্রতিযোগিতায় কে জিতবে, তা ঠিক করার মতো সেখানে আর কেউ ছিল না।

(পর্ব ৫ )

প্রথম প্রকাশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29405128 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29405128 2011-06-30 21:05:03
কুমারীত্বের বিনিময়েও আইফোন চাই!

কাল রাতে বিডিনিউজে নিচের নিউজটা লেখার সময় ভাবছিলাম, মেয়েদের তো ভালোই। বাণিজ্য করার মতো কিছু আছে। আমরা ছেলেরাই হলাম হতভাগা। <img src=(" style="border:0;" /> <img src=(" style="border:0;" /> <img src=(" style="border:0;" /> <img src=(" style="border:0;" /> <img src=(" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

কুমারীত্বের বিনিময়েও আইফোন চাই


অবশ্য একেবারে হতভাগা নই। কিডনি তো আছে। <img src=" style="border:0;" /> চাইনিজ ঐ ছেলে কিডনি বিক্রি করে আইপ্যাড ২ ছাড়াও ল্যাপটপ (সম্ভবত ম্যাকবুক) কিনেছিল। আইডিয়া খারাপ না, তাই না? জীবনে আছে কী! /<img src=" style="border:0;" /> /<img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> মৃত্যু তো আসবেই দু'দিন আগে বা পরে। তার চেয়ে শখের জিনিসগুলো ব্যবহার করে সাধ পূরণ করে নেয়াই তো মনে হয় ভালো। <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />


দ্রষ্টব্যঃ ছবির মেয়েটা সেই চায়নিজ মেয়ে নয়। <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29404643 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29404643 2011-06-29 22:49:01
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ৩) দ্বিতীয় পর্ব


ভোর থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। বরাবরের মতোই এক ফাঁকে না ভিজেই কলেজে ঢুকে গেছে সাইফ। কিন্তু অন্যরা এতো ভাগ্যবান নয়। যারা ছাতা আনেনি, তারা তো ভিজেছেই, যারা ছাতা এনেছে তারাও মোটামুটি না ভিজে পারেনি। সাইফকে দেখে সবাই হেসে উঠলো। ছেলেটা কীভাবে যে বৃষ্টি এড়ায় কে জানে।

বেঞ্চে ব্যাগ রেখে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল সাইফ। বৃষ্টির সঙ্গে তার মনে পড়ার মতো স্মৃতি খুব বেশি নেই। কিন্তু যে কয়েকটি আছে, সেগুলোই সারাজীবনের জন্য যথেষ্ট। তার ভাবতে কষ্ট লাগে, সেসব শুধুই স্মৃতি হয়ে গেল। কখনোই আর সেসব মুহুর্তগুলোর পুনরাবৃত্তি হবে না।

সাইফ যখন এসব ভাবছে এরই মধ্যে সিনথিয়া এসে হাজির। শরীরের অর্ধেক ভিজে চুপচুপে হয়ে আছে আর বাকি অর্ধেক খটখটে শুকনো। কিম্ভূত লাগছে দেখতে। তার নিজেরই অস্বস্তি হচ্ছে। সবাই হাসছে তাকে দেখে। ইচ্ছে হচ্ছে গিয়ে পুরোটুকু ভিজে আসি। ক্লাস শুরু হতে আরো ৩০ মিনিট বাকি। বাড়তি কাপড় থাকলে ইচ্ছেমতো ভেজা যেতো। কিন্তু কলেজে কি আর বাড়তি কাপড় আনা যায়!

সাইফের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখলো কতক্ষণ সিনথিয়া। দু’জনই চুপচাপ। সিনথিয়া অনুভব করলো, সাইফের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার ইচ্ছেটা তার খুব প্রবল হয়ে উঠেছে। সে মনে মনে ঠিক করলো, আজ ছুটির পর যে করেই হোক সাইফকে বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দেবে। সে দু’দিন আগের ঘটনা সম্পূর্ণ ভুলেই গেল।

কলেজ ছুটির পর সিনথিয়ার মন খারাপ হয়ে গেল। বৃষ্টি থেমে গেছে একেবারেই। আকাশে হালকা হালকা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। তার মাঝে মাঝে সূর্য উঁকি দিচ্ছে। দৃশ্যটা সুন্দর। কিন্তু সিনথিয়ার মেজাজ খারাপ। আজই বৃষ্টি থামার দরকার ছিল?

কলেজ ছুটি হলে একটা শ্রেণীর ছাত্র আছে যারা সঙ্গে সঙ্গে স্পাইডারম্যানের মতো বেঞ্চ-টেঞ্চ যা আছে সব কিছুর উপর দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে যায়। যেন কেউ বিপদে পড়েছে সেখানে গিয়ে হিরোয়িক কর্ম দেখাতে হবে। আরেকটা দল আছে যারা গল্প করতে করতে ধীরেসুস্থে বের হয়। আরেকটা দল আছে যারা বের হয়ে কলেজের মাঠের কোনো এক কোণায় বসে দশ-পনেরো মিনিট গল্প করে তারপর সবার শেষে বের হয়। আরেকটা দল আছে, যারা কথা বার্তাও বলে না, দৌড়-ঝাপও করে না, আবার কারো জন্য অপেক্ষাও করে না, নিজের মতো হেঁটে বেরিয়ে যায়। দূর্ভাগ্যবশতঃ এই দলে একজনই রয়েছে, আর সে হলো সাইফ।

আজ অবশ্য একটু ব্যতিক্রম হলো। ছুটির পর সাইফের সঙ্গে প্রায় জোর করেই দু-একটা কথা বলে সিনথিয়া। আজও দাঁড়িয়ে আছে সাইফ ক্লাসরুম থেকে বের হওয়ার জন্য। সাইফ বের হয়েই সিনথিয়াকে জিজ্ঞেস করলো, বিকেলে ফ্রি আছো?
সিনথিয়া অবাক হয়ে গেল। সাইফের এমন প্রশ্ন করাটা অবশ্য অবাক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। সে বলল, ‘হ্যাঁ, কেন বলোতো?’
সাইফ বললো, ‘তোমাকে নিয়ে এক জায়গায় যাবো। যদি বাসা থেকে যেতে পারো আর কি।’
‘বাসা নিয়ে সমস্যা হবে না। আমি সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত বের হতে পারি। কিন্তু কোথায় যেতে যাচ্ছো?’
‘রেস্টুরেন্টে।’
‘হঠাৎ?’
‘এমনি। অনেকদিন রেস্টুরেন্টে খাই না। রেস্টুরেন্টের পাশ দিয়ে গেলেই মন খারাপ লাগে। আজ কেন যেন হঠাৎ ইচ্ছে হলো। এনিওয়ে, থাক বাদ দেও। নো বিগ ডিল।’
‘না না না বাদ দেব কেন,’ তাড়াতাড়ি বলল সিনথিয়া। ‘ক’টায় আসবো বলো?’


সিনথিয়া আজ অনেক সুন্দর করে সেজেছে। আসলে সে সাজেইনি। হালকা রঙের থ্রি পিস পড়েছে। হাতে চুড়ি পড়েছে। ওর লিপস্টিক বেশ পছন্দ, কিন্তু লিপস্টিক দেয়নি সে। গত কয়েক মাসে সাইফের সঙ্গে বিভিন্নভাবে অনেক কথাই হয়েছে তার। তার বিশ্বাস, সাইফকে তার চেয়ে ভালো কেউ চেনে না। সেই জ্ঞানের বহর থেকেই যেন সে জানে সাইফের লিপস্টিক একদমই পছন্দ না। অবশ্য কথায় মনে হয়েছে একসময় পছন্দ ছিল। কোনো একটা বিশেষ ঘটনার পর থেকে সে আর লিপস্টিক পছন্দ করে না। কেন? সেটা নিয়ে আর ঘাঁটাতে সাহস পায়নি সিনথিয়া।

সাইফ যে রেস্টুরেন্টে আসতে বলেছে সেটা কলেজ থেকে একটু দূরে। সিনথিয়ার বাসা থেকে রিকশায় আসতে অনেক সময় তো লাগবেই, ভাড়াও যাবে অনেক। তবু সে ঠিক করলো রিকশায়ই যাবে। সাইফের কাছে যেতে যেন তার ভালো লাগছে। যত তাড়াতাড়ি যাওয়া যায় ততোই ভালো, কিন্তু তবুও তার মন বলছে যত সময় নিয়ে যাওয়া যায় ততোই ভালো। কারণ, এই সময়টা সে অনুভব করতে পারবে যে সে সাইফের কাছে যাচ্ছে।

সিনথিয়া ঠিক করেছে সে আজ তার মনের কথা সাইফকে বলে দিবে। অন্য কোনো মেয়ে হলে হয়তো ভাবতো সাইফ তাকে প্রোপোজ করার জন্যই এভাবে ডেকেছে। কিন্তু সিনথিয়া জানে, সাইফের তেমন কোনো উদ্দেশ্যই নেই। ও এমনি বলেছে, তার মানে এমনিই। কোনো কারণই নেই। একটা অজানা আশঙ্কা তাই ওর ফুরফুরে মেজাজের পাশাপাশি স্থান নিয়ে নিয়েছে।

রেস্টুরেন্টের সামনে আসতেই দেখল সাইফ দাঁড়িয়ে আছে। সিনথিয়া তাড়াতাড়ি করে নেমে ভাড়া চুকিয়ে সাইফের কাছে গিয়ে বলল, ‘অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছো? সরি, আমি রিকশা নিয়ে আসছিলাম তাই দেরি হয়ে গেল।’
সাইফ বলল, ‘না আমি এসেছি কিছুক্ষণ হয়েছে। চলো।’

রেস্টুরেন্টটা মেইন রাস্তার ধারে। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় এখানে ওখানে পানি জমে আছে। রেস্টুরেন্টের একটা অংশ পুরো কাঁচের। সেটা বাইরে থেকে দেখা যায়। বড় বড় স্টিকার লাগানো আছে প্রাইভেসি রক্ষার জন্য। তবে মাথা নিচু করলে বাইরের দৃশ্য দেখা যায়। অবশ্য এখানে দৃশ্য বলতে রিকশা আর প্রাইভেট কারের হুড়োহুড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই।

রেস্টুরেন্টে বসে সাইফ আর সিনথিয়া অনেক কথাই বলল। এক সময় উঠে আসলো বৃষ্টিতে ভেজার প্রসঙ্গ। সিনথিয়া বলল, ‘তোমাকে তো সেদিন বৃষ্টিতে ভেজার জন্য কত টানাটানি করলাম। শুনলেই না। ভিজলে অনেক ভালো লাগতো।’ ওর সাথে দুর্ব্যবহারের বিষয়টা এড়িয়ে গেল সিনথিয়া।
সাইফ বলল, ‘আমার বৃষ্টিতে ভিজতে আর ভালো লাগে না। মাঝে মাঝে অবশ্য ভিজি। সেটা অন্য কারণে। পরে বলা যাবে। কিন্তু সেদিন তোমার সঙ্গে ওভাবে আচরণ করা আমার সত্যিই ঠিক হয়নি।’
‘সমস্যা নেই। আমি কিছু মনে করিনি। আমার ইচ্ছে না করলে কেউ টানলে আমিও হয়তো ওরকমই করতাম।’
‘তবুও। আমি একটু বাড়াবাড়িই করে ফেলেছি। সরি।’
‘ইট’স ওকে। এখন অন্য কথা বলো।’
সাইফ এবার সরাসরি সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘এরপরও তুমি আমার সঙ্গে আগের মতোই মিশছো কেন?’
সিনথিয়া চুপ করে রইল।
‘সিনথি আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি। এরপরও তো তোমার আমার সঙ্গে এতোটা মেশার কথা না।’
‘এমনি। আমরা ভালো ফ্রেন্ড। তাই....’ তাকে থামিয়ে দিল সাইফ। বলল, ‘ভালো ফ্রেন্ড ওই কথা আর বলবা না। ভালো ফ্রেন্ড অনেক দেখেছি। খারাপ ব্যবহার ভালো ফ্রেন্ডরাও সহ্য করে না।’
সাইফকে হঠাৎ এভাবে কথা বলতে দেখে একটু থমকে গেল সিনথিয়া। চুপ করে রইল। সাইফ তাকে আবার জিজ্ঞেস করলো সত্যি কথাটা তাকে বলার জন্য। সিনথিয়া মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে জবাব দিলো, ‘কারণ, আমি তোমাকে ভালোবাসি, সাইফ।’




সাইফ সোজা সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। তার কোনো সন্দেহ নেই মেয়েটা তাকে পছন্দ করে। সিনথিয় বেশ সুন্দরী একটা মেয়ে। বেশ মিশুক হলেও সবার সঙ্গেই একটু দূরত্ব রেখে চলে। তাই কেউ সহজে তার খুব কাছে ঘেঁষতে পারে না। ক্লাসের হটশট না হলেও অন্য কয়েকটা মেয়ে সিনথিয়ার দিকে বেশ হিংসার চোখেই তাকায়। সেই মেয়েটা তাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসে, এটা জেনে তার খুশি তো লাগছেই না, বরং এখন যে সে তাকে মুখের উপর না করে দিতে যাচ্ছে, সে জন্যও তার এতটুকু খারাপ লাগছে না।

‘সিনথি, দেয়ার ইজ সামওয়ান এলস ইন মাই লাইফ।’
সিনথিয়া যেন ঠিক আকাশ থেকে পড়লো। ‘হোয়াট দা হেল আর ইউ টকিং অ্যাবাউট সাইফ?’
সাইফ তার সামনে রাখা পানির গ্লাসের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে মাথা ঝাঁকালো।
সিনথিয়া যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। কথা হারিয়ে ফেলেছে সে। সে প্রত্যাখ্যাত হতে পারে এমন আশঙ্কা করেছে, কিন্তু সাইফের জীবনে অন্য কোনো মেয়ে আছে এমনটা সে কল্পনাও করেনি।
‘সাইফ আর ইউ অল রাইট? আমার মনে হচ্ছে তুমি মিথ্যে বলছো।’
সাইফ তার কথার উত্তর না দিয়ে বলল, ‘ও এখন আর আমার সঙ্গে নেই।’
সিনথিয়া আরেকটু অবাক হয়ে বলল, ‘তাহলে মাত্র যে বলল তোমার জীবনে অন্য কেউ আছে?’
‘হ্যাঁ, আমার জীবনে অন্য কেউ আছে বলেছি, সে আমার সঙ্গে আছে এমনটা তো বলিনি।’
সিনথিয়া চুপ করে সাইফের দিকে তাকিয়ে রইল।
‘অথবা ও এখন আমার সঙ্গে নেই বলেছি, তাই বলে আমি এখনো ওকে ভালোবাসি না এমনটা তো বলিনি।’
সিনথিয়া তবু চুপ করে রইলো। বিস্ময়ের ধাক্কায় সে প্রত্যাখ্যাত হবার দুঃখও যেন ভুলে গেছে।
সাইফ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলো। তারপর বলতে শুরু করলো, ‘আমার জীবনে আরেকটা মেয়ে আছে। সেই মেয়েটা আজ আমার সঙ্গে নেই। অন্য কেউ তার জীবনে আছে কি না আমি জানি না। আপাতঃদৃষ্টিতে আমাকে ছাড়া তার দিব্যি চলে যাচ্ছে এটাও মনে হচ্ছে। কিন্তু তবুও আমি তাকে অন্ধের মতো ভীষণ ভালোবাসি। একটা অন্ধ মানুষ একজোড়া চোখকে যতোটা পেতে চাইতে পারে, আমি যেন ওকে তারচেয়েও বেশি আমার জীবনে চাই।’

সিনথিয়া তার হাতের চুড়ির দিকে তাকিয়ে রইল।

‘ও আমার জীবনে এসেছিল অনেক ক্রিটিক্যাল একটা মুহুর্তে। একটা বন্ধু হিসেবে ও আমার জীবনে এসে আমার জীবনের গতিপথই যেন পাল্টে দিয়েছিল। বলতে পারো, আজ আমি বেঁচে এখানে বসে আছি কেবল ওর জন্য। ও সেই সময় বন্ধু হয়ে আমার জীবনে না আসলে অনেক আগেই আমি সুইসাইড করে বসতাম। এর কারণ অবশ্য ফ্যামিলিগত।’

সিনথিয়া তবু চুপ করে বসে রইল। সে সাইফের ফ্যামিলি সম্পর্কে আগেই সাইফের কাছে শুনেছে। তার মা-বাবা থেকেও যেন না থাকার মতো। আরও নানা অশান্তির কথা শুনেছে সিনথিয়া যা শুনে সাইফ এতোকিছুর মাঝেও কীভাবে বেঁচে আছে তা ভেবে অবাক হয়েছিল। আজ তার জবাব পেলো।

‘ওর নাম সিমি। জানো, আমি ঠিক করেছিলাম আমি ওকে নিয়ে ভবিষ্যতে একটা বই লিখবো। বইটার নাম হবে “মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি”। বইটায় অবশ্য আমার আর ওর কথা থাকবে না, থাকবে আমার জীবনের কথা। বইটা লেখা হবে এমনভাবে, যেন সিমি আমার বন্ধু, আর আমি আমাদের জীবনযাত্রায় ওকে আমার জীবনের কথাগুলো জানাচ্ছি। ঠিক এই কায়দায় বইটা লিখবো ঠিক করেছিলাম।’

সিনথিয়া তখনো চুপ। কিন্তু তার পূর্ণ মনোযোগ রয়েছে সাইফের কথার দিকে।

‘পরবর্তীতে সব বদলে গেল। ওর সঙ্গে আমার একটা সম্পর্ক তৈরি হলো। সেই সম্পর্কের বিবরণ দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ভালোবাসা কতোটা মধুর আর গভীর হতে পারে তা আমরা দু’জনই যেন টের পেয়েছিলাম। তখন একবার ভেবেছিলাম বইটার নাম হবে মাই ওয়াইফ সিমি। কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম, ও কেবল আমার ভালোবাসার মানুষই ছিল না, সঙ্গে আমার একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ডও ছিল। তাই নামটা অপরিবর্তিতই রয়ে গেল।’

‘কিন্তু তখন কি আর জানতাম সবকিছু আবার পেছনের দিকে চলে যাবে! তখন কি ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেছিলাম যে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তিটাকে আমি আবার এভাবে হারাবো! কিন্তু আমি ওকে হারিয়েছি। তারপর থেকে এই নামটা আর মনে পড়েনি। আজ হঠাৎই মনে পড়লো। শেষে হয়তো কোনোদিন বইটা লিখবো, কিন্তু আমার জীবনের কাহিনী নিয়ে নয়, আমার আর ওর কথা নিয়ে।’

সিনথিয়া মুখ খুললো, ‘আমি তোমার কাছ থেকে সব কথা শুনতে চাই। সিমির সঙ্গে তোমার বন্ধুত্ব থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সব। অবশ্যই যদি তোমার কোনো আপত্তি না থাকে।’
সাইফ বলল, ‘ঠিক আছে। তোমাকে শোনাবো।’

তারপর আবার নীরবতা। বাইরে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। সিনথিয়া তাকিয়ে দেখল, রেস্টুরেন্টের ভেতরে এখন ওরা একা। আর কোনো কাস্টোমার নেই।

সাইফ কিছুক্ষণ পর বলল, ‘আমি সত্যিই ওকে অনেক ভালোবাসি। আজ অনেকদিন হয়ে গেছে ও আমার থেকে দূরে সরে গেছে। কিন্তু বিশ্বাস করাতে পারবো না তোমাকে, প্রতিটা মুহুর্তেই আমি ওর কথা ভাবতে থাকি। আমার জীবনের প্রতিটা মুহুর্তের সঙ্গে ওর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এমনকি এই যে আমি এখানে তোমার সঙ্গে বসে আছি, এখানেও জড়িয়ে আছে ওর স্মৃতি।’

সাইফ কাঁদতে শুরু করলো। সিনথিয়া প্রথমে কিছুক্ষণ বিশ্বাস হতে চাইলো না। ও জানতোই না যে সাইফের মতো কঠিন মনের মানুষ কাঁদতে জানে, কিংবা তার কোনো অনুভূতি শক্তি আছে। ওর মতো মানুষগুলো সাধারণত অনুভূতিহীন হয়। তাই সাইফকে কাঁদতে দেখে ওর খুব অবাক লাগলো। একই সঙ্গে খারাপও লাগলো। সাইফকে ও পছন্দ করে। ওকে কাঁদতে দেখলে ওর খারাপ লাগাই স্বাভাবিক।

সিনথিয়া সাইফকে সান্তনা দেয়ার ভাষা পেল না। কিছুক্ষণ শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল সাইফের গাল বেয়ে এক ফোটা পানি গড়াতে না গড়াতেই কীভাবে আরেক ফোটা পানি চোখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে। বেশিক্ষণ দেখতে পারলো না সে। সাইফের জন্য তারও খুব কান্না পেলো। সে মাথা নিচু করে বাইরের বৃষ্টির দিকে তাকালো।

রেস্টুরেন্টের ভেতরে তখন কেউ থাকলেও দেখতে পেতো না যে সিনথিয়ার গাল বেয়েও অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। এই অশ্রু সিনথিয়ার নিজের না পাওয়ার কষ্টের, নাকি সাইফের কষ্টের, তা বোধহয় বিধাতাই বুঝলেন।

(চতুর্থ পর্ব )

প্রথম প্রকাশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29403837 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29403837 2011-06-28 15:51:05
গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ২)


প্রথম পর্ব


ক্লাসজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি। বাংলা স্যার এতো কড়া হতে বোধহয় এই ক্লাসের আর কেউই কোনোদিন দেখেনি। স্যার বেশ জোর গলায় সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছেন। তার ক্লাসে একদিনও পড়া কমপ্লিট না করে আসা যাবে না। তার ক্লাস চলাকালীন টু শব্দ করা যাবে না। তার ক্লাসের সময় কেউ মরে না গেলে বাইরে যেতে পারবে না। এমন আরো অনেক আজগুবি ও মেজাজ খারাপ করা সব নিয়মকানুন জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এই স্যারের নাম আশরাফ। তার নাম শুনলেই কলেজসুদ্ধ সবাই থরথর করে কাঁপে। তিনি একবার যে নিয়ম করেছেন, সেটাই সই। তার নড়চড় কোনোভাবেই চলে না। একবার ক্লাসে একটা ছেলে বাথরুমে যেতে চেয়েছিল। স্যার তাকে বেশ কড়া শাস্তি দিয়েছিলেন। তা দেখে সবাই একেবারে সোজা হয়ে গিয়েছিল।

আশরাফ স্যার চলে যেতেই সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। সিনথিয়া এসে সাইফের পাশের বেঞ্চে বসে বলল, ‘বাঁচা গেল, তাই না?’
মাথা নেড়ে সাইফ বলল, ‘হুম।’
‘কিছু কিছু স্যারই থাকে এমন বদ। এগুলোর অত্যাচার সহ্য করা ছাড়া যেন কোনো গতি নেই।’
‘গতি থাকবে কীভাবে বলো? প্রিন্সিপালের সঙ্গে তার ভালো খাতির যে।’
‘সেটাই তো মূল সমস্যা। নইলে কবে তার নামে নালিশ করা যেত। ব্যাটা পড়ায় বাংলার মতো একটা সাবজেক্ট, ভাব দেখায় যেন ক্যালকুলাস পড়াচ্ছে,’ রাগ ঝাড়লো সিনথিয়া।
একটু হেসে সাইফ বলল, ‘তুমি এতো রাগ করছো কেন? তোমাকে তো আজ পর্যন্ত কিছুই বলেনি। কোনো শাস্তিও পাওনি। তাতেই এতো রাগ?
‘শাস্তি দেয়া লাগবে না। লোকটার হামতুম আমার মোটেই পছন্দ নয়।’
‘হুম।’

পরের ক্লাসটা অ্যাকাউন্টিং। প্রধান সাবজেক্ট হওয়ায় এই বিষয়ে সবাই মনোযোগ দেয়। কিন্তু অ্যাকাউন্টিং-এর স্যারটা যেন আবার সুবিধার নয়। তিনি পড়ানোর চেয়ে গল্প করতেই বেশি ভালোবাসেন। অবশ্য এ নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই। কারণ, তিনি যে অল্প সময়টুকু পড়ান, তাতেই ছাত্রছাত্রীদের মাথায় একেবারে গেঁথে দিতে পারেন পড়া। সিনথিয়ার ভাষায়, এই স্যারটা হলেন বর্ন টিচার। মানুষকে শেখানোর জন্যও বুদ্ধি থাকতে হয়। এই স্যারটার সেই বুদ্ধির কোনো অভাবই নেই, এমনটাই মনে করে সিনথিয়া।


এভাবে কলেজের পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে খানিক কথাবার্তা আর সাইফের প্রতি সিনথিয়ার কড়া নজরদারির মধ্যে আরো কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে। এর মধ্যে সাইফ আর সিনথিয়ার বন্ধুত্বও হয়েছে আরও অনেক ঘনিষ্ঠ। কিন্তু এই বন্ধুত্বের মধ্যেও সাইফের কেমন যেন একটা কেয়ারলেস ভাব সবসময়ই খেয়াল করেছে সিনথিয়া। কেবল সিনথিয়াই নয়, ক্লাসের আরো অনেকেই ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছে। একদিন অনেক আগ্রহ নিয়ে সিনথিয়া বৃষ্টিতে ভেজার জন্য সাইফকে ডেকেছিল। সেদিন বাইরে তুমুল বৃষ্টি। বৃষ্টি না বলে ঝড় বলা ভালো। কলেজের প্রায় সবাই, এমনকি কয়েকজন টিচারও ভিজতে শুরু করেছিল সেদিনের বৃষ্টিতে। আর ছেলেমেয়েদের কথা তো বাদই। তখন সবার দেখাদেখি সিনথিয়াও বেশ লাফালাফি করতে করতে এসে সাইফকে ডাকল, ‘অ্যাই সাইফ, বৃষ্টিতে ভিজবো আসো তো!’
‘তুমি বৃষ্টিতে ভিজবে আমি এসে কী করবো?’ দায়সারাভাবে জবাব দিলো সাইফ।
সেটা গায়ে না মেখে সিনথিয়া বলল, ‘কাম অন দেরি করো না বৃষ্টি কমে গেলে মজা শেষ। এতো জোরে বৃষ্টি পড়তে আমি কোনোদিন দেখিনি। ঠিক যেন বাথরুমের শাওয়ারের ফুল ফোর্সকেও হার মানাবো। তুমি আসো তো! ভিজলে তোমার ভালো লাগবে। আমি বললাম না?’
‘না আমি ভিজবো না। তোমার ভিজতে ইচ্ছে করছে, তুমি যাও। আমাকে টাইনো না। প্লিজ।’
‘আরে কি আশ্চর্য! এমন দিনে কেউ ঘরে বসে থাকে নাকি?’ বলে সাইফের হাত ধরে টানতে শুরু করলো। সাইফ বলল, ‘সিনথি লিভ মি অ্যালোন।’
তাতে কান না দিয়ে টানতে থাকলো সিনথিয়া।
‘সিনথি জাস্ট লিভ মি অ্যালোন!’ রীতিমতো চিৎকার করে বলল সাইফ।
সঙ্গে সঙ্গে হাতটা ছেড়ে দিল সিনথিয়া। যেন কারেন্টে শক খেয়েছে। কিছুক্ষণ বিমূঢ়ের মতো তার দিকে তাকিয়ে থেকে এক ঝটকায় ঘুরে ক্লাস থেকে বের হয়ে গেল সে।

তখন রুমে অনিক, শাকিলসহ আরও কয়েকজন ছিল। তারা অনেকদিন ধরেই খেয়াল করছে সিনথিয়ার সঙ্গে সাইফের এমন আচরণ। তারা এসে সাইফের পাশে বসল। ‘সাইফ, তোমার সমস্যাটা কী আমাকে বলবা?’
সাইফ ততক্ষণে চুপ হয়ে গেছে। রাগের মাথায় এভাবে ঝাড়াটা ঠিক হয়নি সেটা বুঝতে পেরে এখন তার খারাপ লাগছে।
অনিক আবারো জিজ্ঞেস করল, ‘কী হলো বলো? সিনথিয়া তোমার সাথে অনেক মিশে। তোমার মতো আর কারো সাথে সে এতো মিশে না। ও তোমার খোঁজ-খবরও রাখে অনেক। তবুও কেন তুমি ওকে এভাবে এড়িয়ে চলো?’
‘আমি জানি না,’ বিষন্ন মনে জবাব দেয় সাইফ।

তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিল সিনথিয়া।


সিনথিয়াকে এভাবে কষ্ট দেয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও অনেকবার সাইফ তার সঙ্গে রীতিমতো অনেক কষ্ট দিয়েছে। সিনথিয়া যথেষ্ট বুদ্ধিমতী মেয়ে। সে বুঝতে পেরেছে কোনো একটা কষ্টময় অতীতে ডুবে আছে সাইফ। অতীতটা কী, তা সিনথিয়া এখনো জানে না। ও ভেবেছে একদিন সাইফই তাকে সব বলবে। কিন্তু সাইফ আজও তাকে বলেনি কিছু।

কিন্তু আজ বৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে অন্য একটা কথা ভাবছে সিনথিয়া। সে কাঁদছে কেন? সে শক্ত-সামর্থ্য একটা মেয়ে। তার মা বলে, জন্মের পর নাকি ও তেমন একটা কাঁদেইনি। অনেক চঞ্চল স্বভাবের মেয়ে ও। কোনোকিছুতে কষ্ট পেলে সেটা মানিয়ে নেয়ার এক ক্ষমতা রয়েছে তার যা তাকে যে কোনো পরিস্থিতিতে মনকে শক্ত রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু সাইফের সঙ্গে কিছু হলে সে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না কেন? সাইফ তো তার সঙ্গে তেমন একটা ভালো করে কথাও বলে না। এমনিতে সে খুব ভালো ব্যবহার করে। খোঁজ-খবরও রাখে। কিন্তু সাইফতো ওর সঙ্গে অন্যভাবে কখনো মেশেনি। উল্টো একটু দূরে দূরে থেকেছে। তাহলে কি তার এই দূরে দূরে থাকাটাই তাকে কাছে টেনেছে? প্রতিটি বন্ধন কি দূর থেকেই আবদ্ধ হয়ে যায়?

এমনি নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল সিনথিয়ার মাথায়। সে বিষয়টা নিয়ে ভাবতে থাকলো। তিন-চারদিন টানা সে শুধু এটা নিয়েই ভাবলো। সবশেষে সে সত্যটা টের পেল, সে সাইফকে পছন্দ করে ফেলেছে। কীভাবে কখন এটা হলো, সে বুঝতেও পারলো না। কিন্তু সত্যটা টের পেয়ে সে খুব কষ্ট পেল। নিজের উপর সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। সাইফ ভালো একটা ছেলে। কিন্তু সম্পর্ক তৈরি করার মতো ছেলে হয়তো সে নয়। এমনিতেই সাইফ তাকে অনেক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। তার সঙ্গে সম্পর্ক হলে তো তাকে কষ্টই পেতে হবে। তবে কি এতোদিনের হাসিখুশি সিনথিয়া জেনেশুনে কষ্টের জীবন বেছে নিবে?

(তৃতীয় পর্ব )

প্রথম প্রকাশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29402953 http://www.somewhereinblog.net/blog/aminul_islamblog/29402953 2011-06-26 21:28:34