somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা শহরে স্কুল

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডিসেম্বর মাস মানেই ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের ভর্তি যুদ্ধ। অবিভাবকদের স্কুলে স্কুলে ছুটোছুটি, ফর্মকেনা, ফর্ম জমা দেয়া, পরীক্ষার দিন সন্তানকে নেয়া আনা, বিশাল ভির ঠেলে রেজাল্ট দেখা ইত্যাদি। স্কুলে ভর্তির জন্যতো এখন কোচিং পর্যন্ত করতে হয়। একটি শিশু প্রথম শ্রেণীতে বা শিশু শ্রেণীতে (কোন কোন বিদ্যালয়ে জুনিয়র ওয়ান বলা হয়) ভর্তি হবে সেজন্যও কোচিং!! ভাবতেই অবাক লাগে। শিক্ষার জন্য স্কুলে যাবার আগে মানুষকে কোচিং সেন্টারে যেতে হয়! যাই হোক আজ স্কুল সম্পর্কে অন্য কিছু লিখবো বলে বসেছি।

অনেকেই বলে ঢাকা শহরে অতিরিক্ত সংখ্যক স্কুল রয়েছে কিন্তু আমি তাদের সাথে একমত নই। আমার মতে ঢাকা শহরে খুবই কম স্কুল আছে। আমি একটি উদাহরন দেই, ছোট বেলায় জিগতলায় থাকতাম, সে এলাকার আশেপাশের স্কুল দিয়ে শুরু করি।
ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর এলাকার স্কুলগুলো হচ্ছেঃ
১। ধানমন্ডি বয়েজ হাই স্কুল
২। ওয়েস্ট ধানমন্ডি ইউসুফ হাই স্কুল
৩। মোহাম্মদপুর হাই স্কুল
৪। গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুল
৫। বি সি এস আই আর হাই স্কুল
৬। মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সিয়াল হাই স্কুল
৭। উদয়ন হাই স্কুল
৮। ইউনিভারসিটি ল্যাবরেটরি হাই স্কুল
৯। রায়েরবাজার হাই স্কুল
১০। রাজধানী হাই স্কুল

আর মনে পড়ছে না, ঢাকার বড় একটি অংশের স্কুলের হিসাব দিয়ে দিলাম। অনেকেই হয়ত বলবেন শুধু মাত্র ধানমন্ডিতেই অন্তত ৫০টি স্কুল আছে (কিন্ডার গার্ডন, প্রইভেট ইত্যাদি)। তবে এসব স্কুলকে আমি স্কুল বলতে রাজি নই। এগুলোকে বড়জোর কোচিং সেন্টার বলা যেতে পারে। কারন স্কুল আসলে কি জন্য? শুধু মাত্র কয়েকটি গল্প-কবিতা জানার জন্য, গতবাধা কিছু লেখা মুখস্ত করার জন্য?

একটি স্কুল বিশাল একটি জিনিস, ছোট ছোট খুপরি ঘরে বসে কয়েকটি বই মুখস্ত করানোর নাম স্কুল নয়। একটি সাধারন স্কুলে কি কি দরকার তার একটি তালিকা এমন হতে পারে

১। একটি বড় মাঠ, যেখানে সবাই খেলবে, তাতে শরীর চর্চার পাশাপাশি খেলাধুলার অভ্যাস হবে, সবার সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং স্কুলটিও অনেক বড় বলে মনে হবে, এখন ছোট ছোট ঘরের মত স্কুলে পড়ে বাচ্চাদের মন অন্যরকম হয়ে যার, তারা চার দেয়ালে বন্দী থাকে আর বিনোদনের জন্য মোবাইলে পর্ন দেখে, অথবা গেম খেলে।

২। স্কুল হতে হবে সবার জন্য, ঢাকা শহরের বেশীরভাগ স্কুলের ভর্তি ফি ও বেতন এত বেশী যে শতকরা ৭০% মানুষের ধরা ছোয়ার বাইরে, এতে করে শ্রনী বিভেদ হয়ে যাচ্ছে।

৩। সব স্কুলের পাঠ্যক্রমও এক নয়, এক স্কুলে এক বই পড়ানো হয় তো আরেক স্কুলে অন্য বই পড়ানো হয়।


আসলে শিক্ষাটি শুধু বইয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, সবার সাথে মিশা ভালো ব্যবহার করতে শিখা এগুলোও শিক্ষার অংশ। আমাদের সবগুলো স্কুল অর্থনৈতিকভাবে ভাগ হয়ে গেছে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সবাই এক স্কুলে পড়ে না ফলে এক শ্রেণীর বাচ্চারা বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের বাচ্চারা উচ্চবিত্ত ও নিম্মবিত্ত পরিবারের বাচ্চাদের সাথে মিশতে পারছে না, অনেক মায়েরাও আবার নিজের সন্তানদেরকে নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের সাথে মিশতে দেয় না। এতে করে একদিকে নিম্নবিত্তের প্রতি ঘৃনা সৃস্টি হচ্ছে আবার অপরদিকে উচ্চবিত্তদের প্রতি অতিআগ্রহ সৃস্ট হচ্ছ। ফলে উচ্ছবিত্তের সন্তানটি ইয়াবা খেলে সেও ইয়াবার প্রতি আকৃস্ট হচ্ছে। উচ্ছবিত্তের সন্তানটি বড়দের সাথে অভদ্রতা করলে সেও করছে। আসলে আমি বলতে চাচ্ছি সবার সাথে মিশতে শিখা, ভদ্রতা শিখা ও সমাজে চলতে শিখাটি শিক্ষার সবচেয়ে বড় অংশ, যেটি স্কুল থেকে হচ্ছে না।

আবার আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন যা শিশুদের ক্রিয়েটিভিটি নস্ট করে দেয়। শুধু মুখস্ত করতে শিখায়। আমি বুঝিনা ক্লাস ওয়ানের ভর্তি পরীক্ষায় দেশ ও রাজধানীর নাম লিখতে দেয় কিভাবে?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৫
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×