চালের দাম কমছে - এটা পুরোনো খবর। বোরো ফসল ওঠার খবর পাওয়ার পর পরই আমদানিকারক ও মিল মালিকরা তাদের কাছে মজুদ চাল বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে চালের মূল্য কমে আসছে।
এই খবরের সাথে সংযুক্ত একটি ব্যাপার ভাবার মতো। সারা দেশের মানুষ যখন খাবারের উচ্চ মূল্যের কারণে হাসফাস করছে, তখন এসব লোক আরও মুনাফা করার লোভে তাদের কাছে চাল মজুদ করে রেখেছিল। চাল যদি মজুদ না রেখে থাকে, তাহলে এখন তাদের কাছে থেকে চাল বেরুল কিভাবে ? মানুষের কষ্ট নয়, তাদের কাছে তাদের অতি মুনাফাই মূল কথা। দেশের মানুষ খেতে পাক বা না খেতে পেয়ে মারা যাক, তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। এরা কি মানুষ ? নাকি অতি মুনাফার লোভে জানোয়ারে পরিণত হয়েছে ?
চালের উচ্চ মূল্যের জন্য আমরা কথায় কথায় সরকারের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করি। এসব অতি মুনাফালোভীদের উপর নির্ভর করে সরকার সবচেয়ে ভুল করেছে। এরা কখনো আমাদের সাধারণ মানুষের কষ্ট বুঝবে না। এরা আসলে ব্যবসায়ী নয়, মজুদদার। এদেরকে ব্যবসায়ী হিসেবে মর্যাদা দেয়া ও তাদের সুযোগ সুবিধা দেয়া বন্ধ করতে হবে। এদের মজুদদার হিসেবে চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
আর আমাদের পরিচিত যত মজুদদার আছে, তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক বন্ধ করে দিতে হবে। তাদেরকে প্রকাশ্যে ঘৃণা করতে হবে। তাদের সম্পর্কে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকদের জানাতে হবে। এরা সমাজের শত্রু। এরা দেশের শত্রু। এরা যে কোন অপরাধীর চেয়েও বড় অপরাধী। এদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে না তুললে আমরা কখনো খাদ্যদ্রব্যের উচ্চ মূল্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারব না।
সারা পৃথিবীতে মজুদদারি একটি ঘৃণ্য অপরাধ। আমাদের দেশে কি মজুদদারি বৈধ ? যদি বৈধ না হয়, আমাদের উচিত এদেরকে আইনের আওতায় এনে সাজা দেয়া। মানুষের মুখের গ্রাস নিয়ে যারা অতি মুনাফা করতে চায়, তারা সমস্ত মানবতার শত্রু। এদের কঠোর শাস্তি না দিলে আমরা কখনো মজুদদারির কুফল থেকে মুক্তি পাব না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


