নব্বইয়ের গণঅভু্যত্থানের পর আমরা অনেক বড় আশা করে বুক বেঁধেছিলাম। গত ১৮ বছরে আমাদের বড় আশা সব তো গেছেই, ছোট কোন আশা করতেও ভয় পাই।
সন্ত্রাস, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ, দলীয়করণ, টেন্ডারবাজি, দখল কোনটা করেনি এ দেশের বড় দু দলের নেতাকর্মীরা। সারা দেশ তাদের হাতে জিম্মি ছিল। যে যখন ক্ষমতায় গেছে রাষ্ট্র ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পরই সব কিছু রাতারাতি পেশীশক্তির হাতে চলে গেছে। দখল হয়েছে সব কিছু।
অশিক্ষিত ভাদাইমা মাদকাসক্ত কতগুলো লোক রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেছে। তারা অনেকে কোন রাজনৈতিক দলের সাধারণ সদস্যও নয়। তাদের পরিচয়, তারা স্থানীয় সাংসদের আস্থাভাজন, সাংসদের আত্মীয় বা বন্ধু। সাংসদের আশীর্বাদে তারা দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি করে দু হাতে টাকা কামিয়েছে। বিনিময়ে সাংসদ সাহেব মোটা অঙ্কের ভাগ পেয়েছেন।
দলের ভেতর কোন গণতন্ত্র নাই। কাউন্সিলরদের কোন মতামত নেয়া ছাড়াই সাংসদ যাকে খুশি তাকে নেতা বানিয়েছে। তার পছন্দের লোক ছাড়া কোন লোক নেতা হতে পারেনি। সম্পূর্ণ স্বৈরতান্ত্রিক ও একনায়কতান্ত্রিক পন্হায় স্থানীয় সাংসদরা দলকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। দলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীরা চিরকাল বঞ্চিত থেকেছে। বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র কিন্তু সাংসদদের এই চরম ক্ষমতা সমর্থন করে না। গঠনতন্ত্রে যা লেখা আছে তা শুধু কেতাবে আছে, গোয়ালে নাই।
গণতন্ত্রে নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় শেষে বিদায় নিতে হয় । কিন্তু রাজনৈতিক দলের নেতা একনায়কের মতো মৃতু্যর আগ পর্যন্ত নেতা। তারা তাদের পদ কখনই ছাড়েন না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের মৃতু্য হয়। যারা গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য হাউকাউ করছেন, তারা নিজেদের দলে একজন একনায়ক। আবার রাজতন্ত্রের মতো আছে উত্তরাধিকার রাজনীতি। প্রত্যেক নেতাই চান, তার পুত্রধন তার মতো নেতা হোন। অর্থাৎ আমাদের গণতন্ত্রের লেবাসধারীরা একই সাথে তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেন, তিনি গলাবাজিতে গণতান্ত্রিক, দলের নেতা হিসেবে একনায়কতান্ত্রিক এবং পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনে রাজতান্ত্রিক। এসব রাজনীতিবিদরা যখন গণতন্ত্রের গান গায়, তখন বোকা হওয়া ছাড়া আর কি উপায় ?
আমাদের দু নেত্রী ক্ষমতার মসনদে বসে বসে দেখেছেন তাদের দলের সাংসদদের নেতৃত্বে কিভাবে সারা দেশে লুটপাট হয়েছে, দখল হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে। আজ তারা দুর্নীতি মামলার আসামী।
আর এসব দুর্নীতিবাজ দখলবাজ নেতারা আজ তাদের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার। কারণ দুনেত্রী না থাকলে তাদের দুর্নীতি, দখল, লুটপাট বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আবারও তাদের লুটপাট চালু করার জন্য ক্ষমতার মসনদে দুনেত্রীকে চাই।
অতীতে দু নেত্রী যে শাসন ব্যবস্থা আমাদের দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তা-ই দেবেন। সেই দুর্নীতি, দখল, লুটপাট, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি। এর বাইরে তাদের কাছ থেকে নতুন কিছু পাওয়ার নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


