রাজনৈতিক সংস্কার : প্রস্তাব - ১ (দলে চাই গণতন্ত্র)
রাজনৈতিক সংস্কার : প্রস্তাব - ২ (উত্তরাধিকার রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক)
বাংলাদেশের রাজনীতির ক্যান্সার বলা যায় অঙ্গ সংগঠনগুলোকে। রাজনৈতিক দলগুলোকে দুর্নীতিবাজদের আখড়া বানানোর জন্য দায়ী এসব ধান্দাবাজ সংগঠনগুলো।
সাধারণ নিয়ম হল, যে চিকিৎসক সে চিকিৎসা ব্যবস্থা চালাবে, আইনজীবী আইন পেশায় থাকবে, সাংবাদিক থাকবে সংবাদের সন্ধানে, শিক্ষক থাকবে শিক্ষকতায়, শ্রমিক মিল কারখানায় তার কাজে ব্যস্ত থাকবে। তাদের কাজের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়বে, যোগ্যতা বাড়বে, পদোন্নতি হবে। যে যার যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের সুযোগ সুবিধা পাবে। তারা তাদের কাজের মাধ্যমে নিজের ও দেশের উন্নতির চেষ্টা করে যাবে। কিন্তু আমরা বাস্তবে দেখি, সকল পেশার লোকজন রাজনীতিবিদ হয়েছে। সবাই তার পেশাগত কাজ ফেলে রাজনীতি করতে আগ্রহী। কেন ?
কেননা, যোগ্যতার বলে পদোন্নতির চেয়ে রাজনীতিবিদ হলে তরতর করে পদোন্নতি হয়। জুনিয়রকে ডিঙ্গিয়ে চলে যাওয়া যায় দ্রুত। প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির সাথে সাহসের সাথে যুক্ত থাকা যায়। দল ক্ষমতায় থাকলে যা খুশি তা করে বেড়ালেও চাকুরি যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। বরং প্রতিষ্ঠানের বড় কর্তারাও সমীহ করে কথা বলে। কাজ করতে হয় না। দিনের পর দিন অফিসের ক্যান্টিনে বসে আড্ডাবাজি আর ধান্দাবাজি করে সময় কাটানো যায়। প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারে হাত দিয়ে মোটা মাল কামানো যায়। তদবির করে মোটা টাকা কামানো যায়। অর্থাৎ যে যেই পেশায় থাকুক না কেন , অঙ্গ সংগঠনে যোগ দিলে তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। তার টাকার অভাব নাই, ক্ষমতার অভাব নাই, সুযোগ সুবিধার অভাব নাই।
অন্যদিকে শুধু অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতি করে না বলে বহু যোগ্য পরিশ্রমী দক্ষ লোক ধুকে ধুকে মরে। তাদের পদোন্নতি হয় না। তাদের বেতন বাড়ে না। তাদের কোন দাম নাই। তাদের তটস্থ করে রাখে তাদের কর্তাব্যক্তিরা। ফাকিবাজদের সকল কাজ তাদের করে দিতে হয়। তারা অফিসের মধ্যে কোণঠাসা হয়ে থাকে।
ট্রেড ইউনিয়ন করা হয় শ্রমিকের স্বার্থে। কিন্তু আমরা দেখেছি, এমন ট্রেড ইউনিয়ন যারা শ্রমিকদের দাবীর বিপরীতে দাড়িয়ে সরকারের পক্ষ নিয়ে শ্রমিকদের পিটিয়েছে। ক্ষমতার পালা বদলের সাথে সাথে রাতারাতি এসব শ্রমিক নেতা দল পাল্টেছে।
তাছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবীর নামে এমন অঙ্গ সংগঠন আছে যারা কোনদিন সেই পেশায় ছিলেন না। যেমন শ্রমিক দল বা লীগের অনেক নেতা শ্রমিক না, মৎস্যজীবী দল বা লীগের নেতাদের কে কোনকালে মাছ ধরা জেলে ছিলেন সেটা ভালো গবেষণার বিষয়। তবে তারা যে মাছ ধরতে ওস্তাদ, তা তাদের চলাফেরা ঠাট দেখলে বোঝা যায়। তাঁতী দল বা লীগের নেতারা তাঁত না ধরলেও তারা বিশিষ্ট তাঁতী। তারা তাদের ভাগ্যকে ভালোভাবেই বুনে নিয়েছে। অপেশাজীবী বা বেকার বা ধান্দাবাজরা এভাবে পেশাজীবীদের নেতা হয়ে বসে আছে।
মূলত এসব অঙ্গ সংগঠন তৈরি করা হয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটিপতি হওয়ার জন্য। প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করে সকল অবৈধ সুযোগ সুবিধা গ্রহণের জন্য। আর অঙ্গ সংগঠনের এসব নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাজনীতিবিদরা দেদারসে মাল কামিয়ে নিয়েছেন।
রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে অবশ্য আমাদের রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন বন্ধ করে দেয়া উচিত। পেশাজীবীদের যেসব সংগঠন থাকবে সে গুলো হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। পেশাজীবীদের সংগঠন শুধু পেশাজীবীরা করবে। কোন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি তারা করতে পারবে না।
কেউ যদি রাজনীতি করতে চায়, তাকে ব্যক্তিগতভাবে করতে পারবে, তার সাথে তার পেশাকে জড়াতে পারবে না। পেশার ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা পেতে তার রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করতে পারবে না। সে পদোন্নতিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাবে তার যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার বলে। রাজনীতি মানে জনগণের সেবা করা, নিজের মাল কামানোর ধান্দা নয়।
আর যারা জনগণের সেবা করতে চান, তারা সকল কাজ ফেলে চলে আসুন রাজনীতির মাঠে। সরাসরি মূল দলে যোগ দেন। জনগণের কথা বলুন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


