somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজনৈতিক সংস্কার : প্রস্তাব - ৩ (অঙ্গ সংগঠন নিষিদ্ধ হোক )

১২ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজনৈতিক সংস্কার : প্রস্তাব - ১ (দলে চাই গণতন্ত্র)
রাজনৈতিক সংস্কার : প্রস্তাব - ২ (উত্তরাধিকার রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক)
বাংলাদেশের রাজনীতির ক্যান্সার বলা যায় অঙ্গ সংগঠনগুলোকে। রাজনৈতিক দলগুলোকে দুর্নীতিবাজদের আখড়া বানানোর জন্য দায়ী এসব ধান্দাবাজ সংগঠনগুলো।
সাধারণ নিয়ম হল, যে চিকিৎসক সে চিকিৎসা ব্যবস্থা চালাবে, আইনজীবী আইন পেশায় থাকবে, সাংবাদিক থাকবে সংবাদের সন্ধানে, শিক্ষক থাকবে শিক্ষকতায়, শ্রমিক মিল কারখানায় তার কাজে ব্যস্ত থাকবে। তাদের কাজের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়বে, যোগ্যতা বাড়বে, পদোন্নতি হবে। যে যার যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের সুযোগ সুবিধা পাবে। তারা তাদের কাজের মাধ্যমে নিজের ও দেশের উন্নতির চেষ্টা করে যাবে। কিন্তু আমরা বাস্তবে দেখি, সকল পেশার লোকজন রাজনীতিবিদ হয়েছে। সবাই তার পেশাগত কাজ ফেলে রাজনীতি করতে আগ্রহী। কেন ?
কেননা, যোগ্যতার বলে পদোন্নতির চেয়ে রাজনীতিবিদ হলে তরতর করে পদোন্নতি হয়। জুনিয়রকে ডিঙ্গিয়ে চলে যাওয়া যায় দ্রুত। প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির সাথে সাহসের সাথে যুক্ত থাকা যায়। দল ক্ষমতায় থাকলে যা খুশি তা করে বেড়ালেও চাকুরি যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। বরং প্রতিষ্ঠানের বড় কর্তারাও সমীহ করে কথা বলে। কাজ করতে হয় না। দিনের পর দিন অফিসের ক্যান্টিনে বসে আড্ডাবাজি আর ধান্দাবাজি করে সময় কাটানো যায়। প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারে হাত দিয়ে মোটা মাল কামানো যায়। তদবির করে মোটা টাকা কামানো যায়। অর্থাৎ যে যেই পেশায় থাকুক না কেন , অঙ্গ সংগঠনে যোগ দিলে তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। তার টাকার অভাব নাই, ক্ষমতার অভাব নাই, সুযোগ সুবিধার অভাব নাই।
অন্যদিকে শুধু অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতি করে না বলে বহু যোগ্য পরিশ্রমী দক্ষ লোক ধুকে ধুকে মরে। তাদের পদোন্নতি হয় না। তাদের বেতন বাড়ে না। তাদের কোন দাম নাই। তাদের তটস্থ করে রাখে তাদের কর্তাব্যক্তিরা। ফাকিবাজদের সকল কাজ তাদের করে দিতে হয়। তারা অফিসের মধ্যে কোণঠাসা হয়ে থাকে।
ট্রেড ইউনিয়ন করা হয় শ্রমিকের স্বার্থে। কিন্তু আমরা দেখেছি, এমন ট্রেড ইউনিয়ন যারা শ্রমিকদের দাবীর বিপরীতে দাড়িয়ে সরকারের পক্ষ নিয়ে শ্রমিকদের পিটিয়েছে। ক্ষমতার পালা বদলের সাথে সাথে রাতারাতি এসব শ্রমিক নেতা দল পাল্টেছে।
তাছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবীর নামে এমন অঙ্গ সংগঠন আছে যারা কোনদিন সেই পেশায় ছিলেন না। যেমন শ্রমিক দল বা লীগের অনেক নেতা শ্রমিক না, মৎস্যজীবী দল বা লীগের নেতাদের কে কোনকালে মাছ ধরা জেলে ছিলেন সেটা ভালো গবেষণার বিষয়। তবে তারা যে মাছ ধরতে ওস্তাদ, তা তাদের চলাফেরা ঠাট দেখলে বোঝা যায়। তাঁতী দল বা লীগের নেতারা তাঁত না ধরলেও তারা বিশিষ্ট তাঁতী। তারা তাদের ভাগ্যকে ভালোভাবেই বুনে নিয়েছে। অপেশাজীবী বা বেকার বা ধান্দাবাজরা এভাবে পেশাজীবীদের নেতা হয়ে বসে আছে।
মূলত এসব অঙ্গ সংগঠন তৈরি করা হয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটিপতি হওয়ার জন্য। প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করে সকল অবৈধ সুযোগ সুবিধা গ্রহণের জন্য। আর অঙ্গ সংগঠনের এসব নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাজনীতিবিদরা দেদারসে মাল কামিয়ে নিয়েছেন।
রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে অবশ্য আমাদের রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন বন্ধ করে দেয়া উচিত। পেশাজীবীদের যেসব সংগঠন থাকবে সে গুলো হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। পেশাজীবীদের সংগঠন শুধু পেশাজীবীরা করবে। কোন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি তারা করতে পারবে না।
কেউ যদি রাজনীতি করতে চায়, তাকে ব্যক্তিগতভাবে করতে পারবে, তার সাথে তার পেশাকে জড়াতে পারবে না। পেশার ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা পেতে তার রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করতে পারবে না। সে পদোন্নতিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাবে তার যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার বলে। রাজনীতি মানে জনগণের সেবা করা, নিজের মাল কামানোর ধান্দা নয়।
আর যারা জনগণের সেবা করতে চান, তারা সকল কাজ ফেলে চলে আসুন রাজনীতির মাঠে। সরাসরি মূল দলে যোগ দেন। জনগণের কথা বলুন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:১৪
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×