আমার প্রিয় পোস্ট

জীবন বুনে স্বপ্ন বানাই মানবজমিনে অনেক চাষ চাই

উত্ত্যক্তকারীদের প্রতিরোধ করি সামাজিকভাবে

১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:৫৯

শেয়ারঃ
0 0 0

(শাহাবুদ্দিন শুভর ছাত্রীর গায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকা পোস্ট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে)
আমাদের সমাজে একটি ভয়াবহ সমস্যা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা। এই উত্ত্যক্তকারীদের ভয়ে বহু মেয়ে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে। পত্র পত্রিকায় প্রতিদিন এ ধরনের খবর থাকে।
পুলিশ সব সময় বখাটের পক্ষ নেয়। নারী নির্যাতনেরর মামলা না করে আসামীকে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠায়। ফলে পরের দিনই বখাটে ভাই জামিনে ছাড়া পেয়ে বেরিয়ে আসে।
তারপর উত্ত্যক্ত করার পরিমাণ আরও বাড়তে থাকে। শিষ দেয়া, অশ্লীল কথা বলা, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা, হুমকি দেয়া চলতে থাকে।
আর আমরা, আমাদের প্রশাসন, সুশীল সমাজ, এনজিও, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সবাই চোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করতে থাকি। অপেক্ষা করতে থাকি কখন মেয়েটি আত্মহত্যা কররবে। মেয়েটি আত্মহত্যা করলে একটি মামলা হবে, সাংবাদিক ভাইয়েরা করুণ ভঙ্গিতে সংবাদ লিখবেন, সুশীল সমাজ আহা উহু জাতীয় কয়েকটি ভালোচনা আয়োজন করবে। তারপর আবারও অপেক্ষা। এবার অন্য কোন মেয়ে। এই তো চলে আসছে আমাদের সমাজে।
আমাদের সমাজে নারীদের পক্ষে কেউ নেই। এমনকি নারীরাও নারীদের পক্ষে থাকে না বেশির ভাগ সময়। এই ভয়াবহ একটি সমাজের নারীকে উত্ত্যক্ত করবে না এ কি হতে পারে ?
এই সমস্যার সমাধানের জন্য এখন দরকার সামাজিক প্রতিরোধ। প্রতিটি মহল্লায় মায়েরা একটি উত্ত্যক্তকারী প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলুন। পঞ্চায়েত গড়ে তুলুন। পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নাই বলে আমাদের দেশে এই সমস্যা। সরকারের উচিত শুধু পুলিশ নির্ভর না হয়ে নাগরিক নির্ভর সমাজ ব্যবস্থা নির্মাণে সহায়তা করা।
ইভ টিজিং একটি সামাজিক সমস্যা। এই সমস্যা দূর করার জন্য মহল্লায় মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা দরকার। এলাকার সকল মায়েরা এই কমিটির সদস্য হবে। তাদের কোন মেয়েকে কোন বখাটে উত্ত্যক্ত করলে সেই বখাটের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে একঘরে করার ঘোষণা দিতে হবে। তাকে মারতে হবে সামাজিকভাবে। উত্ত্যক্তকারীদের ছবি তুলে পোষ্টার ছাপিয়ে মহল্লার দেয়ালে লাগিয়ে রাখতে হবে। উত্ত্যক্তকারীদের একটি তালিকা সংরক্ষণ করা হবে। কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে উত্ত্যক্তকারীসহ তার বাবা মাকে দাওয়াত করা হবে না। তাদের সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করলে তা আইন আদালতের চেয়ে বেশি কাজ দেবে।
আর পুলিশের উপর নির্ভরতা নয়, আসুন নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করি। আসুন মায়েরা, মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য ইভ টিভিং বা উত্ত্যক্তকারী প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলি প্রতিটি মহল্লায়।

পুনশ্চ : একটি কথা এসেছে এলাকার কমিশনারকে এই কমিটির সদস্য করার জন্য। কমিশনার মহিলা হলে করা যেতে পারে। তাছাড়া এসব সামাজিক সমস্যা যাতে সহজে সমাধান করা যায়, তার জন্য বখাটে, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও টেন্ডারবাজ কোন লোককে ভোট দিয়ে কমিশনার বানাবেন না। যে লোক এসব লোককে সমর্থন বা আশ্রয় দেয় তাদেরকেও ভোট দেবেন না। ভোট দেবেন সৎ মানুষকে। মার্কা বা দল নয়, মানুষের চরিত্র দেখে ভোট দিন।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নির্যাতন ;
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৪৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:০৪
শাহাবুিদ্দন শুভ বলেছেন: আর পুলিশের উপর নির্ভরতা নয়, আসুন নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করি। আসুন মায়েরা, মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য ইভ টিভিং বা উত্ত্যক্তকারী প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলি প্রতিটি মহল্লায়।

আসলে ঠিক কথাই বলেছেন আপনি। আসুন আমরা হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলি।
১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:০৬

লেখক বলেছেন: এটিই সবচেয়ে ভালো সমাধান।

২. ১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:০৭
মাইনুল বলেছেন: সহমত। এই ব্যাপারে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সাথে সাথে শিক্ষাংগনে নৈতিক শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে হবে।
১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:১২

লেখক বলেছেন: শুধু মায়েরা মিলে মহল্লায় মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলতে কোন বখাটে কোন মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার সাহস পাবে না। এই কমিটিতে কোন পুরুষ লোক দরকার নাই। মায়েরাই যথেষ্ঠ।

৩. ১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:১২
সালাহউদ্দীন মুহম্মদ সুমন বলেছেন:
আসুন নিজেরাই উত্ত্যক্তকারীদের উত্ত্যক্ত করি।

এদেরকে ধরে বিবস্ত্র করে ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথায় এদের লজ্জা হবে না।
১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:১৩

লেখক বলেছেন: যাই করতে চান, একা পারবেন না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে সম্মিলিতভাবে।

৪. ১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:১৮
নতুন বলেছেন: নারীরাই পারে এই সমস্যার সমাধান করতে.... সব নারী যদি তাদের সন্তানদের নারীরপ্রতি স্রদ্ধা বিষয়টি সমদ্ধে সচেতন করেন... তবে এক প্রজন্ম পরে আমাদের দেশে এই সমস্রা থাকার কথা না.....

কিন্তু সমাজে দেখায়ায়.... শাশুরি.... যৌতুকের জন্য তার ছেলের বউকে চাপ দিচ্ছে বা তা সমথ`ন করছে.....

ছেলে কোনো মেয়ে কে উত্যক্ত করলে মা তার ছেলেকে সমথ`ন করছে.... বলবে... "আমরা ও ঐ বয়সি ছিলাম /শুন্দরী ছিলাম..আমাদের তো কেই এমন কথা বলতে পারেনি কেই..""

পরিবত`ন আসতে হবে পরিবার হতেই... তবে এই সমস্যার আশু সমাধান হবে...
১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৩০

লেখক বলেছেন: আরেকটি ভালো দিক তুলে ধরার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। মা নিজে তার ছেলেকে এসব বাজে জিনিস শেখায়। প্রত্যেক মায়ের উচিত সচেতন হওয়া।

৫. ১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৪০
স্বাপ্নিক বলেছেন: একমত। উত্ত্যক্তকারীদের পরিবার কোন বিচিত্র কারনে তাদের সমর্থন করে। এই নৈতিক শিক্ষাটুকু পরিবার থেকেই আসা উচিৎ। আপনার প্রস্তাবটা সুন্দর।
১৩ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: উত্ত্যক্তকারীর পক্ষে তার মা দাঁড়ালে সেটা শুধু সেই মায়ের লজ্জা না, আমাদের সবার লজ্জা। প্রথম লজ্জা এরকম মা পাওয়ার জন্য, দ্বিতীয় লজ্জা এই মাকে ভালো মা না বানাতে পারার লজ্জা।

৭. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৭:৩৫
নতুন বলেছেন: এই বিষয়ে আমি কোট করতে চাই আমাদের ব্লগার রুখসানা তাজীন কে.... উনি বলেছেন>>>

০৯ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:০৬ রুখসানা তাজীন বলেছেন: @নতুন, আমি আশাবাদী যে একটা শিক্ষিত প্রজন্ম ছেলেদের সে শিক্ষাটা পরিবার থেকেই দিবে। অন্তত আমি বলতে পারি, আমার যদি কখনো ছেলে হয় আর সে যদি নারীদের অসম্মান করার মত শুয়োরামি করে, তাহলে সে শুয়োরকে আমি জ্যান্ত পুঁতে ফেলব।


------- মায়েদের যদি এই attitude থাকে নারীর অবমাননাকারীর প্রতি .. তবে অবশ্যই তার সন্তানরা কখনই খারাপ হতে পারেনা...

আমি আশাবাদী মায়েরা তাদের সন্তানদের নৈতিক শিক্ষাটা ঘরথেকেই শুরুকরবেন.. :)

Hats off to রুখসানা তাজীন
১৫ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪০

লেখক বলেছেন: রুখসানা তাজীনের মতো মা আমরা লাখে একটা পাই কিনা সন্দেহ। তার মতো মা যত হবে তত নারীদের সম্মান বাড়বে। তার মতো মায়ের ছেলেরা উত্ত্যক্তকারী হবে না।

৮. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৪৬
সক্রেটিস বলেছেন: নৈতিক শিক্ষাটুকু পরিবার থেকেই আসতে হবে।

পুলিশ আর ওয়ার্ড কমিশনারদের উপর আমার আস্থা কম। এলাকার যত শয়তানি কাজের মদদ দাতা এই কমিশনার রাই।
আর মহিলা কমিশনারদের কি কাজ সেটা আমি এখন বুঝে উঠতে পারি না। অপ্রিয় হলেও এটাই বাস্তবতা। কেউ সমাজ নিয়ে ভাবে না।
সরকার, পুলিশ, কমিশনার এসবের উপর ভরসা আমরা হারিয়ে ফেলেছি, তাই যা করার নিজেদেরকেই করতে হবে।
৯. ২০ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৭
প্রচেত্য বলেছেন:
প্রসঙ্গটি সমসাময়িক
বেশ ভাল লাগল লেখাটি
১০. ২০ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৫০
আরিফুর রহমান বলেছেন: আমি এই সমস্যাটাকে আলাদা করে দেখতে চাই না। দুখিঃত!!


যে মানসিকতা এবং শিক্ষা আমাদের শেখায় মেয়েদের গৃহদাসী, শয্যাদাসী, দ্বীতিয়শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে ট্রিট করতে..

যে অসম মানসিকতার শিক্ষা পুরুষ এবং নারী সমভাবেই গলাধঃকরন করে সমাজ ও ধর্ম থেকে..

সেই মানসিকতাই একটি মেয়েকে শেখায় 'চুপ করে' থাকতে, শত অত্যাচারেও...

সেই মানসিকতাই একটি ছেলেকে শেখায় উৎপাত করেও পার পাওয়া যাবে, কারন মেয়েটাকে ওভাবেই শেখানো হয়েছে..

সেই মানসিকতাই প্রতিবাদী নারীর মুন্ডু নামিয়ে ফেলার মিছিলে লক্ষ-মুখ যোগ করে...

সেই মানসিকতাই নারীকে সম্পত্তিতে সমান ভাগ দেবার প্রস্তাবের বিরূদ্ধে লক্ষ টুপির পঙ্গপাল রাস্তায় নামিয়ে নিয়ে আসে...

সেই মানসিকতা কবে পিছু হটবে?
১১. ২০ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৬
রুখসানা তাজীন বলেছেন: নতুন, আমার চিন্তাটা আপনাকে প্রভাবিত করেছে জেনে ভালো লাগলো।
১২. ২০ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৯
নতুন বলেছেন: @ রুখসানা তাজীন

ধন্যবাদ আপনাকে..........

আমি এই জিনিস শিখেছি আমার মায়ের কাছ হতে... তিনি আমাকে মেয়ে দের বন্ধু ভাবতে ছিখিয়েছেন.... নারীকে সন্মান করতে শিখিয়েছেন... কখনো নারীকে নীচু ভাবা যাবে না এই শিক্ষাই তার কাছ হতে পেয়েছি..

মায়েরাই পারে তার সন্তানদের চিন্তা চেতনায় পরিবত`ন এনে ... সমাজের বিরাট পরিবত`ন আনতে......... :)
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১০:৩৪

লেখক বলেছেন: নতুন আপনার মাকে আমার সালাম। তার মতো মা এ দেশের গর্ব।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬৮৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাতে চাই। তাই চারপাশে যা ঘটে তা ধরে রাখতে চাই কালো অক্ষরে।
ইচ্ছা করি, যত দিন স্বপ্ন...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ