গোয়েবলস বিশ্বাস করতেন একটি মিথ্যাকে দশবার বললে তা সত্যে পরিণত হয়ে যায়। হিটলারের সহযোগী এই লোকটি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তার এই তত্ত্ব টিকে আছে আজও। আজও পৃথিবীর দিকে দিকে মানুষকে বোকা বানানোর জন্য এই তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়।
একটি ডাহা মিথ্যা কথাকে প্রচার করতে করতে মানুষের অন্তরে গেঁথে দেয়া হয়। মানুষ সেই মিথ্যা কথাকেই সত্য বলে ধরে নেয়, সত্য বলে বিশ্বাস করতে থাকে।
একটা উদাহরণ দেয়া যাক। আমার এক মামার কাছে থেকে শোনা। সময়টা ১৯৭৬ সাল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায়। দেশে সামরিক শাসন চলছে। সেনাবাহিনীর ভয়ে সবাই থরহরি কম্পমান।
সেই বছর শীত আসার আগেই গ্রামে গ্রামে যাত্রাপালা চলছিল। আমার মামার বাড়ির পাশেও একটি যাত্রাপালা চলছিল। মামা ও তার ১০/১২ জন বন্ধু মিলে যাত্রাপালা দেখতে মনস্থির করলেন। যথাসময়ে সবাই রওয়ানা হল। শীত থাকার কারণে সবার পরণে ভারি পোশাক।
কিন্তু যাত্রাপালার মাঠে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ। হাজার হাজার মানুষ দর্শক হিসেবে হাজির। টিকেট ঘরের সামনে বিশাল লাইন। মামা ও তার বন্ধুরা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এত মানুষকে ডিঙ্গিয়ে টিকেট পাওয়ার আশা দূরাশা। সুতরাং তারা একটা কুবুদ্ধি করলেন।
তাদের দলটি দুভাগ হয়ে গেল। একভাগ মিশে গেল জনসমুদ্রে। আরেক ভাগ পাশের ক্ষেতে গিয়ে ওৎ পেতে রইল। যারা জনসমুদ্রে মিশে গেল, তারা যাকেই পায় তাকেই বলতে লাগল, আর্মি এল বলে, যাকে পাবে তাকেই পেটাবে। এখানে রঙ্গ তামাশা যা করার করে নেও, আর্মি এলে কারও পিঠের চামড়া থাকবে না।
প্রথমে কেউ বিশ্বাস না করলেও ধীরে ধীরে গুজবটি ছড়িয়ে গেল। সবাই বলাবলি করতে লাগল, আর্মি এল বলে। গুজবটি ডালপালা মেলার পর প্রথম দলটি টর্চ জ্বেলে দ্বিতীয় দলটিকে সংকেত দিল। সংকেত পেয়ে ক্ষেতে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা দলটি হাতে বেত নিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে যাত্রামন্ডপের দিকে এগুতে লাগল। শীতকাল। এ দলটির সবার পায়ে ছিল জুতা। প্রথম দলের লোকেরা তাদের দিকে টর্চ মেরে চিৎকার করে বলতে লাগল, আর্মি আসছে। অন্ধকারে তারা ইচ্ছা করে কেবল বেত আর জুতার দিকে টর্চ মারল। লোকেরা তাদের কথা বিশ্বাস করল। আর্মির মারের ভয়ে যে যেদিক পারল ছুটে পালাল। মুহূর্তে ফাকা হয়ে গেল যাত্রাপালা।
তাদের সাথে মামা ও তার বন্ধুরাও পালাল। তারা বাড়ি গিয়ে পোশাক পাল্টে এল। ফিরে আসার পথে অনেকে তাদের যাত্রা প্যান্ডেলের দিকে যেতে নিষেধ করল। তাদের হাত পা দেখিয়ে বলল, আর্মি মেরে ফাটিয়ে দিয়েছে।
বলাই বাহুল্য, মামা ও তার বন্ধুরা সে দিন মজা মেরে টিকেট কেটে যাত্রাপালা উপভোগ করেছিল।
এত বড় গল্পের কারণ হচ্ছে, বর্তমান সময়ের একটি গুজব। যাকেই সৎ লোককে ভোট দেয়ার কথা বলি, সেই বলে সৎ লোক ক্ষমতায় গিয়ে কিছু করতে পারবে না। কেন ? এটার কোন জবাব নাই। এটা তাদের অন্ধ বিশ্বাস।
আমি ভালোভাবেই বুঝতে পারি, এসব সহজ সরল ভোটারদের মাথা গুলানোর জন্য অসৎ রাজনীতিবিদরা দীর্ঘকাল ধরে এই গুজবটি প্রচার করে তাদের ব্রেন ওয়াশ করে ফেলেছে। অসৎ রাজনীতিবিদ ও ভোট প্রার্থীরা প্রপাগান্ডা চালিয়ে শতভাগ সফল। আমার মামা ও তার বন্ধুদের মতো রাজনীতিবিদরা মানুষকে বিশ্বাস করিয়ে ছেড়েছে, নেতা হিসেবে অসৎ লোকরা যোগ্য। তাদের এই দুষ্ট প্রপাগান্ডার মোহে পড়েছে ভোটাররা। অসৎ রাজনীতিবিদদের এই ভয়াবহ প্রপাগান্ডার ফলে বাংলাদেশে আর কখনও সৎ লোক ভোটে পাশ করবে না। এই দুষ্টচক্র থেকে বেরুতে না পারলে এই দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

