১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাদিবস। তিনি আমাদের জাতির পিতা এটা নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে। তবে তিনি যে আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি এ কথা অনেকে ইনিয়ে বিনিয়ে স্বীকার করে। কিন্তু এই দিবসটি পরিণত হয়েছে কেক ও খিচুড়ির লড়াইয়ে।
আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর হত্যাদিবস উপলক্ষে কাঙ্গালি ভোজের আয়োজন করে। বলা হয়, কাঙ্গালি ভোজ, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই খিচুড়ির সিংহভাগ যায় নেতাকর্মীদের পেটে। যে কাঙ্গালদের জন্য এই খিচুড়ি, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে রোদ বৃষ্টি মাথায় করে। কখন নেতা আসবেন, খিচুড়ি বিতরণ করে ধন্য করবেন সবাইকে সেই আশায় থালা হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন কাঙ্গালরা। অন্যদিকে কাঙ্গালি খিচুড়ির পাশাপাশি বড় নেতাদের জন্য তৈরি হয় ভুনা খিচুড়ি ও বিরিয়ানী। তারা মনের আয়েশ মিটিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে ভুরিভোজ করেন। কোন কোন নেতাকর্মীরা নীরব চাঁদাবাজিও সেরে নেন এই অজুহাত উপলক্ষে।
আর বিএনপি নেতৃবৃন্দ একটি ভুয়া জন্মদিন পালনের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেন। ১৯৯৭ সালের আগে স্বয়ং খালেদা জিয়া যে জন্মদিন পালন করেননি, সেই জন্মদিনের জন্য বিশাল বিশাল কেক কাটা হয়। যারা কেক কাটেন, তারা আনন্দের চেয়ে বেশি আনন্দ পান ব্যঙ্গ করে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের শোক দিবসকে নিয়ে তামাসায় মেতে উঠেন। জাতীয় শোক দিবসকে তারা পরিণত করেন জাতীয় ফুর্তি দিবস হিসেবে।
বাংলাদেশের রাজনীতির এই যে নোংরামি এ চর্চা থেকে বের হওয়ার সম্ভাবনা আর নাই। আমরা জনগণও এই নোংরামির বাইরে নাই। আমরা কেউ খিচুড়ির পক্ষে, কেউ কেকের পক্ষে। কোনবার ভোট দিচ্ছি খিচুড়িতে, কোনবার ভোট দিচ্ছি কেকে। আর আমাদের বোকামির সুযোগ নিয়ে তারা আমাদের উস্কে দিয়ে মজা লুটছে বছরের পর বছর। এই অনর্থক লড়াইয়ে আমাদের জনগণের কোন লাভ নাই। পুরো লাভ তাদের।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


