(উৎসর্গ : ব্লগার রুবেল শাহ। তার একটি মন্তব্য থেকে এই পোস্ট)
কৈফিয়ত : আমাদের দেশে যে কোন রাজনৈতিক নেতা হত্যার শিকার হলেই তাকে শহীদ ও তার মৃতু্্যবার্ষিকীকে শাহাদাৎবার্ষিকী বলার রেওয়াজ আছে। মহামারীর এই রেওয়াজটি কেন্দ্রীয় নেতাদের থেকে তৃণমূল নেতাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি নিজেদের ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে নিহত রাজনৈতিক নেতাকেও অবলীলায় বলা হয় শহীদ। আসলে ব্যাপারটি কী , তা বিশ্লেষণ করতেই এই লেখার অবতারণা।
আমার জানা মতে, ইসলাম ধর্ম অনুসারে যারা ধর্মযুদ্ধ বা জিহাদে অংশগ্রহণ করেন তাদের বলা হয় শহীদ, আর যারা ধর্মযুদ্ধ শেষে বেঁচে যান তাদের বলা হয় গাজী। এটাকে আমাদের দেশে বলা হয় এভাবে, মরলে শহীদ, বাঁচলে গাজী।
ধর্মযুদ্ধে মারা যাওয়ার ঘটনাটিকে বলা হয় শাহাদাৎবরণ করা। ধর্মযুদ্ধ ছাড়া কোন মুসলমান যেভাবেই মারা যান না কেন তিনি শাহাদাৎ বরণ করেছেন বা শহীদ হয়েছেন একথা বলা যাবে।
আমাদের ধর্ম অনুসারে সকল মুসলমানদের মধ্যে পরকালে সবচেয়ে মর্যাদাবান হবেন শহীদরা। শহীদরা সরাসরি বেহেশতে চলে যাবেন। সেই হিসেবে শহীদ বিষয়টি কোন হেলাফেলার বিষয় নয়।
কিন্তু আমাদের দেশে রাজনৈতিক নেতারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তাদের বলা হয় শহীদ আর তাদের হত্যা করার ঘটনাটিকে বলা হয় শাহাদাৎ বরণ। কিন্তু তারা তো কোন ধর্মযুদ্ধ করেননি, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন। সেক্ষেত্রে তাদের শহীদ বলা কি যৌক্তিক ? আর তাদের মৃতু্যর দিনটিকে শাহাদাৎবার্ষিকী হিসেবে পালন করা কি উচিত ?
মূলত জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার পর তাকে ব্যাপকভাবে শহীদ বলা হতে থাকে এবং তার হত্যাবার্ষিকীটিকে শাহাদাৎ বার্ষিকী বলে প্রচারণা চালানো হতে থাকে। অপ্রিয় হলেও সত্য ইসলামের শহীদের বৈশিষ্ট্য তিনি অর্জন করেননি এবং তার হত্যার ঘটনাটিও শাহাদাৎ বরণ নয়।
কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই দুটি শব্দ ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পায়। আমাদের দেশের লোক ধর্মভীরু কিন্তু ধার্মিক নয় বলে তাদের বিভ্রান্ত করে সহানুভূতি আদায় করে ভোট পাওয়ার জন্যই এই প্রচারণা চালনো হয়েছিল।
আরেকটি বিষয়, শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে মারা গেলেও তাকে কিন্তু কখনও শহীদ বলা হয়নি। কিন্তু জিয়াউর রহমানের মৃতু্যর পর তার মৃতু্যবার্ষিকীকে শাহাদাৎবার্ষিকী বলে ব্যাপক প্রচার করার ফলে আওয়ামী লীগও শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাবার্ষিকীটিকে শাহাদাৎবার্ষিকী বলে প্রচারণা চালাতে থাকে। বর্তমানে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃতু্যবার্ষিকী শাহাদাৎবার্ষিকী হিসেবে পালিত হচ্ছে।
মূলত আমাদের দেশের ধর্মীয় জ্ঞান বিবর্জিত ধর্মভীরু লোকদের সহানুভূতি লাভ করে ভোটের লড়াইয়ে জয় লাভ করার জন্যই এই ধর্মীয় পদবি ব্যবহার করা হচ্ছে। আর আমরা নাদান লোকজন তাদের এই প্রচারণার শিকার হয়ে খুশিমনে ভোট দিয়ে বিরাট দায়িত্ব পালন করছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


