আমার প্রিয় পোস্ট

জীবন বুনে স্বপ্ন বানাই মানবজমিনে অনেক চাষ চাই

ইমামতি কেন একটি চাকুরি ?

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৩

শেয়ারঃ
0 0

কৈফিয়ত : পবিত্র রমজান মাসে সবাই ব্যস্ত নানা ধর্মীয় কাজে। আমি তেমন ধার্মিক নই। তবে ধর্ম ও ধার্মিক লোককে গালাগালিও করি না।
আমার কাছে মনে হয়, প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীনতা আছে সে ধার্মিক হবে নাকি নাস্তিক হবে। সে হিসেবে ব্যক্তি-স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা আছে বলেই আমি কাউকে গালাগালি করার পক্ষপাতি নই। যাকগে, তবে ধর্ম বিষয়ে অনেকগুলো প্রশ্ন জাগে মনে। সে সব প্রশ্নের উত্তর বেশ জটিল। তেমনি একটি প্রশ্ন এই লেখার শিরোনাম।

ইমাম শব্দের অর্থ নেতা। আমি আমাদের মহল্লার ইমামকে জিজ্ঞেস করে এই অর্থ জেনেছি। অর্থ জেনে হতভম্ব হয়েছি। নেতা কি কোন চাকুরিজীবী হতে পারে ? নেতৃত্ব দান কি চাকুরি হতে পারে ? অথচ আমাদের দেশে ইমামতি একটি চাকুরি।
আরও জেনেছি, ইসলামে ইমাম সেই লোকটি হবে যে সবচেয়ে বেশি ধর্মভীরু ও আমলদার। সে ধর্ম বিষয়ে জ্ঞানী হবে। ধর্ম বিষয়ে যে কোন সমস্যার সমাধানও দেবে সে। একজন নেতা হিসেবে সে এলাকার মুসল্লীদের বিচার আচার করবে এবং ধর্ম অনুসারে রায় ঘোষণা করবে। অর্থাৎ একজন ইমাম তার এলাকার যাবতীয় সমস্যার সমাধানকল্পে নেতার ভূমিকা পালন করবে।
খেলাফতের জামানায় খলিফারা ইমাম ছিলেন। নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা ছিল বলেই খলিফারা ইমামতি করতেন। তারা কোন চাকুরি করতেন না। তারা নেতৃত্ব দিতেন বলেই তারা ছিলেন ইমাম।
কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখি ? একজন ইমাম হল এলাকার সবচেয়ে নিরীহ মানুষ। তার কাজ মসজিদের ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো। আর শুক্রবারে জুম্মার নামাজের আগে কিছু ভালো ভালো কথা বলা। এর বিনিময়ে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তার জন্য বরাদ্দ সামান্য বেতন। আর তার খাবার বরাদ্দ এলাকার কোন দুনম্বরী ইনকামওয়ালার বাড়িতে। ঘুষখোররা মসজিদের ইমামকে খাওয়াতে খুব পছন্দ করে। ভাবে, এতে হয়তো তাদের পাপের ভাগ কমবে। ইমাম সাহেব এলাকায় মিলাদ পড়িয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে আয় করে। বাকি সময় মসজিদ সংলগ্ন একটি ঘরে তিনি ঘুমান।
তবে ভালো কাজের মধ্যে তিনি সামান্য সময় শিক্ষকতাও করেন। সকালে মসজিদের বাচ্চাদের কায়দা পড়ান তিনি। সেই সূত্রে এলাকায় কিছু গৃহশিক্ষতার কাজও পেয়ে যান। বাড়ি বাড়ি কোরান শরীফ পড়িয়ে তিনি সামান্য আয় করেন।
ইমাম সাহেবদের সাথে তার স্ত্রী বা সন্তান বসবাস করে না। তারা থাকে গ্রামের বাড়িতে। ইমাম সাহেব মাঝে মাঝে বাড়ি যান। এত অভাবের মধ্যেও অনেক ইমাম একাধিক বিয়েও করেন।
তাহলে ইমাম নামের নেতাটি কি আসলে কোন নেতৃত্ব দেন ? তিনি তো আসলে নেতা নন, একজন চাকুরিজীবী মাত্র। এলাকার কিছু পয়সাওয়ালা লোক যারা নানা অপকর্ম করে টাকার পাহাড় গড়েছেন, তারা মসজিদ কমিটির নেতা হওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যান। দান খয়রাত করে মসজিদ কমিটি দখল করেন। এসব লোকের কথায় ইমাম সাহেব ওঠেন বসেন। এমনকি শুক্রবারের ওয়াজের সময়েও একমন কোন বেফাঁস কথা বলেন না, যাতে সেই পয়সাওয়ালারা রুষ্ট হন। বরং সারাক্ষণ মসজিদ কমিটির লোকদের সাথে মানিয়ে চলেন তিনি। তাদের তেল মেরে চাকুরি বাঁচিয়ে চলাই তার কাজ।
ইমাম অর্থ নাকি নেতা। এ কোন নেতা আমাদের ? নেতৃত্ব কি কোন চাকুরি হতে পারে ?

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৯
বিডি আইডল বলেছেন: সমাধান কি..সমালোচনা করতে তো সবাই পারি
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৮

লেখক বলেছেন: গঠনমূলক সমালোচনা করুন, গালাগালি নয়।

৩. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৯
ড্রিমক্যাচার বলেছেন: বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্হার কারনে এই নিয়মটা গড়ে উটেছে, পৃথিবির ওনেক ইসলামি দেশেই (তুরস্ক) সমাজের গন্যমান্য ব্যাক্তিরাই ইমামতি করেন ফিক্সড কোনো ইমাম নাই।

তবে ফিকসড ইমামের একটা সুবিধাও আছে এই নিয়মটা না থাকলে হয়ত এদেশে অসত দুইনামবার কিন্তু প্রভাবশালী এবং গন্যমান্য লোকের ইমামতিতে নামাজ পরতে হত
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৯

লেখক বলেছেন: ইসলাম কি একেক দেশের সমাজব্যবস্থায় বদলে যেতে পারে ? যদি বদলেই যায় সেটা কি ইসলাম সমর্থন করে ? যদি সমর্থন না করে তবে দিনের পর দিন সেই বিকৃত রূপ ধর্ম কি পালন করা উচিত ? ইসলামের বিকৃত রূপ যদি খোদ মসজিদেই থাকে, তবে সমাজ থেকে দূর করা যাবে কি ?

৪. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১২
বিবর্তনবাদী বলেছেন: বাংলাদেশ সরকারের এহেন নেতা ট্রেইনিং এর সেন্টার আছে। দুই মাসের ট্রেনিং হয়। প্রতিদিন ২০০ টাকা করে পায়। সব মিলিয়ে দুই মাসে ইমামছাহেব ১৮০০০ টাকা কামাই করেন।

ট্রেইং ও তার এপ্লিকেশন ঐখানেই শেষ। কোন কাজে আসে না। এই তথ্য স্বয়ং ঐ ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার সুপারিশকারি সচিবের কাছ থেকেই শোনা।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৭

লেখক বলেছেন: এই ট্রেনিং কি ইসলামসম্মত নাকি সরকারের বানানো কোন নিয়ম ? আমাদের ধর্ম অনুসারে ইমাম ব্যাপারটা তো হেলাফেলার বিষয় নয়।

৬. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৩
লাল পিপড়া বলেছেন: আর খতিব এর সংগা কি ?
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২১

লেখক বলেছেন: জানি না ভাই।

৭. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৬
মুনতাসীর মারুফ বলেছেন: আপনি ফিরে এসেছেন?
'এতদিন কোথায় ছিলেন....'
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২২

লেখক বলেছেন: অপেক্ষায় ছিলেন কি ?

৮. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৩
ত্রিভুজ বলেছেন:
"ইমাম নামের নেতাটি কি আসলে কোন নেতৃত্ব দেন ? তিনি তো আসলে নেতা নন, একজন চাকুরিজীবী মাত্র। "


দু:খজনক হলেও এটা সত্য... যেহেতু ইমামদের আমরা নেতা হিসেবে পাচ্ছি না, সেহেতু বেতন ভাতা দিয়ে রাখাটা হলো বাস্তবতা... নতুবা যেটা হতে পারে তা নিয়ে ড্রিমক্যাচার ভাল বলেছে।

(ড্রিমক্যাচার সম্ভব গন্ডার... এই প্রথম তাকে আমি একটা ভাল মন্তব্য করতে দেখলাম...! অভিনন্দন জানানো উচিত মনে হয়.. :))
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৬

লেখক বলেছেন: ধর্মের বাস্তব রূপটা তাহলে খুব নোংরা। স্বীকার করছেন, কেতাবে লেখা কথাগুলো বাস্তবে বিকৃতভাবে পালন করা হচ্ছে। এই বিকৃতি কি ইসলামসম্মত ?

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: আমার প্রশ্নের জবাব আশা করছি।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১০. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩০
ত্রিভুজ বলেছেন: "লেখক বলেছেন: ধর্মের বাস্তব রূপটা তাহলে খুব নোংরা। "

---

খুব ছেলেমানুষী বক্তব্য হয়ে গেল.. ছবিতে কিন্তু আপনাকে এতটা ছেলেমানুষ লাগে না...
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৭

লেখক বলেছেন: আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলার কিছু নাই। ইমাম শব্দের অর্থ নেতা। কিন্তু বাস্তবে একজন ইমাম কোন অর্থেই নেতা নন। এটা কি নোংরামি নয়।
আবার সমাজের নেতাদের ইমাম বানানো সম্ভব নয়, তাহলে সমূহ বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা। এটা কি নোংরামি নয় ? আমাদের ধর্ম কি বাস্তবে বিকৃত হয়ে একটি নোংরামির পর্যায়ে যায়নি ? প্রত্যেকটি বিকৃতি কি একটি নোংরামি নয় ?
আমি ধর্মকে নোংরা বলিনি, তার বাস্তব রূপ যা আমরা তৈরি করেছি, তাকে নোংরা বলেছি।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৮

লেখক বলেছেন: জেনে ভাল লাগল।

১২. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৩
বিবর্তনবাদী বলেছেন: সচিব সাহেব যেভাবে বলেছিলেন তাতে তো আমার কাছে ভালই লাগল। ইসলাম সম্মত নিশ্চয়ই। তিনি বলছিলেন, আমাদের দেশে অনেক মসজিদে হিন্দুদের ঢুকতে দেওয়া হয় না। অথচ, ইসলামের ইতিহাসে অমুসলিমরা মসজিদে তাদের উপাসনাও করেছেন, মুসলিম ইমামের অনুমতিতেই। আমাদের দেশে ব্যতিক্রম কারন ইমামদের অশিক্ষা। ঐ ট্রেনিং সেন্টারের উদ্দেশ্য নাকি ঐ কুসংস্কার গুলো দূর করা।







বিদ্র: ঐ সচিব শালা একটা জামাতী। তার ব্যাপারে পরে লিখব কোন এক পোস্টে।
১৩. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪০
বিডি আইডল বলেছেন: লেখক বলেছেন: গঠনমূলক সমালোচনা করুন, গালাগালি নয়।

গালাগালি করিনি...আপনি যেহেতু সমস্যার ভিতরে ঢুকেছেন আপনার কাছ থেকে এর সমাধানে কিছু মতামত চাচ্ছি...মূল সমস্যা নিয়ে আপনার আগের পোষ্টেও কিছু বলেছি...যেটা এখানে বিস্তারিত তুলে এনেছেন।

আর সব ধর্মের ধর্মগুরুদেরই কিন্তু অর্থনৈতিক অবস্হা বেশ রমরমা...আমাদের দেশে সেটা নয়...ইমামরা অনেকটা পরজীবির মত তাদের জীবর পার করে
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪২

লেখক বলেছেন: আমি যতটুকু জানি, ইমামদের পরজীবীর মতো বাস করাটা ইসলামসম্মত নয়। তাহলে সেটা কেন আমরা যুগ যুগ ধরে পালন করে যাচ্ছি ?

১৪. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪৯
ত্রিভুজ বলেছেন:
@লে.জো শামীম

১০ নং মন্তব্যের জবাবটা পড়ে মনে হলো আপনার কিছু শব্দের প্রয়োগ এগুলোর অর্থকে সংকীর্ণ করে ফেলেছে... "নেতা" শব্দের অর্থটা কিন্তু ব্যাপক... ঈমামদের এক অর্থে আমরা নেতাই মানি। একটি জাহাজের ক্যাপ্টেন কে আমরা নেতা বলতে পারি। আবার স্কুলের ক্লাশ রুমে বানানো ক্যাপ্টেন (বেশীর ভাগ স্কুলে ফাস্ট বয়কে যেটা বানানো হয়) কেও আমরা নেতা বলতে পারি... নেতা মানেই যে তথাকথিত "রাজনৈতিক" নেতা, তা কিন্তু নয়!

"নোংরামি" শব্দটা আপনি এক্ষেত্রে যেভাবে ব্যবহার করেছেন, তা মানতে আমি রাজী নই। এই হিসেবে চলতে গেলে পুরো জীবনের অনেক কিছুই নোংরামী হয়ে দাঁড়াবে... তবে আপনি আপনার মত নোংরামীর সংজ্ঞা বানিয়ে নিতে পারেন.. কিন্তু সেটার সামগ্রিক প্রয়োগ না হওয়াই উচিত।

"বিকৃতি" বলতে আসলে কি বুঝিয়েছেন সেটা পরিষ্কার নয়.. যদিও আপনার "নেতা"র সঠিক রুপ প্রকাশে ব্যর্থতা এই বিকৃতি'র যুক্তিকে অচল করে দেয়, তবুও বলা চলে বিকৃতির সংজ্ঞা নিরুপণে আপনি ভুল করেছেন...


পরিশেষে বলবো, সরলীকরণ এক ধরনের মনরোগ বিশেষ...
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০০

লেখক বলেছেন: নোংরা শব্দটি আপনাকে দুঃখ দিয়েছে বিধায় সেই শব্দটি আমি প্রত্যাহার করছি। আর আমি আপনার মতো পণ্ডিত নই বলে সব কিছু সরলীকরণ করে ফেলি। সেজন্য দুঃখিত।

১৫. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫২
মুকুল বলেছেন: ভালো বলেছেন।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৬. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫২
সততার আলো বলেছেন: দরাদরি করে ইমামতি এবং ওয়াজ মাহফিল করে তথা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে টাকা কামানো লোকের বাংলাদেশে অভাব নেই। তবে এটাও ঠিক, সব ইমাম এবং ওয়ায়েজ একরকম নয়।

ইসলামী রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্রে ইমাম এবং ওয়ায়েজদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা ছিল। আর তাদের চাহিদাও এত কম ছিল যে তাঁরা শত দারিদ্রতার মাঝেও আল্লাহর বানী প্রচার করে যেতেন। কিন্তু বাংলাদেশে যেহেতু এই ব্যবস্থা নেই তাই একটি মসজিদ কমিটির উচিত একজন জ্ঞানী এবং নেতৃত্বের গুনাবলি সম্পন্ন ব্যাক্তিকে ভাতার ব্যাবস্থা করে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহনে অনুরোধ করা।

আপনার কথাই ঠিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খারাপ লোকরাই কমিটির মেম্বার হয়। কিন্তু কি করার আছে বলুন....
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০২

লেখক বলেছেন: খোদ মসজিদ যদি খারাপ লোকদের দখলে থাকে তাহলে ধর্মের অবস্থা কী হয়েছে বলেন ?

১৭. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: মসজিদ কমিটির মেম্বার হওয়া লোকাল পাত্তিওয়ালা লোকের একটা ফ্যাশন।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৩

লেখক বলেছেন: খাঁটি কথা।

১৮. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৭
ধইঞ্চা বলেছেন: আরও জেনেছি, ইসলামে ইমাম সেই লোকটি হবে যে সবচেয়ে বেশি ধর্মভীরু ও আমলদার। সে ধর্ম বিষয়ে জ্ঞানী হবে। ধর্ম বিষয়ে যে কোন সমস্যার সমাধানও দেবে সে। একজন নেতা হিসেবে সে এলাকার মুসল্লীদের বিচার আচার করবে এবং ধর্ম অনুসারে রায় ঘোষণা করবে। অর্থাৎ একজন ইমাম তার এলাকার যাবতীয় সমস্যার সমাধানকল্পে নেতার ভূমিকা পালন করবে।
খেলাফতের জামানায় খলিফারা ইমাম ছিলেন। নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা ছিল বলেই খলিফারা ইমামতি করতেন। তারা কোন চাকুরি করতেন না। তারা নেতৃত্ব দিতেন বলেই তারা ছিলেন ইমাম।

আপনার ছবি দেখে মনে হয় আপনার বয়স ৩৫ এর আসে পাশে ।
আপনি ইমাম শব্দের অর্থ জানেন না শুনে অবাক হচ্ছি । আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে অল্পদিনের ভেতরে আপনি এই শব্দ টার সাথে পরিচিত হয়েছেন । যা হোক , আপনার কথার সুত্র ধরেই বলছি
একজন ইমামের কাছে সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারে না । হাফেজ , মাউলানা , মাসায়েক , মুফতি মুফাসেরে কোরান এই শব্দ গুলার অর্থ জানলে কার কি সমাধান দেবার ক্ষমতা আছে বুঝতে পারতেন ।
আর ইমামদের দিয়ে বিচারের চেস্টা কি বোকামী পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে না । তখনতো আপনি আবার ফতোয়া বাজীর অভিযোগ আনবেন ।
খেলাফতের সময় ইমামরা চাকরি করতেন না এটা যেমন সত্য তেমন সত্য হচ্ছে সে সময় ইমামের , মুয়াজ্জিনের অন্নসংস্থানের দায়িত্ব সম্পূর্ণ ছিল রাষ্ট্রের । এমনকি মোগল আমলে সরকারী খাস জমির ১/৩ ছিল বিভিন্ন মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রনে । তা থেকে এসব মসজিদ মাদ্রাসার খরচ বহন করা হত (মোগল ইতিহাস দেখে নেবেন) । আজকে যদি বাংলাদেশের সকল মসজিদের ইমামের দায়িত্ব সরকারকে দেয়া হয় কেমন হবে ঘটনাটা । রাস্তাতে তো ঢল নামবে ফান্ডামেন্টালিস্টদের প্রেষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে বলে ।

তার কাজ মসজিদের ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো। আর শুক্রবারে জুম্মার নামাজের আগে কিছু ভালো ভালো কথা বলা। এর বিনিময়ে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তার জন্য বরাদ্দ সামান্য বেতন। আর তার খাবার বরাদ্দ এলাকার কোন দুনম্বরী ইনকামওয়ালার বাড়িতে। ঘুষখোররা মসজিদের ইমামকে খাওয়াতে খুব পছন্দ করে। ভাবে, এতে হয়তো তাদের পাপের ভাগ কমবে।
ইমামরা কড়া কথা বলতে জানে , সমস্য হচ্ছে মুক্তমনা , প্রগতীবাদী এতে এলার্জি ফিল করে । বাইতুল মোকাররম এর কথা দ্রস্টব্য । বাইতুল মোকাররমের ইমামের কথা প্রায়স সরকার কে বিব্রত করেছে ।
যে সমাজের ২ নম্বুরী লোকেরা চালায় সেখানে এই ধরনের ফিলসোফিকাল কথা বড্ড বেমানান । কথায় আছে “ সব মাছই গু খায় , দোষ খালি ঘাওরা মাছের ” । আপনারা যদি এতোই সৎ হবেন তাহলে কেন এই সব ২ নম্বুরী ইনকামওয়ালাদের কেন প্রতিরোধ করেন না । অই ইমাম তো কম জানে , আপনারা তো শিক্ষিত অনেক পড়াশোনা করা আপনারা কেন তাদের প্রতিরোধ করতে পারেন নাই । যদি ২ নম্বুরী ইনকামওয়ালাদের দেখা খাবারে এতো দোষ থাকে , যান না একজন ইমামের ভরন পোষনের দায়িত্ব নেন।

ইমাম অর্থ নাকি নেতা। এ কোন নেতা আমাদের ? নেতৃত্ব কি কোন চাকুরি হতে পারে ?

দেশের প্রসিডেন্ট প্রধান মন্ত্রী যারা হয় তারা দেশের নেতা , দেশের রিপ্রেজেন্টিটিভ । তাদের জন্য আমাদের পকেটের অর্থ থেকে বেতন দেয়া হয় । অর্থাৎ চাকুরি , যদি না আপনি এ পোস্টকে উত্তোরাধীকার সুত্রে প্রাপ্ত মনেনা করেন।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩২

লেখক বলেছেন: ১. ইমাম শব্দের অর্থ কী ?
২. ইসলাম ধর্ম অনুসারে ইমামদের দায়িত্ব কী

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: আমি তো প্রশ্ন করেছি। সমাধান বা উত্তর দিবেন আপনারা। ইতিমধ্যে অনেকে অনেক রকম উত্তর দিয়েছেন।

২০. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৭
আবূসামীহা বলেছেন: দরকার ছিল মসজিদ কমিটির যিনি সভাপতি তার ইমাম হওয়ার। তাহলে সত্যি নেতারাই ইমামতি করতেন। কিন্তু সমস্যা হল ঐ সভাপতিদের ধর্মীয় জ্ঞানের মারাত্মক অভাব। এটা ধর্মের বাস্তব রূপ্টা নোংরা হওয়ার কারণে নয়। এটা হল আপনার মত শিক্ষিত প্রভাবশালী লোকদের ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতা ও উন্নাসিকতার। ওটা না থাকলে বিশেষ শ্রেণীর কোন ব্যক্তিকে ইমামতি করতে হতোনা; আপনি আমি সবাই ইমামতি করতে পারতেন। আর ইসলামে পৌরহিত্য প্রথা নেই এবং এজন্য কোন পুরোহিত শ্রেণীও নেই। জাতীয় মসজিদের নামাজ পড়ানোর কথা ছিল আমাদের প্রেসিডেন্টের, বেতনভুগ কোন ইমামের নয়। কিন্তু যেহেতু তিনি যোগ্যতা রাখেননা তাই আরেকজন নামাজ পড়ান। আবার নামাজ পড়ান যিনি তিনি ক্ষমতা রাখেননা। আমাদের যে যেখানেই পড়াশোনা করে তা যদি সেক্যুলার এবং ধর্মীয় জ্ঞানের ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থাসম্মত হত তাহলে আপনি এই যে সমস্যা এখন দেখছেন তা থাকতনা।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৫

লেখক বলেছেন: চমৎকার উত্তর দেয়ার জন্য অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

২১. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১১
ত্রিভুজ বলেছেন: একমত @ আবূসামীহা
২২. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৪
দিশাহারা ওমর সোলাইমান বলেছেন:
কোরআন শরীফে ধর্মকে রুজি-রোজগারের পথ বানাতে নিষেধ করা আছে।

আগে বাইতুল মাল থিকা ইমাম-মুয়াজ্জিনের লিগা হাদিয়া দেয়া হইতো। আর বাইতুল মাল ভেনিস হইয়া যাওয়ার পর থিকা সবাই মিলা এই বেতনের ডিসিশন নিছিলো।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: কোরআন শরীফে ধর্মকে রুজি-রোজগারের পথ বানাতে নিষেধ করা আছে।

তাই নাকি ?

২৩. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৯
জেনারেল বলেছেন:

ইমাম ম= নেতা শিবিরের রোকন = নেতা অতএব, নেতা = কি??
২৪. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২৬
নাজিম উদদীন বলেছেন: ইমাম, মুয়াজ্জিনের চাকরী খুবই ঠুনকো। প্রভাবশালীদের বিরাগভাজন হলে চাকরী খতম। এদের স্ট্যাটাস অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মত, সময়মত মানুষ সম্মান জানায়, কিন্তু ছাপোষা।

সরকারী মসজিদে অবশ্য ইমাম - মুয়াজ্জিনের পদ আছে। তাদের পজিশান কিছুটা ভিন্ন।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: ঠিক কথা।

২৫. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২৬
অ রণ্য বলেছেন: আসলে ব্যাপারটাকে নিয়ে ভাববার এবং একটা সুন্দর আলোচনার অবকাশ আছে ?

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৫

লেখক বলেছেন: অবশ্যই।

২৬. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩১
বিবর্তনবাদী বলেছেন: @আবূসামীহা - চমৎকার উত্তর দিলেন। ভাল লাগল।
২৭. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩২
নাজিম উদদীন বলেছেন: আমাদের এক স্যার কানে শুনত না, তাই খুব জোরে কথা বলত এজন্য ওনার নিকনেম ছিল 'মুয়াজ্জিন'।
২৮. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৪
নাজমুল। বলেছেন: @আবূসামীহা ঠিকই বলেছেন।যারা ডিসি,কমিশনার,চেয়ারম্যেন এদেরই ইমাম হওয়ার কথা ছিল কিন্তূ এদের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানের মারাত্মক অভাব।তাই মসজিদ কমিটি করে এই বেবস্থা।
২৯. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৪
ফিরাখ রাইয়ান সুহান বলেছেন: ইমামের ছাক্রী বরই সইন্দর্য। এই আকালের দিনে ঘরে ঘরে ফিরি খাইয়া জান বাছান যায়।
৩০. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৯
বিডি আইডল বলেছেন: একমত @ আবূসামীহা
৩১. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৮
এ. এস. এম. রাহাত খান বলেছেন: ্ভাই,ভালো?আমি নতুন ব্লগার।আপনার মত সিনিয়র ব্লগার ভাইয়ের উপর তাই অভিমান করতেই পারি!!আমার ব্লগে স্বাগত জানাই।আপনার মতামত তের অপেক্ষায় রইলাম।লেখা খারাপ হইলেও তো আপনার গঠনমুলক সমালোচনা আশা করতে পারি?
রাত মজুর ভাই আমার উপর রাগ করে আছে,সেটাও একটা ভুল বুঝা বুঝি।

৩৩. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১২
নুর হাসান মুহাম্মদ তানভীর বলেছেন: দারুন একটা পোস্ট, এটা আমার মাথায় ঘুরছিল অনেক দিন দরে ।
আমার কাছে ত মনে হয় জামাতে নামজ পড়ার কন্সেপ্টাকেই অনেকেই অপব্যবহার করছেন ।
যেমন দরেন, এখনত প্রতি গলিতে মনে হয় ৬/৭ টা ছোট ছোট মসজিদ আছে, প্রত্যেক এপার্টমেন্টের বাসিন্দের মনে হয় ছাদের উপড় মসজিদ না থাকলেই নয় ।

এখন দেখি নামাজের সময় সবাই ছাদে উঠে ।
আমার যেটা মনে হয় জামাতে নামাজ পড়ার করন ছিল, যেন এলাকার নানান রকমেন মানুষের সাথে দেখা হয় কথা হয় ইত্যাদি ।

তবে ভাল খবর হল এখন ইমামতি প্রফেশোনটা খুবই পাকা পক্ত হয়েছে, আর যে হারে ছাদের সাংখ্যা বারছে ততই সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

আমাদের বাসার ছাদের হুজুর টা খুবই ইয়ং, ত ভাবছি, একদিন জিগ্বাস করব, কেন কস্ট করা বাদ দিয়ে এমন স্বস্তা ব্যবসায় আইছ ।

আমার বাবা আমাকে প্রায় জামাতে নামজের জন্য ডাকে, ত আমি একদিন খাবার টেবিলে বলছিলাম, বাবা, কষ্ট কইরা ছাদে না উঠে একটা হুজুর রাখেন যে কিনা বাসা এসে নামাজ পড়িয়ে যাবে । খাটের থেকে কয়েক কদম দুর মাত্র ।
৩৪. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২৫
নিরক্ষর বলেছেন: @আবূসামীহা'র উত্তর ভাল লাগল।
৩৫. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৮
রণক্লান্ত বলেছেন: আরেকটা প্র্যাকটিস খেয়াল করবেন; রমজান মাসে এশার ওয়াক্তে দুইজন নামাজ পড়ান। এদের একজন আমাদের নিয়মিত ঈমাম এবং আরেকজন কে অনেকেই সেভাবে চেনেনা কারন তিনি রমজান স্পেশাল। এনারা কোরআন এর হাফেজ এবং বয়স অধিকাংশ সময় ২০ এর উর্ধে নয়। দাড়ি- গোফ উঠেছে কি ওঠেনি।

তবু আমরা তার পেছনে জামাতে শামীল হই কারণ তিনি খতম তারাবীহ পড়াতে পারেন।

এদের সাথে রমজান চুক্তি থাকে।এদের খাবার ব্যাবস্থাও হয় অন্যরকম। মহল্লার কতিপয় বাড়ি তাদের খাবারের ভার নেন ও রমজানের শুরুতেই তার হাতে লিস্ট ধরিয়ে দেয়া হয় কবে কোথায় খানা।
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০২

লেখক বলেছেন: ভালো কথা বলেছেন।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৯৩৫১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাতে চাই। তাই চারপাশে যা ঘটে তা ধরে রাখতে চাই কালো অক্ষরে।
ইচ্ছা করি, যত দিন স্বপ্ন...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ