আমার প্রিয় পোস্ট

জীবন বুনে স্বপ্ন বানাই মানবজমিনে অনেক চাষ চাই

মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও কর্মোপযোগী করা হোক

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:১৪

শেয়ারঃ
0 0 0

আমাদের দেশে এখন ভাস্কর্য ভাঙ্গার কাল চলছে। ধর্মান্ধ কিছু লোক ভাস্কর্যকে ধর্ম বিরোধী ভেবে ভেঙ্গে ফেলার কাজে নেমেছেন। তাদের কেউ কেউ মাদ্রাসা শিক্ষিত। কেউ কোন শিক্ষাই গ্রহণ করেছেন কি না সন্দেহ আছে। কিন্তু ধর্ম গেল বলে সবাই ভাস্কর্য ভাঙ্গার কাজে নেমেছেন।
মাদ্রাসা শিক্ষিত এসব লোক কিছুদিন পর অনর্থক বিষয় নিয়ে মাতেন। যদি ইসলামের কথা মানা হয়, তবে পৃথিবীর সকল শিল্পকর্ম ধ্বংস করে ফেলতে হয়। এমনকি ক্যামেরা ছবি তোলাও তো এক শ্রেণীর কাটমোল্লার বিবেচনায় হারাম। কিন্তু বাস্তবে কি সেটা সম্ভব ?
আমাদের বুঝতে হবে, এখন এমন এক যুগে এসে পড়েছি আমরা যেই যুগটার সাথে তাল মিলিয়ে না চলতে পারলে সবাইকেই পিছিয়ে পড়তে হবে। এখন এই তুচ্ছ ধর্মীয় অনুশাসন নিয়ে মাতার সময় নয়। আমাদের দেশে এর চেয়ে অনেক বড় সমস্যা আছে , সে সব সম্পর্কে নিশ্চুপ থেকে ভাস্কর্য নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার কোন মানে নেই।
আমাদের দেশে কয়েকটি ভয়াবহ সমস্যার কথা বলি। যেমন, এসিড নিক্ষেপ, মাদকাসক্তি, যৌতুক প্রথা ইত্যাদি। এগুলো সবই আমাদের ধর্ম অনুসারে গর্হিত কর্ম। কিন্তু এসব ক্ষতিকর প্রথা বা অপরাধ নির্মূলে মোল্লারা কখনও তাদের ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে পড়ে না। তাছাড়া দুর্নীতি, কালোবাজারি, ঘুষ লেনদেন, অশিক্ষা ও কুশিক্ষার বিরুদ্ধে মোল্লাদের কোন অবস্থান আছে বলেও মনে হয় না। ক'দিন পর পর তারা কতগুলো আপাত তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মাতেন।
কারণটা অন্য জায়গায়। তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এমন এক যুগের কথা বলে যে যুগটি আমরা অনেক আগেই পার হয়ে এসেছি। তাদের পাঠ্যসূচি না বদলানোর ফলে তাদের ধ্যান ধারণা রয়ে গেছে সেই দেড় হাজার বছর আগের ধ্যান ধারণার মতো। অথচ পৃথিবী এগিয়ে গেছে বহুদূর।
তাছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা যারা গ্রহণ করছেন তাদের অধিকাংশের পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে জানলেও বোঝা যায় তারা কেন বর্তমান সময় থেকে পিছিয়ে আছেন। মূলত মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা দু ধরনের শিক্ষার্থী গ্রহণ করে থাকে। ১. যারা অসহায় এতিম তারা লিল্লাহ বোর্ডিং এ ফ্রি থাকা খাওয়াসহ শিক্ষা গ্রহণ করছে- এসব মাদ্রাসাগুলো এবতেদায়ী মাদ্রাসা নামে পরিচিত, ২. যারা সরকারী বা আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। এরা মোটামুটি স্বচ্ছল।
কিন্তু এই দুই ধরনের শিক্ষার্থীরা যেসব বিষয় শিখছে তার সাথে আমাদের দেশের কোন সম্পর্ক নাই। এই শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দারিদ্র দূর হচ্ছে না। তাদের কর্মসংস্থান হচ্ছে না। তারা শিক্ষা শেষে কোন কাজ করবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। ফলে তাদের মসজিদে ইমামতি, মোয়াজ্জেন হওয়া বা মাদ্রাসা শিক্ষক হওয়া ছাড়া অন্য কাজে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যায় তাদের জীবন। তারা বর্তমান সময়ের সাথে তাল মেলাতে পারেন না। সমাজে তারা তুচ্ছ ও হাসিঠাট্টার ব্যক্তিতে পরিণত হন।
অন্যদিকে ধর্মীয় উচ্চ শিক্ষা না গ্রহণ করারা ফলে ধর্মের কথা বলে এদের খুব সহজেই বিভ্রান্ত করা যায়। তাই তো যে কোন বিভ্রান্তিকর ও অরাজকতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে এদের পাওয়া যায় সর্বাগ্রে।
তাই এসব বিভ্রান্তিকর ও সাম্প্রদায়িক ধ্যান ধারণা থেকে তাদের বের করে আনতে হলে অনতিবিলম্বে মাদ্রাসা শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে হবে। তাদের এ যুগের উপযোগী কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তাদের শেখাতে হবে, ধর্ম অনেক বড় বিষয়। ধর্ম কখনও কোন মানুষের ক্ষতি করার জন্য এ পৃথিবীতে আসেনি। কিন্তু আমরা ধর্মীয় বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এ পৃথিবীতে অশান্তি ছড়াচ্ছি। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে ধর্মকে অধর্মের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি আমরা। এসব না করে সমাজের বড় বড় সমস্যা নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:১৮
অকাটমুর্খ বলেছেন: অনেক চেষ্টা, আল্লাহ-বিল্লাহর পর ছেলে সন্তান পেয়েছে এক গ্রাম্য দম্পতি। মায়ের ইচ্ছেমতো ছেলেটিকে মাদ্রাসায় পাঠানো হলো। আরেক গায়ের মাদ্রাসায় হোষ্টেলে থাকে ছেলে। বেশ ক'বছর পর ছেলে এসেছে নিজ গ্রামে। বাড়ির পথ ধরে হাটছে। পথে, ক্ষেতে, পেয়ে গেলো বাপকে। বাপ পূব মুখি হয়ে প্রস্রাব করতে বসেছে। ছেলে বলছে: বাবা, এইডা আপনে কি করতেছেন...পশ্চিমে পিছন ফিরে প্রস্রাব করা ঠিক না।

বাপ একটু দুরে যেয়ে দক্ষিণ মুখী হয়ে প্রস্রাব করতে বসেছে। এবার ছেলে বলতেছে: বাবা, এইডা আননে কি করতেছেন! সামনে গরু, জন্তু জানোয়ার সামনে রেখে এই কাজ করন ঠিকনা...

এবার আরেক দিকে ফিরে বসেছে বাপ। ছেলে এসে বলতেছে: ও বাবা..পশ্চিম মুখো হয়ে প্রস্রাব করা কি ঠিক?

জলত্যাগ না করেই, উঠে, রাগে গজগজ করতে করতে বাড়ির দিকে হাটা ধরেছে বাপ। বাড়ি ফিরে: ও বৌ, বৌরে.. কৈছিলাম না পোলারে মাদ্রাসায় দিস না, এহন মুতিস,,কোনদিক ফিরা মুতবি!

স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা দিয়ে, এখন তাদের ধর্মীয় মারপ্যাচের মধ্যে এমন দশায় পড়েছে সাধারন মানুষ, যে এখান থেকে পরিত্রান দরকার। তবে পরিত্রানের বদলে এই প্যাচ দিনকে দিন জটিল হয়ে উঠছে।



০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: এই বিষয়টা আর বলবেন না। যদি মোল্লারা জানতে পারে তবে ওই কাজ বন্ধ করে দিতে হবে।

২. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২২
ঘনাদা বলেছেন: সত্যিকার কোন ইস্যুতে এইসব মোল্লাদের কোন সত্যিকার সরব হতে দেখা যায় না।

মাদ্রাসা শিক্ষা বিলোপ করে মূল শিক্ষা ব্যাবস্থা উন্নত করা উচিত।
৪. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪৯
এ. এস. এম. রাহাত খান বলেছেন: ভাই,পৃথিবির যত শাস্ত্র আছে তার মাঝে সব চেয়ে জটিল হলো ধর্ম।আর যারা সমাজের সাধারন শিক্ষা গ্রহনে অক্ষম ও যাদের যোগ্যতা নেই তারা যায় মাদ্রাসাতে।ফলে মাঝারি বা নিম্ন মেধার মাদ্রাসা ছাত্র দিয়ে পরবর্তিতে যখন ধর্মের মত জটিল ব্যাপার গুলি ইন্টারপ্রেট করা হয় তখন সেটা কতটা সঠক হতে পারে??
গল্পে আছে,মাথার কাছে ডালিম রাখা দেখে এক হাতুরে ডাক্তার রোগির পেট ব্যাথার কারন অধিক ডালিম খাওয়া বলে ঝরে বক মারেন।তার কম্পাউন্ডার সেই জ্ঞান নিয়ে একবার মাথার কাছে ছিড়া সেন্ডেল দেখে সেই ফর্মোলা তে বলে আপনি অধিক সেন্ডেল খেয়েছেন তাই পেট ব্যাথা!!!
(অতি সংক্ষেপে)
ব্যাপারটা এদের বেলাতে তাই হচ্ছে +
৫. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৩
ঘনাদা বলেছেন: ধর্ম বুঝি জটিল!!!

আসলে বান্দরের হাতে খন্তা যেমন, গবেট মোল্লাদের হাতে ধর্মেরও সেই অবস্থা হয়। আর শিক্ষিত লোকজনের হাতে পড়লে ধর্মকে স্ট্রেইট ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলা হয়।

কারন এর কোন উপযোগিতা নেই সর্বসাধারানের জন্য।

ধর্ম শুধুমাত্র ভোগী পুরুষ ও বাটপার মোল্লাদের কাজে আসে অন্যের ঘাড় ভেঙ্গে খাবার কাজে।
৬. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৭
কাজরী... বলেছেন: """আমাদের দেশে কয়েকটি ভয়াবহ সমস্যার কথা বলি। যেমন, এসিড নিক্ষেপ, মাদকাসক্তি, যৌতুক প্রথা ইত্যাদি। এগুলো সবই আমাদের ধর্ম অনুসারে গর্হিত কর্ম। কিন্তু এসব ক্ষতিকর প্রথা বা অপরাধ নির্মূলে মোল্লারা কখনও তাদের ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে পড়ে না। তাছাড়া দুর্নীতি, কালোবাজারি, ঘুষ লেনদেন, অশিক্ষা ও কুশিক্ষার বিরুদ্ধে মোল্লাদের কোন অবস্থান আছে বলেও মনে হয় না। ক'দিন পর পর তারা কতগুলো আপাত তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মাতেন।""


একমত
৭. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩২
এ. এস. এম. রাহাত খান বলেছেন: ঘনদা

ধর্ম কি কেন এর জবাব খুজে নানা ধর্মের স্কলার রা আজো ঘাম ছুটায়...এটা খুদবার বক্তব্যের ন্যায় সহজ না
৮. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৫
মাহমুদ৬৯ বলেছেন: শুধু মাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হলে সেখান থেকে ধর্মান্ধই বের হবে, সেটাই কি স্বাভাবিক নয়? কাকের ডিম থেকে তো কোকিল হবেনা। ধর্ম ভিত্তিক কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা রাখাই ঠিক না।
৯. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৭
মৃগেন্দ্র বলেছেন: আধুনিক ও কর্মোপযোগী হ'লে একাধিক স্ট্যান্ডার্ড রাখার প্রয়োজন কোথায়? সারা দেশে একটাই এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ড অধিকতর যুক্তিযুক্ত। মাহমুদ৬৯ এর সাথে একমত।
১০. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১২
আমিনুল ইসলাম বলেছেন: আমার এই পোস্টটা পড়ুন। এটাও মাদ্রাসা নিয়ে।
Click This Link

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮৯৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাতে চাই। তাই চারপাশে যা ঘটে তা ধরে রাখতে চাই কালো অক্ষরে।
ইচ্ছা করি, যত দিন স্বপ্ন...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ