নামে ছাত্রলীগ, আসলে ছাত্রদের বাবা লীগ। নামে ছাত্রলীগ, আসলে অছাত্রলীগ। নামে ছাত্রলীগ, আসলে চাঁদাবাজলীগ। নামে ছাত্রলীগ, আসলে দখলবাজলীগ। নামে ছাত্রলীগ, আসলে টেন্ডারবাজলীগ। নামে ছাত্রলীগ, আসলে মাদকব্যবসায়ী বা মাদকসেবী লীগ।
রাজনৈতিক শেল্টার ছাড়া চাঁদাবাজি করা যায় না। রাজনৈতিক শেল্টার ছাড়া দখলবাজি করা যায় না। রাজনৈতিক শেল্টার ছাড়া টেন্ডারবাজি করা যায় না। রাজনৈতিক শেল্টার ছাড়া মাদকব্যবসা করা যায় না। সুতরাং ছাত্রলীগ করতে হবে। ছাত্রলীগ করতে হলে ছাত্র হওয়ার কোন বাধ্যবাধকতা নাই। মূল যোগ্যতা হল, নেতার সহচর্যে থাকা, আয় রোজগারের ভাগ দেয়া এবং চামচামি করা। এই সব যোগ্যতা যার আছে, তার জন্য ছাত্রলীগের দরজা খোলা।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ছাত্রলীগ করে তাদের গায়ে ছাত্রত্বের সামান্য গন্ধ পাওয়া যায়। তারা বয়সে ছাত্রের বাবা হয়ে গেলেও যে কোন মূল্যে ফেল করতে করতে ছাত্র রয়ে গেছেন। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তারা ছাত্রত্ব ত্যাগ করতে পারেন নাই। দেশ ও জাতি তাদের চায় !!!
অন্য দিকে কিছু ছাত্র আছে যারা প্রকৃত অর্থেই ছাত্র, ছাত্রলীগের জন্য একনিষ্ঠ, আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুত। দেশ ও জাতির জন্য বুকের তাজা রক্ত তো সামান্য ব্যাপার, পারলে সমস্ত শরীরের রক্ত দান করে দিতে পারেন। সেই নিবেদিত প্রাণ ছাত্রলীগ কর্মীরও মনে অনেক আশা। একদিন ভাগ পাওয়া যাবে। মোটা ভাগ - চাঁদাবাজির, দখলবাজির, টেন্ডারবাজির। আপাতত ফ্রি গাঁজা ও ফেনসিডিলের ভাগ পাওয়া যাচ্ছে - তা-ই বা কম কী ?
আর দেশের বিশাল ছাত্র-রাজনীতির বাজার পুরোটাই দখল করে আছেন অছাত্ররা। জেলা কমিটি, থানা কমিটি বা ইউনিয়ন কমিটিতে ছাত্র খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কেউ কেউ ছাত্র তো দূরের কথা কোনদিন কলমও ধরেন নি। তিনি এখন ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত এবং ছাত্র নেতা। ছাত্রদের স্বার্থের কথা ভেবে তিনি ঘুমাতে পারেন না, গায়ের রক্ত টগবগ করতে থাকে ছাত্রদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। তাই তো তিনি ছাত্রের বাবা হয়েও ছাত্রনেতা এবং কোন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়েও ছাত্রনেতা। ছাত্র রাজনীতি বিক্রি করে তিনি কিনে নিয়েছেন চাঁদাবাজির বাজার, দখলবাজির বাজার, টেন্ডারবাজির বাজার ও মাদক ব্যবসার বাজার। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তিনি তার গা থেকে ছাত্রত্বের গন্ধ দূর করতে পারছেন না।
মাঝে মাঝে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার কথা উঠে। হা হা করে ওঠেন এক পক্ষ। দেশ ও জনগণের স্বার্থে কেন ছাত্র রাজনীতি রাখা দরকার তা নিয়ে নানা কথা বলা হয়। বিজ্ঞজনেরা বলেন, ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান ছিল বলেই আমরা পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। বর্তমান সমস্যা কথা বলতে শুরু করলে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় ঐতিহ্যের কথা। অনেকটা খুনী পুত্রের বিচারের সময় তার বাবার সততার গল্প শোনানোর মতো ব্যাপারটা। আমরা বার বার একই গল্প শুনি। কোন এক পরাধীন দেশে কোন আত্মনিবেদিত ছাত্র নেতা ভালো কাজ করে গিয়েছিল, তার জন্য এই স্বাধীন দেশে এখন যারা দেশ ও জাতির সর্বনাশ করছে সেই সব ছাত্র বা ছাত্রনামধারীদের খোদাই ষাঁড়ের মতো ছেড়ে দিতে হবে। যারা এই সব ক্ষতিকর যুক্তির পক্ষে কথা বলে, তারা পারলে দায় শোধ করুক তার পুত্রের লাশ উপহার দিয়ে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তারা তাদের পুত্রের লাশ উৎসর্গ করুক। আফসোস এই সব জ্ঞানপাপীর জন্য , একদিন তার পুত্র লাশ হয়ে ফিরে এলে যদি তাদের জ্ঞানের অন্ধত্ব মোচন হয়।
এই ঐতিহ্যের দায় আমরা শোধ করছি লাশ হয়ে। মেধাবী ছাত্রের মাথায় ঢোকানো হচ্ছে মাদক ও টাকার নেশা। চাঁদাবাজির নেশা, দখলবাজির নেশা এবং টেন্ডারবাজির নেশা। রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার নেশায় আজ ছাত্ররা যেমন আক্তান্ত তেমনি ছাত্র নামের অছাত্ররাও আক্রান্ত। যে কোন মূল্যে একজন কোটিপতি ছাত্রনেতা হতেই হবে। কেননা এই নেশার পথ ধরে হাতছানি দিচ্ছে আমাদের সংসদ সদস্য পদ এবং সবশেষে মন্ত্রিত্ব। ভয়াবহ এই ক্ষমতা ও টাকার নেশায় কত ছাত্র বা ছাত্রনামধারীরা কতজনের জান নিচ্ছে তার হিসাব রাখার দায় আমাদের নেই। এদের লাশের উপর দিয়ে আরেকজন ধান্দাবাজ চলে যাচ্ছে ক্ষমতার একদম কাছে , ভাগ বাটোয়ারার একদম কাছে, দেশ চালানোর মূলমন্ত্রের একদম কাছে।
অধুনা আমরা দেখলাম, একজন প্রধানমন্ত্রীও এই সর্বনাশা নেশার কাছে জিম্মি। আসলে কি তিনি জিম্মি নাকি আমরা এই আমজনতা ? আমরা আমজনতা চিরকাল তাদের চালিয়াতের কাছে বোকাই থেকে গেলাম না ? বোকার মতো বার বার তাদের ব্যালট বাক্স ভরে দিলাম না ? সত্যি এই দেশ অনেক চমৎকার নাটকের দেশ। শেক্সপীয়রও এত ভালো নাটক কখনও লিখতে পারেন নি।
(অফ টপিক : এই সব কথা ছাত্রদল বা ছাত্রসমাজ সবার ক্ষেত্রেই একইভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং তাদের পক্ষের লোকজনেরও বগল বাজানোর সুযোগ নাই।)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


