আমার প্রিয় পোস্ট

জীবন বুনে স্বপ্ন বানাই মানবজমিনে অনেক চাষ চাই

ক্রসফায়ার সমর্থন করি এবং করিও না

১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:৫৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

খালেদা জিয়া যখন র‌্যাব গঠন করেন, তখন অনেক প্রশংসিত হন। বিএনপির অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসীও তখন র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয় । কিন্তু র‌্যাবের ক্রসফায়ার নিয়া তাকে অনেক সমালোচনাও শুনতে হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর র‌্যাবের ক্রসফায়ার বন্ধ করার কথা শুনেছিলাম। কিন্তু কেরানীগঞ্জে একজনকে ক্রসফায়ার দেয়ার মাধ্যমে র‌্যাবের ক্রসফায়ার যে বন্ধ হয় নাই তা-ই বোঝা গেল।
কেউ কেউ র‌্যাবের ক্রসফায়ার পছন্দ করেন, চান যে এই ব্যবস্থা চালু থাকুক। কেউ কেউ ক্রসফায়ার বন্ধের দাবি করেন। বিশেষ করে মানবাধিকার সংস্থাগুলো র‌্যাবের ক্রসফায়ারকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে সমালোচনা করে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে একই সাথে ক্রসফায়ার সমর্থন করি আবার করিও না। বিতর্কিত শোনালেও কথাটা সত্যি।

কেন ক্রসফায়ার সমর্থন করি ?
আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা আছে। একজন অপরাধীকে শাস্তি দিতে এত বেশি সময় লাগে যে, যিনি বিচার দাবি করেন শেষ পর্যন্ত তিনি মামলা করাটাকেই বোকামি বলে মনে করেন। দিনের পর দিন মামলার তারিখ পড়তে থাকে। সেই মামলা যদি হয় কোন তারকা সন্ত্রাসীর বিপক্ষে তাহলে তো সেই মামলায় জেতার সম্ভাবনা নাই। কেননা তারকা সন্ত্রাসীরা কোন না কোন রাজনৈতিক দলের শেল্টারে থেকে তারকা হন। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলে অনেক অনেক আইনজীবী নেতা আছেন, তাদের দ্বিতীয় পেশা হল রাজনীতি। আইনজীবী + রাজনীতিবিদ এই সব নেতারা তারকা সন্ত্রাসীদের মামলা দেখভাল করেন। একই দল করার কারণে আইনজীবী ও তারকা সন্ত্রাসীর মধ্যে অনেক অনেক স্বার্থের যোগসাজস থাকে। সেটাই স্বাভাবিক। ফলে তারকা সন্ত্রাসীর জন্য মামলা চালানো কোন ব্যাপার না।
অন্য দিকে ভুক্তভোগী বাদী ও তার সাক্ষীদের হুমকি ধামকি দিয়ে চাপের মুখে রাখা হয়। মামলার সাক্ষীরা ভয়ে আর সাক্ষ্য দিতে আসেন না। ফলে বিজ্ঞ বিচারক সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে তারকা সন্ত্রাসীকে মামলা থেকে অব্যহতি দিতে বাধ্য হন।
তারপর বাদী হন এলাকাছাড়া। তারকা সন্ত্রাসী আরও বড় তারকায় পরিণত হন। এখন তার বিরুদ্ধে মামলা করার সাহসও কারও থাকে না।
তার মানে দাঁড়াল এই, তারকা সন্ত্রাসী যত অপকর্মই করুক, আমাদের দেশের প্রচলিত আইনী ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না।
এই ধরনের তারকা সন্ত্রাসী অনেক অনেক খুন করেন, অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসা করেন। মানুষের জমি জায়গা দখল করেন, মানুষের সম্ভ্রম এদের হাতের ময়লা। টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি তাদের মূল পেশা।
আমাদের বিচার ব্যবস্থা এদের কিছু্ই করতে পারে না। আমি এদের ক্রসফায়ার সমর্থন করি। এদের ক্রসফায়ারে দেয়া ছাড়া কোন পথ খোলা নাই।

কেন ক্রসফায়ার সমর্থন করি না
মূলত ক্রসফায়ার হল, বিকল্প বিচার ব্যবস্থা। রায়ের আগেই বিচার। পুলিশ বা র‌্যাবের আইনগত ক্ষমতা নাই কারও বিচার করার। তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়াও উচিত না। তাহলে তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে কাউকে ধরে এনে নির্যাতন চালাতে পারে। সে জন্য আইনে বলা আছে, গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামীকে আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।
আসামীর বিচার করবে বিজ্ঞ বিচারক। কিন্তু ক্রসফায়ার আমাদের বিচার ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যদি বিচারকের বিচারের আগে একজনকে মৃতু্ূদণ্ড দিয়ে দেয় র‌্যাব, তবে কেন আর এই আদালত, কেন এই বিচার বিভাগ ? তার মানে হল, ক্রসফায়ার সরাসরি বিচারিক ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের হাতে বিচার ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সামিল। তাহলে আর বিচার বিভাগ পৃথক করে লাভ হল কী ?
অন্য দিকে র‌্যাবের মধ্যে সবাই ভালো লোক সেটা তো বলা যায় না। কেউ যদি টাকা পয়সার বিনিময়ে কোন ভালো লোককে সন্ত্রাসী বানিয়ে ক্রসফায়ারে দেয় সেক্ষেত্রে কী হবে ? র‌্যাবের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে এই রকম অভিযোগও উঠেছে। তার মানে র‌্যাবের হাতে একটি চূড়ান্ত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে যা আমাদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। যে কোন সময় কোন নিরীহ মানুষের জান বলি হয়ে যেতে পারে র‌্যাবের কোন ভুল বা স্বার্থ চরিতার্থ করার কারণে।
এই কারণে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিচার বহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না। আমিও করি না।

আসলে কী করা দরকার ?
১.আসলে করা দরকার দ্রুত বিচার ব্যবস্থা। দিনের পর দিন তারিখ পড়তে পড়তে এক সময় বাদী বিচার পাওয়া সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে ওঠে। তাছাড়া তার পক্ষে দীর্ঘদিন আইনজীবীর খরচ যোগানোও বোঝা মনে হয়। তাই প্রতিটি মামলার জন্য নির্দিষ্ট কর্ম দিবস নির্ধারণ করে দেয়া জরুরী। বাদীকে প্রথমেই জানিয়ে দিতে হবে উনি কত দিনের মধ্যে এই মামলার বিচার পাবেন। ওই তারিখেই রায় ঘোষণা করে আসামীকে শাস্তি দিতে হবে।
২.আইনজীবীদের কোন নির্দিষ্ট ফি নাই। যার থেকে যা পারছেন, রাখছেন। মুহুরীদের বকশিশের কোন সীমা পরিসীমা নাই। অনেক সময় আইনজীবীরা নিজেদের স্বার্থেই মামলা দীর্ঘয়িত করেন। আইনজীবীকে টাকা দিতে দিতে ফতুর হয়ে যায় বাদী। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত আইনজীবীর ফি নির্ধরিত করে দেয়া। বাদীর জন্য সহনশীল পর্যায়ে রেখে আইনজীবীর ফি নির্ধারণ করতে হবে।
৩.অপরাধের সাথে জড়িতদের রাজনৈতিক শেল্টার দেয়া বন্ধ করতে হবে। বাস্তবে ঘটে উল্টোটা। মামলা হলে তারকা সন্ত্রাসীর পক্ষে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে মিটিং মিছিল হয়। বলা হয়, এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। দাবি আদায়ে বড় বড় কর্মসূচি দেয়া হয়। ফলে বাদী মামলা তো দূরের কথা, নিজের জান বাঁচানোর জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। এভাবেই একটি রাজনৈতিক দল তারকা সন্ত্রাসী বানানোর কারখানায় পরিণত হয়। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার জন্য তারকা সন্ত্রাসীদের দল থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে ওই রাজনৈতিক দলকেই। তারকা সন্ত্রাসী বানানোর এই কারখানা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কি আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কেউ নেবে ?
৪. পুলিশ বাহিনীকে সঠিক ও দ্রুত তদন্ত করার জন্য ডেটলাইন বেঁধে দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
৫.একই আসামী যদি একাধিকবার একই অপরাধ করে, তবে তার ক্ষেত্রে জামিন দেয়া বন্ধ করতে হবে। দেখা যায়, জামিনে বেরিয়ে সেই তারকা সন্ত্রাসী বাদীর উপর চড়াও হয়। ফলে বাদী এলাকা ছেড়ে পালায়। আর আমাদের বিচার ব্যবস্থা সেখানে নীরবে চেয়ে থাকে।
জানি না, ক্রসফায়ার সঠিক নাকি বেঠিক। অনেক তারকা সন্ত্রাসীকে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না। মনে হয়, কারো কারো ক্ষেত্রে ক্রসফায়ার দেয়া ছাড়া কোন পথ খোলা নাই।

 

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:১২

 

১. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:০৬
আবু সালেহ বলেছেন:
কারো কারো ক্ষেত্রে ক্রসফায়ার দেয়া ছাড়া কোন পথ খোলা নাই।

আর এখন এই কার্যক্রম টা অনেকটা সীমিত করছে বলেই সন্ত্রাসী বেড়ে গেছে...
২. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:১৮
খলিল মাহমুদ বলেছেন: আপনাদের যদি মনে থাকে তবে স্মরণ করে দেখুন, রেব গঠনের আগের সময়টাতে দেশে কী হারে মানুষ খুন হচ্ছিল সন্ত্রাসীদের হাতে। ক্রসফায়ারের নামে যখন শীর্ষ-উঠতিদের কয়েকজন মারা পড়লো, ধপ করে সন্ত্রাসীদের হাতে মানুষ খুনের হার শূন্যের কোঠায় নেমে এলো।
কিছু মানুষ সব সময়ই থাকে যে কোনো কিছুর বিরুদ্ধাচরণ করা। রেবের আবির্ভাবে যখন দেশটা শান্ত হতে শুরু করলো, তখনই মানবাধিকার চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে স্লোগান তুলে রেবের কার্যকলাপের বিরুদ্ধাচরণ করা শুরু করলো।
একজন সন্ত্রাসী ২৩টা খুন করলো, তখন জাফর ইকবালরা আর মানবাধিকার সংস্থা ঘুমোতে থাকে ভুরিভোজন করে। ২৩জন নিহতের বউবাচ্চারা কোথায় আছে, জাফর ইকবালদের সেটা দেখার প্রয়োজন পড়ে না। আর যখন একজন খুনি সন্ত্রাসী রেবের হাতে মারা যায় তখন তাঁরা মানবতা ধরাশায়ী হচ্ছে ধোয়া তুলতে থাকেন।
আমি শতভাগ সমর্থন করি ক্রসফায়ার। একটাকে গায়েব করে অন্তত ২৩জনে জীবিত রাখা যাচ্ছে, আরও অনেককে ওদের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখা যাচ্ছে।
মানবতা বিপন্ন হচ্ছে- এসব নি:সাড় স্লোগানধারীদের প্রতি আমার বুড়ো আঙুল- ওরা মানবতা বোঝে না, বুঝলে নিগৃহীতদের পাশেই দাঁড়াতো, সন্ত্রাসীদের পক্ষে গান গাইত না।
৩. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:২৬
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন: ক্রসফায়ার সমর্থন করি না। গণতান্ত্রিক কোন দেশে বিচারবহির্ভূত বর্বরতা মেনে নেয়া যায় না। অপরাধ করার দায়ে কারো মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে দেয়া যায় না।

একজন নিরপরাধ ব্যক্তিও যাতে ভুলের শিকার না হয় - আইনের এটাই উদ্দেশ্য। জবাবদিহিতাহীন মৃত্যুদন্ড কখনোই আইনি প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু বিকল্প হতে পারে না। এতে জিঘাংসার আত্মপ্রসাদ সম্ভব, বিচার নয়।
৪. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:২৭
দাইয়ান সাকিব বলেছেন:
"কেউ যদি টাকা পয়সার বিনিময়ে কোন ভালো লোককে সন্ত্রাসী বানিয়ে ক্রসফায়ারে দেয় সেক্ষেত্রে কী হবে ? র‌্যাবের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে এই রকম অভিযোগও উঠেছে। "
এক মত হতে পারলাম না, যে কজন লোক ক্রসফায়ারে মারা গেছে তাদের কোন একজনও ভালো লোক ছিলো না । আর যারা অভিযোগ তুলেছে তারা ক্রসফায়ারে মারা যাওয়া সন্ত্রাসীর চেলা চামুন্ডা
৫. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:২৮
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন: থলিল মাহমুদ, আপনার জান্তব বর্বরতাকেও আমি বুড়ো আঙ্গুল দেখাই।
৬. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন: "এক মত হতে পারলাম না, যে কজন লোক ক্রসফায়ারে মারা গেছে তাদের কোন একজনও ভালো লোক ছিলো না । আর যারা অভিযোগ তুলেছে তারা ক্রসফায়ারে মারা যাওয়া সন্ত্রাসীর চেলা চামুন্ডা"

১. আপনি কিভাবে নিশ্চিত, কোন নিরপরাধ লোক ছিল না? কারণ, "যারা অভিযোগ তুলেছে তারা ক্রসফায়ারে মারা যাওয়া সন্ত্রাসীর চেলা চামুন্ডা"? একটু সার্কুলার হয়ে গেল না বিষয়টা?

২. অনেক সময়ই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং হিউম্যান এররের শিকার হয়ে নিরপরাধ লোক মারা গেছে। ভাল-খারাপ বলব না। খারাপ লোককেও, যে অপরাধ সে করে নি, তার জন্য মেরে ফেলা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনদের হুমকি দেয়া হয়েছে চুপ থাকার জন্য। বিচারের কোন বিকল্প নেই, একটি অস্ত্রধারী বাহিনীর হাতে জীবনমৃত্যুর ভর তুলে দেয়া কোন কারণেই সঙ্গত নয়।
৭. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৩
খলিল মাহমুদ বলেছেন: ট্রানজিগটার, আমার তাতে কিচ্ছুই ছিড়ে পড়ে না। মানবতা ধুয়ে গিলে খান। যে নিরীহ লোকগুলো খুনিদের হাতে মারা গেল, তাদের পক্ষে একটা কথাও যে বললেন না তাতেই বোঝা যায় আপনি নিজেই একজন আন্ডার ওয়ার্লডের লোক, খুনি। তাই খুন করার যে মাদকতা তা ভুলতে পারছেন না, আর খুন করে যাতে রেহাই পেতে পারেন সেজন্য রেবের কাজও বন্ধ করে দিতে চাইছেন। আপনার মাবতাবাদীরা এদেশে কী মঙ্গলজনক আর কল্যাণকর কাজ করেছে, একটা নমুনা দেখান। অল শিটস।
৮. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১০
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন: ১. ".... বোঝা যায় আপনি নিজেই একজন আন্ডার ওয়ার্লডের লোক, খুনি।"

আপনার যুক্তি খুব অসাধারণ তো! আপনাকে সমর্থন না করলে আমি খুনি? এত সুন্দর রেড হেরিং পান কোথায়?

২. "আপনার মাবতাবাদীরা এদেশে কী মঙ্গলজনক আর কল্যাণকর কাজ করেছে, একটা নমুনা দেখান।"

আরেকটা রেড হেরিং। আমি কী করেছি তা বিতর্কের বিষয় ছিল না। আপনি কী করেছেন, এটাও আমি জিজ্ঞাসা করতে পারতাম।

৩. "মানবতা ধুয়ে গিলে খান।"

এখন যে পাথর ছুঁড়ে মানুষ মারা হয়না এদেশে, মানবতা ধুয়ে কিছুটা গিলে খাবার জন্যই।

৪. "যে নিরীহ লোকগুলো খুনিদের হাতে মারা গেল, তাদের পক্ষে একটা কথাও যে বললেন না..."

বলি নি, কারণ বিষয় এটা ছিল না। বিষয় ছিল ক্রসফায়ারের যৌক্তিকতা। পেড়েই যেহেতু ফেলেছেন, বলি: বিচারব্যবস্থা উন্নত হতে হবে, প্রতিটি অপরাধের যেন বিচার হয়। অপরাধ দিয়ে অপরাধ দমন কখনোই কাম্য নয়।

ক্রসফায়ারে, আবারো বলি, আমরা রক্তলোলুপ আনন্দ পেতে পারি, কিন্তু বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতার অবসানের পদক্ষেপ না নিয়ে এই গণপিটুনি আর মব লিন্চিঙ-এর সংস্কৃতির উদ্যোগ কোন কাজে আসবে না।

আপনাকে অনুরোধ করব অপ্রাসঙ্গিক আলোচনায় না গিয়ে যুক্তির মাধ্যমে আমাকে খন্ডন করতে।
৯. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৫২
রিয়াজুল ইসলাম বলেছেন: ক্রসফায়ারে মাদকসবী আর ২/১ জন বস্তি থেকে উঠে আসা সন্ত্রাসী মেরে কোন লাভ নেই। যদি দেখতাম তথাকথিত মন্ত্রি, আমলা রাজনৈতিক নেতা/নেত্রী তথা সমাজের প্রভাবশলীরা ক্রসফায়ারে গেছে তাহলে ১০০% সমর্থন দিতাম............................
১১. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:০৬
দুঃখবিলাস বলেছেন: ক্রসফায়ার সমর্থন করিনা। এটা আদৌও কোন সমাধান না।
১২. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:৪৮
ফালাক বলেছেন: ক্রস ফায়ার সমাধান না আর
এখনো সন্ত্রাসী'র দাপোট কমে নাই।
১৩. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৩৩
ধীবর বলেছেন: যতদিন না সন্ত্রাসিরা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা মুক্ত হবে, এবং শ্রেফ অর্থের জোরে আইনকে নিজের পকেটে পোরার মত শক্তি, বল হারাবে, ততদিন নিপীড়িত মানুষের জন্য র‌্যাব আশির্বাদ হয়েই থাকবে। এপর্যন্ত তথাকথিত মানবাধিকারের সমর্থকদের যা আচরন দেখলাম, তাতে মনে হচ্ছে, অত্যাচারিত মানুষ নয়, সন্ত্রাসিদের সহযোগিতা করার জন্যই মায়া কান্না কাঁদা হচ্ছে।
১৪. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৩৫
ধীবর বলেছেন: @ ট্যান্সিসটার, চেনা বামুনের পৈতার খোজ করছেন?
১৫. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৪৩
দেশী পোলা বলেছেন: ক্রসফায়ার সমর্থন করি,


Caedite eos. Novit enim Dominus qui sunt eius.
১৬. ০৫ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:২৯
শান্তির দেবদূত বলেছেন: অবশ্যই সমর্থন করি না :| ....... এটা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চরমপন্হী সন্ত্রাস ছাড়া কিছুই না .....
১৭. ১৫ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৭
সমাজ্ঞী বলেছেন: এই না হলো ভদ্রলোক!
শামীম সাহেব কী নিশ্চিত উনাকে বা উনার প্রিয় কাউকে তাঁর পছন্দের "ক্রসফায়ারে" ফেলে মারা হবে না?
কে, কী দিয়ে নির্ণয় করবেন শামীম সাহেবকে "ক্রসফায়ারে" ফেলে মারা উচিত?

অবশ্য এও হতে পারে শামীম সাহেব ভাবছেন উনি এতই ভদ্রলোক আর বর্তমান বা আগামি সরকারের সাথে তার এতই ভালো সম্পর্ক, জানাশুনা যে উনি নিশ্চিত যে ক্রশফায়ারটা তার ভাগ্য ঘটবে না!

কিনতু এতেও কী শামীম সাহেব নিশ্চিত, তিনি মরবেন না? কারণ ক্রশফায়ার তো সরকার বা মন্ত্রী নিজে হাতে করেন মারেন না, করে পেয়াদারা, মূলত র‌্যাব বা পুলিশ।

যাই হোক সেক্ষেত্রে, কামনা করি শামীম সাহেব নিজে না ক্রশফায়ারে মরুক, তার প্রিয় কেউ যেন মরে। কারণ তখন এই শামীম সাহেবকেই আবার পোষ্টাইতে আসতে হবে তো যে রাষ্ট্রের বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড কত বড় অন্যায়।

আমাদের সমস্যা হলো, নীতির জায়গায় দাড়িয়ে কথা বলতে জানি না। অথচ কথা বলে ফেলি। ভাবি বিশাল কিছু একটা জ্ঞানের কথা বলতে পেরেছি। সবকিছুই সাবজেকটিভ। আমি হলে একরকম, অন্য কেউ হলে আর এক রকম। যেন নহে এই সেই যদি কিন্তু........।
১৫ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫

লেখক বলেছেন: আমাকে ক্রসফায়ারে ফেলে দিলেন !!! মজা পাইলাম। তবে আমি ক্রসফায়ারের দুটি দিক নিয়ে কথা বললাম এবং সর্বশেষে নিজের একটা ব্যাখ্যা দিলাম। সেটা তো ক্রসফায়ারের পক্ষে যায় না। লেখাটা ভালো করে পড়েছেন তো ?

১৮. ১৫ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৯
পি মুন্সী বলেছেন: মানে কী হলো, আপনি কোন নীতির জায়গায় দাঁড়াতে চান না?

ভালো। আপনার সম্পর্কে আমার ধারণাটা আসলে ভুল ছিল। আপনার চিন্তার ভিতরটা এত কালো অন্ধকার জানা ছিল না। বুদ্ধিমানেরা অবশ্য এসব কালো দিকগুলো লিখে বলে না, মনে মনে রাখে। সেক্ষেত্রে আপনি বুদ্ধিমান নন, তবে সৎ সাহসী, মানতে হয়।

এই পোষ্ট টা সরিয়ে ফেলেন না। ভবিষ্যতে আয়নার মত নিজেকে দেখতে কাজে লাগবে। অবশ্য, কার মৃত্যু কিভাবে হবে আমরা জানি না। তবে শুনে জানি, যে ফ্রাকেনষ্টাইন দানব তৈরি করে তাঁর মৃত্যু ঐ দানবের হাতেই।
১৫ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭

লেখক বলেছেন: এক্ষেত্রে নীতিটা কী হবে ? ক্রসফায়ারের পক্ষে নাকি বিপক্ষে ?
কোন কথা লেখার ফলে আপনি আমার মনের কালো দেখতে পেলেন ?
আমাকে কেন ভাবছেন আমি ক্রসফায়ারের পক্ষে ?

১৯. ১৫ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:২৮
সমাজ্ঞী বলেছেন: আপনি সম্ভবত নিজের মুখরক্ষার জন্য একটা জবাব দিলেন। আমি ভেবেছিলাম আমার মন্তব্যের পরে আপনি নিজের পোষ্ট নিয়ে আবার একবার ভাবতে বসবেন। কিন্তু গোয়ার্তুমি আপনাকে পেয়ে বসেছে। ফলে আপনি যে ক্রসফায়ারের পক্ষে দাড়িয়ে আছেন এটা আর বুঝতে পারবেন না, পথ বন্ধ করে বসেছেন।

উল্টা আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন, "লেখাটা ভালো করে পড়েছেন তো ?" আপনার লেখা আপনি পড়ছেন কীনা এটা জিজ্ঞাসা করতে আমিই লজ্জা পাচ্ছি। কিন্তু আপনি উপায় রাখেন নি। আপনার ভাষায় আপনি নাকি দুইটা দিক নিয়ে কথা বলেছেন এরপর নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলছেন, "তবে আমি ক্রসফায়ারের দুটি দিক নিয়ে কথা বললাম এবং সর্বশেষে নিজের একটা ব্যাখ্যা দিলাম"।

তো প্রথম "দিক"টার শেষ লাইনটা কি? বলছেন,

"আমাদের বিচার ব্যবস্থা এদের কিছু্ই করতে পারে না। আমি এদের ক্রসফায়ার সমর্থন করি। এদের ক্রসফায়ারে দেয়া ছাড়া কোন পথ খোলা নাই"।

দ্বিতীয় "দিক"টার শেষ লাইনটা কি? বলছেন,
"এই কারণে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিচার বহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না। আমিও করি না"।


এইবার "আসলে কী করা দরকার?" শিরোনামে সর্বশেষে আপনার নিজের ব্যাখ্যা কী দিলেন? শেষ লাইনটা হলো,

"জানি না, ক্রসফায়ার সঠিক নাকি বেঠিক। অনেক তারকা সন্ত্রাসীকে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না। মনে হয়, কারো কারো ক্ষেত্রে ক্রসফায়ার দেয়া ছাড়া কোন পথ খোলা নাই"।

এখন আপনার কী মনে হয় আপনার লেখা আপনি পড়েছেন? জানেন কী লিখেছেন?


আপনি বলছেন, "জানি না, ক্রসফায়ার সঠিক নাকি বেঠিক"। আপনি জানেন না। তাইলে আবার, "মনে হয়, কারো কারো ক্ষেত্রে ক্রসফায়ার দেয়া ছাড়া কোন পথ খোলা নাই" - কেন লিখেন?
আপনি মাষ্টার মানুষ আপনি কী লেখছেন মানে বুঝেন নাই আর আমারে কইতেছেন আপনার লেখা আমি ভালো করে পড়ছি কী না?
দাবী করতেছেন, "আপনার কথা ক্রসফায়ারের পক্ষে যায় না" ?

কী আর কমু? গামছা ব্যবহার করেন? আছে বাসায়? আগে চঞ্চলমতি মনটারে গামছা দিয়া বাধেন। এরপর দেখেন কাজ হইলেও হইতে পারে!
১৫ ই মে, ২০০৯ রাত ১০:২০

লেখক বলেছেন: বিষয়টা নিয়া আমি দোদুল্যমানতায় যে আছি সেটা শিরোনামেই আছে। সুতরাং সেটা নিয়ে আর তর্ক হতে পারে না। আপনে আমাকে যে কোন পক্ষের লোক ভেবে নিতে পারেন।

 

মোট সময় লেগেছে ০.১৬০১ সেকেন্ড

 

© somewhere in net ltd | terms of use | privacy policy
স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাতে চাই। তাই চারপাশে যা ঘটে তা ধরে রাখতে চাই কালো অক্ষরে।
ইচ্ছা করি, যত দিন স্বপ্ন...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ